রক্ত রেখার আড়ালে

পর্ব - ১১

🟢

বাসর ঘরে একা একা বসে আছে অনুভা।আধা ঘন্টা আগেই তায়ান তাকে কমিউনিটি সেন্টার থেকে,কাউকে কিছু না বলেই এখানে নিজের বাড়িতে নিয়ে এসেছে।এসে আরমান আহসানিকে কল করে জানায় তারা চলে এসেছে।তায়ানের এমন কান্ডে অনুভা হতভম্ব।এমন কেন করল সেটা যে জিজ্ঞেস করবে তারও উপায় নেই। এসেই কোথাও একটা বেড়িয়ে গেছে।আর বিশ মিনিট পর এক ঘন্টা হবে।

এখানে আসা মাত্রই সবচেয়ে বেশি যেটা দেখে অবাক হয়েছে সেটা হলো তায়ানের এই বাড়ি দেখে।তায়ান ভাই তো বলেছিল সে দেশে এসে এই বাড়ি কিনেছে। কিন্তু এমন পুরোনো বাড়ি কেন কিনল?অনুভা যখন এ বাড়ির ফটকের সামনে এলো, বিশাল বাড়ির দিকে তাকাতেই তার ভ্রু কুঁচকে গিয়েছিল। অবাক হয়ে তায়ানকে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করলে বলে,

_“আমি তো আগেই বলেছিলাম আমার বাড়ি তোদের পছন্দ নাও হতে পারে।থাকতে পারবি না আমার এই পুরোনো বাড়িতে?”

_“আপনার সঙ্গে আমি যেকোনো জায়গায়ই থাকতে পারবো তায়ান ভাই।কিন্তু আপনি এমন একটা বাড়ি কিনেছেন দেখে অবাক হয়েছি।”

_“বিদেশে বিশালবহুল বাড়িতে থেকে আমি বিরক্ত,তাই এটা কিনেছি।এখন ভেতরে চল।” তায়ান অনুভার হাত ধরে সদর দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করল।ভেতরে গিয়ে আরেকবার অবাক হলো অনুভা।বাড়ির পুরো হল রুম জুড়ে মোমবাতি জ্বালানো।মোমের নরম আলোতে পুরোনো বাড়ির দেয়ালের ফাটল,রঙ খসে পড়া ও শ্যাওলা ধরা কোন গুলো বাড়িখানার গম্ভীর্য জাগিয়ে তুলছিল।অনুভা চোখ ঘুরিয়ে পুরো বাড়ি দেখছিল।তার অনুভূতি কেমন সে নিজেও বুঝতে পারছে না।তায়ান অনুভার দিকে এক পলক তাকিয়ে বলে,

_“ভয় পাচ্ছিস?”

_“না শুধু অবাক হচ্ছি।কে সাজাল এগুলো?”

_“সেটা জানা জরুরি নয়।আগেই এতো অবাক হোস না। কিছুটা পরের জন্য রেখে দে।” তায়ান ম্লান হেসে বলল।

_“আর কী বাকি আছে?” অনুভা তায়ানের দিকে তাকিয়ে বলল।

তখনই তায়ান অনুভাকে এই রুমে নিয়ে আসে।যেখানে বাসর ঘর সাজানো।কিন্তু এটা দেখেও অনুভা বিস্মিত হয়।সাদা,কালো গোলাপ ফুল দিয়ে খুব যত্ন করে সাজানো ঘরটা অনুভার ভালো লাগল না।সে অসহায় চোখে তায়ানের দিকে তাকিয়ে বলেছিল,

_“আমার কালো গোলাপ পছন্দ না তায়ান ভাই।এটা না দিলে হতো না?”

