নীল চোখের অপেক্ষায়

পর্ব - ১৭

🟢

রায়ান আর অরিন একটা পার্ক এ এসেছে দুজন বিরিয়ানি খাওয়া শেষ করে এদিকটা ঘুরতে এসেছে।

অরিনের ও বেশ ভালোই লাগছে।

রায়ান ও বোনের মুখ দেখে বুঝতে পারলো তার ভালো লাগছে।

"" হঠাৎ রায়ান জিজ্ঞেস করলো তোর কিছু হয়েছে বনু?

"" অরিন ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে বললো না তো ভাইয়া কিছু হয়নি।

"" রায়ান বললো তুই হয়তো ভুলে যাচ্ছিস অরিন আমি তোর বড়ো ভাই তোর মুখ দেখেই বলে দিতে পারি তোর কি হয়েছে।

তুই আদ্রির বিয়ের পর থেকে কলেজ কোচিং সব বাদ দিয়ে রেখেছিস।আমি জানি এখন তুই বড় হয়েছিস তোর পারসোনাল অনেক বিষয় আছে।

"" তবে তুই আমাকে ভরসা করতে পারিস আমি সবসময় সব পরিস্থিতিতে তোর ভাইয়া তোর পাশে আছি।

"" অরিন অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে ভাইয়ের দিকে সে তো জানে তার ভাই তার জন্য জানটাও দিয়ে দিতে পারে।

"" অরিন এবার মুচকি হেসে বললো কিছু হয়নি ভাইয়া এমনি মুড সুয়িং হচ্ছে তাই তেমন বের হচ্ছি না।

আর কাল থেকে আমি সব যায়গায় যাবো প্রমিজ।

"" রায়ান হতাস হলো সে বেশ বুঝতে পারছে তার বোন কনো বিষয় নিয়ে কষ্ট পাচ্ছে। কিন্তু তাকে বলতে পারছে না।তবে সে জোর করলো না।

"" আচ্ছা চল তাহলে এবার বাসায় যাই।

"" হ্যা চলো।

----------------

সোফায় বসে আছে আরিয়ান পাশে রেহান ও আছে। তারা দুজনেই চিন্তিত তবে দুজনের চিন্তার কারন আলাদা।

রেহান এর চিন্তার কারন হলো তার বাবা মা আজ দেশে ফিরছে।

এর আগে যতোবারই তার বাবা মা এখানে এসেছে ততোবারই তার জন্য কনোনা কনো আতংক তৈরি করেছে।

"" আর আরিয়ান সে তো অরিনকে না দেখে বেজায় রেগে আছে।মনে মনে ভাবছে অরিনকে একবার কাছে পেলে তাকে চিবিয়ে খাবে।

সে কি বুঝতে পারেনি আরিয়ান তাকে ভালোবাসে।নাকি ভালোবাসার কথা শুনেই পালিয়ে বেড়াচ্ছে ।একবার তাকে পেলে আগে কয়েকটা থাপ্পড় মারবে বলেও ঠিক করলো।

"" এর মধ্যে জারা রেডি হয়ে নিচে আসলো।

ভাইয়া চলো।

রেহান শান্ত চোখে তাকালো মেয়েটার দিকে। এই মেয়েটাও আজকাল তার কাছে ভয়ংকর ঠেকে। শান্তি দেয়না।কেন যে এমন করছে। ভাবলো মনে মনে।

"" হুম চল।

----------------------

কোচিং এ আসতেই আজ জারা বেজায় খুশি হলো কারন আজ অরিন এসেছে তাকে দেখেি সে জরিয়ে ধরলো।

কিরে তোর আসার সময় হলো তাহলে।এতোদিন কোথায় মরেছিস বলতো।

তোকে কতো মিস করেছি।

"" হ্যা আমাকে তো কেউ মিস করেই না।গাল ফুলিয়ে বললো নাহার।

"" অরিন তা দেখে হাসলো।

"" একটু অসুস্থ ছিলাম আর মুড সুয়িং হচ্ছিল তাই আসিনি।

"" তারা কোচিং শেষ করে বাইরে আসতেই আচমকা কই থেকে আরিয়ান অরিনের হাত ধরে টেনে নিয়ে যেতে যতে বললো রেহান তুই জারাকে আর সিয়াম তুই নাহারকে বাসায় পৌঁছে দে।

"" অরিন হতভম্ব হয়ে আছে সে তার হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করছে কিন্তু কিছুতেই পারছেনা।

এবার কি হবে তার সাথে?

