রক্ত রেখার আড়ালে

পর্ব - ২১

🟢

সন্ধ্যা নেমে এসেছে আর্জেন্টিনায়। বিকেলের দিকে ক্লাব থেকে ফিরে তায়ান আর রুমের বাইরে বের হয়নি।মুখে চে’পে রাখা ললিপপটা ধীরে ধীরে ঘুরছে তার ঠোঁটের কোণে, আর সামনে খোলা ল্যাপটপের স্ক্রিনে অস্থির দৃষ্টিতে খুঁজে চলেছে কিছু একটা। চোখ দুটো তীক্ষ্ণ, মনোযোগী।আঙুলগুলো দ্রুত ছুটে চলেছে কিবোর্ডের ওপর।

কিন্তু কাঙ্খিত কোনো কিছুর হদিস না পেয়ে, বিরক্তিতে সে ল্যাপটপটা ঠেলে দূরে সরিয়ে দেয়। ড্রয়ার থেকে কিছু অ্যালকোহলের বোতল তুলে নিয়ে চলে যায় রুমের সঙ্গে সংযুক্ত নকশাদার বারান্দায়।সেখান থেকে বুয়েনোস শহরের সমুদ্র স্পষ্ট দেখা যায়।বাইরে ভীষণ অন্ধকার। ঝড় শুরু হয়েছে। সমুদ্রের বিশাল জলের ঢেউগুলো বারান্দার পাশে দাঁড়িয়ে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, বাতাসে সমুদ্রের লবণ ও ঝড়ের গর্জন একসাথে মিশে আছে। শহরের আলো দূরে ফিকে হয়ে গেছে। তায়ান মুখ থেকে ললিপপ ফেলে দিয়ে একটার পর একটা মদের বোতল শেষ করে।একটা করে বোতল শেষ হয় আর সেটা মেঝেতে ফেলে ভাঙতে থাকে।শেষ বোতলটা নিজের হাতে মুচড়ে ধরল। পুরোপুরি ভাঙেনি, কিন্তু কিছু অংশ চূর্ণ হয়ে গেল, এবং কাঁচের ধারে কেটে গেল তার হাত।তবুও সেদিকে তার কোনো মন নেই। সে তাকিয়ে আছে সমুদ্রের ঢেউয়ের দিকে।চোখগুলো লাল টকটকে।

পেছন থেকে দুটো মেয়েলি হাত তায়ানকে জড়িয়ে ধরল। মাথা ঠেকাল তায়ানের পিঠে। তায়ানের বিরক্ত লাগল। সে জানে এটা কে।তায়ান গম্ভীর স্বরে বলল,

_“সরে যা এলেনা!”

_“যাবো না।” এলেনা বলল।

তায়ান চোখ বন্ধ করে আবারও বলল,

_“ বিরক্ত করিস না, যা এখান থেকে।”

_“ তুই এমন হয়ে যাচ্ছিস কেন?”

_“তুই আগে আমার শরীর ছাড়।”

_“ছাড়বো না! ভিকি! তুই কী বুঝিস না আমি তোকে ভালোবাসি!” এলেনা অস্থির হয়ে বলল।

_“ আমাকে এইসব নামে ডাকবি না,বিরক্ত লাগে।”

এলেনা আরও গভীর ভাবে জড়িয়ে ধরে তায়ানকে।তায়ান দাঁতে দাঁত চে'পে রাগ সংযত রাখার চেষ্টা করে।

_“আমাকে বিয়ে করবি কবে?” এলেনা বলল।

এলেনার বলা বাক্য শুনতেই তায়ানের বুকের ভেতর মোচড় দিয়ে ওঠে।এক বছর আগের কথা মনে পড়ে। সে তো বিবাহিতই! বিয়ে করেছিল না?হুট করেই পেছন ঘুরে হাতে থাকা ভাঙা অ্যালকোহলের বোতল তাক করে এলেনার গলায়। এলেনা হকচকিয়ে ওঠে।কিছু বলার আগেই তায়ান বলল,

_“চলে যা এখান থেকে,আমি আমার মধ্যে নেই।”

_“পাগল হয়ে গেছিস তুই? কী করছিস এসব!” এলেনা কম্পিত কন্ঠে বলল।তারপর আড়চোখে দেখল তায়ানের হাত থেকে লাল তরল ঝরছে।

_“তোর হাতে..”

