সেদিন কলেজে আচমকা একটা মেয়ের সাথে ধাক্কা লাগলো তিন বছর পর আবারো সেই নীল চোখ দেখে আমি থমকে গিয়েছিলাম।তাকে তিন বছর পর দেখেও আমার চিনতে এতোটুকুও ভুল হয়নি।আমি স্থির হয়ে তাকিয়ে ছিলাম সেদিন তার দিকে।তিন বছর নিজের মাঝে যে ফিলিংস আমি লুকিয়ে রেখেছিলাম তা যেন মুহুর্তেই মাথাচারা দিয়ে উঠলো।এতো গুলো বছরে তার মাঝে আহামরি কোনো পরিবর্তন হয়নি।বরঞ্চ তার সৌন্দর্য মায়া যেন আরো বেড়ে গেছে।তারপর সে চলে গেলো।আমি কোনোকিছুতেই শান্তি পাচ্ছিলামনা তারপর জারা এসে বললো সে নাকি তার বেস্ট ফ্রেন্ড।
আমি তখনি ঠিক করে নিলাম তিন বছর আগে যা আমি ছেড়ে চলে এসেছিলাম সেই ভুল আর করবো না আমি এবার তাকে আমার হতেই হবে।
এক নিশ্বাসে কথা গুলো বলে আরিয়ান থামলো।
"" রেহান অবাক হয়ে তাকিয়ে বললো এতো বড় কথা তুই আমাকে কখনো বলিস নি।তুই আসলে আমাকে বন্ধু ভাবিস না।বলে রাগ করে চলে গেলো।
"" আরিয়ান তাকে ডাকতে গিয়ে থেমে গেলো।তোকে কিভাবে বোঝাবো কতটা কষ্ট করে নিজের ভালোবাসার থেকে দুরে থেকেছি আমি।
সে মৃদু হেসে বিরবিরিয়ে বললো:
""ভেবেছিলাম তুমি আমার সাময়িক মোহ।
কিন্তু পরে যখন দেখলাম কয়েকটি বসন্ত পেরিয়ে যাবার পরেও তোমার প্রতি আমার সেই মোহ কটেনি, বুঝলাম তোমার প্রতি আমার সেই মহো ই আমার শেষ ঠিকানা।
""রেহানকে গটগট করে হেটে চলে যেতে দেখে জারা বললো কিরে ভাইয়া রেহান ভাইয়া কি রাগ করে চলে গেলো নাকি।এটা তো অবিশ্বাস্য কারন জারা ছোট বেলা থেকে দেখছে এই দুজনকে এক আত্মা এক প্রান বলা চলে এদের।
তোর কাহিনি কি বল তো।আর তার থেকেও বড়ো কথা তুই আমার বান্ধবী কে থাপ্পড় মারলি কেন বল।
"" ও তোর বান্ধবী হওয়ার আগে আমার হৃদয় হরনী।আমার নীলাম্বরী। বলে সেখান থেকে চলে গেলো।
"" এ্যাহ।হৃদয়হরনী মানে। কিহ ভাইয়াাাা।
"" দৌড়ে ও আরিয়ানের কাছে যাওয়ার আগেই আরিয়ান দরজা আটকিয়ে দিলো।
"" নাহ ভাইয়া তুই আমাকে বল।নাহলে আমি মামানি কে গিয়ে সব বলে দিবো।
"" আরিয়ান যানে জারাকে সবটা বললে ও ঠিক গল্পে গল্পে অরিনকে গিয়ে বলে দিবে।তাই আপাতত ওকে না বলাই ভালো।
----------------------
"" অরিনের জ্বর এখন কিছুটা কমেছে। তাই সে ড্রইংরুমের সোফায় এসে বসে আছে আর তার ভাই তার জন্য নিয়াসা গিফ্ট গুলো দেখাচ্ছে।
"" হঠাৎ সে বলে উঠলো ভাইয়া তুই তিন বছর আগে কেন আমাদের ছেড়ে চলে গেছিলি।তোকে আমি কতো missকরেছি জানিস।
"" একথা শুনতেই রায়ানের চেহারার রঙ পাল্টে গেলো।সে তাও কোনো ভাবে নিজের রাগ সংবরন করে বললো।এমনি বাহিরে গেছিলামি তো পড়াশোনার জন্য।পোড়াশোনা শেষ তাই ফিরে এসেছি।
