তায়ানের শেষ বাক্যটা কানে পৌঁছাতেই শান্ত একদম জমে গেল। চারপাশের সব শব্দ মিলিয়ে গিয়ে এক স্তব্ধতা নেমে এল তার ভেতরে। তার আর বুঝতে বাকি থাকল না,এই লোকটাই সেই মানুষ। সেই মানুষ, যার সঙ্গে দু’বছর আগে মাহভিনের বিয়ে হয়েছিল… যার কারণে সে মাহভিনকে হারিয়েছিল। অথচ নিয়তির নির্মম খেলায়, ঠিক এই মানুষটির কারণেই আবার মাহভিনকে ফিরে পেয়েছিল সে। তায়ান মাস্কটা খোলার পর শান্তর বিস্ময় আরও গভীর হয়। লোকটাকে চিনতে তার এক মুহূর্তও লাগে নি। আর্জেন্টিনার সেই বিখ্যাত ফুটবলার! যাকে সে বহুবার টিভির পর্দায় দেখেছে, যার খেলা দেখে মুগ্ধ হয়েছে। কিন্তু… অনুভা কখনও এ কথা বলেনি। একবারের জন্যও না। সে কখনও জানায়নি, তার জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে এমন একজন মানুষ। শান্ত এই দু'বছর অনুভা আর আরাফকে নিয়ে এত বেশি ব্যস্ত ছিল যে কখনও এগুলো নিয়ে জানার আগ্রহও হয়নি। হলেও অনুভাকে সাহস করে বলতে পারেনি। সেদিন বিয়ের সময় লোকটা এমন ভাবে নিজেকে গুটিয়ে রেখেছিল কোনো ভাবেই বোঝার উপায় ছিলো না। আর না তো শান্ত তখন সেই পরিস্থিতিতে ছিলো।
শান্ত এতক্ষণ নিজের ভাবনায় এমন ভাবে ডুবে ছিল যে,বুঝতেও পারেনি তায়ান অনুভার সঙ্গে কী করছে। আরাফের কান্নায় সৎবিৎ ফিরে পায়। অচেনা একটা লোক তার মায়ের গাল এভাবে চে'পে ধরার ভয়ে কেঁদে ওঠেছে ছেলেটা। অনুভা চাচ্ছে না নিজের অবুঝ ছেলের সামনে কোনো রকম ঝামেলা করতে। কিন্তু তায়ান ওর ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে দিচ্ছে। শান্ত দ্রুত এগিয়ে এল। চোখেমুখে স্পষ্ট রাগের ছাপ। সে তায়ানকে সরিয়ে দিতে যাবে, ঠিক তখনই অনুভার কণ্ঠ ভেসে এলো,
_“ থামুন! আপনি ওকে নিয়ে এখান থেকে সরে যান।”
শান্ত অবাক দৃষ্টিতে অনুভার দিকে তাকায়।
_“ কিন্তু তুমি…”
_“ ও ভয় পাচ্ছে। প্লিজ,যা বলছি শুনুন।”
শান্ত কথা বাড়ায় না। অনুভার কথা মত আরাফকে নিজের কাছে নিতে আসে। কিন্তু আরাফ যাবে না,এই মুহূর্তে কিছুতেই না। সে আতঙ্কে মায়ের শরীরের সঙ্গে মিশে থাকতে চাইছে। শান্ত তাকে জোর করে নিতে চাইলে, তার কান্না আরও তীব্র হয়ে উঠে। ছোট্ট দু’হাত দিয়ে শক্ত করে অনুভার গলা জড়িয়ে ধরল সে।
এদিকে তায়ানের দৃষ্টি একবারের জন্যও সেদিকে যায়নি। সে এখনও একইভাবে অনুভার গাল চে’পে ধরে আছে। চোখে এক অদ্ভুত কঠোরতা,যেন কোনো উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত সে নড়বে না।
একদিকে সন্তানের বুকফাটা কান্না, অন্যদিকে এই অসহ্য আগ্রাসন। সব মিলিয়ে অনুভার ভেতরের সংযম এক নিমিষেই ভেঙে গেল।
সে ডান হাতে আরাফকে আরও শক্ত করে বুকে জড়িয়ে নিল, আর পরমুহূর্তেই বাম হাত তুলে তায়ানের গালে সজোরে এক চ’ড় বসিয়ে দিল। সেই ক্ষণটায় অনুভার চোখের স্নিগ্ধ রঙটাকে গ্রাস করে নিয়েছিল এক ঝলক অন্ধকার। প্রায় কালো, ঝড়ের আগের আকাশের মতো। সেই চোখে তখন আর কোনো কোমলতা ছিল না, না ছিল কোনো সংশয়। ছিল শুধু দগ্ধ ক্রোধ। শান্তর তখন সেই চোখে তাকাতে ভয় হচ্ছিল। তাকাতে পারছিল না সেদিকে। এই দৃষ্টিতে যদি কখনও তার দিকে তাকায়? সে তো কখনও এই চোখে কোমলতা ছাড়া আর কিছু দেখেনি।
