হৃদয়ের অগোচরে

পর্ব - ২১

🟢

গাড়িতে একদম নিরবতা। ইফরাহ রায়েদের বুকে ঘাপটি মেরে বসে আছে।রায়েদ নিজের Little Rosebud কে নিজের সাথে জড়িয়ে ধরে আছে।তার অশান্ত বুকে যেন এখন শান্তি মেলল। কিন্তু মাথায় তার অন্য চিন্তা যা এতদিন আসেনি। এবং চিন্তাটা হলো কে তার পিচ্চির ক্ষতি করার চেষ্টা করল? কারণ তার জানামতে ইফরাহ যে ধরনের মেয়ে তার কারোর সাথে শত্রুতা হওয়ার প্রশ্নই না।আর কেউ যদি ইফরাহ কে শত্রুতামির জন্য মারার চেষ্টা করে তাহলে সে জানালো কি করে ইফরাহ কোথায় আছে‌।তার মানে তো অবশ্যই ব্যক্তিটি ইফরাহার পরিচিত।তার যে করেই হোক সেই ব্যক্তিকে খুঁজে বের করতে হবে।

রবিন চুপচাপ গাড়ি চালাচ্ছে আর ইশা জানালার বাইরে তাকিয়ে আছে।তার আজ কাল রবিন কে চিনতে অসুবিধা হয়। পাহাড় থেকে ঘুরে আসার পর থেকে রবিনের ব্যবহার একদম ভিন্ন। মনে হচ্ছে কত জানি তার জন্য কেয়ার করে।ইশা প্রথম প্রথম ভেবেছিল হয়তো তাদের বসের এমন অবস্থা তাই যাতে সবাই ভেঙ্গে না পড়ে সেই কারণেই হয়তো রবিন এত কেয়ার করিছল তার। আসলে সেই দিন রায়েদের জ্ঞান ফিরবার পর যখন ইফরাহ , ইশা এবং রবিন কে হাসপাতালে রেখে হোটেলে চলে যাই ফ্রেশ হবার জন্য তখন রবিন ইশার সাথে খুব ভালো ব্যবহার করে, তাকে সান্ত্বনা দেয়, ভরসা দেয়।ইশা তো তখন ভেবেছিল তার সাথে রবিনের যতই ঝগড়া হোক না কেন রবিন নিতান্ত একজন ভালো মানুষ এবং নিজের মনুষ্যত্বের কারণে তাদেরকে এভাবে সামলিয়েছে। কিন্তু সেইদিন এর পর থেকে রবিন আর তার সাথে ঝগড়া করেনি এমনকি খোঁচা দিয়ে পর্যন্ত কথা বলেনি। কেমন জানি অন্যরকম ব্যবহার করছে যা ইশার কাছে ভীষণ অদ্ভুত লাগছে ভীষণ।

গাড়ি থামলো রায়েদ দের বাড়ির গেইটের সামনে।রায়েদ আগে গাড়ি থেকে নামলো। তারপর ইফরাহার জন্য দরজা খুলে দিল এবং ইফরাহ কে বের হতে না দিয়ে সে নিজে ঝুঁকে আবার ইফরাহ কে পাজা কোলে নিয়ে নিল। ইফরাহ চোখ পাকিয়ে তাকালেও তাতে কোনো লাভ হলো না।রবিন এবং ইশাও গাড়ি থেকে নেমেছে। দুজনেই মুচকি মুচকি হাসছে‌।রায়েদ ইফরাহ কে কোলে করে নিয়ে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করলো। তাদের পিছন পিছন রবিন এবং ইশাও আসলো।

বাড়ির ভেতরে রায়েদের মা মিসেস রুবিনা ।রায়েদের বাবা রিফাত সিকান্দার। এবং রায়েদের দাদি সুবানা আক্তার বরন ডালা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে নতুন বউ কে বরন করবে বলে।রায়েদ দের কাছের কিছু আত্মীয়রাও ছিল, যেমন রায়েদের খালা,খালু,খালতো ভাই,বোন, বাবার বন্ধু। কিন্তু রায়েদ খেয়াল করলো তার ফুফু, ফুফা এবং ঈশিতা কেউই আসেনি। এমনকি গায়ে হলুদ বা বিয়েতে কেউই ছিল না।রায়েদের বিষয়টা ভীষণ অদ্ভুত এবং পাশাপাশি খটকা লাগে। আপাতত সে এইসব চিন্তা একপাশে রাখে।

