নীল চোখের অপেক্ষায়

পর্ব - ১৮

🟢

অরিন বাসায় আসার পর থেকেই কান্না করেই যাচ্ছে দরজা আটকে।

""রায়ান তাকে নিতে গিয়েছিল কলেজে পরে যানতে পারে আরিয়ান তাকে জোর করে নিয়ে গেছে। এতে অবশ্য তার একটু রাগ ও হয়েছে।

সে চায়না তার বোনের মনের বিরুদ্ধে কিছু হক।

অরিনকে জিজ্ঞেস করবে কিন্তু তার মুখ চোখ দেখে আর কিছু বলেনি।

তবে অনেক হয়েছে এবার তার জানতে হবে হঠাৎ তার বোনের কি হয়েছে। অনেক ভেবে সে কাউকে ফোন করলো।

"" দেখা কর আমার সাথে।

--------------------

আসার পর থেকে তিশা রেহানের সাথে চিপকে আছে। জারা টিভি দেখছিলো।পাশে তিশা বসে।

আয়রা আহমেদ এখনো আসেননি ভাইয়ের বাসা থেকে।

"" এর মধ্যে সেখানে রেহান এসে উপস্থিত হলো।

জারার সামনের সোফায় বসতেই তিশা জারার পাশ থেকে উঠে রেহানের পাশে এসে বসলো।

"" রেহান একবার বিরক্ত চোখে তাকিয়ে জারাকে উদ্দেশ্য করে বললো।

""জারা আমাকে এক কাপ কফি দিও তো?

"" জারা তাকালো একবার। সে উঠতে যাবে তার আগেই তিশা বলে উঠলো

"" আরে বারবি ডোল তুমি রাখো।বেবি আমি কফি বানিয়ে দেই।

"" No?আর তোকে কতোবার বলেছি আমার সাথে এমন চিপকাবি না তোর কি লজ্জা বলতে কিছু নেই?

"" আমি তোমার কাছে লজ্জা পাবো কেন। তাছাড়া ফুপি আমাকে বলেছে।

"" কি বলেছে?

"" তোমার সাথে আমার বিয়ে দিবে?

"" সেইটা তোর আর তোর ফুপির বিষয় আমি তো একবারো বলিনি তোকে আমি বিয়ে।

"" জারা এবার বিরক্ত হয়ে বললো আপি তুমি কফি বানাও আমার পরতে বসতে হবে।

বলে গটগট পায়ে হেটে চলে গেলো।

"" রেহানের প্রচন্ড রাগ হলো।জারার ওপর এই মেয়ে নাকি ওকে ভালোবাসে।সারাদিন আগেপিছে ঘুরে তাহলে আজ কি হয়েছে। কেন কিছু বলছে না।

"" সে রাগ নিয়ে জারার পিছু পিছু এসে জারা দরজা আটকাতে যাবেই তার রেহান এসে দরজা আটকে দিলো।

"" জারা অবাক হয়ে বললো কি হয়েছে আর তুমও দরজা আটকাচ্ছ কেন ভাইয়া এইটা কেমন ব্যায়া*দবি।

"" রেহান রাগ নিয়ে বললো তুই আমাকে ইগনোর করছিস কেন আর তোর এতো কিসের নেহালের সাথে কথা হ্যা।

"" জারা অবাক হয়ে বললো তাতে তোমার সমস্যা কি? তুমি তো আর আমাকে ভালোবাসো না।তাহলে তোমার কেন এতো লাগছে বলোতো।বলো তুমি আমাকে ভালোবাসো?জারা ছলছল চোখে তাকিয়ে বললো।

"" রেহান স্থির হয়ে তাকি বললো না আমি কাউকে ভালোবাসি না তোকেও না।বলে দরজা খুলে চলে গেলো।

"" রেহান চলে যেতেই জারা ধপ করে বসে পরলো।তার চোখ দিয়ে অনর্গল পানি পরছে। তুমি কখনো আমার ভালোবাসা বুঝলে না ভাইয়া। অনেক হয়েছে আমি আর কষ্ট পাবো না।

"" কিছুক্ষণ কান্নার পর সে নিজে থেকে একটা সিদ্ধান্ত নিলো।

"" নিজের চোখের পানি মুছে বললো

"যান অবশেষে আপনাকে ভুলে গেলাম "

বিজ্ঞাপন

আমি রেহান চৌধুরী।

"" তারপর উঠে ফ্রেশ হতে চলে গেলো।

--------------------

"" বল কি বলতে চাস?কেন ডেকেছিস আমাকে?

"" আমার মনে হয় তুই জানিস আমি তোকে কেন ডেকেছি?