চড় খেয়ে তায়ানের মুখটা একপাশে ঘুরে গেল। সে সেভাবেই স্থির হয়ে রইল নড়ল না, তাকাল না। এটা আঘাতটাই তার প্রাপ্যই ছিল বহুদিন ধরে। মুখ তুলে সঙ্গে সঙ্গে তাকানোর সাহসও হলো না তার; মাথা নিচু করে সেই অবস্থাতেই দাঁড়িয়ে থাকল, নিঃশব্দে। অন্যদিকে, মায়ের এমন রূপ দেখে মুহূর্তেই আরাফের কান্না থেমে গেল। চোখদুটো বিস্ময়ে বড় হয়ে উঠল। একবার নিজের মায়ের দিকে, আরেকবার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা চড়-খাওয়া লোকটার দিকে তাকাল সে। ছোট্ট মনটা হঠাৎ করে বিভ্রান্ত হয়ে গেল,এই মানুষটা কি সত্যিই তার চেনা মা? এমন ভাবে তো কখনোই দেখেনি সে। নিজের মা'কেই যেন ভয় পাচ্ছে এখন। এবার সে নিজে থেকেই চট করে হাত বাড়িয়ে দিল শান্তর দিকে,কোলে নেওয়ার জন্য। শান্ত আর দেরি করল না। দ্রুত আরাফকে বুকে তুলে নিল । আলতো করে ছেলেটার মাথাটা নিজের কাঁধে চেপে ধরে শান্ত করার চেষ্টা করল।
এলেনা আর রিকোও উপস্থিত ছিল পুরো সময়টা। রিকো এখনও অবিশ্বাসের দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে অনুভার দিকে। সে তো অনুভাকে খুব কাছ থেকে দেখেছে। একজন শান্ত, ভদ্র, স্নিগ্ধ মেয়ে হিসেবে।
কিন্তু আজকের এই অনুভা… সে সম্পূর্ণ অন্য কেউ। দু’বছর আগের সেই মেয়েটার সঙ্গে আজকের এই অনুভার তুলনা করলে আকাশ-পাতাল পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আগে থেকেই মেয়েটা সুন্দর ছিল, কিন্তু এখন তার সেই সৌন্দর্যে আরও যুক্ত হয়েছে অদ্ভুত এক দৃঢ়তা,যার কারণে তাকে আরও বেশি দীপ্ত, আরও অপ্রতিরোধ্য করে তুলেছে তাকে। এই মেয়েটাই তো একসময় তায়ানের জন্য অঝোরে কেঁদেছিল । কী ভীষণ বিষণ্ন হয়ে গিয়েছিল তার চেহারা! সেগুলো মনে পড়লে আজও তার ভেতরে একরাশ মায়া জেগে ওঠে। কিন্তু আজ… আজকের অনুভার মধ্যে সেই ভাঙা, কাঁদতে থাকা মেয়েটার ছিটেফোঁটাও নেই। চেহারার সঙ্গে তার পুরো ব্যক্তিত্বেও এসেছে আমূল পরিবর্তন। একটা শক্ত, অটল, আর নিজের সীমা রক্ষা করতে জানা নারী হয়ে উঠেছে সে। এটা রিকো এই অল্প সময়েই বুঝে গিয়েছে।
অনুভাকে নিয়ে তার চিন্তার জালটা হঠাৎ ছিঁড়ে গেল আরেক দফা থাপ্পড়ের তীক্ষ্ণ শব্দে। চমকে সামনে তাকাতেই চোখে পড়ল,এলেনা মাটিতে পড়ে আছে। রিকোর হাতে তখন তায়ানের বিড়ালটা ছিল। এলেনাকে এভাবে পড়ে যেতে দেখে সে এতটাই হতবাক হয়ে গেল যে, অজান্তেই হাত ঢিলে হয়ে গেল,বিড়ালটাও ফসকে নেমে গেল নিচে।
তায়ানের গায়ে হাত তোলার অপরাধে এলেনা তেড়ে এসেছিল অনুভার দিকে। কিন্তু কিছু বলার আগেই…অনুভা আবারও হাত উঠিয়ে এলেনাকে চ'ড় মেরে দেয়। এলেনা ভারসাম্য হারিয়ে সোজা মাটিতে লুটিয়ে পড়ল। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গেই উঠে আবারও ধেয়ে গেল অনুভার দিকে। এবারও কিছু বলার আগেই আরেকবার তার গালে শক্তপোক্ত এক চড় এসে পড়ে। তবে এবার অনুভা নয়, এবার তায়ান চ'ড় দিয়েছে। তায়ান এলেনার দিকে তাকিয়ে চোখ গরম করে চিৎকার করে বলল,
_“ যা এখান থেকে। যা..!”
