_“আমি কিছু দিনের জন্য আবার আর্জেন্টিনায় ফিরে যাচ্ছি বাবা। সেখান থেকে আবার স্পেনে যেতে হবে।”রাতের খাবার শেষ করে তায়ান আরমান আহসানির রুমে গিয়ে বলে।আরমান আহসানির নিজের ছেলের কথা শুনতেই কপাল কুঁচকে যায়।
_“কেন?”
_“পরশু স্পেনে একটা ম্যাচ আছে এন্ড সেখানে আমাকে খেলতেই হবে।”
_“ না তুমি এখন কোথাও যাচ্ছ না।এখন কেন আর কখনোই যাবে না।একবার গিয়ে চৌদ্দ বছর দুরে ছিলে,আমি আর তোমাকে কোথাও যেতে দেব না।”
বাবার কথায় তায়ান হাসে।আরমান সাহেবের হাত মুঠো করে ধরে বলে,
_“ আমি জানতাম বাবা তুমি এমনটাই বলবে।এইজন্য আমি রিকো কে রেখে যাচ্ছি।আমি তিন/চার দিনের ভেতর চলে আসার চেষ্টা করব।
আরমান সাহেব তবুও নাকচ করেন।তার মনে যে ভয় ঢুকে আছে।এই ছেলে একবার চলে যাওয়ায় যা অবস্থা করেছিলো আরমান সাহেবের! আবার গিয়ে যদি ফিরে না আসে?
তায়ান নিজের বাবাকে বোঝালো,
_“বাবা দেখো আমি সেখানকার জাতীয় দলের ফুটবলার।আমাকে যেতেই হবে,শুধু এখন না যতবার আমাকে সেখানে প্রয়োজন পরবে ততবারই যেতে হবে।” একটু থেমে,
_“তোমার কী গর্ভ হয় না তোমার ছেলের জন্য?”
আরমান সাহেবের চোখ ছলছল করে ওঠে।গর্ভ হয় না আবার? যেদিন থেকে নিজের ছেলেকে টিভির পর্দায় দেখতো সামনে থেকে দেখার জন্য ব্যাকুল হয়ে থাকতো।তায়ান বাবার চোখে জমে ওঠা জল দেখে জরিয়ে ধরল।আরমান সাহেবও ছেলেকে ঝাপটে ধরল।
_“আমি চলে আসবো বাবা।চিন্তা করো না।”
আমীরা বেগম দরজায় দাঁড়িয়ে থেকে দেখল।তার জীবনের একমাত্র শুন্যতা ছিলো তার ছেলে।আরমান সাহেব ভেঙে যাবেন বলে কখনো চেয়েও কিছু বলতেন না।মানুষটা যে আমীরা বেগমের থেকেও ছেলের জন্য বেশি উন্মাদ।
__
আরমান সাহেব এবং আমীরা বেগমের সাথে কথা বলে নিজের রুমে আসে তায়ান।আসতে না আসতেই অনুভা অস্থির পায়ে তায়ানের রুমে ঢোকে।
_“কেন চলে যাচ্ছেন আবার?চলেই যখন যাবেন আসলেন কেন?আপনি জানেন আপনার জন্য বড়ো আম্মু ও বড়ো আব্বু কত অপেক্ষা করেছে?আপনার কাছে কী এগুলো পুতুল খেলা মনে হয়?”
একদমে কথাগুলো বলল অনুভা।এত কথার বিপরীতে তায়ান শুধু বলল,
_“ আমি চলে যাচ্ছি কে বলল তোকে?”
_“বড়ো আম্মু।”
_“তোর বড়ো আম্মু কী এটা বলেনি আমি মাত্র দু'দিনের জন্য যাচ্ছি?” এক ভ্রু উচিয়ে প্রশ্ন করল তায়ান।
অনুভা থতমত খেলো।আমীরা বেগম যখন বলছিলেন তায়ান চলে যাবে বাকি কথা না শুনেই চলে এসেছে।জানবে কীভাবে?কথা ঘোরানোর চেষ্টা করল,
_“কবে যাচ্ছেন?”
_“ভোরে ফ্লাইট।রিকো এখানেই থাকবে।”
_“বুঝতে পেরেছি।” বলে রুম থেকে চলে যাওয়ার জন্য উদ্যত অনুভা। পেছন থেকে তায়ান বলে ওঠে,
_“অপেক্ষা কী শুধু তোর বড়ো আব্বু-আম্মুই করেছে,আর কেউ করেনি?”
