রক্ত রেখার আড়ালে

পর্ব - ৭

🟢

_“মাহভিন চলো আমরা পালিয়ে যাই…প্লিজ।”

অনুভার পা জোরা থেমে যায়।ঘুরে তাকায় শান্তর দিকে।কপালে বিরক্তির ভাজ ফুটিয়ে বলে,

_“যা সম্ভব না তা বলে অযথা নিজেকে ছোট করছেন কেন?”

_“কেন সম্ভব না?তুমি চাইলেই সম্ভব।আমার মা-বাবা ফ্রান্সে আছেন,মানে আমার পরিবারের সবাই সেখানে।” শান্ত বলল।

শান্তকে থামিয়ে দিয়ে অনুভা বলল,

_“তাহলে আপনি এখানে কেন?”

_“তোমার জন্য!” শান্ত সরাসরি বলল।অনুভার হাত ধরে বলল,

_“আমার পরিবার অনেক বছর ধরেই ওখানে, শুধু আমি এখানে পড়ে আছি।চলো আমরা সেখানে চলে যাই।তোমাকে ওই রা*স্কেলটাকে বিয়ে করতে হবে না।”

অনুভা হাত ছাড়িয়ে নিয়ে সরে দাড়ালো।শান্তর চোখের দিকে তাকাল।এই চোখে অনুভার প্রতি ভালোবাসা ছাড়া আর কিছু দেখতে পায় না অনুভা।বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকল না।যদি মায়া লেগে যায়!অন্য দিকে তাকিয়ে বলল,

_“বিশ্বাস করুন যদি সম্ভব হতো এই পুরো জীবনটা আমি আপনার নামে করে দিতাম।কিন্তু এটা আমি চাইলেও পারব না।আমি জানি আপনার মত এভাবে আমাকে কেউ কখনো চাইবে না।সাধারণ একটা মেয়ে আমি!”

শান্ত অশান্ত হয়ে উঠলো।

_“এভাবে বলো না,শেষ হয়ে যাব আমি।”

_“কাওকে ছাড়া কেউ শেষ হয়ে যায়না।হয়তো জীবনের এক দিকে একটু অপূর্নতা থেকে যায় কিন্তু কোনো কিছুই থেমে থাকেনা।আপনারও থাকবে না,আমারও না।”

_“তুমি কী অন্য কাওকে ভালোবাসো মাহভিন?” এই প্রশ্ন করতেই শান্তর বুকের ভেতর ধক করে ওঠে।

অনুভা আনমনা হয়ে যায় এক মুহুর্তের জন্য।সে তো নিজেও জানে না তার মন কী চায়,কাকে চায়।সত্যিই কী জানে না?হয়ত জানে,হয়ত না।

_“এই প্রশ্ন আমি নিজেকে অনেক বার করেছিলাম।উত্তর পাইনি।” শান্তকে বলল।

__

বিয়ের আগে হয়ত আর ভার্সিটিতে আসা হবে না।তাই আজকে না জানিয়েই চলে এসেছিল।বাসায় বোরিং লাগে অনুভার।ভার্সিটি এসেও শান্তি নেই।আসলেই শান্ত ভাই এর মুখোমুখি হতে হয়। অনুভার বেলায় শান্ত এত ব্যক্তিত্তহীন কেন?তার কী আত্মসম্মান নেই?এইযে এত বার ফিরিয়ে দেয় তবু কেন বুঝে না মানুষটা।

শান্ত অনুভার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে আছে।চোখ জ্বলছে তার। হয়তো লালও হয়ে গেছে।কম তো ছোট হয়নি এই মেয়ের কাছে।রাগ করে,ভালোবেসে,ধমকিয়ে সব ভাবেই বোঝানো হয়েছে।একটু কী মায়া হয় না তার জন্য? কাওকে ভালোবাসলে নিজের আত্মসম্মান এভাবে বিষর্জন দিতে হয়, তা অনুভাকে ভালো না বাসলে হয়ত সে জানত না।

—--

_“আসবো?”

দরজার ওপাশ থেকে অলির কন্ঠ শুনে সেদিকে তাকাল আরিজ।সে মাত্রই শাওয়ার নিয়ে বের হয়েছে।চুল মুছতে মুছতে বলল,

_“আয়।”

অলি ধীর পায়ে রুমে আসল।হাতে কফির মগ টেবিলে রেখে বলল,

_“বড় চাচী আমাকে পাঠিয়ে দিলো।আমি আসতে চাইনি।”

আরিজ অলির দিকে ভ্রু কুঁচকে তাকাল।সে কী কিছু বলেছে নাকি?এসেছে তো কী হয়েছে।এটা আবার এভাবে বলতে হবে?

