অনুভা চলে যাওয়ার পর যেন জমে থাকা সমস্ত দহন একসাথে বিস্ফোরিত হলো শান্তর ভেতরে। চোখে রক্তিম আগুন নিয়ে সে তায়ানের দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ল। একের পর এক ঘুষি পড়তে লাগল তায়ানের মুখে। নিয়ন্ত্রণহীন, বেপরোয়া, যেন প্রতিটি আঘাতে তার ভেতরের ক্ষোভ, হতাশা আর অদম্য রাগের বহিঃপ্রকাশ ঘটছে। তায়ান থামায় না। এখনও তাকিয়ে আছে, যে পথ দিয়ে অনু তার সন্তানকে নিয়ে চলে গেল। দু’বছর উন্মাদ হয়ে খুজেছে তাকে তায়ান। অনুভা যদি সত্যিই তার সন্তানকে মে'রে নিজেও ম'রে যায়? নাহ, নিজের জেদ এর জন্য তাদের হারাতে পারবে না।
শান্তর একের পর এক আঘাতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ল তায়ান। গার্ড গুলো এগিয়ে আসতে চাইলে রিকো বাধা দেয়। সে প্রথম দিন, সেই বাইক রেসের দিনই বুঝতে পেরেছিল আরাফ তায়ানেরই ছেলে। ইচ্ছে করেই তায়ানকে বলেনি। সে নিজেও তায়ানের উপর বিরক্ত। সেও চায় না মেয়েটা ওর সঙ্গে জড়িয়ে আবারও কষ্ট পাক।
শান্ত তায়ানের কলার চে'পে ধরে। পরমুহূর্তেই বুকের উপর এক হাঁটু গেড়ে বসে পড়ল। দম নিতে নিতে, দাঁত চেপে চিৎকার করে উঠল,
_“ কেন ফিরে এসেছ? আসবেই যখন, ছেড়ে গিয়েছিলে কেন?”
তায়ান ঠোঁটের কোণে রক্তের স্বাদ মেখে ধীরে ধীরে এক চিলতে তাচ্ছিল্যের হাসি ফুটিয়ে তুলল। চোখে অদ্ভুত এক কঠোরতা, কণ্ঠে হিসহিসে বিষ নিয়ে বলল,
_“আমার মন চেয়েছিল, তাই গিয়েছি… আবার মন চেয়েছে, তাই ফিরে এসেছি। তোমার কী? আমার বউ-বাচ্চার থেকে দূরে থাকবে।”
শান্তর দৃষ্টি আরও কঠিন হয়ে উঠল। আঙুলের চাপ আরও গভীর হলো তায়ানের কলারে। গলায় জমে থাকা প্রতিটি শব্দ যেন আগুনে পরিণত হয়ে বেরিয়ে এলো,
_“থাকব না… বরং ওদের নিয়ে আরও অনেক দূরে চলে যাবো। যেন তোমার ছায়াও ওদের স্পর্শ না করে।”
তায়ান শান্তকে ঘুরিয়ে ফেলে দিয়ে, নিজে শান্তর উপর ঝুঁকে ওর কলার চে'পে ধরে,দাঁত চেপে, ধারালো কণ্ঠে বলে উঠল।
_“ আমার জিনিস ছিনিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা তোমার কেন…তোমার বাবারও নেই। আর যদি এমন কিছু করার সাহসও করো, আমি ঠিকই খুঁজে বের করব, যেদিন খুঁজে পাবো সেদিন বুঝবে এর পরিণতি কত ভয়ংকর!”
_“ তোমার লজ্জা হওয়া উচিৎ! তোমার জায়গায় আমি থাকলে মাহভিনের সামনে যাওয়ার আগে, লাশ হয়ে তারপর যেতাম। আর তুমি এই নির্লজ্জ মুখটা নিয়ে বারবার অধিকার ফলাও!” শান্ত বলল।
_“ হও, এবার লাশ হও। তুমিও তো ওকে মিথ্যার আড়ালে রেখেছ। লজ্জা করবে না ওর সামনে যেতে?” তায়ান বিদ্রুপ করে বলল।
শান্তর চোখ রক্তিম হয়ে উঠল। কথাগুলো যেন তাকে আরও উন্মত্ত করে তুলল। একরকম উগ্র জেদে সে বলে উঠল,
_“না, একটুও না! যা করেছি, ঠিকই করেছি। বরং… আমার আরও খারাপ হওয়া উচিত ছিল। ওকে জোর করে নিজের করে নেওয়া উচিত ছিল… তাহলে আজ এই দিন দেখতে হতো না!” কথা শেষ করার সঙ্গে সঙ্গেই তায়ান ঝড়ের গতিতে শান্তর থুতনিতে আঘাত করল। তারপর ধীরে ধীরে তার দিকে ঝুঁকে এল, চোখে তীব্র আগুন নিয়ে হিমশীতল কন্ঠে বলল,
_“ তাহলে আমিও ওকে বিধবা করে দিতাম। হাহ,একবছর বয়স থেকে আমি ওকে আগলে রেখেছি, অন্যের স্ত্রী হওয়ার জন্য নয়।”
শান্ত তায়ানের পেটে হাঁটু দিয়ে আঘাত করে সরিয়ে দেয় নিজের উপর থেকে। তারপর নিজের ঠোঁটের রক্ত মুছতে মুছতে বলল,
_“ আগলে রেখে বিয়ের পর এক রাত কাটিয়ে ছুঁড়ে ফেলেছিলে কেন?”
