নীল চোখের অপেক্ষায়

পর্ব - ১০

🟢

"" অরিন হঠাৎ ধমকে কেপে উঠলো তাকে তার ভাই কখনো তেমন জোরে কথা বলেনি আর ধমক তো অনেক বড় বিষয়।

সে মনে মনে অনেক কষ্ট পেল।তার চোখে পানি টলোমলো করছে।

তারপরেও সে কিছু না বলে চুপ করে থাকলো আর ঠিক করলো কথা বলবে না সে আর ভাইয়ের সাথে।

""" রায়ান আর চোখে একবার অরিন এর দিকে তাকালো বোনের মনের ভাব বুঝতে পেরেও সে কিছু বললো না। চুপ থাকলো।

------------------

আরিয়ান বাসায় এসেই তার রুমে চলে গেলো গটগট পায়ে।

তারপর জারা নামলো গাড়ি থেকে। সে যাওায়ার জন্য পা বাড়াতেই রেহান বলে উঠলো সরি জারা।

তার কথায় তার দিকে ঘুরে তাকালো জারা তারপর চোখ সরিয়ে আবার হাটা শুরু করলো।

এবার রেহান গাড়ি থেকে নেমে দৌড়ে তার সামনে এসে দারালো। জারা হাটার পথে বাধা পেতেই বিরক্ত হয়ে বললো কি সমস্যা এমন করছেন কেন?

"" রেহান তার দিকে অপরাধীর দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললো আমি সত্যি সরি জারা আসলে সেইদিন আমি অনেক রেগে ছিলাম তাই হুট করে তোমার সাথে এমন ব্যাবহার করে ফেলেছি।

"" ইট’স ওকে। বলে জারা তাকে পাস কাটিয়ে যেতে নিলেই রেহান তার হাত ধরে ফেললো।

""" জারা এবার চোখ মুখ শক্ত করে বললো কি সমস্যা আপনার বলেছি তো সমস্যা নেই তাছাড়া আপনি তো ঠিকই বলেছিলেন আমি ছোট হয়ে বেশি

বেশি জানার চেষ্টা করেছি আপনার কাছে।

কোনো কারন ছাড়াই আপনাকে বিরক্ত করি আমি।তবে আজ থেকে কোনোদিন আর করবো না সত্যি বলছি।মুক্তি দিলাম আপনাকে।

বলে জোর করে হাত ছাড়িয়ে নিয়ে যলে গেলো।তার চোখ মুখ লাল হয়ে আছে শুধু চোখ থেকে পানি পড়া বাকি।

"" এদিকে রেহান অবাক হয়ে জারার চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে আছে। জারা কখনো এভাবে তার সাথে কথা বলেনি।

-----------------

এখন রাত ১০টা অরিন গল্প করছে তার মামাতো বোন আখির সাথে।আখি তার সমবয়সী তার মামুর বাসা ঢাকায়।

তারা আজ বিকেলেই এসেছে। আঁখির সাথে অরিনের বেশ বন্ধুত্ব পুর্ন সম্পর্ক।দুজন এক যায়গায় হলে তাদের গল্পই শেষ হয় না। তারা মুলত এসেছে

অরিন দের দাওয়াত করতে কিছুদিন পরেই আখির বড়ো বোন

আদ্রির বিয়ে।সেই সন্ধ্যা থেকে দুজন গল্প করছে আর রায়ান তাদের আশেপাশে ঘুর

ঘুর করছে।মুলত অরিন সেই বিকেল থেকে

সারাদিন একটা কথাও বলেনি অরিন রায়ানের সাথে। রায়ান বেচারা বেশ বুঝতে পারছে একটু বেশি বকা হয়ে গেছে তার বোনকে।

কিন্তু একমাত্র বোন তার সে যদি রেগে থাকে তবে রায়ান তা কিভাবে সহ্য করবে।

তাই সে চেষ্টা চালাচ্ছে কথা বলার কিন্তু অরিন এখন পর্যন্ত একটা কথা তো দুরে থাক তাকায়নি পর্যন্ত।

"" কেউ যদি চায় আমার সাথে ঘুরতে যেতে পারে কারো নাকি রাতে ঘুরার অনেক শখ।রায়ান আরচোখে অরিন এর দিকে তাকালো। আখিও তাকালো।

সেও এতক্ষণে বুঝে গেছে যে অরিন রায়ানের ওপর রাগ করে আছে।

"" এবার অরিন আখির দিকে তাকিয়ে বললো আখি তুই কাউকে বলে দে এখানে কারো ঘুরতে যাওয়ার শখ নেই।

