রক্ত রেখার আড়ালে

পর্ব - ৪৮

🟢

_“ কিরে আরিজ! তুই আমার মেয়েটারে এতদিন এমন কু-নজরে দেখতি?” আসাদ সাহেব খুব গম্ভীর হয়ে বললেন।

মোটেও না। আরিজ কখনোই অলির দিকে ওমন নজরে দেখেনি, বোন হিসেবেই দেখতো, যেমনটা অনুভা নীলাকে দেখে। এই মেয়েটাই ওর মাথা নষ্ট করেছে। কিন্তু এটা তো বলা যাবে না, বললে মেয়েটার চুল একটাও রাখবে না উর্মিলা। আরিজ নিজের কাঁধেই নিলো সব দোষ।

_“ হ্যাঁ, একদম ঠিক করিনি তোমার নিষ্পাপ মেয়েকে অন্য নজরে দেখে।” এটা বলে সে অলিকে বাঁচিয়ে দিলো নাকি খোঁচা মারল নিজেই বুঝতে পারল না।

অলির কপাল কুঁচকে গেল। কারণ তার কাছে আরিজের কথাটা একদমই ভালো লাগেনি। অলির বাবা বলল,

_“ অলির বড় ভাই নেই। তোকেই বড় ভাইয়ের মতো দেখেছে আর তুই কি-না…”

_“ উনার কোনো দোষ নেই আব্বু…আসলে আমিই তাকে কখনো ভাইয়া হিসেবে দেখিনি…” বাবার কথা শেষ হতে না হতেই অলি নিজের চোখ দুটো শক্ত করে বন্ধ করে এক নিঃশ্বাসে বলতে থাকল। ​কিন্তু তার কথা পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগেই থুতনিতে তার মায়ের শক্ত হাতের স্পর্শ অনুভব করল সে। উর্মিলা বেগম রাগে ফেটে পড়ে আর কিছু করার আগেই, অলি এক ঝটকায় নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে ভোঁ-দৌড়ে গিয়ে দাঁড়াল অনুভার পেছনে। ​এরপর অনুভা সবাইকে এক জায়গায় বসিয়ে, অনেক সময় নিয়ে, বুঝিয়ে শুনিয়ে দুজনের এই লুকিয়ে থাকা সুন্দর সম্পর্কটা সবার সামনে মেলে ধরল। অনুভার যুক্তি আর ভালোবাসার কথার কাছে ধীরে ধীরে সবাই এই সম্পর্কে রাজি হলো। আসলে, এই বিয়ের মাধ্যমে অনুভা যদি একটু খুশি হয়, তবে এই পরিবারের কারোরই কোনো কিছুতে আপত্তি নেই। সবার মতামত নিয়ে বিয়ের তারিখ পরের সপ্তাহতেই দেওয়া হলো। অলি এখন সাত আসমানে উড়ছে। আরিজের মুখ গম্ভীর। ভেতরে ভেতরে খুশি হলেও মুখে তা ফুটে উঠছে না। সবার সাথে বিয়ে নিয়েই আলোচনা করছিল অনুভা। কথার মাঝখানে অজান্তেই হাসছিল। অনেক অনেকদিন পর ওর মুখে শান্ত এমন প্রানবন্ত হাসি দেখছিল। ও সরাসরি না দেখলেও আড়চোখে দেখছিল অনুভাকে। তবে এই আনন্দের আমেজের মাঝেও শান্তর মনের ভেতরটা কেমন যেন বিষিয়ে উঠছিল। তার এই বাড়িতে থাকতে একদমই ভালো লাগছিল না; বুকের ভেতর জাঁকিয়ে বসছে অস্বস্তি। যতই হোক, শান্ত তো এই বাড়ির কেউ না। নিজের পরিবার যাকে জোর করেও কোনো আত্মীয়ের বাড়িতে কোনোদিন নিয়ে যেতে পারত না, সেই জেদি শান্ত এখন দিনের পর দিন অন্যের এক পরিবারে পড়ে আছে! ​এই সমস্ত কিছু, এই সমস্ত মানিয়ে নেওয়া শুধু মাত্র মাহভিন আর আরাফের জন্য। ওদের মুখের দিকে তাকিয়েই সে নিজের আত্মসম্মানটুকু একপাশে সরিয়ে এই চেনা-অচেনা ভিড়ে নিজেকে আটকে রেখেছে। তবে তার ভেতর থেকে অস্বস্তি যাচ্ছেই না।

