ইশা রুমে বসে বসে রবিনের বলে যাওয়া কথাগুলো ভাবছে। তার যেন বিশ্বাস হচ্ছে না যে রবিন এমন এক প্রস্তাব দিয়ে বসবে।আর অবিশ্বাস্য লাগারই কথা তার আর রবিনের মাঝে তো কোনো সম্পর্কই নেই। এবং যা আছে তা কেবল ঝগড়ার সম্পর্ক। অথচ কত সহজেই রবিন তার সাথে নিজের বিয়ের প্রস্তাব দিল তাও তার ভাই ইশানের সামনে।
হ্যাঁ রবিন তখন নিজের আর ইশার বিয়ের বিষয়ে প্রস্তাব দেয় সরাসরি। এবং বলে যদি ঈশান রাজি থাকে তাহলে কালকেই নিজের মা বাবা কে নিয়ে আসবে এবং বিয়ের দিন ঠিক করবে।ইশা তো এসব শুনে লজ্জা এবং বিষ্ময় নিয়ে দৌড়ে নিজের রুমে এসেছিল তারপর আর রুম থেকে বের হয়নি।আর ইশান রবিনের কাছ থেকে সময় চেয়ে তাকে বিদায় দেয়।
ইশা রুমে শুয়ে শুয়ে এখনো এইসব ভাবছে।রাতে তার ঠিক মতন ঘুম হয়নি এইসব ভাবনার কারণে।রবিন কে না করার মতন কোনো কারণ নেই শুধু মাত্র একটা ছাড়া যা হলো ঝগড়া।আর এখন তো সেই কারণ টিও রবিন অবশিষ্ট রাখল না। রাঙ্গামাটি থেকে আসার পর আজ কতগুলো দিন পার হয়ে গেল অথচ তাদের মাঝে কোনো ঝগড়া হলো না। অবশ্য আগে তাদের মাঝে ঝগড়া হলেও রবিন সবসময় তার কেয়ার করত।যেমন কাজ করতে করতে কখনো লেট হয়ে গেলে ইশা কে অফিসে একা রেখে যেত না বরং বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দিত। অবশ্য এর ভেতরও কিছু না কিছু নিয়ে ঝগড়া হত তাদের।
ইশা যখন নিজের চিন্তা ভাবনায় মশগুল ছিল তখনি কেউ তার দরজায় নক দিল।সে বিছানা ছেড়ে উঠে গিয়ে দরজা খুলল।দেখল তার ভাইয়া আর ভাবি দাঁড়িয়ে আছে।সে তাদের দুজনকে ভেতরে আসতে বলে আবার বিছানায় এসে বসল।এত সকাল সকাল যে তার ভাই এবং ভাবি কেন তার রুমে এসেছে এইটা বুঝতে তার অসুবিধা হলো না।ইশান আর রুনা ইশার দুপাশে দুজন বসল।ইশান গলা খাঁকারি দিয়ে ইশার উদ্দেশ্যে বলতে শুরু করল____
"রবিন ছেলেটি কিন্তু খুব ভালো। আমাদের থেকে ওকে তুই বেশি ভালো চিনিস।আর আমার জানা মতে ওর পরিবারের সবাইও খুব ভালো। কোনো তাড়াহুড়ো নেই।তোর ইচ্ছাটা আমাদের কাছে বেশি প্রাধান্য। কিন্তু বিয়ে তো একদিন না একদিন করতেই হবে।আর রবিন কে দেখেই বোঝা যায় সে তোকে কতটা ভালোবাসে। মানলাম আগে তোদের মাঝে অনেক ঝগড়া হতো। কিন্তু সেই ঝগড়ার পিছনে লুকিয়ে ছিল ভালোবাসা যা হয়তো তোরা কেউই অনুভব করতে পারিস নি। হয়তো রবিন তা উপলব্ধি করতে পেরেছে তাই তো ভদ্র ছেলের মতোন আমার সাথে সরাসরি কথা বলল যা আমার কাছে বেশি ভালো লেগেছে।তাই একটু ভেবে দেখ রবিন কে নিয়ে।"
