নীল চোখের অপেক্ষায়

পর্ব - ৩৩

🟢

হ্যা আমি।

কিন্তু আপনি এখানে কেনো? আর আপনাকে সবাই নিচে খুজছে।

"" আমি আমার যায়গাতেই আছি। বলতে বলতে আরিয়ান এগিয়ে আসলো অরিনের দিকে।

"" আপনার হলুদের জন্য সবাই অপেক্ষা করছে,,,

আপনি এগোচ্ছেন কেনো?

"" আরিয়ান কোনো কথা বলছে না এগিয়ে আসছে অরিনের দিকে।

তার দৃষ্টি অরিনের কম্পমান ঠোঁটের দিকে যা অনবরত কেপে যাচ্ছে

"" পেছাতে পেছাতে অরিন দেওয়ালের সাথে ঠেকে গেলে চমকে উঠলো সে আরিয়ানের দৃষ্টি দেখে শুকনো ঢোক গিললো সে।

কি করতে চাইছে আরিয়ান অরিন স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে আরিয়ানের চোখে কামুকতা। যা অরিনের ভয় আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে।

"" আরিয়া,,,,

"" হুসসসস,,

আরিয়ান অরিনের ঠোঁটে আঙুল রেখে বললো

তোমার একবারো মনে হয়নি আমার কী হবে তুমি ছাড়া।কিভাবে বাচবো আমি।এতোটা পাষান কিভাবে হয়েছিলে নীলাম্বরী।

"" অরিন ছলছল চোখে বলতে নিলো

প্লিজ,,,,

পুরো কথা শেষ করার আগেই আরিয়ান অরিনের ঠোট আকরে ধরলো নিজের ঠোট দারা।

অরিন চোখ খিচে বন্ধ করে নিলো। আকরে ধরলো আরিয়ানের শার্টের দুইপাশ।

আরিয়ানের যেনো কোনো হুস নেই সে ব্যাস্ত নিজের নিলাম্বরীর উষ্ণ ঠোঁটের

সুধা পান করতে।যেনো কতো বছরের তৃষ্ণার্থ পথিক নিজের তৃষ্ণা মেটাচ্ছে।

তার ছোয়ায় কোনো উগ্রতা নেই।যা আছে শুধু ভালেবাসা।

"" অরিনের চোখ দিয়ে পানি পরছে।

অরিনকে অবাক করে দিয়ে আরিয়ানের চোখ দিয়ে একফোটা পানি গড়িয়ে পরলো।

অরিন ছটপটিয়ে উঠলো তা অনুভব করে।

সে নিজেকে সামলাতে পারছে না।তার মস্তিষ্ক বলছে এটা ঠিকনা তুই আটকা আরিয়ানকে কিন্তু মন মানছে না।সে চাইলেও পারছে না আরিয়ানকে বাধা দিতে।

"" আরিয়ান অরিনের ঠোঁটে কিস করতে করতে একসময় তাকে কোলে তুলে নিলো সেভানেই।

"" অরিন নিজেকে শুন্যে অনুভব করতেই ছটপটিয়ে উঠলো পরে যাওয়ার ভয়ে আরিয়ানের গলা আকরে ধরলো।

কিছুক্ষণের মধ্যেই নিজেকে বিছানায় অনুভব করলো অরিন।

আরিয়ান অরিনের ঠোঁট ছেড়ে দিলো। তাকালো নিজের বক্ষের নিচে পৃষ্ঠ হওয়া রমনির দিকে যার চোখ বর্তমানে বন্ধ আছে অনবরত শ্বাস টানছে অরিন এতে তার বক্ষভাজ অনবরত আন্দোলিত হচ্ছে সমান তালে।

এতে যেনো আরিয়ান নিজের হুস হারিয়ে ফেলছে।

অরিনের যেনো দম বেরিয়ে যাবে। এর মাঝেই সে অনুভব করলো আরিয়ানের হাত তার ড্রেসের ফিতায় চলে গেছে।

অরিন আতকে উঠলো এমন হওয়ায় সে ঝটপট করে চোখ খুলে আরিয়ানের দিকে তাকিয়ে বললো

"" কি,,কি করতে চাইছেন আ,,আপনি,,,

এটা ঠিক না,,,প্লিজ।

"" কোনটা ঠিক না?বলো কি ভুল করছি আমি?