অনুভার সেই নিষ্পাপ, প্রাণবন্ত হাসি শুধু শান্তর চোখেই পড়ল না, ঘরের চেনা ভিড় এড়িয়ে দূর থেকে তা দেখল অন্য আরেকজনও। ​বাড়ির খোলা সদর দরজার চৌকাঠে তখন ছায়ার মতো এসে দাঁড়িয়েছে ক্যাপ পরিহিত এক দীর্ঘ মানব। তার চোখের মনিতে এই মুহূর্তে বিন্দু পরিমাণ কোনো অনুভূতির নেই, এক্কেবারে শান্ত, নিথর। তবু তার নিবদ্ধ দৃষ্টি আটকে রইল অনুভার ওই হাসিমুখের ঠোঁট দুটোর ওপর। এমন অকৃত্রিম হাসি সে অনুভার মুখে দেখেছিল বহু বছর আগে, যখন মেয়েটা অবুঝ বাচ্চা ছিল। আর দ্বিতীয়বার দেখেছিল দীর্ঘ চৌদ্দ বছর পর, যেদিন মেয়েটা তায়ানের অর্ধাঙ্গিনী হতে পেরেছিল। আর আজ...। অন্তত তায়ান তো এর বাহিরে অনুভাকে হাসতে দেখেনি।

​তবে আজকের এই প্রাণখোলা হাসিটাও হার মানবে সেদিনের সেই রাজকীয় হাসির কাছে, যেদিন সব আলো গায়ে মেখে মেয়েটা তায়ানের বউ সেজেছিল। সেই হাসিটা ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্য। তায়ানের কাছে তো তাই ছিল। অথচ, যে হাসির কারিগর সে নিজে ছিল, তা নিজ হাতে কেড়ে নিল তায়ান নিজেই! আবার! আবারও তায়ানের বুকের ভেতরের সেই ঘুমিয়ে থাকা তীব্র অপরাধবোধটা দাউদাউ করে তাজা হলো। সেই তো সব ধ্বংস করেছে! অনুভার জীবনের প্রতিটা খুশির আলো তো সে-ই নিভিয়ে দিয়েছে! উফফ, তায়ান যদি কোনো অলৌকিক উপায়ে পারত, তবে নিজের জীবনের সেই অন্ধকার অতীতটা চিরতরে মুছে দিত! যদি কোটি কোটি টাকার বিনিময়েও সেই পাপের দিনটা অতীত থেকে উপড়ে ফেলা যেত, তবে পৃথিবীর সমস্ত রাজত্ব লিখে দিয়ে হলেও আজ তায়ান সেটা করত।

ভাবতে ভাবতেই তায়ানের কানে হঠাৎ অলির কন্ঠ এলো, সঙ্গে সঙ্গে সে অলিকে নিজের সামনে আবিষ্কারও করল।

_“ তায়ান ভাইয়া, আমার আর আরিজ ভাইয়ার বিয়ে সামনের সপ্তাহে, তুমি কিন্তু বিয়েতে থাকবে।" শুধু তায়ান নয়, তায়ানের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা রিকোকেও সে একসাথেই বিয়ের নিমন্ত্রণটা সেরে ফেলল। ​কিন্তু মুখের কথাটুকু শেষ হতে না হতেই, অলির ভেতরের সেই চঞ্চল রঙিন হাওয়াটা যেন আচমকা থমকে গেল। মুহূর্তের মধ্যে তার মনের ভেতর দু’রকম অনুভূতির জন্ম হলো। লজ্জাবোধ আর ভয়। নিজের অবুঝ মনকে অলি নিজেই যেন ধিক্কার দিয়ে উঠল। ছিঃ! একি করল সে! পুরো পরিবারের সবার সামনে নিজের বিয়ের কথা এমন নির্লজ্জের মতো নিজে গিয়ে বলে এল? তাও আবার কাকে বলল? যে তায়ান ভাইয়ার গম্ভীর ব্যক্তিত্বের সামনে সে কোনোদিন ভালো করে খোলামেলা দুটো কথাই বলেনি, আজ অতি উত্তেজনায় তার সামনেই এমন বেশরমের মতো আচরণ করে বসল! আর ভয় হলো এই ভেবে, অনু আপু যদি রাগ করে! তায়ান ভাইয়ার সাথে এই বাড়ির দূরত্বের কথা তো কারও অজানা নয়। কিন্তু অলি যেন এক মুহূর্তে সেটা ভুলে বসেছিল। সে ঘাড় ঘুরিয়ে প্রথমে অনুভা তারপর বাকি সবাইকে দেখল। উর্মিলা বেগম কেমন কটমটিয়ে তাকিয়ে আছে! অলির সাথে চোখাচোখি হতেই অলি তার মাকে ' বেশরম' বলে বিড়বিড়াতে দেখল।

তায়ান অলির সেই অপ্রস্তুত ভঙ্গি আর চোখের ভয়টা খুব ভালো করেই বুঝতে পারল। ঘরের ভেতর থেকে উর্মিলা বেগমের সেই তীক্ষ্ণ চাহনিও তার নজর এড়ায়নি। কিন্তু তায়ান স্বভাবসুলভভাবেই চুপ রইল; নিজের পাথুরে চেহারায় কোনো ভাবান্তর না এনে সে কেবল অলিকে এক নজর দেখল। তারপর আরিজকে। তায়ান কিছু না বললেও, তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা রিকো মোটেও চুপ থাকল না। সে মুখে চওড়া এক চিলতে হাসি ফুটিয়ে বলল,

_“আরে অলি! যেহেতু তুমি নিজে এসে এত সুন্দর করে বললে, আমরা অবশ্যই থাকব। তায়ানের কথা জানি না, তবে আমি কিন্তু এক পায়ে খাড়া!”

