রক্ত রেখার আড়ালে

পর্ব - ১৮

🟢

দশ মাস আগে সেই যে গেল মেয়েটা আজও ফিরল না।এতো অভিমান? একবারও কী বড় আম্মুর কথা মনে পড়ে না? এতটাই পর হয়ে গেছে? আচ্ছা!মেয়েটা ঠিক আছে তো? ওর সঙ্গে খারাপ কিছু হলে যোগাযোগ কীভাবে করবে? হতেও তো পারে এমন কিছু। নাহলে মেয়েটা তো এমন না। আমীরা বেগম সকালের নাস্তা বানাতে বানাতে ভাবছিলেন।

অনুভা যখন চলে যায় আমীরা বেগমের বিশ্বাস ছিল এক-দুই মাস গেলেই হয়তো ফিরে আসবে।তাদের ছেড়ে থাকতেই পারে না।অপেক্ষা করতে করতে দশ মাস হয়ে গেছে কোনো খবর নেই মেয়েটার। কত ভাবনা আসে তার ভেতরে মেয়েটাকে নিয়ে! খারাপ-ভালো সব।বদলে গেছে সব কিছু। সে ঘটনার পর অনেক কিছুই বদলে গেছে।সবচেয়ে বেশি বদলে গেছে আরমান আহসানি। আগে যিনি কঠোর ছিলেন, এখন অনেক চুপচাপ।আনুভার নাম কেউ নিলেই চোখের দৃষ্টি অন্যদিকে সরিয়ে নেয়।বাইরে শক্ত থাকলেও, ভেতরে ভেতরে সে অপেক্ষা করছে। আরশাদ সাহেব আবারও বউ, ছেলে নিয়ে চলে গেছেন।

আরিজ তো কথাই বলে না আরমান সাহেবের সঙ্গে। সে চাইলও পুরোপুরি বিশ্বাস আনতে পারছে না নিজের বাবার উপর। তার মনে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে থাকে,যদি তার বাবা কিছুই না করে তাহলে তার ভাই এতটা নিশ্চিত হয়ে এত বড় অন্যায় কেন করবে? যদি আসলেই তায়ানের কথা সত্যি হয় তাহলে এই জঘন্য খেলার মূল তো তার বাবাই।অনুভার সাথে এমন হওয়ার কারণ তো সে ই।

এই সব প্রশ্ন, এই সন্দেহ আর ভেতরের দ্বন্দ্বই আরিজকে নিজের বাবার মুখোমুখি হতে দেয় না। কথা বলতে গেলেই বুকের ভেতর কোথাও একটা অদৃশ্য দেয়াল উঠে আসে। আর এমনিতেও নতুন চাকরি নিয়ে আরিজ এখন বেশ ব্যস্ত।তাছাড়া এই বাসাতে থাকতেও তার ভালো লাগে না। যাদের বাড়ি এটা তারাই নেই।আর যার খাতিরে থাকে তাকেও ভালো রাখতে পারেনি।

শুক্রবার আজ তাই সে বাসাতেই। ঘুম থেকে উঠে বসার ঘরে এসে চা খাচ্ছে। অলিও বসে টিভি দেখছে। কলেজেই ভালো লাগে তার।যে দু'দিন কলেজ বন্ধ থাকে একধরনের শূন্যতা গ্রাস করে তাকে। যেখানে অনু আপা নেই,অনুভব নেই সেখানে তার কীভাবে ভালো লাগবে? আর যে আছে..আরিজের দিকে তাকাল বাঁকা চোখে,যে ফোনের স্ক্রিনে তাকিয়ে চা খাচ্ছে.. সে তো প্রয়োজন ছাড়া কথাই বলে না।

সদর দরজায় করাঘাত পড়তেই আরিজ অলিকে দরজা খোলার উপদেশ দেয়। অলি ফোঁস করে শ্বাস ছেড়ে গিয়ে দরজা খুলে দেয়।দরজা খুলতেই সামনে থাকা দু'জনকে দেখে বিস্ময়ে দু কদম পিছিয়ে এলো অলি।

তায়ান সময় ব্যয় না করে মাস্ক আর ক্যাপ খুলে ভেতরে প্রবেশ করল।পেছন পেছন ফেডেরিকোও আসল। আমীরা বেগম মাত্রই সকালের নাস্তা এনে টেবিলে রাখছিলেন, হঠাৎ ছেলেকে দেখে বুকের ভেতর ধপ করে ওটে। তায়ান আমীরা বেগমের দিকে এগিয়ে গিয়ে বলল,

_“ অনুভা কোথায়?”

_“তোমার জেনে লাভ কী?”

