রক্ত রেখার আড়ালে

পর্ব - ২০

🟢

River Plate- ক্লাবের লাল-সাদা জার্সি গায়ে চাপিয়ে বল পায়ে নিয়ে দৌড়াচ্ছে তায়ান। ঘামে শরীর ভিজে উঠেছে, ঘামে ভেজা চুল গুলো কপালে লেপ্টে আছে। উজ্জ্বল শ্যাম বর্নের মুখটা লাল হয়ে উঠেছে।সে মাঝমাঠ থেকে বল কন্ট্রোল করে এক টাচে ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে সামনে এগিয়ে গেল। প্রতিপক্ষের দুই খেলোয়াড় তাকে ঘিরে ধরতেই তায়ান হঠাৎ শরীর বাঁকিয়ে বলটা বাম পায়ে সরিয়ে নেয়।চোখের পলকেই ফাঁকা জায়গা তৈরি।

দর্শকসারিতে উত্তেজনার ঢেউ। গ্যালারি থেকে ভেসে আসছে তার নাম। তায়ানের নিঃশ্বাস দ্রুত, কিন্তু চোখ স্থির।গোলপোস্টের দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি। আর মাত্র কয়েক কদম… বলটা এখনও তার পায়ের নিয়ন্ত্রণে।গোলপোস্টে বল এগিয়ে দেবে সেই সময় তায়ানের চোখে একটা অশ্রুসজল নারী মুখচ্ছবি ভেসে ওঠে,যার চোখ দু’টো নীরব আর্তিতে ভরা।সঙ্গে সঙ্গে তায়ানের পা থেমে যায়,আটকে আসে তার নিশ্বাস। পর মুহুর্তেই পেছন থেকে প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড়ের ধাক্কায়

ভারসাম্য হারিয়ে তায়ান হুমড়ি খেয়ে পড়ে যায় সবুজ ঘাসের মধ্যে।

রিকো দৌড়ে এসে তায়ানের পাশে বসল।রেফারির তীক্ষ্ণ বাঁশির শব্দ বাতাস চিরে উঠল।সবুজ ঘাসের ওপর ছড়িয়ে থাকা শরীরটা এক মুহূর্ত নড়ল না,শুধু বুকটা দ্রুত উঠানামা করছে। প্রতিপক্ষ খেলোয়াড় দু’হাত তুলে নির্দোষ ভঙ্গিতে কিছু বলতে চাইছে, আর তায়ানের টিমমেটরা ছুটে এসে রেফারির চারপাশে জটলা বাঁধছে।কেউ প্রতিবাদ করছে, কেউ ধাক্কাধাক্কি ঠেকাতে এগিয়ে যাচ্ছে।কেউ চিৎকার করছে ফাউলের দাবিতে। কিন্তু ঘাসের ওপর শুয়ে থাকা তায়ান চোখ বন্ধ করে ধীরে মাথা নাড়িয়ে রিকো কে বলল,

_“ওদের এমন করতে নিষেধ করো, এটা ফাউল ছিল না।আমি নিজেই খেলার তাল হারাচ্ছি বারবার।”

রিকো তায়ানের কথা মতো রেফারিকে জানিয়ে আসল। এছাড়াও বিশাল স্ক্রিনের রিপ্লে ভিডিওতেও স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল,তায়ান আচমকা থেমে যাওয়ায় অন্য দলের খেলোয়াড় পায়ের স্থিতি বজায় রাখতে না পেরে তায়ানের উপর পড়ে যায়।

খেলা শেষে রেস্টিং রুমে চলে আসে তায়ান।ঘামে ভেজা জার্সি খুলে বেঞ্চে বসে পড়ল তায়ান। মাথা নিচু, দুই কনুই হাঁটুর ওপর রাখা। বুকটা এখনও দ্রুত উঠানামা করছে। ফিজিওথেরাপিস্ট এসে তায়ানের চেক-আপ করতে চাইলে তায়ান সরিয়ে দেয়।

চারপাশে কেউ বুট খুলছে, কেউ তোয়ালে দিয়ে চুল মুছছে।রিকো এসে তায়ানের দিকে পানির বোতল এগিয়ে দিলে তায়ান তা এক চুমুকে শেষ করে ফেলে।তারপর রিকো তায়ানের পাশে বসে বলল,

_“খুব বেশি পেইন হচ্ছে?”

