রক্ত রেখার আড়ালে

পর্ব - ১৬

🟢

_“আপনার ওয়াইফ তো প্রেগন্যান্ট!”

ডক্টর রিপোর্ট পেপার দেখতে দেখতে বললেন।ডক্টরের কথাটা শান্তর কানে বজ্রাঘাতের মতো এসে লাগল।তবু অপ্রস্তত হাসল।অনুভার দিকে তাকাল একবার,যে এখন হসপিটালের বেডে শুয়ে ডক্টরের দিকে তাকিয়ে আছে।একটু আগেই ডক্টর এসে ওর চেক-আপ করে গেছেন।শরীর অতিরিক্ত দুর্বল থাকার দরুন স্যালাইন লাগিয়ে দিয়েছেন।

অনুভা কিছুক্ষণ থমকে থেকে হুড়মুড়িয়ে উঠে বসল।তবে মুখে কিছু বলার আগেই শান্ত ডক্টর কে বলল,

_“প্রেগন্যান্ট… আপনি নিশ্চিত, ডক্টর?মানে… আমরা বাবা–মা হতে যাচ্ছি?”

ডক্টর হাসি মুখে কথাটা বললেও ধীরে ধীরে তার হাসি মিলিয়ে গিয়েছে।ভুল জায়গায় ভুল কিছু বলে ফেললেন কিনা ভাবছিলেন।তবে এখন শান্তর কথায় হেঁসে উঠলেন।মাথা ঝাঁকিয়ে বললেন,

_“ইয়েস ইয়াং ম্যান।ইউ আর গোয়িং টু বি আ ড্যাড।”

শান্ত অনুভার দিকে তাকিয়ে প্রশান্তিময় হাসল।অনুভা ডক্টর আর শান্তর কথোপকথনে স্তব্ধ খেয়ে বসে আছে।ডক্টর এবার স্পষ্টতই কড়া কন্ঠে বললেন,

_“বাট আপনার নিজের ওয়াইফের প্রতি আরও সচেতন হওয়া উচিত।হার ব্লাড প্রেসার ইজ ক্রিটিক্যালি লো।আপনি কি যত্ন নিচ্ছেন না?”

_“এখন থেকে নেব,ডক্টর।এখন থেকে নেব।” শান্ত বলল।শান্তর কথায় নিশ্চিন্ত ভঙ্গিতে মাথা নাড়ালেন ডক্টর।বললেন,

_“ আজ রাত এখানেই থেকে যান।স্যালাইন শেষ হোক।আর কিছু ঔষধ লিখে দিচ্ছি নিয়ম করে খাওয়াবেন।” এই বলে ডক্টর চলে গেলেন।

ডক্টর চলে যেতেই অনুভা শান্তর দিকে তাকিয়ে বলল,

_“আমি আপনার কথা বুঝতে পারছি না,শান্ত।”

_“মাহভিন!তুমি প্রেগন্যান্ট…” শান্তর বাক্য শেষ হতে না হতেই অনুভা শক্ত গলায় বলল,

_“আমি এই বাচ্চা রাখব না।”

শান্ত ভ্রু কুঞ্চিত করে বলল,

_“মানে?”

_“ঠিক শুনেছেন।আসবে না সে।”

শান্ত অনুভাকে এত স্বাভাবিক দেখে বলল,

_“তুমি আগেই জানতে?”

_“কিছুটা বুঝতে পেরেছিলাম। তবে আজ নিশ্চিত হলাম।আর আপনার ডক্টরের সামনে এমন নাটক করার প্রয়োজন ছিল না।”

শান্ত না বোঝার মতো করে বলল,

_“ কোনটার কথা বলছ?”

_“নিজের বাচ্চা হিসেবে পরিচয় দেওয়া।”

_“ তাহলে কী করতাম? বলতাম ওর বাবা নেই? ওর বাবা ওর মা'কে ফেলে চলে গেছে?” শান্ত একটু জেদ দেখিয়ে বলল।

অনুভা থেমে গেল।শান্তকে এই কথার পরিবর্তে কী বলা যায় খুঁজে পেল না।কথা ঘুরিয়ে বলল,

_“যাইহোক,আমি ওকে পৃথিবীতে আনতে চাই না।”

_“কেন?”

