রক্ত রেখার আড়ালে

পর্ব - ১৭

🟢

সাদা রঙের বিলাসবহুল এক ভিলার সামনে শান্তদের গাড়িটা থামল।শান্ত চোখ থেকে চশমা খুলে গাড়ি থেকে নেমে এলো।এয়ারপোর্ট থেকে টানা দু'ঘন্টা সময় লেগেছে।শান্ত এর আগেও কয়েকবার তার বাবার সঙ্গে এখানে এসেছে।শেষবার এসেছিল পাঁচ বছর আগে।কিন্তু তখন বাবার নেওয়া সিদ্ধান্ত শুনে সে আর ফ্রান্সে পা রাখেনি।পূর্বে তবু এদেশে এসে ফ্রান্সের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে আবার বাংলাদেশে ফিরে যেতো। কিন্তু এই পাঁচ বছরে সে ঘুরতেও আসেনি।শান্ত তার বাবার এত বড় ভিলা দেখে মৃদু হাসল।আগের চেয়ে ভালোই উন্নতি করেছে সে।

অনুভার পাশের দরজা খুলতেই দেখল ঘুমিয়ে আছে মেয়েটা।ড্রাইভারের হাতে সব লাগেজ দিয়ে ভিলার ভেতর পাঠিয়ে দিল শান্ত।তারপর অনুভাকে ডেকে তুলল,

_“চলে এসেছি।”

অনুভা একটু নিরব থেকে বলল,

_“ আমার ভয় লাগছে।আমাকে অন্য কোথাও রেখে আসুন।”

_“ভয়ের কী আছে? আমি আছি তো।” হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলল,

_“নেমে আসো।”

অনুভা তবু বসে থেকে শঙ্কিত স্বরে,

_“ তারা যদি সত্যিটা জেনে যায়?”

_“জানলে আমার কিছু যায় আসে না।” বলেই শান্ত অনুভার হাত চে'পে ধরে গাড়ি থেকে নামাল।

অনুভা শান্তর পাশাপাশি হেঁটে গেল।শান্তর হাত থেকে একবার হাত ছাড়াতে চেয়েও ছাড়াতে পারল না।শান্ত অনুভার হাত চেপে ধরে নির্বিকারভাবে এগিয়ে যাচ্ছিল।হাঁটতে হাঁটতেই চারপাশে চোখ বুলিয়ে নিল অনুভা।এত সুন্দর ভিলা দেখে সে স্বাভাবিকভাবেই অবাক হলো। ভিলার এক পাশ জুড়ে বড় কাচের দেয়াল, ভেতরের আলো স্পষ্ট দেখা যায়। সামনে প্রশস্ত ড্রাইভওয়ে, তার চারপাশে ঠিকঠাকভাবে রাখা সবুজ ঘাস, পরিপাটি আর পরিচ্ছন্ন।

ভিলার সামনেই মাঝারি আকারের একটি সুইমিংপুল।একটু দূরে আলাদা করে রাখা সবজি আর ফুলের বাগান।গোছানো, যত্নে রাখা। শহরের ভেতরে অবস্থান হলেও ভিলাটার চারপাশ নিরিবিলি।অনুভা নিজের বিস্ময় লুকাতে না পেরে বলল,

_“ আপনি এগুলো রেখে একা একটা ফ্লাটে পড়ে থাকতেন?”

শান্ত দাঁড়িয়ে পড়ল।পাশ ঘুরে অনুভার দিকে তাকিয়ে বলল,

_“ যেখানে তুমি নেই সেখানে এসে কী করতাম?”

অনুভা অপ্রস্তত হয়ে পড়ল।এদিক ওদিক তাকিয়ে বলল,

_“আচ্ছা চলুন এখন।”

সদর দরজায় এসে পা রাখতেই কাঁচের এক ফুলদানি বিকট শব্দ তুলে তাদের পায়ের কাছে ছিটকে এসে পড়ল।আকস্মিক শব্দে অনুভা এবার নিজেই চমকে উঠে শান্তর হাত শক্ত করে চে'পে ধরল।শান্ত এক পলক অনুভার ভয়ার্ত মুখের দিকে তাকাল। কপালের ভাঁজ গাঢ় করে সে আর দেরি না করে ভেতরের দিকে এগিয়ে গেল।

