ইফরাহ রায়াদের জন্য কফি তৈরি করছিল যেভাবে ম্যানেজার বলে গেছে।পানি জালে ছিল।আর ইফরাহা ছিল ভাবনায়।তার মাথায় ঘুরছে একটু আগে রায়েদের বল কথা গুলো।
--"অফিসের কারো সাথে বেশি বন্ধুত্ব করবে না। বিশেষ করে ছেলেদের সাথে।"
--" যদি কোন কাজ বুঝতে অসুবিধা হয় তাহলে রবিনকে নিজের বড় ভাই মনে করে জিজ্ঞেস করবে।"
একদম আগের রায়াদের কথা এগুলো। ইফরাহ চলে গেল অতীতের ভাবনায়।
অতীত _________
সেদিন যখন ইফরাহ রায়াদ কে সাহায্য করে ছিল তারপর তার সাথে রায়াদের আর দেখা হয়নি। ইফরাহ তো রায়াদের কথা ভুলেই গিয়েছিল। কিন্তু একদিন ইফরাহ তার স্কুল শেষে বান্ধবীদের সাথে সেই ফুচকা স্টোরে গেলো। সেদিন বৃহস্পতিবার ছিল হাফ ডে ছিল স্কুলের। তাই সেই বান্ধবীদের সাথে ফুচকা খেতে গিয়েছিল। দোকানে যেতেই সে দেখল সেই ছেলেটি বসে কারো জন্য অপেক্ষা করছে যে ছেলেটিকে একদিন সে পানি দিয়েছিল। ইফরাহ বেশি পাত্তা দিল না।
রায়েদ মূলত তার Little Rosebud এর জন্য অপেক্ষা করছিল। আসলে সেইদিন এল পর থেকে রায়েদ প্রতিদিন সেই সময়ে এসে এখানে অপেক্ষা করে তার Little Rosebud এর জন্য।যদি এক নজর তাকে দেখতে পারে।
ইফরাহ ভিতরে ঢুকে একপাশের টেবিলে বসল।রায়েদ হঠাৎ তার পাশে ফিরে তাকাতেই থমকে গেল।তার Little Rosebud পরনে স্কুল ড্রেস।সাদা হিজাব।মুখ ঘেমে একাকার। কপাল থেকে ঘাম গড়িয়ে দাগ দিয়ে পড়ছে। চোখে মুখে ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট। রায়েদের মনে হলো তার হার্ট ফেল করেছে।অথবা তার মনে হচ্ছে তার হৃদয় তার শরীরের অগোচরে চলে গেছে। যাকে এক কথায় বলে #হৃদয়ের_অগোচরে ।
রায়েদ ভাবলো তার কাছে যাবে কিন্তু গেল না।সে দেখতে চাচ্ছিল তার Little Rosebud কি করে ।
অন্যদিকে ইফরাহ ঝাল ঝাল করে ফুসকা অর্ডার করল।তার আবার ঝাল খুব প্রিয়। ফুচকা টেবিলে আসতেই সে খেতে শুরু করল। টকের মধ্যে ফুচকা ভিজিয়ে পুরো ফুচকা মুখের ভেতর ঢুকিয়ে নিল। ফুচকা মুখের ভেতর যেতে না যেতেই সে চোখ বন্ধ করে দিল। তারপর ফুচকা খেতে লাগলো। তার বন্ধ চোখ দেখে বোঝা যাচ্ছে এটি তার প্রিয়।সে ঝালে ফুঁয়াচ্ছে তার পরও ফুসকা খাচ্ছে। প্রথমে এক প্লেট ফুসকা খেল তার এক প্লেট চটপটি খেল। তার মন চাচ্ছিল আরো এক প্লেট ফুসকা খেতে। কিন্তু বেশি ফুসকা খেলে পেট ব্যথা করবে এবং এর ফলে সে পড়তে পারবে না।তাই নিজের ইচ্ছা কে দমন করল।
অন্যদিকে রায়েদ তার দিকে এক দৃষ্টিতে হা করে তাকিয়ে আছে।সে ভাবছে মেয়েটি এত ঝাল ঝাল দুই প্লেট কি করে খেল। সে তো এক প্লেট খেতে গেলেই তার অবস্থা নাজেহাল। আর তার থেকে কত ছোট পিচ্চি একটা মেয়ে এত ঝাল খেয়ে ফেলল।
ইফরাহ দেখল সেই দিনের সেই ছেলেটি তার দিকে হা করে তাকিয়ে আছে।ইফরাহ তার ফুচকা এবং চটপটির বিল দিয়ে এক বোতল পানি নিয়ে পানি খেতে খেতে সেই ছেলেটির সামনে এসে দাঁড়ালো এবং তুরি মেরে বলল,,,,,
--"এইযে মি,আক্করা! এই ভাবে হা করে তাকিয়ে আছেন কেন? আমার খাবারে তো নজর লেগে যেত। আর আমি যেটা খাচ্ছিলাম সেটা আপনি খেতেও পারতেন না। প্রচন্ড ঝাল। তাই এভাবে তাকিয়ে থেকে আমার খাবারে নজর দিবেন না।"