আমীরা বেগম কিছু বলার আগেই আরিজ বলল।তায়ান সেই কথার পাত্তা না দিয়ে আবারও মায়ের দিকে তাকিয়ে একই কথা বলল,

_“হোয়ার ইজ শি?”

_“ ও নেই।” আমীরা বেগম বলল।

তায়ানের ভ্রু কুঁচকে গেল।নেই বলতে কী বোঝাতে চাচ্ছে?

_“নেই মানে?”

_“ যদিও তোমাকে বলার প্রয়োজন বোধ করছি না। ও দশ মাস আগেই এখান থেকে চলে গেছে, আর ফেরেনি।”

_“ মিথ্যা বলছ!”

_“ এটা তোমার কাজ,আমাদের না।”

_“ আমি জানি ও এখানেই আছে।” এই বলে তায়ান কয়েকবার চি’ৎকার করে অনুভার নাম ধরে ডাকল।

_“ পারলে খুঁজে বের করো। আমরাও একটু নিশ্চিত হই মেয়েটা বেঁচে আছে।” আরিজ আবারও বলল।

তায়ান রিকোর দিকে তাকাল। রিকো সামান্য ইতস্তত করে তায়ানের থেকে চোখ সরিয়ে নেয়। তায়ান চোয়াল শক্ত করে রিকোর হাত টেনে ধরে বের হয়ে গেল। আমীরা বেগম বুঝলেন না এতদিন পর তার ছেলে কেন মেয়েটার খোঁজ করছে। কিন্তু চেহারার বেহাল অবস্থা দেখে বুঝল ছেলেটা ভালো নেই। ভালো থাকবেও না।মন ভেঙেছে তো। নিষ্পাপ মন ভেঙেছে।

__

তায়ান রিকো কে বাহিরে এনেই তার মুখে ঘু’ষি বসিয়ে দেয়।রিকো তায়ানকে থামানোর চেষ্টা করে। তায়ান ঝাঁঝালো চিৎকার করে উঠল,

_“Why did you lie? Why Rico?”

_“Please stop. Let me explain.”

তায়ান এইবার নিয়ে নয়বার বাংলাদেশে এসেছে। কিন্তু আহসানি বাড়ির কারও মুখোমুখি হতে চায় না বলে কখনও এ বাড়িতে আসেনি। রিকো কে দিয়ে খোঁজ নেওয়াতো। রিকো প্রতিবারই তায়ানকে অনুভার ব্যাপারে জানাতো। প্রতিবারই বলত সে ভালো আছে,সব ঠিক আছে।

_“ মিথ্যা না বললে তুমি কী করতে? তোমার যদি এতই ওকে মনে পড়ে তাহলে এমন করেছিলে কেন?”

_“আমার ওকে মনে পড়ে না। কখনই না।”

রিকো বিদ্রুপ হেসে বলল,

_“ তাহলে এত রেগে যাচ্ছ কেন? ও এখানে নেই। আমি জানতাম তুমি এমন করবে তাই বলিনি।”

_“ তুমি আমাকে মিথ্যা বলেছ,রেগে যাব না?” তায়ান আবারও রাগ দেখিয়ে বলল।

_“ হাহ!তুমি এই নিয়ে নয়বার এসেছ,তায়ান!তাও শুধু ওর জন্য!তাও ভালো রিকার্ডোর কানে এগুলো যায় নি।সে তোমার উপর এমনিতেই রে’গে আছে।”

_“ আমি ওকে খুঁজে বের করব।” তায়ান অস্থির ভঙ্গিতে বলল।

_“ এজন্যই তোমাকে বলিনি। এলেনা সর্বদা তোমার ওপর নজর রাখে ইভেন সে জানেও আমরা স্পেনের কথা বলে বাংলাদেশে আসি।শুধু মাত্র তোমাকে বাঁচানোর জন্য নিজের বাবাকে কিছু বলে না। কিন্তু যদি জানে তুমি সেই মেয়েটাকে খুঁজে বেড়াচ্ছ সে চুপ থাকবে?”

_“ আমি এসবের পরোয়া করি না।”

_“ তায়ান তোমার কী এখন অনুশোচনা হয়?”

তায়ান বিরক্তি নিয়ে রিকোর দিকে তাকায়।

_“ অনুশোচনা শব্দ আমার সঙ্গে যায় না।আমি কোনো ভুল করিনি।”

_“ তাহলে এসবের কারণ?”

_“ আমার ওকে দরকার।”

_“ কেন?”