অনুভা দাঁড়িয়ে পরে।পেছন না ঘুরেই বলে,
_“ সবাই অপেক্ষা করেছে।”
_“আর তুই?” তায়ান বলল।
অনুভা ঘাড় ঘুড়িয়ে তায়ানের দিকে তাকায়।তায়ান ভ্রু উঁচিয়ে জানতে চায়।
অনুভা মেকি হেসে বলে,
_“ আমি জানতাম আপনি আসবেন।”
তায়ান অবাক হওয়ার ভান করে,
_“তাই? কীভাবে জানতিস?”
_“আমার মনে হতো আপনি আসবেন।”
_“আগে জানলে না এসে তোর মনে হওয়া ভুল প্রমান করতাম আমি।” তায়ান উপহাসের স্বরে বলল।
অনুভার মুখটা মলিন হলো।তায়ান এতক্ষণ ফোনে নজর রেখে অনুভার সাথে কথা বলছিলো।অনুভাকে নিরব থাকতে দেখে তার দিকে তাকিয়ে বলল,
_“কী হলো?”
_“কিছুনা।”
_“কাজ আছে তোর এখন কোনো?” তায়ান প্রশ্ন করল।
_“না।”
_“ঘুমাবি না?”
_“ঘুম পাচ্ছে না।” অনুভা বলল।
_“আচ্ছা।”
_“কেন?”
_“বেডে রাখা কাপড় গুলো লাগেজে তুলে রাখতে বলতাম।” বিছানার দিকে ইশারা করে বলল তায়ান।
অনুভা ঠোঁট কামড়ে মাথা নাড়ালো।এক এক করে সব গুলো শার্ট,টি-শার্ট ভাজ করে লাগেজে ওঠালো।
__
ঘরির কাটা সকাল আটটায় তখন অনুভার ঘুম ভাঙ্গলো।কিছু একটা মনে হতেই হুড়মুড়িয়ে উঠে বসলো।দ্রুত পায়ে রুম থেকে বেড়িয়ে তায়ানের রুমে গেল।শুন্য হয়ে আছে রুমটা।তার মানে চলেই গেছে তায়ান ভাই! একবার তো ডেকে বলেও যেতে পারত।আর আজকে এত ঘুম কীভাবে ঘুমাল অনুভা।অন্যদিন তো কত আগেই ঘুম ভেঙে যায়।
ধীর পায়ে নিচে নেমে আসল।আজকে শুক্রবার সবাই বাসায়।আরিজ,রিকো,আর আরমান সাহেব এয়ারপোর্টে গিয়েছে তায়ানের সঙ্গে।আমীরা বেগম ও উর্মিলা বেগম রান্না ঘরে।নাফিসা বেগম,আরশাদ সাহেব সোফায় বসা।অনুভাকে আসতে দেখে নাফিসা বেগম বললেন,
_“কালকে তোমাকে রেখে যাওয়ার সময় রাফিদ কার এ*ক্সিডেন করেছে শুনেছ?”
_“মাত্র শুনলাম।” অনুভা বলল।তার বুকের ভেতরটা হালকা হয়ে এলো।সে ভেবেছিলো রাফিদ কালকের ঘটনা সবাইকে বলে দেবে।তার মানে রাফিদ নিজেও এটা লুকাতে চাইছে।
_“একটু পর বের হবো তৈরি থেকো।” নাফিসা বেগম বললেন।
_“ কোথায় যাচ্ছি?”
_“তোমার হবু স্বামী হসপিটালে ভর্তি সেখানেই যাব।” নাফিসা বেগম বিরক্তি স্বরে বললেন।”
_“উনি এখনো আমার স্বামী হয়নি!”
_“হবে তো…আর কিছুদিন বাদেই তোমাদের বিয়ে,তোমার উচিত গিয়ে দেখে আসার।কথা না বাড়িয়ে মায়ের সঙ্গে চলে যাও।” আরশাদ আহসানি বললেন।
অনুভার যেন কী হলো কে জানে।বলেই ফেলল একটা বড়ো কথা,
_“ মা তো নেই আমার বাবা।মা থাকলে বুঝি এত কিছু সহ্য করতে হতো?”
ব্যস নাফিসা বেগম সঙ্গে সঙ্গে অনুভার চোয়াল চে'পে ধরল।
_“দিন দিন কথার ধার বাড়ছে তোমার তাইনা? কী সহ্য করছ তুমি?তোমার মা থাকলে কোন রাজপুত্রের কাছে বিয়ে দিতো তোমার?”