"" আরিয়ান এবার রায়ানের দিকে পূর্ণ দৃষ্টি ফেললো বললো আমি সত্যি বুঝতে পারছি না তুই আসলে কি বলছিস।

"" রায়ান এবার কিছুটা রেগে বললো তুই কোথায় নিয়ে গেছিলি আমার বোনকে? আমার বোনের কি হয়েছে ও কেন কান্না করছিলো হ্যা।

বলে রায়ানের কালার ধরে বললো দেখ তোর জন্য আমার বোনের কিছু হলে আমি তোকে ছারবো না।

"" আরিয়ান এবার রায়ানের থেকে তার কলার ছাড়িয়ে নিয়ে বললো আমি তোর বোনকে কি বলেছি সেটা তোর বোনের থেকেই শুনে নিস।

আর আমার মনে হয় তোর আমার অপর এইটুকু বিশ্বাস আছে।

"" রায়ান এবার কিছুটা শান্ত হলো। সে যানে রায়ানের দ্বারা তার বোনের কোন ক্ষতি হবে না।

"" তুই জানিস যে অরিন ও আমাকে ভালোবাসে।

"" এবারেও রায়ান কিছু বললোনা এটা সত্যি অরিন যে আরিয়ান কে ভালোবাসে তা রায়ান অনেক আগেই বুঝতে পেরেছে। সে নিজের বোন কে খুব ভালো করে চিনে। বোঝে তার চোখের ভাষা।

"" আরিয়ান সবটা খুলে বললো রায়ানকে।

তারপর আচমকা আরিয়ান রায়ানের পায়ের কাছে ধপ করে বসে পরলো।

ভাঙা গলায় বললো তুই তো জানিস আমি তোর বোনকে কতোটা ভালোবাসি।কতোটা চাই।তাহলে কেন এমন করছিস আমি জানি আমি তোর সাথে অন্যায় করেছি তবে তা ইচ্ছাকৃত ছিলো না।

তুই প্লিজ অরিনকে বল আমার সাথে এমন না করতে আমার সহ্য হচ্ছে না ওর এই নিরাবতা।

আমার অন্যায় কি যে ও আমার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।

"" ও আমাকে ভালো না বাসলে আমি তাও মেনে নিতাম।কিন্তু আমি স্পষ্ট জানি ও আমাকে ভালোবাসে।

"" রায়ান অবাক হয়ে দেখছে আরিয়ানকে।আরিয়ানের চোখে জল চিকচিক করছে যেন এখনি গরিয়ে পরবে।

রায়ান ভাবতে পারেনি আরিয়ান অরিনকে এতোটা ভালোবাসে।

"" আরিয়ানের অরিনের প্রতি ভালোবাসার পরিমাণ টা বুঝেি তার শান্তি লাগছে।একটা ভাই তার বোনের জন্য এর থেকে আর কি চায়।কেমন ছেলে চায়।আরিয়ান অরিনের জন্য পার্ফেক্ট।

"" সে আরিয়ানকে তার পায়ের কাছ থেকে তুলে তাকে জারিয়ে ধরলো।

"" আরিয়ান প্রথমে থমকে রইলো তারপর যখন বুঝলো এতো বছর পর তার প্রানপ্রিয় বন্ধু তাকে ক্ষমা করেছে তখন যেনো তার খুশি ধরছিলো না।

"" আরে ভাই ছার আমায়। আর কতক্ষণ জরিয়ে ধরে বসে থাকবি।

"" তুই জানিস কত খুশি আজ আমি।

"" হ্যা হ্যা বুঝতে পারছি।

তবে একটা কথা মনে রাখিস আমর কাছে আমার বোনের খুশি সবার আগে তাই আমি সবসময় তার কথাকেই প্রায়োরিটি দিবো। কোন ভাবে যদি দেখি তোর জন্য আমর বোনের চোখে জল তাহলে। আমি তোকে ছাড়বোনা।

"" আরিয়ান এবার খুশি হয়ে বললো আরে ওইটা তোকে ভাবতে হবে না।আমি আগে থেকেই যানি।তুই আগে বল তুই আমাকে ক্ষমা করেছিস তো?

"" ক্ষমা তো তোকে অনেক আগেই করেছি আমি। আর যাই হয়েছে এখানে তোর কোনো ভুল ছিলো না। তোর যায়গায় থাকলে হয়তো আমিও একি কাজ করতাম।

"" আরে বাহ সবাই সবার মতো মান অভিমান ভুলে এক হয়ে যাচ্ছে অথচ আমাদের কথা কারো মনেই নাই।এইটা কেমন কথা ভাই।

"" রায়ান দেখলো রেহান, সিয়াম,রবিন দারিয়ে আছে তার দুজন হেসে নিজেদের হাত বাড়িয়ে দিলে পাঁচজন একসাথে নিজেদের জরিয়ে ধরলো।

বিজ্ঞাপন
নীল চোখের অপেক্ষায় গল্পটি জান্নাতী আক্তার সিমি-এর লেখা একটি জনপ্রিয় রোমান্টিক ও সাংসারিক গল্প