নীল চোখের অপেক্ষায়

পর্ব - ২৯

🟢

"" উফ নাহার তুই কি বলবি।

না আমি তোরে থাপরাবো বল তো।শুধু ফ্যাচ ফ্যাচ করে কান্না কেনো করছিস তুই।

"" অরিনের ধমকে নাহার কান্না থামিয়ে

ফ্ল্যাসব্যাক,,,,,

আপনার সমস্যা কি কলুন তো সিয়াম ভাই কেনো পিছু পিছু ঘুরেন সবসময়? নাহার বিরক্ত হয়ে বললো।

"" সেইটা তো আমি নিজেও জানিনা।বিরবির করে বললো সিয়াম

"" সিয়ামের কথা নাহারের কানে না যাওয়ায় সে আরো বিরক্ত হলো

সে ঝাজালো কন্ঠে বললো কি বলছেন স্পষ্ট করে বলুন।আর আমার পিছু ছারুন প্লিজ।

আপনি জানেন না আমার

পরিবার কেমন।এইভাবে রাস্তার মাঝে আমার পিছু পিছু ঘুরেন এইটা যদি আমার বাবা বা ভাই কোনো ভাবে

জানতে পারে আপনার কনো আইডিয়া নেই ঠিক কি হতে পারে।

"" নাহার এটা নরমাল একটা বিষয় এতো হাইপার হওয়ার কিছু নাই।

"" প্লিজ সিয়াম ভাই আপনাদের মতো বড়োলোক টাকাওয়ালা হাইফাই পরিবারের জন্য

এসব নরমাল কিন্তু আমাদের মতো মধ্যবিত্তদের জন্য এটা বাজে কাজ।একটা ছেলের সাথে রাস্তায় দারানো মানেই মেয়েটা খারাপ।

"" নাহার,,,,,

"" হঠাৎ চিৎকারে নাহার আঁতকে উঠল। এটা তো তার বড়ো ভাইয়ের গলা আজ সে শেষ ভেবেই একটা ঢোক গিলে পিছনে ফিরলো।

দেখলো তার বড়োভাই বড়ো বড়ো চোখ করে তাকিয়ে আছে।

"" সিয়াম ও পিছনে ঘুরলো।একবার নাহার আবার সামনের লোকটির দিকে তাকিয়ে বোঝার চেষ্টা করলো যে কে হতে পারে।

"" ভাইয়া,,,,

"" নাহারের ভাই হুংকার দিয়ে বললো কি করছিস তুই এখানে।

"" সিয়াম বুঝতে পারলো লোকটি নাহারের ভাই। সে কিছু বলার জন্য এগিয়ে যাবে তার

আগেই লোকটি নাহারকে টানতে টানতে নিয়ে যেতে লাগলো।

"" ভাইয়া আমার কথাটা শোনো

তোর সব কথা আমি বাড়ি গিয়ে শুনছি।

"" সিয়াম তখনো ভ্যাবলার মতো তাকিয়ে আছে মুলত বিষয় টা বোঝার চেষ্টা করছে সে যখন সে বুঝতে পারলো তখন নলে উঠলো

"" ওহ শিট,,আমি এটা কি করলাম।

---------------------

"" নাহারকে তার ভাই টানতে টানতে বাড়ি নিয়েসেই বাড়ির ভেতর ছুরে ফেললো এতে সে পরে গিয়ে খানিকটা ব্যাথাও পেলো।

"" নাহারের মা মেয়েকে দেখে আতকে উঠলেন ছেলের দিকে তাকিয়ে বললেন।কি করছিসটা কি মেয়েটাকে মেরেফেলবি নাকি।

এর মধ্যে নাহারের বাবাও রুম থেকে বেরিয়ে এলেন।

নাহার ফুপিয়ে কান্না করে যাচ্ছে।

"" কি ব্যাপার আমার মেয়েকে মারছো কেনো তুমি তোমাকে এতো সাহস কে দিয়েছে।

আর কি করেছে সে।রেগে বললেন নাহারের বাবা।

"" তুমি আমাকে সাহসের কথা বলছো তোমার মেয়ে রাস্তা ঘাটে ছেলে নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে বাহিরে ফোস্টিনোস্টি করে বেরাচ্ছে।

"" ভাইয়া একদম বাজে কথা বলবে না।

"" তুই এসব কি বলছিস কেনো আমার মেয়ে এমন নয়।

"" এমন নয় বলছো নাহারকে আবার ঘার ধরে নিজের দিকে টেনে এনে বললো কিরে বল বাহিরে কার সাথে