_“সেই কৈফিয়ত আমি তোমায় দেব না।”
রিকো এসে দু’জনকেই থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে।
_“ অযথা মারামারি করে লাভ নেই, থামো এবার!” তারপর তায়ানের দিকে তাকিয়ে বলল,
_“ আজকে যাকে নিজের ছেলে, নিজের ছেলে বলে জাহির করছো,এই দু'দিন তাকে মারার জন্যই তুমি সুযোগ খুজছিলে। আমি না থাকলে সেটা হয়তো করেও ফেলতে!”
তায়ান অবাক হয়ে রিকোর দিকে তাকিয়ে বলল,
_“ তুমি জানতে সব?”
_“ জানতাম না,বুঝতে পেরেছিলাম।”
তায়ানের ভ্রু কুঁচকে উঠল। প্রশ্নভরা দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল তার দিকে। রিকো এবার একটু সামনে এগিয়ে এলো, ঠোঁটে ক্ষীণ হাসি তার।
_“তোমার ছেলের ডান পায়ের গোড়ালিতে যে জন্মদাগটা আছে… ঠিক একই দাগ আমি তোমার পিঠে বহুবার দেখেছি।”
শান্ত চমকে তাদের দিকে তাকাল। তার চোখের সামনে ভেসে উঠল সেই ছোট্ট পায়ের চিহ্ন,যেটা সে বহুবার দেখেছে, কিন্তু কখনো গুরুত্ব দেয়নি। বুঝতেও পারেনি এটা যে বাপের থেকে নিয়ে আসা চিহ্ন। ওর বাবা তায়ান,তায়ানের ছেলে আরাফ। কথাগুলো ভাবলেই শান্তর বুকটা ভারী হয়ে আসে। আরাফ কেন তার সন্তান হলো না? ওর শরীরে কেন এই লোকটার রক্ত? কি এমন হতো ওপরওয়ালা এমন কিছু করলে? শান্ত ধীরে ধীরে চলে যায় এখান থেকে।
রিকোর কথা শুনে তায়ান রিকোকে ধাক্কা মে'রে ফেলে দিয়ে গর্জে উঠে।
_“ কেমন বন্ধু তুমি আমার? এগুলো আগে কেন বলোনি?”
_“ কেন বলব? কেমন বাবা তুমি, যে নিজের সন্তানকে দেখে বুঝতে পারো না! প্রথমবার নাহয় বুঝোনি। তারপর দু'দিন কাছে রাখার পরও কী মনে হয় নি?”
তায়ান থমকে গেল। বুকের ভেতরটা আচমকা কেঁপে উঠল। চোখে ভেসে উঠল কিছু মুহূর্ত, ছোট্ট একটা শরীর, নরম নিঃশ্বাস, তার কাঁধে মাথা রেখে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়া…
সে ধীরে ধীরে বলল,
_“ মনে হয়েছে… আমার কেমন যেন লেগেছে! আমি বোঝাতে পারব না সেই অনুভূতি। ও যখন আমার কাধে ঘুমিয়ে পড়ত, মনে হতো বুকের সব ক্লান্তি নিমিষেই শেষ হয়ে যেত। যেন এতদিন ধরে যেটা খুঁজছিলাম, অজান্তেই সেটা আমার হাতেই ছিল।
তবু যখন মনে হতো, ও তো অনুভা আর অন্য এক পুরুষের সন্তান। যে আমার অনুভাকে স্পর্শ করে এই সন্তান এনেছে… এগুলো মাথাচাড়া দিয়ে উঠলে এতো বেশি হাইপার হয়ে যেতাম যে…”
বাকি কথা আর বলল না তায়ান। দু'হাতে মুখ ঢেকে শ্বাস টানল।
রিকো তায়ানের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বলল,
_“ ভালোবাসো তুমি অনুভাকে, তাহলে শুধু মাত্র এলেনার বাবার কথায় এত বড় অন্যায় কেন করেছিলে?”
