নীল চোখের অপেক্ষায়

পর্ব - ২

🟢

"" অতীত ""

""কিরে অরিন কখন উঠবি,আজ না তোর ১ম দিন কলেজের। আর কিছুক্ষণ দেরি হলে আজ আর কলেজে যেতে পারবি না।

""হু,,হু উঠছি আর ৫ মিনিট।

""৫ মিনিট ৫ মিনিট করে ২ ঘন্টা হলো ডাকছি তোকে আমি।৮-৫০ বেজে গেছে।

""হু,,কিহ এক লাফ দিয়ে ঘুম থেকে উঠলো রাইয়ানা খান অরিন। বাবা মায়ের এক মাত্র মেয়ে

একজন বড় ভাই আছে তার নাম রায়ান খান সে ডাক্তারি পড়তে অষ্ট্রেলিয়ায় থাকে। বাবা মিজানুর রহমান খান পেশায় একজন রিটায়ার স্কুল শিক্ষক।পাশাপাশি অনার একটা বিজনেস আছে যা এখনো উনি দেখাশোনা করেন।আসলে চাকরিটা করতেন তিনি শখের বসে।

মা জাহানারা খান একজন

গৃহিণী। চারজন এর সুখের সংসার তাদের।

""মা তারতারি ডাকবে না কতো দেরি হয়ে গেলো বলোতো।

""দেখো তোমার মেয়ের কথা তাকে আমি সকাল ৭ টা থেকে ডাকছি।

সে ৫ মিনিট ৫ মিনিট বলে ২ ঘন্টা কাটিয়ে দিয়ে উঠে এখন আমার দোষ হয়ে গেল।

""আহ জাহানারা সকাল সকাল শুরু করো না তো।মিজানুর রহমান সোফায় বসে খবরের কাগজ পরছিলেন।

""তিনি বললেন মা অরিন কলেজ এর আজ ১ ম দিন আমি তোমাকে দিয়ে আসবো।

""ঠিক আছে আব্বু।

কোনোমতে তারাতাড়ি রেডি হয়ে খাবার টেবিলে বসলো অরিন।

না খেয়ে বেরোলেই বকা খেতে হবে।

""অরিন টেবিলে বসলেই তার মা তাকে খেতে দেয়।

সে খাবার খেয়ে বাবার সাথে বেরিয়ে পরে।

""রাস্তায় তার বাবা তাকে নানা রকম নির্দেশনা দেয় যে এটা করা যাবে না এটা করো না এটা করলে খারাপ হবে সে শুধু শুনছিল। তাদের একটা গাড়ি থাকলেও অরিন গাড়িতে চলাফেরা পছন্দ করেন না।তাই গাড়িটি মিজানুর রহমান খান ব্যাবহার করেন।

কিছুক্ষণ পর সে কলেজের সামনে চলে আসে।

তারপর তার বাবাকে বিদায় জানিয়ে সে কলেজের ভেতরে চলে আসে।

১ম দিন একটু ভয় ভয় করলেও সে অনেকটা সাহস নিয়ে কলেজের ভেতরে প্রবেশ করলো।

সে তার ক্লাস রুম টি খুজছিলো।এমন সময় হঠাৎ করে একটি মেয়ের সাথে ধাক্কা লেগে যায়।

সে সরি বলে অরিন ও সরি বলে।

মেয়েটি বলে আসলে বুঝতে পারিনি তাই ধাক্কা লেগে গেল।

অরিন বললো ইট’স ওকে।

তুমি কোন রুমে যাবে অরিন বললো আমি এবার ইন্টার১ম বর্ষের শিক্ষার্থী। মেয়েটি খুশিতে লাফিয়ে বললো ইয়েএএএ আমিও।

""সে আমার দিকে হাত বাড়িয়ে বললো তাহলে আজ থেকে আমরা ফ্রেন্ডস উম না বেস্ট ফ্রেন্ড। আরে কথায় কথায় আমার নাম বলতেই তো ভুলে গেছি আমার নাম জারা,জারা আহমেদ। আর তুমি।

আমি তাকে আমার পরিচয় দিলাম।কথা বলে বুঝলাম মেয়েটি খুবই মিশুক এবং

চঞ্চল তাছাড়া সরল ও।আজ ১ম

দিন তাই তেমন ক্লাস হলো না।

আর ক্লাসে বলে দাওয়া হলো আগামীকাল আমাদের নবীন বরন।

""জারা বললো কাল

শাড়ি পরে আসবি।

"" না আমি শাড়ি তেমন সামলাতে পারিনা কিন্তু সে তো ছাড়বেই না। অনেকক্ষণ পর রাজি হয়ে বললাম ঠিক আছে।