আরিয়ানের প্রশ্নে দমে গেলো অরিন

""সে কি বলবে সত্যি তো আরিয়ান তার জন্য বৈধ আজ থেকে তিন বছর আগে তিন কবুল পরে বিয়ে হয়েছিলো তাদের তার ওপর সম্পূর্ণ অধিকার আছে আরিয়ানের।

তবুও সে বলে উঠলো

"" প্লিজ আরিয়ান কাল আপনার বি,,বিয়ে বাহিরে নেহা আপু অপেক্ষা করছে।

"" হুসসসস,,চুপ বাহিরের সবকিছু চুলোয় যাক।

তারপর আবারো হাস্কি স্বরে বললো

You keep your eyes on me. There is no one here except you and me. Everything outside is a lie. And I don't fuk**ing Care about Neha,,,,

বলেই অরিনের জামার ফিতেটা টান মেরে খুলে ফেললো।

মুখ ডুবিয়ে দিলো অরিনের গলায় অনবরত তাতে ভালেবাসার পরস আকতে শুরু করলো।

"" এদিকে অরিনের অবস্থা যায় যায় কি বলছে এই লোক বাহিরে এতো মানুষ নেহা আপু তার জন্য অপেক্ষা করছে।আর এই লোক বলছে বাহিরের সবটা মিথ্যা।

সে আবারো কিছু বলতে চাইলো তবে আরিয়ান সে সুযোগ দিলো না আবারো মত্ত হলো অরিনের ঠোঁটে।

অরিন আরিয়ানকে সামলাতে হিমসিম খাচ্ছে। সে চাইছে আরিয়ানকে ছাড়াতে তবে তা কি সম্ভব তার শান্ত প্রেমিক পুরুষ আজ বরই অশান্ত হয়ে উঠেছে। তাকে থামানো সম্ভব নয়।

আরিয়ান সম্পূর্ণ ভাবে ডুবে আছে অরিনের মাঝে।এর মাঝে অরিন নিজেকে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত অনুভব করতেই লজ্জায় নেতিয়ে পরলো।

একসময় অরিন নিজেও ডুবে গেলো আরিয়ানের ভালোবাসায়।বিলিয়ে দিলো নিজের সবটা।

সে তো কোনো অন্যায় করেনি আরিয়ান তার স্বামী তার ভালোবাসা তার সবকিছু।

আজ আরিয়ান নিজের করে নীলো তার নীলাম্বরীকে যার নীল_চোখের_অপেক্ষায় সবসময় থেকেছে সে।

শেষ রাতের দিকে আরিয়ান ক্লান্ত হয়ে অরিনের অনাবৃত বুকে ঘুমিয়ে পরলো।

বিজ্ঞাপন

তবে অরিনের চোখে ঘুম ধরা দিলো না সে ভাবতে থাকলো তার আর আরিয়ানের বিয়ের দিনের কথা,,,,,

তখন তাদের সম্পর্কের বেশ কিছু দিন পেরিয়েছে।ধিরে ধিরে অরিন ও আরিয়ানের প্রতি অনেক দুর্বল হয়ে গেছে আর আরিয়ান সে তো বরাবরই তার নীলাম্বরীর জন্য পাগল।

অতীত,,,,,

-------

কি হয়েছে জান কথা কেনো বলছো না।আমি কি কোন ভুল করেছি তাহলে বলো আমায় কি হয়েছে।

"" অরিনের তবুও কোনো হেলদোল নেই।

"" দেখ জান প্লিজ আমাকে রাগাস না এমনি আজ এক সপ্তাহ পর তোর দেখা পেলাম কিসের কি নিজের মুড ঠিক

করবো তা নয় রাগ করে বসে আছিস বলে অরিনকে ধরতে গেলেই

অরিন গাড়ির সাথে আরো চেপে গেলো এতে আরিয়ানের কপাল কুচকে গেলো

"" দেখ জান প্লিজ রাগাস না আমায় বলতেই অরিন কেদে উঠলো

আরিয়ান তো অবাক সে কি করলো কিছুই তো জানেনা।আর এই এক সপ্তাহ আরিয়ান এতোটাই ব্যাস্ত ছিলো যে অরিনের সাথে তেমন কথা হয়ে উঠেনি।

কিরে বাবা কি হয়েছে বলবে তো বলে অরিনের গালে হাত রাখলেই অরিন ঝামটি মেরে সরিয়ে দিলো।

আরিয়ানের রাগ যেনো আকাশ সমান হয়ে গেলো সে জোর করে অরিনকে নিজের কোলে এনে তার কোমরের দুই পাশ চেপে ধরলো।

সমস্যা কি তোর এমন নাটক করছিস কেনো?