​রিকোর এই চটপটে আর সহজ কথায় অলির লজ্জার পরিমান বেড়ে গেল। তার পক্ষে আর এক সেকেন্ডও এখানে দাঁড়িয়ে থাকা সম্ভব ছিল না। সে রিকোর দিকে তাকিয়ে মাথা ঝুঁকিয়ে একটু হেসেই দ্রুতপায়ে ভেতরের দিকে চলে গেল। ড্রয়িংরুমের সবার চোখ এড়িয়ে সে সোজা গিয়ে ঢুকল নিজের রুমে, তারপর ধড়াম করে দরজাটা বন্ধ করে দিয়ে এক বুক স্বস্তির শ্বাস ফেলল। থাক, সবশেষে সে এটা ভেবে স্বস্তি পাচ্ছে যে শেষমেষ সে নিজের রুম ছেড়ে আরিজ ভাইয়ের রুমে থাকতে পারবে। অনুভাকে সে কীভাবে ধন্যবাদ দিলেও কম হবে। কারণ বাড়ির এই পরিস্থিতিতে না সে কখনো নিজের অনুভূতি বলতে পারত, আর না আরিজ বলত।

——

_“শুকিয়ে গেছিস অনেক।” তায়ানকে দেখে এগিয়ে এসে আমীরা বেগম বললেন।

_“ বেঁচে তো আছি।” তায়ান অজান্তেই মায়ের কথার এমন উত্তর দিলো। সব সত্য সামনে আসার পরও মায়ের সাথে স্বাভাবিক হয়ে কথা বলতে পারে না সে। আগে বলত না ঘৃণায়, অভিমানে এখন লজ্জা বা অপরাধবোধ!

আমীরা বেগমকে পাশ কাটিয়ে তায়ান ধীর পায়ে এগিয়ে গেল নিজের ছেলের দিকে। ছোট্ট আরাফ এখন সোফায় অনুভবের কোলে বসে আপনমনে খেলছে। তায়ান নিঃশব্দে গিয়ে অনুভবের কোলের কাছ থেকে টেনে নিজের বুকে তুলে নিল ছেলেকে। ​আরাফ এই স্বল্প চেনা, গম্ভীর মানুষটার কোলে গিয়েই ঠোঁট দুটো উল্টে কান্নার এক মস্ত বড় প্রস্তুতি নিচ্ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সে আর কাঁদল না। কারণ, হুট করেই তার নজর গেল লোকটার অন্য হাতটার দিকে। তায়ানের সেই এক হাতে ধরা ছিল একটা তুলতুলে বিড়াল! ​বিড়ালটাকে দেখামাত্রই আরাফের কান্নার মেঘ এক নিমেষে কেটে গেল। চোখে মুখে উচ্ছ্বাস ফুটে উঠলো । হুট করেই সে তায়ানের চওড়া বুকে নিজের ছোট্ট মাথাটা চুপটি করে এলিয়ে দিল। তারপর এক হাত দিয়ে তায়ানের শার্ট খামচে ধরে, অন্য হাতটা বিড়ালটার দিকে বাড়িয়ে আধো-আধো গলায় আহ্লাদ করে বলে উঠল,

​_“ম্যাঁও! মা, ম্যাঁও...!”

ছোট্ট আরাফ মায়ের দিকে তাকিয়ে খুব খুশি হয়ে কথাটুকু বললেও, অনুভা সেদিকে মাত্র একবারের জন্য চোখ তুলেই আবার নজর সরিয়ে নিল। তার চাউনিতে কোনো আগ্রহ প্রকাশ পেল না।

​অথচ, এই বিড়ালটা অন্য কারোর নয়, স্বয়ং অনুভারই নিজের পোষা বিড়াল। একসময় যে প্রাণীটা ছিল তার চোখের মণি, আজ সেই বিড়ালের প্রতি তার কোনো টান বা কৌতূহল নেই। হয়তো এর একমাত্র কারণ, বিড়ালটা এখন তায়ানের হাতের স্পর্শে আছে।

