নীল চোখের অপেক্ষায়

পর্ব - ২০

🟢

জন্মদিন এর পার্টি শুরু হবে সন্ধায়।

"" কিন্তু জারা, নাহার আর অরিনকে বিকেলের দিকেই আসতে বলেছে।

"" কিছুক্ষণ পর রায়ান এসে জারাকে দিয়ে গেলো।জারা আসতেই আয়রা আহমেদ তাকে জরিয়ে ধরলো।

"" কেমন আছিস মা? তুই আর আমাদের বাসায় আসিস না কেনো?হঠাৎ ই তার চোখ গেলো রায়ানের দিকে।

"" তিনি কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকার পর তার দিকে এগিয়ে গিয়ে বললেন

তুই রায়ান না।হ্যা রায়ানি তো কই ছিলি বাবা তুই এতোদিন।কতো বছর পর তোকে দেখলাম।হঠাৎ ই কোথায় উধাও হয়ে গেলি বলতো। আমি আরিয়ান রেহানকে কতো জিজ্ঞেস করেছি তোর কথা।

ওরা শুধু বলে তুই দেশের বাহিরে আছিস।

"" রায়ান হালকা হেসে বললো। তোমাকে ভুলতে পারি আমি তুমি তো আমার আরেকটা মা।বলেই আয়রা আহমেদ কে জরিয়ে ধরলো।

"" এর মধ্যে সেখানে রেহান আরিয়ান এসে উপস্থিত হলো।

অরিন সেদিকে একবার তাকিয়ে বললো আন্টি আমি জারার কাছে যাই।

"" হ্যা তারাতাড়ি যা ও তোর জন্যই অপেক্ষা করছে।

"" অরিন চলে আসলো।পুরোটা সময় আরিয়ান একবারো তার দিকে তাকায় নি।তা সে ভালোই বুঝতে পেরেছে।

"" কিন্তু সে বুঝতে পারছেনা তার ভাই তাকে এখানে আনার জন্য জোর করলো কেন।তার ভাইতো তাকে অপমানিত হওয়া স্থানে কখনো নিয়ে যায় না।

"" পথি মধ্যে একবার নেহার সাথে দেখা হলো তার তবে কিছু বললো না। তবে নেহার তীক্ষ্ণ দৃষ্টি সে ঠিকই খেয়াল করলো।

-------------------------

কিরে তুই এখনো রেডি হোস নি?

"" হ্যা তোদের জন্যই অপেক্ষা করছি।তা নাহার কই?

"" ও আসছে রাস্তায় আছে।

"" ওহ আচ্ছা শোন বলে একটা প্যাকেট অরিনের হতে বাড়িয়ে দিয়ে বললো জা তারাতাড়ি চেঞ্জ করে নে।

"" মানে আমি কেন চেঞ্জ করবো। আমি তো একদম রেডি হয়ে আসছি।

"" আমি বলেছি তাই পরবি।আর আজ না আমার বার্থডে তাই আমি যা বলবো তোরা তাই মেনে নিবি।বলে অরিনকে ঠিলে ওয়াশরুম পাঠিয়ে দিলো।

"" অরিন খেয়াল করলো প্যাকেট এর ভেতরে একটা কালো গ্রাউন। যার ঘের অনেক বেশি। গলায় কিছুটা কাজ করা অনেক সিম্পল হলেও ড্রেসটা অনেক সুন্দর তার বেশ পছন্দ হলো।

"" তার পর প্যাকেট এর ভেতর সে আরও একটা প্যাকেট পেলো।

"" তার ভেতর কিছু জুয়েলারি ছিলো।

"" সে ড্রেস পরে বেরিয়ে আসতেই।

"" বাহ জানু তোকে তো অনেক সুন্দর লাগছে আমার ভাইয়ের চয়েস আছে বলতে হবে বলেই জিভ কাটলো।

"" ভাই মানে।

"" আরে ভাই মানে ভাই একটু আগে ভাই এসেছিলো বললো পার্লার থেকে লোক এসে গেছে।

"" ওহ।তাহলে তুই রেডি হ।

"" হ্যা আর আমার সাথে তুই ও হবি আমি নাহারকে বলে দিয়চি ও পার্লার থেকে সেজেই আসবে।

"" না আমার এতো ভারি মেকআপ ভালো লাগে না তাই প্লিজ আমাকে এসবের মাঝে জোরাস না।

"" একদম চুপ আমি যা বলবো তুই তাই করবি একদম বেশি কথা বলবি না।

তাদের কথার মাঝে পার্লার থেকে কিছু মেয়ে আসলো।তারা আসতেই জারা বুঝিয়ে দিলো কাকে কিভাবে সাজাতে হবে।