ইফরাহ ঘাপটি মেরে তার বুকের সাথে লেপ্টে আছে।তার ভীষণ লজ্জা লাগছে।রায়েদ ইফরাহার লজ্জা মিশ্রিত মুখ দেখে মুচকি হেসে বাড়ির দরজার সামনে দাঁড়িলো।তার দাদি তাদের কে বরন করে মিষ্টি খাইয়ে ঘরে প্রবেশ করার জন্য যায়গা দিল।রায়েদ ইফরাহ কে নিয়ে ড্রয়িং রুমের সোফায় উপর বাসতে না বসাতেই আত্মীয় স্বজনের ভির জমে গেল।রায়েদ কে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিল।রায়েদের খালাতো ভাই যার নাম রমিম এবং বোন নাম মিম তারা দুজন তো হাসতে হাসতে শেষ।রায়েদ আত্মীয় স্বজনদের ধাক্কা খেয়ে কিছুটা পিছিয়ে গেল।

বিরক্তিকর ভঙ্গি নিয়ে বিড়বিড় করে বলল,,,,,

--"বউ আমার নাকি ওদের এইটাই বুঝতে পারছি না।"

তখনি রমিম এবং মিম রায়েদের কাছে আসল এবং রমিম কৌতুকের স্বরে বলল,,,,

--" আহা ভাইয়া এত কিসের তাড়া? তোমার বউ কে তো আর কেউ চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে না।"

রায়েদ রমিমের দিকে রাগী দৃষ্টি নিক্ষেপ করল।মিম হাসতে হাসতে বলল,,,,

--"যদি বলো আমাদেরকে কিছু মাল, কড়ি দিবে তাহলে আমরা ম্যানেজ করে দিতে পারি।"

রায়েদ মিমের দিকে তাকিয়ে বিরক্তিকর ভঙ্গিতে বলল,,,,

--"ভাষায় কি ছিঁড়ি,,,,, সোজাসুজি বললেই পারিস ঘুস লাগবে।যাই হোক কত লাগবে বলে আমি দিচ্ছি।"

দুভাই বোন খুশি হয়ে বলল,,,

--"১০ হাজার টাকা।"

রায়েদের চোখ বড় বড় হয়ে গেল।সে অবাক হয়ে বলল,,,,

--"কিহ!!!!"

ভাই-বোন মিলে একসাথে ভাবলেশহীন ভাবে বলল,,,,

--"এক এক জন কে ১০ হাজার মোট ২০ হাজার।"

রায়েদ বিরক্ত নিয়ে বলল,,,

--"থাক আমার বউ আমি দেখছি বিষয়টা।"

দুই ভাইবোনের মুখ কালো হয়ে গেল।তারা ভেবেছিল এই সুযোগে কিছু টাকা কামিয়ে নিবে কিন্তু বেশি লোভ করতে গিয়ে এই অবস্থা। কিন্তু তাদের হাতে এখনো একটি সুযোগ আছে।রায়েদের বাসর ঘরে গিয়ে হামলা দিবে।যখন রায়েদ ঢুকতে গেলেই বাঁধা দিব।এই ভেবে দুই ভাই বোন মিলে রায়েদের রুমের দিকে চলে।

রায়েদ আত্মীয় স্বজনদের যেই না কিছু বলতে যাবে তার আগেই রায়েদের দাদি সুবানা আক্তার সবার উদ্দেশ্যে বললেন,,,,

--"হইছে হইছে অনেক দেখছোত তোরা আমার নাত বৌ রে।ছেমড়ি মেলা ক্লান্ত ওরে এহন রুমে নিয়া যাইতে হোইব। বিশ্রাম নেওয়ার প্রয়োজন।"

সবাই সায় দিল।রায়েদের মনে যেন লাড্ডু ফুটলো।তার ইচ্ছে করছে দাদি কে নিয়ে এখন কাপল ডান্স দিতে। আপাতত তা সম্ভব না।তাই মনের ইচ্ছা কে দমন করল।রায়েদের দাদি ইফরাহ কে নিয়ে দোতলায় উঠতে লাগলো।রায়েদ চলে গেল রবিনদের কাছে।