ড্রয়িংরুমের মাঝখানে শান্তর বাবা ইয়াসির খান হাতে আরেকটি শো-পিস তুলে ছুড়ে মারতে উদ্যত ছিলেন।কিন্তু সেই সময় ছেলেকে দেখে তাঁর হাত থেমে গেল। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা শাহানা বেগম আতঙ্কে প্রায় জুবুথুবু হয়ে আছেন।

একটু আগেই তিনি সব জানিয়ে দিয়েছেন।ছেলের বিয়ের কথা। জানিয়েছেন, সেই বউ এখন অন্তঃসত্ত্বা।এটাও জানিয়েছেন, তারা মার্সেইতে চলে আসছে,আর এই মুহূর্তে ড্রাইভার এয়ারপোর্টে গেছে তাদের নিতে। শাহানা বেগম ভেবেছিলেন, হঠাৎ ছেলের আগমনের খবর শুনে হয়তো লোকটা খুশিই হবেন। কিন্তু কথাগুলো শেষ হতে না হতেই ইয়াসির খানের মাথায় রক্ত চড়ে বসে।

একটা মাত্র ছেলে তার, এত বড় ছেলে থাকতেও একা হাতে নিজের বিজনেস সামলাতে হয়েছে। আর সেই ছেলে কিনা না জানিয়ে বিয়ে করে নিয়েছে! একমাত্র ছেলে নিয়ে তার কোনো স্বপ্ন নেই নাকি?

_“ তোমার ছেলে যেন এ বাড়িতে পা না রাখে।” ইয়াসির খান শাহানা বেগমের দিকে তাকিয়ে শক্ত কন্ঠে বললেন।

শাহানা বেগম আঁতকে উঠলেন। কণ্ঠটা নরম করে বললেন,

_“এভাবে বলো না। অনেকটা পথ জার্নি করে এসেছে। আগে ঠান্ডা মাথায় বসে কথা বলো।”

ইয়াসির খানের ঠোঁটে তিক্ত এক হাসি ফুটে উঠল। গলা আরও কঠিন হয়ে এলো।

_“কী বলব? আমার নিজের ছেলের ওপর কি আমার কোনো অধিকার নেই? যা মন চায় তাই করে বেড়াবে?”

এক মুহূর্ত থেমে তিনি আবার বললেন,

_“সারাজীবন আমাদের কথার বাইরে চলেছে। আর এখন..বিয়ে পর্যন্ত করে নিয়েছে! এমন অবাধ্য ছেলেকে আমি আমার চোখের সামনে দেখতে চাই না।” ভারী কন্ঠে কথাগুলো ছুরে দিলেন।

_“তুমি যতই রাগ কর, যতই ক্ষোভ দেখাও,ও আমাদেরই ছেলে।ওর বিয়ে, ওর জীবন আমরা বাধা দিতে পারি না। সব কিছু একটু সহজ ভাবে নাও।” শাহানা বেগম বললেন।

_“ কেমন ছেলে সে আমার? এত বড় ছেলে থাকতেও একা হাতে নিজের বিশাল ব্যবসার ভার টানতে হচ্ছে।এই বসয়ে এসেও নিশ্চিন্তে ঘুমোতে পারি না। এমন ছেলে থাকার চেয়ে না থাকা ভালো।চলে যেতে বলো।”

শান্ত এতক্ষণ চুপচাপ সব শুনলেও এখন ধূর্ত হাসল,কণ্ঠে অল্প বিদ্রুপের আভাস নিয়ে বলল,

_“ আমি তোমার বিজনেসে হাত লাগাইনি এটাই কী তোমার রাগের কারণ, বাবা? নাকি,তোমার বন্ধুর মেয়ে রেখে নিজ ইচ্ছায় বিয়ে করেছি বলে এমন করছ?”

ইয়াসির খান চোখ গরম করে শান্তর দিকে তাকালেন।

_“ সব জেনেও কেন বিয়ে করেছ? তোমাকে আমি জানাইনি আমার সিদ্ধান্তের কথা?”