তায়ান কিছুক্ষণ নিশ্চুপ থেকে ধীর গলায় ছোট করে বলল,

_“ জানি না।”

_“ লাভ নেই।আমার জানা মতে ও এই দেশেই নেই,তোমার অগোচরে আমি বেশ কয়েকবার খোজ নিয়েছি।”

তায়ান ভ্রু কুঞ্চিত করে বলল,

_“ কোথায় যাবে তাহলে?”

_“ Who knows?”

রিকো কাঁধ ঝাঁকিয়ে বলল।

_“আদৌও বেঁচে আছে…”

_“ স্টপ!” তায়ান থামিয়ে দেয় রিকো কে।

____

সি-সেকশন না হওয়ার কারণে দু'দিনের মধ্যেই হসপিটাল থেকে অ্যাপার্টমেন্টে ফিরে আসে তারা।শান্ত আরও দু'দিন হসপিটালে রাখতে চেয়েছিল।কিন্তু অনুভা রাজি হয়নি।আরাফ হয়েছে তিন দিন আজ। তিন দিনে অনুভা একবারও নিজ সন্তানের দিকে ভালো ভাবে তাকায়নি।বাচ্চাটার ক্ষুধা লাগলে মায়ের কর্তব্যটুকু পালন করা ছাড়া কাছেও নেয়নি। প্রয়োজন না পড়লে হয়ত সেটুকুও করত না। শান্তই ছেলেটাকে সারাক্ষণ নিয়ে বসে থাকে।ছেলে হবে শুনার পরই সে কত কী কিনে এনেছে,বেবি বয়দের খেলনা, ছোট ছোট জামাকাপড়। আরাফ কাঁদলেই সেগুলো চোখের সামনে ধরে কাঁদা থামাতে চায়।অনুভা এগুলো দেখে নিঃশব্দে হাসে। দু'দিনের বাচ্চা এগুলোর মর্ম বুঝবে?

রাত বারোটা নাগাদ আরাফকে নিয়ে বসে থেকে একটু আগেই ঘুমিয়েছিল অনুভা আর শান্ত।ভোর চারটায় ই আরাফ হাত-পা ছুঁড়ে কান্না কাটি শুরু করে। কাঁদতে কাঁদতে ছোট্ট মুখ খানি লালচে হয়ে গেছে,অনুভা তবু কাছে নেয় না।কান্নার শব্দ শুনে পাশের রুম থেকে শান্ত এসে দরজা নক করে।

বিজ্ঞাপন

_“ কিছু হয়নি,আপনি ঘুমান গিয়ে।” দরজা না খুলেই অনুভা বলল।

_“ তুমি দরজা খোলো।”

অনুভা অবসন্ন নিঃশ্বাস ফেলে দরজা খুলে দেয়। শান্ত এসে আরাফকে কোলে তুলে বলল,

_“ কান্নায় লাল হয়ে গেছে তুমি বলছ কিছু হয়নি?”

_“ একটু পর এমনেই থেমে যাবে।”

_“ খাইয়েছ ওকে?”

অনুভা ওপর নিচ মাথা নাড়াল।শান্ত রুমের মধ্যে পায়চারি করতে করতে আরাফের ছোট্ট শরীরকে কোমলভাবে ঝাঁকিয়ে বুকের কাছে জড়িয়ে ধরল। গালে ও কপালে নরম চুমু খেল। তৎক্ষণাৎ আরাফের কান্না থেমে গেল, চুপচাপ সে শান্তর আদর উপভোগ করতে লাগল। তারপর আরাফকে নিয়েই রুম থেকে বেড়িয়ে যাওয়ার জন্য উদ্যত হয়।অনুভা পেছন থেকে ডেকে বলল,

_“ ওকে রেখেই যান।”

_“ ছিল তো এতক্ষণ!”

_“ আর কাঁদবে না দিন।আপনার ঘুমের ডিস্টার্ব হবে।”

_“ সিরিয়াসলি তুমি আমার ঘুমের কথা ভেবে ওকে চাইছ? আমি অল্প সময়ের জন্য ভেবেছিলাম ওকে ছাড়া থাকতে পারবে না বলে কাছে রাখতে চাইছ।” শান্ত অবাক হওয়ার ভান করে বলল।

অনুভা নিশ্চুপ রইল। শান্ত দীর্ঘ শ্বাস টেনে বলল,

_“ ওর এখন তোমাকে প্রয়োজন, মাহভিন। অন্যের শাস্তি ওকে দিও না।”