অনুভা চোখ বন্ধ করে রেখেছে।তার বাবা তো এখানেই।কই সে তো এগিয়ে আসছে না!এগিয়ে এসে বলছে না আমার মেয়ের সাথে ধমকে কথা বলবে না।এ কেমন বাবা?
তার নিজের বাবা না আসলেও তার বড়ো আব্বু ঠিকই আসলো।এক ঝটকায় সরিয়ে দিলো নাফিসা বেগমের হাত।মাত্রই এয়ারপোর্ট থেকে ফিরেছে সে।রাগে গর্জন করে উঠলেন আরমান সাহেব,
_“ এত বড়ো মেয়ের গায়ে হাত তুলছো! তোমার মধ্যে কী বিন্দু মাত্র মানবিকতা নেই?”
_“দরদ দেখাতে আসবেন না,ভুল করলে শাসন করব না তো চুমু খাবো?” নাফিসা বেগম ফুঁসে উঠে বললেন।
_“স্পর্দা বেড়ে যাচ্ছে তোমার নাফিসা! বাড়াবাড়ি করলে একদম বাড়ি থেকে বের করে দেব।” আরমান সাহেব চেচিয়ে উঠলেন।
আরশাদ সাহেব এবার বসা থেকে দাঁড়িয়ে উঠে বললেন,
_“ আমার স্ত্রীর সঙ্গে এভাবে কথা বলার কোন রাইট নেই আপনার ভাইজান।তাকে বাড়ি থেকে বের করে দিতে হলে আগে আমাকে বের করতে হবে।আর ভুলে যাবেন না বাড়িটা আপনার একার না।”
আরমান আহসানি বিস্মিত চোখে ভাইকে দেখছে।আফসোস হয় তার।চেহারার মিল না থাকলে বোধহয় তার বিশ্বাসও হতো না এটা তার আপন ভাই।এই একটা জায়গায় মিল আছে বলেই তারা একি মায়ের পেটের ভাই।নাহলে তাদের মধ্যে আকাশ সমান পার্থক্য।
_“তোর স্ত্রী’কে এভাবে কথা শোনালে তোর গায়ে লাগে।মেয়েটাও তো তোর।তখন তোর মুখ দিয়ে প্রতিবাদী শব্দ বের হয় না কেন?বউয়ের বেলায় সুপুরুষ,মেয়ের বেলায় এমন কাপুরষ হোস কেন?” আমীরা বেগম বললেন।
অলি অনুভাকে নিয়ে রুমে চলে গেল। অনুভার কান্না করা ছাড়া কিছু করার নেই।এখন কান্নাও পায় না।কারন মানুষ অভ্যেসের দাস।যে মানুষ যে জিনিসে অভ্যস্ত হয়ে যায় তার আর ওই জিনিসে কষ্ট হয় না। তবুও অনুভার কেন যেন কাঁদতে ইচ্ছা করে।গলা ছেড়ে চিৎকার করে নিজের মা'কে ডাকতে ইচ্ছা করে।কেন তার মা নেই?কেন তার এত দুঃখ!
__
বিকেলে অনুভা নিজের রুমে শুয়ে ছিলো।রাফিদকে দেখে একটু আগেই এসেছে।রাফিদ ঘুমাচ্ছিল তাই তার মুখোমুখি হতে হয়নি।কেমন যেন শুন্য শুন্য লাগছে অনুভার।শুক্রবার বাসায় সবাই আছে তবুও যেন কিছু একটা নেই।
অলি আসল রুমে।
_“ছাদে চলো আপু।বোরিং লাগছে খুব।”
_“ না এখানেই বোস।” অনুভা বলল।
_“এখানে বসে কী করব?” কিছু ভেবে বলল,_“উনো খেলি চলো।”
_“দুজনে কী খেলব?”