_“তোর সাদা গোলাপ পছন্দ,আর আমার কালো গোলাপ।দু'জনের পছন্দ দিয়ে আমাদের রাত শুরু হোক?” তায়ান অনুভার গালে হাত রেখে বলেছিল।অনুভার মুখ থেকে অসহায়ত্ব মিলিয়ে যায়।লজ্জায় আড়ষ্ট হয়ে দৃষ্টি নামিয়ে নেয়।

তখনই তায়ানের ফোনে কল এলো।শীঘ্রই ফিরে আসবে বলে বের হয়ে যায়।তায়ান চলে যাওয়ার পর অনুভা রুমের লাইট জ্বালিয়ে বসে থাকে বিছানার এক পাশে।এমন বিশাল এক বাড়িতে অন্ধকার রুমে বসে থাকা সম্ভব না।মনে শতশত প্রশ্ন নিয়ে বসে আছে সে।এর মধ্যে যখনই সে উপলব্ধি করে আজ থেকে তায়ান তার স্বামী। তার একান্ত ভালোবাসা।তখনই তল পেট দিয়ে প্রজাপতির মতো কিছু উড়ে যেতে থাকে।অনেক সময় মনে হয় সে স্বপ্ন দেখছে।আর সব কিছু মিথ্যা প্রমান হয়ে তার ঘুম ভেঙে যাবে।আচ্ছা তায়ান যখন আবার বিদেশে চলে যাবে তখন কী হবে?যদি সেখানে গিয়ে অনুভাকে আবারও ভুলে যায়।আগের মতো আর ফিরে না আসে!নাহ..তায়ান ভাইও তো তাকে ভালোবাসে। ভালোবাসে বলেই তো বিয়ে করল।সে এমন করবে না।

দরজা খোলার শব্দে বিভ্রম থেকে বের হয় অনুভা।দরজায় তায়ানকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেই বুকের ভেতর ধক করে ওঠে।আজকে আবারও তায়ানের মুখে সব সময়ের মতো ললিপপ দেখল।যেটা মুখের এক কোনে গুজে রেখেছে।পড়নে শুধু কালো শার্টটা আর প্যান্ট।তায়ানের দৃষ্টি অন্য রকম।দরজার কাছে দাঁড়িয়ে অনুভার দিকে তাকিয়ে আছে।তায়ানের অদ্ভুত চাহনির মানে বুঝতে না পেরে অনুভা বিছানা থেকে নেমে বলল,

_“এসেছেন আপনি?কোথায় গিয়েছিলেন?”

_“কাজ ছিল।” তায়ান ছোট করে বলল।

অনুভা তায়ানের দিকে এগিয়ে যাওয়ার আগেই তায়ান রুমের ভেতর পুরোপুরি ঢুকে দরজা লাগিয়ে দেয়।দরজা লাগিয়ে পেছনে ঘুরে অনুভার দিকে এগিয়ে আসে ধীর পায়ে।অনুভার এতক্ষণের মনে জাগা সব প্রশ্ন ভুলে যায়।সে তায়ানকে এগিয়ে আসতে দেখে পেছায়।তায়ান নিবিড় দৃষ্টি ফেলে অনুভার কাছে চলে আসে।অনুভা পেছাতে পেছাতে বিছানার সঙ্গে ধা’ক্কা খেয়ে বসে পড়ে সেখানে।তায়ান বসে পড়া অনুভার দিকে ঝুঁকে দু'পাশে হাত রেখে সরাসরি বলল,

_“শাড়ি খোল দেখব তোকে।” তায়ানের উষ্ণ কন্ঠে ফিসফিসিয়ে বলা কথা শুনতেই অনুভার শরীরে মৃদু শিহরণ বয়ে যায়।

তবু সে স্বাভাবিক ভাবে ধীর গলায় বলল,

_“কেনো এভাবে দেখতে পারছেন না?রুমের লাইট তো জ্বালানই আছে।” স্বাভাবিক ভাবে বলতে চেয়েও অজান্তেই কন্ঠে কম্পন হলো তার।

তায়ান অনুভার আরও কাছে ঝুঁকে এসে, অনুভার চোখে চোখ রেখে,আরও গভীর ভাবে ফিসফিসিয়ে বলল,

_“লাইট বন্ধ করে অন্য ভাবে দেখব।খোল এখন।”

