হৃদয়ের অগোচরে

পর্ব - ৮

🟢

ইফরাহ নিয়ম মতন নিজের কাজ করলো,রায়েদ কে সময় মতোন কফি দিল। কিন্তু আজকে লক্ষ্য করলো রায়েদের প্রথম দিনের থেকে আজকের ব্যবহার অন্যরকম। তাকে দেখলেই মুচকি হাসি দেয়।

সময় গড়িয়ে বিকেল হয়ে গেল। ইফরাহ নিজের ব্যাগ গুছিয়ে নিল এবং অফিসের গেটের সামনে চলে আসলো অফিস থেকে বের হবার জন্য। কিন্তু আকাশ কালো মেঘে ডাকা। মনে হচ্ছে এখনোই ঝুমঝুমিয়ে বৃষ্টি পরবে। ভাদ্র ও আশ্বিন মাস মূলত শরৎকালের সময়। এই মাসগুলোতে বৃষ্টি কমে এলেও, কখনো কখনো নিম্নচাপের প্রভাবে বা অন্য কোনো কারণে হঠাৎ বৃষ্টি হতে পারে।সকালেও কাঠ পড়া রোদ ছিল।আর এখন অন্ধকার।

ইফরাহ মনে মনে ভাবছে সে তো ছাতা আনে নি। এবং এইখান থেকে গাড়ি, রিকশা কিছুই পাবেনা।তাই তাকে তারাতাড়ি যেতে হবে ‌।সে যেই না অফিসের বাইরে যাবার জন্য পা বের করবে সেই ঝুমঝুম করে বৃষ্টি পড়তে শুরু করল। যেমন তেমন বৃষ্টি না মুষলধারে বৃষ্টি।আর এখান থেকে বাস স্টেশন যেতে কমপক্ষে ১০ মিনিট। এই ১০ মিনিট ছাতা ছাড়া হেঁটে যাওয়া সম্ভব না। তাই ইফরাহ নিরুপায় হয়ে দাঁড়ায়ে রইল।

অফিসের সময় শেষ সবাই আস্তে আস্তে সবাই চলে যেতে লাগলো। ইফরাহ চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে।আর ইশা থাকলেও হতো কিন্তু সে lunch টাইমে ছুটি নিয়ে চলে গিয়েছিল।

রায়েদ নিজের কেবিনে কাঁচের গ্লাসের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। তার দৃষ্টি বাইরের দিকে। একমনে বাইরে তাকিয়ে বৃষ্টি দেখছে। হঠাৎ কিছু একটা মনে পড়াতে তার টনক নড়লো। ঠোঁটে ফুটে উঠল এক প্রশান্তির হাসি।প্রিয় মানুষের সাথে সময় কাটানোর সুযোগ পাবে এই ভেবে হাসি ফুটে উঠল। রায়েদ আর দেরি না করে নিজের কেবিনে থেকে বের হয়ে গেল।

ইফরাহ এখনো অফিসের গেইটের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। বৃষ্টি থামার কোনো নাম গন্ধ নেই। ইফরাহার ঠোঁট থেকে --"চ" বিরক্তিকর উচ্চারণ বের হলো।

রায়েদ ইনায়া কে এইভাবে দাঁড়ায়ে থাকতে দেখে মুচকি হাসলো।তার ধারণা একদম ঠিক।Little Rosebud সবসময়ের মতোন ছাতা আনতে ভুলে গেছে। আগে স্কুলে এবং কলেজে পড়া কালীন এমন করতো।রায়েদে এইসব ভেবে আনমনে হেসে ইফরাহার কাছে গেল এবং তার পাশে দাঁড়িয়ে বলল,,,,,

--"বয়স বাড়লেও মানুষ মনে হয় অভ্যাস বদলাতে পারে না। এইযে যেমন কিছু কিছু মানুষ বৃষ্টি তে ছাতা আনতে ভুলে যায়। আবার বড় বড় মুখে বলে সে নাকি বড়ো হয়ে গেছে। বেশি পড়ালেখা করে মাথা একদম আওলিয়ে গেছে।"

ইফরাহ রেগে গেল।সে খুব ভালো করেই বুঝেছে কথাটা তাকেই বলা হয়েছে।সে না হয় একটু ভুলেই যায় তাই বলে তাকে তার পড়াশোনা নিয়ে খোটা দিবে। ইফরাহ একদম মেনে নিবে না।

ইফরাহ রাগ দেখিয়ে বলল,,,,,

--"থাক আমাকে জ্ঞান বিতরণ করতে হবে না।নিজেও তো কম পড়তেন না।পড়তে পড়তে কানা হয়ে চোখে চশমা নিতে হয়েছে এখন। চশমার ছাড়া একবার এগোতে গেলেই তো সামনে দেয়ালের সাথে বাড়ি গিয়ে মাথায় আলু গোটা বানিয়ে ফেলবেন। আবার এসেছে আমাকে জ্ঞান দিতে।"

