নীল চোখের অপেক্ষায়

পর্ব - ৩৪

🟢

সকালে উঠতেই নিজেকে নিলাম্বরীর বুকে আবিষ্কার করলো আরিয়ান।এতেই যেনো নিজের ভেতরে এক প্রশান্তির ঢেউ খেলে গেলো।

কতোটা অপেক্ষা করেছে সে তার নীলাম্বরীর।এখন সময় এসেছে তার অবসান ঘটানোর কথাগুলো ভাবতে ভাবতে

সে অরিনের কপালে নিজের ঠোঁট ছুইয়ে ওয়াসরুমে চলে গেলো গোসল সেরে এসে দেখলো অরিন এখনো ঘুমিয়ে আছে।

সে ডাকলোনা তাকে।

----------------------

নিচে সবাই গম্ভীর মুখে বসে আছে।

ভাই আপনি কিছু বলবেন না আরিয়ান এমনটা কিভাবে করতে

পারলো আমার মেয়েটা কাল তার জন্য অপেক্ষা করছিলো আর সে বাসায় আসার প্রয়োজন পর্যন্ত মনে করলোনা।

এতে জারা নরেচরে বসলো সে তো জানে তার ভাই বাড়িতেই আছে আর অরিন ও।

এখানে সকলেই উপস্থিত আছে আর সবাই আরিয়ানের ওপর প্রচন্ড ক্ষিপ্ত।

এর মধ্যে আয়রা বেগমের চোখ গেলো সিরির দিকে তিনি চোখ বড়ো বড়ো করে তাকালো সেদিকে।

আরিয়ান তুই কখন এলি বাবা।

সকলেই চমকে তাকালো সেদিকে।

আরিয়ানের পরনে হাটু সমান প্যান্ট আর টিশার্ট। স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে সে গোসল সেরে এসেছে।

যা দেখে রেহান মিটমিটিয়ে হাসলো জারাও সেদিকেই তাকিয়েছিলো

হঠাৎ রেহানের দিকে চোখ পরলে তার হাসির কারন খুজে পেলো না।

কপাল কুচকে কিছুক্ষণ বোঝার চেষ্টা করতেই তার চোখ বড়ো বড়ো হয়ে গেলো।

যা দেখে রেহান তাকে চোখ মারলো।

জারা সাথে সাথে চোখ নামিয়ে নিলো কি অসভ্য।

আরিয়ানের মামি কামিনি ক্ষিপ্ত হয়ে আরিয়ানের দিকে এগিয়ে এসে বললেন এসব কেমন কথা আরিয়ান তুমি যখন বাসায় ছিলে তখন হলুদে আসলে না কেনো আমার মেয়েটাকে কেনো কাদালে তুমি।

আরিয়ান তার কথার জবাব না দিয়ে রেহানের পাশে সোফায় গিয়ে বসলো।

তারপর জারার দিকে তাকিয়ে বললো

জারা

আমার বউ রুমে আছে তাকে ফ্রেশ করিয়ে নিচে নিয়ায় যা।

উপস্থিত সবার মাঝে যেনো কথাটা বিস্ফোরণ এর মতো কাজ করলো

নেহা অবাক গলায় বললো তুমি এসব কি বলছো আরিয়ান তোমার বউ মানে কে তোমার বউ।?

"" কি হলো জারা আমি তোকে কিছু বলেছি৷ তো?

ভাইয়ের ধমকে জারা ছুটে চলে গেলো।

রুমে আসতেই দেখলো অরিন নিজের মাথা চেপে বসে আছে।

"" কি হয়েছে অরিন শরির খারাপ করছে তোর?

জারাকে পেয়েই অরিন কান্নায় বেঙে পরলো তার মূলত ভেতরে অপরাধ বোধ কাজ করছে।সে কাদতে কাদতে বললো

আমি এটা কি করলাম জারা আমার দ্বারা এতবড় ভুল কি করে হলো।

জারা বুঝতে পারলো অরিনের বিষয় টা তাই সে বোঝানোর জন্য বললো

তুই কনো ভুল করিসনি অরিন। তোদের তো বিয়ে হয়েছে ভাইয়া তোর হাসবেন্ড।

"" কিন্তু নেহা,,

কোনো কিন্তু নয় তাছাড়া তিন বছর আগে তুই ভাইয়াকে ছেড়ে চলে যাওয়ার পর ভাইয়ার কি অবস্থা হয়েছিলো জানিস।আমিও ছিলাম না আমার ভাইটার কাছে ডিপ্রেশন এ চলে গেছিলো আমার ভাই।হাসতেও যেনো ভুলে গেছিলো।

তারপর সবটা জানার পর ধিরে ধিরে নিজেকে গুছিয়ে নিয়েছে অনেক কষ্টে।

অরিন চমকে উঠলো তার মানে আরিয়ান সবটা যানে।কিন্তু কিভাবে?