তায়ান ঘামের ভেজা চুলে হাত দিয়ে পেছনে সরাতে সরাতে বলল,

_“ না, কমে যাবে।” বলে পায়ের গোড়ালির দিকে তাকাল।

_“ এখানের কথা বলিনি,ওখানের কথা বলেছি।” রিকো তায়ানের বুকের দিকে ইশারা করে বলল।

তায়ান রিকোর দিকে বিরক্তিভরা দৃষ্টি ফেলে বলল,

_“এখানে কোনো পেইন হচ্ছে না।”

রিকো হাসল।বলল,

_“ লাস্ট করেকটি ম্যাচ তোমার জন্য হারতে হচ্ছে।”

তায়ান এবার আরও বিরক্ত নিয়ে রিকো কে বলল,

_“ননসেন্সদের মতো কথা বলছো কেন? আমি না হয় খারাপ খেলছি,তোমরা কী করছো?”

_“তুমি এমন হয়ে গেলে কেন তায়ান?এভাবে খেলতে থাকলে না আমরা ফাইনাল ম্যাচে পৌঁছাতে পারব,আর না তোমাকে টিমে রাখবে!”

_“ না রাখলে না রাখবে তোমার কী?” তায়ান জেদ দেখিয়ে বলল।

রিকো অবাক স্বরে বলল,

_“ তায়ান! এটা তোমার স্বপ্ন ছিল! ভুলে গেছো এর জন্য কী কী করেছ?”

তায়ান কথা বলল না। চুপচাপ মেঝের দিকে তাকিয়ে থাকল।লাস্টবার বাংলাদেশে গিয়েছিল দু’মাস আগে,এরপর আর যাওয়া হয়নি।যাবেও না কারণ সেখানে অনুভা নেই।তাহলে কোথায়? রিকো লোক লাগিয়ে অনেক জায়গায় খুঁজেছে।তায়ান জানে না কেন সে খুঁজে তাকে,তবুও খুঁজে বের করতে চায়। বারবার তার স্বপ্নে এসে জ্বালাতন করার কারণ জানতে চায়।

___

পর দিন ড্রইং রুমে একসঙ্গে বসে খাচ্ছিল তায়ান,রিকো আর এলেনা। মেডরা খাবার পরিবেশন করছিল। তায়ান ব্রেড ছিরে ছিরে প্লেটে জমাচ্ছিল।এলেনা সেদিকে এক নজর দেখে বলল,

_“ পাপা ক্রুজে আছে,খুব শিঘ্রই বন্দরে পৌঁছে যাবে। যাওয়ার আগে বারবার তোর কথা বলছিল,এসে কিছু জিজ্ঞেস করলে সব বলে দেব।”

তায়ান এলেনার দিকে তাকাল না।আগের মতো থেকেই বলল,

_“কী বলবি তুই?”

_“তুই কী ভেবেছিস আমি কিছু জানি না?”

_“যা গিয়ে বলে দে।” তায়ান অনুভুতিহীন গলায় বলল।

এলেনা রেগে গিয়ে খাবার ছেড়ে উঠে দাঁড়াল,ফুঁসতে ফুঁসতে বলল,

_“পাপা তোকে এই অবস্থায় দেখার জন্য এসব করায় নি। শুধু মাত্র এতটুকু করেই থেমে গিয়েছিস!তোর মায়ের হাসবেন্ডকে এখনো কেন বাঁচিয়ে রেখেছিস?কীসের দয়া দেখাচ্ছিস তুই?”