এই বলে ইশান নিজের স্ত্রী কে ইশারা করল এবং দুজন মেলে চলে যাওয়া জন্য উঠে দাঁড়ালো। হঠাৎ ইশা বলে উঠলো__
"ভাইয়া তোমার সিদ্ধান্তই আমার শেষ সিদ্ধান্ত। তুমি চাইলে আমি এই বিয়ে করব।আমার কোনো অমত নেই।"
কথাটি শোনা মাত্রই ইশান আর রুনার মুখে হাসির ঝিলিক ফুটে উঠল।ইশান তার বোন কে জড়িয়ে ধরলো। মেয়েটি কত বড় হয়ে গেছে।ইশার মাথায় চুমু খেয়ে দুজন মিলে বের হয়ে পড়ল ইশার রুম থেকে।ইশান কল লাগালো রবিন কে আর রুনা চলে গেল রান্নার কাজে।আজ যদি রবিন তার পরিবার নিয়ে আসে তাহলে তো অনেক আয়োজন করতে হবে।সে চায় না তার একমাত্র ননদ কে পাত্রপক্ষ দেখতে আসলে কোনো কমতি থাকুক।
___________
সূর্যের আলো চোখের উপর পড়ায় ঘুম ভেঙ্গে গেল রায়েদের। চোখের পাতা আস্তে আস্তে খুলল। বুকের উপর ভারি কিছু অনুভব করতে পেরে বুকের দিকে তাকিয়ে দেখল তার Little Rosebud তার বুকের উপর গুটিসুটি মেরে ঘুমিয়ে আছে। মুখের উপর চুল এলোমেলো ভাবে ছড়িয়ে আছে।রায়েদের ঠোঁট প্রশান্তির হাসি ফুটে উঠল। মনে হচ্ছে এখানেই সময় থমকে আছে।সে যেন স্বপ্ন দেখছে। বিশ্বাসই করতে পারছে না যে সে নিজের ভালোবাসার মানুষটিকে পেয়েছে। আপন করে পেয়েছে তাও এতগুলো বছর পর। কতটাই না অপেক্ষা করতে হয়েছে তাকে। কত রাত না ঘুমিয়ে কাটাতে হয়েছে। দাদিমা সাজতে হয়েছে। এমনকি চুরি করতে হয়েছে তাও আবার বিড়াল চুরি করতে হয়েছে। ভালোবাসার জন্য কি কি করতে হয়।এই সব ভেবে একা একাই হেসে উঠলো রায়েদ। হাসির কারণে শরীর নড়ে উঠলো যায় ফলে ইফরাহার ঘুম কিছুটা হালকা হয়ে গেল।রায়েদ আবার তার Little Rosebud এর দিকে দৃষ্টিপাত করল।গত রাতের কথা মনে পড়তেই মুখে দুষ্টু হাসি ফুটে উঠল।কি পাগলামি টাই না করেছিল সে।আর মেয়েটিও তার করা পাগলামি কত সুন্দর করে সহ্য করে নিল। দুজন মিলে গোসল করে একবারে ফজরের সময় ঘুমিয়েছিল।তাই তো ইফরাহ এখনো ঘুমোচ্ছে।রায়েদের মাথায় এক সয়তানি বুদ্ধি এলো।সে আস্তে আস্তে ইফরাহার মুখের উপর পড়ে থাকা চুল গুলো দিয়ে ইফরাহ কে বিরক্ত করতে শুরু করল।চুলের খোঁচা খেয়ে ইফরাহার ঘুম ভেঙে গেল। বিরক্তিতে চোখ খুলে তাকিয়ে রায়েদের হাস্যজ্জ্বল চেহারা দেখতে পেল।গত রাতের কথা মনে পড়তেই শরীরে কাঁটা দিয়ে উঠলো। লজ্জায় রায়েদের বুকে মুখ গুঁজে দিল।রায়েদ শব্দ করে হেসে উঠলো। তারপর ইফরাহার কানে কানে ফিসফিস করে বলল__
"সারারাতে তোমার লজ্জা সরম ভাঙ্গিয়ে দিতে পারলাম না। Little Rosebud আমি কি এতটাই অপদার্থ?"