_“আমি চাই না আমার এই সন্তান পৃথিবীতে আসুক।কারণ সে কেবল আমার নয়,আর যার সে একজন অমানুষ।” অনুভা দৃঢ় গলায় বলল।

_“কিন্তু যে আসবে সে তো মানুষ!তাকে কেন এই শাস্তি দেবে?একটা নিষ্পাপ প্রান কে তুমি মে'রে ফেলতে চাইছো,মাহভিন?”

অনুভা পূর্ণ দৃষ্টিতে শান্তর দিকে তাকাল।

_“কার পরিচয়ে আসবে? কোন পরিচয়ে বড় হবে?”

শান্ত অনুভার কাছে এগিয়ে এলো।

_“ যদি বলি আমার পরিচয়ে বড় হবে।”

_“ আমি কারও দয়া নিতে চাই না।আর এটা অসম্ভব।” অনুভা সঙ্গে সঙ্গে বলল।

_“ দয়া নয়, মাহভিন! এটা দায়িত্ব। তোমার ওপর নয়,ওর ওপর।”

অনুভার কন্ঠ ভেঙে এলো।চোখের কোণে থাকা জল লুকাতে চাইল,

_“ না,আমি আপনার জীবনটা ভারী করতে চাই না।যে ভুল আমার, তার বোঝা আমি আপনার কাঁধে দিতে পারি না।”

শান্ত দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,

_“তুমি বোঝা চাপাতে চাইছ না, আমি নিজেই তুলে নিতে চাইছি। এই পার্থক্যটা বুঝতে চেষ্টা করো।আর কীসের ভুলের কথা বলছ তুমি? ও কোনো অবৈধ সন্তান না।”

_“ আমি ভয় পাই শান্ত।আমার জন্য না…ওর জন্য।আমি এত বড় দায়িত্ব নিতে পারব না।কখনোই না।” অনুভা দু'দিকে মাথা নাড়িয়ে অস্থির গলায় বলল।

_“ দায়িত্বের ভার আমার ওপর ছেড়ে দাও।শুধু এমন কোনো সিদ্ধান্ত নিও না যার হিসেব তোমাকে পরকালে দিতে হয়।”

_“ আপনার রাগ হচ্ছে না,শান্ত?” অনুভা মাথা তুলে বলল।

_“ রাগ? রাগ কেন?” শান্ত জানতে চাইল।

_“ কেন আমার জন্য এত কিছু করছেন?আপনি জানেন, আমি আপনাকে কখনও ভালোবাসতে পারব না। তবুও কেন?”অনুভা কণ্ঠটা শক্ত রাখতে চেয়েও,শেষের দিকে ভেঙে পড়ল।

শান্তর মুখে ম্লান হাসি। অনুভার গালে আলত হাত রেখে বলল,

_“ এই কেনোর উত্তর তুমি জানো।ভালোবেসো না আমায়।প্রয়োজন নেই তার।শুধু তোমার পাশে থাকতে দাও।”

_“ এতে যে আপনি আরও শেষ হয়ে যাবেন।”

শান্ত ঠোঁটে আবারও মৃদু হাসির রেখা ফুটে ওঠে। সে তো সেদিনই শেষ হয়ে গেছে যে দিন নিজের ভার্সিটির স্কুল শাখায় পড়ুয়া মাহভিনকে দেখেছিল।সে দিন অজান্তেই মেয়েটা তার হৃদয় ছিঁড়েছিল। সেই দিন থেকেই তার পৃথিবী ভাঙতে শুরু করেছে।ভেঙে ভেঙে আজ এই অবধি।একেবারে হারিয়ে ফেলার চেয়ে সামনে থেকে চোখের দেখা অন্তত ভালো। পরে কী হবে তা না হয় সময়ই বলে দেবে।

শান্ত অনুভাকে আর কিছু বলল না। অনুভাকে অপেক্ষা করতে বলে চলে এলো খাবার কিনতে।রাত দের’টা বাজে এখন।হসপিটালের ক্যান্টিনেই গেল খাবারের জন্য।যাওয়ার পথে কয়েকজন খেলায় করল ছেলেটা বার-বার চোখের জল মোছার চেষ্টা করছে।হসপিটালের মানুষ গুলো ভাবল হয়তো ছেলেটার আপন কেউ খুব বেশি অসুস্থ।কিন্তু শান্ত কি সে-রকম ছেলে? যে মুহূর্তে কোনো কিছুতে ভেঙে পড়বে, কিংবা কোনো ঘটনায় অবাক হবে? না। বাবা-মায়ের একমাত্র ছেলে শান্ত।বড্ড আদরেই বড় হয়েছে সে।অতি আদরে বিগড়েও গিয়েছিল। তার চোখে কখনো কারও অসুস্থতা জল আনতে পারেনি, হৃদয়েও দাগ কাটতে পারেনি। আর আজ হসপিটালের লোকগুলো তার চোখে জল দেখে কতকিছু ভেবে ফেলেছে।

