নীল চোখের অপেক্ষায়

পর্ব - ১৩

🟢

নেহা যেন পাগল হয়ে গেছে। সে তার রুমের সব জিনিসপত্র ভাঙচুর করেছে।তার হাত দিয়ে রক্ত গড়িয়ে পরছে তবে সেদিকে

তার কোন খেয়াল নেই তার চোখে বারবার সেই দৃশ্য ভেসে উঠছিল। সে কোনভাবে

মেনে নিতে পারছে না। সে বারবার একটা কথা বির বির করছে আদিত্য শুধু আমার

শুধু আমার। কে ওই মেয়ে, আমি ওকে ছারব না শেষ করে ফেলবো আমি ওকে।

এর মধ্যে কামিনি রায় মেয়ের এই অবস্থা দেখে আৎকে উঠলেন দৌড়ে তিনি মেয়ের কাছে এসে তার হাত ধরলেন।

"" কি হয়েছে বেটা তোমার হাত দিয়ে কতো রক্ত গড়িয়ে পরছে। চলো ব্যান্ডেজ

করতে হবে।

নেহা যেন থম মেরে আছে যেন তার কানে কিছুই ডুকছে না।

কি হলো নেহাাাাা(চিৎকার করে)

হ্যা,,,হ্যা,,মা আমি আদিত্য কে ভালোবাসি মা আমি ওকে ছাড়া বাঁচবো না শেষ হয়ে যাবো আমি। যানো ওদের দুজনকে একসাথে

দেখে আমার দম আটকে আসছিলো। মনে হচ্ছিলো আমার কলিজাটা কেউ ছিড়ে নিচ্ছে। তুমি বলো মা আমি তো ওকে

ভালোবাসি সেই ছোট বেলা থেকে তাহলে ও ওই মেয়েটাকে কেন ভালোবাসে

মা বলো।।

""কামিনী রায় বুঝতে পারছেনা মেয়ে আসলে কি দেখে এমন রিয়াক্ট করছে আর কোন মেয়ের কথাই বা বলছেন।তবে একটু তিনি বুঝতে পেরেছে যে বিষয়টা আদিত্য কে নিয়ে।

ভেবেই তার ভয় লাগছে তিনি তার মেয়েকে অনেক আদরে মানুষ করেছেন যখন যা চেয়েছেন তাই দিয়েছেন সেটা ঠিক হক বা

ভুল।আর আদিত্য কে বালোবাসার ভুতটাও তিনি নিজেই মেয়ের মাথায় ডুকিয়েছেন নিজের সার্থের জন্য।

"" তিনি আর ভাবলেন না আগে মেয়েকে শান্ত করা দরকার।

"" তিনি আস্তে করে নেহাকে উঠিয়ে বসালেন তারপর তার হাতে ব্যান্ডেজ করে দিলেন।

বেটা তাকাও আমার দিকে

বলো কি দেখেছো তুমি মাম্মা কে তো বলবা তাইনা। আদিত্য তোমারি হবে আমি কথা দিচ্ছি তোমাকে।

"" এবার নেহা তাকালো তার মায়ের দিকে। সবটা খুলে বললো।

"" কামিনী রায় কিছুক্ষণ চিন্তা করার পর বললেন তুমি চেন মেয়েটিকে।চিনিয়ে দেবে আমাকে।

নেহা বললো ও জারার ফ্রেন্ড আর নাহিদ ভাইয়ার শালি হয় সম্পর্কে।

"" এবার কামিনী রায় বললেন তুমি চিন্তা করোনা বেটা মাম্মা আছিনা সব ঠিক করে দেবো।মাম্মা কে ভরসা করোতো তুমি।