"" আখি তুই বলে দে চাইলে ফুচকা আইসক্রিম ও খাওয়াতে পারি।

"" এবার অরিন বললো আখি তুই কাউকে বলে দে যে এই আরিয়ানা খান অরিন ঘুস খায় না। বলে উঠে নিজের রুমে চলে গেলো।

""" আখি একবার রায়ান তো একবার অরিন এর দিকে তাকাচ্ছে।

"" আরিয়ান আর কি করবে বেচারা অসহায় ফেস করে নিজের রুমে যেতে যেতে ভাবলো কোন পাগলের কথায় যে ওকে বকতে গেছিলাম। তারপর মনে হলো নিজের কথায়,

তখন নিজেকেই গালি দিতে দিতে রুমে চলে গেলো।

---------------------------

"" উফ এই অন্ধের মতো করে হাটছেন কেন।ইস আমার কোমরটা বোধহয় ভেঙে গেলো।

মাগো তোমার মেয়ের আর বিয়ে হবে না মাাাাা।

"" এই চুপ ব্যায়াদব মেয়ে নিজে দেখে শুনে হাটতে পারো না।আর তুমি অন্ধ কাকে বলো হ্যা?

"" কাকে আবার আপনাকে বলছি। আর শুধু অন্ধ নয় পাশাপাশি আপনি একটা ষা*র উফ কি ভারি।

"" কিহ তুমি আমাকে ষা*র বললে।নিজে তো একটা পাঠ*কাঠি।

"" কিরে নাহার কি হয়েছে তোর?

""আরেহ সিয়াম ভাইয়া আপনি এখানে হঠাৎ।

"" আরেহ বলিস না আমি রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলাম হঠাৎ কথা থেকে এই লোকটা আমার গায়ের উপর এসে পরলো।ষা*র একটা।

"" জারা তুমি চিনো নাকি এই পাঠ*কাঠিকে?

"" এই আপনি পাঠ*কাঠি কাকে বলছেন আপনি জানেন আমার ওজন কতো।

"" যতোই হোক সেই তো পাঠ*কাঠি।আর কি যেন নাম বললো ওহ নাহার যেন ছোটখাটো একটা পা*হার।

"" কিহ একবার পাঠকাঠি বললেন আবার পাহারো বলছেন এতো বড় সাহস আমি তো আপনাকে বলেই সিয়াম এর দিকে তেরে যেতেই জারা নাহারকে টেনে ধরলো।

বিজ্ঞাপন

"" আরে মেরি ব্যাহেন আব তো চুপ হোজা মেরি মা।

"" ছি জারা এইসব পাঠ*কাঠির মতো দেখতে পাহার তোমার বান্ধবী ছি।

"" এই।

"" চুুুুপপপপপপপপ।ভাইয়া তুমি চুপ করো আর নাহার তুইও চুপ কর।

"" এবার জারার চিৎকারে তারা দুজনেই মুখে আঙুল দিয়ে চুপ হয়ে গেল।

"" তোমরা কি ছোট বাচ্চা বলো এভাবে ঝগড়া করছো কেন রাস্তার মাঝে দারিয়ে।আর নাহার তোকে আমি পাঠিয়েছি কোল ড্রিংক কিনতে আর তুই কিনা ঝগরা করছিস।

"" এবার নাহার মুখে আঙুল রেখেই মিন মিন করে বললো আমিতো আনছিলাম নাঝখানে এই ষা*রটা আমার উপর পরলো।

"" জারা চোখ গরম করে তাকালো।এবার সিয়ামের দিকে তাকিয়ে বললো ভাইয়া তুমি হঠাৎ এখানে।

"" সিয়াম ও একইভাবে মুখে আঙুল রেখেই বললো আরিয়ান আজ আসতে পারবেনা তাই আমাকে পাঠিয়েছে তোমাকে নিতে।কিন্তু দেখা হয়ে গেলো একটা পাঠ*কাঠি পাহার এর সাথে। বলেই নাহার এর দিকে তাকালো।

"" নাহার কটমট করে তাকিয়ে আছে সিয়াম এর দিকে।

"" নাহারকে পাঠকাঠি পাহার ডাকায় অবশ্য জারার বেশ হাসি পাচ্ছে। কিন্তু সে হাসছেনা কারন নাহার রেগে যাবে।

"" আচ্ছা ভাইয়া চলো দেরি হয়ে যাচ্ছে।

"" নাহ আমি ওই ষা*র এর সাথে যাবো না। বলে মুখ ফুলিয়ে অন্যদিকে ঘুরে তাকালো।

"" আমিও ওই পাঠকাঠি পাহা*রকে আমার গাড়িতে নিবো না।

"" উফ তোমরা থামো তো আমি বলেছি তুই যাবি মানে যাবি আর ভাইয়া তুমিও চলো।

কি আর করার নাহার সিয়ামের দিকে হিং*স্র চাহনি দিয়ে জারার পিছন পিছন গেলো।

""সিয়াম ও প্রচন্ড বিরক্ত একটা ইন্টার এ পরা পিচ্চি মেয়ে কিনা তার সাথে ঝগড়া করলো।সেও গাড়ির কাছে গেলো।