_“ আমি কী করব, না করব সেটা তুই ঠিক করে দিবি না।” তায়ানও ক্ষুব্ধ হয়ে বলল।

_“ আমিই ঠিক করব।ভুলে যাস না আমার পাপাই তোকে ওই জাহান্নাম থেকে তুলে এনেছিল। আজ যা পেয়েছিস সব কিছুর পেছনে কার অবদান মনে করে দেখ।”

রিকো এলেনাকে ধমকে উঠলো।তায়ান টেবিল ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে এলেনার দিকে জ্বলন্ত চোখে তাকিয়ে দাঁত পিষে বলল,

_“তাহলে তো এটাও মনে করাতে হয়,তোর পাপার আজ এই জায়গাও শুধু মাত্র আমার জন্য।”

রিকো এলেনাকে আর কোনো কথা বলতে দিলো না।তায়ান আর খাবার না খেয়ে চলে গেল নিজের রুমে। উপর থেকে ভাঙচুরের শব্দ আসতেই ম্যানশনের মেড,গার্ড গুলো চমকে উঠলো। এলেনা তায়ানের রুমে যেতে চাইলে রিকো বাঁধা দেয়,

_“ তুই সব সময় বাড়াবাড়ি করে ফেলিস এলেনা!”

_“বাড়াবাড়ি করলে আরও অনেক কিছুই করতে পারতাম।”

_“ ওকে তো চিনিস,এসব করে কখনো ওর মন মতো হতে পারবি না।” রিকো বলল।

_“ তোরা আমাকে বোকা বানিয়ে কতবার বাংলাদেশে গিয়েছিস!কেন গিয়েছিস? কীসের টানে?”

_“সেটা তায়ান জানে।”

_“তুইও জানিস তুই সব জানি। আমিও জানি,ও ওই মেয়েটার জন্যই গিয়েছে।”

_“মেয়েটার জন্য কেন যাবে? মেয়েটার সঙ্গে তো তোর আমার শত্রুতা নেই,যা শত্রুতা ওর সঙ্গে।”

এলেনা আর কিছু না বলে বাসা থেকে বের হয়ে গেল। বাইক নিয়ে চলে গেল ক্লাবে।

____

সকাল থেকেই অলি বাসায় নেই।আরিজ এই কয়েকদিন ধরে অলির উপর ভালোই নজর রাখছে, কারণ মাসটা সুবিধার না। ফেব্রুয়ারি মাসের ভ্যালেন্টাইনস উইক চলছে। এই বয়সের মেয়েদের দিয়ে বিশ্বাস নেই,তাই আগের থেকে এখন একটু চোখে চোখে রাখছে। যদিও এই কয়েকদিন মেয়েটাকে বাসা থেকে বের হতে দেয়নি।কলেজেও যেতে দেয়নি। বাড়ির মানুষজন প্রশ্ন করলে কিছু একটা বলে কথা কাটিয়ে দিয়েছে।সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে অলিকে বাসায় না পেয়ে উর্মিলা বেগমকে নিচে দেখতে পেয়ে আরিজ বলল,

_“অলি কোই?”

_“একটু আগেই কলেজে গেল।” উর্মিলা বেগম বললেন।

_“কিহ?” আরিজ অবাক কন্ঠে বলল।

_“হ্যাঁ,ও বলল ওর ইম্পর্টেন্ট ক্লাস আছে।”

আরিজের মুখের রঙ বদলে যায় সাথে সাথেই।

_“আমি তোমাদের বলিনি এই কয়েকদিন যেন কোথাও না যায়?”

উর্মিলা বেগম আমতা আমতা করে বললেন,

_“বলেছিলাম রে শুনেনি।”

আরিজ আর কথা বাড়াল না।হনহনিয়ে বেড়িয়ে গেল নিজের নতুন কেনা বাইক নিয়ে। রাগের চটে তার কপালের রগ ফুলে উঠেছে।মেয়েটার কত সাহস তাই ভাবছে।একবার খুঁজে পাক ওর ইম্পর্টেন্ট ক্লাস কী সেটা আরিজ দেখে ছাড়বে।

প্রথমেই গেল অলিদের কলেজে। কলেজ গেইটের সামনে বাইক রেখে ভিতরে গেল। অলির কয়েক জন বান্ধবীকে দেখে আরিজ সেদিকে দ্রুত পায়ে গেল।

অলির কথা জিজ্ঞেস করতেই বলল একজন মেয়ে বলল,

_“ ও তো কয়েকদিন ধরেই আসছে না।আজও আসেনি।”

