রক্ত রেখার আড়ালে

পর্ব - ১৪

🟢

আহসানি বাড়ি থেকে সবাই বের হয়ে এলে তাদের অনুভার নানার বাড়ি ছাড়া আর কোথাও জায়গা হয় না।তায়ান তাদের সব কিছুই নিজের অধীনে নিয়ে ফেলেছে।অনুভার নানা-নানুর একটাই মেয়ে ছিল, যে অনুভার জন্মের সময়ই মা-রা যান।অনুভার নানা-নানু মা-রা যাওয়ার পর তাদের এই বিশাল বাড়ি এত বছর তালাবদ্ধ হয়ে থাকে।সব কিছুর মালিকানা অনুভার থাকলেও অনুভা কখনও এগুলোর ধারে কাছেও আসেনি।কখনও ভাবেওনি সব হারিয়ে এখানে আসতে হবে।আরমান সাহেবের ইচ্ছাতেই আসা হয়েছে।যখন তারা আহসানি বাড়ি থেকে বের হয়ে রাস্তায় আসে তখন আরমান সাহেব অনুভাকে খুবই ভারী কন্ঠে বলেছিলেন,

_“আমরা তো তোকে কিছুই দিতে পারিনি,মা!তবুও নির্লজ্জ্বের মত বলছি…তোর বাড়িতে আমাদের জায়গা দিবি?”

বড় আব্বুর মুখে এমন কথা শুনতেই অনুভার বুক ভেঙে আসছিল।কিন্তু কোনো এক চাপা অভিমানে তখন মুখে কিছু না বলে নিঃশব্দে লাগেজ থেকে বাড়ির চাবি বের করে আরমান সাহেবের দিকে এগিয়ে দেয়।

নানা বাড়ির ফটকের সামনে দাড়াতেই অনুভার ভেতরটা মোচড় দিয়ে ওঠে। তার মায়ের বাড়ি এটা,তার মা এখানে বড় হয়েছে!তার নানা নানুর ভিটে এটা!কেন তারা নেই?তারা থাকলে কী আজকে অনুভার কষ্ট সহ্য করতে পারত?তার মা কেমন করত তার জন্য? কাঁদত?নাকি তায়ান ভাইকে ঘৃণা করত?তার নানা কী আজ চুপ করে থাকতেন?রাগে ব*ন্দুক নিয়ে তায়ানের দিকে তাক করতেন না?নানু কী তার লাঠিটা নিয়ে ধেয়ে যেত না?

অনুভার ভাবনার মাঝেই আমীরা বেগম তার হাত ধরে অনুভাকে ভেতরে নিয়ে যায়।অনুভার চোখের দিকে তাকানোর সাহসটুকুও তার নেই।কথা বলে বোঝাতে পারছে না।কীভাবে বোঝাবে?কী বোঝাবে?তার ছেলের জন্যই তো আজ এতো কিছু!সে কী বলে সান্ত্বনা দেবে মেয়েটাকে?

কার কথায়, কী ভেবে তার ছেলে এমন নোংরা খেলা খেলল, কিছুই জানে না সে। বিদেশে গিয়ে ছেলেটা এতটা বদলে যাবে, এমন ধারণা তার কখনোই ছিল না। বদলে যাওয়া বললেও ভুল হবে,সে অমানুষ হয়ে ফিরেছে।

তবু আমীরা বেগম জানেন, এর পেছনে নিশ্চয়ই কোনো কারণ আছে।এমন কেউ অবশ্যই আছে, যে তাদের অতীত জানে,আর সেই অতীতের বিকৃত গল্পই তায়ানের মাথায় ঢুকিয়ে দিয়েছে।

__

অনুভার নানা বাড়িতে গিয়ে সব কিছু গোছাতে, পরিষ্কার করতে সারাদিন লেগে যায়।বিশাল আকৃতির, পুরোনো এই বাড়িতে অনেক বছর পর সেদিন আবারও সন্ধা বাতি জ্বলেছিল। বাড়ির করিডোরের মাঝখানের দেয়ালে অনুভা ও তার নানা নানুর এক সঙ্গে একটা ছবি বাঁধানো আছে।ছবিটা মাঝারি সাইজ থেকে একটু বড়।মাঝখানে ছোট্ট অনুভা দু'পাশে তার নানা-নানু।অনুভার বয়স তখন নয় বছর হবে বোধহয়।অনুভার চুল গুলো দু পাশে দু’টো ঝুটি করে বাঁধা। দু-হাতে তার নানা-নানুর কাঁধ ধরে রেখেছে।ঠোঁটে মিষ্টি হাসি।

