নীল চোখের অপেক্ষায়

পর্ব - ৫

🟢

"অরিন অবাক হলো তার চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে করলো আমি তোকে বলেছিলাম রে ভাই আমাকে সাহায্য কর। নাকি তোর সাহায্যের জন্য আমি মরে যাচ্ছিলাম। উল্টো নিজে যেচে পরে এসে আমাকে রাগ দেখালি থাপ্পড় মারলি।কিন্তু হায় আফসোস সে তা প্রকাশ করতে পারলো না। শেষে যদি আরেকটা থাপ্পড় খায় তখন কি হবে তাই সে দাতে দাত চেপে বললো ধন্যবাদ ভাইয়া।

"আচমকা আরিয়ান তাকে ধমকে বললো এই মেয়ে তোমার কোন জন্মের ভাই লাগি আমি।আমার বাবা মার সম্পত্তির ভাগ চাও তুমি।

" অরিন আশ্চর্য হয়ে তাকালো সামান্য ভাই বলাতে এতো বড় অপমান বলে কিনা সে সম্পত্তির ভাগ চাচ্ছে। বয়েই গেছে তার।সে মাথা নিচু করে বললো তাহলে কি বলে ডাকবো আমি।

"আরিয়ান গম্ভীর সরে বললো যা ইচ্ছে ডাকো পারলে নাম ধরে ডাকো কিন্তু ভাই হয়ে আমার বাবার সম্পত্তির ভাগ চাইবে না।

"অরিন বললো কিন্তু আপনি তো আমার থেকে বড় তাহলে আপনাকে আমি নাম ধরে ডাকবো কিভাবে।সেটা তুমি জানো। বলেই সে গাড়ি ঘুড়িয়ে নিয়ে চলে গেলো।আর অরিন বোকার মোতো তাকিয়ে রইলো তার যাওয়ার দিকে।

গাড়িতে উঠে আরিয়ান একটু মুচকি হাসলো।তারপর আবার মুখটাকে গম্ভীর করে চলে গেলো তার গন্তব্যে।

"এদিকে অরিন ফুঁসতে ফুঁসতে বড়ির ভেতরে ডুকলো তার ভাই এসেছে কিন্তু সে তার দিকে নাতাকিয়েই গটগট করে হেটে উপরে চলে গেলো।

"এদিকে তার ভাই তাকে ডাকছে কিরে বনু কই গেছিলি।এতো দেরি হলো যে?

"জাহান্নামে।রায়ান থতমত খেয়ে গেলো।

সে আবার কি করলো যে তার উপর এমন রাগ দেখাচ্ছে।

"সে মায়ের দিকে তাকিয়ে বললো কি হলো আম্মু ওর।জাহানারা বেগম বললেন তোর বোন তুই ভালো জানিস লাই দিয়ে দিয়ে বাপ ভাই বোনটাকে মাথায় তুলেছো তোমরা।বলে তিনিও রান্না ঘরে চলে গেলেন।

"বেচারা রায়ান ভাবছে সে কি এমন করলো।যে সবাই তাকে রাগ দেখালো,,

"এদিকে অরিন ফুঁসতে ফুঁসতে ওয়াশরুম এ গিয়ে আয়নায় তার গালের দিকে তাকালো তার গালটা থাপ্পড় মেরে টমেটোর মতো বানিয়ে দিয়েছেন খাটাসটা।অভিশাপ দিলাম তুই জীবনে বউ পাবিনা।

অরিন বাবা মায়ের একমাত্র মেয়ে হওয়ায় সবাই তাকে একটু বেশি ভালোবাসে বিশেষ করে তার বাবা এবং ভাই।ভাইয়ের একমাত্র বোন হওয়ায় অনেক আল্লাদী সে।অরিন রায়ানের থেকে ৫ বছরের ছোট।

তাই তাদের খুনসুটি সবসময় লেগেই থাকে।

আর তা নিয়ে অতিষ্ঠ হয়ে থাকেন তাদের মা জাহানারা খান।

"অরিন ভাবছে তার ভাই যদি গালের এই অবস্থা দেখতো তাহলে কি হতো কি উত্তর দিত সে।

আর থাপ্পড় টা কি জোরে মেরেছে জ্বর জ্বর ভাব হচ্ছে গায়ে।

সে ফ্রেশ হয়ে নিচে না গিয়ে শুয়ে পরলো।

সারাদিন রায়ান বোনের খোঁজ না পেয়ে রাতে খাবার জন্য ডাকতে এসেছে।

একটু উকি দিয়ে দেখলো অরিন কাথা মুরি দিয়ে জোরো সরো হয়ে শুয়ে আছে। এই অসময়ে শুয়ে থাকার কারন বুঝলোনা রায়ান।

ভেতরে এসে ডাকতে লাগলো কিরে বুরি খাবিনা চল।এই অসময়ে শুয়ে আছিস কেন। বলে কাছে আসতেই দেখলো অরিন কাপছে। কপালে হাত দিয়ে চেক করতেই দেখলো জ্বরে গা