_“ আমি মানুষ জোগাড় করে আনছি।” বলেই দৌড়ে বেড়িয়ে গেল রুম থেকে।
আরিজ আর রিকো কে টেনে নিয়ে আসল।অনুভব অলিকে এভাবে তাদের দুজনকে নিয়ে আসতে দেখে সেও পিছু নিলো।
_“কী হচ্ছে অলি?কাজ আছে আমার!” আরিজ ধমকে উঠলো।
_“সারাটা দিনই তো কাজ নিয়ে থাকেন চলুন না উনো খেলি।”
_“এসব বাচ্চাদের খেলা তোরা খেল গিয়ে।আমাদের এসবে টানিস না।”
_“ এটা সবাই খেলে।চলো প্লিজ।”
আরিজ চোখ রাঙিয়ে কিছু বলবে তার আগেই ফেডেরিকো অস্পষ্ট বাংলায় বলল,
_“কাম অন আরিজ।চলো দেখি কী খেলার কথা বলছে।”
এবার আর আরিজ না করতে পারল না।সবাই মিলে অনুভার রুমে খেলার আসোর বসালো।রিকো অবশ্য এগুলো পারে না তবুও তাদের সঙ্গে তাল মেলাচ্ছিল।আরিজ প্রথমে বিরক্তি নিয়ে খেললেও এখন তারও খুব ভালো লাগছে।নীলা ছোট তাই পাশে বসে চুপচাপ দেখছে।উর্মিলা বেগম এসে তাদের জন্য বিকালের নাস্তা দিয়ে গেছে।এসে অনুভার মলিন মুখের হাসি দেখে সন্তুষ্ট হলেন।মেয়েটা হাসে কম কিন্তু হাসলে চোখ ফেরানো দায়।
অলি খেলার মাঝেই আড়চোখে একটু পর পর আরিজকে দেখছিলো।চোখে চোখ পড়ায় কতবার থতমতও খেয়েছে।অনুভা তা দেখে মিটিমিটি হাসছে।
__
আজকে আহসানি বাড়িতে ভোর বেলাতেই সবাই উঠে বসে আছে। শুধু নাফিসা বেগম আর আরশাদ সাহেব বাদে।লিভিং রুম জুরে বসে আছে বাড়ির সকলে।তাদের নজর সামনে থাকা বিশাল টিভির পর্দায়।টেলিভিশনের পর্দায় তায়ানের ঘামে ভেজা মুখটা একটু পর পর দেখা যাচ্ছে।যে এখন স্পেনের বার্সালোনার স্টেডিয়ামে বল নিয়ে দৌড়াচ্ছে।প্রতিপক্ষ রিয়াল মাদ্রিদ।দু'টি ক্লাবই একটা করে গোল দিয়েছে।খেলা শেষ হতে বাকি আর পনের মিনিট।মাঠের মধ্যে টানটান উত্তেজনা।দুই ক্লাবই খুব ভালো খেলছে।অনুভব,আরিজ,খুব চিন্তিত হয়ে টিভির পর্দায় তাকিয়ে আছে।অনুভব একটু পর পর চেচিয়ে উঠছে টি.এইচ.ভি বলে।যেমনটা স্টেডিয়ামের মানুষ গুলা স্লোগান দিচ্ছে।
আমীরা বেগম আর উর্মিলা বেগম সকাল সকালই নাস্তার আয়োজন করেছিলেন তবে খাওয়ার দিকে কারও মনোযোগ নেই।সবাই এক মনে টিভির স্ক্রিনে তাকিয়ে।আমীরা বেগম আরমান সাহেবকে চা এগিয়ে দিলেন,আরমান সাহেব টিভির দিকে তাকিয়েই চা নিলেন।তায়ান যখন বল নিয়ে দৌড়ায় তখন আরমান সাহেবের ভেতরটা ধক করে ওঠে এই না ছেলেটা পড়ে গিয়ে পা টা মোচকে যায়।আসাদুর সাহেবও খুব মনোযোগ দিয়ে খেলা দেখছেন।
অনুভা নখ কা"মড়াচ্ছে।আর দশ মিনিট বাদেই খেলা শেষ তারপর হয়তো আর কিছু সময় দেবে খেলার জন্য যদি এতক্ষণেও আরেকটা গোল না হয়?পাশেই অলি চিপস খাচ্ছে আর বিরবির করছে।এখানে শুধু একজনের মধ্যেই কোনো অভিব্যক্তি নেই।তা হলো রিকোর।সে একটু পরপর হাই তুলছে।তার খেলা দেখারও কোনো ইচ্ছা ছিলো না।আরিজ জোর করে ডেকে তুলে এনে বসিয়ে রেখেছে।কাল গভীর রাতে বাসায় ফিরেছে রিকো।কিন্তু তা তো আর সবাইকে বলা যাবে না।সবাই জানে রিকো সন্ধা বেলায়ই ঘুমিয়ে পড়েছে।ভাবতে ভাবতেই আবার হাই তুলল রিকো।
খেলায় দেওয়া নির্ধারিত নব্বই মিনিট শেষ।এখন আর কয়েক মিনিট এক্সট্রা দেওয়া হয়েছে।অনুভা ধরেই নিলো আজকের খেলা ড্র হবে।খেলার শেষ মুহুর্তে উঠে চলে যেতে নেয় সে।ঠিক সেই মুহূর্তে অনুভব ও আরিজ একসঙ্গে চিৎকার করে ওঠে।
_“গোউউউউউললল!”