রায়েদের হোশ ফিরল। সে বুঝতে পারল সে এতক্ষণ কি করছিল। তৎক্ষণাৎ নিজেকে স্বাভাবিক করে বলল,,,
--"পিচ্চি মানুষ পিচ্চিদের মত থাকবে। এত বড় বড় কথা বলো কেন? আর আমার তো কোন কাজ নেই যে তোমার খাবারে নজর দেব। এসব খাবার কেউ খায় নাকি? যতসব অস্বাস্থ্যকর খাবার। তার উপরে আবার ঝাল। আমিতো শুধু দেখছিলাম পিচ্চি হয়ে কি করে এত ঝাল খেয়ে উঠলে। আর চোখ দিয়ে এক ফোঁটা পানিও বের হলো না। এমনকি খাওয়ার মাঝখানে পানি ও খেলে না।"
ইফরাহ রাগি দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল,,,
--"শুনুন।আমার নাম পিচ্চি না। আমার নাম আনায়াহ ইফরাহ।আর আমার খাওয়া নিয়ে আপনার না ভাবলেও চলবে ধন্যবাদ।"
রায়েদ মুচকি হাসলো।সে অবশেষ তার Little Rosebud এর নাম জানতে পেরেছে।সে মনে মনে নামটা বলল,,,আনায়াহ ইফরাহ।
তারপর বলল,,,
--"আচ্ছা যাই হোক না কেন তোমার নাম। শোন পিচ্চি, তুমি সেদিন আমাকে পানি দিয়ে সাহায্য করেছিলে তার জন্য ধন্যবাদ। এবং আমার নাম মিস্টার আক্করা না আমার নাম হলো ইহসান রায়েদ সিকান্দার।আর হ্যাঁ যেহেতু তুমি আমাকে সাহায্য করে আমার মনে I mean আমার জীবনে ঢুকে পড়েছ। আমিও তোমাকে সাহায্য করে তোমার মনে ঢোকার I mean তোমার জীবনে এসে তোমাকে সব সময় সাহায্য করবো।"
ইফরাহ কি বলবে বুঝতে পারল না। সে ভাবল হয়তো লোকটি আসলে তাকে সাহায্য করতে চায়। এবং সে আরো ভাবল যে তার কোন সমস্যা হয় না। তাই এখন কথা বাড়ালো না সে শুধু মাথা নাড়ায়। তারপর সেখান থেকে যাবার জন্য পা বানাই ঠিক তখনই রায়েদ বলল,,,
--"শোনো মেয়ে, মেয়েদের সাথে বন্ধুত্ব করে এখানে এসেছ, ফুচকা খেয়েছো ভালো কথা। কিন্তু ছেলেদের সাথে ভুলেও বন্ধুত্ব করবে না। ছেলেরা যে বড়ই খারাপ। তোমার সরলতা সুযোগ নেবে। এই জগতে কেউই কারো ভালো চায়না। কে কি করে কাউকে ক্ষতি করে তার আগে যাবে সে কিভাবে। তাই বুঝে শুনে কাজ করবে।"
ইফরাহ থমকালো তারপর রায়েদের দিকে সম্মানময় দৃষ্টি নিয়ে তাকালো তারপর মাথা নামিয়ে আবার সামনের দিকে যেতে লাগল।
রায়েদ মুচকি হাসলো তারপর ইফরাহ পাশ দিয়ে একটি গানের লাইন গেতে যেতে লাগলো,,
--"মায়াবী চোখে কি মায়া
যেন গোধূলি আবীর মাখা
কি নেশা ছড়ালে!
কি মায়ায় জড়ালে?"
ইফরাহ অবাক হয়ে গেল।এই গান কেন গেলে? তারপর আবার বলল,,,
--"যাই হোক আমার কি। কিন্তু উনার গানের কন্ঠ সুন্দর।"
ইফরাহ তার পথের দিকে যেতে লাগল।আর রায়েদ দাঁড়িয়ে তার Little Rosebud এর দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল যতক্ষণ পর্যন্ত তাকে দেখা গেল। তারপর আবার আনমনে গেয়ে উঠল,
--"জানি তুমি আছো একা
তবে কেন বলো দূরে থাকা।
সময় তো থেমে থাকে না
দ্বিধা ভেঙে কাছে এসো না।
কি নেশা ছড়ালে!
কি মায়ায় জড়ালে?"
ইফরাহ অতীত থেকে ফিরে এলো যখন পানি গরম হয়ে উতলে পড়তে লাগলো। তাড়াতাড়ি করে গ্যাস অফ করে কফি বানিয়ে রায়েদের কেবিনে দিয়ে এল।তখন অবশ্য রায়েদ কেবিনে ছিল না। হয়তো না ওয়াশ রুমে। ইফরাহ হাঁফ ছাড়ল তারপর নিজের ডেস্কে এসে বসল।