_“ আমি তার কথায় কিচ্ছু করিনি।” তায়ান আকাশের দিকে তাকিয়ে বলল।
_“ মানে? সেই তো তোমাকে…”
_“ বললাম না, আমি তার কথায় কিচ্ছু করিনি। হ্যাঁ, ওই বাড়ির সবার উপর আমার রাগ ছিলো,এখনও আছে। কিন্তু আমার অনুর সঙ্গে এমন করার কোনো ইচ্ছে ছিলো না।”
_“ তাহলে?” রিকো প্রশ্ন করে।
তায়ান বিরক্ত হয়ে রিকোর দিকে তাকায়।
_“ তুমি এতো কিছু জেনে কি করবে? ঠিক করে দিতে পারবে সব?”
রিকো কিছু বলল না। তায়ান আবারও আকাশ পানে তাকায়। ঠোঁটে তাচ্ছিল্যর রেখা টেনে বলল,
_“ আমি নিজেই নিজের অনুভূতি বুঝতে পারি না, আর তোমরা কিভাবে বুঝবে!”
রিকো কিছুক্ষণ চুপ থেকে ধীরে বলল,
_“ আমার মনে হয়, এখন মেয়েটাকে ভালো থাকতে দেওয়া উচিৎ, তায়ান! ওকে একা ছেড়ে দাও।”
তায়ানের চোয়াল শক্ত হয়ে উঠল। চোখে একরাশ অস্বীকার তার।
_“ কখনোই না, আমি এটা ভাবতেও পারি না। যেদিন আমার শ্বাস ফুরিয়ে যাবে, সেদিন ছেড়ে দেব।” তায়ান বলল।
_“ তাহলে এখন কি করবে?”
_“ যেভাবেই হোক আমার অনু আর তাশভানকে নিজের কাছে ফিরিয়ে আনব।”
রিকো অবাক স্বরে সঙ্গে সঙ্গে বলল,
_“ তাশভানটা আবার কোত্থেকে এলো?”
তায়ানের চোখ গাঢ় হয়ে উঠল। চোয়াল শক্ত, কণ্ঠে অদ্ভুত এক অধিকারবোধ।
_“ আমার ছেলে তাশভান!”
_“ কিন্তু ওর নাম তো আরাফ…”
_“ শাট - আপ! ওর নাম ‘তাহরিজ হারিস তাশভান’।” তায়ান বলল।
_“ মানে…নিজের নামের সঙ্গে মিলিয়ে শুরুতে শুধু T রেখেছ?” রিকো বলল।
_“ ইয়েস, কজ হি ইজ মাই বেবি বয়। আর আমি যেই নাম দেব…সেটাই থাকবে ওর পরিচয়। আগের সবকিছু ভুলে যাও।”
——
অনুভা আরাফকে নিয়ে নিজেদের অ্যাপার্টমেন্টেই ফিরে আসে। যেখানে শান্ত আর ও এক সঙ্গে থাকত। এত রাতে এছাড়া আর কোথাও যাওয়ার নেই। সকাল হলেই কোথাও একটা চলে যাবে। আরাফের জন্য তাড়াহুড়ো করে খাবার বানিয়ে সে নিজের রুমে ঢুকে দরজা আটকে দিল। কিন্তু আরাফ যেন কিছুতেই শান্ত হচ্ছে না। অ্যাপার্টমেন্টে ঢোকার পর থেকেই আধো কণ্ঠে একটানা বলে চলেছে “পাপা… পাপা…” রুমে এসেও চোখ বুলিয়ে এদিক ওদিক খুঁজছে।
_“ হা করো।” অনুভা আরাফের মুখের সামনে ফিডার ধরে বলল।
আরাফ মুখ সরিয়ে নিয়ে মায়ের দিকে তাকিয়ে বলল,
_“ মা…পাপা”
_“ পাপা নেই, এটা খাও।” অনুভা ধীর গলায় বলল।
_“ না, পাপা।” আরাফ এবার ঠোঁট ফুলিয়ে ফেলল। গাল দু’টোও ফুলে উঠেছে, চোখে পানি চিকচিক করছে।
অনুভা একটু জোর করে হাসির ভান করল।
_“ খেয়ে নাও, তারপর পাপার কাছে নিয়ে যাবো।”
কিন্তু আরাফ এসব কানেই নিচ্ছে না। বারবার একই শব্দ বলছে। অনুভা বারবার মুখের সামনে ফিডার ধরায়, ছোট্ট হাত দু’টো দিয়ে ফিডারটা সরিয়ে দিতে লাগল।
_“ বলেছি তো নিয়ে যাবো। আগে খাবারটা খেয়ে নাও।” অনুভা আবারও আরাফের ঠোঁটের কাছে ফিডার ছোঁয়াল। আরাফ এবারও সরিয়ে দিল। তবে এবার একটু জোরে ধা'ক্কা দেওয়ায় ফিডারটি অনুভার হাত থেকে ছিটকে গিয়ে বিছানার উপর পড়ে গেল। সঙ্গে সঙ্গে অনুভার নরম হাতটি ছেলেটার কোমল গালে এসে ঠেকল। থা'প্পড়টা তেমন জোরেও না, আবার আস্তেও না। তবু আরাফ উচ্চস্বরে কেঁদে ওঠে। অনুভা ওর দু বাহু চে'পে ধরে চিৎকার করে বলে উঠলো,
_“ কেউ নেই তোমার! কোনো পাপা নেই। আমি ছাড়া…তোমার মা ছাড়া আর কিচ্ছু নেই তোমার!”
