এভাবে কিছুক্ষণ থাকার পর নাহার বলে উঠলো আরে অনেক হইছে ইমোশনাল ড্রামা।কাল তো তুই চলে যাবি তাই আজ সারাদিন ঘুরবো আমরা।আর তুই চলে যাচ্ছিস তো কি হইছে একদম যে আসবি না এমন তো না তিন বছরের বেপারি তো।
"" নাহারের কথা শুনে সবাই হেসে দিলো।আর সম্মতিও জানালো আজ সারাদিন তারা ঘুরবে।
"" অরিন বাসায় জানিয়ে দিলো আর জারা নাহার ও।
আর কাল দুজনে যাবে জারাকে বায় বলতে।
সারাদিন তিনজন বিভিন্ন যায়গায় ঘুরাঘুরি শেষ করে এবার বাড়ি যাওয়ার কথা চিন্তা করলো।নাহারকে গাড়ি করে নামিয়ে দেওয়ার কথা বললে সে একাই চলে যাবে বললো।
এদিকে জারাকে নিতে আরিয়ান আসছে আর আরিয়ান অরিনকেও বাড়ি পৌঁছে দেবে বলেছে।
অরিন অবস্য বারন করেছিলো বলেছিল রায়ানকে বললেই সে নিয়ে যাবে কিন্তু। আরিয়ানের এক ধমকে সে চুপ হয়ে গেছে।
তাই আপাতত দুজনে অপেক্ষা করছে আরিয়ান আসার।
----------------------
নাহার কিছুটা সময় রিক্সায় আশার পর হঠাৎ মনে হলো তার কিছু মেডিসিন দরকার তাই রিক্সা থেকে নেমে পরলো।
মেডিসিন নিয়ে রাস্তার পাশে দরাতেই হঠাৎ কোথা থেকে সিয়াম এসে হাজির।
হেই পাঠকাঠি কই যাও?
"" নাহার প্রথমে কিছুটা ভয় পেয়েছে আচমকা সামনে আসায়।
"" ভয় পেয়েছো?
"" নাহার দাতে দাত চেপে বললো।নাহ আমার তো খুব ভালো লেগেছে। এমন হঠাৎ বাদরের মতো লাফিয়ে আমার সামনে আসায়।
"" কিহ তুমি আমাকে বাদর বললে!
"" হ্যা বললাম তার সাথে সাথে আপনি একটা ষার ও।
"" এই পাঠকাঠি পাহার একদম রাগাবানা কিন্তু। আচ্ছা ঝগড়া বাদ দিয়ে তুমি কি আমার সাথে সুন্দর করে কথা বলতে পারো না।
"" না পারিনা।কারন আপনি তেমন মনুষ নন।যাই হোক সরুন তো আমি বাড়ি যাবো।
"" হুম চলো।
"" আপনি কোথায় যাবেন?
"" তোমার সাথে।
"" মানেহ কেনো?অবাক হয়ে বললো নাহার।
"" এমনি।আচ্ছা একটু দারাও পাশেই আমার গাড়ি আছে আমি তোমাকে পৌঁছে দেই।
"" মোটেই না।আপনার মাথা গেছে।
"" কেনো কি সমস্যা?
"" নাহার এবার হতাশ হলো। লোকটা কি বোঝে না আমি একটা মেয়ে তার সাথে গাড়িতে কেউ দেখে ফেললে কি না কি ভাববে।এমনিতেই তাকে বিয়ে দিতে চায় এখুনি তার বাবা মা।তাদের ধারনা মেয়েদের তাড়াতাড়ি বিয়ে দিতে হয়।নাহলে কোনো একটা অঘটন ঘটাতেই পারে।
"" অনেক কষ্টে সে নিজের বিয়ে আটকে রেখেছে।
"" দেখুন প্লিজ বুঝুন আপনার সাথে আমাকে কেউ দেখে ফেললে অনেক সমস্যা হবে।
"" সিয়াম হয়তো বুঝলো তার কথা।তবে সে মানতে নারাজ।
"" অবশেষে নাহার না পেরে বললো ঠিক আছে বাড়ি থেকে কিছুটা দুরে নামিয়ে দেবেন।
""সিয়াম এতেই খুশি।সে গাড়ি নিতে চলে গেলো।
"" সে যেতেই নাহার হতাশ শ্বাস ফেলে আলতো হাসলো।
--------------------
"" কিছুক্ষণ পর আরিয়ান আসলো গাড়ি নিয়ে।অরিনের কেমন লজ্জা লাগছে। সে গিয়ে জারার পাশে বসতেই।
আরিয়ান বিরক্ত হয়ে বললো সামনে এসো।অরিন আমতা আমতা করতেই দিলো এক ধমক।
জারা মিটিমিটি হাসছে।অরিন মুখ ভোতা করে আরিয়ানের পাশে গিয়ে বসলো।
"" জারা মনে মনে বললো মানুষের ভালোবাসা দেখতেও ভালো লাগে নিজের ভালোবাসা পূর্নতা না পেলেও আমার ভাই যেনো তার ভালোবাসার মানুষটাকে পায়।
