নীল চোখের অপেক্ষায়

পর্ব - ১৫

🟢

"" ঠাসসসসস,,গালে হাত রেখে চোখ ছলছল করে তাকালো রায়ান আরিয়ানের দিকে।

"" আরিয়ান যেন থরথর করে কাপছে সে কি দেখলো একটু আগে নিজের চোখকে সে কিভাবে অবিশ্বাস করবে তার প্রিয়বন্ধু কিনা একটা মেয়ের সম্ভ্রম হানি করতে চেয়েছিলো।

একটু আগে,,,,,

আরিয়ান এসেই দেখে রায়ান নিশার সাথে জোরজবরদস্তি করার চেষ্টা করছিলো।আরিয়ান আসতেই নিশা আরিয়ানের পেছনে গিয়ে লুকিয়ে পরে। সে কান্না করে নানা রকম কথা বলতে শুরু করে।

"" দেখ রায়ান প্লিজ বিশ্বাস কর তুই যেমন ভাবছিস বিষয় টা তেমন নয়।

"" কিন্তু আরিয়ান শুনেনি রায়ানের কথা।

এর মধ্যে কলেজে প্রিন্সিপাল থেকে শুরু করে সবাই সেখানে চলে আসে।রায়ান কে মোটামুটি সবাই চেনে সে অনেক ভালো।

কিন্তু আরিয়ান নিজের চোখে দেখেছে তখন বিষয় টা অনেক জটিল হয়ে ওঠে।

""" প্রিন্সিপাল সবাইকে ডেকে তার রুমে নিয়ে যান এবং রায়ানকে কলেজ থেকে বহিষ্কার করা হয়।

পুরোটা সময় রায়ান শুধু আরিয়ান কে একবার তার কথা শুনতে বলেছিলো কিন্তু সে শুনেনি।

পরে রায়ান এতোটাই আঘাত পায় ভেতর থেকে যে সে কোনো কথা না বলে সবটা মেনে নেয়।

------------------

আরিয়ান বাসায় গিয়ে কোনভাবে শান্তি পাচ্ছিলো না এর মধ্যে সেখানে রেহান,রবিন আসে।

"" রেহান বলে তুই কোনকিছু না ভেবেই সব দোষ রায়ানকে দিয়ে দিলি তুই চিনিসনা ওকে।

"" আমি নিজের চোখে দেখেছি।শক্ত মুখে বললো আরিয়ান।

"" রবিন বলে অনেক সময় আমরা নিজের চোখেও ভুল দেখি।

"" এর মধ্যেই সেখানে সিয়াম আসে বলে তোদের একটা জিনিস দেখাই। সে ওই লাইব্রেরি রুমের সিসিটিভি ফুটেজ নিয়াসে এবং

যা দেখে তাতে তারা যেনো নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলো না।একটা মেয়ে নিজের সম্মান নিজে কিভাবে নষ্ট করতে পারে।

ফুটেজে তারা দেখে নিশা মেয়েটা কিভাবে সবটা অভিনয় করে।

"" ভিডিও দেখে আরিয়ান তার ভুল বুঝতে পারে পরে সে কলেজে গিয়ে প্রিন্সিপাল কে ভিডিও দেখায় তিনি রায়ানকে কলেজে ডাকেন সাথে ওই মেয়েটাকেও পরে ওই মেয়েটার পরিবারকে ডাকা হয় তাকে কলেজ থেকে বহিষ্কার করা হয়।

"" তারা রায়ানের কাছে মাফ চায়।

"" নিশা সবটা স্বীকার করে। এবং সেইসব ছেলেদেরও শাস্তি দেওয়া হয়।

"" সবশেষে আরিয়ান যখন তাকে জরিয়ে ধরতে চায় তখন সে দুরে সরে যায় আর কলেজ থেকে বেরিয়ে আসে।

"" আরিয়ান ও তার বন্ধুরা ভাবে হয়তো খুব রাগ করেছে ঠিক হয়ে

গেলে ফিরে আসবে কিন্তু তারা এটা বুঝতে পারেনি রায়ান রাগ করে দেশ ছেড়ে চলে যাবে।

"" যদিও এই বিষয় এ রায়ানের পরিবারের কেউ কিছু জানেনা। কারন আরিয়ান জানতে দেয়নি।সে প্রিন্সিপালকে রিকোয়েস্ট করেছিলো।