ইফরাহার লজ্জার বেগ আরো বেড়ে গেল।সে রায়েদের বুকে কিল দিল কয়েকটি।রায়েদ আবার হেসে উঠলো তারপর নিজের Little Rosebud কে বুকের সাথে জড়িয়ে নিল। এইভাবেই কিছুক্ষণ সময় অতিবাহিত হলো। ইফরাহ মিনমিন স্বরে বলল_____
"ছাড়ুন তো এমনিতেই বেলা হয়ে গেছে।কত কাজ আছে।"
এই বলে ইফরাহ রায়েদ কে ধাক্কা দিয়ে আস্তে আস্তে উঠে বসল। উঠে বসতেই পেটে হালকা ব্যথা অনুভব করল। ঠোঁট কামড়ে ব্যাথা সহ্য করে নিল।রায়েদও উঠে বসলো তারপর ইফরাহ কে নিজের দিকে ফিরিয়ে শান্ত কন্ঠে বলল___
"আইএম সরি Little Rosebud. আমার এতটা পাগলামি করা উচিত ছিল না। একটু বেশি কেয়ার ফুল থাকা উচিত ছিল। খুব বেশি ব্যাথা করছে কি? ডাক্তার ডাকবো? গরম পানি আনছি দাঁড়াও। তুমি উঠবে না বলে দিলাম।"
এই বলে রায়েদ যেইনা বিছানা ছেড়ে উঠতে নেবে উমনি ইফরাহ তার হাত ধরে ফেলল তারপর শান্ত কন্ঠে বলল___
"এত উতলা হবার কিছুই নেই রায়েদ।আমি একদম ঠিক আছি। আপনি শুধু শুধু চিন্তা করছেন। একটুও ব্যাথা করছে না। আপনি কি কখনো আমাকে কষ্ট বা ব্যাথা দিতে পারেন? আমার সব থেকে নিরাপদ স্থান তো আপনি।"
ইফরাহার কথা শুনে রায়েদের মন গলে গেল। ইফরাহার মুখ নিজের দুহাতের মাঝে নিয়ে ইফরাহার চোখে চোখ রেখে কমল কন্ঠে বলল____
"" অনেক ভালোবাসি তোমাকে Little Rosebud। ভরসা রাখ বিন্দু মাত্র কষ্ট পেতে দিব না তোমাকে।আর না বিপদ কে ছুঁতে দিব তোমায়। তোমাকে ছোঁয়ার অধিকার কেবল মাত্র আমার। তোমার মি. আক্করার।আমি ব্যতীত অন্য কেউ তোমাকে নিয়ে চিন্তা করলে তার জীবন আমি নরকে পরিণত করব।১০ বছরের ভালোবাসা তুমি আমার। অনেক অপেক্ষার পর তোমাকে পেয়েছি। অনেক ভালোবাসা জমিয়ে রেখেছিলাম তোমার জন্য।সব এখন তোমাকে উজাড় করে দেওয়ার সময়। এবং এত বছর যে আমাকে অপেক্ষা করিয়েছ তার শাস্তি আস্তে আস্তে দিব।এই শাস্তি কোনো যন্ত্রণা দিবে না কেবল দিবে সুখ। ঠিক গত রাতের মতন।"
ইফরাহার শরীরে শিহরণ বয়ে গেল রায়েদের এমন কথা শুনে। লজ্জায় তাকাতে পারছে না সে রায়েদের দিকে।রায়েদের বুকেই আবার মুখ লুকোলো।রায়েদ ও তাকে পরম আবেশে নিজের সাথে জড়িয়ে নিল।
_______________
ঘরোয়া ভাবেই ইশা এবং রবিনের এনগেজমেন্ট শেষ হলো কিছুক্ষণ আগে।এত তাড়াতাড়ি বিষয়টি ঘটে গেল কেবলমাত্র রবিনের জোরাজুরিতে।সে পারলে তো এক্ষুনি ইশা কে বিয়ে করে কিন্তু ঈশানের একটাই কথা, তার এক মাত্র বোন সে খুব ধুমধাম করে বিয়ে দিবে।তার অগত্যা রবিন কে মানতে হলো।