অনুভা তায়ানের চোখ থেকে চোখ সরিয়ে দৃষ্টি নামিয়ে নিলো।তায়ানের ইঙ্গিতপূর্ন কথা বুঝতেই শ্বাস ভারী হয়ে আসে তার।তায়ানের মুখে থাকা ললিপপ গালের এক পাশ থেকে জিহ্বার সাহায্যে অন্য পাশে নেয়।তায়ান গভীর চোখে অনুভাকে পরখ করে।বউ সাজে সদ্য ফোটা লাল পদ্মর মত লাগছে অনুভাকে।বাংলাদেশি মেয়েও এত মোহময় হতে পারে অনুভাকে না দেখলে বুঝতোই না সে।অবশ্য ছোট থেকেই অনুভার রুপ ছিল চোখে পড়ার মতো,তবে এতবছরে তা কয়েক গুন বেড়ে গেছে।যা আজকের বধু সাজে এক অনন্য দীপ্তিতে মুড়ে দিয়েছে।

তায়ান অনুভার থেকে সরে এসে লাইট বন্ধ করে দেয়।শুধু তিনটি মোমবাতি রেখে বাকি সব গুলো নিভিয়ে দেয়।আবারও অনুভার কাছে এসে আগের ন্যায় তার দিকে ঝুঁকে বলল,

_“কী বললাম শুনিসনি?”

অনুভার দৃষ্টি এখনো নামানো।সে তাকাতে পারছে না লজ্জায়।তায়ান অনুভার থুঁতনিতে তর্জনি ছুঁয়ে মুখ তুলে আনে।অনুভার চোখের পাপড়ি কেঁপে ওঠে,তবু তাকায় না তায়ানের দিকে।তায়ান অনুভার লজ্জা রাঙা,ভয়ার্ত মুখ দেখে অস্ফুট হাসে।এবার আর অনুভার উত্তরের অপেক্ষা না করে নিজেই অনুভার শাড়ি খোলার জন্য হাত লাগায়।তৎক্ষনাৎ অনুভা চমকে উঠে তায়ানকে থামিয়ে দিয়ে বলে,

_“তায়ান ভাই আজ থাক এসব।আসুন না আজ সারারাত আপনি,আমি মিলে গল্প করি।”

তায়ান ভ্রু কুঁচকায়।অবাক হওয়ার ভান করে বলে,

_“আমি তো শুধু শাড়ি খুলতে চেয়েছি।শাড়ি পড়েই ঘুমোবি?তুই কী ভেবেছিস অনুভা?ছিঃ!”

অনুভা থতমত খেল।অপমানে কান দিয়ে ধোঁয়া বের হচ্ছে তার।হতভাগ চোখে তায়ানের দিকে তাকায়।তায়ান জানে অনুভা এখন তাকে মনে মনে গা*লি দিচ্ছে।তা ভেবেই সে ঠোঁট টিপে হাসি সংবরণ করে।

অনুভা তায়ানকে ঠেলে সরিয়ে দিয়ে,বিছানা থেকে দাঁড়িয়ে একটু রাগান্বিত কন্ঠে বলল,

_“তাহলে আপনি শাড়িতে হাত দিচ্ছিলেন কেন?শাড়ি কী আমি খুলতে পারব না?চেঞ্জ করে আসছি থাকুন।”

তার ফর্সা মুখস্রি লাল হয়ে উঠেছে।সে দ্রুত পায়ে ওয়াশ রুমের দিকে যাওয়ার জন্য উদ্যত হয়।ঠিক সেই ক্ষনেই তায়ান অনুভাকে এক ঝটকায় নিকের শক্তপোক্ত বুকে এনে ফেলে।দিশেহারা অনুভা তার দিকে তাকাতেই,তায়ান অনুভার নাকে নাক ঘষে বলে,

_“সরি বউ! মজা করেছি।রেগে যাচ্ছিস কেন?”