তাইতো হঠাৎ করে বাবার সাথে জেদ করেও সে অষ্ট্রেলিয়া চলে যায়।

"" সবটা এক নিশ্বাসে মনে করেই সে ফস করে দম ছারলো।ওই দুটো দিনের কথা মনে পরলে তার দমবন্ধ হয়ে আসে।

সে জানে এখানে আরিয়ান বা তার বন্ধুদের কোন দোষ নেই। সে আরিয়ানের যায়গায় থাকলে নিজেও ভুল বুঝতো।কিন্তু ওইযে মনকে বোঝাতে পারেনা।

তাছাড়া ওদের মাফতো সে কবেই করে দিয়েছে।

"" আর ও এটাও জানে আরিয়ান অরিনকে অসম্ভব ভালোবাসে।

সে তো তিন বছর আগেই দেখেছে আরিয়ানের পাগলামো।ঘন্টার পর ঘন্টা স্কুলের সামনে দারিয়ে থাকতো অরিনকে দেখার জন্য।

"" পরে থাকতে না পেরে নিজে থেকেই তার কাছে খুলে বলেছিলো সবটা।

"" এসব ভেবে ঘুরে দারাতেই আচমকা একটা মেয়ের সাথে ধাক্কা খেলো।

"" সরি সরি আসলে আমি বুঝতে পারিনি।

"" রায়ান রেগে বললো কিসের সরি বেয়াদব মেয়ে ছেলে দেখলেই গায়ের জালা বেরে যায় না। তাদের কাছে ঘেসতে ইচ্ছে করে।আর,,,,

"" ঠাসসস কিছু বলার আগেই মেয়েটা তাকে থাপ্পড় মারলো।এবার রায়ান মেয়েটার দিকে তাকালো দেখলো মেয়েটার চোখ ছলছল করছে।

"" নিজেকে কি মনে করেন আপনারা আমরা গরিব বলে কি আপনাদের মতো বড়োলোক দের পিছনে পরে তাকি সবসময় সবাইকে একরকম মনে হয় আপনাদের।

বিজ্ঞাপন

বলে মেঘা চলে আসলো।

"" রায়ান তখনও গালে হাত রেখে দারিয়ে আছে।

"" ভাইয়া এমন গালে হাত দিয়ে দারিয়ে আছো কেন?বললো রাফসান।

"" আব না এমনি।বলে হাত সরাতেই

"" একি ভাইয়া তোমার মুখের নকশা কে বদলালো।

মানে,,,?

মানে তোমার গাল এমন লাল হয়ে আছে কেন মনে হচ্ছে কেউ থাপ্পড় মেরেছে।

"" আজব গাল লাল হয়েছে মানেই কেউ থাপ্পড় মেরেছে তোকে কে বললো,আব মশা কামরেছে আমায়।

"" রেহান অবিশ্বাস্য চোখে তাকিয়ে বললো সত্যি।

"" রায়ান এবার বিরক্ত হয়ে দাতে দাত চেপে বললো হ্যা সত্যি। কিন্তু তুই এখানে কেন?

"" ওহ হ্যা আমি তো তোমাকেই ডাকতে এসেছি। আব্বু তোমাকে ডাকছে কি যেনো কাজ আছে।

"" তো সেটা না বলে সংএর মতো দারিয়ে আছিস কেন বলে হনহনিয়ে চলে গেলো।

"" রাফসান অবাক চোখে কিছুক্ষণ তাকিয়ে বললো কিন্তু মশা কামর দেওয়া বিষয়টা আমার কেনজানি বিশ্বাস হলো না।যাহোক পরে দেখা যাবে।

--------------------

ছেলে আর মেয়ে পক্ষ যেহেতু একি রিসোর্ট এ আছে তাই একপাশে কনে পক্ষর গেট সাজানো হয়েছে। সেখানে মেয়েদের গেট ধরার ব্যাবস্থা করা হয়েছে গেট ধরতে আখি, অরিন মেঘা সবাই যাবে মেঘা হলো আখির ফ্রেন্ড। মেঘা খুব মিশুক টাইপের মেয়ে হওয়ায় অরিনের সাথেও ভালো বন্ধুত্ব হয়েছে।

তারা সবাই মিলে তৈরি হয়ে আদ্রির ঘরে গেলো।

"" বাহ আপু তোমাকে তো দেখতে একদম পরির মতো লাগছে নাহিদ ভাইয়া তো তোমার দিক থেকে চোখ ই ফেরাতে পারবে না। আমার চোখ ই তো সরছে না আসো নজর টিকা লাগিয়ে দেই।