রায়েদ হা হয়ে গেল ইফরাহার কথা শুনে।সে বুঝতে পারছে না সে হাসবে না রাগ করবে। এই মেয়ে আগের মতই লজিক ছাড়া কথাবার্তা। হ্যাঁ, সে মানলো যে সে চশমা নিয়েছে তার মানে এই তো না যে চশমা ছাড়া কিছুই দেখতে পারে না।সে যথেষ্ট ভালো দেখে।

তারপর রায়দে ভাব নিয়ে বলল,,,,

--"যারা অনেক পড়াশোনা করে এবং পড়াশোনার ফলে চোখে চশমা পড়তে হয় তাদের কে Nerd Guy বলে।And This is Attractive.... Right?"

ইফরাহ মনে মনে বলল,,,, আকর্ষণীয়তো বটেই কিন্তু মুখে তা প্রকাশ করল না। সে স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বলল,,,,,

--"হ্যাঁ হ্যাঁ,,,, Attractive না ছাই। আমার সামনে এত ভাব নিয়ে লাভ নেই। আমার কাছে এখনো আপনার সেই দাদা আক্তার দাদিমা মার্কা ছবি আছে।"

এই বলে ইফরাহ হো হো করে হেসে উঠলো।রায়েদের চোখ তো কপালে।কি বললো কি মেয়েটা।তার সেই মান ইজ্জতের ফালুদা মার্কা ছবি।রায়েদ ইফরাহার দিকে অসহায় দৃষ্টিতে তাকালো।দেখল ইফরাহ মিটমিট করে হাসছে।

রায়েদ অসহায় কন্ঠে বলল,,,,,

--"এত বাজে কাজ কি কেউ করে? তুমি না ভালো মেয়ে? এইরকম দুষ্টুমি মার্কা কাজ কি তোমাকে মানায় বল? ছবিটা একদম ভালো মেয়ের মতো ডিলিট করে দাও।"

ইফরাহার হাসি যেন অট্টহাসিতে পরিণত হলো। সে হাসতে হাসতে অনেক কষ্টে নিজেকে সামলে উত্তর দিল,,,

--"যেই ছবি আমার কাছে ২০১৫ সাল থেকে আছে সেই ছবি ডিলিট করার প্রশ্নই আসছে না।কত কিউট একটা ছবি।"

এই বলে ইফরাহ ফোন বের করল তারপর গ্যালারিতে গেল।রায়েদ এখনো থ মেরে দাঁড়িয়ে আছে।তার কানে এখনো ইফরাহার বলা কথাগুলো বাজছে।১০১৫ সালের ছবি এখনো তার কাছে আছে।এতে রায়েদ খুশি হবে,,,,মনে আরেক নুতন আশার দীপ জ্বালাবে,,,না কি অন্য কিছু করবে তা নিয়ে সে কনফিউজড।তার তো মনে হচ্ছে এর থেকে খুশির কিছু আর হতেই পারে না।

রায়েদের দৃষ্টি ইফরাহার ফোনের দিকে।রায়েদ দেখল ইফরাহার গ্যালারিতে সেই ছবি টি Favourite Option নামক File এ আছে।রায়েদ থমকে গেল।এ কি দেখলো সে এখন।তার নিজ চোখকে বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করছে না।সে নিজেকে অনেক জোরে চিমটি কাটলো কিন্তু চিমটি লাগছে না। তার মনে হচ্ছে সে কোনো ঘোরে আছে। অথবা সে স্বপ্ন দেখছে।চোখ খুললেই সব শেষ।

ইফরাহ ছবি টি বের করে তার দিকে তাক করলো কিন্তু সে দেখলো রায়েদ কেমন অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। ইফরাহ রায়েদের মুখের সামনে হাত নাড়িয়ে ডাকলো।রায়েদ ভাবলীশ স্বরে বলল,,,,,

--"আমায় একটু চিমটি কাটো না প্লিজ?Little Rosebud"

ইফরাহার শ্বাস ভারী হয়ে উঠলো।সেই পুরনো ডাকনাম।সেই আবেগ জনিত স্বর।তার মানে কি রায়েদ এখনো তাকে,,,,না। ইফরাহ আর ভাবতে পারলো না।সে বিনা কোনো দ্বিধায় রায়েদের হাতে নিজের নক দিয়ে জোরে চিমটি কাটলো।

রায়েদ চিল্লায়ে উঠলো।--"আআআআ।" তার যেন মাত্র হোশ ফিরল।সে নিজের হাত অন্য হাত দ্বারা ডলতে ডলতে বললো,,,,

--"তুমি কি মানুষ নাকি রাক্ষসনী।এত জোরে কেউ চিমটি কাটে। উফ্ আমার হাত।"