অথচ, অনুভা এটা উপলব্ধি করতে পারল না…যে প্রানীটা তায়ানের হাতে আছে বলে সে তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, সে তো একটা সামান্য পশু মাত্র। কিন্তু এই মুহূর্তে তায়ানের বুকে মাথা এলিয়ে থাকা ওই নিষ্পাপ শিশুটি? ওই ছোট্ট আরাফও তো অনুভার নিজেরই নাড়িছেঁড়া ধন! তার নিজের গর্ভের সন্তান! বিড়ালটা প্রতি তায়ানের কাছে আছে বলে অনুভা যদি তাকে অবহেলা করতে পারে, তবে তায়ানের রক্ত যার শরীরে বইছে, সেই ছেলেকে কেন ঘৃণা করতে পারে না? তায়ান আর তার নিজের অস্তিত্বের যে জীবন্ত অংশটা এখন তায়ানের বুকে লেপ্টে আছে, তাকে তো সে নিজের জীবন থেকে কখনো মুছে ফেলতে পারবে না। অনুভার কাছে এটা অসম্ভব।

অনুভা এখান থেকে চলে গেল। শান্ত আর আারিজও চলে গেল।

_“ কোথায় ছিলি এতদিন?” আমীরা বেগম জানতে চাইলেন।

_“ ছিলাম কোথাও।” তায়ান জবাবে বলল।

_“ খাবি কিছু? খেতে দেই?”

তায়ান চোখ তুলে মায়ের দিকে তাকাল। এগুলো বলে তার মা তাকে আরও অস্বস্তিতে ফেলছে।

_“ তোমারও আমাকে ঘৃণা করা উচিত, মা!”

_“ ঘৃণা করি তো! বিশ্বাস কর, আমি তোকে ঘৃণা করি।”

তায়ান স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে রইল মায়ের দিকে। তার স্তব্ধ চোখের চাহনি যেন এক নীরব হাহাকার, এক অদ্ভুত উত্তর খুঁজে ফিরছে মায়ের মুখে।

_“ তাই বলে তো বাকি সবার মতো নিজের সন্তানের মৃত্যু কামনা করতে পারি না। তুই অপরাধী হতে পারিস, সারা দুনিয়ার কাছে তুই পরিত্যাজ্য হতে পারিস, কিন্তু আমার গর্ভ তো তোকে অস্বীকার করতে পারে না। দশ মাস যাকে পেটে ধরেছি, তাকে আমি মরে যেতে দেব কীভাবে?”

_“ ম*রে যাচ্ছি না তো আমি।” ​মায়ের কথার পিঠে তায়ান একটা শুকনো, তাচ্ছিল্যের হাসি হাসল।

_“ সবাই তো তাই চায়।”

_“ অনুভাও চায়?”

আমীরা ধীরস্থির কণ্ঠে বললেন,

_“ চাইলে কি অন্যায় করবে?”

_“আর ও?” বুকে থাকা তাশভানকে ইঙ্গিত করল তায়ান।

আমীরা বেগম তাশভানের নিষ্পাপ মুখের দিকে তাকালেন। তারপর এক দীর্ঘশ্বাস ফেলে তায়ানের চোখের দিকে তাকিয়ে বললেন,

_“ বড় হয়ে চাইবে হয়তো।”

তায়ান হাসল। আরাফ অনেক আগেই তায়ানের মাথার ক্যাপ খুলে নিয়েছে। তার ছেলেকে কাছে নিলেই তায়ানের মনে পড়ে সেই ছোট্ট অনুভার কথা। এভাবে তাকেও নিতো সে।

_“ বহু বছর আগে তোর মাকেও ঠিক এভাবে কোলে নিতাম। আমি কখনও ভাবিওনি তোর মায়ের সেই ছোট্ট শরীরে আমার অস্তিত্বের আরেকটা নতুন প্রান জন্ম নেবে। You are my beautiful miracle.” তাশভানকে আরও গভীর ভাবে চেপে ধরে কোমল কন্ঠে বিড়বিড়াল তায়ান।

——

দুপুরে আরাফকে গোসল করিয়ে নতুন জামাকাপড় পরিয়ে দিচ্ছে শান্ত। ওর সাইজের একটা ফুলহাতা শার্ট, কালো প্যান্ট আর সাথে একটা ম্যাচিং কালো কোট। আরাফ তো পোশাকগুলো পরা দূরে থাক, এগুলো দেখেই প্রথমে কান্নাকাটি জুড়ে দিয়েছে। শান্ত তবু আদর করে বুঝিয়ে-সুঝিয়ে পরাচ্ছে সেগুলো। ​গত পরশু অলি আর আরিজের গায়ে হলুদ হয়ে গেল, আর গতকালই সম্পন্ন হয়েছে বিয়েটা। দুটো অনুষ্ঠানই ঘরোয়াভাবে, বেশ ছোটখাটো করেই আয়োজন করা হয়েছিল। তবে আজকের বৌভাতের ব্যাপারটা আলাদা। আজ বাইরের বেশ কিছু অতিথি আসবে, যেমন আরিজের কিছু বন্ধুবান্ধব ও অফিসের সহকর্মী, আর অলির কয়েকজন ফ্রেন্ডসহ ওর নানাবাড়ির সবাই। সন্ধ্যার পর থেকেই অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা। বাসায় সবাই ব্যস্ত। অনুভাও বাসায় নেই। শান্ত আরাফকে সুন্দর করে কাপড় গুলো পড়িয়ে দিয়ে চুল গুলো সুন্দর করে সেট করে দিলো।