শান্ত নিজেও জানে না চোখে বার-বার জমে ওঠা জলের কারণ।হয়ত যাকে সে এত গভীরভাবে ভালোবাসে, তার গর্ভে অন্য কারও অস্তিত্ব।এই ব্যথা ভেতরে চেপে রাখা ছাড়া কোনো সমাধান নেই।

—

পরদিন সকালে শান্ত অনুভাকে নিয়ে ফ্লাটে ফিরে আসে।অনুভাকে ফ্লাটে রেখে তার জন্য নতুন কিছু কাপড় কিনে আনে।এছাড়াও অনুভার সুস্থতার জন্য ঔষধ ও বিভিন্ন হেলদি ফল-ফুড নিয়ে আসে।অনুভা এসব দেখে নাক সিটকায়।তার এখন খাবার দেখলেও বিরক্ত লাগে।

_“ এমন করে লাভ নেই। ডক্টর কী বলেছেন শুনোনি?” শান্ত বলল।

_“কী করব খেলেই সব বেড়িয়ে আসে।তখন শরীর আরও দূর্বল লাগে।”

_“তবু খেতে হবে।”

অনুভা শান্তর হাত থেকে ঔষধ আর রিপোর্ট পেপার নিলো।ড্রইং রুমের টেবিলে এখনও ডিভোর্স পেপার পড়ে আছে।অনুভা এখনও সাইন করেনি।অনুভা দু'টো পেপার একত্রে করে বলল,

_“দেখেন আমার কী ভাগ্য! যেদিন আমার ডিভোর্স পেপার এলো, সেদিনই জানলাম তার সন্তান আমার গর্ভে। নিজের ভাগ্যের তারিফ করতে হয়!”

_“ সাইন করছ না কেন?” শান্ত এগিয়ে গিয়ে বলল।

_“ কাল রাতে অনেক ভেবেছি।”

_“ কী নিয়ে?”

বিজ্ঞাপন

অনুভা ডিভোর্স পেপার ইশারা করে বলল,

_“ আমি এখানে এটা কারও জানার কথা না।কীভাবে এই ঠিকানায় পৌঁছাল তা নিয়ে আমার দ্বিধা আছে।”

শান্ত উপর নিচ মাথা নাড়াল।

_“ থাকা স্বাভাবিক।তোমার ইচ্ছা।”

দু’দিন পর রাতে শান্ত তার মা'কে কল করে।ফ্রান্সে তখন আনুমানিক বিকেল চারটা বোধহয়।শাহানা বেগম কল ধরতেই শান্ত বলে,

_“ মম!তোমাকে একটা কথা জানাতে চাই।”

_“ কী এমন কথা? শুনি বল।” ওপাশ থেকে শাহানা বেগম বললেন।

শান্ত এক মুহুর্ত চুপ থেকে গমগম আওয়াজে বলল,

_“ মম,আমি বিয়ে করেছি।আর আমার ওয়াইফ প্রেগন্যান্ট।আশা করি এতে তোমাদের কোনো সমস্যা নেই।আর আমি ওকে নিয়েই ফ্রান্সে যাব।”শান্ত এক দমে বলল।

ওপাশে থাকা শান্তর মায়ের মাথায় বোধহয় আকাশ ভেঙে পড়ল ছেলের এমন কথায়।

_“ মম! শুনতে পাচ্ছ?” শান্ত আবারও বলল।

_“ সব বিষয় নিয়ে মজা ভালো লাগে না শান্ত!” শান্তর মা মেজাজ দেখিয়ে বললেন।

শান্তও দৃঢ় গলায় বলল,

_“ আমি যা বলছি সত্যি বলছি।চাইলে তুমি ভিডিও কল দিয়ে নিজের বউ মা কে দেখে নিতে পারো।”

_“ কাকে বিয়ে করেছিস? কোন মেয়ে?”

