ইফরাহ চোখ খুলে নিজের কোলে একটি বিড়াল দেখে যতটা না অবাক হলো তার থেকে বেশি অবাক হলো রায়েদের মুখে বিড়ালের নাম শুনে Momo। তার বিড়ালের নামও তো ছিল মোমো যেটা এখন তার কাছে নিই।সে জানেও না বিড়ালটা কোথায় ছিল। কিন্তু আজ তার কোলে বসে থাকা বিড়ালটিকে তার ভীষণ আপন আপন লাগছে মনে হচ্ছে তারই হারানো বিড়াল। অন্যদিকে রায়েদ বেচারা তো ভয়ে ঘামছে যদি তার Little Rosebud নিজের বিড়াল কে চিনে ফেলে তাহলে তো তার আজ ১২ গুণন বারো ২৪ টা না বেজে ৩৬৫ বেজে যাবে।
ইফরাহ রায়েদের দিকে চোখ কুঁচকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল
"এইটা কি আপনার বিড়াল? "
রায়েদ আমতা আমতা করে জবাব দিল
" না মানে হ্যাঁ না,, মানে আমার কাছে আছে তো সেই হিসেবে অবশ্যই আমারই বিড়াল হবে নাকি? "
ইফরাহ চোখ ছোট ছোট করে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল তারপর নিজের কমল কন্ঠ কিছুটা ভারী করে বলল
"মিথ্যা বলবেন না একদম। আপনার কন্ঠে কোনো কনফিডেন্স নেই।এত কাঁপা কাঁপি না করে সত্যি করে বলেন সব।"
রায়েদ শুকনো ঢোক গিলল। তারপর জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে আবার সাহসের সাথে জবাব দিল
"আরে মিথ্যা বলার কিছুই নেই। এইটাতো আমার বিড়াল ওর নাম মিমু। আর তুমিও বাসর ঘরে কি উল্টাপাল্টা প্রশ্নের ডিকশনারি খুলে বসেছো। বউ আমার যে ভীষণ বাসর পাচ্ছে।"
ইফরাহ কটমট দৃষ্টিতে রায়েদের দিকে তাকালো। এখন তার সন্দেহ বিশ্বাসে পরিণত হলো। কারণ প্রথমে রায়েদ বিড়ালটিকে মোমো বলেছিল অথচ এখন মিমু বলছে। তারমানে নিশ্চিত রায়েদ মিথ্যা কথা বলছে।তাই সে এবার তার কোলে বসা বিড়ালটিকে নিজের হাতে তুলে নিল। রায়েদ অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল।মনে মনে দোয়া পড়ছে সে। ইফরাহ বিড়ালটিকে নিজের মুখের সামনে আনলো তারপর বিড়ালটির সামনের বা পাশের পা উঁচু করে পর্যবেক্ষণ করল।তার মন ঠিক বলছিল । এইটা তারই বিড়াল। কারণ তার Momo এর বাম পায়ের নিচে একটি কাটা দাগ ছিল। মূলত কাঁচের উপর দিয়ে হাঁটার কারণে এই ক্ষত হয়েছিল এবং ক্ষত গভীর হওয়ার কারণে দাগ রয়ে গিয়েছিল। এবং রায়েদের কাছে থাকা বিড়ালটির ও সেইম কাঁটা দাগ এবং দেখতেও হুবহু। ইফরাহ মোমো কে পরপর চুমু খেল।কত বছর পর সে নিজের বিড়াল ছানা কে কাছে পেয়েছে।কতো ছোট ছিল অথচ এখন কত বড়ো হয়ে গেছে। তার চোখে তো পানি চলে এসেছে।ইফরাহ রায়েদের দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিক্ষেপ করল। তারপর দাঁত কিড়মিড় করে বলল
"আমার সাথে মিথ্যা বলা নাহ? সত্যি করে বলুন নয়তো,,,
ইফরাহ নিজের বাক্য সম্পূর্ণ করবে তার আগেই রায়েদ তড়িঘড়ি করে বলে উঠলো
"এই,এই, এই আমি বলছি বলছি। আসলে তুমি যখন আমার প্রপোজাল প্রত্যাখ্যান করেছিলে, তখন প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য তোমার বিড়াল চুরি করেছিলাম।"
ইফরাহ রায়েদের কথা শুনে যেন আকাশ থেকে পড়ল।সে চিৎকার করে বলল
"কিহ্!!!!!"
