নীল চোখের অপেক্ষায়

পর্ব - ৩০

🟢

"" অরিন নাহারকে রুমে দিয়ে এসে নিজের জন্য বরাদ্দ রাখা রুমটিতে যাচ্ছিলো।

এই ফার্মহাউসটা বেশ বড়ো।রায়ান এসেছিলো সন্ধায় সেও আজ এখানেই থাকবে।বাসায় বলে এসেছে অরিনের কথাও তাই এ নিয়ে অরিন টেনশন ফ্রী।

হঠাৎ হাতে টান পরতেই চমকে উঠলো। তবে ভয় পেলো না কারন সে জানে এই কাজটা কার হতে পারে।

তবে সে কোনো কথা বললো না।

আরিয়ান অরিন চিৎকার না করায় বেশ অবাক হলো।সে অরিনকে জরিয়ে ধরে তার গলায় মুখ ডুবিয়ে দিয়ে হাস্কিস্বরে বললো কি ব্যাপার জান আজ চিৎকার করলে না। আমার স্পর্শ চেনা হয়ে গেছে তোমার বাহ বেশ ভালো।

তবুও অরিনের কোনো সারা শব্দ পাওয়া গেলো না।

তবে আরিয়ানের হঠাৎ অযাচিত স্পর্শে তার বেশ নাজেহাল অবস্থা। বার বার কেপে উঠছে তার ছোট্ট দেহটা। সে দাতে দাত চেপে চুপ করে রইলো।

আরিয়ানের এতোদিনের করা অবহেলা মনে পরতেই চোখের জল চলে আসলো।

"" আরিয়ান অরিনকে কোনো কথা বলতে না দেখে তার গলায় দাত বসিয়ে দিলো।

"" এতে অরিন মৃদু চিৎকার করে উঠলো।

"" এতে আরিয়ান হাসলো কিছুটা কামর দেওয়া যায়গাটাতে চুমু খেল কিছুটা সময় নিয়ে।

Sorry jan,,,,

অরিন চমকে উঠলো আরিয়ানের কথায়।

তবুও কিছু বললোনা।

""I'am sorry jan...অনেক বেশি কষ্ট দিয়ে ফেলেছি আমার নিলাম্বরীকে।মাফ করবে না আমায় জান।

"" হঠাৎ অরিন শব্দ করে কেদে ফেললো। যেনো এতদিনের জমে রাখা অভিমান গলে পরছে কান্নার মাঝে।

"" আরিয়ান অরিনের হঠাৎ কান্নার কারনটা বুঝলো।নিজেকে বেশ অপরাধি মনে হচ্ছে তার।

তাই সে কিছু বললো না শক্ত করে জরিয়ে ধরে রাখলো তার প্রেয়সীকে।

"" এভাবে অনেকটা সময় পেরিয়ে গেলেও অরিনের থামার নাম নেই।

এতে করে আরিয়ানের বেশ অসহায় ফিল হচ্ছে

আরিয়ান বলে উঠলো প্লিজ নিলাম্বরী আমাকে মাফ করে দাও আর এমন করবো না কখনো।আর কান্না থামাও প্লিজ তোমার কান্না আমি সহ্য করতে পারিনা।

"" অরিন এবার তার কান্নাটা থামিয়ে বলে উঠলো

আপনি কখনো ছেড়ে যাবেন না প্লিজ আমায় আমি সহ্য করতে পারবো না।

আপনার অনুপস্থিতি আমার বুকে রক্তক্ষরন হয়।আমার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে

আসতে চায়। আপনি আর কিছুদিন এভাবে কথা না বললে হয়তো আমি দম আটকে মারা যেতাম।

"" হুসসস,,চুপ তোমার সাথে কথা না বললে আমি নিজেই শেষ হয়ে যাবো।

"" আপনি আমার ওপর আর রেগে নেই তো?

"" আমি কখনোই তোমার ওপর রেগে ছিলাম না নিলাম্বরী।

অরিন এবার নিজের মাথা উঠিয়ে বললো তাহলে এতোদিন কথা বললেন না কেনো?