দাঁড়িয়ে ছিলে? কে ছিল ওইটা বল।

বলেই দরজার দিকে তাকে ছুরে মারলো

সাথে সাথে দুইটা হাত নাহারকে আকরে ধরলো।

নাহার হাতের মালিকের দিকে

তাকাতেই যেনো তার মাথায় বাজ পরলো কারন তার সামনে দরিয়ে আছে সিয়াম।

"" বাহ তা বাহিরের নাগর দেখি বাড়ি পর্যন্ত চলে আসছে।

দেখো মা-বাবা এই ছেলের সাথেই তোমার মেয়ে।

"" চুপ করুন কি বলচেন আপনারা আপনারা নিজের মেয়েকে চিনেন না তার সম্পর্কে এতো বাজে কথা বলছেন কিভাবে তাহলে।

"" এবার যেনো নাহারের বাবা-মা ও রাগান্বিত হলেন। সিয়ামের কথা শুনে তেরে এলেন নাহারের দিকে সিয়াম অনেক চেষ্টা করলেও তাদের কিছু

বোঝাতে পারেনি।

শেষে তার বাবা বলেছে তোমার যখন এতো দরদ ওই নষ্ট মেয়েকে তুমি নিয়ে যাও আমার বাড়ির ত্রিশিমানায় তাকে যেনো না দেখি।

"" বাবা প্লিজ,, বোঝার চেষ্টা করো

"" তুই আর আমাকে বাবা বলে ডাকবিনা আজ থেকে আমার মেয়ে মারা গেছে বলেই তিনি বাড়ির ভেতরে চলে গেলেন।

"" সিয়াম যেনো হতবাক হয়ে গেলো সে তো বোঝাতে এসেছিলো কিন্তু হলো তার উল্টো।

"" হয়েছে আপনি এটাই তো চেয়েছিলেন তাই না। নিন শান্তি হয়ে গেছে এবার আসুন এখান থেকে হাতজোড় করে বলল নাহার।

বিজ্ঞাপন

"" সিয়াম অসহায় চোখে তাকালো তারপর কিছু একটা ভেবে নাহারের হাত ধরে বললো চলো।

"" নাহার হাত ঝারা মেরে বললো কথায় যাবো

"" আমি যেখানে নিয়ে যাবো তারপর গাড়ি করে সোজা কাজি অফিস

তারপর বিয়ে।

বলেই আবার নাহার কান্না শুরু করলো।

"" সবটা শুনে নাহারের বেশ খারাপ লাগলো তারপর কিছু একটা ভেবে বললো তুই সিয়াম ভাইকে ভালোবাসিস নাহার?

"" অরিনের কথায় নাহার কান্না থামিয়ে তার দিকে তাকিয়ে রইলো।

"" অরিন তার কাধ ঝাকিয়ে আবার বলল কিরে বল তুই ভালোবাসিস সিয়াম ভাইকে।

""দেখ আমার যতদূর মনে হয় সিয়াম ভাই তোকে ভালবাসে না হলে এভাবে পিছু পিছু ঘুরতো না তোকে নিয়ে আসতো না আর বিয়ে করত না।

""নাহার যেন আরো ভাবনায় পড়ে গেল সিয়াম তাকে ভালোবাসে। কই বলেনি তো কখনো।

"" অরিন নাহারের ভাবনা দেখে বললো হুম ভাবতে থাক কি উত্তর আসে নিজের মনকে জিজ্ঞেস কর বলে মিটমিটিয়ে হাসতে লাগলো।

"" এর মধ্যে আরিয়ান আসলো তাদের রুমে আরিয়ান আসতেই অরিন তার মুখ আবার

কালো করে নিলো।

আরিয়ান তা দেখেও কিছু না বলে হাতের ব্যগ গুলো খাটে রেখে অরিনকে বললো ওকে সাজিয়ে দাও।

"" অরিন ও এক বাক্যে সাজানোর জন্য উঠে পরলো বিছানা থেকে। আরিয়ান বেরিয়ে গেলো রুম থেকে।

নীল_চোখের_অপেক্ষায়

লেখিকাঃMst_Jannai_Akter_Simi (রাগিনী)

part_44 প্রথম অংশ

অরিন নাহারকে খুব সুন্দর করে সাজিয়ে দিয়েছে। যদিও নাহার সাজতে চায়নি তবে অরিন তা শুনলে তো।

প্যাকেটের ভেতর লাল জামদানী শাড়ি ছিলো আর হালকা কিছু অর্নামেন্টস।সাথে গাজরা।

তাকে সাজানো শেষে অরিন

পাশের রুমে বসিয়ে দিয়ে আসলো।রুমটা খুব স্বাভাবিক। কোনো সাজ নেই।

তবে নাহারের মনের ভেতর অদ্ভুত এক অনুভুতি হচ্ছে।

কিছুটা ভয় কিছুটা অস্বস্তি। সে জানেনা এই সম্পর্কের ভবিষ্যত কি। কি হবে এরপর।

হঠাৎ ই দরজার শব্দে তার ধ্যান ভাঙলো। সামনে তাকাতেই দেখলো সিয়াম দারিয়ে আছে। তাকে দেখে কিছুটা নড়েচড়ে বসলো।