বলতে দিলো না তায়ান। ধা’ক্কা মে'রে দুরে ঠেলে দিয়ে বলল,

_“গেট আউট! গো!”

এলেনা অবিশ্বাস্য চোখে তায়ানকে দেখল। চোখ গুলো কেমন লাল! অস্বাভাবিক!ঝড়ের বাতাসে তায়ানের চুল নড়ছিল। এলেনা চলে গেল। দ্রুত পায়ে গেল। যাওয়ার সময় রিকোর সঙ্গে ধা’ক্কা খেলো। রিকো এলেনাকে এরকম হুড়োহুড়িয়ে বের হতে দেখে অবাক হলো।তবে কিছু জিজ্ঞেস করার আগেই সে চলে যায়। তায়ানকে রুমে না পেয়ে বারান্দার দিকে যায়। তায়ানের হাত দেখে বিস্মিত কন্ঠে বলে,

_“ হেই!কীভাবে এলো এটা?” এগিয়ে এসে তায়ানের হাত ধরতে চাইলে,হাত সরিয়ে নেয় তায়ান। রিকো কে প্রশ্ন করে,

_“কোনো খবর পেয়েছ?”

_“পাইনি।”

তায়ান বাঘের মতো গর্জন করে ওঠে,

_“ তাহলে এখানে কী দেখাতে এসেছ? যাও, চোখের সামনে থেকে বের হও।”

রিকো বলল,

_“আমি তোমার কোনো পার্সোনাল এসিস্ট্যান্ট না,তায়ান! যেটুকু করছি তা কী এনাফ না?”

_“ আমার কারও সাহায্যের প্রয়োজন নেই। এখন চলে যাও,আমার মাথা ধরেছে।”

_“তোমার হাতে ব্যান্ডিজ করা প্রয়োজন।”

_“প্রয়োজন হলে সেটা আমি দেখব।এখন আসতে পারো।” এই বলে তায়ান নিজেই বারান্দা থেকে চলে এলো। নিজের বিছানায় উপুর হয়ে শুয়ে পড়ল।হাতের র’ক্ত শুকিয়ে আসছে। রিকো কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে চলে আসল। দরজার কাছে আসতেই তায়ান বলল,

_“ লাইট অফ করে যেও।”

_“এখনি ঘুমোবে? না মানে,এখন মাত্র সন্ধা!” রিকো বলল।

_“আমি ঘুমাই না,রিকো! ও আমাকে ঘুমাতে দেয় না।” তায়ান উপুর হয়ে শুয়ে থেকেই অস্পষ্ট স্বরে বলল।

রিকো আর কী করবে? হতাশা জনক শ্বাস ফেলে, লাইট বন্ধ করে চলে গেল সে।

____

রাত বারোটার পর শহরটা বুয়েনোস শহরটা অস্বাভাবিক চুপচাপ হয়ে যায়। দুরে কোথাও গির্জার ঘণ্টা বাজে।ডন রিকার্ডো দাঁড়িয়ে আছে পরিত্যক্ত গির্জার ভেতরে।বাহিরের ঝড় এখন একটু কমেছে।তবু ভারী বাতাসে মোমবাতির আগুনগুলো একসাথে কেঁপে ওঠে।পেছনে কালো ছায়া জমাট বাঁধে।মানুষের মতো, কিন্তু মানুষ না।তা দেখে ডন রিকার্ডো বলে,

_“ ক্ষমতা আর প্রতিশোধের জন্য বেঁচে আছি আমি।ক্ষমতা চাই আমার। আমার লক্ষ, আমার এতবছর ধরে গড়ে তোলা অস্ত্র আমি নষ্ট হতে দেব না। আমার ক্ষমতা চাই।”

একটা কণ্ঠ ভেসে আসে,

_“মূল্য জানো?”