রবিন এবং ইশা দু'জন যেন কিছু একটা নিয়ে কথা বলছিল। তাদের চেহারায় ছিল সিরিয়াস ভঙ্গিমা।রায়েদ কে তাদের দিকেই আসতে দেখে রবিন ইশাকে বলল,,,

--"আমরা এখনো এই বিষয়ে সিউর না তাই আপাতত চুপ থাকাই ভালো।আমি বাড়ি গিয়ে এই বিষয়ে ভালো করে ভেবে তোমাকে জানাচ্ছি। আপাতত এই বিষয় বাদ দাও, স্যার এই দিকেই আসছে।"

ইশাও চুপ হয়ে গেল।রায়েদ তাদের কাছে এসে বলল,,,

--" তোমরা আজকে এই খানেই থেকে যাও।রাতও হয়ে গেছে।কম তো করলে না আমার জন্য। আসলেই এমন এমপ্লয়ে পেলে জীবন ধন্য।"

বিজ্ঞাপন

রবিন মুচকি হেসে বলল,,,,

--" ছিঃ ছিঃ স্যার এইসব বলে আপনি আমাদের লজ্জা দিবেন না। আর আজকে থাকা সম্ভব না বাড়ি যেতে হবে আমি যাওয়ার সময় ইশাকে তার বাড়ি পৌঁছে দিয়ে যাব আপনি চিন্তা করবেন না।"

রায়েদ তাদের অনেক বলল থেকে যেতে কিন্তু তারা থাকলো না তাই রায়েদ তার নিজের গাড়ি করে নিয়ে যেতে বলল কারণ এত রাত্রে গাড়ি পাওয়া একটু কষ্টজনক। কাল এসে রবিন গাড়ি দিয়ে যাবে।তারাও রাজি হয়ে গেল এবং রায়েদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে দুজন মিলে চলে গেল।রবিনরা চলে যেতেই রায়েদ ঢেং ঢেং করে নিজের রুমের দিকে যেতে গেল।যেই না সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে নিজের রুমের সামনে গেল।সেই ভেতর থেকে বেরিয়ে এলো রমিম এবং মিম। তাদের কে দেখে রায়েদ বিরক্ত হলো। সে জানে দুই ভাইবোন মিলে এখন তার কাছ থেকে কিছু টাকা গলাবে। রমিম বড় সে সবেমাত্র অনার্স শেষ করেছে আর মিম সবেমাত্র এইচএসসি। অবশ্য রায়েদ তাদের ভীষণ ভালোবাসে তাই তো তারা এত সাহস পায়।

রায়েদ তাদের দিকে তাকিয়ে বলল,,,,

--"কত টাকা ভিক্ষা লাগবে তাড়াতাড়ি বল। তোদের মুখে টাকা মেরে ভিতরে যেতে হবে আমাকে।ভিতরে আমার বউ আমার জন্য অপেক্ষা করছে।"

রায়েদের কথা শুনে রমিম এবং মিম চেতে উঠলো। কিন্তু আজকালের ছেলেমেয়েরা অনেক চালাক তাই মিম চালাকি করে বলল,,,,

--"এতই যেহেতু ভিক্ষা দেওয়ার ইচ্ছা তাহলে কয়েক লক্ষ টাকা আমাদের মুখে মেরে দেয়।"

রমিম সাথে সায় দিল।রায়েদ বিরক্ত হয়ে কপাল চাপড়ালো।সে এদের ভালোবেসে মাথায় তুলেছিল এখন এরাই তার মাথায় কাঁঠাল ভেঙ্গে খাচ্ছে। তারপর রায়েদ সুন্দর ভাবে বলল,,,,

--"দেখ ভাই,বোন আমার তোদের না আমি কতো ভালোবাসি।তাই দেরি না করে বরং কত টাকা চাই।"

দুই ভাইবোন একসাথে বলে উঠল,,,,

--"১ লক্ষ্য"

রায়েদ জোরে বলে উঠলো,,,,,

--"এহ্ টাকা তো গাছে উঠে না? বেশি বেশ বললে একটা কানাকড়িও পাবি না।"

রমিম এবং মিম ভাবলো কিছুক্ষণ আগে পাকনামি করার জন্য এক টাকাও পায়নি।তাই এইবার লোভ ছেড়ে দিয়ে বলল ৫০ হাজার টাকা যদি রায়েদ রাজি না হয় তাহলে ২০ হাজারে নামবে। কিন্তু রায়েদ আর কিছু বলল না ৫০ হাজারে কথা শুনে পকেট থেকে চেকবই বের করে টাকার পরিমাণ লিখে রমিম হাতে দিয়ে কড়া কন্ঠে বলল,,,,