"" আচ্ছা এখন নিচে চল ভাই ডাকছে।

আমার ভয় করছে জারা।

"" কিসের ভয় আমার ভাই যতক্ষণ আছে তুই কেনো ভয় পাবি।

আর তুই এখন মিসেস আরিয়ান এটা কি তুই ভুলে গেছিস।

অরিন সায় জানালো নিচে যাওয়ার জন্য।

---------------------

তুমি এসব কি বলছো আরিয়ান তুমি কি ভুলে গেছো নেহার সাথে তোমার আজ বিয়ে হবার কথা।

আমি কিছুই ভুলিনি বাবা।

একি অরিন মা তুমি বাসায় যাওনি কাল।বললো আয়রা বেগম।

অরিন মাথা নিচু করে নিলো তার প্রচন্ড কান্না পাচ্ছে। নিজেকে অনেক ছোট মনে হচ্ছে তার।

"" অরিন আমার সাথে ছিলো মম।

কিহ আরিয়ান এসব কি বলছো তুমি ও সারারাত তার মানে তোমার সাথে ছিলো।

এই নষ্ট মেয়েকে আমি

বলে নেহা অরিনের দিকে তেরে যেতে লাগলেই

আরিয়ান অরিনকে নিজের কাছে টেনে নিলো।

"" খবরদার ওকে ছোয়ার চেষ্টা করবে না।

নেহা কাদতে কাদতে বললো আরিয়ান প্লিজ তুমি ওর সাথে থেকেছো তাতেও আমার কনো সমস্যা নেই। তবুও আমি তোমায় ভালেবাসি আরিয়ান তুমি আমায় বিয়ে করো।

"" তাতো সম্ভব নয়।

আমার অলরেডি স্ত্রী আছে।আর আমি তাকে অসম্ভব ভালোবাসি।

বিজ্ঞাপন

"" কার কথা বলছো তুমি আরিয়ান।

বললেন আরিয়ানের বাবা।

"" সে আর কেউ না অরিন।তার সাথে আমার তিন বছর আগেই বিয়ে হয়েছিলো।

আর ড্যাড আমি তোমায় আগেই বলেছিলাম আমি নেহাকে বিয়ে করবো না।

কিন্তু তুমি আমার কথা শোনেনি।

"" আরিয়ান ও একটা নষ্ট,,,

"" চুপ করো বাবা,,,

আরিয়ানের হুংকার এ সবাই ভয় পেয়ে গেলো। অরিন কান্না করছে অনবরত।

আমার স্ত্রী সম্পর্কে একটা বাজে কথা বললে আমি ভুলে যাবো যে তুমি আমার ড্যাড।

আর তুমি যা জানো তা সম্পুর্ন ভুল।

"" মানে?

"" মানে এটাই যে নেহা তোমাকে মিথ্যা বলেছিলো,,,,

"" কিহ,,,

কিন্তু নেহা যে বলেছিলো অরিন মেয়েটা খুবি বাজে ও একটা প্রস্টিটিউড ও নাকি তোমাকে ফাসিয়েছে।

সব মিথ্যা বাবা।

কামিনী রায় আর তার মেয়ে তোমাকে মিথ্যা বলেছে।

আরিয়ানের বাবা আগুন চখে তাকালেন কামিনী রায় এর দিকে।

ছি আপনি এতোটা খারাপ আপনার জন্য আমি সেদিন মেয়েটাকে কতো যঘন্য বাবে অপমান করেছিলাম।

তাছাড়া অরিনের বাবা-মাকেও বলে তিনি ধপ করে বসে পরলেন।

আরিয়ান প্লিজ তুমি বোঝার চেষ্টা করো আরিয়ান।হ্যা আমি মিথ্যা বলেছি তবে সবটাই তোমাকে পাওয়ার জন্য আরিয়ান।আমি তোমাকে ভালোবাসি বাচবো না আমি তোমাকে ছাড়া।