_“বুঝতে পেরেছি।”

অলি দাঁড়িয়ে আছে চুপচাপ। আরিজকে দেখছে।আরিজ কফির মগ নিয়ে খেতে লাগল।এক চুমুক খেয়েই মুখ কুঁচকে এলো।

_“কফিতে চিনি দেয়নি কেন?”

অলি কিছু বুঝলো না,প্রশ্ন চোখে আরিজের দিকে তাকিয়ে আছে।সে আবারও বলল,

_“বলছি কফিতে চিনি কই?এমন তেতো কফি আমি খাই না।”

অলি মুখ খুলে কিছু বলার আগেই আমীরা বেগম রুমে এলো।হাতে চিনির বয়াম।অলিকে বলল,

_“কফি তুই নিয়ে এসেছিস?চিনি দেওয়া হয়নি।চিনি দেব সেই সময় ফোনে কল এলো তাই রুমে গিয়েছি,এসে দেখি কফির মগ নেই।”

অলির কান দিয়ে ধোঁয়া বের হলো বোধহয়।সে কেন উধাও হয়ে যেতে পারছে না?এক মুহুর্তের জন্য গায়েব হয়ে যাক সে।এভাবে এসে মিথ্যা না বললে এখন এই লজ্জায় পড়তে হতো না।ইশশশ।

আমীরা বেগম কফিতে চিনি মিশিয়ে তা আরিজের হাতে ধরিয়ে দিয়ে চলে গেলেন।অলিও পেছন পেছন চলে যেতে উদ্যত হয়।

_“দাড়া।” আরিজ ডাকে তাকে।

যাক হয়ে গেল।এই ভয়টাই পাচ্ছিল।এখন আরিজ ভাই যদি জানতে চায় মিথ্যে কেন বলেছে, কী বলবে সে।পেছন ঘুরে বোকা বোকা হেসে কিছু বলতে চাইলো। তার আগেই আরিজ এক চুমুকে কফি শেষ করে অলির দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল,

_“এটা নিয়ে যা।”

অলি মনে মনে ভ্যাবাচ্যাকা খেলো।আহাম্মক বনে তাকিয়ে আছে আরিজের দিকে।অলিকে থম মেরে তাকিয়ে থাকতে দেখে।আরিজ বিরক্ত স্বরে বলল,

_“মগটা নিয়ে রুম থেকে বের হ বোইন।”

অলির মুখ হা হয়ে গেল।কী বলল?বোইন?বোইইইনন!অলির রাগ হলো।তাই জেদ দেখিয়ে বলেই ফেলল,

_“বইন বলার কী আছে,ঢং!”

_“তুই তো বোইন-ই হোস আমার।বোইন ডাকব না তো বউ ডাকব?”ভ্রু নাচিয়ে বলল আরিজ।

অলি সঙ্গে সঙ্গে মাথা নাড়িয়ে বলল,

_“হ্যাঁ…না।”

_“কী?”

_“ না মানে বউ ডাকতে হবে না।নাম আছে আমার সেটাই বলুন আপাতত।” অলি বলল।

আরিজ দীর্ঘ শ্বাস টেনে বলল,

_“ওকে মাহজাবিন অলি মগটা নিয়ে রুম থেকে বের হ।”

_“আপনি কী আমাকে বের করে দিচ্ছেন।”

আরিজ নিজের কপাল চাপড়াল।এই মেয়ে সব সময় এক লাইন বেশি বোঝে।যেটা বুঝবে না সেটা নিয়ে চিল্লাবে।আরিজ কিছু না বলে নিজের বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়ল।

_“যাবিনা যখন পাশে এসে ঘুমিয়ে পড়।”

অলির দেহে তড়িৎ খেলে গেল।দাঁড়াল না এক মুহুর্ত। কফির মগ রেখেই হনহনিয়ে বের হলো রুম থেকে।ইচ্ছে করে অলিকে এমন লজ্জায় ফেলছে এই লোক।

অলি চলে যেতেই আরিজ শব্দ করে হেঁসে উঠলো।মিথ্যে কথার বেলায় মেয়েটা একদম সেরা।

___

মাঝ রাতে হঠাৎ করেই ঘুম ভেঙে গেছে অনুভার।পাশ থেকে ফোন হাতে নিয়ে দেখল রাত দুটো বাজে।আরও দেখল শান্তর থেকে আসা অসংখ্য মেসেজ।শান্তর অনেক নাম্বার সে ব্লক করেছে।লাভ হয়নি সেই নতুন নাম্বার থেকে একই ভাবে মেসেজ কল দিয়েই গিয়েছে।বিরক্ত হয়ে রেখে দিলো ফোন।তায়ান ভাই আর্জেন্টিনায় গিয়েছে নয় দিন আজ।তিন-চার দিনের মধ্যেই আসার কথা ছিলো অথচ আজ নয়দিন শেষ হলো!কি এমন কাজ পড়ে গেল তার?