--"উল্টো পাল্টা টাকা খরচ করবি না। আমকে হিসাব দিবে কিসে কিসে টাকা খরচ করেছিস।আমি চাই না আমার ভাই বোন ফালতু কাজে টাকা নষ্ট করুক। নয়তো খালামণির কাছে বলব আর খালামণিকে বললে এক টাকাও পাবি না তোরা। দুই ভাইবোন এত টাকা পেয়ে খুশিতে রায়েদ কে জড়িয়ে ধরলো।রায়েদ মুচকি হেসে বলল হয়েছে হয়েছে এখন আমাকে ভেতরে যেতে দে। দুজন মিলে রায়েদ কে বউ পাগল বলে দিল এক দৌড়ে।রায়েদ হেসে উঠলো।

রায়েদ মূলণ চেকবই পকেটে রেখেছিল কারণ ইফরাহ কে দেন মোহর দিবে তাই।

(হুদাই পর্ব একটি দিয়েছিলাম অনেক আগে সেইটা এড করে দিলাম

)

বাসর ঘরে লাল রঙের ভারি লেহেঙ্গা, মাথায় লাল রঙের সিল্কের পাতলা ঘোমটা দিয়ে বিছানায় গুটিসুটি মেরে বসে আছে ইফরাহ।বুক তার ধর পর করছে।মনের ভেতর এক অদ্ভুত অনুভূতি।এসি রুমে বসে থাকা সত্ত্বেও কপাল বেয়ে ঘাম গড়িয়ে পড়ছে। কিছুক্ষণ আগেই রায়েদের দাদি তাকে এইখানে বসিয়ে দিয়ে গেল।

রায়েদ দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছেড়ে দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকলো। বিছানায় গুটিসুটি মেরে বসে থাকা লাল গোলাপের মতো রমনী কে দেখে তার প্ররাণ জরিয়ে গেল।এই দিনটির জন্য সে কত দিন যাবত অপেক্ষা করেছে।কত নামাজ, তাহাজ্জুদ পড়েছে তার কোনো হিসেব নেই। সম্পূর্ণরূপে রুমের ভেতর প্রবেশ করে রুমের দরজা লাগানোর আগে দরজার ফাঁক দিয়ে Momo ভিতরে ঢুকে পড়ে যা সে দেখেনি।

রায়েদ দড়জা লাগিয়ে বিছানার দিকে অগ্রসর হয়। ইফরাহ কিছুটা লড়ে চড়ে উঠলো। তারপর আস্তে আস্তে বিছানা ছেড়ে নামল।রায়েদের সামনে দাঁড়ালো।রায়েদ ইফরাহার পরবর্তী পদক্ষেপ দেখার জন্য তার দিকে তাকিয়ে আছে। ইফরাহার মুখ এখনো ঘোমটা দিয়ে ঢাকা। যেই না ইফরাহ নিচে ঝুঁকতে নিবে রায়েদের পা ধরে সালাম করার জন্য তখনই রায়েদ তার পুরুষলী শক্ত হাতে ইফারাহার বাহু আলগস্তে ধরে তাকে থামালো।তারপর এক রাশ সম্মান এবং ভালবাসা মিশ্রিত কন্ঠে বলল,,,,,,

--"পা ছুঁয়ার প্রয়োজন নেই। তুমি যে আমার থাক Little Rosebud. এর মানে জানো কি?“হৃদয়ের অগোচরে” মানে হলো — হৃদয়ের ভেতরে এমন কিছু অনুভূতি, আবেগ, ভালোবাসা বা অভিমান আছে যা কারো চোখে ধরা পড়ে না, যেটা কেউ বুঝতে পারে না, কিন্তু ভেতরে ভেতরে থেকে যায়।অর্থাৎ, যা মনের গভীরে লুকানো, প্রকাশ পায় না—তবু হৃদয়ে রয়ে যায় চুপচাপ। তুমি হলে আমার সেই লুকোনো ভালোবাসা।"