সামনের দাঁতের মাঝখানে নতুন দাঁত গজানোর জন্য ছোট ফাঁক।

যা,হাসিটাকে আরও কিউট করে তুলেছিল।

সেই ছবির সামনে দাঁড়িয়েই আরমান সাহেবের গলা ধরে আসে।মেয়েটার জন্য তার কেন এত মায়া হয়?আর এই মেয়েটার সঙ্গেই কেন তায়ান এমন করল!তার যদি আরমান সাহেবের উপর এতোই আক্রোশ ছিল মে'রে ফেলত তাকে।তার উপরের প্রতিশোধ কেন মেয়েটাকে সহ্য করতে হচ্ছে? সে যদি জানত অনুভাকে বেশি ভালোবাসার কারণে মেয়েটার উপর এত ঝড় বয়ে যাবে তাহলে এই জীবনে সে এই ভালোবাসা স্নেহ প্রকাশ করত না।আরশাদ সাহেবের মতোই সকলের সামনে দূর্ব্যবহার করত।এতে অনুভা কষ্ট পেলেও ভালো থাকত।

তার সব থেকে আদরের ছেলেই তার সব থেকে আদরের মেয়েকে কষ্ট দিয়েছে।এটা সে কীভাবে মেনে নেবে? সে কী আর কখনও মেয়েটার মুখে এই হাসি ফিরিয়ে দিতে পারবে?

হঠাৎ আরিজ এসে আরমান সাহেবের পেছনে দাঁড়ায়।

_“কী দেখছ বাবা?মেয়েটার হাসি তো তুমিই কেঁড়ে নিয়েছ।”

আরিজের কথায় আরমান সাহেব চোখ বন্ধ করেন।সে জানে তার এই ছেলে তাকে ভুল বুঝবে।তার থেকে তারা অনেক সত্য লুকিয়েছে।এসবের মুখোমুখি হওয়ার সময় এসে গেছে।

_“কেন এতদিন মিথ্যা নাটক করে এসেছেন,বাবা?”

আরমান সাহেব কোনো উত্তর দিলেন না।চোখ খুলে আবারও অনুভার ছবির দিকে তাকায়।

_“তায়ান ভাইয়ের বাবাকে আসলেই খুন করেছেন আপনি,বাবা?” আরিজ বলল।

_“আগেও বলেছি করিনি।”

_“তাহলে কেন প্রমান করছেন না?কেন ভাইয়াকে বোঝাচ্ছেন না?”

_“তোমার কী মনে হয় সে বুঝবে?সে কী হুট করেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে?না,তার পরিকল্পনা অনেক দীর্ঘ।যা সে আজ বাস্তবায়ন করেছে।”

_“তাহলে কেন সত্য লুকিয়েছেন?আপনি মায়ের দ্বিতীয় স্বামী কেন এটা জানতে দেন নি?”

_“কারণ আমি নিষেধ করেছিলাম।” আমীরা বেগম এসে বললেন।

আরিজ প্রশ্ন চোখে মায়ের দিকে তাকায়।আমীরা বেগম আবারও বললেন,

_“যদি জানতে তায়ান তোমার বাবার ছেলে নয় তাহলে তাকে এতটুকু ভালোবাসতে? এত সম্মান তার প্রতি থাকত?হ্যাঁ,হয়তো ভালোবাসতে কিন্তু কোনো না কোনো এক সময় এটা মনে হতই তায়ান তোমাদের বাড়ির ছেলে নয়।সেটা ভেবেই আমি আর তোমার বাবা চাইনি, তোমরা এসব জেনে বড় হও।” সে আরও বললেন,

_“তোমার দু’ই চাচ্চু জানত বলে সব সময় ঝামেলা করত তায়ানকে নিয়ে।তোমাকে নিয়েও আমার সেই ভয় কাজ করত।আমি কীভাবে আমার ছেলেকে অবহেলায় বড় হতে দিতাম?”

আরিজ কিছু বলতে পারে না।দীর্ঘ শ্বাস ফেলে চলে যায়।তাকেও এখন চাকরি খুঁজতে হবে।

সন্ধা বেলা অনুভা নিজের রুমে শুয়ে ছিল।সারাদিনের দরজা খোলেনি।অনেক্ষন শুয়ে থাকায় চোখও লেগে এসেছিল।চোখের পাপড়ি গুলো ভারী হয়ে ভিজে আছে।শরীরও দূর্বল।

ঘুমের মধ্যেই দুর থেকে ভেসে আসা মাগরিবের আজানের মৃদু সুর শুনতে পাচ্ছিল।শব্দগুলো ধীরে ধীরে তার মনে প্রবেশ করছিল।সেই শব্দ গুলো ঘুমের মাঝেই তার মন কে বিষন্ন করে তোলে।চোখ মেলতেই চারপাশের আজানের শব্দ গুলো স্পষ্ট হয়।সেই সময় তার ভেতরে থাকা কষ্ট গুলো যেন আরও জোরালো হয়ে ওঠে।অন্তরে এক অদৃশ্য শূন্যতা, এক বিষণ্ণতা ছড়িয়ে যাচ্ছে, যা কোনদিন পূর্ণ হবে না মনে হচ্ছে।সব কিছু খালি খালি লাগে,মনে হয় তার পৃথিবীতে কেউ নেই।নেই ই তো! যার মা নেই তার কিছুই নেই।তার মা থাকলে আজ তার কষ্টের অর্ধেক ভাগ তার মা পেত।