-------------------------------

"" আমি বসে বসে কাঁদছি তবে নিঃশব্দে।

"" আর আমার পাশেই মনোযোগ দিয়ে ড্রাইভিং করছে আরিয়ান।

কাদছি কারন এই লোক আমাকে গাড়িতে উঠিয়েই পর পর দুইটা থাপ্পড় মেরেছে। গালটা যেনো আমার ছিরে যাবে এতো জোরে কেউ মারে ব্যাটা গোমড়ামুখো।

মারার পর আমি শব্দ করে কান্না করতেই জোরে ধমক দিয়ে বললো আর একটা শব্দ যদি আশে তাহলে আমাকে মেরে গুম করে দিবে।

এহ বললেই হলো।হুহ।

কিন্তু আমি বুঝতে পারছিনা ইনি আমার সাথে এমন করছেন কেন।

"" এতোক্ষণে আমর চোখের পানি ও শুকিয়ে গেছে তাই বিরক্ত হয়ে বললাম কথায় যাচ্ছি আমরা?

"" জাহান্নামে। গোমড়া মুখে জবাব দিলো।

"" যাবেন জান আমাকে নামিয়ে দিন আমি জাহান্নামে যেতে চাই না।

"" আরিয়ান কটমট চোখে তাকালো।

তা দেখে অরিন চুপসে গেলো।

--------------------------

বিজ্ঞাপন

অনেক্ক্ষণ পর গাড়ি এসে থামলো একটা নির্জন লেকের পারে। আরিয়ান নেমেই অরিনের জন্য গাড়ির দরজা খুলে দিলো।

অরিন বেরিয়ে আসলো।আশেপাশে তাকিয়ে বুঝলো এই লোক আমাকে এমন নির্জন যায়গায় কেন নিয়াসছে।মেরে যদি নদীতে ভাসিয়ে দেয়।যে রেগে আছে।

"" হঠাৎ আরিয়ান আমার হাত ধরে হাটা ধরলো আমিও তার পিছু পিছু গেলাম দেখলাম সামনেই একটা বসার জন্য যায়গা করা আছে।

"" বসো।

আমিও কোনো কথা না বলে বসে পরলাম।

"" আমি বাসায় যাবো।

"" আরিয়ান তাকালো আমার দিকে।

কিন্তু কোন উত্তর দিলো না।

"" আমি এবার অধৈর্য হয়ে উঠলাম চেচিয়ে বললাম সমস্যা কি আপনার আমাকে অযথাই কেন উঠিয়ে নিয়ে আসলেন এখানে। আমি আপনার কেনা সম্পত্তি নই।বলে হঠাৎ আরিয়ানের দিকে তাকাতেই দেখলাম সে চোখ লাল করে তাকিয়ে আছে।

"" আমি একটা ঢোক গিললাম। বেশি বেশি বলে ফেলেছি বোধহয়।

"" আরিয়ান আচমকা অরিনের দুই বাহু ধরে হিসহিসিয়ে বললো আমাকে ইগনোর করিস তুই।তুই এতোদিন কলেজে কোচিং এ আসিস নাই কেন।এতোবার কল করেছি রিসিভ করিস নি কেন হ্যা।

মানুষ মনে হয় না আমাকে।

"" অরিন শান্ত চোখে চেয়ে রইলো আরিয়ানের দিকে তারপর শান্তভাবেই তার হাতটা ছাড়িয়ে বললো কেন খুজেছেন আমায় কি চাই আপনার আমার থেকে?

"" কি চাই মনে আমি তোকে বলিনি আমি তোকে ভালোবাসি।

"" সেইটা আপনার সমস্যা আমি তো আপনাকে ভালোবাসিনা।

"" আরিয়ান অবাক চোখে চেয়ে আচমকা ফিচেল হেসে বললো ওহ তুই আমাকে ভালোবাসিস না।

মজা করিস আমার সাথে।তুই যদি আমাকে ভালোই না বাসিস তাহলে তোর

চোখে আমার জন্য ব্যাকুলতা দেখতে পাই

কেন?

আমি আশেপাশে না থাকলেও তুই আমাকে খুজিস আমার জন্য বিচলিত হোস কেন? বল?