কাপড় পড়া শেষ হতেই নিচ থেকে ভেসে আসা সাউন্ড স্পিকারের গানে গা দোলাচ্ছে আরাফ। ঠিক তখনই ঝড়ের হুড়মুড়িয়ে ভেতরে ঢুকে হাঁপাতে হাঁপাতে বলল,

_“শান্ত, আমাকেও একটু রেডি করিয়ে দাও না ভাই!”

শান্ত আরাফের থেকে চোখ সরিয়ে তার দিকে তাকাল।

_“ তুমিও কি ওর মতো বাচ্চা?”

আরিজ খানিকটা থতমত খেয়ে আমতা আমতা করে বলল,

_“ না মানে…আমি বুঝতে পারছি না কোনটা পড়লে ভালো লাগবে।”

শান্তর ঠোঁটের কোণে একটা দুষ্টুমির হাসি ফুটে উঠল।

_“ তুমি যাই পড়ো, আজ তোমার প্রিয়তমার কাছে সেভাবেই ভালো লাগবে। কিছু না পড়লে আরও বেশি ভালো লাগবে।”

_“ ছিঃ! কি বলছো? প্লিজ ফাজলামো বাদ দিয়ে বলো কোনটা পড়ে রেডি হবো।” আরিজ অসহায় হয়ে বলল।

শান্ত দু-হাতে দুটো ভিন্ন রঙের ব্লেজার ঝুলছে। সে আর বেশি না খ্যাপিয়ে বাম হাতের অ্যাকুয়া ব্লু রঙের কোটটির দিকে ইশারা করল।

আরিজও সেটাই পড়ে নিলো। তার সাজগোজ শেষ হতে হতে বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা প্রায় ছুঁইছুঁই। জীবনের এই বিশেষ দিনে কোনটা রেখে কোনটা করবে, কিছুই যেন মাথায় ঢুকছে না তার। ঘাবড়ে গিয়ে চুল ঠিক করতে করতে সে হঠাৎ খেয়াল করল, বিছানায় বসে থাকা ছোট্ট আরাফ বড় বড় চোখ করে চুপচাপ তার দিকেই তাকিয়ে আছে। আরিজ আলতো পায়ে ওর কাছে এগিয়ে গিয়ে হাঁটু গেড়ে বসল।

_ “কী লিটল প্রিন্স... কেমন লাগছে তোমার চাচ্চুকে? বলো?”

​আরাফ একটুও সময় না নিয়ে মুখটা কুঁচকে অস্পষ্ট গলায় বলল,

_“পতা!”

আরিজ হতভম্ভ হয়ে শান্তর দিকে তাকাল। শান্ত হাসছে। সে মাথা নেড়ে আরিজকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করল। আরিজ আবার আরাফের দিকে তাকিয়ে বলল,

_“ চাচ্চুকে কেউ এভাবে বলে? চাচ্চু কষ্ট পেয়েছি না? বলো, চাচ্চু সুন্দর লাগছে অনেক।” সে যেন জোর করেই নিজের প্রশংসা শুনবে।

_“ বলো, চকলেট কিনে দেব।”

চকলেটের নাম শুনে আরাফ একটু নড়েচড়ে বসল। তারপর বলল,

_“তাছ্ছু...”

​আরিজ মাঝপথেই থামিয়ে দিল ওকে,

বিজ্ঞাপন

_“আরে তাছ্ছু না, বলো চাচ্চু।”

_​“তাছ্ছু!”

_“ চাচ্চু বলো চাচ্-চু।” ভেঙে ভেঙে বলল আরিজ।

_“ তাছ্ছু।” আরাফ এবারও একই ভাবে বলল।

শান্ত বিরক্ত হয়ে বলল,

_“ আরে ও এত কঠিন শব্দ কীভাবে উচ্চারণ করবে? তার চেয়ে ওকে ‘মামা’ বলতে বলো, ওটাই সহজ।”

​আরিজ চরম অসন্তুষ্ট হয়ে শান্তর দিকে তাকিয়ে বলল,

_ “ধুর ব্যাটা! ও এখন যেটা বলছে ওটা তো আরও বেশি কঠিন! তাছ্ছু আবার কী জিনিস? আচ্ছা বাবা আরাফ, এবার বলো— মামা, তোমাকে খুব সুন্দর লাগছে।”