"" নেহা মাথা নেরে সায় জানালো।

"" কামিনী রায় মেয়ের মাথায় চুমু দিয়ে বললো এখন তুমি ঘুমিয়ে পরো নাহলে

তোমার ফেইস কালো হয়ে যাবে সকালে তোমাকে দেখতে ভুতের মতো লাগবে।

"" হুম ঠিক বলেছো তুমি। বলে নেহা শুয়ে পরলো।

"" কামিনী রায় সস্তির নিশ্বাস ফেললেন।

এবার যা করার আমাকেই করতে হবে এতো সম্পত্তি কিছুতেই হাতছাড়া হতে দেব না আমি।

-----------------

অরিন জারাকে পেয়ে যেন দিন দুনিয়া সব ভুলে গেছে তারা হাতে মেহেদী দিচ্ছে। আসেপাশের সবাই এক জায়গায় হয়ে

আড্ডা দিচ্ছে এর মধ্যেই সবাই আরিয়ানকে চেপে ধরলো একটা গান গাওয়ার জন্য রায়ান এসবে বিরক্ত হলেও আরিয়ানের

গান গাওয়ার কথা শুনে একটু মনোযোগ দিলো।সে আরিয়ানের গান অনেক পছন্দ করে।

কিন্তু আরিয়ান বার বার না করছিলে।এর মধ্যেই রেহান বলে উঠলো

আমাদের জন্য না হোক তোর নিলাম্বরীর জন্য একটা গা অন্ততো।

এই কথা শুনেই আরিয়ানের আরেক কাজিন বলে উঠলো কে সেই নিলাম্বরী তোমার গার্লফ্রেন্ড নাকী আরিয়ান।

আরিয়ান কটমটে চোখে তাকালো রেহানের দিকে।রেহান নিজেও বুঝতে পারেনি এমন হবে।

অরিন এবার মনোযোগী হলো তারও যান্তে ইচ্ছে করছে কে এই নিলাম্বরী।

সত্যি কি আরিয়ানের গার্লফ্রেন্ড আছে।ভেবেই কেনজানি তার মনটা খারাপ হয়ে গেলো।সে উঠে যেতে নিলেই জারা

তাকে টেনে বসালো।

আরিয়ান সবটা খেয়াল করেই ঠোঁট কামরে হাসলো একটু।সে বেশ

বুঝতে পারছে তার নিলাম্বরীর মনে একটু হলেও সে আছে।

"" রায়ান ও তা খেয়াল করলো তারপর আরিয়ান এর দিকে তাকাতেই দেখলো আরিয়ান ও তার দিকে তাকিয়ে আছে।সে বিরক্ত হলো।

সবাই বার বার বলায় আরিয়ান তার গিটারটা নিয়ে আসলো এবং বললো,,

আমার নিলাম্বরী আমার হৃদয়ের রানী, সে কে তা তোমরা জানতে চেওনা সে থাকে আমার একান্ত মনি কোঠায়,, তবে তার জন্য একটা গান গাওয়াই যায়।

এরপর সে একবার অরিন এর দিকে তাকাতেই তাদের চোখাচোখি হলে অরিন চোখ নামিয়ে নিলো।তা দেখে আরিয়ান ঠোঁট কামরে হেসে গাওয়া শুরু করলো

আজ এক নাম না জানা কোনো পাখি

ডাক দিলো ঠোঁটে নিয়ে খড়কুটো

আজ এলো কোন অজানা বিকেল

গান দিলো গোধূলি এক মুঠো

তুমি যাবে কি? বলো যাবে কি?

দেখো ডাকছে, ডাকলো কেউ

তুমি পাবে কি? পা-পাবে কি?

সামনে বেপরোয়া ঢেউ

ছুঁয়ে দিলে সোনাকাঠি খুঁজে পাই

যদি যাই ভেসে, এমনি ভেসে যাই

ছুঁয়ে দিলে সোনাকাঠি খুঁজে পাই

যদি যাই ভেসে, এমনি ভেসে যাই

আজ এক নাম না জানা কোনো হাওয়া

চোখ বুজে ভাবছে বেয়াদব ধূলো

টুপটাপ বৃষ্টিফোঁটা গেল থেমে

ভেজাভেজা খিড়কি দরজা তুমি খুলো

তুমি যাবে কি? বলো যাবে কি?