অনুভা তায়ানের শার্ট খা*মচে ধরে।তায়ানের মুখে এই প্রথম বউ ডাক সম্মোধনে তার মনে অচেনা উচ্ছ্বাসে কেঁপে ওঠে।অনুভা সেই উচ্ছ্বাস উপভোগ করার আগেই তায়ান তাকে আরেক দফায় লজ্জয় ফেলে দিয়ে বলল,

_“তুই যা ভেবেছিস তাই করব।” বলে আবারও অনুভার শাড়িতে হাত লাগায়।অনুভা পরিস্থিতি বদলানোর জন্য তায়ানের মুখে থাকা ললিপপ ধরে বলে,

_“আপনি সব সময় এটা কেন খান?”

তায়ান এক পলক বাঁকা চোখে নিজের মুখের ললিপপ দেখল।তারপর কিছু একটা ভেবে অনুভাকে বলল,

_“তুই খাবি এটা?”

_“আপনি তো এটা কাউকেই খেতে দেন না।”

তায়ান অনুভার কোমর নিজের সঙ্গে জড়িয়ে ধরে বলল,

_“তুই চাইলে খেতে পারিস।তবে এটাই।” নিজের মুখেরটা ইঙ্গিত করে বলল।

অনুভা চোখ বড় করে বলল,

_“আপনার মুখেরটা আমি কেন খাবো?আরেকটা থাকলে দিন, নাহলে দরকার নেই।”

_“তুই কিন্তু ভুলে যাচ্ছিস তোর এই ঠোঁটে আমি কালকেও চুমু খেয়েছি।” এক ভ্রু উঁচিয়ে বলল তায়ান।

অনুভার কথা থেমে গেল।সত্যিই তো।এবার কী বলবে?অনুভা তায়ানের থেকে নিজেকে ছাড়াতে চাইল।ছটফট করছে সে।তায়ান তাকে আরও শক্ত ভাবে পেচিয়ে ধরে বলল,

_“নে এটা খা।”

তায়ান ললিপপটা অনুভার মুখের কাছে ধরল।এটা খেতে অনুভার কোনো বাঁধা নেই।কিন্তু লজ্জা পাচ্ছে।তায়ান যদি এবারও মজা করে ওর সঙ্গে?খেতে নিলে যদি ফিরিয়ে নেয়।তার ভাবনার মাঝেই তায়ান ললিপপ তার মুখে পুরে দেয়।সঙ্গে সঙ্গে অনুভার মুখ বিস্বাদে কুঁচকে যায়।বিরক্তি নিয়ে বলে,

_“এটা খেতে এমন বাজে কেন?কী আছে এতে,এমন মাথা কেন ঘোরাচ্ছে তায়ান ভাই?”

তায়ান ললিপপ অনুভার মুখ থেকে বের করে এনে আবার নিজের মুখে নিয়ে বলে,

_“Nothing much, just a little bit of drugs.”

বিস্ময়ে অনুভার ঠোঁট আপনা-আপনি মেলে যায়।পাশ ফিরে থুতু ফেলে বলে,

_“কিইহ! ড্রাগ মানে?”

_“ইয়েস বেইবি।বেশি না সামান্য।তুই প্রথম খেয়েছিস তাই একটু মাথা ধরেছে।”

অনুভা তায়ানের থেকে সরে এসে অবিশ্বাস্য স্বরে বলল,

_“আপনি এগুলা খান?”

_“আর্জেন্টিনাতে এগুলো স্বাভাবিক অনু! তুই এত অবাক হচ্ছিস কেন?” তায়ান বলল।

অনুভা তায়ানের কথা কানে না নিয়ে তীব্র অধিকারবোধ দেখিয়ে বলল,

_“স্বাভাবিক হলেও আপনি এগুলো খেতে পারবেন না!”

তায়ান তীর্যক হাসি হেঁসে অনুভাকে আবারও কাছে টেনে নিয়ে বলল,

_“তোর কথা কেন শুনব আমি?”