​আরাফ এবার বেশ গম্ভীর হয়ে গেল। আরিজের দিকে সোজা তাকিয়ে থেকে ঠান্ডা মাথায় রায় দিল,

_ “মামা, পতা।”

শান্তর হাসির বাঁধ এবার পুরোপুরি ভেঙে গেল। সে হাসতে হাসতে এগিয়ে এসে আরাফকে কোল তুলে আরিজের পিঠ চাপড়ে বলল,

_“ হয়েছে বাদ দাও, ওর প্রশংসা শুনে কী করবে? আসল মানুষের প্রশংসা তো এখনো বাকি। বাকিটা না হয় আজ রাতে অলির মুখ থেকেই শুনে নিও!”

আরিজ কৃত্রিম রাগ দেখিয়ে আরাফের দিকে তাকিয়ে বলল,

_“চকলেটটা আমি নিজেই খাব, তোমাকে আর একটা টফিও দেব না। পচা ছেলে।”

কথাটা বলেই আরিজ আর এক মুহূর্তও দাঁড়াল না। হনহন করে রুম থেকে বের হতেই একেবারে দরজার সামনে অনুভার মুখোমুখি হলো। আরিজকে দেখে অনুভা মাত্রই কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল, কিন্তু তার আগেই রুমের ভেতর থেকে আরাফের কান্নার আওয়াজ ভেসে এলো। কান্নার তোড়ে সে ভাঙা ভাঙা গলায় বলতে লাগল,

_“মা! তাছ্ছু বকা...”

​ছেলের আকস্মিক কান্না আর নালিশ শুনে অনুভা ভীষণ অবাক হলো। সে আরিজের দিকে এক পলক তাকিয়ে দ্রুত ঘরের ভেতরে পা বাড়াল। আরাফের কাছে গিয়ে সোফায় বসে তাকে বুকে জড়িয়ে ধরে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন গলায় বলল,

_ “কী হয়েছে বাবা? কে বকা দিয়েছে তোমায়? কাঁদছ কেন?”

​আরাফ তখন মায়ের কোলে গিয়ে ফুঁপিয়ে উঠেছে একদম। সে তার ছোট্ট আঙুলটা উঁচিয়ে দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা আরিজের দিকে ইশারা করে বলল,

_“এই... তাছ্ছু।”

​নিজের ওপর এমন মোক্ষম দোষ আসতেই আরিজ এক লাফে তাদের সামনে এসে একদম আকাশ থেকে পড়ার ভান করল।

_ “কী মিথ্যুক তোর ছেলে অনু! আমি ওকে বিন্দুমাত্র বকিনি, উল্টো ও-ই আমায় এত কষ্ট করে রেডি হওয়া সত্তেও ‘পচা’ বলল!”

​কিন্তু আরাফ আরিজের এই যুক্তি মানতে নারাজ। সে ইতিমধ্যে কাঁদতে কাঁদতে নাকের জল আর চোখের জল এক করে ফেলেছে, যেন আরিজ তাকে সত্যিই মস্ত বড় কোনো অন্যায় বকা দিয়েছে!

_“ এই শান্ত, তুমি চুপ করে আছো কেন? আমি বকেছি ওকে?”

শান্ত মুচকি হেসে আরাফকে কোলে চড়াতে চড়াতে বলল,

_“ আরাফ! তুমি আবারও মিথ্যা বলছো? সে তো তোমাকে বকেনি, দেখি আসো আমার কাছে।”

শান্ত ওকে নিয়ে রুমের অন্য পাশে চলে গেল। আরিজ বিরক্তি নিয়ে বলল,

_“ দেখেছিস…কেমন মিথ্যুক হয়েছে তোর ছেলে!’’

_“ তোমার ভাই তো এর চেয়েও মিথ্যুক…এমনই হয়েছে।” অনুভাও বিরক্ত ভঙিতে বলল আরিজকে।

_“ আর তাছ্ছু মানে? তুমি ওকে চাচ্চু বলা শেখাচ্ছো কেন?”

ভীত হলো এবার আরিজ।

_“ একটা বললেই হলো তো!”

_“ না!”

আরিজ কিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে চলে গেল। সাথে ওদের সবাইকে দ্রুত রেডি হয়ে নিচে যেতে বলল। ​আরিজ চলে যেতেই অনুভা আরাফ আর শান্তর সামনে গিয়ে দাঁড়াল। ছেলের এই অকারণ কান্নাকাটি আর মিথ্যা নালিশে এবার সে বেশ বিরক্ত।

_“ মিথ্যা বলা ছেড়ে দাও, নাহলে একদিন সত্যি সত্যিই আমি তোমাকে মারব!”

