নীল চোখের অপেক্ষায়

পর্ব - ২১

🟢

"" কিরে বলনা আমাকে কেমন লাগছে?

"" ঠিকঠাক। বলে আরিয়ান সেখান থেকে চলে গেলো।

"" নেহা হতাশ চোখে তাকিয়ে রইলো সেদিকে।

"" আরিয়ানের বাবা আজাদ আহমেদ কিছুক্ষণ আগেই ফিরেছেন।জারার জন্মদিন উপলক্ষে।

তিনি এসে জারার মাথায় হাত রেখে বললেন বলো আম্মু তোমার কি চাই?

"" জারা বাবা সমতুল্য মামাকে দেখে জরিয়ে ধরে বললো মামু তোমায় কতো মিস করেছি আমি জানো।

"" আমি তো জানি আমার মা টা আমাকে কতো ভালোবাসে।

"" আচ্ছা সোনো তোমার আর ভাইয়ার থেকে আমার একটা জিনিস চাওয়ার আছে মনে করো এইটা আমার বার্থডে গিফ্ট।

পাশে আরিয়ান আর রেহান ও দারিয়ে ছিলো।

আরিয়ান বললো তোর কি চাই তুই বল আজ পর্যন্ত কোনো ইচ্ছে অপুর্ন রেখেছি আমরা।

"" রেহান ভাবছে কি এমন চাইবে এই মেয়ে যে এতো নাটক করছে।

"" অরিনের একটু ওয়াশরুমে যাওয়ার দরকার ছিলো তাই সে রায়ানকে বলে উপরে চলে গেলো।

"" আরিয়ানের রুমের পরেই জারার রুম হওয়ায় অরিনের যেতে হলে তার রুম পাশ কাটিয়ে যেতে হবে।

"" অরিন যেতে যেতেই আচমকা কেউ তাকে হ্যাচকা টান দিয়ে একটা রুমের ভেতর নিয়ে আসলো।

"" অরিন ভয়ে চিৎকার দিতে নিলেই তার মুখ চেপে ধরলো। অরিন তো ভয়ে শেষ পার্টিতে আজ অনেক মানুষ। কেউ যদি খারাপ উদ্দেশ্য নিয়ে কিছু করে ভেবেই তার গলা শুকিয়ে আসছে। রুম অন্ধকার হওয়ার দেখতেও পাচ্ছে না সামনের ব্যাক্তিকে। তার চোখ দিয়ে পানি পরতে শুরু করেছে।কিন্তু মুখ চেপে রাখায় কোনো শব্দ বের হচ্ছে না।

"" আচমকা আরিয়ান অরিনের চোখে পানি দেখে হকচকিয়ে উঠলো।সে অরিনকে নিজের বুকের মধ্যে চেপে ধরলো।

এই নিলাম্বরী ভায় পেয়েছো জান প্লিজ I'am sory আমি বুঝতে পারিনি তুমি এতোটা ভয় পাবে।প্লিজ জান কান্না থামাও।বলে সে এক হাত দিয়ে লাইট জালালো।

"" অরিন এতক্ষণে বুঝতে পারলো যে এটা আরিয়ান।তার কান্নাও থেমে গেছে।কিন্তু আরিয়ান তাকে জরিয়ে ধরেছে ভেবেই তার হাতপা ঠান্ডা হয়ে আসছে।লজ্জাও লাগছে খুব।

"" সে তাড়াতাড়ি আরিয়ানের থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিলো।

সে কিছুটা রাগ নিয়ে বললো আপনি কি পা*গল, মাথা নষ্ট হয়ে গেছে, এইভাবে কেউ কাউকে ভয় দেখায়।আর একটু হলে আমার হার্ট অ্যাটাক হয়ে যেতো।অরিন এখনো জোরে জোরে নিশ্বাস নিচ্ছে আর কথা গুলো বলছে।

"" আরিয়ান হঠাৎ করে বললো তোমার আমাকে ভয় করছে না?বলে তার ভ্রু নাচালো।

"" অরিন তার কথায় থতমত খেয়ে গেলো। সত্যি তো বলেছে আরিয়ান।কিন্তু অরিনের এইটুকু বিশ্বাস আছে যে আরিয়ান তার কনো ক্ষতি করবে না।কিন্তু সে এখন আরিয়ান কে কি উত্তর দিবে।

"" কিছুক্ষণ পর অরিন বললো ছারুন আমাকে জারা নাহার খুজবে আমাকে।

"" আরিয়ান একটু হাসলো অরিনের কথায়।তার নিলাম্বরী যে তাকে এরিয়ে যেতে চাইছে তার সে বেশ বুঝতে পারছে।

তাছাড়া ভাইয়াও খুজবে আমায়।

"" তোমার ভাই জানে তুমি আমার সাথে আছে।

"" অরিন বিস্ফোরিত চোখে তাকালো তার দিকে।

এটা কি সে ভুল শুনলো নাকি।তার ভাই যে কিনা তার পাশে কনো ছেলেকে আসতে দেয় না। অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার পরেও তার সব খোজ রাখতো।বন্ধুদের দিয়ে।

"" আপনি সত্যি বলছেন?