পুরে যাচ্ছে সে চমকে উঠলো।

অরিন সহজে অসুস্থ হয়না আর হলে সহজে তা সারে না।হঠাৎ

কেন জ্বর আসলো এটাই রায়ান বুঝতে পারছে না।সে তারাতাড়ি তার মাকে ডাকলো

কিছুক্ষণ পর তার বাবা ডক্টর নিয়ে আসলো দেখলো জ্বর ১০৪ ডিগ্রি।

তারা কেউই বুঝতে পারছেনা জ্বর কেন আসলো।

-----------------------

"এদিকে পরেরদিন কলেজে এসে জারা

অরিনকে না পেয়ে তার মন খারাপ হয়ে গেলো।ফোন দিয়ে জানতে পারলো তার নাকি

গায়ে জ্বর।

সেও ক্লাস না করে মন খারাপ করে বাড়ি ফিরে গেলো।

"জারা মন খারাপ করে ড্রয়িং রুমে বসে টিভি দেখছিলো। এমন সময় আরিয়ান এসে বলল কিরে বুড়ি এমন পেচার মতো মুখ করে বসে আছিস কেন।তার কথায় রেহান ও তাকালো জারার দিকে।

"জারা মুখ করুন করে বললো আজ অরিন কলেজে আসেনি।

বিজ্ঞাপন

"আসেনি তো তোর কি হইছে কাল চলে আসবে।

"আরেহ নাহ ভাইয়া ওর নাকি অবেক জ্বর কাল আমাদের বাসা থেকে যাওয়ার পর ওরও জ্বর আসছে।

"রেহান বললো বাহ তোমাদের দুই বান্ধবীর তো খুব মিল কাল ওর জ্বর ছিল তো আজ এর। what a combination বলে হাসতে লাগলো।

"আরিয়ান চিন্তিত হয়ে বললো ম্যাডাম এর একটা থাপ্পড় হজম হলো না সরাসরি জ্বর।

"জারা ওর কাছে থাকায় তার কথা শুনে চোখ বড়ো বড়ো করে তাকালো।সে চিল্লিয়ে বলল ভাইয়া তুই অরিনকে থাপ্পর মেরেছিস। কিন্তু কেন?

"তার কথা শুনে রেহান ও তাকালো আরিয়ানের দিকে কিহ তুই আমার বোনকে থাপ্পড় মেরেছিস।

"এর মধ্যে আয়রা আহমেদ তাদের কথা শুনে তেরে এসে বললো কিহ তুই ওইটুকু বাচ্চা মেয়েটাকে মেরছিস।

"আরিয়ান তো পরলো মহা ফ্যাসাদে সে ভাবছে ভুল জায়গায় ভুল কথা বলে ফেলেছিস তুই আরিয়ান আজ তুই শেষ।

"কিন্তু সে এটা বুঝতে পারছেনা যে একদিনে এই মেয়ে তার মায়ের ওপর কি এমন জাদু করলো।

যে তার মা এতো খেপে যাচ্ছে।

"তিন জনের হাত থেকে বাচতে সে দিলো এক দৌড় তার পেছন পেছন গেলো রেহান।আর জারা তো তখনও হা করে তাকিয়ে আছে।

"মানে তার ভাই একটা মেয়েকে থাপ্পড় মেরেছে তাও কিনা তাকে ঠিক করে চিনে না আশ্চর্য।

" দৌড়াতে দৌড়াতে আরিয়ান আর রেহান তাদের বাগানে এসে দারালো।

তাদের বাগানটা বেশ বড়ো আর অনেক সুন্দর। জারা নানা রকম দেশি বিদেশি ফুলের গাছ লাগিয়ে রেখেছে এমন কোন ফুল নেই জার গাছ নেই এই বাগানে।আর বাগানের মাঝখানে বসার জন্য সুন্দর ব্যাবস্হা করা আছে। এখানে তারা বিকালে বা সকালে আড্ডা দেয়।

"" রেহান বললো কিরে তোর ব্যাপার স্যাপার আমি ঠিক বুঝতে পারছি না।তুই অরিন মেয়েটাকে দেখলি কালকের আগের দিন আর কাল ওকে থাপ্পড় মারলি।আর সবথেকে বড় কথা তোর ব্যাবহার দেখে আমার মনে হচ্ছে তুই অকে আগে থেকে চিনিস।তাছাড়া অরিন একটু বাচ্চা স্বভাবের হলেও কারাপ না খুবি সরল।

"" আরিয়ান বললো তুই একটু বেশি ভাবছিস।আমি কিভাবে চিনবো ওকে।

"" তুই আমার ছোট্ট বেলার বন্ধু। ছোট থেকে দেখে আসছি তোকে আমি।একটা অচেনা মেয়েকে তুই থাপ্পড় মারবি এটা আমাকে বিশ্বাস করতে হবে।

"" আরিয়ান একটু হেসে বললো।তোর রায়ান এর কথা মনে আছে?