_“ যার জন্য এতবছর এখানে রয়েছি।” শান্ত দায়সারা জবাব দিল।তারপর বলল,

_“যাইহোক,পাপাকে বলে দিও আমরা শীঘ্রই আসছি।”

শান্তর মা জানাল সে শান্তর বাবাকে কিছু বলতে পারবেন না।

_“ নিজে এসেই বলিস,আমার সাহস নেই।”

_“ মম!”

_“ আমি পারব না।নিজে ঝামেলা করেছিস,নিজেই এসে মিটা।তোর বাবা তোর উপর এমনিতেই রেগে আছেন।জানিনা এটা শুনলে সে কীভাবে রিয়্যাক্ট করবেন।”

শান্ত আর কিছু বলার আগেই শাহানা বেগম বললেন,

_“ সামনা সামনি দেখেই সিদ্ধান্ত নেব। আগে আয়।”

শান্ত বিরক্ত ভঙ্গিতে ফোন বিছানায় ছুরে মারল।

—-

ফ্রান্সের মার্সেই এয়ারপোর্টে পাশাপাশি হেঁটে আসছে অনুভা আর শান্ত।একটু আগেই তাদের বিমান ল্যান্ড করেছে।প্রায় ১৮ ঘন্টার জার্নি ছিল।এর মধ্যে দুবাইতে একবার ট্রানজিট ছিল।শান্তর দু’হাতে দু'টো লাগেজ।কাঁধে অনুভার আরেকটি ব্যাগ।অনুভাকে কিছুই বহন করতে দিচ্ছে না।অনুভা একটা ট্রলি এনে শান্তকে থামিয়ে দিয়ে বলল,

_“ এটার মধ্যে রাখুন।”

শান্ত অনুভার কথা মতো ট্রলিতে ব্যাগ গুলো উঠিয়ে নিলো।তারপর আবার হাটা ধরল।শান্তর পড়নে শার্টের উপর নেভি ব্লু রঙের জ্যাকেট। অনুভার পড়নে বাদামী একটা লেডিস্ ওভারকোট।

অনুভা চারপাশ ভালোভাবে পরখ করছিল।তার কোনো দিন কল্পনাও ছিল না সময় তাকে এখানে নিয়ে আসবে।যেদিকেই তাকাচ্ছে সব অচেনা লোকজন। যারা ব্যস্ত পায়ে এদিক-ওদিক ছুটছে।কিংবা নিজেদের ব্যাগ সামলাচ্ছে।অনুভার চোখে পড়ল একদম দূরে মার্সেই শহরের পাহাড় আর সমুদ্রের রেখা।যা এয়ারপোর্ট থেকেই দেখা যাচ্ছিল।শহর পরিচিতি না থাকা সত্ত্বেও, সেই দৃশ্য বুকের ভেতর প্রশান্তি বয়ে আনল। তার মনে একটা অদ্ভুত উদ্দীপনা জাগলো,যেন এই অচেনা জায়গার মধ্যে কোনো নতুন গল্প শুরু হতে যাচ্ছে।

ভাবতে ভাবতেই নিজের হাতে কারও স্পর্শ অনুভব করল।পাশে তাকিয়ে দেখল শান্ত তার হাত মুঠোয় নিয়েছে।অনুভাকে অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকতে দেখে শান্ত হাটা অবস্থায়ই বলল,

_“ বার-বার পিছিয়ে পড়ছো।কখন না যেন আবার হারিয়ে যাও।”

_“ আমি পিছিয়ে যাচ্ছি না।আপনি দ্রুত হাটছেন।আমার আপনার মতো এতো এনার্জি নেই।”

শান্ত দাঁড়িয়ে পড়ল।অনুভাকে নিয়ে অন্য রাস্তায় হাটা ধরল।

_“ ওদিকে কোথায় যাচ্ছি?” অনুভা বলল।

_“ভুলেই গিয়েছিলাম প্লেইনের খাবার খেতে পারোনি।ক্যান্টিন থেকে কিছু খেয়ে নাও।”

_“খিদে নেই আমার।খাবো না এখন।”

শান্ত জানে অনুভা এগুলোই বলবে।এতোদিন তাই করে এসেছে।তাই এসব কানে নিলো না।ক্যান্টিনে গিয়ে অনুভাকে খাইয়ে তবেই এয়ারপোর্ট থেকে বের হলো।