রিকোও সারাক্ষণ রুমের দরজা লাগিয়ে নিজের রুমে পড়ে থাকে।সন্ধার পর তো দরজাই খোলে না।একা রুমে থেকে বিরক্ত হয় না সে?অনুভা ভেবে পায়না।

অনুভা শোয়া থেকে উঠে বসল।বিছানার নিচ থেকে একটা ছবির ফ্রেম বের করল।শান্তর বলা সেই কথা মনে পড়ল।অনুভা কী কাওকে ভালোবাসে?হয়তো হাতে থাকা এই ছবিটাকে ভালোবাসে।নাহলে এভাবে এত যত্নে কেন রেখেছে!তার তো কিছুদিন পড়-ই বিয়ে হয়ে যাবে।তখন কী এভাবে এই ছবিকে যত্নে রাখতে পারবে?রাফিদের কথা মনে হলেই কান্না পায় তার।আল্লাহ কী তার জীবনে একটা মিরাকল ঘটিয়ে রাফিদকে কোনো ভাবে সরিয়ে দিতে পারে না।কীভাবে থাকবে ওই জা নো য়ার টার সঙ্গে।

তায়ান যাওয়া দু'দিন পরই রাফিদ সুস্থ হয়ে এই বাড়িতে আসে।কাওকে কিছু না বলে সরাসরি অনুভার রুমে এসে বলে,

_“সেদিন কাদের দিয়ে আমাকে মা'র খাইয়েছিলে বেবি গার্ল?”

বিজ্ঞাপন

_“আমি তাদের চিনি না।” অনুভা বলে।

_“ওহ তাই?তাহলে আমাকে মে'রে তোমাকে সুস্থ অবস্থায় রেখে গেল কেন?কী এমন দাও তাদের?আমাকেও একটু দাও দেখি।”

রাফিদ যে খারাপ কিছু ইঙ্গিত দিচ্ছিল তা খুব ভালো ভাবেই বুঝেছিল অনুভা।তবু দাঁতে দাঁত চে'পে নিজেকে শান্ত রেখেছিল তখন।

_“আপনি রাস্তায় আমার সঙ্গে অসভ্যতা করতে চাচ্ছিলেন তাই হয়তো তারা আপনাকে মে'রেছে।”

রাফিদ সঙ্গে সঙ্গে অনুভার চো”য়াল চে”পে ধরে।রুক্ষ কন্ঠে বলে,

_“কোনটাকে অসভ্যতা বলিস তুই?তুই কিছুদিন পর আমার বউ হবি ভুলে যাস না।”

অনুভা সেই অবস্থায়ই অস্পষ্ট গোঙানো স্বরে বলে,

_“আমার কপাল খারাপ , তাই আপনার মতো একজন চরিত্রহীনের সঙ্গে আমার বিয়ে হবে।কিন্তু এটাও জেনে রাখুন,ভাগ্যের নিষ্ঠুরতায় হয়ত আমার শরীর আপনার অধিকারভুক্ত হবে।কিন্তু আমার মন, আমার আত্মা কখনো এ সম্পর্কের স্বীকৃতি দেবে না।”

রাফিদ যেন খুব মজা পেল এই কথায়।অনুভার চোয়াল ছেড়ে দিয়ে শব্দ করে হাসল।হাসতে হাসতে বলল,

_“হাসালে,ডিয়ার!মন দিয়ে আমি কী করব?আমার কাছে শরীরটাই যথেষ্ট।তোমার মন আমার কোনো কাজে আসবে না।” অনুভার পা থেকে মাথা পর্যন্ত পরখ করল।

ঘৃণায় গাঁ গুলিয়ে উঠলো অনুভার।কোন পাপের জন্য এই পশুটার সঙ্গে আল্লাহ তার ভাগ্য লিখে রেখেছে।

_“বেড়িয়ে যান রুম থেকে।”

_“তোমার তেজের জন্যই তোমাকে এত ভালো লাগে ডিয়ার।সুন্দরী মেয়েদের এটা ছাড়া বড্ড বেমানান লাগে।”