মায়ের ধমকে আরাফের কান্নার তীব্রতা আরও বাড়ল। দু’হাত, পা ছুঁড়ে চোখ বন্ধ করে কাঁদতে লাগল। মুহুর্তেই লাল হয়ে উঠেছে কান সহ পুরো মুখ। কান্নার মাঝে মিশে আছে আসহায়ত্ব আর জেদ।
থাপ্পড়টা পড়ার পরই অনুভা যেন নিজেই স্থির হয়ে গেল। মুহূর্তের জন্য সে বোবা হয়ে তাকিয়ে রইল নিজের হাতের দিকে। কি করল সে! প্রথমবার… নিজের ছেলের গায়ে হাত তুলল! তার ছেলে, যে তার পুরো পৃথিবী! অন্য কারও প্রতি জমে থাকা রাগ সে কেন এই অবুঝ শিশুর উপর ঝাড়ল? তার তো কোনো দোষ নেই… সে তো কিছুই বোঝে না।
হৃদয়টা মুচড়ে উঠল অনুভার। আর এক মুহূর্ত দেরি না করে সে এক ঝটকায় আরাফকে বুকে টেনে নিয়ে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে বলতে লাগল,
_“কেঁদো না, বাবা… মা অনেকগুলো সরি… অনেকগুলো…”
আরাফের পিঠে ধীরে ধীরে হাত বুলিয়ে দিতে লাগল । নিজের গাল ছুঁইয়ে রাখল ছেলের মাথায়,
_“মা সরি বলেছি না? আর মারব না… কখনো না…”
আরাফ মায়ের বুকে মুখ লুকিয়েই কেঁদে চলেছে। সেই কান্নাটা এতটাই অসহায়, এতটাই ভাঙা, যেন সত্যিই তার পৃথিবীতে আর কেউ নেই। অনুভার বুকটা আরও ভারী হয়ে উঠল। সে আরাফকে কোলে নিয়ে উঠে দাঁড়াল, ধীরে ধীরে রুমের ভেতর পায়চারি করতে লাগল,
_“তুমি কাঁদলে আমার খুব কষ্ট হয়, বাবা… খুব কষ্ট হয়। তুমি কখনও কাঁদবে না, প্লিজ… সোনা আমার, কাঁদে না…”
সে বারবার ছেলের মাথায় চুমু খেতে লাগল, চুলে হাত বুলিয়ে দিতে লাগল,
_“আমার সোনা… আমার ছোট্ট বাবাটা… আর কেঁদো না… ভুল হয়েছে তো আমার…মা’কে ক্ষমা করে দাও… প্লিজ।” এমন আরও অনেক কিছু স্নেহভরা কন্ঠে বলতে থাকল অনু। কিন্তু তার নিজের কণ্ঠই কেঁপে উঠছিল বারবার। আরাফকে শান্ত করতে করতে, অজান্তেই তার নিজের চোখও ভিজে উঠল নীরবে।
আরাফ কান্না থামাল, তবে পুরোপুরি থামেনি। এখনও হালকা হালকা হেঁচকি তুলছে। চোখ দু'টো ঘুমে দুলছে। অনুভা বেডের কাছে এসে শুইয়ে দেয়। নিজেও পাশে শুয়ে ফিডারটা আবারও ওর মুখের সামনে ধরে। তবে এবারও মুখটা সরিয়ে নেয় আরাফ। যেন এখনও জেদ ধরে আছে পাপা না এলে খাবে না। অনুভা ফিডারটা রেখে দিলো। বাম হাতের তালুতে মাথা রেখে ছেলের মায়াবী মুখখানায় তাকিয়ে রইলো কিছুক্ষণ। গালটা ফুলিয়ে রেখেছে এখনও। হাসল একটু অনুভা। তারপর ডান হাত বাড়িয়ে আরাফের দু গালে হাত বোলাতে বোলাতে মিনমিনে স্বরে গান ধরল,
“ ছোট্ট আমার রাজকুমার..
ওরে তুই যে রাজার ধন।
বুকের ভেতর সাজিয়েছি…
তোর-ই সিংহাসন।”
আরাফকে টেনে বুকের উপর ফেলে চিত হয়ে শুইল সে। পিঠে আলতো চাপড় দিতে দিতে গাইতে লাগল,
“ তুই যে আমার দুই নয়ন..