"" অরিনের কথা শুনে আদ্রি তার কান টেনে বললো ওরে দুষ্টু বড়ো বোনকে লজ্জা দেওয়া হচ্ছে হুমম।

"" আহ আপি ছারো সত্যি তো বললাম তোমাকে অনেক সুন্দর লাগছে এই আখি মেঘা বল তোরা।

"" হুম আপি তোমাকে অনেক সুন্দর লাগছে আমারি না নজর লেগে যায়।

"" হুম আপি আজ তোমাকে পেত্নী থেকে অপ্সরাদের মতো লাগছে প্রথমে তো ভাবলাম আমার বোনকে কিডন্যাপ করে নিয়ে গেছে হয়তো আর এটা অন্য কেউ কিন্তু নাহ পরে তো দেখলাম এটা আমার সেই পেত্নী বোনটাই তো।আখি বললো।

"" এর মধ্যেই আরাফাত এসে বললো কিরে পেত্নীর দলেরা তোরা নাকি বিয়ের গেট ধরবি বড় পক্ষ তো চলে এসেছে।

"" ওহ হ্যা এই চল চল।

---------------------

গেইট এর সামনে দারিয়ে আছে আদিব এর সাথে রেহান,নেহাল,আরো অনেক বন্ধুরা আর বড়রা সবাই আলাদা তারা ছোটদের ঝামেলায় পরতে চায়না তাই।আরিয়ান এগুলো তেমন পছন্দ করে না তাই একপাশে দারিয়ে আছে ফোন দেখছে তবে সেটা শুধু দেখানোর জনয় আসলে তো তার নজর সামনে দারিয়ে থাকা তার নিলাম্বরীর দিকে।

অপরদিকে গেইট এর অন্যপাশে অরিন আখি মেঘা আরো কাজিনেরা দারিয়ে আছে তাদের সাথে।

"" বরপক্ষ গেইট এর সামনে দারাতেই অরিনেরা তাদের পথ আটকে দারালো।তাদের দ্বারাতে দেখেই বরপক্ষ একজন বলে উঠলো কি চাই তোমাদের। কেন পথ আটকে দ্বারিয়ে আছো।যেতে দিবে না নাকি।

"" তাদের কথা শুনে আখি বলে উঠলো যেতে তো দেবই কিন্তু আমাদের পাওনাটা আগে বুঝিয়ে দিন।

"" পাওনা কিসের পাওনা আমার জানা মতে এখানে আমরা বউ নিতে আসছি।কিরে ভাই নাহিদ তুই কি আমাদের এইসব বাচ্চা বাচ্চা বেয়ানদের থেকে টাকা ধার নিয়েছিলি নাকি।

"" রেহানের কথা শুনে নাহিদ থতমত খেয়ে বললো তুই কি বলছিস এসব।

"" অরিনরাও সবাই মিট মিট করে হাসছে।

"" তুই নিসনি টাকা তাহলে বেয়ান রা আপনারা কিসের টাকা চাচ্ছেন বলবেন প্লিজ।

"" এবার অরিন বলে উঠলো ভাইয়া এতো নাটক করোনাতো আমাদের পাওনা দিয়ে দিলেই তো হয় তাহলেই তো আমরা চলে যাই।

"" এবার আরিয়ান তাদের সামনে এসে দারালো আরিয়ানকে দেখে অরিন একটু গুটিয়ে গেলেও নিজের পাওনা হাসিল না করে সে যাবেনা তাই সে শক্ত হয়ে দারিয়ে থাকলো।

"" এবার আরিয়ান গম্ভীর কন্ঠে বলে উঠলো কতো চাই তোমাদের?

"" এইতো ভাইয়া আপনি বুঝেছেন।

"" এবার অরিন বলে উঠলো আমাদের ডিমান্ড বেশি না এই একবস্তা চকলেট,এক বালতি আইসক্রিম আর একলক্ষ টাকা আমাদের আবার বেশি কিছু চাই না।

"" তাদের পাওনা শুনে সবাই ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেছে।আরিয়ান নিজেও হতবাক হয়ে তাকিয়ে আছে অরিনের দিকে।

অনেক কষ্টে নিজেদের সামলে নেহাল বলে উঠলো এতোদিন শুনেছি বিয়ের গেইট ধরতে আসলে টাকা চায় আজ প্রথম শুনলাম চকলেট আইসক্রিম ও চায়।

বিজ্ঞাপন
নীল চোখের অপেক্ষায় গল্পটি জান্নাতী আক্তার সিমি-এর লেখা একটি জনপ্রিয় রোমান্টিক ও সাংসারিক গল্প