মায়ের এই আচমকা কড়া শাসন দেখে আরাফ কান্না থামিয়ে একদম অসহায় ও ভীতু দৃষ্টিতে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা শান্তর দিকে তাকাল, যেন সে শান্তর কাছে আশ্রয় চাইছে। তা দেখে শান্ত বলল,

_“ প্লিজ আজকের দিনে ওকে বকো না। ও অবুঝ। কোথায় গিয়েছিলে তুমি?” প্রসঙ্গ পালটাল শান্ত।

_“ কোর্টে।” অনুভা সংক্ষেপে উত্তর দিল।

_“ আজ নিয়ে তিনবার গেলে।” শান্ত মনে করিয়ে দিলো এই কয়েকদিনের ভেতর সে আরও দু’বার গিয়েছে। অনুভা কোনো কথা না বলে কেবল ওপর-নিচ মাথা নেড়ে শান্তর কথার সায় দিল।

শান্ত বলল,

_“ কিন্তু কেন?”

_“ প্রয়োজন ছিল। এটা নিয়ে পরে কথা বলব।” অনুভা প্রসঙ্গটা এড়াতে চাইল।

_“ আচ্ছা।” শান্ত জোর করল না।

_“ আপনার কী এখানে থাকতে কোনো সমস্যা হচ্ছে?”

_“ আমি কখনও কারো বাসায় থাকিনি, তাই একটু… ”

_“ এটা তো আমারই বাড়ি। আমিও তো এতদিন আপনার আশ্রয়ে ছিলাম।”

_“ আমার কোনো সমস্যা হচ্ছে না মাহভিন, অন্তত তোমরা দু’জন যেখানে আছো সেখানে কোনো সমস্যা হতেই পারে না।”

অনুভা গভীর চোখে শান্ত আর আরাফের দিকে তাকিয়ে রইল। বড় অদ্ভুত এক দৃশ্য! তার ছোট্ট অবুজ বাচ্চাটা কেমন পরম নিশ্চিন্তে লেপ্টে আছে শান্তর বুকের সাথে। অনুভার হুট করেই মনে পড়ে গেল, সেদিন তায়ানের বুকেও আরাফ ঠিক এভাবেই শান্ত হয়ে মিশে ছিল। রক্তের টান আর স্নেহের টান কি তবে একই সুতোয় বাঁধা? অনুভার বুক চিরে একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এলো। তারপর অজান্তেই শান্তকে একটা প্রশ্ন করে বসল,

_“ আমার অবর্তমানেও কি আপনি ওকে এভাবেই ভালোবাসবেন?”

​অনুভার এই অদ্ভুত আর আকস্মিক প্রশ্নে শান্তর ভ্রু দুটো সামান্য কুঁচকে গেল। সে আরাফের পিঠে হাত বোলাতে বোলাতেই চোখ তুলে অনুভার দিকে তাকাল। তারপর ধীরস্থির কণ্ঠে পাল্টা প্রশ্ন করল,

_“তোমার কী মনে হয় মাহভিন, আমি ওকে তোমার জন্য ভালোবাসি?”

_“আমার জন্য নয়?”

​_“তোমাকে প্রশ্ন করেছি আমি!” শান্তর কণ্ঠ এবার একটু গম্ভীর শোনাল। তার এই শান্ত স্বভাবের আড়ালে লুকিয়ে থাকা ব্যক্তিত্বটা যেন হুট করে প্রকাশ পেল।

​অনুভা একটু সময় নিল। নিজের মনের ভেতরের দ্বিধাটা ঝেড়ে ফেলে নিচু স্বরে বলল,

_“হ্যাঁ, আমার জন্যই।”

​অনুভার মুখে এই উত্তরটা শুনে শান্তর চোখে-মুখে এক অভিমানের ম্লান ছায়া ফুটে উঠল। সে একটা দীর্ঘশ্বাস চেপে তপ্ত গলায় বলল, _“হ্যাঁ, ঠিকই বলেছ... তোমার জন্যই। শুরুতে আমি সত্যিই তোমার মুখের দিকে তাকিয়ে, তোমার জন্যই ওকে ভালোবাসতাম। কিন্তু এখন আর নয়।”

​শান্ত আরাফের চুলে আলতো করে আঙুল চালিয়ে দিতে দিতে বলতে লাগল,

​_“এখন এই ভালোবাসার সাথে অন্য কোনো শর্ত বা অন্য কারোর মুখ জড়িয়ে নেই। এমনকি তোমার মুখটাও না, মাহভিন। ও এখন আমার নিজের অস্তিত্বের অংশ হয়ে গেছে। আজ যদি তোমার বর্তমান স্বামী এসে ওর ওপর নিজের অধিকার দাবি করে, তবে আমি হয়তো আইনিভাবে বাধা হতে পারব না, তাই বলে ওকে আমি চিরতরে ছেড়ে দেব, এমনটাও ভেবো না। তায়ানের অধিকারের কথা তো বাদই দাও, তুমি নিজে চাইলেও ওকে আমি একদম তোমার একার করে দেব না। সত্যি বলতে, তুমি নিজেও ওর যোগ্য নও। ভুলে যেও না, কী করতে চেয়েছিলে তুমি এই নিষ্পাপ বাচ্চাটার সঙ্গে! তায়ান তো না জেনে ভুল করেছে, তুমি জেনে-বুঝে নিজের গর্ভের সন্তানটাকে শেষ করে দিতে চেয়েছিলে।”