ওরে তুই যে আমার সুখসপন।
মমতারি এই বাঁধন,
ওগো রবে আমার মরণ।”
মায়ের মিহি কন্ঠে ধীরে ধীরে ঘুমিয়ে পড়ে আরাফ। অনুভা কিছুক্ষণ ছেলেকে সেভাবেই জড়িয়ে রেখে একটু পর বালিশে শুইয়ে দেয়। মনে পড়ল সেদিন ঘুমন্ত আরাফের মুখে ফিডার এনে দিয়েছিল শান্ত। আরাফ ঘুমে থেকেই সেটা খেয়েছিল। অনুভার সেটা মনে পড়তেই ফিডারটা আরাফের মুখের কাছে ধরে। আজও সেভাবেই খেতে থাকে আরাফ।
অনুভার চোখে ঘুম নেই। সে টুকিটাকি জিনিস পত্র গুছিয়ে নেয়। ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে বের হয়ে পড়বে। সকাল থেকে না খাওয়া সে, হাত পায়ে শক্তি পাচ্ছিল না। তবু খিদে নেই একদম। যে জিনিস গুলো না নিলেই নয়, সেগুলো গুছিয়ে নিলো। তারপর গিয়ে বেলকনিতে দাঁড়ায়। সারারাত বোধহয় এভাবেই কাটিয়ে দেবে আজ।
—
শান্ত একাকী বসে আছে ক্যাফের সামনের বেঞ্চিটায়। রাত গভীর, ক্যাফেতে মানুষ মাত্র দু’একজন। বাইরে সকাল হওয়ার অপেক্ষা কোনো মুসলিম দেশ হলে হয়তো এখন চারপাশে আজানের ধ্বনি ভেসে উঠত। ফ্রান্সে সেটা খুব বিরল। ফোনটা বের করে আরাফের ছবি দেখছিল সে। একবার আরাফ,একবার মাহভিন দুজনকেই দেখছিল। সত্যিই কী আর আরাফকে আদর করতে পারবে না সে? মাহভিন কী সেই অধিকার কেড়ে নেবে? নিলে সে কী নিয়ে বাঁচবে? কী করবে? সব কিছু ভাবলে শান্তর মাথাটা ফাঁকা ফাঁকা লাগে। শান্ত নিশ্চিত মাহভিন এখন অ্যাপার্টমেন্টেই আছে। কিন্তু তবু সেখানে গিয়ে অনুভার সামনে দাঁড়ানোর সাহস করতে পারছে না। কি বলবে গিয়ে? কি করবে? যে মেয়েটা নিজের সবটুকু দিয়ে তাকে বিশ্বাস, ভরসা করল তাকে সেই দু'বছর আগেই মিথ্যা বলেছে। শুধু মিথ্যা না, একটা বড় অন্যায়ের মাধ্যমে সেদিন মেয়েটাকে ভেঙে গুড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু সে তো এটা চায়নি। কষ্ট দিতে চায়নি। শুধু মাত্র সেই কাপুরুষটাকে যেন ভুলতে পারে সেজন্য এতটুকু করেছিল। এসময়ই শান্তর আরেক মন বলে ওঠে, সে মিথ্যে বলেছে। বিশ্বাস ভেঙেছে।
শান্ত ফোনের কল লিস্টে গিয়ে শাহানা বেগমকে কল করল। কয়েকবার রিং হতেই রিসিভ হলো কল। রিসিভ করেও আবার কেটে দেয় শাহানা বেগম। পরক্ষণেই ওপাশ থেকে ভিডিও কল আসে। শান্ত প্রথমে রিসিভ করতে না চেয়েও করল। শাহানা বেগম ছেলের ফোলা,লাল চোখ ও বিষন্ন মুখ দেখে কিছু বলতে নিয়েও থেমে গেলেন। কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,
_“ চলে গেছে নাহ? অবশ্য অন্যের বউ বাচ্চা কতদিনই বা থাকবে!”
_“ মানে?” শান্ত ভ্রু কুঁচকালো।
_“ আর কতদিন লুকাবি?” ওপাশ থেকে শাহানা বেগম বললেন।
শান্ত কিছু একটা ভেবে তারপর বলল,
_“ জেরিন বলে দিয়েছে তোমায়?”