কিন্তু অরিন ঠিকই দেখলো যে এই কথা সোনা মাত্র তার ভাইয়ের চেহারার রঙ পাল্টে গেলো। তবুও সে কিছু বললো না পরে ভাই যদি রেগে যায় তাই।
সে যানে তিন বছর আগে এমন কিছু হয়েছিল যার জন্য তার ভাই এ শহর ছেড়ে এমন কি দেশ ছেড়ে চলে গেছিলো।
আর তার ভাইয়ের খুব ইচ্ছে ছিলো সে একজন বড় ডাক্তার হবে।ছোটো বেলা থেকে তার মেধাও ছিলো তেমন।
যে তার ভাইটা এতো পাল্টে গেলো।
কিন্তু তার ভাই নিজে থেকে না বললে সে জানতেও পারবে না।ভেবে একটা দীর্ঘ শ্বাস ফেললো।কেন যে তার ভাইটা এতো পাল্টে গেলো।
---------------------------------
"" জারা এদিকে কোনো ভাবেই শান্তি পাচ্ছে না কোন না কোন কাহিনি তো আছে। আচ্ছা রেহান ভাইয়া কে একবার ফোন করলে কেমন হয়। এই ভেবেই সে ফোন টা হাতে নিলো।আবার যদি তাকে বকে ভেবেই ফোনটা রেখে দিলো।
নাহ একবার ফোনটা করেই দেখি।ভেবে ফোন করলো কিছুক্ষণ পর ফোনটা রিসিভ হলো।
"" হ্যালো।
"" হ্যালো ভাইয়া আমি জারা।
"" হুম জারা বলো।
"" আরিয়ান ভাইয়া আর তোমার কি হয়েছে বলোতো।
আরিয়ানের কথা বলতে রেহানের সব মনে পড়ে গেল কিছুটা রাগও হলো।
"" তোমার এসব জেনে কাজ কি?সারাদিন পড়াশোনা বাদ দিয়ে এসবই করো না? যাও পড়তে বসো। আর একদম আমাকে ফোন দিবা না বেয়াদব মেয়ে। বলেই ফোনটা রেখে দিলো।
""এদিকে জারার চোখে পানি টলমল করছে। সেই ছোটবেলা থেকেই জারা রেহান কে পছন্দ করে। একবার বলেও ছিল সে রেহান কে।
""কিন্তু রেহানের কাছে ছিল সেটা নিছোক আবেগের বসে করা ভুল। তার কাছে মনে হয়েছে এটা ভালোবাসা না। আর তখন জারা মাত্র ক্লাস এইটে পড়তো। সে সময় রেহান জারা কে অনেক বুঝিয়েছিল।
""জারার কষ্ট হলেও সে সবটা মেনে নিয়েছিলো।সে ভেবে নিয়েছিলো আমার ভালোবাসাকে যার কাছে নিছক আবেগ মনে হয়েছে তার কাছে আর কখনো আবেগ প্রোকাশ করবে না।তবে সে তার ভালোবাসা ভুলতে পারে নি।
""জারা ছোটো বেলা থেকেই প্রচুর আত্মবিশ্বাসী আর আত্মসম্মানে আঘাত লাগলে সে কোন কিছু সহ্য করে না।বাবা মা মারা যাওয়ার পর থেকেই সে মামার বাসায় থেকে বড় হয়েছে সেই ৫বছর বয়স থেকে আয়রা আহমেদ কখনো তাকে মায়ের অভাব বুঝতে দেয়নি আর আরিয়ান বড় ভাই এর মতো অগলে রেখেছে।
"" ওই ঘটনার পর থেকে সে রেহানের সাথে তার ভালোবাসা নিয়ে কনো কথা বলেনি। সবসময় স্বাভাবিক ব্যাবহার করেছে।কিন্তু এখনো সে রেহানকে ভালোবাসে।তার বিশ্বাস কোনো একদিন রেহান তাকে বুঝবে।
কিন্তু আজ সে বুঝলো তার ভাবনা ভুল আসলে রেহান তাকে সহ্যই করতে পারে না। তার চোখ দিয়ে অনর্গল পানি পরতে থাকে। কিছুক্ষণ পর সে নিজেকে স্বাভাবিক করে নেয়।