স্টেডিয়ামে থাকা সবাই স্লোগান করতে থাকে। অনুভা তড়িৎ বেগে টিভির স্ক্রিনে তাকায়। যেখানে তায়ানের দেওয়া গোল রিপিট ভিডিও দেখাচ্ছে।তায়ান অন্য সব প্লেয়ারদের সাথে হাইফাই করল।লাফিয়ে একজন আরেক জনের কাঁধে উঠলো।স্টেডিয়াম জুরে 'ম্যাজিক ইন দ্য এয়ার' গান বাজছে।
লাফিয়ে ওঠে অলি,অনুভব ও নীলা।নীলা যদিও তেমন বোঝে না এসব।ভাই-বোনের আনন্দ দেখে সেও লাফাচ্ছে।
_“আমাদের ভাই বলে কথা।না জিতে ফিরবেই না।” আরিজ উচ্ছ্বাসের কন্ঠে বলল।
চেচামেচি শুনে আরশাদ সাহেব রুম থেকে বের হয়ে এলেন।আরমান আহসানি না থাকলে বোধহয় ধকমে দিতেন বাচ্চাদের। বড়ো ভাইকে দেখে চলে গেলেন আবারও।
ম্যাচ শেষে ম্যান অব দ্য ম্যাচ,গোল দাতা,এবং আরও গুরত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের ইন্টারভিউ নিচ্ছিলো।তায়ানেরও ইন্টারভিউ নেওয়া হচ্ছিল।তার আজকের ম্যাচ নিয়ে অনুভূতি কেমন।কতটুকু এক্সাইটেড ছিলো।এই,সেই। এক সময় তাকে প্রশ্ন করা হলো,
_“হোয়াট ইজ দ্যা বিগেস্ট ড্রিম অফ ইয়োর লাইফ?”
তায়ানের মুখের হাসি খানিক মিলিয়ে গেল।এক হাতে কপালের ঘাম মুছে ঠোঁট কামড়ে ক্যামেরার দিকে তাকাল।গভীর দৃষ্টি তার ক্যামেরার দিকে।চোখের রঙও কেমন ভিন্ন হলো,যেন কোন রহস্য লুকিয়ে আছে সেই চোখে।।ঠোঁটের এক কোন উঁচু করে হাসল।অদ্ভুত সেই হাসি।পর্দার সামনে সবাই অপেক্ষা করছে তায়ানের উত্তর শোনার জন্য। যদিও এখানে আপাতত আরিজ,অনুভব,রিকো,অনুভা আর অলি রয়েছে।
_“My biggest dream in life is to become someone’s nightmare.”(আমার জীবনের সবচেয়ে বড়ো স্বপ্ন কারও জীবনের দুঃস্বপ্ন হয়ে ওঠা।)তায়ানের গভীর চাহনির সাথে ফিসফিসিয়ে বলা বাক্যটি শুনতেই অনুভা কেমন স্তব্ধ হয়ে গেল।তাকিয়ে রইলো স্ক্রিনে থাকা তায়ানের বদলে যাওয়া চোখের দিকে।ফিসফিসিয়ে বললেও প্রতিটি শব্দ স্পষ্ট ছিলো।
রিকো এতক্ষণ ঝিমাচ্ছিলো।তায়ানের এমন কথা শুনতেই কেশে উঠলো।আরিজ,অলি ও অনুভব তেমন পাত্তা দিলো না এটা।ভাবলও না তায়ানের বলা কথার মানে।তায়ানের কথায় মিডিয়ার ছেলেটাও থতমত খেল।তায়ান তা বুঝতে পেরে স্বাভাবিক হয়ে হেঁসে উঠলো।টপিক বদলে ফেলল।
তায়ানের স্বাভাবিক হয়ে ওঠা মুখ দেখেও একটু আগের বদলে যাওয়া সেই মুখের ভঙ্গিমা ভুলতে পারছে না অনুভা।কার জীবনের দুঃস্বপ্ন হওয়ার কথা বলছে তায়ান ভাই?কীসের আক্রোশ ফুটে উঠেছিলো তার চোখে?