বিজ্ঞাপন

আরিজ হাসি মুখে মেয়ে গুলোকে বিদায় জানিয়ে চলে আসল। দু'হাত মুষ্টিবদ্ধ করে গেইট ছেড়ে বেড়িয়ে আসল।তাহলে তো ওর সন্দেহই ঠিক।নিশ্চিত কোনো ছেলের সঙ্গে ঘুরতে গিয়েছে। “অলি কলির বাচ্চা!তোকে আজ পাই একবার।” বাইক স্টার্ট করতে করতে বিরবির করল আরিজ।

___

দু'পাশে ঝুলে থাকা চুলের বিনুনি ধরে হাঁটছে অলি। গায়ে কলেজের ড্রেস,কাঁধে ব্যাগ। দৃষ্টি রাস্তার দিকে নামানো। আশেপাশে তাকালেই তার গা জ্বলে যায়। যে দিকে তাকায় সেদিকেই কাপল। রিক্সায় কাপল,ফুলের দোকানে কাপল,পথে-ঘাটে সব খানেই। এদের একসঙ্গে হাতে হাত ধরে হাসি মুখে ঘুরে বেড়ানো মোটেই ভালো লাগছে না। আগে জানলে বের ই হতো না বাসা থেকে। কিন্তু বাসায়ও থাকার মতো না। যেখানে একদিন বাসায় থাকলেই দম বন্ধ হয়ে আসে,সেখানে ছয় দিন ধরে বাসায় বন্দী করে রেখেছে আরিজ ভাই।

ভাবতে ভাবতেই আচমকা সামনে,অলির খুব কাছে একটা বাইক এসে থামে। আকস্মিক ঘটনায় অলি চমকে উঠে, একটু পিছিয়ে যায়। রাগী চোখে সামনে তাকাতেই থমকে যায়। আগন্তুক যে আরিজ ভাই!যে এখন বাইক ছেড়ে নেমে আসছে..এক পা, দুই পা।অলি আশেপাশে তাকাল। রাস্তা পার হয়ে ওপাশে চলে যেতে চাইল।তৎক্ষনাৎ অলিকে হেঁচকা টানে আরিজ নিজের দিকে ঘোরায়। খুব শক্তি খাটিয়ে অলির নরম গালে চ'ড় বসিয়ে দেয়।

_“ইম্পর্টেন্ট ক্লাস? তোকে আমি বের হতে নিষেধ করেছিলাম কিনা বল?”

অলি কী বলবে, সে তো আঘাতপ্রাপ্ত গালে হাত রেখে স্থীর চোখে আরিজের দিকে তাকিয়ে আছে।চারদিকে কয়েকজন তাকিয়ে আছে। অলির খুব অপমানবোধ হলো।এভাবে রাস্তার মাঝে গায়ে হাত তোলার সাহস হলো কীভাবে? কোন অধিকারে? অলির চোখ জ্বলছে,ঠোঁট কাঁপছে কান্নার আগ মুহুর্তে যেমন হয়।কিন্তু সে কাঁদবে না।পাশে আরেকবার তাকাল,গাড়ি নেই।এক দৌড়ে চলে গেল রাস্তার ওপাশে।

_“অলি!” আরিজ উচ্চস্বরে ডেকে ওঠে। আরিজ রাস্তা পার হবে সঙ্গে সঙ্গে কিছু গাড়ি চলে আসে। রাগে নিজের বাইকে গিয়ে লা’থি মারে।

গাড়ি আশা যাওয়া কমলে আরিজ রাস্তা পার হয়।অলি এতক্ষণে রাস্তার পাশে থাকা লেকের দিকে চলে গেছে। আরিজ আবারও দ্রুত ছুটে গেল। অলির কাছাকাছি গিয়ে তার হাত ধরতেই অলি তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠে। পেছন ঘুরে আরিজের বুকে ধা’ক্কা মেরে বলল,

_“ ধরবেন না আমাকে,নাহলে একদম পানিতে গিয়ে ঝাপ দেব।”

আরিজ পাশের লেকের দিকে তাকাল।

_“তুই বাসা থেকে একা বের হয়েছিস কেন?”