_“ আমিও তোমাকে বলেছিলাম একটা বাহিরের কালচারের মেয়েকে আমি বিয়ে করব না।”

শান্তর মা তাদের কথোপকথন কিছু বুঝে উঠতে পারল না। তার চোখ পড়ল শান্তর পেছনে, সদর দরজার মাঝে দাঁড়িয়ে থাকা রমণীর দিকে।মুহূর্তের জন্য তিনি স্থবির হয়ে গেলেন।মেয়েটি বাদামী রঙের অভারকোটে মোড়ানো, শান্ত অঙ্গভঙ্গি আর পরিমিত ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছে।দৃষ্টি মেঝের দিকে।চুলগুলো সুনিপুণভাবে মাথার পেছনে খোঁপা করা।মেয়েটার ওমন মায়া ভরা, চোখধাঁধানো সৌন্দর্য থেকে শাহানা বেগম চোখ সরাতে ভুলে গেলেন।তার ছেলের বউ বুঝি এটা? শাহানা বেগম নিঃশব্দে হাসলেন।মেয়েটাকে এক দেখাতেই কেন যেন মনে হলো তার ছেলে ভুল করেনি।

শান্ত আর তার স্বামীর কথোপকথন এড়িয়েই সে এগিয়ে গেল মেয়েটার দিকে।

_“ কী নাম তোর মা?”

অনুভা ধীরে চোখ তুলল। তার ঘন পাপড়ি, কালো কুচকুচে চোখের মনি, কোমলভাবে বাঁকা ঘন ভ্রু, সবকিছুর দিকে মনোযোগ দিয়ে শাহানা বেগমের চেহারায় আরও মুগ্ধতা ছড়িয়ে পড়ল।

_“ মাহভিন অনুভা।” অনুভা মিহি স্বরে বলল।

শাহানা বেগম অনুভার গালে হাত রেখে বলল,

_“ এখানে দাঁড়িয়ে আছিস কেন? ভেতরে আয়।”

অনুভা শান্তর দিকে তাকাল।শান্তকেই তো ঢুকতে দিচ্ছে না আবার সে কীভাবে যাবে? অনুভা ভাবল।

শাহানা বেগম অনুভার হাত ধরে ভেতরে নিয়ে আসার জন্য উদ্যত হলেন।তা দেখে ইয়াসির সাহেব হুংকার তুললেন,

_“ যেখানে ছেলেকেই মেনে নিচ্ছি না,সেখানে ছেলের বউ আসছে কোত্থেকে?চুপচাপ এখান থেকে বের হও।” শেষের কথা শান্তর দিকে তাকিয়ে বলল।

অনুভার বোধহয় এবার আত্মসম্মানে লাগল।সে শাহানা বেগমের থেকে হাত ছাড়িয়ে নিয়ে বের হয়ে এলো বাড়ি থেকে।শান্ত এক মুহুর্ত দেরি না করে অনুভার পেছন পেছন গেল।দ্রুত পায়ে গিয়ে অনুভার হাত টেনে ধরে বলল,

বিজ্ঞাপন

_“ দাড়াও।কোথায় যাচ্ছ?”

অনুভা দাঁড়াল না।পা চালাতে চালাতে বলল,

_“ আমি আগেই বলেছিলাম আমাকে অন্য কোথাও রেখে আসুন।”

শান্ত অনুভার হাত শক্ত করে চে'পে ধরল।নিজের দিকে টেনে এনে বলল,

_“ কথা শোনো না কেন? দাঁড়াও আগে।”

অনুভা কিছু বলল না।নিঃশব্দে হাত ছাড়িয়ে একটু দুরে সরে দাঁড়াল।শান্ত তপ্ত শ্বাস ফেলে বলল,

_“আমিও যাবো, দাঁড়াও এখানে।ব্যাগ নিয়ে আসছি।”

_“ আপনি কোথাও যাবেন না। আমাকে এবার একা ছেড়ে দিন। এতটুকু পাশে ছিলেন এটাই অনেক।”

_“তারপর?” শান্ত বলল।

অনুভা হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে রইল।শান্ত আবারও বলল,

_“ কী হলো বলো? তারপর কী?”

_“ হেয়ালি করবেন না।”

শান্ত অনুভার দু বাহু চে'পে ধরে বলল,

_“ আমি করছি না, তুমি করছো।জানো আমি তোমাকে একা ছাড়ব না, তবু এই কথা বার-বার বলতে থাকো।”

অনুভা কন্ঠে রাগ ঢেলে বলল,

_“ কেন ছাড়বেন না? অনেক হয়েছে।আমি চাই না আমার জন্য আপনার পরিবারে অশান্তি হোক। গিয়ে বলুন আপনার বাবাকে, আপনি কোনো বিয়ে করেন নি।”