এলেনা পরপর দু'বার থাপ্পড় খেয়ে বলার মত যেন সব ভুলে গেল। তায়ান অনুভার দু’গাল নিজের দু’হাতের মুঠোয় আটকে নিল।
_“ তুই আমাকে আরও মা'র। আরও যত খুশি মা'র কিন্তু…কিন্তু এগুলো সব মিথ্যা বল। বল, এই লোকটার সাথে তোর কোনো সম্পর্ক নেই। তোর কোনো সন্তান নেই। বললল…বল না!” তায়ান কন্ঠে এক অদ্ভুত উন্মত্ততা নিয়ে বলল।
অনুভা এক মুহূর্ত চুপ করে তার দিকে তাকিয়ে রইল। মনে মনে তীব্র তাচ্ছিল্য জাগল তার। মানুষটা এতটাই পাপে অন্ধ যে, নিজের অংশ,নিজের সন্তানকে চোখের সামনে রেখেও চিনতে পারছে না। হৃদয় পাপের দাহে এতটাই শুকিয়ে গেছে যে, সেটা অনুভব করার শক্তিটুকুও নেই। সৃষ্টিকর্তা সেই ক্ষমতাটুকু কেরে নিয়েছে। তবে এতে অনুভারই ভালো হয়েছে। কোনো দিন না জানুক। সে চোখে কোনো রকম দ্বিধা না রেখে স্পষ্ট স্বরে বলল,
_“ ও আমার সন্তান , আমারই ছেলে।”
এক সেকেন্ড থেমে আরও দৃঢ় গলায় বলল,
_“আর আমি কার, তা আপনাকে জানানোর দায় আমার নেই
… শুধু এইটুকু জেনে রাখুন, আমি আর আপনার নই।”
_“ আমার! আমার তুই। ভুলে যাস না তুই এখনও আমার বউ!”
পরক্ষণেই আবারও একটি তীক্ষ্ণ শব্দ। অনুভার ডান হাত উঠে এসে সজোরে পড়ল তায়ানের গালে। চারপাশ নিস্তব্ধ। শান্তর কাছে আরাফ থাকায় সে চুপচাপ দেখে যাচ্ছে। অনুভ কণ্ঠে তীব্র ঘৃণা মিশিয়ে বলল,
_“লজ্জা করে না আপনার? এসব বলতে একটুও লজ্জা করে না?
এই অধিকার আপনি সেদিনই হারিয়েছেন, যেদিন আমাকে ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। আপনি প্রতিশোধ নিতে বিয়ে করেছিলেন নাহ? বড় আব্বুকে কষ্ট দিতে চেয়েছিলেন তো? আমাদের রাস্তায় নামাতে চেয়েছিলেন।” ঠোঁটে হালকা তাচ্ছিল্যের রেখা নিয়ে বলল,
_“সব হয়েছে। সবকিছুই আপনার মতো করে হয়েছে। তবুও সৃষ্টিকর্তা আমাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেননি। আপনার জন্য কিছুই থেমে থাকেনি… তারা সবাই ভালো আছে। আর আমি…আমি তার থেকেও বেশি ভালো আছি।”
_“ সব শেষে তুই আমারই । তুই কীভাবে এমন করতে পারলি?”
_“ কীসের বউ? আপনি নিজে আমাকে ডিভোর্স পেপার পাঠিয়েছিলেন। ভুলে গেলেন?”
তায়ান চমকে অনুভার দিকে তাকাল। চোখে স্পষ্ট বিস্ময় ফুটে ওঠে।
ডিভোর্স পেপার? ডিভোর্স পেপার কোত্থেকে আসল! কবে? কখন? কীভাবে? সে তো কখনও এমন কিছু ভাবেওনি। পাঠানো তো দূরের কথা, এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথাও তার মনে আসেনি কোনোদিন। সে তো এই দু'বছর ধরে অনুভাকেই খুঁজছে। তাহলে… কে? এলেনা! সে এলেনার দিকে তাকাল। দৃষ্টি শক্ত হয়ে উঠল। তায়ানের এই অদ্ভুত চাহনিতে এলেনা কেমন হাঁসফাঁস করে ওঠে। কিন্তু এখনই তাকে কিছু বলল না তায়ান। শুধু অনুভাকে বলতে চাইল সে কোনো পেপার পাঠায়নি। কিন্তু তার আগেই শান্ত অনুভাকে নিজের দিকে টেনে নেয়৷ তারপর কন্ঠে তীব্র
বিদ্রূপ মিশিয়ে বলল,
_“ অনেক হয়েছে। যাকে ছেড়ে চলে গিয়েছিলে, তার সামনে আজ কোন মুখে অধিকার দেখাতে এসেছ? অতীত ভুলে যেও না।”