_“একা বের হবো না তো,এলাকার লোকজন সঙ্গে নিয়ে বের হবো?” অলি বলল।

_“ আমি এই কয়েকদিন বের হতে বারণ করেছিলাম অলি! খুব সাহস বেড়ে গিয়েছে তোর নাহ?”

_“ বেশ করেছি বের হয়েছি। বাসায় থাকতে থাকতে আমি ম'রে যাচ্ছি।নিজেও কোথাও নিয়ে যাবেন না,আবার আমি আসলে দোষ।” বলতে বলতে অলির কন্ঠ ভেঙে এলো।

আরিজের কন্ঠও নরম হয়ে এলো।

_“ঘুরতে যেতে চাস তাহলে আমাকে বললেই হতো।”

_“হ্যাঁ,বললে বলতেন বাসার পরিস্থিতি আগের মতো নেই।আমি পরিস্থিতি বুঝি না,আপনার ছুটি নেই।এছাড়া আপনার তো আরও নীতিবার্তার অভাব নেই।”

অলির চোখ টলমল করছে।অভিযোগ করে কিছু বলতে গেলেও কান্না চলে আসে তার।

আরিজ কিছু বলতে পারল না।অলির কথায় ভুল নেই।এগুলোই বলে এবং বলত।

_“ তাই বলে তুই অবাধ্য হবি?” আরিজ বলল।

_“ হবোই তো! আপনার জন্য আমি কোনো গিফট পাইনি।”

আরিজের মুখ আবার শক্ত হয়ে উঠল।

_“কে গিফট দিতো তোকে?”

_“ কে আবার?আমার ফ্রেন্ডরা। এছাড়াও আরেক জন আছে।” অলি আরিজের রাগ বুঝতে পেরে আরেকটু রাগানোর জন্য বলল।

_“কে সে?”

অলি মিটিমিটি হাসল।কিছু বলল না।

আরিজ আবারও কন্ঠ শক্ত করে বলল,

_“কী হলো বল!কে সে?”

অলি তবু কিছু বলল না। আরিজ অলির দিকে কয়েক পা এগিয়ে গেল অলির চোখে কঠোর দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল,

_“অলি! রাগাস না আমাকে,পেছনের পুকুরে ডুবিয়ে মারব তোকে।কেউ জানবেও না।”

অলি আবারও রাগ দেখিয়ে বলল,

_“ কেউ না।কে দেবে? কারও গিফট নেব আমি? এতগুলো দিন আমাকে বাসায় আটকে রাখলেন।কেন, রোজ ডে তে একটা গোলাপ দিলে কী হতো? চকলেট ডে তেও চকলেট দেন নি।আমার টেডি কত ভালো লাগে!সেটাও দেন নি। প্রমিস ডে তে সারাজীবন চকলেট কিনে দেবেন এমন কিছুও তো প্রমিজ করসে পারতেন।”

অলিকে থামিয়ে দিয়ে আরিজ বলতে শুরু করল,

_“কালকে হাগ ডে গিয়েছে, সেটাও করিনি। এর জন্য,সরি।সব গুলোর জন্যই,সরি।” এতটুকু বলে থামল আরিজ। অলি কাছাকাছি এগিয়ে গেল আরও।খুব কাছে।ঠোঁটে বাঁকা হাসি ঝুলিয়ে বলল,

_“আজকে তো কিস ডে!” এতটুকু বলতেই অলির চেহারা বদলে গেল। আজকে কিস ডে অলি জানত।এগুলো সে ভালোভাবেই মনে রাখে। তবে এই মুহুর্তে ভুলে গিয়েছিল। নাহলে বলত না।আরিজ আরও দুরত্ব কমাল।ধীর গলায় বলল,

_“ আজকেরটা নিবি না?”

অলি অপ্রস্তত হয়ে পড়ল। আরিজ ভাই এমন কিছু বলতে পারে ভাবেনি। প্রথমবার তার থেকে এমন কিছু শুনতেই অলির সর্বাঙ্গে শিহরণ বয়ে যায়।সে একটু পিছিয়ে যেতে চাইল,কিন্তু আরিজ তার সুযোগ না দিয়ে অলির হাত খপ করে ধরে ফেলল।অলি কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বলল,

_“ছিঃ! আরিজ ভাই আপনি এতো অসভ্য কবে হলেন?”