বাহিরে এসে তাদের গাড়ির অপেক্ষা করছে।যেটা শান্তর মা ড্রাইভার সহ পাঠিয়ে দেওয়ার কথা।গাড়ি এখনও না আসায় শান্তর মনে মনে রাগ হলো।পাশে থাকা অনুভার দিকে তাকিয়ে দেখল মেয়েটা গম্ভীর হয়ে আছে।শান্ত আরেকটু পাশ ঘেঁষে বলল,

_“ এভাবে থেকো না,তাহলে সবাই ভাববে তোমাকে কি’ডনাপ করে এনেছি।”

_“ আপনি সব কিছু নিয়ে জোর করেন।” অনুভা অন্য দিকে তাকিয়ে বলল।

অনুভার কথায় শান্ত হতাশ ভঙ্গিতে শ্বাস ফেলে বলল,

_“তবুও তো কথা শোনো না।”

অনুভা কিছু বলবে তখনই শান্ত অনুভার হাত চে'পে ধরে আবারও হাটা ধরল।একটা সাদা রঙের গাড়ির কাছে গিয়ে ড্রাইভার কে অসন্তোষ গলায় বলল,

_“You’re so late… I’m frustrated with you.”

_“I’m sorry Sir . আমি ভাবিনি এত আগেই চলে আসবেন।”

অনুভা পেছনে বসল।শান্ত ড্রাইভারের পাশে বসল।ড্রাইভার একটু অবাক হয়ে বলল,

_“স্যার,আপনি ম্যামের পাশে বসলেই পারতেন।”

শান্ত চোখ রাঙিয়ে তাকে গাড়ি চালাতে বলল।ড্রাইভার আর কিছু বলল না। গাড়ি চালাতে লাগল মার্সেইয়ের সরু রাস্তা দিয়ে।অনুভা জানালার ফাঁক গলিয়ে বাহিরের দিকে তাকিয়ে আছে।সেখানে দূরে ভূমধ্যসাগরের নীল রঙ, ছোট ছোট পাহাড় চোখে ভেসে আসছে। তা দেখে তার ঠোঁটে অজান্তেই প্রশান্তির হাসি ফুটে উঠছে।অনুভা নিজের পাশের জানালা একদম খুলে দিলো।হুড়মুড় করে বাতাস এসে তার চুল এলোমেলো করে দেয়।সে জানালার ধারে থুতনি রেখে বাহিরের প্রকৃতি উপভোগ করতে থাকে।

আর এই সব কিছু সামনে বসে থাকা শান্ত রিয়ার ভিউ মিররের মাধ্যমে দেখছিল। অনুভার জানালার ফাঁক দিয়ে বাতাসে ভেসে আসা নীল সমুদ্র, পাহাড়, এবং তার প্রশান্তির হাসি। সে গাড়িতে নিজের পছন্দের মিউজিক চালিয়ে দিল আর সিটে গা এলিয়ে দিলো।

__“হতে পারি বদনাম,

হতে পারি ডাকনাম।

হতে পারি সত্যি,

তোমারি জন্যে…

হতে পারি গল্প,তুমি কাছে টানলে।

হতে পারি জানলা..এ হাওয়া,ও তোমার কারণে..

শুধু তুমি চাও যদি,সাজাবো আবার নদী।

এসেছি হাজার বারোনে..

শুধু তোমারি জন্যে..”__

শান্ত চুপচাপ বসে মিররের দিকে অপলক তাকিয়ে থাকল, মনে মনে অনুভার আনন্দ উপভোগ করছিল। সে কতদিন পর তার মাহভিনের মুখে এইটুকু হাসি দেখল মনে নেই।অনুভা একবার রিয়ার মিররের দিকে তাকাল।শান্তর চোখে কালো চশমা থাকায় বুঝলো না সে ঘুমিয়ে আছে নাকি তাকিয়ে আছে।গাড়িতে চালানো মিউজিকটা তারও ভালো লাগছে, শুনতে শুনতে এক সময় চোখ বুঁজে এলো।

বিজ্ঞাপন
রক্ত রেখার আড়ালে গল্পটি আয়েশা শেখ রিন-এর লেখা একটি জনপ্রিয় রহস্যে মোড়ানো থ্রিলার উপন্যাস