ছাদের এক কোণে দুজন মিলে দাড়িয়ে আছে। ইশা মুখ ভার করে আছে কারণ রবিন কেন তাকে আগে এই সম্পর্কে বলল না।আর রবিন ইশার মুখ ভার করে রাখা দেখে মুচকি মুচকি হাসছে। অবশেষে সেও নিজের ভালোবাসার মানুষটিকে নিজের করে পাবে।রবিন গলা খাঁকারি দিয়ে ইশার মনোযোগ কারার চেষ্টা করল।ইশা রবিনের দিকে তাকাতেই রবিন মুচকি হেসে বলতে শুরু করল___
"তোমার করা এই রাগই আমাকে তোমার দিকে টেনেছে আমার ঝগড়াবতী।কখন যে ঝগড়া করতে করতে তুমি আমার মন কড়ে নিয়েছো তা টেরও পায়নি আমি।অনুমতি ব্যতীত আমার হৃদয়ে লুকিয়ে বসেছিলে। তোমার জন্য ভালোবাসা লুকিয়ে ছিল আমার #হৃদয়ের_অগোচরে যা আমি অনেক দেরি করে উপলব্ধি করতে পেরেছি। আর রাগ করে থেকে বা মুখ ভার করে রেখে লাভ নেই তোমাকে আমারই হতে হবে। বাকিটা জীবন কেবল আমার সাথেই ঝগড়া করে যেতে হবে তোমাকে।"
ইশা এক মনে রবিনের কথা গুলো শুনছিল। রবিনের বলা কথাগুলো যেন তার হৃদয়ে গেঁথে গেল।তার মনে আজ এক নতুন অনুভূতির দোলা দিয়ে গেল।আগে রবিনের কথায় রাগ উঠতো অথচ আজ লজ্জা লাগছে।রবিন ইশার লজ্জা পাওয়া দেখে হেসে উঠলো তারপর দুজন মিলে চলে গেল নিচ।১৫ দিন পর তাদের ধুমধাম করে বিয়ে হবে।
_________________
সময় আর স্রোত কারোর জন্য অপেক্ষা করে না।সময় নিজের মতন অব্যাহতি থাকে। এইযে দেখতে দেখতে ৬ মাস পার হয়ে গেছে রায়েদ আর ইফরাহার বিয়ের। ইফরাহ সংসার এবং অফিস দুটোই একসাথে সামলায়।আর পড়াশোনা তো আছেই। হ্যাঁ সে এখনো রায়েদের অফিস কাজ করে।রায়েদ অবশ্য তাকে বলেছিল রায়েদের নিউ কম্পানি তে সিইও হিসেবে জয়েন করতে কিন্তু ইফরাহ জানে তার এখনো সেই যোগ্যতা হয়নি।সে তো এখনো নিজের পড়াশোনাই শেষ করেনি সেই জায়গায় কোনো কম্পানির সিইও হওয়া তো অনেক দূরের কথা। ইফরাহ চেয়েছিল বিয়ের পরও চাকরি করতে, নিজের বাবার মার জন্য ইনকাম করতে, নিজের পরিচয় তৈরি করতে। এবং রায়েদ তার সিদ্ধান্তে সম্পূর্ণ সাপোর্ট করে। এমনকি রায়েদের পরিবারও তাকে যথেষ্ট পরিমাণের সাপোর্ট করে। ইফরাহ তো যেন সুখের স্বর্গে বাস করছে এখন।
রবিন আর ইশার বিয়ে হলো ৫ মাস হলো ওদের বিয়ের কথা শুনে তো রায়েদ এবং ইফরাহ সহ অফিসের সবাই অবাক হয়ে গিয়েছিল। যাদের মাঝে সাপে নেউলের সম্পর্ক অথচ তারা নাকি বিয়ে করছে। তাদের বিয়েতে তো রায়েদ এবং ইফরাহ অনেক আনন্দ করেছিল। বিয়ের পর তাদের ঝগড়া কমে নি বরং বেড়েছে কিন্তু দিন শেষে দুজন মিলেই ঝগড়া শেষ করেছে।তাদের ভালোবাসা যেন ঝগড়ার আড়ালে লুকিয়ে থাকে।
