ভাইয়ের কথা শুনে চোখ বড়ো বড়ো করে তাকালো অরিন। কি বলছে তার ভাই এটা প্রেম আর সে।কিভাবে সম্ভব।
"" আমি চোখ বড়ো বড়ো করে তাকিয়ে বললাম ভাই এইসব কি বলো তুমি।আমি কেন,,,
"" আরে আমি তো মজা করছি তোর সাথে।তুই এমন করছিস কেন।
"" ওহ তাই বলো।
"" তা তোর কলেজ কেমন চলতিছে?
"" হুম গেলামই তো দুই দিন এর মধ্যে কি বুঝবো।আচ্ছা ভাইয়া শোনো ওইটা তো তোমারো কলেজ তুমি এতো বছর পর আসলে একবার ঘুরতে যাবে না?
"" হুম যাবো একবার।
"" ঠিক আছে কাল তাহলে তুমি আমাকে নিয়ে যাবে।আর আমার তো কোচিং-এ ও ভর্তি হতে হবে।
"" হ্যা আমি কথা বলেছি তো আমার একটা পুরোনো ফ্রেন্ড আছে ওরই কোচিং সেন্টার ওইটা কাল তোকে নিয়ে যাবো।
"" তোমার বন্ধু দের তুমি মনে রেখেছো বাহ ভালো আমি তো ভাবলাম ভুলেই গেছো।
"" নাহ ভুলিনি সবাইকে আচ্ছা অনেক কথা বলেছিস এখন যা ঘুমোতে যা।কতো রাত হয়ে গেছে।
"" হ্যা। তুমিও যাও।
"" ভাইয়া চলে গেলো আমি আর কি করবো গেলাম ঘুমতে।
--------------------------------
সকালে,,,,,,,,
ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়েই দেখলাম আব্বু আর ভাইয়া খাবার টেবিলে বসে আছে আমার একটু ভয় ভয় করছিলো। কারন ভাই
আব্বুর কথা না শুনে জোর করে অস্ট্রেলিয়া গেছিলো তারপর থেকে আব্বু ভাইয়ের সাথে কথা বলে না রাগ করে।
"" মায়ের দিকে তাকিয়ে ইশারা করলে তিনিও কিছু বললেন না আমি চেয়ার টেনে বসে
পরলাম।সবাই চুপচাপ।
আমি গলা খাঁকারি দিয়ে বললাম কি ব্যাপার আম্মু সবাইকে খেতে দাও।
"" আম্মু সবার প্লেট এ খাবার বাড়ছিলো এমন সময় আব্বু বলে উঠলো। তোমার যাওয়ার এক বাই আসার এক বাই বললাম ইন্টার্নি শেষ করে তারপর এসো।তুমি তা শুনলে না।
তো এখন কি করবে ভেবেছো?
বলেই রাগি চোখে ভাইয়ের দিকে তাকালেন।
"" আমি আর আম্মু একবার ভাইয়ের দিকে দেখছি তো একবার আব্বুর দিকে দেখছি। আসলে আব্বু আর ভাইয়া যখন কথা বলে তখন আমরা কেউই কথা বলি না। কারণ তারা দুজনে যখন একসাথে হয় তখন দুজনের মতের মিল কখনো হয় না।
তবে আগে ভাইয়া এমন ছিলো না অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার কিছুদিন আগে থেকে ভাইয়ার ব্যবহার এমন চেঞ্জ হয়ে গেছে।
"" ভাইয়া কিছুক্ষণ পর বলে উঠলো হ্যা ইন্টার্নি আমি বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ থেকে শেষ করব।
"" ওহ তা ভালো আবার দেখো তোমার না আবার অস্ট্রেলিয়া ফিরে যেতে ইচ্ছে হয়। বলেই তিনি উঠে পরলেন।
'""ভাইয়াও উঠে ওর রুমে চলে গেলো।
আমি আর মা হতাশ চোখে দুজনের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইলাম এটা নতুন কিছু নয় এমনটাতো দেখেই আসছি বিদেশে যাওয়ার আগে থেকে এখন আবার শুরু হয়েছে।
খাবার শেষ করে গেলাম রেডি হতে।
"" কিরে ভাইয়া তুই নাকি আমাকে আজ কোচিং এ ভর্তি করিয়ে দিবি।জাবিনা?