রায়েদ সঙ্গে সঙ্গে বসা থেকে উঠে ইফরাহার মুখ নিজের হাত দিয়ে চেপে ধরলো। ইফরাহ উমউম করছে কিন্তু রায়েদ ছাড়ছে না।রায়েদ আস্তে আস্তে বলল
"বউ এইভাবে বাসর রাতে চিৎকার করলে আমার পরিবার আমাকে অমানুষ ভাববে।অথচ দেখ আমি তো এখনো কিছুই করি নি।না ধরলাম, না ছুঁলাম আর না খেলা,,,, "
কথাটি সম্পূর্ণ করার আগেই ইফরাহ রায়েদের হাতে কামড় বসালো।রায়েদ তৎক্ষণাৎ নিজের হাত সরিয়ে নিয়ে হাতে ফুঁ দিতে লাগল এবং কিছুটা পিছিয়ে গেল। কামড়ের দাগ বসে গেছে।
ইফরাহ মোমো কে বিছানার উপর রেখে রায়েদের দিকে দৃষ্টিপাত করলো তারপর দাঁতে দাঁত চেপে বলল
"আপনি কি করবেন? যা করার আমিই করছি।"
রায়েদ ঠোঁটে দুষ্টু হাসি রেখে বলল
" ওহ্হো,, রায়া নেহি যাতা? তারাপ হি এসি হে? (সহ্যে হচ্ছে না? এতটাই আকুলতা?)তো বলো কিভাবে শুরু করবে।"
ইফরাহার যেন রাগ আরো বেড়ে গেল এবং সাথে লজ্জাও।সে রায়েদের দিকে তেড়ে গেল এবং বলল
"লজ্জা করছে না? একেই তো আমার প্রাণের মোমো কে চুড়ি করেছিলেন তার উপর আবার এমন নির্লজ্জের মতোন কথাবার্তা বলছেন? "
রায়েদ নির্বিঘ্ন ভঙ্গিতে বলল
" তোমার যেমন লজ্জা করেনি আমার মন চুরি করতে, যেমন লজ্জা করেনি আমার অনুমতি না নিয়ে আমার হৃদয়ের অগোচরে থাকতে সেই যায়গা আমি লজ্জা পেয়ে আর কি করব Little Rosebud? "
ইফরাহ থমকে গেল।এই কথার প্রেক্ষিতে কি বলবে তা যেন তার জানা নেই। আবার লজ্জাও করছে কিছুটা। কিন্তু সে দমে গেল না। একেই তো এই কয়দিন রায়েদ তার থেকে দূরে দূরে থেকে তাকে কষ্ট দিয়েছিল তারউপর এখন আবার আরেক রহস্য ভেদ হলো।এই সুযোগে সে রায়েদ কে উচিত শিক্ষা দিবে।তার নিজের রাগ ধরে রেখে বলল
"আপনি যানেন যখন Momo কে আমি ঘুম থেকে উঠে খুঁজে পাইনি তখন কতটা চিন্তিত হয়ে পড়েছিলাম? কতটা কান্না করেছিলাম? কত অপেক্ষা করেছিলাম ভেবেছিলাম হয়তো Momo কে পাব কিন্তু পাই নি।Momo তো আমার নিজের বাচ্চার মতোন ছিল।আর আপনি কি শেষমেশ চুরি করলেন? ছিঃ লজ্জা করা উচিত।"
রায়েদ চুপচাপ শুনল ইফরাহার কথা।সে নিজেও যখন Momo কে চুড়ি করে এনেছিল তার পরের দিন তো তার ফ্লাইট ছিল আমেরিকায় এবং সে Momo কে সঙ্গে করে নিয়েই আমেরিকায় চলে গিয়েছিল। প্রথম প্রথম কষ্ট হয়েছিল তার Momo এর খেয়াল রাখতে কিন্তু পরে নিজেও অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু ইফরাহার কথা মনে পড়তে অনুশোচনা অনুভব হতো।সে খুব ভালো করেই জানতো ইফরাহ তার মোমোর জন্য কষ্ট পাচ্ছে। কিন্তু তখন যে কিছুই করার ছিল না।রায়েদ এক দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছেড়ে তারপর নিজের ভাবনা থেকে বের হয়ে বলতে লাগলো