--------------------------------
"" রেহান এবার বুঝতে পারছে সে আরিয়ান এর রাগটা জারার ওপর ঝেড়ে ফেলেছে এখন নিজেরি খারাপ লাগছে।সে নিজের মাথার চুল টেনে ধরে জোরে নিশ্বাস ফেলে বললো শিট আমি এটা কি করলাম।
""রাতের বেলা গিটার হাতে ছাদে বসে আছে আরিয়ান।তার পরনে কালো ট্রাউজার সাদা টিশার্ট.।
ফর্সা গায়ে সাদা কালো রঙ অসম্ভব সুন্দর মানিয়েছে।মাথার সিল্কি চুল গুলো পড়ে আছে কাপালে।বরাবরের মতোই সুন্দর লাগছে তাকে।
আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে সে।তার মন কিছুটা খারাপ। কলেজ লাইফ তেকেই সে গান গায় তার গানের গলা অসম্ভব সুন্দর।
সে একটা গান ধরলো:
ভ্রমর কইয়ো গিয়া,
ফুলবনেরে কথা।
আমার গায়ে হলুদের রং তুলিতে চেয়ো না॥
সে যে আমার প্রাণের প্রিয়া,
তারেই দিলাম হৃদয় দিয়া,
মনে রবে কি রবে না,
জানি না, জানি না॥
ভ্রমর কইয়ো গিয়া......
তার চোখে পানি চিক চিক করছে।সে আবার গান ধরলো
কোন সে নদীর পারে,
সে যে বসে আছে একা।
নিথর বুকে গুমরে কাঁদে,
প্রেমের দুঃখলেখা॥
মনের ভাব জানাবে কি,
বোঝাতে পারবি না।
তারে আমি চিনি,
তুই চিনবি না॥
ভ্রমর কইয়ো গিয়া...
ফুলবনেরে কথা।
আমার গায়ে হলুদের রং তুলিতে চেয়ো না॥
সে যে আমার প্রাণের প্রিয়া,
তারেই দিলাম হৃদয় দিয়া,
মনে রবে কি রবে না,
জানি না, জানি না॥
ভ্রমর কইয়ো গিয়া......
--------------------------
গান শেষ হতেই তার কাধে কেউ একজন হাত রাখলো।
আরিয়ান পেছনে তাকালো না কারন সে জানে কে এসেছে।
""জারা ভাইয়ের পাশে বসলো।তারা দুজনেই চুপ।
এমন করে প্রায় ১০ মিনিট চলে গেল।
অবশেষে আরিয়ান বললো তুই জানতে চাস অরিনকে আমি আগে থেকে চিনি কিনা।
""জারা আকাশের দিকে তাকিয়ে বললো তুমি বলতে না চাইলে সমস্যা নেই ভাইয়া শুধু তুমি কষ্ট পেও না।
আরিয়ান হালকা হাসলো তার এই পিচ্চি বোনটাকে সে অনেক ভালোবাসে।ছোটবেলা থেকেই তার একটা বোনের সখ ছিলো।কিন্তু তার মা আর সন্তান নেয় নি কারনটা অবশ্য জারাই।
তিনি বলতেন তার আরেকটা সন্তান হলে হয়তো তিনি জারাকে তেমন সময় দিতে পারবেন না।
আরিয়ান ও আর যেদ করেনি কারন জারাকে সে নিজের বোনএর মতোই ভালোবাসতো।
আর সে এটাও জানে তার বোন তাকে ওনেক ভালোবাসে।
সে মৃদু হেসে বলতে শুরু করলো,সবটা বলেই সে থামলো। জারার দিকে তাকিয়ে দেখলো জারা একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তার দিকে।
সে তা দেখে বললো কিরে কি ভাবছিস।
"" জারা বললো ভাইয়া তুমি এতোগুলা দিন ধরে অরিনকে ভালোবাসো।তাহলে তাকে কেন হঠাৎ করে ছেড়ে দিয়েছিলে।কেন তার পিছু নাওনি আর?