তায়ান তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে শান্তর দিকে তাকায়। সে ছেলেটাকে চিনতে দেরি করে ফেলেছে। চিনে ফেলার কথা ছিল সেদিনই, যেদিন প্যারিসে তাদের প্রথম দেখা হয়েছিল। ছেলেটা তাদের বিয়েতেও উপস্থিত ছিল। সেদিন খুব খেয়াল করে দেখা হয়নি তাকে, তবুও একটা চেহারা মনে গেঁথে ছিল,ক্লান্ত, ভেঙে পড়া, চোখে চাপা কষ্টের ছাপ। কিন্তু এখন আর সেই চেহারা নেই। অনেকটা পরিবর্তন এসেছে। এজন্যই হয়ত তায়ান সেদিন প্রথম দেখায় চিনতে পারেনি। হয়ত চেনার চেষ্টাও করেনি।
তায়ান শান্তর সামনে গিয়ে দাঁড়াল। লম্বায় দুজনেই একি সমান। দু'জনেরই অভিব্যক্তি দৃঢ়। তায়ানের গায়ের রঙ উজ্জ্বল শ্যামলা কিন্তু শান্ত তায়ানের চেয়ে সামান্য ফর্সা। তবে তায়ান ফুটবলার হওয়ায় শান্তর তুলনায় তায়ানের বডি ফিটনেস অনেকটাই প্রখর।
দুজনেই একে অপরের জায়গা থেকে সুদর্শন। তায়ান শান্তর দিকে তাকিয়ে চোয়াল শক্ত করে বলল,
_“ আর তুই সেই সুযোগ নিয়েছিস?” বলেই শান্ত চোয়ালে ঘুসি বসিয়ে দেয়। শান্তর কোলে থাকা আরাফ আবারও চিৎকার করে কেঁদে ওঠে। ভয়ে তার ছোট্ট হৃদপিণ্ড অস্বাভাবিক ভাবে লাফাচ্ছে। তায়ান যখন আবারও শান্তকে আঘাত করবে ঠিক তখন অনুভা দু'হাতে তাকে ধা’ক্কা মে'রে দুরে সরিয়ে দেয়। শান্তর সামনে দাড়িয়ে তায়ানের দিকে অগ্নি দৃষ্টি নিক্ষেপ করে বলল,
_“ খবরদার! ওর গায়ে আর একটা আঘাত পড়লে মে'রে ফেলব তোকে।”
তায়ান সেসব শুনল না। সে আবারও তেড়ে আসল শান্তর দিকে। অনুভা আবারও ওকে ঠেলে সরিয়ে দিয়ে বলল,
_“ দয়াকরে থামুন আমার ছেলেটা ভয় পাচ্ছে।” অনুভা এবার অনুরোধই করল। কারণ আরাফ কখনও এমন কিছু দেখে অভ্যস্ত না। ছেলেটা তখন থেকে আতঙ্কে জমে আছে। এই পরিবেশ থেকে বের হতে চাইছে। কেঁদে কেঁদে একবার মা'কে ডাকছে,একবার শান্তর দিকে তাকিয়ে পাপাকে ডাকছে। যা তায়ানকে আরও অস্থির করে তুলছে। প্রতিটি আওয়াজ তায়ানের মস্তিষ্কে ভেতরে ঢুকে ধাক্কা দিচ্ছে। হৃদস্পন্দন ক্রমেই দ্রুত হয়ে উঠছে। শ্বাস গলায় আটকে যাচ্ছে। চাইলেও নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। কিন্তু তায়ান আর কিছু করার আগেই রিকো এসে আটকে দিলো। ওকে টেনে শান্তর থেকে দুরে নিয়ে বলল,
_“ পাগলামো বাদ দাও। এখন এসব করে কোনো লাভ নেই। তুমি কাকে দোষ দেবে? আজ যা দেখছ, সব তোমার নিজের জন্যই।”
_“ ছাড়ো আমাকে তুমি।”
_“ কখনোই না।” রিকো বলল।
শান্ত নিজেও আর চুপ থাকতে পারছে না। সে অনুভাকে বলল,
_“ মাহভিন, তুমি আরাফকে নাও।”
_“ কেন? আমি ওকে নেব না।” অনুভা জানে শান্ত কেন আরাফকে নিতে বলছে। নিলেই এই অমানুষটার সঙ্গে জড়িয়ে পড়বে।
আরাফের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই শান্ত এখনও নিজেকে সংযম রেখেছে।
_“ চলুন এখান থেকে।” অনুভা আবারও বলল।
_“ আরাফ তোমার কাছে যেতে চাইছে। নাও ওকে।”
_“ এখান থেকে চলুন। তারপর নেব।”
শান্ত যখন তাও যেতে চাচ্ছিল না। তখন অনুভা নিজেই তার বাহুতে ধরে বলল,