অনুভা ওয়াশরুমে গিয়ে অযু করে আসে।জায়নামাজে দাঁড়াতে অজান্তেই চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ে।সামনে থাকা জায়নামাজ ঘোলাটে লাগে দেখতে।সিজদাহ্ পর্যন্ত গিয়ে শব্দ করেই কেঁদে ওঠে অনুভা।কান্নার মাধ্যমে সকল অভিযোগ তুলে ধরে সৃষ্টি কর্তার কাছে।কান্নার প্রতিটি ফোঁটা যেন তার অন্তরের বোঝা বহন করে। প্রতিটি অশ্রু, প্রতিটি শব্দহীন আর্তনাদ,সবই ধীরে ধীরে সৃষ্টি কর্তার কাছে পৌঁছায়।তবুও বার-বার সেই বিশ্বাস ঘাতকের মুখটাই তার সামনে ভেসে ওঠে।

দীর্ঘ এক সিজদাহ্ দিয়ে উঠে বসে অনুভা। নামাজ শেষ করেও সে থামতে পারছে না।মোনাজাতের মধ্যে আবারও চোখের জল ঝরাতে থাকে, অজান্তেই হৃদয় থেকে উঠে আসছে সমস্ত ব্যথা।দরজার পাশে অলি এসে দাঁড়ায়।ধীরে ধীরে অনুভার পাশে এসে বসে।অলিকে পাশে পেতেই তাকে জড়িয়ে ধরে ফুপিয়ে ওঠে।তাদের এখানে এসে আরিজও যোগ হয়।অলি ও আরিজ মিলে অনুভাকে বোঝানোর চেষ্টা করে।

__

সেদিন রাত সেখানে কাটিয়ে আজ রাতে সেখান থেকে পালিয়ে আসে অনুভা।সাথে তার বিড়ালটাও নিয়ে আসে।হয়তো অজানা কোনো পথে চলে যেত।তখনই শান্তর কথা মনে পড়ে তার।এতক্ষণ শান্তর সঙ্গেই সবকিছু বলছিল সে।

অনুভার থেকে সব কিছু শুনে শান্তর ভেতরটা রাগ আর কষ্টের জোয়ারে ভেঙে পড়ল।এত কিছু হয়ে গেছে মাহভিনের সাথে আর সে কিচ্ছু জানে না?এতটা কষ্ট পেয়েছে!যে ভালোবাসার জন্য সে একসময় মাহভিনের কাছে ভিক্ষার মতো হাত পেতেছিল,যে ভালোবাসা পাওয়ার আশায় নিজের আত্মসম্মান পর্যন্ত ত্যাগ করেছিল,আজ সেই অমূল্য ভালোবাসাকেই কেউ নির্দয়ভাবে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছে!সে তো কখনই এই বিয়ে হতে দিতো না।যদি না মাহভিন নিজ ইচ্ছায় বিয়ে করত।যেখানে মাহভিন নিজেই এই বিয়েতে রাজি ছিল সেখানে সে কার জন্যেই বা লড়াই করত?জোর করে ভালোবাসা আদায় করার মানুষ সে ছিল না। মাহভিন খুশি থাকুক, সুখে থাকুক,এটাই তো সে চেয়েছিল সবসময়। তবু আজ কেন মাহভিনের এই অবস্থা? কোথায় হারিয়ে গেল সেই পরিচিত কোমল চেহারা? কেন তার স্নিগ্ধ মুখটা আজ বিষণ্নতার ঘন ছায়ায় ঢেকে গেছে?

এইসব ভাবনা শান্তর শ্বাসরোধ করে আনে। বুকের ভেতর জমে থাকা রাগ, অপরাধবোধ আর অসহায় কষ্ট মিলেমিশে ঘিরে ধরে তাকে।

অনুভা এতক্ষণ রাস্তার পাশে বসে সব বলছিল।শান্ত তার ঠিক পাশে চুপচাপ বসে ছিল। দৃষ্টি স্থির হয়ে ছিল ফাঁকা রাস্তার দিকে। কোনো প্রশ্ন করেনি, কোনো মন্তব্যও না। শুধু শুনে গেছে।

অনুভার বলা শেষ হলে উঠে দাঁড়ায়,

_“ভালো থাকবেন।আর পারলে আমাকে আরও অভিশাপ দিয়েন।”