আজ কতোগুলো দিন হয়ে গেলো সে রেহানকে দেখেনি তার কলিজা যেনো ফেটে যাচ্ছে। তার ভাবতেও কেমন লাগছে যাকে না দেখে সে একদিন ও থাকতে পারে না তাকে না দেখে সে বছরের পর কিভাবে কাটাবে।তার বুকটা যেনো ফেটে যাচ্ছে চোখ দিয়ে জল গরিয়ে পরতে চাইলেও সে আটকে রাখলো।
আরিয়ান দেখলে সমস্যা আছে। তার ভাই তাকে অসম্ভব ভালোবাসে। যদি কখনো জানতে পারে সে রেহানকে ভালোবাসে তাহলে জোর করে হলেও রেহানকে তার করেই ছারবে।কিন্তু জারা জোর করে কিছু পেতে চায় না।
অরিনকে বাসার সামনে নামিয়ে দিলে সে আরিয়ানকে কিছু না বলেই মুখ ফুলিয়ে চলে গেলো।জারাকে বায় বলে।
ও যেতেই আরিয়ান বলে উঠলো যাহ বাবা আমিও তো একটা মানুষ আমাকেও তো বলে যেতে পারতো।
জারা ভাইয়ের কথা শুনে হেসে দিয়ে বললো উফ ভাইয়া এটাও বোঝোনা তোমার নিলাম্বরীর যে অভিমান হয়েছে।
আরিয়ান যেনো বোকা বনে গেলো সে আবার কি করলো।
রাতে আরিয়ান কয়েকবার অরিনকে ফোন করলো।কিন্তু অরিন তা রিসিভ করলো না।
আরিয়ান একটা হতাশ নিশ্বাস নিয়ে বললো কাল আসো একবার তোমার অভিমান রাগ সব দেখে নেবো।
----------------------
এদিকে রেহান কিছুদিন হলো।তার বাবার ফার্মহাউসে এসে আছে।এটা তার বাবা তাকে বার্থডে তে গিফট করেছিলো।আর সে ছাড়া এখানে কেউ আসেনা।সেও তেমন আসেনি কখনো তাই কারো এই যায়গাটার কথা মনে পরে নি।
তবে রেহান এই কয়দিনে এটা বেশ বুঝতে পারছে যে জারাকে ভালোবাসে। সে অনেক ভেবেছে জারার অবহেলা সে সহ্য করতে পারে না।তার পাশেও সে কাউকে নিতে পারে না।
সে এগুলোও ভেবে দেখলো সে জারার সাথে কতো খারাপ ব্যাবহার করেছে।
সব ভেবে সে প্রচন্ড অনুতপ্ত।
তবে সে এটা ভেবেও শান্তি পাচ্ছে যে অবশেষে সে তার মনের দন্ড থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছে।
এসব ভেবে সে ফিচেল হাসলো।
তারপর ভাবলো আমি আসছি আমার অভিমানি আমার ভালোবাসা দিয়ে তোমার সব অভিমান পুষিয়ে নেবো আমি দেখে নিও আর কনো অভিযোগ করার সুযোগ দেব না।
তারপর চোখবুঁজে ঘুমানোর চেষ্টা করলো।কাল সে ফিরে যাবে।
-------------------------
সকাল এগারোটায় রেহান বাসায় আসলে দেখে বাসা ফাকা।সে কিছুটা অবাক হয়। এমন ফাকা বাড়ি দেখে।
তারপরও তেমন কিছু না ভেবে নিজের রুমে চলে যায়।ফ্রেশ হয়ে আবার নিচে চলে আসলে।মেড দের একজন কে ডাকে।
"" বাড়ির সবাই কোথায় গেছে জানো?
""হ্যা বাবা।সবাই তো এয়ারপোর্টে গেছে।
"" এয়ারপোর্টের কথা শুনে রেহানের কপালে কিছুটা ভাজ পরে।সে ভাবে এয়ারপোর্টে কেনো।বাবা মা গেলে তো একাই যান তাহলে। তার হঠাৎই কেমন অস্থির লাগতে শুরু করলো। সে অস্থির হয়ে জিজ্ঞেস করলো কেন?
""আজ তো জারা মা চলে যাবে। ওনাকে পৌঁছে দিতে গেছে সবাই তুমি তো ছিলে না তাই জানোনা বাবা।
"" রেহান কয়েক ধাপ পিছিয়ে গেলো। সে কি ভুল শুনলো জারা চলে যাবে মানে কোথায় যাবে কেনো যাবে।
"" মেড এসে রেহানকে ধরতে চাইলো তুমি ঠিক আছো বাবা।
"" রেহান নিজেকে সামলে নিয়ে বললো হ্যা আমি ঠিক আছি।বলেই সে কোনোকিছু না দেখেই দৌড়ে চলে গেলো গাড়ি বের করেই সে ড্রাইভিং করছে তার চোখে পানি চিকচিক করছে।
তুই আমাকে ছেড়ে যেতে পারিসনা জারা।আমি জানি আমি তোকে অনেক কষ্ট দিয়েছি কিন্তু তার জন্য তুই আমাকে এতোটা কষ্ট দিতে পারিস না। আমি সহ্য করতে পারবো না।
রেহান অনেক জোরে ড্রাইভিং করছে যেকোনো সময় এক্সিডেন্ট হয়ে যেতে পারে।কিন্তু সে কোনোকিছুই মানছে না।