"" তো তোমার মনে হয় আমি তোমাকে মিথ্যা বলছি।

এরপর আরিয়ান অরিনের হাত ধরে বিছানার উপর বসালো।দরজা আটকে দিয়ে আসলো।

তার দরজা আটকানো দেখে অরিন একটু ভয় পেলো।

"" আব আপনি দরজা কেনো আটকাচ্ছেন?

বিজ্ঞাপন

"" তোমায় শাস্তি দেওয়ার জন্য।

"" মানেহ আমি কি করেছি?

"" তুমি কি করেছো তুমি জানোনা বলে অরিনের দিকে এগিয়ে আসতে লাগলো। অরিন পিছাতে পিছাতে খাট এর সাথে ধাক্কা খেলো।

"" আপনি এগোচ্ছেন কেনো?

"" তুমি পিছাচ্ছো কেনো?

আরিয়ান এবার একদম অরিনের মুখের দিকে ঝুকে পরলো।

"" অরিন ভয়ে চোখ খিচে বন্ধ করে নিলো।

"" আরিয়ান দেখলো তার নিলাম্বরীর ভয় পাওয়া মুখে।ভয়ে অরিনের ঠোঁট তিরতির করে কাপছে।আরিয়ানের খুব লোভ হলো ওই ঠোঁটের সাদ নিতে।কিন্তু সে এমন কিছুই করলো না।

"" তুমি আমাকে কেনো বলোনি মামি তোমাকে অপমান করেছে?

"" অরিন ফট করে চোখ খুলে ফেললো।তারমানে ভাইয়া আরিয়ানকে সব বলে দিয়েছে।

"" অরিনের চুপ থাকা দেখে আরিয়ান তাকে ধমক দিয়ে বললো speak up damit.কথা বলছো না কেনো বলে তার দুই বাহু চেপে ধরলো।

"" অরিন ভয়ে শব্দ করে কেদে ফেললো।

এতে যেনো আরিয়ানের রাগ আরো বেড়ে গেলো। এই মেয়ে আমার কথা কানে যায়না তোমার তুমি কেনো বলোনি আমাকে।

"" অরিনের কাদতে কাদতে হেঁচকি উঠে গেছে সে অনেক কষ্টে বললো এ এমনি।

"" ওহ এমনি তুই আমাকে ভালোবাসিস?

বল ভালোবাসিস কিনা।বলে আবার ধমক দিলো।

"" অরিন জোরে জোরে কাদতে কাদতে বললো হ্যা বাসি।

""আরিয়ান এবার কিছুটা শান্ত হলো।কান্না থামাও।

"" আরে আমিকি মেরেছি তোমাকে?

"" কিন্তু ধমক তো দিয়েছেন।আমার সাথে কেউ কখনো এতো জোরে কথা বলেনি আমি ভাইয়াকে বলে দেবো আপনি আমায় বকেছেন বলে নিজের চোখমুখ মুছলো।

"" আরিয়ান ভাবছে একি মেয়েকে ভালোবাসলো বিয়ের আগেই ডিভোর্স করাবে দেখছি।এর জল্লাদ ভাই যদি যানে আমি ওকে কান্না করাইছি তাহলে আমার ইন্না-লিল্লাহ করে দিবে।

"" আমি কি তোমার ভাইকে ভয় পাই?

"" অরিন এবার তার দিকে তাকিয়ে বললো পান না?

"" আরিয়ান চোখ গরম করে তাকালো।

"" এতেই অরিন চুপসে গেলো।

"" আরিয়ান চুপ থেকে বললো ভুল যখন করেছো তখন শাস্তি তো পেতেই হবে।

"" অরিন এবার শুকনো ঢোক গিললো। কি কি শাস্তি।

"" আরিয়ান এবার ঠাস করে অরিনের কোলে মাথা রেখে তার পেটে মুখ গুজে দিলো।

"" অরিন যেনো জমে গেছে।নিশ্বাস বন্ধ করে নিয়ে আছে।

"" শ্বাস নাও নাহলে দম আটকে মারা যাবে।

"" কি-কি করছেন উঠুন প্লিজ আমার কেমন জানি লাগছে।

"" যেমনি লাগুক এটা তোমার শাস্তি। আমি ঘুমাবো বলে অরিনের হাত টেনে তার মাথায় রাখলো।

"" অরিন তার দাত দিয়ে ঠোঁট চেপে রেখে আরিয়ানের চুলে হাত বুলিয়ে দিলো।ভাবলো এটা কেমন শাস্তি আল্লাহ।

বিজ্ঞাপন
নীল চোখের অপেক্ষায় গল্পটি জান্নাতী আক্তার সিমি-এর লেখা একটি জনপ্রিয় রোমান্টিক ও সাংসারিক গল্প