বলেই অনুভা যাওয়ার জন্য পা বাড়ায়।তৎক্ষনাৎ শান্ত তার হাত শক্ত করে ধরে ফেলে।হাতে শক্ত চাপ অনুভব হতেই পেছন ঘুরে তাকায় অনুভা।পেছনে তাকিয়ে শান্তর জ্বলে ওঠা লাল চোখ দেখতেই বুকের ভেতর ছেত করে ওঠে।শান্তর চোয়ালও ধারাল হয়ে উঠেছে।শান্তকে এমন রুপে এর আগে দেখেনি অনুভা।শক্ত করে হাত চে'পে ধরায় অনুভার হাতে মৃদু ব্যথা অনুভব হয়।

অনুভা শান্তর চোখ থেকে চোখ সরিয়ে নেয়।হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করে।শান্তর সেদিকে খেয়াল নেই।মুখের ভঙ্গি কঠোর বানিয়ে অনুভার দিকে তাকিয়ে আছে।

_“কী হয়েছে আপনার?” অনুভা আরেকবার শান্তর দিকে তাকিয়ে বলল।

শান্ত এবার অনুভার ধরা হাত শিথিল করল।তার দৃষ্টি নরম হয়ে আসে।বলল,

_“কোথায় যেতে চাচ্ছ তুমি?”

_“যেদিকে দু-চোখ যায়।”

_“এখানে কেন এসেছিলে?”

_“জানি না।হয়তো এটাই বলতে যে,আপনাকে ফিরিয়ে দিয়ে আমিও সুখি হয়নি।”

_“আমি কী তোমার জন্য এতই অযোগ্য?”

_“নাহ,বরং আপনার জন্য আমি যোগ্য নই।”

শান্তর কেন যেন অনুভার ওপর রাগ হচ্ছে।অনুভার এমন কথা শুনে রাগ হচ্ছে।তবু,এই সব কিছুর মাঝেও কোথাও যেন একটা ক্ষীণ আলো জ্বলে উঠল। অন্ধকারের গভীরে দাঁড়িয়েও সে হঠাৎ টের পেল,হয়তো সব শেষ হয়ে যায়নি। আজকের অনুভূতিতে তার রাগ আছে, কষ্ট আছে। আর সবকিছুর শেষে, নতুন করে জন্ম নেওয়া একফোঁটা আশার আলো।

শান্ত চুপ করে আছে দেখে অনুভা আর কথা না বাড়িয়ে চলে আসতে চাইল।দু কদম এগিয়ে আসতেই শান্ত দৌড়ে এসে অনুভার সামনে এসে দাঁড়াল।অনুভার হাত থেকে বিড়াল আর লাগেজ নিয়ে বলল,

_“আমার সঙ্গে চলো মাহভিন।সব ভুলে যাও।”

_“আপনি এখনও এ কথা বলছেন?ঘৃণা করছেন না কেন আমাকে?”

_“ঘৃণা করার কথা আসছে কোথা থেকে?” শান্তর কণ্ঠে চাপা ক্ষোভ। _“এসবের পেছনে তোমার কোনো দোষ নেই। যা কিছু হয়েছে, তার একটাও তোমার প্রাপ্য ছিল না। যে তোমার সঙ্গে এমন করেছে,সে ভুল করেছে।শুধু ভুল নয়, অনেক বড় অন্যায় করেছে।”

একটু থেমে নরম গলায় বলল,

_“তার অপরাধের ভার তুমি নিজের কাঁধে তুলে নিচ্ছ কেন?কেন নিজেকে দায়ী করছ?”

_“ আপনার তো আজ এগুলো বলার সময় না,শান্ত! আমাকে এমন অবস্থায় দেখে তো আপনার খুশি হওয়ার কথা।কটাক্ষ করে কথা শোনানোর কথা।”এক মুহূর্ত থেমে, ঠোঁটের কোণে তিক্ত হাসি ফুটিয়ে আবার বলল,

_“আর আপনি কি-না উল্টো আমায় বোঝাচ্ছেন?”

_“খুশি হওয়ার কথা?” হালকা হাসি তার ঠোঁটে এসে মিলিয়ে গেল। _“যে মানুষটাকে ভালোবাসি, তাকে ভেঙে পড়তে দেখে খুশি হব?”

কণ্ঠটা নরম হয়ে এলো শান্তর।

_“আমি যদি কটাক্ষ করি, তাহলে আর আমি তোমায় ভালোবাসলাম কই?আমার আর তার মধ্যে পার্থক্য কোথায়? আমি তো তোমাকে কখনও শাস্তি দিতে চাইনি, মাহভিন। শুধু… নিরাপদ দেখতে চেয়েছি।তুমি ভালো থাকো এটাই চেয়েছি।”

শান্ত আরও বলল,

_“ভালোবাসা মানে সুযোগের অপেক্ষা করা না। ভালোবাসা মানে, মানুষটা ভেঙে গেলে তার পাশে দাঁড়ানো। আজও সেটাই করছি।হ্যাঁ, আমার অভিমান ছিল। খুব ছিল। কিন্তু অভিমান কখনও তোমার কষ্টের চেয়ে বড় হয়ে যায়নি। তোমাকে ভাঙা অবস্থায় দেখে খুশি হওয়ার মত ভালোবাসা আমি তোমাকে বাসিনি।আফসোস হয় আমার তুমি আমাকে কখনো বুঝতেই চাওনি।”