কথাগুলো শেষ করে অনুভার উত্তরের অপেক্ষা না করেই সে আরাফকে কোলে নিয়ে গমগমিয়ে রুম ছেড়ে বেরিয়ে গেল শান্ত। বেশ ধারালো শোনালো আজ শান্তর কথা। ঘরের দরজাটা বন্ধ হওয়ার হালকা আওয়াজ পেতেই অনুভা যেন এক ঝটকায় এক দমবন্ধ করা বাস্তবতার মুখোমুখি হলো। সামান্য একটা প্রশ্নে এতটা রেগে যাবে শান্ত, অনুভা ভাবেওনি। ​পুরো ঘরে এখন এক অদ্ভুত, নিথর নীরবতা। সে অজান্তেই সোফাটায় বসে পড়ল। তার চোখ দুটো শূন্য দৃষ্টিতে মেঝের দিকে তাকিয়ে রইল। শান্ত ভুল কিছু বলেনি। অতীতটা এক জীবন্ত অভিশাপের মতো তার চোখের সামনে ভেসে উঠল। প্রথম দিন থেকে আরাফ পৃথিবীতে না আসা পর্যন্ত, অনুভা না হলেও হাজার বারের বেশি এই একটা বাক্যের পূনরাবৃত্তি করেছিল। সে কোনো মতেই চায়নি তায়ানের কোনো অস্তিত্ব আসুক। সবটাই ছিল তায়ানের উপর জেদ করে করা। হ্যাঁ, সে তো সত্যিই চেয়েছিল এই নিষ্পাপ বাচ্চাটাকে পৃথিবীর আলো দেখার আগেই শেষ করে দিতে! ​তার দুই হাত অবশ হয়ে নেমে এলো নিজের পেটের ওপর। যেখানে একদিন আরাফ ছিল। আজ সেই আরাফই তার চোখের সামনে খেলে বেড়ায়, আধো-আধো গলায় কথা বলে, অথচ একদিন এই মায়ের হাতই তার নিঃশ্বাস কেড়ে নিতে চেয়েছিল! অপরাধবোধ আর এক বুক কান্না দলা পাকিয়ে তার গলার কাছে এসে আটকে রইল। কারও ভুলের জন্য, কারও দেওয়া ধোকা বা অন্যায়ের জন্য কোনো নিষ্পাপ প্রাণ কখনো দায়ী হতে পারে না। এ শাস্তি কোনো অবুঝ শিশু প্রাপ্যও নয়। এটাই সেই সময়গুলোতে শান্ত তাকে বুঝিয়েছিল।

এই পৃথিবীতে সব কিছু তো আল্লাহর ইশারাতেই হয়। সেদিনও হয়তো আল্লাহর কোনো বিশেষ রহমত ছিল, যার কারণে এক চরম ধ্বংসের হাত থেকে বেঁচে গিয়েছিল সে। সেই অন্ধকার দিনগুলোতে শান্ত যদি তাকে ওভাবে না বোঝাত, তবে সে তো এই জঘন্য পাপটা করেই ফেলত। তায়ানের অন্যায়টা যদি অপরাধ হয়, তবে অনুভা যা করতে যাচ্ছিল তা তো নিষ্পাপ প্রাণের বলিদান! তায়ানের চেয়েও এক হাজার গুণ বেশি জঘন্য আর কলঙ্কিত এক পাপের ভাগী হতে চলেছিল সে।

​ভাবতেই অনুভার সারা শরীর শিউরে উঠে। নিজের ওপর নিজেরই এক ঘৃণার জন্ম নিচ্ছে। আর আজ সে কোন মুখে সেই শান্তকে প্রশ্ন করছে যে, তার অবর্তমানে তার ছেলে শান্তর কাছে নিরাপদ থাকবে কি না! যে মানুষটা নিজের সর্বস্ব দিয়ে এই বাচ্চার প্রাণ বাঁচাল,তার ভালোবাসার গভীরতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার মতো ধৃষ্টতা সে দেখাল কীভাবে?

বিজ্ঞাপন
রক্ত রেখার আড়ালে গল্পটি আয়েশা শেখ রিন-এর লেখা একটি জনপ্রিয় রহস্যে মোড়ানো থ্রিলার উপন্যাস