_“ অনেক আগেই বলেছে।”
_“ ওহ।” শান্ত চোখ নামিয়ে ফোনের স্ক্রিন থেকে দূরে তাকাল।
_“ তাকা আমার দিকে।” শাহানা বেগম কঠোর কন্ঠে বললেন। সে উঠেছিল নামাজ পড়তে। এমন অসময়ে ছেলের থেকে আসা কল পেয়েই বুঝতে পেরেছিল কিছু একটা হয়েছে।
শান্ত তাকাল না তবু। কিছু একটা লুকাতে চাইছে যেন। ওপাশ থেকে শান্তর মায়ের কণ্ঠ ভেসে এলো।
_“ এক মাত্র ছেলে তুই আমাদের। আর তুই কি-না নিজের ভবিষ্যতের চিন্তা ফেলে একটা মেয়ের পেছনে সময় নষ্ট করছিস? যে তোকে কখনও চায়নি! এমন না যে সে তোকে ভালোবাসে। বাচ্চা নিয়ে আমার কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু মেয়েটা তো তোকে অন্য চোখে দেখে না। আমি কীভাবে আমার ছেলের এই পরিণতি দেখব?”
_“ মম, থামো তুমি।” শান্ত বলল।
_“ থেমেই তো ছিলাম। কখনো এই নিয়ে কোনো প্রশ্ন করিনি। যেটা ইচ্ছে সেটাই করছিস। কিন্তু এভাবে কতদিন? কোন মা চাইবে তার ছেলে এভাবে নিজেকে ক্ষয় করুক?”
শান্ত কিছুই বলল না। শাহানা বেগম আবারও বললেন,
_“ কোথায় তারা? যাদের জন্য নিজের বাবার কোনো খোঁজ নিস না! রাস্তায় বসে কাঁদছিস কেন আজ?”
_“ আমি কাঁদছি না।” শান্ত ছোট্ট করে বলল।
_“ মায়েরা সব বোঝে শান্ত!”
_“ আচ্ছা, ভালো লাগছে না। পরে কল করব। রাখছি।” শান্ত কল কেটে দেওয়ার আগেই শাহানা বেগম অপর পাশ থেকে ডেকে ওঠেন।
_“ শান্ত! বাবা আমার। ফিরে আয় আমাদের কাছে। যারা তোর নয়, তাদের ধরে রাখার চেষ্টা করিস না। এটা পাগলামো ছাড়া কিছুই না।” শাহানা বেগম আদুরে কন্ঠে বললেন।
শান্ত এবার মায়ের দিকে তাকাল। ঠোঁট দু'টো কেঁপে উঠলো। আবারও অন্যদিকে দৃষ্টি ফেলল। গভীর শ্বাস নিলো। ঠোঁটের কম্পন বেড়েই চলেছে। শক্ত করে চে'পে ধরেও আটকে রাখতে পারল না। পূনরায় মায়ের দিকে তাকিয়ে বলেই ফেলল,
_“ মম! বলো তো…জন্ম না দিলে কী বাবা হওয়া যায় না? আমি ওদের ছাড়া কীভাবে থাকব? ওরা যে আমার র’ক্তে মিশে গেছে! আমি আজ মাহভিনের থেকেও আরাফের পাপা ডাকটা বেশি মিস করছি মম।”
শাহানা বেগমের হৃদয়টা হুহু করে ওঠে। তার ছেলেটা কখনোই এতটা নরম মনের ছিলো না। ছোট থেকেই আত্মমর্যাদাশীল, শক্ত মনের ছিল। আর সব কিছু নিয়েই এত বেশি উদাসীন প্রকৃতির ছিলো যে কোনো কিছুতেই তেমন গুরুত্ব দিতো না। আর সেই ছেলে নাকি এখন অন্যের বউ, বাচ্চার জন্য কাঁদছে! মা হয়ে এই মুহুর্তে কী বলা উচিৎ, কী বলে সান্ত্বনা দেওয়া উচিত কিছুই বুঝতে পারছে না শাহানা।
_“ ওরা কেন চলে গেছে?” শান্তর মা বলল।
_“ আমার জন্যই গেছে, আমার ভুলের জন্য।” শান্ত অস্পষ্ট স্বরে বলল।
_“ তো গিয়ে ক্ষমা চা!”
_“ করবে না। ও বলেছে ওর বাচ্চার উপর যেন আর কখনও অধিকার না দেখাই।” শান্ত চোখের পানি মুছতে মুছতে বলল।
শাহানা বেগম হাসলেন।
_“ মেয়ে মানুষ রেগে গেলে অনেক কিছুই বলে। যদি তোর ভুল থাকে তাহলে ক্ষমা চেয়ে নে।”
_“ কিন্তু আমি ওকে কষ্ট দিয়েছি। ওর সামনে গিয়ে, ওর চোখের দিকে তাকাতে পারব না আমি।”
_“ আচ্ছা, তুই যদি ওদের ছাড়া থাকতে পারিস, বসে থাক এখানেই। আমি রাখছি, তোর বাবা উঠে যাবে এক্ষুনি।” শাহানা বেগম সত্যি সত্যিই কল কেটে দিলেন। কিছুক্ষণ ফোনের নিভে যাওয়া স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে রইল শান্ত। তারপর ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়াল। বুকের ভেতরটা অদ্ভুতভাবে ধুকপুক করছে। সে থাকতে পারবে না। কোনোভাবেই না। ভুল সে করেছে… আর সেই ভুলের বোঝা বয়ে নিয়ে বসে থাকার মতো ভুল সে করবে না। ক্ষমা চাইবে। যতটা নিচে নামতে হয়, নামবে। তবু ওদের দূরে যেতে দেবে না। কোনোভাবেই না। হাঁটা ধরল অ্যাপার্টমেন্টের দিকে। পৌঁছাতে পোঁছাতে রাতের অন্ধকার কেটে গেছে প্রায়।
অ্যাপার্টমেন্টের দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করতেই পা থেমে যায় শান্তর। অনুভা রুম নিজের রুমে দরজা খুলে বের হচ্ছে। কাঁধে ঘুমন্ত আরাফ। অন্য হাতে লাগেজটা। শান্তর বুঝতে বাকি নেই কি করতে শান্ত। দ্রুত অ্যাপার্টমেন্টের দরজা লাগিয়ে অনুভার লাগেজ ছিনিয়ে নিয়ে বলল,
_“ কোথায় যাচ্ছো তুমি?”