"" এরপর তারা সাজতে শুরু করলো।

---------------

বাড়িটাকে একদম রাজকীয় ভাবে সাজানো হয়েছে– যেখানে আলো, ফুল আর ভালোবাসা মিশে গেছে সৌন্দর্যের সীমায়”

বাড়ির প্রতিটি কোণ যেন নতুন রূপে জেগে উঠেছে। গেট থেকেই শুরু — fairy light আর fresh flower দিয়ে সাজানো একটি ছোট্ট archway, যার নিচ দিয়ে ঢুকতেই লাগে মনে, যেন স্বপ্নে পা রাখলে। চারপাশে নরম warm light, যা পুরো বাড়িটাকে দিয়েছে এক royal golden glow।

বিজ্ঞাপন

ড্রয়িংরুমে ঢুকতেই চোখে পড়ে মূল সাজসজ্জা — দেয়ালে বড় একটি backdrop wall, satin drape (blush pink, ivory white, আর champagne gold) দিয়ে মোড়া। মাঝখানে বড় করে লেখা নাম, glittery golden letter-এ, চারপাশে hanging fairy light আর ফুলের গার্ল্যান্ড।

কোণায় সাজানো cake table — উপরে ক্রিস্টাল ক্যান্ডেল হোল্ডার, ছোট ছোট lantern, আর নিচে নরম flower bed। কেকের চারপাশে ছড়ানো rose petals আর fairy light-এর glow, যেন কেকটিই আজকের রাতের রাণী।

ছাদের একপাশ থেকে ঝুলছে helium balloon-এর cluster — কিছু heart shape, কিছু transparent bubble light-ভরা। কিছু বেলুন মেঝেতেও রাখা, soft pastel tone (cream, pink, gold) — classy yet dreamy।

দেয়ালের এক পাশে তৈরি photo corner — golden frame, neon sign “Queen of the Night” বা “Born to Shine”, আর পেছনে flower wall। সবাই এসে সেখানে ছবি তুলছে, হাসছে, আর চারপাশের আলোতে তাদের মুখ ঝলমল করছে।

টেবিল সাজানো হয়েছে elegant candle décor দিয়ে, crystal vase-এ fresh lilies আর white roses। ছোট ছোট fairy light গুলো নরম আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে, যেন ঘরের প্রতিটি কোণেই একটা আলাদা গল্প আছে।

পেছনে বাজছে হালকা instrumental music — পিয়ানোর সুরে ভেসে যাচ্ছে পুরো ঘর। মোমবাতির আলো, ফুলের ঘ্রাণ, আর সবার হাসিমুখে এক উষ্ণ, রাজকীয়, আর ভালোবাসায় ভরা পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

বেশির ভাগ লোকই জানে জারা আরিয়ানের নিজের বোন।তাই শহরের নামকরা বিজন্যাসম্যান এর জন্মদিন উপলক্ষে এটুকু আয়োজন যেনো কোনো ব্যাপারি না।

"" সবাই যার যার মতো পার্টি এনজয় করছে। কেউ কেউ ড্রিংক নিচ্ছে। আর আজ আরিয়ান এর বাবার ও দেশ থেকে ফেরার কথা।যদিও তিনি আরও একমাস পর ফিরতেন।তবে জারার কারনে তা সম্ভব হলো না।জারাকে তিনি একটু বেশি আদর করেন।

"" কিছুক্ষন পরেই কেক কাটা হবে তাই আপাতত সবাই জারার আসার অপেক্ষা করছে।

"" পার্টির একপাশে দারিয়ে আছে আরিয়ান, রেহান,রায়ান,রবিন,সিয়াম।

তাদের সবার গায়ে আজ কালো স্যুট। তাদের প্রত্যেককেই অসম্ভব সুন্দর লাগছে।

বড়ো বড়ো বিজন্যাসম্যানদের মেয়েদের নজর আজ তাদের দিকে।

এর মধ্যেই সিরি দিয়ে নামতে দেখা গেলো জারাকে।লাল টকটকে প্রিন্সেস গ্রাউনে তাকে কোনো প্রিন্সেস এর থেকে কম মনে হচ্ছে না।

"" আরিয়ান রায়ান রেহান সবাই তাকালো সেদিকে।

"" তাকাতেই যেনো সবাই থমকে গেলো।রেহানের হার্ট এতো জোরে বিট করছে জারাকে দখে যেনো বাহির থেকে শুনতে পাবে সবাই।এমন নয় যে সে জারাকে কখনো সাজতে দেখেনি তবে আগে কখনো তার এমন ফিল হয়নি। সে যেনো অন্য কোনদিকে তাকাতেই ভুলে গেছে।