"" আরিয়ান এবার নিজের মাথা চুলকে বললো ওইটা তো তোমার পরিক্ষা নিচ্ছিলাম।

"" অরিন অবাক হয়ে বললো কিসের পরিক্ষা।

"" এবার সে মিন মিন করে বলে উঠলো তুমি আমাকে কতোটা ভালোবাসো তার পরিক্ষা।

"" অরিন এবার রেগে আরিয়ানের হাত ঝারা মেরে তার কাছ থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে রাগি কন্ঠে বললো।খুব ভালো আপনি নিন পরিক্ষা।

বলে চলে আসতে নিলেই।

আরিয়ান আবার তার হাত ধরে ফেললো।

টেনে নিজের বুকের উপর ফেললো।

"" ছারুন আমাকে বদ লোক।আমি আপনার সাথে কথাই বলবো না।থাকবো না আপনার সাথে।আপনি খুব খারাপ। শুধু শুধু কষ্ট দেন আমায়।

"" কোথায় যাবে তুমি। দুনিয়ার যে প্রান্তেই যাও না কেনো ঘুরে ফিরে তোমাকে এই আদিত্য আরিয়ান আহমেদ এর কাছেই ফিরে আসতে হবে নিলাম্বরী।

"" অরিন নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করছে কিন্তু পারছে না।সে মোচড়ামুচড়ি করেই যাচ্ছে।

"" কি করছো জান।ডিসটার্ব ফিল হচ্ছে তো চুপচাপ থাকো।

"" ছারুন আমাকে।

"" তোমাকে ধরলাম কই ঠিকঠাক। আমি ধরলে তুমি এতোক্ষণ ঠিকঠাক থাকতে না জান বলে অরিনের নাকে নাক ঘুসলো।

""অরিন থতমত খেলো আরিয়ানের এমন কথায় হঠাৎ করেই তার বেশ

লজ্জা লাগছে। তার কান দিয়ে যেনো ধোয়া বের হচ্ছে। সে বির বির

করে বললো অশ্লীল লোক ছারুন আমায় ভাইয়া চলে আসবে।

"" আরিয়ান অরিনকে লজ্জা পেতে দেখে হাসলো কিছুটা।

তারপর আচমকাই অরিনকে কোলে তুলে নিলো।

"" হঠাৎ কোলে তুলায় অরিন ভয় পেয়ে আরিয়ানের গলা আকরে ধরলো।

আরে আরে কোলে তুললেন কেনো।নামান আমি পরে যাবো।

"" চুপ তোমার ভাই এখন ঘুমিয়ে আছে।

আর আমি আর তুমি এখন চন্দ্রবিলাস করবো জান।

বর্তমান,,,,,,,

বিজ্ঞাপন

অরিন কিরে সেই কখন ওয়াসরুমে ঢুকছিস তুই দুই ঘন্টা পেরিয়ে গেছে।

তুই কি গোসল করছিস তাহলে তো অসুস্থ হয়ে যাবি এতো ভিজিস না এমনিতেই তুই অসুস্থ।

বহিরের অনবরত দরজা ধাক্কানোতে অরিন তার ভাবনা থেকে বেরিয়ে আসলো।

এতোক্ষণ পানিতে ভিজে তার ঠান্ডা লেগে গেছে চোখমুখ লাল হয়ে গেছে সে বুঝতে পারছে তার জ্বর আসবে।

এতোকিছু না ভেবে সে ওয়াসরুম থেকে বরিয়ে আসলো।

"" সুবহা দারিয়ে আছে।

সুবহা অরিনের চোখ মুখ দেখে চমকে উঠলো।

কিরে কি হয়েছে তোর কান্না করেছিস নাকি তুই। চোখমুখ এর কি অবস্থা।

অরিন তেমন পাত্তা না দিয়ে বললো ও তেমন কিছু না।মাথা ব্যাথা করছে একটু।

"" তো তুই এই অসময়ে সাওয়ার নিলি কেনো?

"" বললাম তো মাথাটা ভার লাগছিলো।তুই কি বলবি বল।

"" তোকে মেঘ ডাকছে।

"" তুই যা আমি আসছি।

"" সুবহা চলে গেলে মেঘ আরেকবার ঠিক করে নিলো নাহলে সবার কাছে লুকাতে পারলেও মেঘ এর কাছে লুকাতে পারবে না জানে।

--------------------------

"" কিরে তোর চোখমুখ এমন হয়েছে কেনো?