রায়েদ থেমে গেল। ইফরাহার চোখ থেকে পানি গড়িয়ে পড়ল।যা ঘোমটার আড়াল থেকে রায়েদ দেখতে পেল না। ইফরাহ কখনো ভাবতে পারিনি কেউ তাকে এতটা ভালোবাসবে।

রায়েদ ইফরাহার হাত ধরে তাকে বিছানায় বসালো এবং তার সামনে হাঁটু গেড়ে নিজে মাটিতে বসলো। তারপর আস্তে আস্তে কাঁপা কাঁপা হাত নিয়ে ঘোমটা খুললো।রায়েদ যেন থমকে গেল। বিয়ের সাজ।নাকে ফুল। ঠোঁটে লাল লিপস্টিক। সবে যেন এক মাতালময় আকর্ষণ।যা রায়েদ কে খুব করে টানছে। অবশ্য বিয়ে করবার সময় এবং এই বাড়িতে আসায় আগ পর্যন্ত সে শুধু ইফরাহ কেই দেখেছিল কিন্তু তখন নাকে ফুল ছিল না। হয়তো এখন তার দাদি পড়িয়ে দিয়ে গেছে।এখন একদম গিন্নি গিন্নি লাগছে ইফরাহ কে।

রায়েদ দেখল ইফরাহার চোখ থেকে পানি গড়িয়ে পড়ছিল। রায়েদ বিনা শব্দে নিজের ঠোঁট ইফরাহার চোখের কাছে নিয়ে গেল। তারপর চোখ থেকে গড়িয়ে পড়া পানি নিজের ঠোঁট দিয়ে শুষে নিল। ইফরাহার শরীরে কম্পন বয়ে গেল।সে বিছানার চাদর শক্ত করে খামচে ধরলো।রায়েদ দু চোখের পানি শুষে নেওয়ার পর ইফরাহার দু চোখের পাতায় চুমু খেলো। তারপর কপালে, তারপর নাকে। ইফরাহ এখনো চোখ বন্ধ করে আছে।রায়েদ তা দেখে মুচকি হাসলো।

তারপর নেশা জাড়ানো স্বরে বলল,,,,,

--"অনেক অপেক্ষা করিয়েছ আমায় Little Rosebud. অনেক দহনে পুড়তে হয়েছে আমায়। অনেক ছটফট করতে হয়েছে।অনেক রাত নির্ঘুম কাটাতে হয়েছে আমায়। এখন প্রতিশোধের পালা। এখন তোমাকে আমি আমার ভালোবাসার দহনে পোড়াবো।আমায় ভালোবাসার স্পর্শে ছটফট করাবো। তোমাকে রাতে জাগিয়ে রাখব আদর করার জন্য। এতদিনের সঞ্চিত ভালোবাসা প্রতিদিন ঔষধের মতোন একটু একটু করে উজাড় করব।"

ইফরাহ লজ্জায় লাল হয়ে গেল রায়েদের এমন লাগামহীন কথাবার্তায়। নিজের চোখ খোলার সাহস পাচ্ছে না।

রায়েদের ঠোঁটে দুষ্টু হাসি ফুটে উঠলো।সে আস্তে আস্তে ইফরাহার ঠোঁটের দিকে অগ্রসর হতে লাগলো।রায়েদের গরম নিঃশ্বাস ইফরাহার মুখের উপর পরছে। ইফরাহ ঘন ঘন নিঃশ্বাস নিতে লাগলো।যেই না রায়েদ নিজের ঠোঁটের সাথে ইফরাহার ঠোঁটের মিলন ঘটাবে সেই মুহূর্তেই Momo এসে ইফরাহর কোলো লাফ দিয়ে মেউ মেউ করে উঠলো। ( কাম সারছে

)

ইফরাহ ভয় পেয়ে চোখ খুলে ফেলল।রায়েদের মেজাজ চরম খারাপ হয়ে গেল এমন মূহুর্তে বাঁধা পড়ায়।সে বিরক্তিকর দৃষ্টি নিয়ে বিড়ালের দিকে তাকালো। Momo কে দেখে রায়েদের মাথায় এলো এখন যদি ইফরাহ Momo কে চিনে ফেলে তাহলে তার বাসর করার স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে যাবে।

বিজ্ঞাপন
হৃদয়ের অগোচরে গল্পটি নাজনীন নেছা নাবিলা-এর লেখা একটি জনপ্রিয় রোমান্টিক ও থ্রিলারভিত্তিক গল্প