রিকার্ডো পৈশাচিক হাসি দিয়ে বলল,

_“আমি মানুষ কখনোই ছিলাম না।যা নেওয়ার নাও।” তার হাতে ছুরি।আঙুল কেটে র’ক্ত ফেলে মেঝেতে আঁকা প্রতীকের ওপর।

রক্ত ছড়িয়ে যায়, যেন জীবন্ত কিছু নড়ছে। এক মুহূর্তের জন্য তার বুকের ভেতর তীব্র জ্বালা।চোখের রঙ বদলে যায়। গির্জা থেকে চলে আসার আগে বলল,

_“আজ দ্বিতীয় বারের জন্য আমি তোমার কাছে চুক্তিবদ্ধ হলাম।”

___

সকাল সকাল নিজের রুমে ডন রিকার্ডোকে দেখে তায়ান একটু অবাক হয়। তবে নিজের অবাক ভাব প্রকাশ না করে ওয়াশ রুমে চলে যায়। ফ্রেশ হয়ে বের হওয়ার পরও দেখে সে তার রুমেই আছে। তায়ানকে দেখে রিকার্ডো মুচকি বলল,

_“ জিজ্ঞেস করবে না কেমন আছি?”

_“দেখতেই পাচ্ছি ভালো আছো।” তায়ান বলল।

রিকার্ডো দু পাশে মাথা নাড়ায়।

বিজ্ঞাপন

_“ আমি ভালো নেই। ভালো থাকব না, যতদিন আরশাদ বেঁচে আছে। ও আমার বন্ধুকে হত্যা করেছে! তোর বাপকে মে'রেছে!তুই এখনো কেন বাচিয়ে রেখেছিস?” রিকার্ডোর কন্ঠ ভেঙে আসে।

_“শুধু মাত্র তোমার কথা উপর ভিত্তি করে এতো সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। সেদিন আমার বাবার বাড়ি কী হয়েছিল তা এখনো আমার অজানা। আমার মা কেন তাকে বাঁচাতে চায়?” তায়ান বলল।

_“কারণ তোর মা একজন..”

_“থাক। আমি শুনতে চাচ্ছি না এখন।” তায়ান থামিয়ে দেয় তাকে।

রিকার্ডো অবাক কন্ঠে বলল,

_“ আমি তোকে এভাবে তৈরি করিনি,তায়ান! দয়া,ভালোবাসা,কমোলতা,নৈতিকতা তোর জন্য না।তোকে প্রতিশোধ নিতে হবে।নিজের আত্মা বিক্রির কথা ভুলে যাস না!”

তায়ান কিছু বলে না।চুপ করে থাকে।রিকার্ডো তীক্ষ্ণ চোখে তায়ানকে দেখে। ওর গড়ে তোলা তায়ান এটা নয়।

_“ যা করেছ কিছুই ভুল করো নি। কাদের জন্য এমন করছিস তুই?”

_“আমি কেমন করছি? কী করছি আমি? তোমরা সবাই আমার পেছনে লেগেছ কেন?আমার বাবা ও তার পরিবার কে মে'রেছে নাহ? আমি বুঝবো। এটা একমাত্র আমার সিদ্ধান্ত,আমি তাদের সঙ্গে কী করব।তুমি চলে যাও।” তায়ান রেগে যায়।

ডন রিকার্ডো বাকরুদ্ধ। তায়ানকে এগুলো বলতে দেখে বিস্ফরণ ঘটে তার মাথায় তবে তা প্রকাশ করে না। চুপচাপ শোনে তায়ানের কথা।

_“ওকে..কুল মাই বয়! এটা তোমার ইচ্ছা কী করবে না করবে।আমি তোমাকে আর কিছু বলব না। শুধু আজকে আমার সঙ্গে গির্জায় যাবে।”

তায়ান সঙ্গে সঙ্গে যাবে না জানিয়ে দেয়,

_“ এসব স্থানে আমি আর যাবো না।”

_“ তুমি চুক্তিবদ্ধ!”

_“আমি বের হয়ে আসছি এসব থেকে।”

_“ এতকিছু করছো আমাকে জানাওনি কেন?” রিকার্ডো বলল।

_“ আমি বাচ্চা না!

__

তায়ানের দিনগুলো একই বৃত্তে আটকে গেছে,ঘুম থেকে ওঠা, অনিচ্ছায় অনুশীলনে যাওয়া।কারও সঙ্গে ঠিকমতো কথা না বলা, তারপর ক্লান্ত হয়ে ফিরে আসা। অথচ ক্লান্তি শরীরের নয়, ভেতরের। কেন এমন হচ্ছে সে নিজেও ঠিক বুঝে উঠতে পারে না। যেন অদৃশ্য কোনো ভার বুকে চেপে বসে আছে সারাক্ষণ।