"'নাহ রে আমার একটু হসপিটালে যেতে হবে।তুই তোর বান্ধবীর সাথে চলে যা আমি অন্যদিন তোকে পরিচয় করিয়ে দিয়ে আসবো।
"" ঠিক আছে। বলেই চলে আসলাম।
"" রাস্তার মোরে দড়িয়ে আছি রিক্সার জন্য।
"" এমন সময় একটা গাড়ি এসে থামলো আমার সামনে।আমি গাড়িটা চিনতে পেরেছি এটা ঐ খাটাশ টার গাড়ি।আমি দেখেও না দেখার ভান করলাম।এর মধ্যে একটা রিক্সা আসলো আমি তাড়াতাড়ি করে রিক্সায় উঠে পরলাম।
রিক্সায় উঠতেই কটমট করে তাকালেন তিনি আমার দিকে আমি পাত্তা না দিয়ে চলে আসলাম। আজব এমন করার কি আছে আর উনি বা এখানে আসছেন কেন?
""এদিকে আরিয়ান রাগে কটমট করে তাকিয়ে আছে।সে আসলে অরিনকেই নিতে এসেছিল। সে কোনো রকমে বাহানা দিত যে এদিকে সে একটা কাজে এসেছিল। তাকে দেখতে পেয়ে পৌঁছে দিত কিছুটা সময় সে তার নীলাম্বরীর সাথে কাটাতে পারতো এখন তাও হলো না।
আজ তার ইন্টার্নশিপের প্রথম দিন। সে রাগে গজগজ করতে করতে গাড়িতে উঠে তার মেডিকেল কলেজ এর দিকে গেলো।
এদিকে রায়ান ও ওই একি কলেজে যাচ্ছে ইন্টার্নশিপ করতে। এখন দেখার বিষয় তিন বছর আগের বন্ধুদের সাথে দেখা করে তার প্রতিক্রিয়া কেমন হবে,,,,,,
----------------------------
আজ অরিন কলেজে যেতে কিছুটা সাহস পাচ্ছে। কারন আরিয়ান সেদিন ওনেক ভয় দেখাইছে ওদের ।তারপরও ওর কিছুটা অস্বস্তি হচ্ছে যদি ওরা প্রতিশোধ নিতে আসে।
ওই খাটাশ টার কি দরকার ছিলো ওদের ওইভাবে মারার ভেবেই সে নিজেকেই গালি দিলো।একটু বুঝিয়ে বললেই তো হতো এসব ভাবতে ভাবতেই সে কলেজের ভেতরে প্রবেশ করলো।
নাহ কেউ কিছু বলছে না সবাই সবার মতো ক্যাম্পাসে ব্যাস্ত।
কিন্তু তারপরেও অরিনের কেন জানি মনে হচ্ছে কতোগুলো চোখ ওর অপর নজর রাখছে। সে আসেপাশে আরেকবার চোখ বুলিয়ে দেখল,না সবাই সবার মত ব্যস্ত। হয়তো আমারি মনের ভুল।
এইটা ভেবে অরিন নিজের ক্লাস রুমে গেলো।
দেখলো সেখানে জারা আগে থেকেই অপেক্ষা করছে তার জন্য।ও যেতেই জারা তাকে জরিয়ে ধরলো।
"" আরে জানেমান কতোদিন পর তুই কলেজে আসলি তোকে কতো মিস করেছি জানিস।
বলেই বচ্চাদের মতো মুখ ফুলালো।
"" আমি ওর মুখের অবস্থা দেখে ফিক করে হেসে উঠলাম।বললাম আমিও তোমাকে অনেক মিস করেছি সোনা।
"" হ্যা কতো করেছিস সে আমার জানা আছে।
"" আমি ওর কথায় কিছু বললাম না।এই কয়দিনে আমাদের মাঝে খুব ভালো বন্ধুত্ব তৈরি হয়েছে।এখন মনে হয় ওকে ছাড়া আমি আর আমি ছাড়া ও একটা দিনো কলেজে কাটাতে পারবো না।আসলে আমাদের জীবনে হঠাৎ
করে এমন কিছু মানুষ আসে যাদের সাথে আমাদের হঠাৎ করেই পরিচয় হয়।কিন্তু অল্পদিনেই তা গভীর রূপ নেয়। আমরা বুঝে উঠতে পারিনা। আমার আর জারার সম্পর্কটা অনেকটা এমন হয়ে গেছে।
"" ওহহো দুই বান্ধবী তো আমাকে ভুলেই গেছে দেখছি বলেই মুখ ফুলালো নাহার।
হ্যা নাহার আমাদের আরো-এক জন বান্ধবী এই কয়দিনে ওর সাথেও আমাদের সম্পর্ক অনেকটা ভালো হয়ে গিয়েছে।
"" আমরা দুজনেই এইবার একসাথে ওকে জরিয়ে ধরে বললাম তা কখনো হতে পারে নাকি।
