হঠাৎ অরিন ঘুমের মাঝে লাফিয়ে উঠলো।হাত পা কাপছে তার। চোখে জল।অদ্ভুদ এক সপ্ন যা সে তিন বছর ধরে প্রতিটা রাতেই দেখে।যা থেকে সে একটা দিনো নিস্তার পায় নি।
"" সে দেখে কেউ একজন তার খুব কাছে দারিয়ে আছে।তাকে বলছে নীলাম্বরী কি ভুল ছিলো আমার কেন ছেড়ে চলে
আসলে বলো।লোকটি তার দিকে রাগি ও ব্যাথাময় দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। সে অরিনের দুই হাত চেপে ধরে বলে তোমার মুক্তি নেই আমার থেকে।অরিন কিছু বলতে চায় কিন্তু পারে না।তার চোখ দিয়ে অনর্গল শুধু পানি পরে।
তা ভেবেই একটা দীর্ঘ শ্বাস ফেললো। তারপর উঠে ফ্রেশ হতে গেলো।
শহরের সকালটা ছিলো অস্বাভাবিক শান্ত। ভার্সিটির ক্লাস শুরুর আগে অরিন হোস্টেলে রুমে জানালার সামনে দারিয়ে কিছু শব্দ খোজার চেষ্টা করছিলো।
তার কবিতার খাতা আজকাল ফাকা থাকে।
মাথায় শব্দ আসলেও তা গুছিয়ে লিখতে পারে না।
জীবনের টানা পড়েন নিয়েই তার
সময় চলে যায়।
হঠাৎ তার ধ্যান ভাঙলো ফোনের কর্কশ শব্দে।
বিরক্ত হয়ে তাকালো বিছানায় থাকা ফোনের দিকে।
ফোনটা হাতে নিয়ে দেখলো তার বান্ধবী ছুবহা কল
দিয়েছে সে বিরক্ত নিয়ে ফোন রিসিভ করলো।
ছুবহা:কথায় তুই? মেঘা হঠাৎ senseless হয়ে গেছে।তুই তারাতাড়ি ঢাকা মেডিকেল কলেজ
হাসপাতাল এ চলে আয়।আমরা ওকে নিয়ে যাচ্ছি।
মেঘা আমার বেস্ট ফ্রেন্ড, সেই ভার্সিটির ১ম দিন তার সাথে আমার পরিচয় হয়েছিলো।
তারপর থেকেই আমার সকল সুখ দুঃখের ভাগিদার সে।যেকোনো সমস্যা হলেই সে সবার আগে ছুটে আসে।কোনো মন খারাপ হলেও সে কেমন করে জানি এমনিতেই বুঝতে পারে।আমাকে সবসময় হাসানোর চেষ্টা করে।
আমি বিচলিত হয়ে বললাম আমি আসছি।
কোনোরকমে নিজের পার্সটা নিয়ে বেরিয়ে পরলাম।
ওহ আপনাদের তো আমার পরিচয় দেওয়া হয়নি।
আমি রাইয়ানা খান অরিন,বয়স ২২ বছর,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর অনার্স ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী। আমি খুব শান্ত স্বভাবের
চুপচাপ থাকতে ভালোবাসি।তবে আগে আমি এমন ছিলাম না।আগে অনেক দুষ্টু প্রকিতির ছিলাম আমি।আমার হাসিতেই এক সময় আমার পুরো বাড়ি হেসে উঠতো। একটা ঝড়ে আমার জীনটাও এলোমেলো হয়ে গেছে আর সাথে নিয়ে গেছে আমার হাসিখুশি জীবন।এখন আমি কথা খুবই কম বলি মানে যেটুকু না বললেই নয়।টুকটাক লিখতে ভালোবাসি।কবিতা লিখি একটু আকটু।উজ্জ্বল শ্যামলা গায়ের রং আমার।সব সময় সাদামাটা পোশাক পড়তে ভালোবাসি আমি।
পরিচয় দিতে দিতে হাসপাতালের সামনে এসে রিক্সা দারালো।দৌরে ভেতরে গেলাম।হাসপাতাল
ছিলো খুবি ব্যাস্ত পরিবেশ, সবার অস্থির মুখ।অরিন পৌছে দেখলো ছুবহা বহিরে দাঁড়িয়ে আছে। মেঘাকে ভেতরে নেওয়া হয়েছে।ডক্টর চেক-আপ করছেন।
আমি গিয়ে ছুবহাকে জিজ্ঞেস করলাম ডক্টর কি বললো।
আর কিভাবে হলো এসব?