_“হয়তো আপনার সবটা আমি বুঝতে পারিনি।কিন্তু অল্প হলেও বুঝেছি।তবু আমি অন্য জায়গায় আটকে ছিলাম।বোঝা সত্ত্বেও আমি ভুল মানুষটাকে আঁকড়ে ধরেছিলাম।”

_“সব ভুলে যাও।ধরে নাও..কিচ্ছু হয়নি তোমার সাথে।আমি তোমাকে ভালোবাসি।আমি এটা মানতে পারব না যে, যে মানুষকে এত ভালোবেসেছি, সে নিজেকে ভাঙাচ্ছে অন্য কারও কাছে।আমি তোমার পাশে আছি,মাহভিন।”

_“ধরে নেব? কিচ্ছু হয় নি?সত্যিই কিছু হয়নি?” অনুভা নিজের গলার পাশ থেকে ওড়নাটা একটু সরিয়ে বলল,

_“ এগুলো ধরে নেব?”

বিজ্ঞাপন

দৃশ্যমান হলো সে রাতে তায়ানের অন্তরঙ্গ স্পর্শের ছাপ।শান্ত কিছুটা থমকে গেল।এক মুহুর্তের জন্য গলায় কথা আটকে এলো।তার ধারণা এতো গভীরে ছিল না।তার ধারণা ছিল তায়ান অনুভাকে বিয়ে পর্যন্ত নিয়েই ছেড়ে গেছে।শান্ত সত্যিই এটা দেখার জন্য একটুও প্রস্তুত ছিল না।সে একবারের বেশি সেদিকে তাকাতে পারল না।

যদিও দাগ গুলো এখন এতো বেশি গাঢ় না।তবুও যে কোনো প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষ এতটুকু দেখেই ধারণা করতে পারবে যে,এই দাগগুলো এক মুহূর্তের স্পর্শের নয়, বরং গভীর ও ব্যক্তিগত প্রভাবের সাক্ষী।

অনুভা আবারও নিজ ওড়না আগের মতো ঠিকঠাক করে,

_“সেদিন রাতে এগুলো আমার কাছে তার ভালোবাসার স্পর্শ ছিল,আর আজ তা শুধুই কলঙ্ক।” শান্ত অন্য দিকে তাকিয়ে আছে। তা দেখে অনুভা বিদ্রুপ হেসে বলল,

_“এখনও বলবেন কিচ্ছু হয়নি? বলবেন,আমাকে ভালোবাসেন? আমার স্বামী আমার সঙ্গে একরাত কাটিয়ে ছেড়ে গেছে। একটা মেয়ের জন্য এর চেয়ে বড় কষ্ট আর কলঙ্ক কী হতে পারে? সব থেকে বড় কথা হলো, যাকে আমি ছোট থেকে ভালোবেসে এসেছি, সেই আমাকে এমন পরিস্থিতিতে ফেলে দিয়েছে।”

শান্তর তো এসবে যায় আসে না।হ্যাঁ,ভালোবাসার মানুষের গায়ে অন্যের স্পর্শ দেখা হয়তো সবচেয়ে ব্যথার্ত বিষয়।তাই বলে কী শান্তর ভালোবাসা ফুরিয়ে যাবে? তার তো এই ভেবে শ্বাস আটকে আসছে যে, এতো কিছুর পর অনুভার ভেতর দিয়ে কী চলছে, তা কল্পনা করতেই শান্তর হৃদয় ভারী হয়ে ওঠছে। নিষ্পাপ, নির্দোষ মেয়েটিকে কেন এত কষ্ট সহ্য করতে হচ্ছে? কেন সেই জা*নোয়ারটা, যাকে সে ভালোবেসেছে, তার ভালোবাসার সঙ্গে এমন করল?

অনুভা শান্তর হাত থেকে নিজের বিড়ালটা ও লাগেজ হাতে নিয়ে আবারও হাটা ধরল।শান্ত আবারও আটকালো।বিড়ালটা এবার অনুভার হাত থেকে নেমে গেল।শান্ত অনুভার দু’গালে আলতো হাত রেখে বলল,

_“থাকুক না তোমার গায়ে অন্য কারও স্পর্শ।আমি তো শরীর ভালোবাসিনি।তোমার অস্তিত্ব আমার হৃদয় দখল করেছিল।এই হৃদয় তোমাকে অনন্তকাল ভালোবাসবে।সেই ভালোবাসা দিয়েই তোমার সব কলঙ্ক মুছে দেব।”

অনুভা স্তব্ধ হয়ে শান্তর দিকে তাকিয়ে থাকল।চোখ দিয়ে আপনা-আপনি জল গড়িয়ে পড়ছে অনুভার।শান্তর চোখও টলমল করছে। মনে হচ্ছিল এক গভীর নদীর নীরব জলের অস্থিরতা শান্তর ভেতরে ভেতরে ঝড় তুলছে।

অনুভাকে নিরবে চোখের জল ফেলতে দেখে শান্ত আবারও বলল,

_“ভালোবাসি তোমাকে,মাহভিন!”