______________
আজ কিছু দিন যাবত ইফরাহার শরীর ভালো না। কিছু খেতে ইচ্ছে করে না।বমি বমি লাগে, মাথা ঘুরোয়।রায়েদ অবশ্য কিছুদিন যাবত লক্ষ্য করেছে ইফরাহার এমন দশা।আজ বন্ধের দিন থাকায় দুজনেই বাড়িতে ছিল। ইফরাহ ঘর গোছগাছ করছিল হঠাৎ মাথা ঘুরিয়ে বিছানায় পড়ে যায়।রায়েদ সোফাতে বসে অফিসের কাজ করছিল। ইফরাহ কে পড়ে যেতে দেখে দৌড়ে তার কাছে আসে এবং এসে দেখে ইফরাহ অজ্ঞান হয়ে গেছে। সঙ্গে সঙ্গে মা বাবা দাদি কে ডাকাডাকি শুরু করে এবং ইফরাহ কে ভালো করে বিছানায় শুইয়ে দেয়।তার ডাক শুনে সকলেই রুমে চলে আসে। ইফরাহ কে অজ্ঞান দেখে রায়েদ এবং তার বাবা চিন্তিত হলেও রায়েদের দাদি এবং তার মা অন্য কিছু অনুমান করল।রায়েদ তাড়াতাড়ি করে ডাক্তার কে ফোন করল। ডাক্তার এসে ইফরাহ কে চেক করে বলল____
"কনগ্রাচুলেশন মি. রায়েদ আপনি বাবা হতে চলেছেন। চিন্তার কিছু নেই আপনার স্ত্রীর জ্ঞান কিছুক্ষণের ভেতর ফিরে আসবে।উনার খেয়াল রাখবেন এবং হ্যাঁ একবার হসপিটালে গিয়ে উনাকে নিয়ে কিছু চেক আপ করিয়ে আনবেন।"
এই বলে ডাক্তার চলে গেল। ডাক্তারের পেছন পেছন রায়েদের বাবাও গেল ডাক্তারের সাথে।রায়েদের দাদি এবং মা কিছুক্ষণ থেকে রায়েদ এবং ইফরাহার মাথায় হাত বুলিয়ে তারাও চলে গেলেন।রায়েদের চোখ খুশিতে ভরে উঠল।তার যেন আজ জীবনের সব থেকে বড় চাওয়া পূরণ হলো।বাবা হবার অনুভূতি সেই বুঝে যে বাবা হয়েছে।
ইফরাহার জ্ঞান ফিরে এলো।সে আস্তে আস্তে চোখ খুলে দেখতে পেল রায়েদ তার পাশে বসে আছে। রায়েদের চোখে পানি থাকলেও ঠোঁটে ছিল তৃপ্তির হাসি। ইফরাহ উঠে বসতে নিলেই রায়েদ আবার ইফরাহ কে শুইয়ে দিল। তারপর নরম কিন্তু আদেশের স্বরে বলল___
"এখন থেকে চলা ফেরা করবার আগে হাজারবার ভাববে। কারণ এখন তুমি একা নও তোমার ভেতর আমাদের দুজনের প্রাণ গড়ে উঠছে।"
ইফরাহ অবাক হয়ে গেল রায়েদের কথা শুনে।পর মূহূর্তে রায়েদের কথার মানে বুঝতে পেরে তার চোখ পানিতে ভরে উঠলো। আস্তে আস্তে নিজের হাতে রাখলো নিজের পেটের উপর। তার যেন বিশ্বাস হচ্ছে না যে সে মা হতে চলেছে।
রায়েদ ইফরাহার দিকে ঝুঁকে পরম আবেশে ইফরাহার কপালে চুমু খেল। তারপর কান্না জড়িত কন্ঠে বলল___
"তুমি জানো না আজকে তুমি আমাকে কত বড় সুখ দিলে। তোমার ঋণ আমি কখনোই শোধ করতে পারবোনা। ধন্যবাদ আমাকে এতটা ভালোবাসার জন্য। আমাকে এতটা সুখী রাখার জন্য। এবং পৃথিবীর সবথেকে দামি উপহার আমাকে দেওয়ার জন্য।"
কথাগুলো বলেই রায়েদ ইফরাহার ঠোঁট আঁকড়ে ধরল। কিছুক্ষণ পর ছেড়ে দিল। ইফরাহ ঘন ঘন শ্বাস নিতে লাগলো। তারপর বলল____
"আপনাকেও ধন্যবাদ আমার জীবনে আসার জন্য। আমাকে এত এত এত এত ভালবাসা দেয়ার জন্য। সব সময় আমাকে সাপোর্ট করার জন্য। আপনাকেও আমি ভালোবেসে গিয়েছি আমার #হৃদয়ের_অগোচরে।"