_“কারণ আমি আপনার বউ…” এতটুকু বলেই থেমে যায়।

_“থামলি কেন? বল।”

অনুভা এবার গলার স্বর নরম করে বলল,

বিজ্ঞাপন

_“খাবেন না আর এগুলো।”

তায়ান অনুভার শেষের কথা শুনলো কিনা কে জানে।সে অনুভাকে পাঁজা কোলে তুলে বিছানায় ছুঁ*ড়ে মা*রে।তারপর নিজেও অনুভার উপর ঝাপিয়ে পড়ে।অনুভা তায়ানকে আটকানোর আগেই তায়ান নিজের মুখ থেকে ললিপপ ফেলে দিয়ে,অনুভার ঠোঁ”ট নিজ দখলে নিয়ে নেয়।অনুভা তায়ানের পিঠ খা”মচে ধরে।তায়ান একের পর এক অনুভার নরম তুলতুলে ঠোঁ”টে বেসামাল ভঙ্গিতে চু”মু খেতে থাকে।অন্য দিকে তার হাতের অবাধ্য বিচরণে অনুভার শাড়ি এলোমেলো হতে থাকে।

দীর্ঘক্ষণ ধরে নিয়ন্ত্রণহীন,গভীর এবং বন্য চুমুর মধ্যে হারিয়ে ছিল তারা।অনুভার দম আটকে আসলে তায়ানকে ঠেলে সরাতে চায়।তায়ান এবার অনুভাকে একটু শ্বাস নেওয়ার ফুরসত দিয়ে আবারও চু*মু খায়।তারপর ধীরে ধীরে অনুভার থুঁতনির নিচে নেমে আসে।সেখানে ঠোঁট ছোঁয়াতেই কিছু একটা মনে পড়ায় মুখ তুলে অনুভার দিকে তাকায়।অনুভা চোখ খিঁচে বন্ধ করে রেখেছে।

তায়ান অনুভার কাঁধ থেকে ব্লাউজের এক পাশ সরিয়ে,১৪ বছর আগে তার দেওয়া সেই কা*মড়ের ক্ষত ইশারা করে বলল,

_“সেদিন এখানে রাগ করে কা*মড় দিয়েছিলাম।আজ ভালোবেসে দেব।”

বলেই অনুভার গলায় মুখ ডুবিয়ে দেয়।গলায়,কাঁধে,ঘাড়ে তারপর আরও গভীরে নিজের কর্তৃত্ব ফলায় সে।তায়ান নিজের শার্ট খুলে অনুভাতে ডুব দিতেই দেখে অনুভার চোখের কোণ ঘেষে তপ্ত নোনা জল গড়িয়ে পড়ছে।তায়ান বুড়ো আঙুল দিয়ে তা মুছে দিয়ে বলে,

_“কাদঁছিস কেন?তুই কী আমায় চাস না?”

অনুভা তায়ানের দিকে তাকিয়ে ঠোঁট ভেঙে কেঁদে ওঠে।তায়ানকে টেনে নিজের বুকের সঙ্গে জড়িয়ে নিয়ে ক্রন্দনরত কন্ঠে বলতে থাকে,

_“আমি আপনাকে অনেক ভালোবাসি,তায়ান ভাই!আমার কাছে সব কিছুই নিজের ভ্রম মনে হচ্ছে।আপনি কী সারাজীবন আমাকে এভাবে ভালোবাসবেন?আপনি ছেড়ে গেলে আমি তা সহ্য করতে পারব না।ম'রে…”

তায়ান অনুভার মুখ চে’পে ধরে বলল,

_“হুশশ!আমি তোকে ভালোবাসি।আর ছেড়েও যাবো না।কিন্তু তুই আমাকে ভাই ডাকছিস কেন?”

অনুভা ভ্যাবাচ্যাকা খেল।কান্না থামিয়ে বলল,

_“না চাইতেও চলে আসে এই ডাক।আমি কী করব।”

_“তায়ান বলে ডাক।” তায়ান অনুভার গলায় নাক ঘষে বলল।

_“না,আমি এটা পারব না।”

তায়ান অনুভার পেটে শক্ত করে চে'পে ধরে,গলায় তীব্র কা*মড় বসিয়ে দিয়ে বলল,

_“ডাকক।”

অনুভা ব্যথায় ককিয়ে ওঠে,পরাজিত সৈনিকের মতো করে অস্পষ্ট স্বরে বলল,

_“ত তায়ান!”