_“ চলুন। আরাফ অনেক ভয় পাচ্ছে। প্লিজ চলুন।”
আরাফের কথা শুনে শান্ত আর আপত্তি করল না। নিঃশব্দে মাথা নেড়ে এগোতে গেল। কিন্তু তখন হঠাৎ অনুভা থেমে যায়। পাশে ফিরে রিকোর বাহুতে আটকে ছটফট করতে থাকা তায়ানের দিকে তাকায়। অনুভা তার দিকে তাকাতেই তায়ান নিজের ছটফটানি থামিয়ে দেয়। মেয়েটা ধীরে ধীরে এগিয়ে যায় সেদিকে। তায়ানের সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। ভালো ভাবে দৃষ্টি ফেলে তায়ানের ফ্যাকাশে মুখটার দিকে। পুরো মুখটা নিষ্ক্রিয় হয়ে আছে। চোখের চারপাশে কালো ছায়ার মত নেমেছে। এটা যে দীর্ঘ দিনের বিষন্নতার ছাপ, তা অনুভার বুঝতে বাকি নেই। অনুভা সেদিকে তাকিয়ে কটাক্ষ করে বলল,
_“ প্রার্থনা করতাম…আপনার এই অভিশপ্ত মুখটা যেন এই জনমে সামনে না পড়ে। কিন্তু দেখুন… ভাগ্য বরাবরই আমার সঙ্গে বেইমানি করে। আজকের এই শুভ দিনেই, আপনার এই অশুভ মুখটা দেখতে হলো।” কথা গুলো বলার সময় অনুভার চোখে শীতল এক অবজ্ঞা জমে উঠল।
তায়ান স্লান হাসল।
_“ তুই আমাকে কতটা ঘৃণা করিস? আমি নিজেকে তার থেকেও বেশি ঘৃণা করি।”
অনুভার দৃষ্টি একটুও নরম হলো না। বরং আরও কঠিন হয়ে উঠল।
_“ আপনাকে ঘৃণা করলেও ‘ঘৃণা’ শব্দটার অপমান হবে। আপনি তারও যোগ্য নন। সেই অনুভূতিরও নিচে পড়ে যান।”
_“ আমাকে শাস্তি দেওয়ার ছিল অন্য ভাবে দিতি। মে'রে ফেলতি আমায়, তবু মেনে নিতাম। কিন্তু তোর শরীরে অন্য কারো স্পর্শ আমি কীভাবে মেনে নেব? এমনটা কেন করলি তুই?” তায়ানের কথায় অনুভা চোখ বুঁজে ফেলল। শরীরের প্রতিকোণে অস্বস্তি ছড়িয়ে পড়ল। তবু নিজেকে প্রমান করার চেষ্টা করল না। লম্বা শ্বাস টেনে চলে আসল।
ওরা চলে যেতেই তায়ান ঝটকা মে'রে রিকোর থেকে নিজেকে ছাড়াল। তারপর শরীরের সর্বশক্তি ঢেলে রিকোর নাকে ঘুষি মে'রে বলল,
_“ আমাকে আটকে রাখার তুমি কে?”
_“ তুমি একটা বাচ্চার সামনে কী শুরু করেছিলে?” রিকো বলল।
_“ বাচ্চা মাই ফুট! এসব কোনো কিছু আমাকে থামাতে পারবে না।” তায়ান চেঁচিয়ে বলল।
রিকো প্রশ্ন চোখে তায়ানের দিকে তাকাল।
_“তুমি কী বলতে চাইছো?”
_“ আমাদের টিম খবর দাও।” তায়ান বলল।
_“ মানে? তুমি কী ওদের এনে এখানে ফুটবল খেলবে?” রিকোর কন্ঠে বিষ্ময়।
_“ ফুটবল টিম না।” তায়ান বিরক্তি নিয়ে বলল।
_“ তাহলে?”
_“ গ্যাংস্টার টিম।”
এবার এলেনা এসে তায়ানের সামনে দাঁড়িয়ে বলল,
_“ কেন? এখানে এনে কী করবি? আমরা কালই ফিরে যাবো।”
তায়ান সঙ্গে সঙ্গে এলেনার চুল মুঠো করে ধরল।
_“Shut your f*ucking mouth! তোমার সাহস হলো কীভাবে আমার অজান্তে আমার স্ত্রীর কাছে ডিভোর্স পেপার পাঠানো। Answer me!”
এলেনা নিজের চুল থেকে তায়ানের হাত ছাড়াতে ছাড়াতে বলল,
_“ আমি পাঠাইনি। তুই ভুল বুঝছিস… ছাড় আমাকে।”
_“ তুই ছাড়া এই কাজ আর কেউ করবে না।”
_“তায়ান! আমি সত্যিই কোনো পেপার পাঠাইনি। ও এতদিন কোথায় ছিল সেটাই জানতাম না পেপার পাঠাবো কীভাবে?”