_“ আমার ওর দিকে তাকাতে কষ্ট হয়।” অনুভা কাঁপা স্বরে বলল।

_“কেন?” শান্ত বলল।

_“ ওর এখানে আপনি আর আমি ছাড়া কেউ নেই। হ্যাঁ, আমি আপনার প্রতি কৃতজ্ঞ,আপনি ওর জন্য যা করেছেন তা করার কথা আপনার ছিল না। তাও করেছেন। কিন্তু কেন করেছেন? ওকে ভালোবেসে? না…আপনি যা করেছেন আমার খাতিরে।আমাকে ভালোবাসেন বলে। অথচ আজ যদি আমি আমার বাড়ি থাকতাম সবার কত আদর পেতো! বড় আব্বু, বড় আম্মু, চাচী,অলি,আরিজ ভাইয়া,অনুভব, নীলা সবাই আজ কত খুশি হতো! ওকে নিয়েই মেতে থাকত পুরো বাড়ি।আচ্ছা, আমি যদি না থাকি ওর কী হবে?ওর..

_“কখনোই কী আমাকে চিনবে না? বুঝবে না? তোমার জন্য ওকে ভালোবাসি এটা ঠিক।কিন্তু এটাও সত্য,ওর প্রতি আমার অনুভূতি আলাদা।ওর জন্য আমার দায়িত্ব, আমার যত্ন,সব কিছু আমার নিজের অনুভূতির অংশ।” একটু থেমে আবারও বলল,

_“ তুমি যাদের কথা বললে তাদের ভালোবাসা হয়ত ওকে আমি দিতে পারব না।আমি তার চাইতে একটু আলাদা হতে পারি, কিন্তু আমার নিজের দায়িত্ব ঠিক রাখব। ও ওর আপনজনদের ভালোবাসা পাচ্ছে না এটা ভেবে নিজেও দুরে ঠেলে দিও না।নাহলে একদিন নিজেই পস্তাবে।” শেষের কথা একটু গম্ভীর হয়ে বলল শান্ত।

অনুভা নিরবে শান্তর বলা কথা শোনে। এই মানুষের মধ্যে সে কেন কোনো ভুল খুঁজে পায় না? কথার মাধ্যমে অনুভার সব ভাবনা ঘুরিয়ে ফেলে। তার মাঝেমধ্যে মনে হয় মানুষটাকে সে ব্যবহার করছে।কিন্তু সে তো চায়নি..চায়নি শান্ত এভাবে তার পাশে থাকুক। নিজ থেকেই যা করার করছে।তবু তার মধ্যে সংকোচবোধ হয়।কিন্তু সে না থাকলে কী জীবন এত সহজ হতো? বাড়ি ছেড়ে আসার পরও অনুভার কখনও কোন দিকে অসুবিধে হয়নি। সব কিছুতে শান্তকে পাশে পেয়েছে।এর শেষটা কী হবে কে জানে!অনুভা মনে মনে ভাবে।

মাহভিনকে চুপ থাকতে দেখে, শান্তও আর কিছু বলল না।আরাফ এতক্ষণে ঘুমিয়ে পড়েছে।শান্ত একটু এগিয়ে এসে অনুভার কোলে তুলে দেয়।

_“আমি ওকে যতই আগলে রাখি, ও তোমার কাছেই সবথেকে বেশি কমফোর্ট ফিল করবে।” এই বলে শান্ত বেড়িয়ে যায়।

অনুভা নিস্তেজ দৃষ্টিতে আরাফের ঘুমন্ত মুখটার দিকে তাকিয়ে থাকে। বুকের ভেতরটা ভারী হয়ে আসে। জমে থাকা কান্নাগুলো গলায় দলা পাকিয়ে ওঠে। দাঁতে দাঁত চেপে ঢোঁক গিলে কান্না আটকে রাখার চেষ্টা করে সে। তবু অনিচ্ছাকৃতভাবেই চোখের কোণ ভেঙে নেমে আসে জল।টুপটাপ করে সেই অশ্রুগুলো গিয়ে পড়ে আরাফের কোমল বুকে। অনুভা কাঁদতে চায় না।দাঁত শক্ত করে চেপে রাখায় তার চিবুক কেঁপে ওঠে। কিন্তু বেইমান মন আর সংযম মানে না,এবার শব্দ করেই ভেঙে পড়ে কান্না।কাঁপা কাঁপা ঠোঁটে সে আরাফের ঠোঁটে ছোট্ট করে স্নেহমাখা এক চুমু এঁকে দেয়। শিশুটিকে গভীরভাবে নিজের সঙ্গে আগলে নেয়। কান্না-ভেজা, অস্পষ্ট কণ্ঠে ফিসফিস করে বলে,