তায়ান সন্তুষ্ট হাসে।তারপর সে ধীরে ধীরে তাদের মধ্যেকার সব দুরত্ব গুটিয়ে নেয়।অনুভা নির্দিধায় নিজেকে তায়ানের কাছে সপে দেয়।বেসামাল তায়ান আজ সমস্ত সংযম ভেঙে অনুভাতে মত্ত হয়ে পড়ে।ভুলে যায় কেন সে এই দেশে এসেছিল।কী ছিল তার উদ্দেশ্য।অনুভাকে নিয়ে হারিয়ে যায় ভালোবাসার অন্য এক স্তরে।সে রাতে এক বিন্দু ছাড় পেল না তায়ানের থেকে অনুভা।রাতের গভীরতার সঙ্গে সঙ্গে দু’জনের ঘনিষ্ঠতা ঘন হয়ে ওঠে। নিস্তব্ধ অন্ধকারে বাড়তে থাকে অনুভার কাঁপা নিশ্বাস, ক্রন্দনরত সেই শ্বাসে মিশে আছে চাপা কষ্ট অথবা অজানা সুখ।

অনুভা তায়ানের থেকে ছাড়া পাওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠে। আকুতি ভেসে আসে তার কন্ঠে।তবু তায়ান নিজের কাজে বিন্দুমাত্র ছেদ না ঘটিয়ে ঘন শ্বাস ফেলতে ফেলতে ফিসফিসিয়ে বলল,

_“সে মাই নেইম,এগেইন।”

___

মৃদু বাতাসে জানালার পর্দা সরে যেতেই বাহিরের ঝলমলে রোদ অনুভার ঘুমন্ত মুখে এসে পড়ে।রোদের ঝলকানিতে কপাল কুঁচকে ওঠে তার।চোখ বন্ধ রেখেই বিছানায় হাতরে তায়ানের নাগাল পাওয়ার চেষ্টা করে।কিন্তু পাশে কারও সান্নিধ্য না পেতেই কপাল আরও কুঁচকে যায়।শেষ রাতে তারা যখন ঘুমিয়েছিল তখন তো সে তায়ানের বুকেই ছিল।তাহলে এখন কোথায় গেল তায়ান।আর ভাবতে না পেরে চট করে চোখ মেলে পাশে ফিরে তাকায়।নেই,কেউ নেই।নিস্তব্ধ পুরো রুমে অনুভা একা।সে কয়েকবার তায়ানকে ডাকল।সদ্য ঘুম থেকে ওঠায় এক মুহুর্তের জন্য মনে হলো কালকের সব ভ্রম ছিল।কিন্তু মেঝেতে পড়ে থাকা নিজের বিয়ের শাড়ি,জুয়েলারি এসব দেখে স্বস্তির শ্বাস ফেলে।তায়ান ভাই হয়তো কোনো কাজে গেছে।এই ভেবে গাঁয়ের চাদর শরীরের সঙ্গে ভালোভাবে পেচিয়ে ওয়াশরুমে চলে যায়।

ওয়াশরুমটায় তেমন আধুনিকতার ছোঁয়া নেই।শুধু একটা আয়না আর ঝর্ণা সেট করা।দেয়ালের কোনায় মাকড়োশার জাল।অনুভা আয়নায় নিজের প্রতিবিম্বের দিকে তাকায়। শরীরের প্রতিটি ভাঁজে এখনও লেগে আছে তায়ানের স্পর্শ। তার স্বামীর উষ্ণ, অমোঘ ছোঁয়া, যা এখনো শরীরের প্রতিটা কোণায় বাস করছে।