তারপর আবার কান্না ভেজা গলায় বললো

এই জান প্লিজ বোঝার চেষ্টা কর না।তোকে ছাড়া আমি ধ্বংস হয়ে

যাবো।

"" অরিন হালকা হেসে বললো এইটা আপনার মনের ভুল ভাইয়া আমি কখনোই আপনাকে ভালোবাসিনা।

"" আরিয়ান যেনো মেনে নিতে পারলোনা এই প্রত্যাখ্যান। সে আচমকা অরিনকে শক্ত করে জরিয়ে ধরলো। প্লিজ জান এমন করিস না আমার সাথে আমি শেষ হয়ে যাবো। তোর জন্য তুই জানিসনা তুই আমার কতোদিন এর চাওয়া।

তোকে ছাড়া আমার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসে।আমাকে এভাবে ফিরিয়ে দিস না।আমি জানি তুই আমাকে ভালোবাসিস।

"" অরিনের চোখে জল চলে আসছে তার ভিষণ কান্না পাচ্ছে। কিন্তু তারই বা কি করার। আরিয়ান তার জন্য নয়।আরিয়ানকে সেও ভালোবাসে।তবে তা স্বীকার করতে পারবে না।

সে নিজেকে সামলে নিয়ে শক্ত কন্ঠে বললো আমাকে ছারুন আরিয়ান।

"" অরিনের শক্ত কন্ঠ শুনে আরিয়ান তাকে ছেড়ে দিলো।

"" নিজেকে সামলে নিয়ে নিজের চিরাচরিত স্বাভাবিক ভঙ্গিতে ফিরে এসে বললো গাড়িতে গিয়ে বসো।

"" অরিন এক মুহূর্ত দেরি করলো না।সে দৌড়ে গাড়ির কাছে চলে গেলো।

------------------------

"" আরিয়ান বলার পর জারাও কোনো কথা না বলে রেহানের সাথে গাড়িতে বসে পরলো।

"" জারা গাড়ির বাহিরে রাস্তার দিকে তাকিয়ে আছে।

"" রেহান গাড়ি চালালেও তার চোখ বার বার জারার দিকে যাচ্ছে।

যা জারা বুঝতে পেরেও কিছু বলছে না।

"" বাড়ির সামনে গাড়ি রাখলে জারা নেমে পরলো সাথে রেহান ও আচমকা কেউ একজন রেহানকে জরিয়ে ধরলো।

"" ওহ রেহান I miss you so much...কতোদিন পর তোমাকে দেখলাম। কেমন আছো তুমি?

"" রেহান জারার দিকে তাকালো মেয়েটা কেমন নির্বিকার চোখে তাকিয়ে আছে। যেনো কিছুই হয়নি।অথচ অন্য সময় হলে জারা অভিমান করতো মুখ ভার করে চলতো।

"" রেহান তিসা কে নিজের থেকে ছাড়িয়ে দিলো জোর করে।

"" আমি ভালো আছি। তুই কেমন আছিস।আর,,,

বলতেই জারা চলে যেতে লাগলে তিসা তাকে ডেকে উঠলো। হেই বর্বি ডোল কেমন আছো?আমাকে চিন্তে পেরেছো।আমি রেহানের কাজিন তিসা।

"" জারা স্বভাব সুলভ হাসি দিয়ে বললো চিনবোনা কেন আপু।কেমন আছো তুমি?

কখন আসলে?

"" এইতো কিছুক্ষণ আগে। রেহানের সাথে দেখা করতে ইচ্ছে করছিলো তাই বাসায় না গিয়ে এখানে চলে এসেছি।

"" ওহ গুড তোমরা কথা বলো আমি অনেক টায়ার্ড আসছি বলে জারা আলে আসলো।

"" ওহ যেতেই তিসা রেহানের হাত ধরতে চাইলে রেহান তা ঝারা মেরে সরিয়ে দিয়ে বললো।

সবসময় এমন চিপকাবিনা আমার সাথে।বিরক্ত লাগে।যতসব ছেঁচড়া মেয়ে মানুষ।

"" তিসার খারাপ লাগলেও সে মনে মনে ভাবলো কতোদিন তুমি আমাকে এরিয়ে চলবে। এবার আমি সব ব্যাবস্থা করেই এসেছি।

বিজ্ঞাপন
নীল চোখের অপেক্ষায় গল্পটি জান্নাতী আক্তার সিমি-এর লেখা একটি জনপ্রিয় রোমান্টিক ও সাংসারিক গল্প