সে বললো এখনো কিছু জানায়নি,আমি হঠাৎ ওর রুমে গিয়ে দেখলাম ওর শ্বাসকষ্ট উঠেছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই ও অজ্ঞান হয়ে গেল আমি হসপিটালে নিয়ে আসলাম।
কিছুক্ষণ পর কেবিন থেকে একজন ডক্টর বের হলেন। আমি তার দিকে তেমন খেয়াল করলাম না।
হঠাৎ কেউ একজন ডেকে উঠল অ,,অরিন। আমি সেই কণ্ঠস্বর শুনে জমে গেলাম। ভয় পেতে লাগলো। বারবার মনে হচ্ছিল আমি যার কথা ভাবছি সে যেন না হয়। তাহলে যে আমি সহ্য করতে পারবো না কি উত্তর দিব তাকে। কেন ছেড়ে এসেছিলাম আমি তাকে ,কি বলবো। এসবি ভাবছিলাম।
"" ছুবহা ডেকে বলল কিরে
তুই কি ওনাকে আগে থেকেই চিনিস।তাহলেতো ভালোই হলো।আমি তাকিয়ে আছি
আরিয়ানের দিকে। আর আরিয়ান আমার দিকে।
"" আরিয়ান হেসে বলল, আছে কিছুটা আবার নেই।আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলাম। আরিয়ান আমার সাথে এতোটা স্বাভাবিক ব্যাবহার করছে কেন। ওর তো এতোক্ষনে আমাকে দুচারটা থাপ্পর মারার কথা ছিলো। তাহলে এই অভিনয় কেন?
সে বলল পেশেন্টের সাথে কে আছেন সে কেবিনে আসুন একটু। আমি ছুবহা দুজনেই গেলাম।
আরিয়ান বললো পেশেন্ট আপনাদের কে হয়?
""ছুবহা বললো আমাদের বান্ধবী আমরা একসাথেই পড়াশোনা করছি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
"" ওহ ওনার কি আগে থাকে শ্বাসকষ্টের সমস্যা ছিল।
"" ছুবহা বললো হ্যা মাঝে মাঝেই এমন সমস্যা হয় তবে আজ হঠাৎ করে অজ্ঞান হয়ে গেছে।
আরিয়ান বলল এটা সাধারন একটা সমস্যা। যেহতু আগে থেকেই এই সমস্যা রয়েছে আমি কিছু ওষুধ দিচ্ছি নিয়মিত খাওয়ালেই ঠিক হয়ে যাবে।
ছুবহা বললো ঠিক আছে। পুরোটা সময়
আমি অবাক হয়ে আরিয়ানের দিকে তাকিয়ে ছিলাম। যে একটিবারের জন্য আমার দিকে তাকায়নি।তার এই স্বাভাবিক ব্যবহার আমার মনে ভয় সৃষ্টি করছিল।
আমি দেখলাম আরিয়ান আগের
থেকেও অনেক সুন্দর হয়ে গেছে। হবে নাই বা
কেন। সে সফল ডাক্তার।যার সকাল শুরু হয় ডিসিপ্লিন মেইননেইন করে।জীম করে বডি আরো সুন্দর হয়েছে যেন নিখুঁত কারিগরের দ্বারা তৈরি।
আরিয়ন শুধু মনে মনে ভাবছে কেন তুমি
আমাকে ছেড়ে চলে গিয়েছিলে,অরিন কি দোষ ছিল আমার। কি ছিলনা আমার কাছে। আমি কি
তোমাকে কম ভালোবাসতাম।
ডক্টর আদিত্য আরিয়ান আহমেদ :
বয়স:২৮
মেডিসিন বিশেষজ্ঞ।
উচ্চতা প্রায় ছয় ফিট। গায়ের রং ফর্সা।
চোখ গাঢ় বাদামি চিন্তাশীল ওগভীর দৃষ্টি। মুখ
সবসময় এর মত গম্ভীর। হালকা চাপ দাড়ি। প্রতিদিন জিম করা তার স্বভাব।
""এসবি ভাবছিলাম এমন সময় হঠাৎ ছুবহার ফোন বেজে উঠল। সে বললো আমি একটু আসছি।
এখন আমি আর আরিয়ান সম্পুর্ন একা
সামনা সামনি প্রায় তিন বছর পর।
"" তার চলে যাওয়াতে আমি অনেকটা ভয় পাচ্ছিলাম না জানি আরিয়ান কি করে আমার সাথে।
আরিয়ান আমাকে অবাক করে দিয়ে বলে উঠলো কেমন আছো অরিন?