অনুভা দ্রুত শাওয়ার নিয়ে,নীল রঙের একটি সুতি শাড়ি পড়ে রুম থেকে বের হয়।কিন্তু করিডরে এসে অপ্রত্যাশিত দৃশ্য দেখতেই থেমে যায়।একটা অচেনা মেয়ে তায়ান আর রিকোর সঙ্গে চেঁচিয়ে কথা বলছে।রিকো মেয়েটাকে থামানোর মানানোর চেষ্টা করলেও,তায়ানের কোনো ভাবান্তর নেই।সে সোফায় বসে আছে।

তায়ানের পড়নে ফোর কোয়ার্টার প্যান্ট ও টি-শার্ট।চুল গুলোও ভেজা।অনুভা মনের মধ্যে কৌতুহল চে'পে না রেখে হনহনিয়ে সিরি ডিঙিয়ে নিচে নামতে নামতে বলল,

_“কে আপনি এভাবে চি*ৎকার করছেন কেন?”

মেয়েটা একটু সময় নিয়ে পেছনে ঘুরে তাকাল।রিকোর মুখের ভঙ্গি এমন হলো যেন অনুভা এখানে ভুল সময়ে চলে এসেছে।কিন্তু তায়ান আগের মতোই বসে রইল।শুধু এক পলক অনুভাকে দেখল।অচেনা মেয়েটার হাটু সমান ড্রেস দেখে ও পিঙ্কিশ গাঁয়ের রঙ দেখে অনুভার মনে হলো সে বাঙালি না।মেয়েটা তেড়ে এসে অনুভার চোয়াল চে'পে ধরে বলল,

_“এই মেয়েকেই বিয়ে করেছিস তুই ভিকি?এটাই সেই মেয়ে?”

তায়ানকে উদ্দেশ্য করে বললেও তায়ান কোনো উত্তর দিলো না এলেনাকে।রিকো মাথা নাড়িয়ে বোঝাল এটাই সে মেয়ে।এলেনা অনুভাকে ঝ*টকা মেরে মেঝেতে ফেলে দেয়।

তৎক্ষনাৎ রিকো এলেনা কে ধমকে উঠে,

_“You’re overdoing it, Elena.”

এলেনা খেঁকিয়ে ওঠে বলে,

_“কী কথা ছিল তোদের?আর কী করলি তোরা?প্রতিশোধ নিতে এসে বিয়ে করিয়ে দিলি ভিকিকে?”

অনুভা নিজেকে সামলে উঠে বসে।সে বিড়বিড় করে বলে,

_“কীসের প্রতিশোধ?কী বলছে এই মেয়ে?”

তায়ানের দিকে তাকায়।যে অনুভাকে এভাবে ধা’ক্কা মে'রে ফেলে দেওয়ার পরও কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে না।কেন কিছু বলছে না এই অচেনা মেয়েটাকে?কী হয়েছে তায়ান ভাইয়ের?অনুভা উঠে গিয়ে তায়ানের কাছে গিয়ে বলে,

_“কীসের প্রতিশোধের কথা বলছে এই মেয়ে?কী হলো বলুন।”

তায়ান অনুভুতিহীন চোখে অনুভাকে দেখে বলল,

_“বেড়িয়ে যা এখান থেকে।”

_“বেড়িয়ে যাবো মানে?কোথায় যাবো?” অনুভা বিস্মিত কন্ঠে বলল।

তায়ান কিছু বলার আগেই এলেনা তেতে ওঠে বলল,

_“শুনিসনি কী বলেছে?গেইট আউট।”

অনুভা মেয়েটার কথার তোয়াক্কা না করে তায়ানের টি-শার্টের কলার চে'পে ধরে বলল,

_“কী হয়েছে আপনার তায়ান ভাই?কেন এই মেয়ে আমার সঙ্গে এমন করছে?”

