নীল চোখের অপেক্ষায়

পর্ব - ২৪

🟢

রেহান এই তিনদিনে বাসায় ফেরেনি কোথায় গেছে কেউ যানে না।

সবাই চিন্তায় শেষ।আরিয়ান পরে সবটা যানতে পেরেছে তারপর থেকে সে সব যায়গায় খোঁজ করেছে কিন্তু তার কনো খোজ নেই।তবে সে জানে রেহানের মন ভালো হলে সে ঠিকই ফিরে আসবে।

"" রেহানের বাবা মাও আজ ফিরে যাবে।তাদের বাসায় সাথে তিসাও।

"" রেহানের বাবা বেলকনিতে চেয়ারে বসে ছিলেন।এমন সময় রেহানের মা এসে বললো কি ভাবলে তুমি?

"" মানে কি ভাববো।

"" এইযে কিভাবে রেহানকে রাজি করাবে তিসাকে বিয়ে করার জন্য।

"" রেহানের বাবা এবার টেবিলে রাখা ফ্লাওয়ারভাসটা ছুরে ফেললেন সাথে সাথে তা খন্ডবিখন্ড হয়ে গেলো।তিনি চিৎকার করে বলে উঠলেন তুমি কি মানুষ।

আমার ছেলেটা আজ তিনদিন হলো বাড়ি ফেরেনি তুমি তার মা হয়ে তোমার ভেতর সেই চিন্তা নেই।তুমি পরে আছো তোমার ওই ফালতু গায়ে পড়া ভাতিজিকে নিয়ে।

কনোদিন তুমি আমার ছেলের কথাকে মুল্য দাওনি তোমার জেদ আজ আমার ছেলের থেকে আমাকে আলাদা করে দিসে।তুমি মা হওয়ার যোগ্য তো নয়ই সাথে স্ত্রী হওয়ার ও যোগ্যতা নেই তোমার।

বলে তিনি রুম থেকে বেড়িয়ে গেলেন।

"" মিসেস চৌধুরী সেখানেই স্তব্ধ হয়ে দাড়িয়ে রইলেন এতো বছরে রেহানের বাবা তার সাথে এমন ব্যাবহার করেন নি। আর এসব কি বলে গেলো তিনি।আসলেই কি মা হিসেবে ব্যার্থ তিনি।

-------------------

জারা দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার সমস্ত ব্যাবস্থা হয়ে গেছে আজ সে শেষ বারের মতো কলেজে যাচ্ছে। তাছাড়া তার প্রানপ্রিয় দুই বান্ধবী এখনো যানেনা যে সে চলে যাবে না জানি কেমন রিয়াক্ট করবে জানার পর।

ভাবতে ভাবতেই সে বেরিয়ে পরলো রুম থেকে। নিচে আরিয়ান আর আজাদ আহমেদ বসে ছিলেন সে যেতেই আরিয়ান উঠে পরলো কারন সে যাবে জারাকে কলেজে দিয়ে আসতে।

""" গাড়ি চালাতে চালাতে আরিয়ান জিজ্ঞেস করলো তা তোর বন্ধুদের বলেছিস যে তুই চলে যাচ্ছিস?

""" না জানাবো আজ।

""" যাওয়াটা কি খুব দরকার। এখানে পড়াশোনা শেষ করা যেতো না।

""" তুমি তো জানো ভাইয়া বাবার ইচ্ছে ছিল যেনো আমি বাহিরে যাই ভালো করে পরাশোনা করি।

"" আরিয়ান আর কিছু বললো না।গাড়ি চালানোয় মনোযোগ দিলো।

---------------------------

বিজ্ঞাপন

"" কিহ তুই এসব কি বলছিস জারা তুই চলে যাবি মানে।কেনো? কি হয়েছে? হঠাৎ করে এমন সিদ্ধান্ত কেন নিলি।ব্যাতিব্যাস্ত কন্ঠে জিজ্ঞেস করলো নাহার।

"" জারা স্মিথ হেসে বললো আমার মায়ের ইচ্ছে ছিল আমি বাহিরে থেকে পরাশোনা করবো।

"" এই ছেমরি তুই আমারে বোকা ভাবিস। নিশ্চয়ই রেহান ভাইয়া কিছু করেছে তাইনা?