দুজনে মিলে ঠিক করলাম নীল শাড়ি পরবো দুজনেই।তারপর দুজন বাসায় চলে আসলাম।ওর জন্য দেখলাম গাড়ি আসলো আমিও রিকশা নিয়ে চলে আসলাম বাসায়।

বাসায় এসে দেখি বাবা খাবার টেবিলে বসেই আছেন আমার জন্য আমি ফ্রেশ হয়ে চলে আসলাম। আমাদের বাড়িটা ছোট্ট দোতালা।আমি উপর তালায় থাকি উপরে ৩ টা রুম আর নিচে ২ টা ও কিচেন রুম।

খেতে বসলে বাবা জিজ্ঞেস করলেন কলেজের ১ম দিন কেমন কাটলো? আমি বললাম ভালোই।

এমনি টুকটাক কথা বলতে বলতে খাবার শেষ করে রুমে আসলাম।

এসে দেখি জারা ম্যাসেজ করেছে।আসার সময় মেয়েটা আমার নাম্বার ফেসবুক আইডি সব নিয়েছে।দেখলাম কাল ও কেমন সাজবে তার ছবি দিয়েছে।আমি সিন করে ঘুমিয়ে পরলাম।

আমার নাম্বার ফেসবুক আইডি সব নিয়েছে।দেখলাম কাল ও কেমন সাজবে তার ছবি দিয়েছে।

সকালে,,,,,

আমি সুন্দর একটা নীল শাড়ি পরেছি। শাড়িটা আম্মু পরিয়ে দিয়েছে। অরিন নিজে শাড়ি পরতে পারে না।

শাড়ি পরে হালকা একটু ক্রিম একটু ফেস পাউডার

দিলাম কানে ছোট্ট একটা দুল গলায় চেইন।আর হাতে ঘড়ি ব্যাস আমার সাজা শেষ।

আসলে আমি খুব একটা সাজতে পছন্দ করিনা।

আমি আম্মু কে বলে বেরিয়ে পরলাম।

গিয়ে দেখি জারা আগেই এসে পৌছেছে।

তাকেও দেখতে অসম্ভব সুন্দর লাগছে।

বিজ্ঞাপন

আসলে ও এমনিতেই অনেক

সুন্দর। দুধে আলতা গায়ের রং।টানা চোখ।চোখের মনি একদম কালো।

ও নীল শাড়ি পরে চুল গুলো খোপা করে তাতে ফুল লাগিয়েছে গলায় হালকা চেইন।

হাতে চুরি।

অরিন তার কাছে যেতেই বললো ওহ অরিন তোকে আজ অনেক সুন্দর লাগছে। আমি তো চোখ ই ফেরাতে পারছিনা, আমি ছেলে হলে তোকে তুলে নিয়ে গিয়ে বিয়ে করতাম।

""থাক আর চাপা দিস না তোকেও পরির মতো লাগছে।

"" হ্যা চল অনুষ্ঠান শেষ হয়ে যাবে।হুম চল।

আমরা অনুষ্ঠানে গিয়ে পেছনের শাড়িতে বসে পড়লাম।

অনুষ্ঠানে শুরুতে স্যার বক্তব্য দিলেন।বড়রা আমাদের বরন করে নিল। তার পর কেউ গান,কেউ নৃত্য পরিবেশন করলো।

অনুষ্ঠান শেষ হলে জারা বললো সে ওয়াশরুমে যাবে তাই ওকে নিয়ে চলে আসলাম।ও ওয়াশরুম

এ আমি একটু ঘুরে দেখতেছিলাম হঠাৎ করে ধাক্কা লেগে পরে গেলাম।

উফ মাগো আমার কমোর শেষ।কেরে।

বলেতই সামনের ছেলেটা বললো সরি সরি আসলে আমি বুঝতে পারিনি।

আমি তো তার দিকে তাকিয়েই আছি কি সুন্দর দেখতে ছেলেটা।মাথার সিল্কি চুল।এক দফা বড়সড় ক্রাস খাইছি।হঠাৎ মনে হলো ছি আমি এসব কি ভাবছি আমি তো এমন না।