আরিজ স্বাভাবিক সুরে বলল,

_“অসভ্যের কী আছে? তুই ই তো চাইলি? সব কিছু চাস এটা দিলে কী সমস্যা?”

_“ আ-আমার এটা লাগবে না।”

_“আমার লাগবে।” বলেই আরিজ অলির ঘাড়ে হাত রাখল।তার আগে চারপাশ পরখ করে অলিকে টেনে মোটা একটা গাছের আড়ালে নিয়ে নিলো। অলি কেঁপে উঠে কিছু বলবে তার আগেই, একটু আগে থা’প্পড় দেওয়া গালে টুপ করে চুমু খেল। অলি হতবাক হয়ে আরিজের দিকে তাকাল।আরিজ অলির দিকে গভীর চোখে তাকিয়ে নিচু স্বরে উচ্চারণ করল,

_“গোপাল,চকলেট,টেডি যাবার সময় কিনে দেব।প্রপোস ডে এর জন্য ‘আই লাভ ইউ মাই অলি জান!” অলির চোখ কপালে উঠে গেল।নিশ্বাস থমকে গেছে কখন ই।আরিজ আরও বলল,

_“হাগ ডে এর জন্য..” এতটুকু বলে অলিকে জড়িয়ে ধরল।খুব গভীর ভাবেই জড়িয়ে ধরল।কতদিনের ইচ্ছা ছিল আরিজের!অলি তো জানে না।

অলি কিংকর্তব্যবিমূঢ়,তবু অজান্তেই দু-হাত তুলে আরিজের পিঠে রাখল।চোখ বন্ধ করে তার গায়ের ঘ্রান অনুভব করল।কয়েক মুহুর্ত পর আরিজ অলিকে ছাড়িয়ে নিয়ে অলির কোমল অধরের দিকে তাকিয়ে আবারও মৃদু গলায় বলল,

_“আর আজকের কিস ডে’র জন্য…” এইটুকু বলে অলির ঠোঁটের দিকে ঝুঁকে এলো আরিজ।অলি শুকনো ঢোক গিলল।আরিজের এমন ব্যবহারে অলি দিশেহারা প্রায়। এতক্ষণ ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে সব শুনলেও এবার আরিজকে থামিয়ে দিলো।নিজের হাতের তালু দিয়ে আরিজের ঠোঁট চে'পে ধরে ফিসফিস করে বলল,

_“ নাহ! এমন ভাব করছেন যেন আমরা বিবাহিত!”

আরিজ নিজের মুখ থেকে অলির হাত সরিয়ে দিয়ে বলল,

_“বিয়ে করবি আমায়?”

_“এত দিনেও বোঝেন নি?”

আরিজ হাসল।অলির আরেক গালে চুমু খেয়ে বলল,

_“সরি!”

_“কেন?”

অলির প্রশ্নে আরিজ অলির গালে হাত রাখল,যেটা একটু আগের দেওয়া থা’প্পড়ের আঘাতে লাল হয়ে আছে।

_“মেরেছি তাই।”

অলি আরিজের দিকে তাকিয়ে লাজুক ভঙ্গিতে হাসল। তার মানে তার আরিজ ভাইও তাকে ভালোবাসত? শুধু বুঝতে দেয়নি। কবে থেকে ভালোবাসে সে? অলির আগে থেকে? অলির জানতে ইচ্ছা করল। প্রশ্ন করবে সেই মুহুর্তে আরিজ মিছে রাগ দেখিয়ে ভ্রু কুঁচকে বলল,

_“আমি উত্তর পাইনি, অলি!”

অলি বুঝতে পারল না আরিজের কথা।

_“কীসের উত্তর?”

_“মনে করে দেখ।”

অলি কিছুক্ষণ ভাবল।কিছু একটা মনে হতেই আরিজকে জড়িয়ে ধরে বলল,

_“আই লাভ ইউ টু।”

বিজ্ঞাপন
রক্ত রেখার আড়ালে গল্পটি আয়েশা শেখ রিন-এর লেখা একটি জনপ্রিয় রহস্যে মোড়ানো থ্রিলার উপন্যাস