ইফরাহ বলল,,,,

--"প্রথমত আপনি নিজেই বলেছেন চিমটি কাটতে।আর এখন এই সামান্য চিমটি সহ্য করতে পারছেন।হায় আল্লাহ।"

রায়েদ এই কথার প্রেক্ষিতে আর কিছু বলল না। কারণ সে জানে এই মেয়ের সাথে সে কখোনোই জিততে পারবে না। এবং সে তার Little Rosebud কে কখনো হারতে দেখতে পারবে না।তার Little Rosebud এর জিতেই তো তার জিত। এবং সেই জন্য রায়েদ তার ভালোবাসার মানুষটির সামনে কোটি কোটি বার হারতে রাজি।

রায়েদ ইফরাহ কে উদ্দেশ্য করে বলল,,,,

বিজ্ঞাপন

--"তোমার কাছে যেহেতু এই ছবি আছে তাহলে এইটা ডিলেট করানোর স্বপ্ন বিলাসীতা ছাড়া আর কিছুই না।যাকগে সেই সব। এখন গাড়িতে উঠো। বৃষ্টি সহজে থামবে বলে মনে হচ্ছে না।আর সন্ধ্যা হয়ে গেছে আমি তোমাকে নামিয়ে দিচ্ছি।"

ইফরাহ আর দ্বিমত করল না।তার দ্বারা আবার নেকামি হবে না।আর বিষয়টি এমন নয় যে সে রায়েদ কে চিনে না। আগে এমন হাজারো বার রায়েদ তাকে বাড়ি পৌঁছিয়ে দিয়েছে। তাই এখন দ্বিমত করার কোন কারণ নেই।

ইফরাহ চুপচাপ রায়েদের সাথে সাথে গেল।রায়েদের হাতে ছিল ছাতা যা সে ইফরাহার মাথার উপর ধরেছে। এবং তার ও ইফরাহার মাঝে খানিকটা দূরত্ব বজায় রেখেছে। অবশ্য তার কাঁধের এক পাশ বৃষ্টিতে ভিজে চুপচুপে হয়ে যাচ্ছে কিন্তু রায়েদের সেদিকে কোন খেয়াল নেই।সে ইফরাহার জন্য গাড়ির দরজা খুলে দিল। ইফরাহ গাড়িতে উঠে বসলো।যে কেউ দেখলে বলবে ইফরাহ মালিক এবং রায়েদ তার বডিগার্ড।

কিন্তু রায়েদ এইসবে পরোয়া করে না।আর নিজের ভালোবাসার মানুষের জন্য একজন পুরুষ হয়ে এতটুকু করা Bare Minimum.

রায়েদ গিয়ে ডাবিং সিটে বসল। ইফরাহ চুপচাপ বসে আছে।রায়েদ জানে ইফরাহার বৃষ্টি ভালো লাগে। বিশেষ করে বৃষ্টির পানিতে নিজের হাত ভেজাতে। তাই রায়েদ বিনা কোন প্রশ্ন করে গাড়ির জানালা খুলে দিল। ইফরাহ মুচকি হাসলো। মনে মনে বলল,,,

--"এই লোকটা প্রত্যেকটি ছোট ছোট ব্যাপারে খেয়াল রাখে এবং সেগুলো মনে রাখে। আসলেই এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া বিরল। মি আক্করা‌ অনলি ওয়ান পিস।"

ইফরাহ গাড়ির জানলা দিয়ে নিজের হাত কিছুটা বের করল। বৃষ্টির গতি কিছুটা কমেছে। এখন না খুব জোরে বৃষ্টি পড়ছে আর না ঝিরিঝিরি। বৃষ্টির পানি এসে পড়ছে তার হাতে। আবার মুখেও বৃষ্টির পানির ছিটা আসছে।

রায়েদ চুপচাপ গাড়ি চালাচ্ছে।এখন যদি ইফরাহার দিকে তাকায় সে তাহলে তার দৃষ্টি আর সেখান থেকে সরাতে পারবে না এবং বিয়ে না করেই এক্সিডেন্ট হবার কারণে তাকে অক্কা পেতে হবে।যা সে চায় না।তার কত স্বপ্ন। ইফরাহ কে বিয়ে করবে। একটি ফুটবল টিম এবং একটি ক্রিকেট টিম অন্তত তৈরি করবে। এখন যদি সে পটল তুলে ফেলে তাহলে তো তার এই স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে।

গাড়িতে নিরবতা। শুধু বাইরে থেকে বৃষ্টির শব্দ আসছে। ইফরাহার দৃষ্টি বাইরের।রায়েদ হঠাৎ করে ইফরাহাকে‌

জিজ্ঞেস করল,,,,

--"তো প্রেম টেম কিছু কর?"