আগে ছোট ছোট জিনিসেও তার আগ্রহ ছিল,বারে বসে বন্ধুদের আড্ডা,এলেনার বাবার সঙ্গে নানান দেশে মিশনে যাওয়া,এলেনার সঙ্গে বাইক রেস করা । এখন সবকিছুই নিরস লাগে। আশেপাশের মানুষের উপস্থিতিও কখনো কখনো অসহ্য মনে হয় তার। কারও প্রশ্ন শুনলেই বিরক্তি চেপে বসে, অথচ সে জানে,তাদের দোষ নেই। দোষটা যেন তার নিজের ভেতরেই কোথাও।

অনেক সময় হঠাৎ করেই মনে হয়,সব ছেড়ে বাংলাদেশে ফিরে যাবে। হয়তো সেখানে গেলে মনটা একটু হালকা হবে। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গেই আরেকটা ভাবনা এসে দাঁড়ায় সামনে,সেখানে তো অনুভা নেই। এই ভাবনা আসলে ফেরার ইচ্ছেটাও অদ্ভুতভাবে মরে যায়।

ফুটবল ছিল তার নিঃশ্বাসের মতো,তার প্যাশন, তার স্বপ্ন। মাঠে নামলেই সব দুঃখ ভুলে যেত। এখন সেই মাঠটাই ফাঁকা লাগে। বল পায়ে নিলেও আগের সেই আগুনটা জ্বলে ওঠে না। অনুশীলনে মন বসে না, শরীর মাঠে থাকলেও মন থাকে অন্য কোথাও। কোচ প্রায় প্রতিদিনই তাকে আলাদা করে ডাকে, বোঝায়, কখনো বকেও। তায়ান চুপচাপ শুনে যায়। কথাগুলো কানে ঢুকলেও,হৃদয়ে পৌঁছায় না।সারাদিন ধরে কোচ তাকে বোঝালেও,সবশেষে তার একটাই উত্তর,

_“আমাকে টিম থেকে বাদ দিয়ে দিন।”

চোখে কোনো প্রতিবাদ নেই, কোনো অনুতাপও নেই।

রাতগুলো সবচেয়ে কঠিন ভাবে কাটে তার। ঘুম আসতে চায় না। বিছানায় শুয়ে ছাদের দিকে তাকিয়ে থাকে, কখনো মোবাইল হাতে নেয়, আবার ফেলে দেয়। অনুশীলনের সময় হঠাৎ করেই রাগ উঠে যায়। টিমমেটদের ছোট্ট ভুলেও বিরক্ত হয়, অথচ আগে সে-ই সবার ভুল ঢেকে দিত। কখনো বলটা ইচ্ছে করে জোরে ছুঁড়ে মারে। কোচ যখন তিরস্কার করে, চোখ নামিয়ে রাখে শুধু শুনে যায়, ঠোঁট শক্ত করে চেপে রাখে। ভেতরে জমে থাকা কথাগুলো গলায় আটকে থাকে, বের হয় না।কখনো কখনো হঠাৎ করেই তার শ্বাস ভারী হয়ে আসে। কোনো কারণ ছাড়াই বুকের ভেতর ধড়ফড় শুরু হয়। মনে হয় কিছু একটা হারিয়ে ফেলেছে,কিন্তু ঠিক কী, সেটা ধরতে পারে না। রাস্তার ভিড়ে দাঁড়িয়ে থেকেও নিজেকে অদ্ভুত একা লাগে। আশেপাশে এত মানুষ, অথচ কেউ তার নয়,এই অনুভূতিটা তাকে আরও অস্থির করে তোলে। চোখের নিচে কালি, মুখে ক্লান্তি। মনে হয় যেন কয়েক মাসেই সে কয়েক বছর বড় হয়ে গেছে!

রিকো প্রায়ই ওকে নিয়ে চিন্তিত থাকে। হঠাৎ হঠাৎ কোথায় গায়েব হয়ে যায় ছেলেটা। না কল করলে ধরে, না এসে বলে কোথায় ছিল।

কিছুদিনের জন্য ফ্রান্সের প্যারিসে আসে তারা দু'জন। ফুটবল ম্যাচের জন্য। তায়ান প্রথমে আসতে চায় না। তারপর কিভাবে কিভাবে যেন রাজি হয়। কয়েকদিন হয়েছে তারা এসেছে,কালকেই আবার ফিরে যাবে। এখানে এসে তায়ানের পারফরম্যান্স আরও কমে যায়। আর্জেন্টিনার ক্লাব গুলোতে যাও ভালো খেলত এখানে এসে তাও না। অস্থিরতা বেড়ে যায়।অন্যরা শহর ঘুরতে যায়, ছবি তোলে। তায়ান হোটেলের বারান্দায় দাঁড়িয়ে দূরের আলো দেখে।