_“কেন এমন করছি বুঝতে পারছিস না?আমি ছিলাম না বলে ভিকি তোকে বিয়ে করেছে।এখন চলে এসেছি।ডিভর্সের জন্য প্রস্তুত হ বি*চ।” এলেনা দাঁত পিষে বলল।

_“ডিভোর্সের কথা আসছে কোথা থেকে?তায়ান ভাই নিজ ইচ্ছায় আমাকে বিয়ে করেছে।সে ভালোবাসে আমাকে।” কথাটা বলতেই অনুভার গালে তায়ানের শক্ত হাতের চ*ড় এসে পড়ল।আবারও মেঝেতে পড়ে যায় অনুভা।

তায়ান অনুভার থুঁতনি চে'পে ধরে হিংস্র প*শুর মত গর্জে উঠে বলল,

_“কী বললি?আমি তোকে ভালোভাসি?হোয়াট আ জোক!নিজের যোগ্যতার হিসেব একবারও করেছিস?” অনুভার চোয়ালে আরও তীব্র ভাবে চে'পে বলল,

_“কান খুলে শুনে রাখ, এই তায়ান কোনোদিন কাউকে ভালোবাসতে শেখেনি।না তোকে,না তোর পরিবারকে।”

অনুভা অবিশ্বাস্য চোখে তায়ানের দিকে তাকিয়ে ধীর গলায় বলল,

_“কী বোঝাতে চাচ্ছেন?”

_“যা হয়েছে সব ভুলে যা।” তায়ান উঠে দাঁড়াল।

অনুভাও তড়িঘড়ি করে উঠে দাঁড়িয়ে তায়ানের টি-শার্টের কলার চে'পে ধরে বলল,

_“কী ভুলে যেতে বলছেন আপনি?কালকের বলা সব কিছু মিথ্যা ছিল আপনার?সেগুলো ভুলে যেতে বলছেন?যদি ভালো নাই বাসেন,কালকে রাতের সেগুলো কী ছিলো বলুন।উত্তর দিন!” নিজের গলার নিচে থাকা তায়ানের ভালোবাসার স্পর্শ দেখিয়ে বলল,

_“এগুলো ভুলে যেতে বলছেন?”

তায়ান এক পলক দেখে চোখ ফিরিয়ে নেয়।না তার চোখে কোনো অনুশোচনা ফুটে উঠছে না।যা আছে তা অনুভার প্রতি বিরক্তি।

_“আমার কথার উত্তর দিন তায়ান ভাই।”

_“আমাকে এক রাতের জন্য পেয়েছিস এটাই কী তোর ভাগ্য না?” তায়ান তাচ্ছিল্যের স্বরে বলল।অনুভা সঙ্গে সঙ্গে তায়ানকে থাপ্পড় উদ্যত হয়।তায়ান ওর হাত মুচড়ে ধরে বলে,

_“নিজের সীমা অতিক্রম করিস না অনুভা।বেড়িয়ে যা এখান থেকে।”

এলেনা এগিয়ে এসে তায়ানকে বলল,

_“তুই এক্ষুনি ওকে তালাক দিবি।”

_“না না এটা করবেন না।আমি ম'রে যাবো তায়ান ভাই।আপনি বলেছিলেন সারাজীবন আমাকে ভালোবাসবেন,কখনো চলে যাবেন না।আমাকে আগলে রাখবেন।তাহলে আজ কেনো এমন করছেন?আমি কী করেছি?কীসের শাস্তি দিচ্ছেন?” অনুভা তায়ানের গলা জড়িয়ে ধরে বলে,

_“আমাকে তালাক দেবেন না,ছেড়ে যাবেন না আমাকে।আমি সহ্য করতে পারব না।”

তায়ান অনুভাকে ঠেলে সরিয়ে দিয়ে বলে,

_“একদম আমার কাছে আসবি না।সব নাটক ছিল।আর তুই ছিলি আমার সেই নাটকের মেইন হাতিয়ার।আর প্রতিশোধের কথা জানতে চাচ্ছিস না?এটা বরং তোর বড় আব্বুকেই গিয়ে জিজ্ঞেস কর।”

বিজ্ঞাপন
রক্ত রেখার আড়ালে গল্পটি আয়েশা শেখ রিন-এর লেখা একটি জনপ্রিয় রহস্যে মোড়ানো থ্রিলার উপন্যাস