অনুভা এবারও কিছু বলতে পারে না।কেন শান্ত তাকে এখনও ঘৃণা করতে পারছে না? এত কিছুর পরও কেন আগলে রাখতে চাইছে?অনুভা শান্তর হাত সরিয়ে দিয়ে বলল,

_“ এগুলো বলে আমাকে কষ্ট দেবেন না।এই কথা এখন আর আমার ওপর মানায় না।আপনার ভালোবাসা পাওয়ার যোগ্যতা আমি হারিয়ে ফেলোছি।আমাকে অনেক দুর যেতে হবে।” বলে অনুভা তার বিড়ালটাকে আবারও কোলে উঠিয়ে নেয়।পোষা বিড়াল হওয়ায় দুরে কোথাও যায়নি।

অনুভার শেষ কথা শুনে শান্ত অস্থির হয়ে এক দমে বলল,

_“তুমি তোমার অতীতের সব ভুলে আমার সাথে নতুন জীবন শুরু করো মাহভিন…প্লিজ প্লিজ মাহভিন।আমি... আমি তোমার পুরো অতীত মেনে নিলাম।কখনো কোনো দিন এই নিয়ে একটা শব্দ করবো না।তোমার সব কলঙ্কের ভার আমি নিজের কাঁধে তুলে নেব। প্লিজ থেকে যাও।একটাবার আমাকে সুযোগ দাও।”

শান্ত যতটা সহজ ভাবে বলছে তা কী আদৌ এত সহজ? কতদিনের অতীত? এইতো সেদিন বিশ্বাস করে একজনের হাত ধরেছিল।নতুন জীবন শুরু করার আশায়-ই তো? শান্ত তো অনুভাকে না পেয়েই হারিয়েছে,আর অনুভা তো পেয়েও হারালো।

_“এটা সম্ভব না,আপনি কেন বুঝতে পারছেন না?” অনুভা বলল।

_“আমি বুঝতেও চাই না, প্লিজ মাহভিন।একটা ভুল মানুষের জন্য কেন তুমি সারাজীবন পস্তাবে?এবার আমায় ফিরিয়ে দিও না অনুভা।”শান্ত ভাঙা গলায় বাক্য গুলো বলতে বলতে অনুভার পায়ের কাছে বসে পড়লো।অনুভা চমকে উঠলো। এই প্রথম শান্ত তাকে অনুভা বলে ডাকলো!তার কি করা উচিত?নিজের মনের আর মস্তিষ্কে সাথে যুদ্ধ শুরু হয়ে গেলো। এ যুদ্ধ ধ্বংসাত্নক।হারলেও মৃত্যু জিতলেও মৃত্যু।শান্তকে সে সুখের সময় দুরে ঠেলে দিয়েছিল,আজ দুঃখের সময় তার সঙ্গ নিতে পারবে না।অনুভা নিজেও হাটু ভাজ করে বসলো শান্তর সামনে।বিড়ালটাকে এবার নিজেই কোল থেকে নামিয়ে দিয়ে,শান্তর দুই গালে হাত রেখে,বৃদ্ধা আঙুল দ্বারা শান্তর চোখের পানি মুছে দিলো।

_“আলেয়ার পিছনে ছুটবেন না শান্ত এতে আপনি ধ্বংস হয়ে যাবেন,ঠিক আমার মতো। আমি চাই না আপনি আমার মতো ধ্বংস হয়ে যান।”

_“তোমাতে যদি ধ্বংসই থাকে তাহলে সেই ধ্বংসে আমি শান্ত বার বার ধ্বংস হতে চাই।কারণ তোমাকে না পেলেও আমি সেই ধ্বংসই হব।”

_“আমার পক্ষে আর কাউকে ভালোবাসা সম্ভব না।”

শান্ত নিজেকে ধাতস্থ করে, লম্বা শ্বাস টেনে বলল,

_“ আচ্ছা বেশ! ভালোবেসো না।শুধু পাশে রাখো। দুরে সরে যেও না আমার থেকে।”

_“এটাও সম্ভব না, আমাকে যেতে হবে।অনেক দুরে যেতে হবে।”

_“কেন সম্ভব না?”