"" যাও ফ্রেশ হয়ে আসো নামাজ পরতে হবে।

""নাহার তার কথা শুনে মাথা নাড়িয়ে উঠে ওয়াশরুমে চলে যায়।

সে বেড়িয়ে আসতেই সিয়াম ঢুকলো । সিয়াম বের হয়ে আসতেই দেখলো নাহার নামাজে দারিয়ে গেছে।সেও দারিয়ে গেলো।

সিয়াম এর আগেই নাহারের নামাজ শেষ হলে সে বিছানার এক কোনায় গিয়ে বসে নিজের হাত কচলাতে শুরু করে।

"" সিয়াম কিছুটা সময় নিয়ে নিজের নামাজ শেষ করে।

নামাজ শেষ হলে জায়নামাজ গুছিয়ে যায়গা মতো রেখে দেয়।

পাশে ঘুরতেই নাহার বলে উঠে আমার আপনাকে কিছু বলার আছে।

সিয়াম জানত নাহার এমন

কিছু বলবে তাছাড়া তাদের বিয়েটাও এমন হঠাৎ করে হয়ে গেছে যে নাহারের সাথে তেমন কথাই বলা হয়নি।

সে শান্ত গলায় বলে হুম বসো।

তারপর সে একটা বক্স বের করে তা নাহারের হাতে দেয়। নাহার জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকালেই বলে তোমার উপহার।

বাসর রাতে উপহার হিসেবে দিতে হয় যদিও তোমার সাথে বিয়েটা

আমার অদ্ভুত ভাবেই হয়েছে।আর এসব আমার মাথায় ও ছিলো না। তবে আরিয়ান সবকিছুর ব্যাবস্থা করেছে।

"" নাহার তা ইতস্তত করে হাতে নিলো।তারপর অনেক কষ্টে নিজের মুখ খুলে বললো দেখুন

আমি জানি বিয়েটা আপনার ইচ্ছেতে হয়নি হয়তো বাধ্য হয়ে দয়া দেখিয়ে করেছেন আপনি তবে আপনার বেশিদিন আমার দায়িত্ব নিতে হবে না।আমি কিছুদিন এর মধ্যেই বাবাকে বুঝিয়ে নিবো।

তারপর নাহয় আমাকে ছেড়ে দিয়েন আপনি।কথাটা বলে নাহার সিয়াম এর মুখের দিকে তাকাতেই আতকে উঠলো।

সিয়াম তার দিকে হিংস্র দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।কিন্তু কেনো।সে তো ভুল কিছু বলে নি।ভেবেই মাথা নিচু করলো।

"" যাও ঘুমিয়ে পরো।শক্ত গলায় বললো সিয়াম।

"" কিন্তু,,

"" যাও কটমটিয়ে বলে উঠলো

"" নাহার ও কিছু না বলে বিছানার এক পাশে গুটিশুটি মেরে শুয়ে পরলো।সে ভুঝলো না সিয়ামের হঠাৎ রেগে যাওয়ার কারন টা।

"" সিয়াম রেগে বেলকনির দিকে গেলো এই মেয়ে কি পাগল নাকি। কি ভাবে নিজেকে মেয়েটা সিয়াম দয়া দেখিয়ে বিয়ে করেছে তাকে এতো সোজা।

দয়াই যদি দেখানোর হতো তাহলে বিয়ে করতো না।

আর বোকা মেয়েটা এতো পাকনা।এতো বেশি বোঝে তাহলে এটা কেনো বুঝলো না যে সিয়াম তাকে ভালেবাসে।

এমনি কি সে এই মেয়েটার পিছু পিছু ঘুরে নাকি নানান বাহানায়।

এসব ভেবে রুমে আসতেই দেখলো নাহার ঘুমিয়ে পরেছে।সেও কিছু না ভেবে নাহারের পাশে শুয়ে পরলো।

অনেক্ক্ষণ পরেও যাখন ঘুম এলো না তখন সে খুব যত্ন সহকারে নাহারকে তার কাছে নিয়ে আসলো তারপর তাকে বুকে নিয়ে ঘুমিয়ে পরলো।

এবার যেনো কিছুটা শান্তি লাগছে তার।এসব ভেবেই নাহারের কপালে ঠোঁটের পরস একে দিলো।

বিজ্ঞাপন
নীল চোখের অপেক্ষায় গল্পটি জান্নাতী আক্তার সিমি-এর লেখা একটি জনপ্রিয় রোমান্টিক ও সাংসারিক গল্প