_“ মিথ্যে বলছিস তুই।” তায়ান এলেনার চুল আরও দৃঢ় ভাবে ধরল।
_“ আমি মিথ্যা বলছি না। আর আমি তোকে ভয় পাই না যে মিথ্যা বলতে হবে।” তায়ান ছাড়ল না তবু। কিন্তু রিকো যখন বলল,
_“ ডিভোর্স পেপারটা বের কর। ওখানে তোর সাইন থাকলে বুঝব এটা ওর কাজ, নাহলে অযথা এলেনার দোষ দিস না।” তখন এলেনার চুলে থাকা তায়ানের হাত শিথিল হয়। ধীরে ধীরে এলেনাকে ছেড়ে দিয়ে বলল,
_“ ও ছাড়া কে করবে? ও-ই আমাকে সবসময় ডিভোর্স দেওয়ার জন্য ফোর্স করত।”
_“ হ্যাঁ,বলতাম। খুঁজে পেলে হয়ত আমি এমন কিছুই করতাম। কিন্তু আমি তো তোদের সঙ্গেই বাংলাদেশ ছেড়েছিলাম। আর তারপর থেকেই মেয়েটার অস্তিত্ব হারিয়ে গিয়েছিল।” এলেনা বলল।
এলেনার কথা তায়ান বিশ্বাস করতে না চাইলেও এটাই সত্য। কিন্তু তার আগে সেই পেপারটা দেখা দরকার। সেখানে যদি তায়ানের করা হুবহু সাইন থাকে তাহলে এটা নিঃসন্দেহে এলেনার কাজ।
——
_“ কালকেই এখান থেকে চলে যাবো আমরা। আগে যেখানে ছিলাম সেখানেই যাবো।” অ্যাপার্টমেন্টে ঢুকতে ঢুকতে অনুভা শান্তকে বলল।
_“ কিন্তু সেখান থেকেও তো তুমি কারো ভয়ে চলে এসেছ। এভাবে কতদিন পালিয়ে বাঁচবে?” শান্ত মেইন দরজা খুলতে খুলতে বলল।
_“ আমি কাউকে ভয় পাই না। আমি শুধু কোনো ঝামেলায় জড়াতে চাই না। আর এই মানুষ গুলোর ছায়া আমার ছেলের উপর পড়ুক, সেটাও চাই না।”
সেটা তো শান্ত নিজেও চায় না। শুধু আরাফকে না, মাহভিনের উপরেও সে এদের ছায়া পড়তে দিতে চায় না। সে যদি জানত এই প্যারিসে আসায় এই লোকের মুখোমুখি হতে হবে, কখনোই অনুভাকে জোর করে এখানে নিয়ে আসত না।
অ্যাপার্টমেন্টে ফিরতে ফিরতে তাদের অনেকটা রাত হয়ে যায়। আরাফ এতক্ষণে ঘুমিয়ে গেছে। অনুভা ওকে নিজের রুমে এনে শুইয়ে দেয়। তারপর সে পাশে বসে এক দৃষ্টে তাকিয়ে থাকে ছেলের দিকে। আরাফের তুলতুলে গালে আলত করে হাত বুলিয়ে দেয়। ছেলেটা কিছু না খেয়েই ঘুমিয়ে পড়ল। শুকিয়ে থাকা মুখে, চোখের কোণে এখনও শুকনো পানি টলমল করছে। অনুভা তাকিয়ে থাকতে থাকতে,ঘুমন্ত আরাফকে দু’হাত দিয়ে বুকে জড়িয়ে নিল। আরাফ প্রথমে নড়েচড়ে উঠল, কিন্তু মায়ের পরিচিত ঘ্রাণ পেয়ে আবারও নিশ্চিত হয়ে গভীর ঘুমে ডুবে গেল। তারপর অনুভা আরাফের দু’গালে চুমু খেতে খেতে গভীর, কোমল কণ্ঠে বলল,
_“ তুমি শুধু আমার। তুমি আর কারো নও। কেউ কোনো দিন তোমাকে আমার থেকে দুরে সরাতে পারবে না। কেউ কোনো দিন তোমাকে আমার থেকে কেঁড়ে নিতে পারবে না।” আবারও চুমু খেলো আরাফের গালে।
_“ তোমাকে চাওয়ার অধিকার কারোর নেই।” কথা গুলো খুব মৃদু স্বরে বলছিল অনুভা।
শান্ত অনুভার রুমের দরজায় এসে দাঁড়ায়।
_“ আসব?”
অনুভা দরজার দিকে তাকায়। আরাফকে আগের মতো করে শুইয়ে দিয়ে বলল,
_“ অনুমতি চাইছেন?”