_“ এখনও ঠিক করিনি।” অনুভা ধীরে বলল।
_“ মাহভিন! প্লিজ, জেদ করো না। তুমি ওকে নিয়ে কোথায় যাবে?” শান্ত উদ্বিগ্ন হয়ে বলল।
_“ যাওয়ার জায়গা নেই বলেই কী যে যেভাবে পারছে মিথ্যা নাটক করে যাচ্ছে?” অভিমানী কন্ঠে অভিযোগ করল অনুভা।
শান্ত লাগেজ ফ্লোরে ফেলে অনুভার সামনে গিয়ে দাঁড়াল।
_“ আমি মানছি, আমি ভুল করেছি,কিন্তু এতে কোনো খারাপ উদ্দেশ্য ছিলো না। আমি শুধু…”
_“ আমি কিছু শুনতে চাই না, শান্ত। আমার ভালো লাগছে না আর এগুলো। আমাকে এবার যেতে দিন। আমি আমার ছেলেটাকে নিয়ে একা বাঁচতে চাই।” অনুভার কন্ঠ ভেঙে এলো।
_“ আর আমি? আমি কীভাবে বাঁচব? স্বার্থপরের মতো শুধু নিজেদের কথাই ভাবছো!” শান্ত বলল।
_“ আপনিও বাঁচবেন। বরং আরও ভালোভাবে বেঁচে থাকবেন। আমার সঙ্গে থেকে আর কত সময় ক্ষয় করবেন?” অনুভা বলল।
শান্ত এক মুহূর্ত চুপ করে রইল। তারপর হঠাৎ করেই বলল,
_“ আচ্ছা, তুমি কী চাও বলো তো? সেদিন নকল ডিভোর্স পেপার নিয়ে মিথ্যা বলেছিলাম সেটাই তো আমার ভুল তাইনা? তাহলে চলো আমি তোমাকে, তোমার স্বামীর কাছে ফিরিয়ে দিচ্ছি। তোমাদের আলাদা হওয়ার জন্য যদি এতটুকু কারণও আমি থাকি সেটা পুষিয়ে দেব, চলো।”
অনুভার চোখ দু’টো তীক্ষ্ণ হয়ে উঠল। কণ্ঠে কষ্ট আর অপমান একসাথে জমাট বাঁধল,
_“কী মনে করেন আমাকে? এতটাই সস্তা হয়ে গেছি?”
একটু থেমে, শ্বাস নিয়ে আবার বলল,
_“আপনার কী মনে হয়, নকল ডিভোর্স পেপারের সাজিয়েছে বলে আমি এমন করছি? না… আমি আপনাকে বিশ্বাস করতাম। এতটাই করতাম, যে নির্দ্বিধায় আপনার সঙ্গে একই ছাদের নিচে দিন কাটিয়েছি… নিজের ছেলেকে আপনার হাতে তুলে দিয়েছি। হ্যাঁ, আপনিও আমার জন্য অনেক কিছু ছেড়েছেন… কিন্তু এইটুকু কেন করলেন? আর যখন করলেনই, এতদিন বলেননি কেন?”