রিকো ওকে প্যারিসের সাইকোলজিস্টের কাছে নিয়ে যেতে চায়,

_“ এখানে ভালো সাইকোলজিস্ট আছে। চাইলে কালই অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে পারি। তোমার যাওয়া উচিত।”

কথাটা শুনে তায়ানের চোয়াল শক্ত হয়ে গেল।

_“আমি পাগল নাকি?”

রিকো শান্ত গলায় বলল,

_“পাগল না। কিন্তু তুমি আগের তুমি নও। আর সেটা তুমি নিজেও জানো।”

কথাটা শুনে তায়ান আর কিছু বলল না। বাইরে থেকে সে নির্বিকার, কিন্তু ভেতরে কোথাও যেন কথাটা গেঁথে গেল।

__

তায়ান প্লেনে বসে আছে। পাশে রিকো। সামনে, পেছনে তার টিমমেটরা। সবাই হুড়োহুড়ি করছে। এত কোলাহলের মাঝেও তার ভেতরে অদ্ভুত নিস্তব্ধতা।প্লেন রানওয়ের দিকে গড়াতে শুরু করতেই সে জানালার বাইরে তাকায়। তার মনে হয় সে কিছু ফেলে যাচ্ছে।সব কিছুই ঠিক আছে,যেখানে যাচ্ছে সেটা তার পরিচিত শহর।তবু কেন তার মনে হচ্ছে,সে কিছু ফেলে যাচ্ছে? সে ঠিক ধরতে পারে না কী। কোনো জিনিস? কোনো মুহূর্ত? নাকি কোনো অদেখা সম্ভাবনা?এই শহরে তো তার কিছুই ছিল না। তবু বুকের ভেতরটা কেমন টান দিচ্ছে। যেন হঠাৎ করে উঠে পড়ায় কিছু অসমাপ্ত থেকে গেছে।

রিকো পাশ থেকে কনুই দিয়ে হালকা ধা’ক্কা দেয়,

_“এইবার কিন্তু সিরিয়াসলি ট্রেনিং শুরু করবে, বুঝলে?”

তায়ান হালকা মাথা নাড়ে। মুখে কোনো অভিব্যক্তি নেই। এই কয়েকটা দিন সে ভালো খেলতে পারেনি। নিজের সঙ্গেই লড়েছে। দেশটা তার কাছে সুন্দর হলেও দূরের মনে হয়েছে। তবু এখন ফিরে যাওয়ার মুহূর্তে সব শুন্য শুন্য লাগে। প্লেনের সিটে হেলান দিয়ে চোখ বন্ধ করে সে। চারপাশে হাসির শব্দ, কথাবার্তা, এয়ারহোস্টেসের ঘোষণা,সবকিছু চলছে নিজের মতো। তায়ান আবারও চোখ খুলে ফেলে। বুকে ঝুলিয়ে রাখা ব্যাগ থেকে একটা ডায়েরি বের করে।পোড়া ডায়েরি। অনুভার সেই পোড়া ডায়েরি। লেখা গুলো যদিও আর স্পষ্ট নেই। তবু কেন সেটা নিজের সঙ্গে রাখে জানে না।ডায়েরির মাঝখানের একটা পেইজে কয়েকটা লাইন লক্ষ করে তায়ান।অস্পষ্ট হলেও বুঝতে সময় লাগে না তার। গান বোধহয় কোনো…

__“ তবু তুমি নেই আজ,আমার পাশে

হারিয়ে গেছো তুমি,বহুদুরে..

ভাবি তুমি আসবে ফিরে

ধরবে এই হাত গুলো..

বলবে তুমি কেঁদো না..

ফিরে এসেছি এই দেখো..”

নিচে ছোট ছোট করে লেখা ‘তায়ান ভাই’। তায়ানের চোখ জ্বলে ওঠে। সে তো কাঁদতে পারে না। অভ্যেস নেই।

বিজ্ঞাপন
রক্ত রেখার আড়ালে গল্পটি আয়েশা শেখ রিন-এর লেখা একটি জনপ্রিয় রহস্যে মোড়ানো থ্রিলার উপন্যাস