অনুভা ফের উঠে দাঁড়িয়ে বলল,

_“ যাকে সুখের সময় ফিরিয়ে দিয়েছিলাম, আজ পরাজয়ের ক্ষণে তার আশ্রয় নিতে পারি না।তবে যে আমি একজন স্বার্থপর হয়ে যাব,শান্ত।”

শান্তও উঠে দাঁড়ায়।অসহায় কন্ঠে বলে,

_“আমার আশ্রয় তোমাকে নিতে হবে না।উল্টো,তোমার পাশে আমাকে আশ্রয় দাও।তুমি না চাইলে ভালোও বাসব না।আমি কিছু চাই না।শুধু পাশে থাকতে দাও।তোমার পাশে থাকার অধিকারটুকু কেড়ে নিও না,প্লিজ।”

শান্ত এমন করবে জানলে হয়ত অনুভা আসতো না।যখন এসেছে তখন কী মনে করে এসেছে সে জানে না।কিন্তু শান্তকে সে নিজের জীবনের সাথে জড়াতে চায় না।কোনো ভাবেই না।

_“এগুলো বলে আমাকে আর দূর্বল করে দিয়েন না।আমার ধ্বংস হয়ে যাওয়া জীবনের সঙ্গে আপনার মত মানুষের জীবন জড়াবেন না।এতে আপনার আরও মায়া বাড়বে আর…” অনুভাকে থামিয়ে দিয়ে শান্ত জেদ দেখিয়ে বলল,

_“ আর?” এক পা সামনে এগিয়ে আসল,_“আর কী? মায়ায় তো এমনেই জড়িয়ে রেখেছ! যে ইতিমধ্যে ধ্বংস হয়ে গেছে, তাকে পূনরায় ধ্বংস হওয়া নিয়ে ভয় পাচ্ছ?” তারপর তাচ্ছিল্য হেসে বলল,

_“ তুমি আমার ধ্বংস হওয়া নিয়ে ভয় পাচ্ছ, অথচ তোমাকে না পেলেই আমি ধ্বংস হয়ে যাব।কথাটা এমন হয়ে গেল না যে,তুমি আমার ভালো চাইলা, কিন্তু আমারে চাইলা না?”

অনুভা শান্তর দিকে চুপচাপ তাকিয়ে থাকে।শান্তর ছটফটানো দেখে।শান্ত নিজের এলোমেলো চুল গুলো দু’হাতে পেছনে ঠেলে অন্ধকার আকাশের দিকে তাকায়।উত্তর খোঁজে।আকাশটাও আজ নির্বাক।

অনুভাকে এমন নিশ্চুপ থাকতে দেখে আরও জেদ চাপে মাথায়।আর কী বলে বোঝাবে?কোন ভাষায়, কোন কণ্ঠে বললে এই অবুঝ মেয়েটা তাকে বুঝবে? শান্তকে বোঝার মতো ক্ষমতা কী ওর মধ্যে সৃষ্টিকর্তা দেয়নি?শান্তর বুকের ভেতর রাগ,অস্থিরতা,অসহায়ত্ব এক সাথে তোলপাড় শুরু করে।সে পাশে থাকা ল্যাম্পপোস্টের খাম্বার মধ্যে ঘুষি বসাতে বসাতে চি*ৎকার করে বলতে থাকে,

_“F/uck! I’m such an idiot! Still standing here, still hoping.

অনুভা! আর কীভাবে তোমাকে বোঝানো যেতে পারে?একটা অমানুষের জন্য আমায় কেন পোড়াচ্ছ?”

অনুভা দ্রুত পায়ে শান্তর হাত ধরে থামায়।

_“পা/গল হয়ে গেছেন? থামুন বলছি।এদিকে তাকান।” নিজের দিকে ফেরায় শান্তকে।

শান্ত ঘন ঘন শ্বাস ফেলছে।নিজেকে আর কত সামলাবে? চোখের সামনে অনুভার বিয়ে হতে দেখেছে।অন্য কাউকে কবুল বলতে দেখেছে। এই দু'টো দিন কতোটা যন্ত্রণার মাঝে কাটিয়েছে তা কেবল সে আর উপরওয়ালা জানে।আর আজকে এমন একটা পরিস্থিতিতেও অনুভা তাকে ছেড়ে যেতে চাইছে।সে অনুভার দিকে ঘুরলেও চোখ তুলে তাকাল না।রাস্তায় বসে লেজ নাড়াতে থাকা বিড়ালটার দিকে তাকিয়ে আছে।

_“ কী চাইছেন আপনি?” অনুভা বলল।

অনুভা প্রশ্ন করার সঙ্গে সঙ্গে শান্ত অনুভার দিকে তাকাল,

_“যেও না।আমাকে একা ফেলে যেও না।তুমি দুরে চলে যেতে চাচ্ছ নাহ? চলো আমি নিয়ে যাবো।অনেক দুরে নিয়ে যাবো।”

_“ কোথায় নিয়ে যাবেন?” অনুভা কৌতুহলী হয়ে বলল।

_“ ফ্রান্স!”

অনুভা প্রথমে মাথা নাড়িয়ে না করতে চাইল।তারপর কিছু একটা ভেবে বলল,

_“ঠিকাছে কিন্তু আমার এতে কিছু শর্ত আছে।”

শান্ত ভ্রু তুলে বলল,

_“ কীসের শর্ত?”