ইফরাহ আগের মতোনই স্বাভাবিক কণ্ঠে বলল,,,,

--"এইসব স্টুপিড মার্কা প্রেম-টেমের ভেতর আমি নেই।"

রায়েদ মুখ ভেংচি কেটে ব্যাঙ্গাতক স্বরে বলল,,,,

--"এহ্ নাক টিপলে দুধ বের হবে। আবার বড়ো বড়ো কথা,,,,

এইসব স্টুপিড মার্কা প্রেম-টেমের ভেতর আমি নেইইইইইই।"

শেষের কথা রায়েদ ন্যাকি স্বরে বলল।

ইফরাহ রেগে গিয়ে বলল,,,,,

--"ইইউউউউ,,,,কি সব ফালতু কথা বলছেন। উফ্। এইসব প্রেম ভালবাসা আমার কাছে বিরক্তকর ছাড়া আর কিছুই না।"

রায়েদ শান্ত স্বরে শুধালো,,,,

--"যদি কখনো কাউকে মন থেকে সত্যি কারের ভালবাসতে তাহলে এই কথা বলতে পারতে না।"

ইফরাহ মুখ ভেংচি কেটে বলল,,,,,,

--"নিজে যেভাবে আমাকে জ্ঞান দিচ্ছে মনে হচ্ছে নিজে যখন লাভ গুরু। কাউকে মনে হয় খুব ভালবাসে।"

এই কথা বলে ইফরাহ জিভে কামড় দিল। কথায় কথায় কি বলে ফেলল সে।এত বড় কথা কি করে বলল। এখন তো আর রায়েদের দিকে তাকানোর পর্যন্ত সাহস নেই।

অন্যদিকে রায়েদের ঠোঁটে তাচ্ছিল্যের হাসি। মনে মনে বলল,,,

--"হয়তো সে সত্যিই ভালোবাসা মানে জানেনা। সঠিকভাবে ভালবাসতে পারছে না। তাইতো নিজের ভালবাসার মানুষকে বারবার কাছে পেয়ে হারাতে হয়।"

রায়েদ আর উত্তরে কিছুই বলল না।তার চোখের কোণে খানিকটা পানি জমে গেল।আর ইফরাহ সে নিজেকে ক্রমশ বকে যাচ্ছে।সে খুব রিগ্রেট ফিল করছে। এইভাবে বলা উচিত হয়নি তার।যত যাই হোক সে অস্বীকার করতে পারবে না এই লোকটি কোন এক কালে তাকে পাগলের মত ভালোবাসতো।

ইফরাহ মনে মনে বলল,,,,

--"আপনি কেন বার বার আমার সামনে আসেন। কেন নিজেকে কষ্ট দেন। আমি যে আহামরি কিছুই না। এত গুলো বছরে আপনার কথা মনে পড়েনি এমন কোন দিন হয়তো আমার যায়নি। কিন্তু সেটিকে আমি শুধু উপেক্ষা করে গেছি। কিন্তু এখনো যদি আগের মত এত কেয়ার দেখান তাহলে আমি বাধ্য হবো গলে যেতে। আল্লাহ তাড়াতাড়ি বাসায় নিয়ে যাও। রাস্তা ছোট করে ফেল। আমার পক্ষে আর এখানে বেশিক্ষণ থাকা সম্ভব হচ্ছে না।"

অন্যদিকে রায়েদ মনে মনে প্রার্থনা করতে লাগলো,,,,

--"আল্লাহ প্লিজ তোমার এই বান্দার ওপর দয়া কর। অনেক বড় একটি ট্রাফিক জ্যাম ফালাও। যাতে আমি আমার ভালোবাসার মানুষটির সাথে আরও কিছুক্ষণ সময় কাটাতে পারি। তার কাছে আমার সেই ২০১৫ সালের ছবি এখনো আছে। সেটাকে আমি তোমার দেওয়া এক পজিটিভ ইশারা বলে মনে করে নিচ্ছি। হয়তো আমাকে ভালবাসে না। কিন্তু তার মনে যে আমার কোন জায়গা নেই বিষয়টি এমনও না। তারমানে এখনো আমার আশা আছে। তুমি চাইলে সব সম্ভব।"

ঠিক ১০ মিনিট পর পাশের রাস্তায় মরতেই এক বড় ট্রাফিক জ্যাম দেখা গেল। যা দেখে রায়েদ খুব খুশি হয়ে গেল এবং মনে মনে আল্লাহর কাছে শোকর আদায় করল।আর ইফরাহ হা হয়ে রইল ট্রাফিক জ্যাম দেখে।

বিজ্ঞাপন
হৃদয়ের অগোচরে গল্পটি নাজনীন নেছা নাবিলা-এর লেখা একটি জনপ্রিয় রোমান্টিক ও থ্রিলারভিত্তিক গল্প