"" আরিয়ান বললো এই প্রশ্নের উত্তর আমি তোকে দিতে পারবোনা জারা।তাই আমাকে কিছু জিজ্ঞেস করিস না।
"" জারা মনে মনে ভাবছে আমি তোর মনের অবস্থাটা বুঝতে পারছি ভাইয়া কারণ একতরফা ভালোবাসার কষ্টটা আমিও বুঝি। তবে আমি জানি তোর ভালোবাসা পূর্নতা পাবে তার শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করবো আমি।
"" হঠাৎ আরিয়ান বললো তোর কি হয়েছে রে??
"" জারা হকচকিয়ে বললো কই আমার আবার কি হবে।
"" না আমি দেখছি সকাল থেকে তোর মন খারাপ।কেউ কিছু বলেছে? কারো কথায় কষ্ট পেয়েছিস।
"" আরে নাহ ভাইয়া কি যে বলোনা এমনিতেই। আর তাছারা কারো সাহস আছে জারা আহমেদ কে কিছু বলে।আমার ভাই তার নাক ফাটিয়ে দিবে না বলেই সে জোরে হেসে উঠলো।
"" হুম তাও ঠিক কার এতো বড় সাহস তোকে কিছু বলবে।
আচ্ছা যা ঘুমিয়ে পর কাল তো কলেজে যেতে হবে। আর কাল তোকে কোচিং এ ভর্তি করিয়ে দিয়ে আসবো।
"" হুম তুমিও চলে এসো বেশি রাত যেগো না।
"" হুম।
জারা চলে যেতেই আরিয়ান আবারো আকাশের দিকে তাকিয়ে বির বির করে বললো :
""তোমার নামেই সকাল হয়,
তোমার স্মৃতিতেই রাতে কাঁদি।
""ভালোবাসি বলিনি কখনো,
তবুও হৃদয় তোমাকেই চায়।
-------------------------------
"""" অরিন তার রুমের বেলকনিতে চেয়ারে বসে লাইট জালিয়ে একটি উপন্যাসের বই পরছে।পরছে বললে ভুল হবে কারন বই খোলা আছে ঠিকই তবে তার সম্পুর্ন মনোযোগ বাহিরে আকাশের চাদের দিকে।
তার কি হয়েছে কে যানে সারাদিন শুধু আরিয়ান এর কথাই মনে পরেছে আর সে এই বিষয় টা নিয়ে খুবই বিরক্ত। সে বুঝতে পারছেনা ওই বাজে ছেলেটার কথাই কেন মনে হচ্ছে তার বার বার। বির বির করে বলে উঠলো খাটাস একটা।
"" আচমকা তার মাথায় টোকা পরতেই সে ভাবনা থেকে বেরিয়ে আসলো। ভাইয়া বিরক্ত করো না তো।
"" কিরে বনু তুই প্রেমে টেমে পরেছিস নাকি?
"" ভাইয়ের কথা শুনে চোখ বড়ো বড়ো করে তাকালো অরিন। কি বলছে তার ভাই এটা প্রেম আর সে।কিভাবে সম্ভব।