_“প্রথমত হচ্ছে আমার পেছনে যত যা খরচ হবে তার কোনো কিছুই আপনি দিতে পারবেন না।”

_“ তাহলে কে দেবে? তুমি টাকা কোথায় পাবে?”

অনুভা মলিন হেসে বলল,

_“ সে ব্যবস্থা আমার নানা আমার জন্য করে গেছেন।আর আমি সব নিয়েই বাড়ি ছেড়েছি। না এলে আব্বু সব নিয়ে নিতো।”

শান্ত একটু অবাক হলো।কিন্তু আর এ নিয়ে আর প্রশ্ন করল না।মেনে নিলো।

_“বাকি আর কী শর্ত?”

_“আপাতত এটাই। বাকি গুলো সময় হলে বলব।”

শান্ত যেন এতটুকুতেই আকাশ ছুঁয়ে ফেলার মতো আনন্দ পেল।মাহভিনের পাশে সে থাকবে এর চেয়ে খুশির কী হতে পারে তার কাছে? সব হারিয়েও এভাবে ফিরে পাবে তা যে সে ভাবেনি। এই অভাবনীয় মুহুর্ত তার জন্য ঈদের দিনের মতো।সে অনুভার বিড়ালটাকে রাস্তা থেকে এক হাতে তুলে নিয়ে, অন্য হাতে লাগেজ নিয়ে, তার ফ্লাটের বিল্ডিংয়ের দিকে এগিয়ে যায়।

অনুভা দাঁড়িয়ে থাকে।শান্তর যাওয়া দেখে।নিজের ভবিষ্যতের গাণিতিক হিসাব নিকাশ করে সেও ধীর পায়ে এগিয়ে যায়।

___

দু’দিন হয়ে গেছে আহসানি বাড়িতে কেউ নেই।ভুতের বাড়ির মতো নিস্তব্ধ হয়ে আছে।একটু পড়েই ফজরের আজান দেবে।তায়ান এতদিন যে রুমে থাকত এই দু'দিনও সেই রুমেই ছিল।আজও সেখানেই।নিজের রুমের বেলকনিতে দাঁড়িয়ে আছে।মুখের এক কোণে সেই ড্রাগ মিশ্রিত ললিপপ।

পাশের অনুভার রুমের বেলকনি।সেদিকে একবার তাকাল।অন্ধকারে ঢেকে আছে সব। দু'দিন আগেও এই বাড়িটা অনুভা আর তায়ানের বিয়ের আমেজে মেতেছিল।তায়ান নিজের চুল খামচে ধরে।সে তো এমনটাই চেয়েছে। তাহলে কেন এসব ভাবছে? তার জন্য এগুলো ভাবা নিষেধ।তার বাবার খু*নির পরিবার এগুলো।তার পরিবারের খু*নি এরা।

তায়ান এতো কিছু ভেবেও কেন যেন অনুভার রুমে এলো।দু'দিনের ভেতর এই প্রথম এলো।রুমের লাইট জ্বালাল।রুমের সব এলোমেলো।শেষবার যেদিন এসেছিল সে রাতের কথা মনে পড়ল।চোখ বন্ধ করে নিজেকে গা*লি দিলো।সে একটু বেশিই ভাবছে।লাইট বন্ধ করে বের হয়ে যাবে সেই সময় মেঝেতে পড়ে থাকা কালো ছাই দেখল।কৌতূহলী চোখে সেদিখে এগিয়ে গেল।কীসের ছাই এগুলো বোঝার জন্য এক হাঁটু গেরে বসল।

ছাইয়ের মধ্যে থাকা আধা পোড়া কয়েকটা ছবির টুকরো দেখে বুঝতে পারল এগুলো তারই ছবি।ছাই গুলোর মধ্যে হাত ছোঁয়াল।ঠিক তখনই পেছন থেকে এলেনার কন্ঠ ভেসে আসে।

_“প্লেইনের টিকেট কাটা হয়েছে।সকাল হলেই আমাদের এয়ারপোর্ট পৌঁছাতে হবে।”

তায়ান বসে থেকেই পেছনে ঘাড় ঘুড়িয়ে মাথা দোলাল।এলেনা আবারও বলল,

_“আশা করি এই দু'দিনে তোর সকল কাজ শেষ হয়েছে,আর টিকেট ক্যান্সেল করার প্রয়োজন পড়বে না।”

বলে হনহনিয়ে চলে যায় এলেনা।এলেনা হয়তো জানে না এটা অনুভার রুম।তায়ান আবারও ছাই গুলোর দিকে তাকায়।পাশে থাকা আধাপোড়া সেই ডায়েরিটা তুলে নেয়।

বিজ্ঞাপন
রক্ত রেখার আড়ালে গল্পটি আয়েশা শেখ রিন-এর লেখা একটি জনপ্রিয় রহস্যে মোড়ানো থ্রিলার উপন্যাস