_“ আমি তোমাকে ভালোবাসবো,সোনা।তোমার মা তোমাকে কক্ষনো ছেড়ে যাবে না।”তারপর তার ভেতরের অভিমানী সত্ত্বা শব্দহীন এক দীর্ঘশ্বাসের মতো মনে মনে বলে ওঠে,

_“আপনাকে না দেখার আক্ষেপে আমার আত্মার মৃত্যু হোক,তবুও আপনার সঙ্গে আমার দ্বিতীয় বার দেখা না হোক।”

অনুভার দরজার ওপাশে দাঁড়িয়ে আছে শান্ত।চোখ বন্ধ করে দরজার সঙ্গে হেলান দিয়ে দাড়িয়ে আছে। সেও জানে না এর শেষ কী। কতদিনই বা এভাবে চলবে? কখনো যদি এই দু'জন হারিয়ে যায়,কী হবে তার? সহ্য করতে পারবে? কী নিয়ে বাঁচবে তখন! এখন তো শুধু মাহভিন না,বাচ্চাটার জন্যেও যে হৃদয় পোড়ে তার।

___

সকাল নয়টার দিকে আরাফকে খাইয়ে রুম থেকে বের হয় অনুভা। এসে দেখে শান্ত কিচেন রুমে নুডলস্ বানাচ্ছে।অনুভা একটু রাগ দেখিয়ে বলল,

_“ আপনার এগুলো করা লাগবে? আমিই তো করতে পারতাম।”

_“এখন তো আমি আছি।ছুটি শেষ হয়ে গেলে তোমাকেই কষ্ট করে রান্না করে খেতে হবে।” শান্ত বলল।

_“ এই অল্পস্বল্প রান্নায় আর কী এমন কষ্ট?আপনার এগুলো করতে হবে না।আমাকে দিন।”

_“ তুমি চা বানাও।পানি গরম করা আছে।”

অনুভা তাই করল।দু'জনের জন্য দু কাপ চা বানাল।

_“আর কতদিন ছুটি আছে আপনার?” শান্তকে বলল।

_“ আরও নয় দিন।”

_“অনেক!” অনুভা চায়ে চুমুক বসাল।

_“ অনেক বলছ?আমার তো আরাফকে রেখে একটুও যেতে ইচ্ছে করবে না। আর তোমাকে একা রেখে গেলে,তুমিও একা সামলাতে পারবে না।”

অনুভা শান্তর কথায় মৃদু হাসে।

_“ পারব আপনি চিন্তা করবেন না।”

শান্ত অনুভার দিকে তাকিয়ে কিছু একটা ভেবে বলল,

_“ আচ্ছা একটা বেবি সিটার রেখে দেই? তোমার অনেক হেল্প হবে।”

_“ না, এসবের দরকার নেই।”

শান্ত ঠোঁট উল্টে বলল,

_“ ভেবেছি চাকরি ছেড়ে দিয়ে বিজনেস শুরু করব।”

_“কেন?" অনুভা বলল।

_“ আমার মত ছেলে এতদিন চাকরি করেছে এটাই কী যথেষ্ট না? আমার মম শুনলে স্ট্রোক করবে।”

হাসার মত তেমন কিছু বলেনি,তবুও অনুভা হেঁসে ওঠে। শান্ত সেদিকে পলকহীন তাকিয়ে থাকে।অনুভা চা খেতে খেতেই ড্রইংরুমে আসে।ড্রইং রুমে এসে টিভি অন করে রিমোট চাপতে থাকে।তখন একটা বাইক রেসের ভিডিও সামনে চলে আসে,অনুভার সেখানেই চোখ আটকে যায়।

অনুভার শখ বিহীন জীবনের ছোট থেকেই অদ্ভুত এক ইচ্ছা,বাইক চালানো শিখবে কিন্তু বাবার ভয়ে সাইকেল অব্দি শিখতে পেরেছিল।তাও আরিজ ভাই শিখিয়েছিল।আজ আবার এই ভিডিও দেখে সেই শখ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। এখন তো সে ফ্রান্সেই আছে,বাংলাদেশে নেই।চাইলেই নিজের ইচ্ছা পূরণ করতে পারবে। সে শান্তকে ডেকে বলল,

_“ আপনি আমাকে আরেকটা কাজে সাহায্য করবেন?”

_“ কী কাজ?” শান্ত টিভির দিকে এক নরজ দেখে বলল।

_“পড়ে বলব।আপনি না বেবি সিটার রাখতে চাইলেন? রাখতে পারেন।”

বিজ্ঞাপন
রক্ত রেখার আড়ালে গল্পটি আয়েশা শেখ রিন-এর লেখা একটি জনপ্রিয় রহস্যে মোড়ানো থ্রিলার উপন্যাস