বিজ্ঞাপন

দেখো ডাকছে, ডাকলো কেউ

তুমি পাবে কি? পা-পাবে কি?

সামনে বেপরোয়া ঢেউ

ছুঁয়ে দিলে সোনাকাঠি খুঁজে পাই

যদি যাই ভেসে, এমনি ভেসে যাই

ছুঁয়ে দিলে সোনাকাঠি খুঁজে পাই

যদি যাই ভেসে, এমনি ভেসে যাই

আজ যদি গল্প হয় চুপচাপ রুপকথার

লাল নীল কমলা রোদ canvas-এ

আজ যদি বৃষ্টি হয়, জেনো প্রাণপনে ভিজবো খুব

রামধনু উঠবে ঠিক, fantasy

তুমি যাবে কি? বলো যাবে কি?

দেখো ডাকছে, ডাকলো কেউ

তুমি পাবে কি? পা-পাবে কি?

সামনে বেপরোয়া ঢেউ

ছুঁয়ে দিলে সোনাকাঠি খুঁজে পাই

যদি যাই ভেসে, এমনি ভেসে যাই

ছুঁয়ে দিলে সোনাকাঠি খুঁজে পাই

যদি যাই ভেসে, এমনি ভেসে যাই

ছুঁয়ে দিলে সোনাকাঠি খুঁজে পাই

যদি যাই ভেসে, এমনি ভেসে যাই

ছুঁয়ে দিলে সোনাকাঠি খুঁজে পাই

যদি যাই ভেসে, এমনি ভেসে যাই।

গান শেষে সবাই হাততালি দিলো। আরিয়ান গান গাওয়ার পুরোটা সময় অরিনের দিকে তাকিয়ে ছিলো।তা দেখে অরিন একবারের জন্য মাথা তুলে তাকায়নি।

এর মধ্যে বড়দের ডাক পরে গেলো শুতে যাওয়ার জন্য সবাই যার য়ার বরাদ্দকৃত রুমে চলে গেলো।

-----------------------------

"" ক্লাসে Mathক্লাস হচ্ছে, কিন্তু নাহারের তাতে মনোযোগ নেই।থাকবেই বা কিভাবে দুদিন হলো জারা অরিন তার দুই প্রানের

বান্ধবী গেছে বিয়ে খেতে।তাওনাকি কাকতালিয়ভাবে দুজনে একি বিয়ে

খেতে গেছে শুধু একজন ছেলে পক্ষ আর একজন মেয়ে পক্ষ। এ নিয়ে তার দুঃখের শেষ নাই।না সে দুঃখ পেত না যদি তারা আলাদা যায়গায় থাকতো কিন্তু তারাতো একসাথে আছে শুধু

সে নেই কেন এমন হবে।

আপনারা হয়ত ভাবতে পারেন আমি অনেক হিংসুটে মহিলা কিন্তু মনে হলে হক।তিন বান্ধবীর দুইজন আছে একজন নাই এতো ঘোর অন্যায়।এর মধ্যেই টিচারের ডাক পরলো।

"" এই মেয়ে দারাও,,হ্যা তোমাকেই বলছি কি যেনো নাম তোমার।

"" নাহার উঠে বললো স্যার আমার নাম নাহার।

"" হ্যা যাই হোক তখন থেকে দেখছি অন্যদিক মনোযোগ দিয়ে আছো এই Math solve করে দাও তো।

নাহার তো পরলো মহা ফ্যাসাদে সেতো Math এর দিকে খেয়াল ই করেনি। অন্য ভাবনায় মত্ত ছিলো সে কিভাবে Math. Solveকরবে।

"" সরি স্যার পারবোনা।

"" Out..

"" জী স্যার?