আমি বললাম ইট’স ওকে। ছেলেটা চলে গেলো।আজব একটু দারালো না দারালে কি এমন হতো।

কিরে আমি তোকে খুঁজতে খুঁজতে পাগল হয়ে যাচ্ছি আর এখানে তুই ভেবলার মতো দারিয়ে আছিস।

'''নাহ এমনি।চল।

যাবো কি আজ আমার ভাইয়া আসবে।

""ওহ কেন?আর তোর তো কোনো ভাই নেই।

""আরে আমার মামার ছেলে আমিতো মামার বাসায় থাকি।আর ভাইয়া এই কলেজ থেকেই পড়াশোনা করেছে।

কখন থেকে গেটের সামনে দারিয়ে আছি তোর ভাইয়ের আসার খবর নাই।

ওহ বলতে বলতেই একটা ছেলে এসে দারালো।

ভাইয়া কখন থেকে দারিয়ে আছি কই ছিলে তুমি।আমি তাকিয়ে দেখলাম আরে এটাতো সেই ছেলেটা যার সাথে ধাক্কা খেলাম।

আরে অনেকদিন পর নিজের কলেজে আসলাম তাই স্যার দের সবার সাথে দেখা করলাম।চল তাহলে। জারা বললো হ্যা চলো আর ভাইয়া ও (আমাকে দেখিয়ে) আমার বেস্ট ফ্রেন্ড রাইয়ানা খান অরিন।অরিন ও হলো আমার ভাইয়া আদিত্য আরিয়ান আহমেদ।

আমি বললাম হুম আসসালামু

আলাইকুম ভাইয়া।

ওয়ালাইকুম আসসালাম। একবার তাকিয়ে চোখ ফিরিয়ে নিলেন।বাবাহ একটু বেশি সময় তাকিয়ে থাকলে কি হয়রে ভাই।

""আচ্ছা ঠিক আছে তোমরা যাও তাহলে আমারো দেরি হয়ে যাচ্ছে। আমি বললাম।

""আরেহ নাহ ভাইয়া গাড়ি নিয়াসছে তুই আমাদের সাথে চল ভাইয়া নামিয়ে দিবে।

"" নাহ সমস্যা নেই আমি যেতে পারবো বললাম।

""তুমি চলো আমাদের সাথে নামিয়ে দিচ্ছি আরিয়ান বললো।

""ঠিক আছে।

""দেখলাম আরিয়ান এর সাথে ওর ফ্রেন্ড ও আসছে

তার নাম বললো রেহান।তার সাথেও পরিচিত হলাম।তারপর আমরা গাড়িতে উঠলাম রেহান সামনে বসলো আারিয়ান ড্রাইভ করবে।আর আমি জারা পেছনে বসলাম।একটা জিনিস দেখতেছি রেহান আসার পর থেকেই

জারা হালকা হালকা ব্লাশ করছে।

আমি ওর কানে কানে বললাম কিরে ব্যাপার কি।

ও হকচকিয়ে বললো আরেহ নাহ তেমন কিছু না।

হুম থাক বুঝি বুঝি বলেই হাসলাম।

হঠাৎ লুকিংগ্লাস এ তাকাতেই মনে হলো আরিয়ান আমার দিকে তাকিয়ে আছে।

আমি তাকাতেই মনে হলো চোখ নামিয়ে নিলো।

পরে ভাবলাম হয়তো আমারি মনের ভুল। আমাকে তো উনি চেনেনই না।

এমন সময় রেহান ভাইয়া আামাকে জিজ্ঞেস করলো। অরিন তুমি তো আমার

ছোট বোনের মতো তাই তোমাকে তুমি করেই বললাম কিছু মনে করোনা।

""আমি বললাম নাহ ভাইয়া সমস্যা নাই।

""রেহান বললো তা তোমাদের ambition কি মানে ভবিষ্যতে কি করার ইচ্ছা আছে।

আমি বললাম ভাইয়া আমার লিখতে ভালো লাগে।

""ওয়াও কবি তুমি দু একটা কবিতা

শোনাতে পারো আমাদের আরিয়ান পড়াশোনা ডাক্তারিতে করলেও ও কিন্তু অনেক সুন্দর কবিতা লিখে। আরিয়ান শোনা তো একটা।

""হ্যা ভাইয়া শোনাও না একটা আমিও তাকালাম আরিয়ান এর দিকে।,,,,,

বিজ্ঞাপন
নীল চোখের অপেক্ষায় গল্পটি জান্নাতী আক্তার সিমি-এর লেখা একটি জনপ্রিয় রোমান্টিক ও সাংসারিক গল্প