"" জারা আর নাহার পিছনে বসলো আর সিয়াম ড্রাইভ করবে।

"" সিয়ামের নিজেকে ড্রাইভার মনে হচ্ছে কিন্তু কিছু বলছে না।

------------------

রায়ান ঠিক করেছে যে করেই হোক অরিন এর রাগ ভাঙাবে।তাই সে আঁখি কে আগে থেকেই বলে রেখেছে।

তাই অরিনকে নিয়ে আখি একটা রেস্টুরেন্টে আসছে রায়ান তাকে অরিনকে

এখানেই আসতে বলছে। এটা অরিনের পছন্দের রেস্তোরাঁ ছোটবেলা রায়ান এর সাথে রাগ করলেই রায়ান অরিনকে এখানে তার পছন্দের

চকলেট মিল্ক শেক খাওয়াতো।

তখন যদিও অরিন ছোট ছিলো।কিন্তু রায়ান যানে এখনো অরিন এর এখানে আসলে মুড ভালো হয়ে যাবে।

অরিনএরো এখানে এসে অনেক ভালো লাগছে। রায়ান বিদেশ যাওয়ার পর থেকে সে আর এখানে আসে নি।কারন এখানে আসলেই

তার রায়ানের কথা মনে হতো।

অরিন তার ভাইকে অনেক ভালোবাসে।আর রায়ান ও তাই বোন ই যেন

ওর প্রান।অরিন কখনো চায়নি রায়ান

বিদেশ যাক।শুধু অরিন কেন রায়ান নিজেও চায়নি কখনো। কিন্তু হঠাৎ কিযে হলো।

---------------------

"" কিরে আজ তো তুই জারাকে নিতে গেলি না?

"" আরিয়ান একবার চোখ তুলে রেহান এর দিকে তাকালো তারপর বললো সিয়াম কে পাঠিয়েছি।ও নিয়াসবে।

"" রেহান কিছু সময় ঘুরঘুর করে বসলো আবার উঠছে সে কিছু বলতে চায় কিন্তু পারছে না।

"" এমন শেয়া*লের মতো পিছনে পিছনে ঘুরছিস কেন আমি কি কনো মুরগি।

"" আরিয়ান এর কথায় রেহান থতমত খেয়ে গেলো।তারপর নিজেকে স্বাভাবিক করে বললো রায়ান কি আগে থেকে জানতো তুই অরিনকে পছন্দ করিস?

""আরিয়ান একবার তাকালো সে জানতে রেহান তাকে এই প্রশ্নটাই করতে চায়।

তুই ভুল বললি আমি অরিনকে পছন্দ নয় ভালোবাসি।

"" আব,,,হ্যা ওটাই ও কি জানতো?নাহলে সেদিন ওমন রিয়াক্ট করলো কেন?

""হ্যা জানতো।আমি ওকে ৩ বছর আগেই জানিয়েছিলাম।

"" ও তোকে কিছু বলেনি?

"" বলেছিলো তো।বলেছিলো আমার বোন বড় হলে আমি তোকেই আমার বোনের জামাই বানাবো।তুই চিন্তা করিস না।আমার বোন রাজি না হলেও ওকে কিডন্যাপ করে তোর কাছে দিয়ে দিব।

"" কিহহ!

"" হ্যা।কিন্তু হাস্যকর বিষয়টা কি জানিস এখন ওই অরিনকে বলেছে আমার থেকে দূরে থাকতে।

তাই তো তাকে দেখার তৃষ্ণায় মারা গেলেও তার সামনে যেতে পারছিনা।

"" রেহান অবাক চোখে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে তারপর বললো তাই তুই ওর সামনে যাচ্ছিস না।

কিন্তু আমার মনে হয় আমাদের আগে রায়ানের সাথে ঝামেলাটা ক্লিয়ার করা উচিৎ।

"" তোর কি মনে হয় আমি এটা ভাবিনি আমি নিজেও ওর সাথে কথা বলার চেষ্টা করেছি কিন্তু ও তো সোনার জন্য প্রস্তুত নয়।

"" হুম।

বিজ্ঞাপন
নীল চোখের অপেক্ষায় গল্পটি জান্নাতী আক্তার সিমি-এর লেখা একটি জনপ্রিয় রোমান্টিক ও সাংসারিক গল্প