আমি ভয়ে ভয়ে বললাম জি ভালো।তুমি,,,মানে আপনি
কেমন আছেন। আরিয়ান হালকা হাসলো। আছি #নীল_চোখের_অপেক্ষায় যেমনটা রেখে গিয়েছিলে, তেমনই আছি ।
যেমনটা রেখে গিয়েছিলে, তেমনই আছি ।
"" আমি আমার দৃষ্টি নামিয়ে নিলাম।কেন জানিমা মনে হচ্ছিলো এই শীতলতা কোনো বড়সড় ঝরের পূর্বাভাস।
""তা ঢাকায় কবে এসেছো? আরিয়ান বললো।
"" এইতো বছর দুয়েক হবে"। আমার তাকে কিছু জিজ্ঞেস করার থাকলেও আমি ভয়ে বলতে পারছিলাম না।সে নিজেই বলে উঠলো।
"" আমি এক সপ্তাহ হলো জয়েন করছি এখানে।
"ওহ"।আমি আর কিছু বলতে পারছিলাম না,
নিজের ভেতর প্রচন্ড ভয় কাজ করছিলো।আরিয়ানের এই চুপচাপ বিষয়টা আমার ভেতরে ভয়ে জমে আসছিলো।আমি চুপচাপ বসে ছিলাম।মনে মনে ভাবছিলাম ছুবহা কখন আসবে।
""আর অপর দিকে আরিয়ান ভাবছিলো কেন আমাকে ছেড়ে চলে গেছিলে তুমি, সেটা তুমি নিজে থেকেই এসে বলবে আমাকে। আমি বাধ্য করবো তোমাকে।
""আরিয়ান আর একটু পরখ করলো অরিন কে।মেয়েটা আগের থেকে শুকিয়ে গেছে অনেকটা। আগের থেকে সুন্দর আর অনেকটা বড় মনে হচ্ছে।
চোখের নিচে হালকা কালিও পরেছে। মেয়েটাকি ঘুমায় না।খায়না নাকি। আমাকে তো ছেড়েই গিয়েছিলো ভালো থাকার জন্য।
কিন্তু দেখে তো মনে হচ্ছে না ভালো ছিলো।
এসব ভাবতে ভাবতেই ছুবহা চলে
আসলো।বললো সরি ডক্টর আসোলে বাসা থেকে কল দিয়েছিলো তাই দেরি হয়ে গেল।
""ইটস ওকে "আরিয়ান মুচকি হাসি দিয়ে বললো।
ছেলেটার হাসি এখনো মারাত্মক
সুন্দর। হঠাৎ আমার মনে হলো আমি
এসব কি ভাবছি। আমার এসব ভাবা উচিৎ নয়। এতোদিনে হয়তো ওর বিয়ে হয়ে গেছে ওই মেয়েটার সাথে।কিন্তু আমি যা ভাবছি তা একদমি ঠিক নয়।
কিরে তর কি কিছু হয়েছে কথা বলছিস না কেন?
আব,আমি মেঘার
সাথে দেখা করবো।ওর জ্ঞান কখন ফিরবে??
""আরিয়ান মৃদু হেসে জবাব দিল" এখনই আপনি চাইলে দেখতে পারেন।
"" আমি আসছি বলে চলে
আসলাম।এক প্রকার পালিয়ে আসলাম বলা চলে।
আসলে আমার খুব কান্না পাচ্ছিল।
যতো যাই হোক আমি আরিয়ানকে
ভালোবাসতাম।
''এখোনো হয়তো বাসি''
কিন্তু কি আর করার আমি তো বাধ্য ছিলাম।
এসব ভাবতে ভাবতেই আমার
চোখ দিয়ে কয়েক ফোটা জল গরিয়ে পরলো।
কিরে তুই কাঁদছিস কেন। মেঘা বললো।
আমি তারাতাড়ি চোখের পানি মুছে জবাব দিলাম কই নাতো।ওই চোখে কি যেন পরেছিলো তাই আরকি।মেঘা বললো তুই আমাকে মিথ্যা বলছিস।
আমি বললাম তুই সব সময় আসলে বেশি বুঝিস।নিজে অসুস্থ সেটা তোর চোখে পরছে না। আমারটা নিয়ে পরে আছিস।
এর মধ্যে আরিয়ান আর ছুবহা চলে আসলো আরিয়ান বললো নিজের ঠিকভাবে যত্ন নিবেন।
আর যে মেডিসিন গুলো লিখে দিয়েছি।
ওগুলো নিয়মিত খাবেন।
""আর একমাস পর আবার আসবেন।
""জি ডক্টর।
""ছুবহা বললো আমরা এখন মেঘাকে নিয়ে যেতে পারবো।
""জি অবস্যই।এইটা আমার কার্ড প্রয়োজন
হলে ফোন করে নিবেন।
""কার্ড দেওয়াতে
ছুবহা যেন হাতে চাদ পেয়ে গেছে ও
তারাতাড়ি কার্ড টি হাতে নিলো।যেন না নিলে কি যেন হারিয়ে ফেলবে।
""আসলে ছুবহা একটু এমন ই। ছেলেদের
দেখলেই ওর ভালো লেগে যায় আর
আরিয়ান তো অনেক সুন্দর। মনে মনে একটু হিংসা হচ্ছিল। তারপর ভাবলাম আমার কি আমি তো ছেড়ে এসেছিলাম।
এখন ওর যদি নতুন গার্লফ্রেন্ড হয় তাতেও
আমার কিছু না।
তারপর আমি আর ছুবহা মেঘাকে নিয়ে হোস্টেলে এ চলে আসলাম।আমি, মেঘা, ছুবহা তিনজন একই হোস্টেলে থাকলেও আলাদা আলাদা রুমে থাকি। আমি অন্য এক রুমে থাকি আর মেঘা আর ছুবহা অন্য একটা রুমে।
আমি তারাতাড়ি আমার রুমে চলে আসলাম আসলে সরিরটা ভালো লাগছে না। আর
খুব কান্না পাচ্ছে। আমি রুমে গিয়ে
বাথরুম এর পানির লাইন ছেড়ে দিয়ে
কাদছি প্রায় ১ ঘন্টা হলো।
আর ভাবছি পুরোনো সৃতি,,,,,,,,