"" রায়ানের কথা শুনে রেহান চমকে উঠলো। কারণ রায়ান রেহান আর আরিয়ান তিনজন কলেজে বেস্ট ফ্রেন্ড ছিলো।তাদের রেজাল্ট ও হতো পাশাপাশি। তারপর হঠাৎ একটা ঝর এসে তাদের বন্ধুত্ব নষ্ট করে দিলো।আর রায়ান তাদের ছেড়ে চলে গেলো।

"" তুই হঠাৎ এতোদিন পর ওর কথা বলছিস কেন?

"" বলছি কারন অরিন রায়ানের বোন।

"কিহ।ওই পিচ্চি এতো বড় হয়ে গেছে। আমি তো চিনতেই পারিনি।

"" হ্যা।

"" তা নাহয় বুঝলাম কিন্তু তোর থাপ্পড় মারার বিষয় টা বুঝলাম না।আর তুই কি কোন ভাবে ওকে পছন্দ করিস।মনে তুই কেমনে জানলি ওটা রায়ানের বোন।আমাকে সবটা খুলে বল।

""তোরা ভাবছিস আমি ওকে নবীন বরন এর দিন প্রথম দেখছি কিন্তু আসলে তা নয়।অকে আমি প্রথম দেখছি আজ থেকে ৫বছর আগে যখন ও ক্লাস ৮এ পরতো।তুই তখন তোর নানির বাসায় ঘুরতে গেছিস। আমি তখন সবে এইচএসসি পরিক্ষা দিয়েছি আমার বয়স সবে ১৯ বছর আর ওর আনুমানিক ১৩কি ১৪।রায়ান এর সাথে খেলতে গিয়ে হঠাৎ পায়ে ব্যাথা পাওয়ায় রায়ান সেদিন আমায় ওর বাসায় নিয়ে গেছিলো। আমি রায়ানের বিছানায় শুয়ে ছিলাম পিচ্চি টা বুঝতে পারেনি যে ওটা আমি ছিলাম সে এসে বলে।

"" কিরে ভাইয়া আমার চকলেট কই তুই না বলেচিলি স্কুল থেকে ফিরলে আমাকে চকলেট দিবি।বলেই সে ভয় পেয়ে যায় ভাইয়াাাাা বলে চিৎকার করে উঠে আমি থতমত খেয়ে তাকিয়ে আছি বচ্চাটার দিকে তার পরনে সাদা স্কুল ড্রেস চুল দুই পাশে ঝুটি করা।উজ্জ্বল শ্যামবর্নের মুখটায় অসংখ্য মায়া ছাড়ানো। হালকা নীল চোখ।ওই চোখেই যেন হারিয়ে যাওয়া যাবে।মনে মনে তার চোখের দিকে তাকিয়েই একটা নাম দিলাম নিলাম্বরী।আমার নীলাম্বরী। মনে হলো তার ওই চোখের দিকে তাকিয়ে আমি অনায়াসে কাটিয়ে দিতে পারবো অনন্ত কাল।

""এর মধ্যে রায়ান এসে বলে কি হয়েছে বনু।ও ওর ভাইয়ের পিছনে দারিয়ে বলে এইটা কে ভাইয়া।

"" ও তো আমার বন্ধু তুই ভয় পেয়েছিস।ও একটু অসুস্থ তাই আমাদের বাসায় আসছে।

""আচ্ছা চল তোর চকলেট নিয়ে এসেছি আমি।বলে ওরা চলে গেলো।

"" আমি তখনও স্তব্ধ হয়ে আছি। তার যাওয়ার পানে ওইটুকু মেয়ের প্রতি আমি সেদিন অদ্ভুত টান খুঁজে পেয়েছিলাম।আমার মনে হচ্ছিল আমার হার্ট অ্যাটাক হয়ে যাবে।

অরিন আমাকে ওই এক ঝলক ই দেখেছিল শুধু। তাই ওর মনে নেই।

কিন্তু তারপর থেকে আমি রোজ ওকে দেখতে যেতাম।ওকে একদিন না দেখলে আমার মনে হতো দমবন্ধ হয়ে যাবে।

তারপর আমাদের জীবনের সেই ঝর এসে সব শেষ করে দিলো রায়ান শহর ছেড়ে চলে গেলো। আমিও নিজের মনকে অনেক করে বোঝালাম ছেড়ে দিলাম ওর পিছু নেওয়া।আমি বারবার ভাবতাম তাকে যেন আল্লাহ আমার সাথে আর দেখা না করায় তাহলে সে বেচে যাবে,নাহলে তাকে আমার হতেই হবে।

আর আল্লাহ হয়তো চাইছিল আমার সাথে তার দেখা হোক।

বিজ্ঞাপন
নীল চোখের অপেক্ষায় গল্পটি জান্নাতী আক্তার সিমি-এর লেখা একটি জনপ্রিয় রোমান্টিক ও সাংসারিক গল্প