আর সেদিন তো বললো ওর ওই কাজিন এর সাথে নাকি বিয়ে।ভাইয়া কি মেনে নিয়েছে?

"" জানিনা।

"" অরিন এতক্ষণ শুধু দুজনের কথা শুনলো।

"" জারা এবার অরিনের দিকে তাকিয়ে বললো কিরে আমার হবু ভাবি তুই এমন চুপচাপ কেনো?

"" হুম তো।

"" তো মানে আর তুই এটা মেনে নিবি কিছু বলবিনা।

"" কি বলবো।কাকে বলবো।কোন অধিকার এ বলবো বলতে পারিস।তাছাড়া আমি এসব নিয়ে এখন ভাবতে চাই না প্লিজ বাদ দে।

"" কিন্তু,,,,

"" জারা আর কিছু বলতে দিলো না নাহারকে।তাকালো অরিনের দিকে। স্মিথ হেসে বললো কিরে আমার হবু ভাবি। ভাইয়ার সাথে যে প্রেম করছিস আমাকে তো একবারো বলিস নি।এই ভালোবাসা তোর আমার প্রতি।

""হ্যা তোর কতো ভালোবাসা তা তো দেখতেই পাচ্ছি। তুই কেনো চলে যাচ্চিস প্লিজ যাস না। ভাইয়া একদিন ঠিকই তোর ভালোবাসা বুঝতে পারবে দেখিস।

"" হ্যা হয়তো সেইদিন আমি থাকবো না।বলে মুখটা মলিন করে নিলো জারা।

"" অরিন নাহার দুজনেরই খুব খারাপ লাগছে কিন্তু জারা তো যাবেই সে একদম জেদ নিয়ে বসে আছে তাই তারা আর মানানোর চেষ্টা করলো না।তবে পুরো ক্লাস টাইম তারা মন খারাপ করে থাকলো।এখন তারা ক্যান্টিনে বসে আছে তাও মলিন মুখে।

""জারা ওদের মন খারাপ দেখে মুখ গোমরা করে বললো কি ব্যাপার তোরা আমার সাথে ঠিকভাবে কথা বলছিস না কেনো।কাল তো আলে যাবো আমি তোরা দুজনে আমাকে বায় বলতে আসবি তো?

"" দুজনে একসাথে বলে উঠলো না।

"" জারা এবার কিছুটা কান্না কান্না গলায় বললো প্লিজ তোরা বোঝার ট্রাই কর।আমি এখানে থাকলে শেষ হয়ে যাবো।

একতরফা ভালোবাসা আমাকে ভালো থাকতে দিবে না।নিজের ভালোবাসার মানুষকে অন্যের সাথে দেখা মৃত্যুর সমতুল্য। ভালোবাসার মানুষের থেকে দুরত্ব সহ্য করা যায় অবহেলা সহ্য করা গেলেও তাকে অন্যের সাথে সহ্য করা যায় না।হয়তো নিজের মৃত্যু ও এতোটা কষ্টের হয় না।আমি পারবো না সহ্য করতে ।বলেই শব্দ করে কান্না করে দিলো।

তিন বছর পর যখন ফিরে আসবো ততোদিনে রেহান ভাইয়ারো বিয়ে হয়ে যাবে। আমিও আমার আবেগ কাটিয়ে উঠতে পারবো।

"" অরিন নাহার ও কান্না করছে। তারা দুজন একসাথে জারাকে জরিয়ে ধরলো। তারা বুঝতে পারলো জারার মনের অবস্থাটা।

অরিন ও ভেবে দেখলো সে নিজে হলেও আরিয়ানের সাথে হয়তো অন্য কাউকে সহ্য করতে পারতো না।

বিজ্ঞাপন
নীল চোখের অপেক্ষায় গল্পটি জান্নাতী আক্তার সিমি-এর লেখা একটি জনপ্রিয় রোমান্টিক ও সাংসারিক গল্প