"Momo কে যেমন তুমি নিজের বাচ্চা মনে করতে আমিও মোমোকে নিজের বাচ্চা মনে করে রেখেছি।সেই হিসেবে তুমি ওয় মা হলে আমি ওর বাবা। কিন্তু আমরা আর কতদিন পশুপাখিদের মা-বাবা হয়ে থাকবো? আজ তো আমাদের বাসর ঘর তাই না? চলো কোনো মানুষের মা বাবা হবার প্রসেসিং শুরু করি। তোমার রাগ অভিমান এক নিমিষেই গলে যাবে আমার ভালোবাসার স্পর্শে Little Rosebud।"
ইফরাহ শুকনো ঢোক গিলল। লজ্জায় মুখ লাল হয়ে গেল।কান দিয়ে যেন ধোঁয়া বের হচ্ছে। সর্বোচ্চ চেষ্টা করল যাতে রায়েদের সামনে তার দূর্বলতা প্রকাশ না পায়। তারপর নিজের ঠিক রেখে বলতে শুরু করল
"আমি জানি না আজ বাসর ঘর না, বাড়ি না,ছাদ, না টিনের চাল। আপনি আমার আদরের Momo, আমার বাচ্চাকে আমার কাছ থেকে চুরি করেছেন তার শাস্তি তো পেতেই হবে। তাই বেশি কথা না বলে চুপচাপ সোফায় গিয়ে ঘুমাবেন। আমি আমার বাচ্চাকে নিয়ে বিছানায় ঘুমাবো।"
ইফরাহার কথা শুনে রায়েদের মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়লো।কত শখ ছিল আজকের রাত নিয়ে কিন্তু তার শখ কে ইফরাহ শক বানিয়ে দিল। এখন তার নিজের চুল নিজেরই ছিঁড়তে ইচ্ছে করছে।কোন দুঃখে যে সে চুরি করতে গেল। কথায় আছে না চুরি বিদ্যা মহাবিদ্যা যদি না পড় ধরা। অথচ সে ৮ বছর আগে করা চুরির অপরাধের শান্তি ৮ বছর পর পাচ্ছে তাও নিজের বাসর রাতে।তার তো ইচ্ছে করছে বাচ্চাদের মতোন মাটিতে বসে হাত পা ছুড়ে কাঁদতে।
ইফরাহার রায়েদের এমন কাদোঁ কাদোঁ চেহারা দেখে বেশ হাসি পাচ্ছে কিন্তু সে নিজের হাসি অনেক কষ্টে থামিয়ে রাখলো। চুপচাপ গিয়ে ড্রেসিং টেবিলের সামনে থাকা মোড়া তে বসলো।সেই কখন থেকে এই ভারি লেহেঙ্গা, গহনা পড়েছে আর যেন পারছে না এইসব পড়ে থাকতে।সে হাত বাড়ালো নিজের গলার নেকলেস খুলবার জন্য ঠিক তখনই তার ঘাড়ে পুরুষালি হাতের স্পর্শ অনুভব করল।সেই পুরুষটি আর কেউই না বরং তার স্বামী ছিল।রায়েদ নিঃশব্দে ইফরাহার পিছনে এসে দাঁড়িয়ে তার গলার নেকলেস খুলতে লাগলো।রায়েদের হাতের আঙুল ইফরাহার ঘাড়ে লাগছে। ইফরাহ খনে খনে কেঁপে উঠছে।তার শরীরে যেন অজানা শিহরণ বয়ে যাচ্ছে।রায়েদ একে একে পরম যত্নে ইফরাহার গায়ের থেকে সকল গহনা খুলে ফেলল। তারপর ইফরাহার কানের কাছে এসে ফিসফিস করে বলল
"আমার আলমারি তে তোমার জন্য জামা কাপড় আছে সেগুলো নিয়ে চেন্জ করে নাও। তারপর দুজন মিলে নফল নামাজ আদায় করব।আর হে তোমার এই মিছে রাগ ভাঙাতে আমার বেশি সময় লাগবে না Little Rosebud. "
ইফরাহ যেন অবাক হয়ে গেল।এত রাগ দেখানোর পরেও রায়েদ কত সুন্দর ব্যবহার করছে তার সাথে।সে আর দেরি না করে আলমারি থেকে কাপড় নিয়ে বাথরুমে চলে গেল।রায়েদ একবার বিছানায় বসে থাকা মোমোর দিকে দৃষ্টিপাত করে তারপর হেসে উঠলো। তারপর মোমো কে উদ্দেশ্য করে বলল
"আমার যা পাওয়ার কথা ছিল সব তুই পেয়ে গেলি।বউয়ের কাছ থেকে চুমু পাওয়া তো দূরের কথা ভেবেছিলাম আজ অন্তত বউ কে বুকে জড়িয়ে ধরে ঘুমোবো।সেই উপায়ও নেই এখন।"