_“ এ সিদ্ধান্ত তোমাকে নিতে হবে না।এখানে চুপচাপ দাঁড়াও। আমি আসছি।” এই বলে শান্ত আবারও ভেতরে গিয়ে নিজেদের ব্যাগ গুলো নিয়ে আসল।শান্তর মা কান্না-কাটি করলেও ইয়াসির সাহেব কিছুই বললেন না।

–

শান্ত আর অনুভা সেদিন সেখান থেকে চলে আসে। মার্সেই ছেড়ে ক্যাসিস শহরে চলে যায়।সেখানে অ্যাপার্টমেন্ট নিয়ে থাকতে শুরু করে তারা।এতদিন শান্ত নিজের বাবার টাকা খরচ করলেও সেদিনের পর থেকে আর কোনো টাকা নেয়নি। ক্যাসিসে নতুন জব নেয় সে।অ্যাপার্টমেন্টের কিছু খরচ অনুভাও দেয়।শান্ত নিতে না চাইলেও সেদিন অনুভার দেওয়া শর্ত মনে করে নেয়।

প্রতি মাসে দু’বার করে অনুভাকে ডক্টরের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়।সে যেতে না চাইলেও শান্তর পিড়াপিড়িতে যেতে হয়। প্রতিদিন সকালে সে অনুভার জন্য গরম দুধ নিয়ে হাজির হয়,যেটাতে অনুভা সবচেয়ে বেশি বিরক্ত হয়।খাবারের সময় পুষ্টিকর কিছু বানাতে সাহায্য করে, কখনো কখনো নিজে রান্না করে। অনুভা যেন ক্লান্ত না হয় সে জন্য সারাদিন অফিস শেষে রাতে বাসায় এসে সেই কাজ গুলো নিজেই করে শান্ত।ঔষধ বা প্রেগন্যান্সি সংক্রান্ত পরামর্শ অনুভার থেকে শান্তই বেশি মনে রাখে।

ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্টে সাথে যাওয়া।ডক্টরের পরামর্শ অনুযায়ী প্রতিদিন সকালে সমুদ্রের তীরে হাঁটতে বের হওয়া।এছাড়াও অনুভাকে মানসিক ভাবে ভালো রাখার জন্য ছোট ছোট সারপ্রাইজ দেওয়া।এভাবেই কেটে যায় নয় মাসের বেশি।

ডক্তরের দেওয়া তারিখ অনুযায়ী আজকে নবজাতককে পৃথিবীর আলো দেখানোর দিন।শান্ত কোনো ঝুঁকি নিতে চায়নি,তাই একদিন আগেই অনুভাকে হসপিটালে ভর্তি করিয়েছিল।

এখন হসপিটালের করিডোরে দাড়িয়ে হাফ সাফ করছে শান্ত।এদিক ওদিক ছোটাছুটি করছে আর অনুভাকে নিয়ে যাওয়া ওটি রুমের দরজার দিকে অস্থির চোখে তাকাচ্ছে বার-বার।হাড়কাঁপানো শীতের মধ্যেও শান্তর কপাল ঘেমে উঠছে।শান্তর পাশে শান্তর অফিসের সহকর্মী।সে একটু পর পর শান্তকে স্থির থাকতে বলছে,কিন্তু শান্তর পক্ষে তা সম্ভব হচ্ছে না। প্রতিটি মুহূর্ত তার কাছে দীর্ঘ, অসহনীয় এক অপেক্ষা হয়ে উঠছে।

বারবার মনে হচ্ছে,আজ মাহভিনকে অসীম কষ্টের ভেতর দিয়ে যেতে হবে, অনেক বেশি কষ্ট। যদিও ডাক্তার আশ্বস্ত করেছে সি-সেকশনের প্রয়োজন পড়বে না, তবু শান্তর মন কোনোভাবেই সায় দিচ্ছে না।

কয়েক মুহুর্ত পড়েই ওটি রুমের দরজা ঠেলে দুজন নার্স দৌড়ে এলো।রাত ১২:২২ বাজে তখন।তাদের এক জনের হাতে সাদা টাওয়ালে মোড়ানো সদ্য জন্ম নেওয়া একটুখানি জীবন।শান্তর সহকর্মীর নজর সেদিকে যেতেই সে চুপচাপ শান্তর কাঁধে হাত রাখে, হালকা এক ইশারায় জানিয়ে দেয় অপেক্ষার অবসান।