"" হ্যা হ্যা সবি বুঝি আমি।
"" এর মাঝেই একজন শিক্ষক আসলো আমাদের ক্লাস নিতে।আমরাও যার যার যায়গায় বসে ক্লাসে মনোযোগ দিলাম।
----------------------------
আরিয়ান আর রেহান এসেছে হসপিটালে আজ তাদের ইন্টার্নশিপের প্রথম দিন। তবে কেউ কারো সাথে কথা বলছে না। আরিয়ান তা ভালোই বুঝতে পারছে তবে সে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে না।রেহান ও কথা বলছে না।সে আসলে
তেমন একটা রাগ করেনি কিন্তু তার একটু খারাপ লেগেছে যে তারই জানের বন্ধু এতগুলো বছর ধরে একটা মেয়েকে ভালোবাসে অথচ সে জানতেই পারেনি। তার কি জানার অধিকার ছিল না। অবশ্যই ছিল।
তাদের সাথে আরো কিছু ফ্রেন্ড আছে যারা তাদের সাথে ইন্টার্নশিপ করতে আসছে। তারা একই সাথে একই কলেজে পড়াশোনা করেছে। আবার মেডিকেলএও চান্স পেয়েছে একই কলেজে।
""একজন সিনিয়র ডক্টর তাদের কাছে এগিয়ে এসে তাদের সাথে কুশল বিনিময় করলেন।
তিনি বললেন তোমাদের সাথে ইন্টার্নশিপ করতে একজন নতুন বন্ধু জয়েন হবে। দেশের বাইরে থেকে পড়াশোনা করেছে তার সাথে পরিচয় হয়ে নাও।সে অস্ট্রেলিয়া থেকে পড়াশোনা করেছে।
"" Meet your new colleague who will be working with you from now on. His name is Ryan Khan.বলেই তিনি রায়ান এর দিকে তাকালেন।
আশাকরি তোমরা মনোযোগ দিয়ে তোমাদের কাজ করবে।আর উনি (একজন ডক্টর কে দেখিয়ে) তোমাদের কাজ বুঝিয়ে দিবেন।
আর আরিয়ান তুমি আমাদের কলেজের বেস্ট স্টুডেন্ট তাই তোমার দায়িত্ব তুমি সবার সাথে মিলেমিশে কাজ করবে।এবং এটাও দেখবে যেন কোন সমস্যা না হয়।
বলে তিনি রায়ান কে একে একে সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দিলেন।
""পুরোটা সময় রায়ান এমন ভাব করেছে যে সে এখানকার কাউকে চিনেই না।
""আর রেহান সে তো নিজের চোখকেই বিশ্বাস করতে পারছে না।সে ভাবতেই পারছেনা তার সামনে রায়ান দারিয়ে আছে। সে প্রচন্ড খুশি হয়ে রায়ানকে জরিয়ে ধরতে গেলেই রায়ান পিছিয়ে যায়।রেহান সাথে সাথে দাড়িয়ে পরে সে বলে রায়ান তোকে কতো দিন পর দেখলাম।কেমন আছিস তুই?
রায়ান ফিচেল হেসে বললো :সরি আমি আপনাদের কাউকে চিনিনা।বলেই সে পাসের ডক্টর কে তার কাজ বুঝিয়ে দিতে বললো।
"" আর এই পুরোটা সময় যে একদম চুপচাপ ছিলো সে হলো আরিয়ান যে একটা কথাও বলেনি। তার আসলে কি অনিভুতি হচ্ছে সে নিজেও বোঝাতে পারবে না।
"" রেহান সহ তাদের আরো বন্ধু সোহান সিয়াম রবিন সবাই অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে আর ভাবছে তাদের অপরাধটা কি এতই বড়ো ছিলো যে রায়ান তাদের চিন্তেই অস্বীকার করলো।
"" আর আরিয়ান সে হয়তো জানতো এমনটাই হবে তাই একটা দীর্ঘ শ্বাস ফেলে সবাইকে যার যার কাজে লেগে পরতে বললো।
"" আর রেহান সে মনে মনে ভাবছে আমি জানি আরিয়ান তোর মনের মাঝে কি চলছে।তুই কাউকে বুঝতে না দিলেও আমার কাছ থেকে লুকাতে পারবি না।