"" অপর দিকে আরিয়ান তাকিয়ে আছে তার নিলাম্বরীর দিকে। কালো গ্রাউন এ তাকে অনেক সুন্দর লাগছে। আরিয়ান তাকিয়ে আছে এমন সময় অরিন তাকালো সেই দিকে।অরিনের তাকানো দেখেই আরিয়ান তার চোখ সরিয়ে নিলো।

"" জারার একপাশে অরিন আরেক পাশে নাহার আর তাদের পেছন পেছন নেহা আর তিশা হেটে আসছে।

"" এতো কিছুর মাঝে সিয়াম তাকালো একবার নাহারের দিকে তারপর মনে মনে ভাবলো এই পাঠকাঠি পাহার কে আজ একটু বেশি সুন্দর লাগছে।

""তারপরেই ভাবলো ছি সিয়াম তোর এত অবনতি হয়েছে যে এই ঝগরুটে মেয়েকে তুই সুন্দর বলছিস।

"" অপরদিকে নেহা পরেছে একটি লেহেঙ্গা যার হাতা কাটা।এবং পিঠের পুরো অংশই দেখা যাচ্ছে তিশাও তাই তবে দুজনের লেহেঙ্গার রং আলাদা।

"" তারা হেটে নিচে আসতেই আরিয়ান এগিয়ে গিয়ে বোনকে কেকের টেবিলের কাছে নিয়ে গলো।

বললো।

"" মাশাআল্লাহ আমার বোনকে পুরাই প্রিন্সেস এর মতো লাগছে।

!""তা শুনে জারা আলতো হাসলো।

রেহান এখনো তাকিয়ে আছে জারার দিকে।জারা তা খেয়াল করছে তবে সেদিকে নজর দিলোনা।

"" এর মধ্যে রায়ান আসলো অরিনের কাছে।

""কেক কাটার জন্য বলতেই। রেহানের বাবা এসে বললেন কেক কাটার আগে আমি একটা ঘোষণা দিতে চাই।

তার কথা শুনে সবাই উৎসুক হয়ে তাকালো।

"" রেহানো কপাল কুচকে তাকালো তার ড্যাড এর দিকে

"" আগামি মাসে আমার ছেলে রেহান এর সাথে তিশার বিয়ে।

একথা শুনেই সবাই হাততালি দিতে শুরু করলো।তিশাও লাজুক হাসলো।

"" এদিকে রেহানে চিবুক শক্ত করে দারিদয়ে আছে।তার সবকিছু ধ্বংস করে দিতে ইচ্ছে করছে। তবে জারার কথা ভেবে সে চুপ থাকলো।নাহলে বার্থডে পার্টি নষ্ট হবে।

"" জারার ভেতরটা যেনো চুরমার হয়ে যাচ্ছে। তার প্রচন্ড কান্না পাচ্ছে। তবে সে কিছু করলোনা শক্ত হয়ে দারিয়ে থাকলো।ওহ তহলে এটাই কারন ছিলো আমাকে অপছন্দ করার।কারন আপনি তিশাকে ভালোবাসেন। বেশ তবে আপনার জীবন থেকে হারিয়ে যাবো আমি।মনে মনে বললো জারা।

"" জারার মনের অবস্থা বুঝতে পেরে নাহার আর অরিন অসহায় চোখে তাকিয়ে রইলো।

"" এর মধ্যে কেক কাটা শুরু করলো।জারা প্রথমে কেক আয়রা আহমেদ তারপর তার মামা এবং আরিয়ান কে খাইয়ে দিলো।

"" কেক কাটার পালা শেষ হলে সবাই যার যার মতো পার্টি এনজয় করছে।

"" এর মধ্যে নেহা আরিয়ানের সামনে দারিয়ে বললো আমায় কেমন লাগছে আরিয়ান?

"" পাশ থেকে রবিন বলে উঠলো ময়দার ড্রাম বলেই নিজের মুখ চেপে ধরলো।

"" নেহা রাগি চোখে তাকিয়ে কিছু বলতে যাবে ততক্ষণে রবিন উধাও।

বিজ্ঞাপন
নীল চোখের অপেক্ষায় গল্পটি জান্নাতী আক্তার সিমি-এর লেখা একটি জনপ্রিয় রোমান্টিক ও সাংসারিক গল্প