_“ চাইছি।” শান্ত এক শব্দে বলল।
_“ আসুন।”
শান্ত এসে আরাফের মুখে একটা ফিডার দিয়ে দিলো। আরাফ ঘুমের মধ্যেই সেটা খেতে শুরু করল। অনুভার শান্তর দিকে মুগ্ধ চোখে তাকাল। তার তো এমন কিছু খেয়ালেই আসেনি। এভাবেই সারারাত পার করতে হতো আরাফকে। শান্ত একটা চেয়ার টেনে বসল। তার মুখটাও কেমন পানসে হয়ে আছে। যেন কতদিনের দুঃখ এসে ভীর করেছে। শান্ত একটু হেঁসে বলল,
_“ তুমি এখনও গুড মম হতে পারোনি।”
_“ আপনি আছেন বলেই হতে পারছি না।”
_“ আমি তো সবসময় নাও থাকতে পারি।” শান্ত খুব কষ্ট বাক্যটা উচ্চারণ করল।
_“ দায়িত্ব ছেড়ে পালাবেন বুঝি?” অনুভা বলল।
_“ আমি পালাতে চাই না৷ যদি সরে যেতে হয়?” শান্ত বলল।
অনুভার ভ্রু কুঁচকে গেল।
_“ কী আবোল তাবোল বকছেন?”
শান্ত এবার বলেই ফেলল নিজের ভেতরের কথা। যা এতক্ষণ তার বুকের ভেতর পাথর হয়ে আটকে ছিল।
_“ আমি তোমাকে একবার হারিয়ে ছিলাম, মাহভিন। আবার যদি হারিয়ে ফেলি আমি সত্যিই বাঁচব না। ম'রে যাবো। আরাফ আর তুমি কাউকে ছাড়াই আমি বেঁচে থাকতে পারব না।” কথা গুলো বলতে বলতে শান্তর দৃষ্টি মেঝেতে চলে গেল। দাঁতে দাঁত চে'পে রাখল।
অনুভার এক মুহুর্তও সময় লাগল না শান্ত কেন এগুলো বলছে। অবাকও হলো না একটুও। সে দীর্ঘ একটা শ্বাস টেনে একটু হেঁসে বলল,
_“ আপনি আমাকে পাননি ঠিকি। কিন্তু হারাবেনও না। মানে.. যদি ম'রে না যাই তাহলে হারাবেন না।”
শান্ত মুখ তুলে অনুভার দিকে তাকাল। চোখ দু'টো লাল হয়ে উঠেছে তার। কেন যেন ভেতর থেকে স্বস্তি পাচ্ছে না সে। এতদিন সব কিছু কত সুন্দর ছিল! আজ কেন যেন সব এলোমেলো লাগছে।
অনুভা শান্তকে আস্বস্ত করার জন্য আবারও হেঁসে বলল,
_“ আপনি হয়ত কোনো কিছু নিয়ে বেশি ভাবছেন। আমরা এখান থেকে চলে যাবো। তারপর আবার সব আগের মতো হয়ে যাবে।”
শান্তও জোরপূর্বক হেঁসে মাথা নাড়াল। তারপর অনুভা আবারও বলল,
_“ ঘুমিয়ে পড়ুন অনেক রাত হ'য়েছে। তাহলে আমরা কবে যাচ্ছি?”
_“ একদিন সময় লাগবে। কালকে অফিসে গিয়ে রিজাইন দিয়ে আসব। পরশু যাবো।”
_“ আচ্ছা।”
_“ খাবে না কিছু?” শান্ত চেয়ার ছেড়ে উঠতে উঠতে বলল।
_“ ইচ্ছে করছে না।” অনুভা বলল।
শান্ত কিছু না বলে নিঃশব্দে বেড়িয়ে গেল। দশ মিনিট পর আবারও আসল। এবার অনুমতি না নিয়েই আসল। নুডলসের প্লেট অনুভার সামনে ধরে বলল।
_“ খেয়ে ঘুমাও।” অনুভা অবাক হয়েও বুঝতে দিলো না। শান্তকে চলে যেতে দেখে বলল,
_“ আপনি খাবেন না?”
_“ আমার খিদে নেই। তুমি খাও।”
_“ ওহহ! আমারও খিদে নেই। থাকুক এটা।” অনুভা নুডলসের প্লেট পাশের ছোট্ট টেবিলে শব্দ করে রেখে বলল। শান্ত থেমে যায়। পেছন ঘুরে তাকায়। অনুভা অন্যদিকে তাকিয়ে আছে। শান্ত ফোঁস করে শ্বাস ছেড়ে বের হয়ে গেল। তারপর হাতে আরেকটি খালি প্লেট এনে আগের আনা নুডলসের প্লেট থেকে কিছু নিয়ে চলে গেল। অনুভা সেদিকে তাকিয়ে হেঁসে নিজেও খেয়ে শুয়ে পড়ল। আরাফকে নিজের সঙ্গে মিশিয়ে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়ল।
——
পরদিন সারাদিন ভালোই চলছিল। অনুভা সকালের কাজ শেষ করে ব্যাগ গুছিয়ে রেখেছিল। কারণ পরদিনই তাদের চলে যেতে হবে। আরাফকে সঙ্গে নিয়ে নিজেদের জিনিস গুলো গুছিয়ে নিচ্ছিল। কিন্তু সারাদিন যার অপেক্ষায় ছিল রাতে সে বাসায় আসল রক্তাক্ত হয়ে। ঠোঁটে, কপালে হাতে আঘাতের চিহ্ন। বাসায়ও ঢুকছিল খোঁড়াতে খোঁড়াতে। শান্তকে এই নিয়ে প্রশ্ন করলেও সে এড়িয়ে যাচ্ছে। এতে অনুভার চিন্তা আরও বাড়ছে।
_“ আপনি প্লিজ কিছু লুকাবেন না। কী হয়েছে বলুন।” অনুভা শান্তর রুমে গিয়ে বলছিল। শান্ত তখন বিছানায় বসে আরাফের সঙ্গে খেলছিল। অনুভার কন্ঠ পেয়ে শান্ত আরাফের থেকে চোখ সরিয়ে তার দিকে তাকায়। মুখের ভঙ্গি স্বাভাবিক রেখে বলল,
_“ তুমি কী এই প্রশ্ন ছাড়া আর কোনো প্রশ্ন পাচ্ছো না?”