শান্ত সেদিকে তাকাতেই তার হৃদয় থমকে যায়।বুকের ভেতর এতক্ষণ ধরে জমে থাকা টানটা ঢিলে হয়ে এলো,শ্বাসটা ফিরে পেল সে। চোখের সামনে সাদা টাওয়ালে মোড়ানো ছোট্ট শরীরটা দেখে মাথার ভেতর সব শব্দ থেমে যায়।

_“Congratulations,You have a baby boy and your wife is completely fine.” ব্যস, নার্সের বলা এতটুকু বাক্যেই শান্তর হৃদয়ের ধুকপুকানি থেমে বসন্তের ফুল ফুটে ওঠে।কাঁপা কাঁপা হাতে সে শিশুটাকে তুলে নেয়।চোখে অদ্ভুত এক মিশ্র অনুভূতি।অপলক তাকিয়ে থাকে ছোট্ট প্রানের দিকে।ধীরে ধীরে নিজের বুকের সঙ্গে জড়িয়ে নেয়।নবকণিকার মুখে নাক ঘষে লম্বা শ্বাস টেনে বিরবির করে আওড়াল,

_“ আমার আরাফ! আরাফ খান মাহির!”

একটু পর ডক্টরের অনুমতি পেয়ে শান্ত অনুভার কেভিনে যায়।তার কোলে তার কোলে নবজ্যোতি ঘুমে মগ্ন।অনুভা আধশোয়া হয়ে সিলিংয়ের দিকে তাকিয়ে আছে।চোখ ভিজে আছে তার।শান্তর উপস্থিতি টের পেয়ে সে দৃঢ় গলায় বলল,

_“ ওকে আমার কাছে নিয়ে আসবেন না,অন্তত এখন না।”

—---

_“ দিন পাল্টায়, রঙ বদলায়,

অস্থির মন..

হাতের মুঠোয়, ফেরারি সময়,

শুধু শিহরণ..

ছায়াপথ ধরে,হাতছানি কার

সেই পিছুটান…

তার কথা মনে পড়ে…

তার কথা মনে পড়ে।_”

আর্জেন্টিনাতে রাত ৯:৪০ মিনিট।সন্ধা থেকেই বড্ড অস্থির অস্থির লাগছে তায়ানের।অন্ধকার লাউঞ্জের এক কোণে সে পুরো শরীরের ভার ছেড়ে বসে আছে, মুখে ললিপপ চেপে ধরে।এই ড্রাগ মিশ্রিত ললিপপ আজ-কাল তার অবিচ্ছেদ্য সঙ্গী। দিনে কতগুলো খায়, তার হিসেব নেই।পুরোপুরি না হলেও খানিকটা স্বস্তি দেয়।কোত্থেকে যেন অদ্ভুত এই গান ভেসে আসছে,যেটা তার মনকে আরও অস্থির করে তুলছে।সে সোজা হয়ে বসে ঘন ঘন শ্বাস ফেলে মাথা চে'পে ধরল। এই অস্থিরতা শুধু আজ না,কয়েক মাস ধরেই। কোনো কাজেই মন বসে না তার। এ নিয়ে এলেনার বাবাও তায়ানের উপর ক্ষিপ্ত।

অন্ধকার রুমের দরজা ঠেলে রিকো প্রবেশ করল।রুমের লাইট জ্বালিয়ে তায়ানের রুম, আর তায়ানের এমন বিদ্ধস্ত অবস্থা দেখে দীর্ঘ শ্বাস ফেলল। এই অবস্থা নিয়ে কিছু জিজ্ঞেস করলেও কোনো উত্তর মিলে না।যদিও রিকো অনেকটা আন্দাজ করতে পারে।

রিকো কে দেখে তায়ান চোখ মেলে বলল,

_“টিকেট বুক করো,রিকো। আমি আবারও বাংলাদেশে যাব।”

ফেডেরিকো অবাক হলো না।শুধু বলল,

_“এই কয়েক মাসে এই নিয়ে আটবার যাওয়া হবে।”

_“উফফ! যা বলেছি করো।” তায়ান বিরক্ত স্বরে বলল।

_“ সামনে ম্যাচ আছে তায়ান!”

_“ জাহান্নামে যাক।”

রিকো আবারও দীর্ঘ শ্বাস ফেলল।

বিজ্ঞাপন
রক্ত রেখার আড়ালে গল্পটি আয়েশা শেখ রিন-এর লেখা একটি জনপ্রিয় রহস্যে মোড়ানো থ্রিলার উপন্যাস