"" বের হও আমার ক্লাস থেকে এখানে কি করতে আসো পরতে নাকি গল্প করতে।

"" কিন্তু স্যার আমি তো গল্প করিনি আপনি ভুল দেখেছেন।

"" Shut up ব্যায়াদব মেয়ে মুখে মুখে তর্ক করো যাও বেরো আমার ক্লাস থেকে।

"" কি আর করার নাহার বের হয়ে আসলো রুম থেকে এমনিতেও তার ক্লাস করতে ইচ্ছে করছিলো না। কিন্তু কষ্টের বিষয় সবাই তার দিকে তাকিয়ে হাসছিলো।

সে জাই হোক এখন খিদে পেয়েছে একটু ক্যান্টিনে যাওয়া যাক।

"" ক্যান্টিনে যাওয়ার পথে তার হৃদয় এর সাথে দেখা হলো। হৃদয় তার থেকে একবছর সিনিয়র কিন্তু তারা বন্ধুর মতোই মেলামেশা করে

তাদের বাসাও পাশাপাশি।

তারা একটা টেবিলে বসলো।নাহার বার্গার আর হৃদয় স্যান্ডুউইচ অর্ডার করলো।

তারা বিভিন্ন বিষয় গল্প করছিলো।বিশেষ করে হৃদয়ের গার্লফ্রেন্ডদের বিষয়। আসলে হৃদয় অনেকটা প্লেবয় এর মতো তার কোনো প্রেম

১মাস এর বেশি টিকে না এই নিয়েই তারা হাসাহাসি করছিলো।এর মধ্যে হঠাৎ

কথা থেকে সিয়াম এসে হজির হলো তাকে দেখতেই নাহার চোখমুখ কুঁচকে নিলো।

"" আরে পাঠকাঠি পাহার যে ক্লাস বাদ দিয়ে এখানে প্রেম চলছে নাকি।

"" এই আপনি একদম আমাকে পাঠকাঠি বলবেন নিজে তো একটা ষার তার বেলায়।আর ও যদি আমার বয়ফ্রেন্ড হয়ও তাতে আপনার কি হ্যা।

"" না না আমার তেমন কিছুনা শুধু ছেলোটার জন্য মায়া লাগছে তোমার মতো একটা পাঠকাঠিকে গলায় ঝুলিয়ে রেখেছে।

"" হৃদয় যেন কিছুই বুঝছে না কে কার বয়ফ্রেন্ড আর কেই বা পাঠকাঠি পাহার।

"" শোন ভাই যতো তারাতারি পারো এর সাথে ব্রেকআপ করে নাও আর নেহাতই যদি বেশি ভালোবেসে ফেলো তবে আমি কিন্তু নতুন ডাক্তার আমার কাছে এসো আমি ভিটামিন দিয়ে দিব।

"" নাহার তো রাগে ফুসছে।

"" আর হৃদয় হা করে শুধু শুনছে।

"" এর মধ্যে তাদের অর্ডার চলে আসলে সিয়াম বার্গার টা খেতে খতে চলে গেলো।

"" এই ষার আমার বার্গার দিয়ে যান।

"" হৃদয় আর না হেসে পারলো না সে শব্দ করে জোরে হেসে বললো কেরে ছেলেটা কিসব বলে গেলো পাঠকাঠি পাহার বেশ নাম তো তর।

"" নাহার এবার রেগে তাকিয়ে চলে গেলো।

"" আরে বইনা টাকাটাতো দিয়ে যা।

"" তোর না অনাকে ভালোলেগেছে তাই তুই টাকা দিয়ে দে।বলেই চলে গেলো।

"" যাহ বাবা মাঝখানে আমার টাকাটা গেলো।

বিজ্ঞাপন
নীল চোখের অপেক্ষায় গল্পটি জান্নাতী আক্তার সিমি-এর লেখা একটি জনপ্রিয় রোমান্টিক ও সাংসারিক গল্প