_“ না পাচ্ছি না,বলুন।”
_“ এমনি ছোট কার অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছিল।”
অনুভা অসহ্য গলায় বলল,
_“ আপনি কেন মিথ্যা বলছেন? যেখানে আমি বুঝতেই পারছি এটা মিথ্যা।”
শান্তর হঠাৎ কিছু মনে পড়তেই অনুভার দিকে গভীর চোখে তাকিয়ে বলল,
_“ আচ্ছা বলব। কিন্তু এখন না।”
_“ কখন?”
_“ কালকে প্লেইনে বসে।”
অনুভা কপাল কুঁচকে দিয়ে অবাক স্বরে বলল,
_“ আপনি আমার ট্রিকস আমার সঙ্গেই ফলাচ্ছেন?”
_“ হ্যাঁ, একটু তোমার মতো হওয়ার চেষ্টা করছি।”
_“ আচ্ছা ঠিকাছে। কালকেই শুনব।”
——
সকালে অনেক দ্রুত ঘুম থেকে উঠল তারা দু'জন। আরাফ এখনও ঘুমিয়ে আছে। অনুভা নিজে তৈরি হয়ে আরাফকে ঘুমন্ত অবস্থায়ই রেডি করে দিলো। শান্ত ব্যাগ গুলো গ্রাউন্ড ফ্লোরে নিয়ে গাড়িতে তুলছে। অনুভা আরাফকে রুমে রেখে কিচেন রুমে গিয়ে আরাফের খাবার তৈরি করছিল। ফিডারে খাবার ভরে তার সাইড ব্যাগে তুলে নেয়। কিন্তু কাজ শেষ করে রুমের দরজায় আসতেই তার কপালে ভাজ পড়ে। বিছানা ফাঁকা। আরাফ নেই রুমে। অনুভা রুমের অন্য কোন জায়গায় খোজার চেষ্টা করল না কারণ আরাফ ঘুমিয়েছিল। থাকলে বিছানায় নাহলে শান্তর কাছে। সে দ্রুত শান্তকে কল করল।
_“ আপনি আরাফকে এসে নিয়ে গিয়েছেন?”
শান্তর ভ্রুও কুঁচকে গেল। তার ব্যাগ তুলতে থাকা হাত থেমে যায়।
_“ নিয়ে আসলে তোমাকে বলে আনব না? আমি তো উপরেই যাইনি।”
_“ আরাফ কোথায়? ও রুমে নেই…” বাকি কথা আটকে গেল গলায়। আর কিছুই বলতে পারল না। এক হাতে থাকা ফোন অন্য হাতে থাকা সাইড ব্যাগ পড়ে গেল মেঝেতে। অনুভার কথায় শান্তর বুকের ভেতর খামছে ধরে। সে দৌড়ে লিফটের কাছে চলে যায়। অশ্চর্যজনক ভাবে লিফট এখন বন্ধ। সে সময় নষ্ট করল না। সিঁড়ি দিয়ে দৌড়ে গেল নিজেদের ফ্লোরে। গিয়ে দরজা খুলেই দেখে অনুভা ওর রুমের সামনে বসে জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছে। পুরো মুখ লাল হয়ে উঠেছে। শান্ত অনুভার কাছে না গিয়েই অনুভার রুমে ঢুকে পুরো রুম খুঁজল। তারপর নিজের রুমে গিয়ে খুঁজল। আরাফ তেমন ভাবে হাঁটতে জানে না। তবু পুরো ঘরেই খুঁজে দেখল। কোত্থাও নেই।
শান্তর শরীরটা ঘেমে উঠল।
_“ আমার ছেলেকে ও নিয়ে গিয়েছে। ও আমার ছেলেকে মে'রে ফেলবে।” অনুভা বলতে বলতে মেইন দরজার দিকে গেল। পেছন পেছন শান্তও গেল।