কাদতে কাদতে নেহা আরিয়ানে পা জরিয়ে ধরলো।

"" উপস্থিত সবার নেহার জন্য খারাপ লাগলেও আরিয়ানের দয়া হলো না।

তুমি যদি না চাও আমি তোমাকে ঘার ধাক্কা দিয়ে বের করে দেই তার আগে আমার বাড়ি থেকে বেরও বলে নিজের পা ছাড়িয়ে নিলো।

নেহা উন্মাদ হয়ে গেছে যেনো সে এবার অরিনের পা জরিয়ে ধরলো।

প্লিজ অরিন তুমি যা চাও আমি সব দিয়ে দেবো তোমায় টাকা গয়না।সব প্লিজ আরিয়ানকে আমায় দিয়ে দাও।

অরিন করুন চোখে তাকালো নেহার দিকে।জারার চোখ দিয়েও পানি পরছে।নেহা খারাপ হলেও সে তো আরিয়ানকে সত্যি ভালোবাসতো।

আয়রা বেগম নিজের ভাজতির এমন অবস্থা দেখে কষ্ট পেলেন তবে এগিয়ে গেলেন না।কারন তিনি অনেক আগেই বুঝেছিলেন কামিনীর চাল সে লোভে পরে নিজের মেয়েটাকে লেলিয়ে দিয়েছিলো।

সে নিজের ভাইকে ইশারা করলে।

নেহার বাবা মেয়েকে টেনে তুললো।

নেহা যেতে রাজি হচ্ছে না।

নেহার বাবা আর নেহাল মিলে তাকে গাড়িতে তুললো

সে চিৎকার করে কেঁদে যাচ্ছে।

বাবা প্লিজ বেঝাও না আরিয়ানকে। আমি তো ওকে ভালোবাসি বাবা।ও কেনো আমায় ভালেবাসলো না।আমায় একটু ভালোবাসলে কি ক্ষতি হতো বলো।

আমাকে কি একটু ভালোবাসা যায়না।

নেহার পরিবার সবাই সেখান থেকে চলে গেলো।

---------------------

আরিয়ান ফোস করে শ্বাস টানলো অরিনের দিকে তাকিয়ে বললো

তুমি মরা কান্না করছো কেনো?

আয়রা বেগম এগিয়ে এলো অরিনের দিকে।

তুই কাঁদছিস কেনো মা।আমার বাড়ির বউ তুই।আমার তো তোকে প্রথম থেকেই খুব পছন্দ।

অরিন অবাক হলো।সে ভেবেছিলো নেহার জন্য হয়তো আয়রা বেগম তার সাথে খারাপ ব্যাবহার করবে।

"" আরিয়ানের বাবা ইতস্তত করে বললো আমাকে তুই ক্ষমা কর মা

আমি জানতাম না ওরা আমায় মিথ্যা বলেছে আমি তোকে কতরকম বাজে কথা বলেছি।

"" ছি ছি আংকেল আপনি ক্ষমা চাইবেন না প্লিজ।

নাহ মা আমার জন্য আমার ছেলেটা কতো কষ্ট পেয়েছে।আমার ছেলেটা তোমাকে অনেক ভালেবাসে মা তুমি ওকে আগলে রেখো।

আর তোমার বাবা মা কাছ থেকেও আমার ক্ষমা চাওয়ার আছে।

তারা আর বেচে নেই আংকেল।

উপস্থিত সবাই চমকে গেলো

শুধু আরিয়ান আর রেহান ছাড়া।

আমাকে মাফ কর মা তারা আমাকে ক্ষমা করবেন কিনা জানিনা আমি তো ক্ষমা চাইতেও পারলাম না।

অরিন ফোপাঁতে ফোপাঁতে বললো।

এসব বলবেন না আংকেল আমি আপনার মেয়ের মতো।

মেয়ের মতো কি মেয়েই তো তুই আমাদের। বলে আয়রা বেগম জারিয়ে ধরলেন।

বাহ নতুন মেয়েকে পেয়ে পুরাতনকে ভুলে গেলে।বললো জারা।

তার কথায় আয়রা বেগম অরিন দুজনেই হেসে উঠলো।

হ্যা আমি তো বানের জলে ভেসে এসেছি।

আরিয়ানের কথায় রেহান ও সায় জানালো।

এই চুপ তোরা সব এতো হিংসুটে হয়েছিস কেনো বলতো।

উপস্থিত সবাই এই কথায় হেসে ফেললো।

বিজ্ঞাপন
নীল চোখের অপেক্ষায় গল্পটি জান্নাতী আক্তার সিমি-এর লেখা একটি জনপ্রিয় রোমান্টিক ও সাংসারিক গল্প