তখন রাফিদ চলে যায় আর যাওয়ার আগে অনুভাকে সাবধান করে যায়।

_“ওরা কে ছিলো সেটা আমি অবশ্যই বের করব।আর এখানে তোমার হাত থাকলে তোমার কী হাল করব তুমি ভাবতেও পারবে না।”

অনুভা রাফিদের কথায় তেমন পাত্তা দেয়নি।এতে তার কোনো হাত নেই।সেদিন কীভাবে তায়ান ভাই আর রিকো সেখানে পৌঁছে ছিলো তা অনুভারও অজানা।

সেদিনের কথা ভাবতে ভাবতেই ফ্রেমবন্দী ছবিটাকে আঁকড়ে ধরে ঘুমিয়ে পড়ল।

__

লিভিং রুমে অনুভা নিজের ডান গালে হাত রেখে নিঃশ্বব্দে চোখের জল ফেলছে।সামনে নাফিসা বেগম রক্তাভ চোখে তাকিয়ে আছে।যে একটু আগেই নিজের সর্বশক্তি দিয়ে অনুভার গালে চ'’ড় মা”রে।কালকে নাফিসা বেগম আর আরশাদ সাহেব বাসায় ছিলো না আর এই সুযোগে তাদের না জানিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলো সে।বাড়ির ছেলেরা কেউ বাসায় নেই।শুধু দোতলায় ফেডেরিকো দাঁড়িয়ে আছে।নিচ থেকে ভেসে আসা নাফিসা বেগমের চেচামেচি শুনে ঘুম ভাঙ্গে রিকোর।দোতলায় এসে দাঁড়াতেই দেখে অনুভাকে বিশাল এক থাপ্পড় মে'রে বসে এই মহিলা। রিকোর কাছে এই মহিলাকে একটা উ*ইচ মনে হয়।

_“তোমাকে বলিনি যতদিন পর্যন্ত বিয়ে হচ্ছে বাড়ির বাহিরে পা রাখবে না?” নাফিসা বেগম শাসিয়ে বললেন অনুভাকে।

_“বলেছিলেন।” অনুভা বলল।

_“কালকে কেন গিয়েছিলে?”

_“আমার প্রয়োজন ছিলো।”

_“বে য়া দব মেয়ে।লজ্জা করে না তোমার?অন্যায় করে তর্ক দিচ্ছ আবার!”

আমীরা বেগম এগিয়ে আসতে চাইলে উর্মিলা বেগম আটকান।

_“এখন যাবেন না।জানেনই উনি কেমন,গিয়ে বলবেন একটু আর স্বামীকে নালিশ করবে বাড়িয়ে।”

_“আমাকে আটকিও না উর্মি আমার মেয়ের গাঁয়ে হাত তুলেছে ও।”

উর্মিলা বেগম তবু ছাড়লেন না আমীরা বেগমকে।সে গেলে বাড়িয়ে বড়সড় একটা অশান্তি হবে।এর চেয়ে ভালো যা হচ্ছে হোক একটু পর এমনেই থেমে যাবে।উর্মিলা বেগম মনে মনে অনুভাকে বলল যেন নাফিসা বেগমের সাথে তর্ক না করে।

অনুভা গাল থেকে হাত নামিয়ে বলল,

_“অন্যায় করেছি শাস্তি দিয়েছেন।আপনার কথা শেষ হলে বলুন আমি রুমে যাব।”

নাফিসা বেগম তাজ্জব বনে যায়।যতদিন যাচ্ছে এই মেয়ের স্পর্ধা বেড়েই চলেছে।সব হয়েছে আরমান আর আমীরা বেগমের জন্য। এই দু'টো মানুষের জন্য মাথায় চড়ে বসেছে।নাফিসা বেগম ফুঁসে উঠে অনুভার চুল মুঠো করে ধরল।

_“রাফিদের সঙ্গে তেজ দেখিয়ে পার পাও বলে আমার সঙ্গে দেখিয়ে পার পাবে ভেবো না।তোমার তেজ কীভাবে বন্ধ করতে হয় সেটা আমার ভালো ভাবেই জানা আছে।” বলেই অনুভাকে ধা*ক্কা মে'রে ফেলে দিলো নাফিসা বেগম।আমীরা বেগম উর্মিলা বেগমের হাত এক ঝটকায় সরিয়ে দৌড়ে এলো অনুভার কাছে।তবে সে ধরার আগেই কেউ এসে অনুভাকে ঝাপটে ধরল।অনুভা এবং আমীরা বেগম আগুন্তককে দেখতেই চোখে মুখে বিস্ময় খেলে গেল।অনুভা তার তায়ানের বাহুর মধ্যে থেকেই অস্পষ্ট স্বরে বলল,

_“তায়ান ভাই!”