ঘরটা নিস্তব্ধ হয়ে গেল। শান্তর দৃষ্টি মেঝেতে চলে গেল।
_“ এই-যে এই মুহুর্তটার ভয়ে। ঠিক এমন সময়ের ভয়ে কিছু বলতে পারিনি। জানতাম,বললে সব বদলে যাবে। তুমি বদলে যাবে… তোমার চোখের এই দৃষ্টিটা বদলে যাবে।”
একটু থামল শান্ত। নিঃশ্বাসটা ভারী হয়ে উঠেছে,
_“আমি স্বার্থপর ছিলাম… হয়তো খুব বেশি। তোমাকে হারানোর ভয়টা এতটাই বড় হয়ে গিয়েছিল, যে সত্যিটা বলার সাহস পাইনি। প্রতিদিন ভাবতাম বলব… আজ বলব, কাল বলব… কিন্তু প্রতিবারই ভয়টা জিতে যেত। ভাবিনি, এই লুকোনোটা একদিন এত বড় হয়ে দাঁড়াবে… যে তোমাকেই আমার থেকে দূরে নিয়ে যাবে। আমি ভুল করেছি, মাহভিন। ক্ষমা করো প্লিজ।” শেষ কথাটা বলতে গিয়ে প্রায় ফিসফিস করে উঠল। তারপর ধীরে মাথা তুলল শান্ত। চোখে অপরাধবোধ, সঙ্গে অসহায়তা।
_“ আমি মিথ্যাকে অনেক ভয় পাই। শুধু মনে হয় যারা একবার মিথ্যা বলতে পারে তারা সব সময় বলবে, ঠকাবে। আমি পারি না এসব নিতে… পারি না এই অনিশ্চয়তা নিয়ে বাঁচতে। তাই, এ ধরনের ভয়ানক মানুষ থেকে দূরে থাকতে চাই।” অনুভার কথার আওয়াজে আরাফ ঘুম থেকে উঠে পড়ল। শান্তকে দেখেই ছটফট শুরু করে দিলো অনুভার কোল থেকে শান্তর কাছে আসার জন্য। শান্ত হেঁসে হাত বাড়িয়ে দেয়। অনুভা সরে যায়।
_“ আমাদের যেতে দিন এবার।” অনুভা দৃঢ় গলায় বলল।
_“ ওকে আমার কাছে আসতে দাও।” শান্ত বলল।
_“ পথ ছাড়ুন।”
_“ ছাড়ব না।”
অনুভা শান্তর দিকে তাকায়।
_“ প্লিজ, আমাদের একা ছেড়ে দিন।”
_“ সম্ভব না। আমি এতটাও ভুল করিনি যে তুমি আমার থেকে আরাফকে কেড়ে নেবে।”
ওদের দু'জনের কথপোকথনের মাঝেই আরাফ কেঁদে ওঠে। কারণ তখন থেকে পাপা পাপা করছে তবু পাপা কোলে তুলছে না। মা শক্ত করে চে'পে ধরে আছে। কিন্তু অনুভা যেন সেই কান্নার কোনো তোয়াক্কাই করল না। শান্তকে পাশ কাটিয়ে গিয়ে মেঝে থেকে লাগেজ তুলে নিল, সোজা দরজার দিকে পা বাড়াল। আরাফ তখনও কাঁদছে। শান্তর চোখ আবারও লাল হয়ে উঠল। বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠছে, তবু দাঁড়িয়ে আছে স্থির হয়ে।
দরজার কাছে পৌঁছাতেই হঠাৎ করেই আরাফ জোর করে মায়ের কোলে থেকে নেমে গেল। অনুভা শত চেষ্টা করেও তাকে আটকে রাখতে পারল না। ছোট্ট পা দু’টো দৌড়ে এগিয়ে গেল,সোজা শান্তর দিকে। শান্ত আর এক মুহূর্ত দেরি করল না। ঝট করে তাকে কোলে তুলে নিল। মুহূর্তের মধ্যেই আরাফের কান্না থেমে গেল। সে শান্তর কাঁধে মাথা রেখে অস্পষ্ট স্বরে বলল,
_“মা… পঁচা…”
শান্ত হালকা করে তার পিঠে হাত বুলিয়ে দিয়ে মৃদু স্বরে বলল,
_“ঠিক বলেছ, সোনা… তোমার মা সত্যিই অনেক পঁচা।”
অনুভা পিছন ফিরল। ধীরে ধীরে ফিরে এসে শান্তর সামনে দাঁড়াল। চোখে জমে থাকা রাগ, কষ্ট,সব একসাথে মিশে আছে।
_“ওকে দিন।”
_“দেব না।” শান্তর কণ্ঠ এবার শক্ত।
_“দেখুন, অযথা সময় নষ্ট করবেন না।”
শান্ত এক পা এগিয়ে এল। চোখে এক ধরনের অদ্ভুত জেদ।
_“অনেক হয়েছে। আমি যা করেছি, বেশ করেছি। তোমাকে ভালোবেসে যদি আরও খারাপ হতে হয় হব। ভালোবাসলে সবসময় ভালো হতে হয়,এমন তো কোনো নিয়ম নেই। আমি কোনো ফেরেস্তা নই। অন্তত ভালোবাসলে কেউ নিখুঁত থাকতে পারে না।”
সে আরাফকে আরও শক্ত করে বুকে টেনে নিল।
_“প্রয়োজনে তোমাকে আটকে রাখব… তবু তোমাদের কোথাও যেতে দেব না।”