"" মাথা ব্যাথা।

"" মেঘ তীক্ষ্ণ চোখে তাকালো বললো সত্যি বলছিস কিন্তু আমার তো অন্য কিছু মনে হচ্ছে। তোকে হসপিটাল থেকে দেখছি চোখমুখ কেমন হয়ে গেছে।

"" আরেহ তেমন কিছু না।

"" আচ্ছা শোন আজ যে ডক্টর আমাকে তাকে চেনা চেনা লাগলো আমার তুই কি চিনিস?

"" আব আমি আমি কি করে চিনবো।কিসব বলিস না তুই।তুই এসব বাদ দিয়ে এটা বল যে আমাকে ডেকেছিস কেনো?

"" ওহ হ্যা আসল কথাই ভুলে গেছি তুই নাকি তোর ভাইয়ের ফোন তুছিস না দুইদিন ধরে তাই তিনি আমাকে ফোন দিয়েছে।

বলতেই আবার মেঘ এর ফোন বেজে উঠলো।

"" ওই দেখ আবার কল দিয়েছে।

বলে ফোনটা তুলে অরিনের হাতে দিলো।

""হ্যা ভাইয়া বলো?

"" ভাইয়াকে এতোটা পর করে দিয়েছিস যে তার ফোনটাও তুলতে ইচ্ছে করে না।

এতোটা পর হয়ে গেছি আমি নাকি দুরে থেকে তুই সাপের পাঁচ পা দেখেছিস।

"" অরিন মলিন কন্ঠে বললো তোমাকে কেনো ভুলে যাবো ভাইয়া তুমি ছাড়া আমার আর কে আছে এই দুনিয়ায় বলো।

"" এভাবে কেনো বলছিস অরিন আমি কি তোর কেউ না পাশ থেকে বললো মেঘ।

ফোন স্পিকার এ থাকায় মেঘ সব কথাই শুনছিলো।

"" হ্যা হ্যা তোর তো আমি ছাড়াও একটা কান্দুনি বান্ধবী আছে।বললো রায়ান।

"" এই একদম আমাকে কান্দুনে বলবেন না বলে দিলাম আমি মটেও কান্না করি না।

"" হ্যা হ্যা ওসব আমার জানা আছে। দেখেছি আমি।

এই এই তোমরা দুজনে চুপ করো আর ভাইয়া ওকে যালিও না ও এমনিতেও অসুস্থ।

"" কেনো কান্দুনির কি হয়েছে।

অরিন সব ঘটনা খুলে বললো আরো কিছুক্ষণ ভাইয়ের সাথে কথা বলে নিজের রুমে চলে গেলো।

তবে যাওয়ার আগে ফোনটা মেঘ এর কানে ধরিয়ে দিয়ে চলে গেলো।

আরে আমাকে কেনো দিলি?ততক্ষণে অরিন পগারপার।

"" তা কান্দুনি তুমি কি নিজের খেয়াল রাখতে পারো না।

"" দেখুন ভাইয়া আপনি আমাকে একদম কান্দুনি বলবেন না।আর আপনি অরিনের ভাই বলে নাহলে।

"" নাহলে।

"" নাহলে এতোদিনে আপনি জেলে থাকতেন হুহ।

"" রায়ান শব্দ করে হেসে বললো সিরিয়াসলি মেঘ একটা থাপ্পড় তাও তিন

বছর আগে মেরেছিলাম তার জন্য তুমি আমারে জেলে দিবা।আর দিলেও তিন বছর জেল হতো না আমার।

"" এই আপনি একদম হাসবেন না আপনি সেদিন বিনা কারণে আমাকে মেরেছিলেন।

"" এর জন্য আর কতোবার সরি বলতে হবে মেঘ।হতাস গলায় বললো রায়ান।

"" সারাজীবন।

"" উম তুমি জদি আমাকে দিয়ে সারাজীবন সরি বলাতে চাও তাহলে আমার সাথে থাকতে হবে কিন্তু।

"" দরকার হলে তাই থাকবো।

"" সত্যি?

"" হ্যা,,,না একদম না। আপনি খুব বাজে।

"" রায়ান শব্দ করে হেসে দিলো।

"" মেঘ সাথে সাথে ফোনটা কেটে দিলো। লজ্জা পেয়েছে সে।

বিজ্ঞাপন
নীল চোখের অপেক্ষায় গল্পটি জান্নাতী আক্তার সিমি-এর লেখা একটি জনপ্রিয় রোমান্টিক ও সাংসারিক গল্প