তায়ানের মুখে কালো মাস্ক,কালো ক্যাপ তবু চিনতে ভুল হলো না কারও।সে এক পলক অনুভার দিকে তাকিয়ে নাফিসা বেগমের দিকে অগ্নি দৃষ্টি নিক্ষেপ করল।নাফিসা বেগম ধার ধরাল না এসবের।সে পূনরায় অনুভার কাছে এসে কবজি ধরে টেনে বলল,

_“রুমে চলো আমার সঙ্গে।”

তায়ান এবার অনুভার সেই হাত থেকে নাফিসা বেগমের হাত সরিয়ে দেয়।নিজের মাস্ক খুলে ফেলে।শীতল গলায় বলে,

_“ও কোথাও যাবে না।”

_“দেখো তায়ান! আমাদের মাঝখানে আসবে না।” নাফিসা বেগম বললেন।

_“আপনাদের মাঝখানে? আপনি কে হন ওর?” তায়ান জিজ্ঞেস করল।

নাফিসা বেগম এই প্রশ্নের কোনো উত্তর দিলো না।সে আবারও অনুভার বাহু টেনে ধরে বলল,

_“রুমে আসতে বলেছি তোমাকে।” তায়ানও অনুভার আরেক বাহু টেনে নিজের সঙ্গে মিশিয়ে নিয়ে বলল,

_“আমিও বলেছি ও কোথাও যাবে না।”

_“তায়ান!” ধমকে উঠল নাফিসা বেগম। একবার,দুইবার, আরেকবার একই ভাবে অনুভাকে নিয়ে দুজনে টানাহেঁচড়া করল।অনুভা এবার বিরক্ত হয়ে তায়ানের হাত থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে দৌঁড়ে চলে গেল।নিজের রুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেয় সে।তায়ানও পিছু নিলো।পেছন থেকে আমীরা বেগম ডাকলেন তাকে।সে কোনো কিছু না শুনে অনুভার রুমের সামনে গিয়ে অনুভাকে ডাকল,

_“দরজা খোল অনুভা।”

…

ওপাশ থেকে কোনো শব্দ না পেয়ে আবারও ডাকল তায়ান।

_“মা*র খাস না আমার হাতের দরজা খুলতে বলেছি।”

বেশ কিছুক্ষণ পর দরজা খুলল মেয়েটা।সঙ্গে সঙ্গে তায়ান রুমে ঢুকে দরজা লাগিয়ে দেয়।ফেডেরিকো বারান্দায় দাঁড়িয়ে দেখল সবটা।এতদিন পর এসে তাকে জিজ্ঞেসও করল না কেমন আছে সে।তাকে দেখেও কেমন না দেখার ভান করে চলে গেল।তার বন্ধু এত সার্থপর কবে হলো?

_“অনুভা এদিকে ঘুর , তাকা আমার দিকে।” তায়ান বলল।

_“চলে যান আপনি তায়ান ভাই।আমাকে কিছুক্ষণ একা থাকতে দিন।”

তায়ান এবার নিজেই অনুভাকে নিজের দিকে ফেরাল।ফর্সা নরম গালটায় পাঁচ আঙুলের দাগ বসে গেছে।রক্ত জমাট হয়ে আছে জায়গাটায়।

তায়ানের মাথায় রক্ত চড়ে গেল।চোখ দুটো লাল আগুনের মত জ্বলে উঠে।কেন যেন বুকে অস্বস্তিকর জ্বালা হয়।বুড়ো আঙুল দিয়ে স্পর্শ করে অনুভার গালে।অনুভার চোখ বন্ধ করে ফেলে।ঠোঁট ভেঙে কান্না আসে তার।

_“সকালে খেয়েছিস?”

_“খেতেই বসে ছিলাম আর তখন…”

অনুভা কথা শেষ করতে পারল না।তায়ান ঝটপট বলল,

_“নিচে আয় আমার সঙ্গে খাবি।” এক মুহুর্ত দেরি না করে বের হয়ে আসে রুম থেকে।গিয়ে ঢোকে নাফিসা বেগমের রুমে।দরজা লাগিয়ে দেয়।নাফিসা বেগম চমকে উঠে একটু।

বিজ্ঞাপন
রক্ত রেখার আড়ালে গল্পটি আয়েশা শেখ রিন-এর লেখা একটি জনপ্রিয় রহস্যে মোড়ানো থ্রিলার উপন্যাস