দাঁতে দাঁত চেপে বললো আরিয়ান।

"" হ্যা আপনার তো কাজই শুধু আমাকে ছোয়া।আমার মতো মেয়েকে

তো ইউস করে ছুড়ে ফেলে দেবেন।

ভালেবাসাটাসা এসব কিছু না সবটাই নাটক। আপনাদের বড়োলোক টাকাওয়ালা মানুষের চরিত্র তো এমনি হয় বলেই অরিন কান্নায় ভেঙে পরলো।

"" আরিয়ানের মুখের দিক তাকালে দেখলো তার মুখ খুবি শান্ত। অরিন

কিছুটা ভরকে গেলো সে যে ধরনের কথা বলেছে তাতে তার গালে এতোক্ষণ দু'চারটা থাপ্পড় পরার কথা তবে তার সাথে এমন কিছুই হয়নি।

"" আরিয়ান চুপচাপ গাড়ি স্টার্ট করলো।

"!হঠাৎ গাড়ি থামতেই অরিনের হুস ফিরলো।

আরিয়ানকে নামতে দেখে সে নিজেও নেমে পরলো।

আরিয়ান কোনো কথা না বলে তার হাত ধরে টেনে নিয়ে যাচ্ছে।

অরিন কিছু বলতেও পারছে না ভয়ে।

"" বাংলোর ভেতর আসলেই দেখলো সেখানে আরিয়ানের সব বন্ধুরা আছে সাথে নাহার ও।

এর মধ্যে রায়ান ও চলে আসলো।

তাদের সাথে একজন বয়স্ক হুজুর টাইপের লোক।

"" অরিন কিছুই বুঝছে না।

"" বসো।

বসলে অরিন।

"" শুরু করুন।

বয়স্ক লোকটি সাতে সাথে বিয়ের কার্যক্রম শুরু করলো।

"" অরিন চোখ বড়ো বড়ো করে তাকালো আরিয়ানের দিকে আবার ভাইয়ের দিকে।

তার হাত পা কাপছে কি করছে এসব আরিয়ান আর তার ভাইটাও সায় দিচ্ছে।

কাজি কবুল বলতে বললেই অরিন কেদে ফেললো।

করুন চোখে তাকিয়ে বললো আমি বিয়ে করবো না।

কিন্তু কে শোনে কার কথা।

আরিয়ান ধমকে উঠলো তাকে। শেষে রায়ান বোনকে আশ্বাস দিলে অরিন কবুল বলে দেয়।

বিয়ের পর সেদিন আরিয়ান তাকে বলেছিলো,,

আমি জানিনা তুমি কার কথায় এমন রিয়াক্ট করলে নীলাম্বরী তবে আর কোনোদিন আমার ভালোবাসাকে সস্তা বলার সাহস দেখিও না।

বর্তমান,,,

---------

সবটা ভেবেই অরিন একটা দীর্ঘ শ্বাস ফেললো।

নেহাি তাকে উস্কেছিলো সেদিন।বলেছিলো আরিয়ান নাকি তাকে ইউস করে ফেলে দেবে।তার মতো মেয়েদের আরিয়ান টিস্যুর মতো ইউজ করে।

তাইতো সেদিন অরিন আরিয়ানের সাথে খারাপ ব্যাবহার করেছিলো।

ফলস্বরূপ ছেলেটা তাকে বিয়ে করেছিলো।

অরিন তাকালো আরিয়ানের দিকে

আরিয়ান এখনো তার বুকে মুখ গুজে ঘুমিয়ে আছে।অরিন তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে।

কিছুসময় পর সে আরিয়ানের মাতায় চুমু খেলো।

ফিসফিসিয়ে বললো

"" আমি আপনাকে ভালোবাসি ভিষণ ভালেবাসি গোমড়ামুখো।হয়তো নিজের জীবনের থেকেও বেশি।I love you so much....

আরিয়ান অরিনের বুকে নাক ঘষে বিরবির করে বললো love you too My nilambori,,,

"" অরিন মুচকি হেসে নিজের চোখ বুজে নিলো।

না জানি সকালে কি হবে এসব ভাবতে ভাবতে এক সময় ঘুমে তলিয়ে গেলো।

বিজ্ঞাপন
নীল চোখের অপেক্ষায় গল্পটি জান্নাতী আক্তার সিমি-এর লেখা একটি জনপ্রিয় রোমান্টিক ও সাংসারিক গল্প