তার কথা মোমো কিছু বুঝতে না পারলেও মেউ মেউ করলো।
রায়েদ দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছেড়ে আলমারি থেকে নিজের জন্য টাওজার এবং হাতা কাটা গেঞ্জি বের করে নিল। তারপর চেঞ্জ করি নিল।
ইফরাহ কিছুক্ষণ পর চেন্জ করে একেবারে ওজু করে বাথরুমে থেকে বের হলো।সে আসতেই রায়েদ বাথরুমে চলে গেল তারপর সেও ওজু করে বের হলো।রায়েদ দুজনের জন্য জায়নামাজ বিছিয়ে দিল মেঝেতে।তার টা একটু আগে আর ইফরাহার টা একটু পিছনে। দুজন মিলে নফল নামাজ আদায় করে নিল। নামাজ শেষে মোনাজাতে দুজনেরই সময় বেশি গেল। কিন্তু তারা তাদের মোনাজাতে কি বলেছে তা কেবল তারা এবং আল্লাহ জানে।
ইফরাহ নামাজ শেষ করে উঠলো। জায়নামাজ সুন্দর করে ভাঁজ করে রাখলো রায়েদও জায়নামাজ ভাঁজ করে রেখে ইফরাহার দিকে বাচ্চাদের মতোন ফেইস করে দাঁড়িয়ে আছে।তার চোখ বলে দিচ্ছে সে চায় যেন ইফরাহ তার উপর মায়া করে এবং তাকে বিছানায় শুয়োর অনুমতি দেয়। ইফরাহ তার চোখ স্পষ্ট পড়তে পারলো এবং মনে মনে হাসলো এবং বলল
এখন বুঝবেন এই ইফরাহ কি চিজ। আসছে আমার বাচ্চা চুরি করতে যতসব।
রায়েদ নিজের গলা খাঁকারি দিয়ে টেবিলের উপর রাখা চেক বুক থেকে একটা চেক ছিঁড়ে ইফরাহার দিকে এগিয়ে দিল। তারপর বলল
"Little Rosebud এইটা তোমার দেন মোহর। এইটা গ্ৰহণ করে এই অধম কে দয়া করো।"
ইফরাহ মুচকি হেসে চেক টা নিল।টাকার সংখ্যা দেখে কিছুটা অবাক হল। বেশ অনেক টাকা । অবশ্য কাবিনের সময় সে খেয়াল করেনি।তখন কি আর এই সবে খেয়াল থাকে।
তারপর চেকটি আবার রায়েদের দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল
"" আপাতত আপনার কাছে রাখুন।আমি পড়ে নিয়ে নিব।এখন আমি কোথায় রাখবো।"
রায়েদ বুঝলো তাই ইফরাহার হাত চেক নিল। তারপর ইফরাহার মুখশ্রীর দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বিনা দ্বিধায় ইফরাহার কাছে এসে তার মুখ নিজের দুহাতের মধ্যে নিয়ে কপালে গভীর চুমু খেল। তারপর চোখের পাতায়, তারপর গালে। ইফরাহ আবেশে চোখ বন্ধ করে রেখেছিল।তার পুরো শরীরে কম্পন বয়ে যাচ্ছে।
রায়েদ পরপর গালে চুমু খেয়ে কিছুটা পিছিয়ে গেল।দেখলো ইফরাহার মুখ লাল হয়ে গেছে।তার ইচ্ছে করছিল এই টমেটোর মত লাল হয়ে যাওয়া মুখে আরো চুমু খেতে। কিন্তু যানে ইফরাহ এখন রেগে না থাকলেও রাগ করার অভিনয় করবে তাই আর সাহস দেখালো না।
ইফরাহ অনেক কষ্টে নিজের চোখ খুলল কিন্তু রায়েদেল দিকে তাকালো না। তার যেন কেমন অদ্ভুত লাগছে।রাগ করতে চেয়েও করতে পারছে না। আবার হার মানতেও নারাজ।রায়েদ তার দিকে অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।ইফরাহ রায়েদের অসহায় চেহারা উপেক্ষা করে বিছানায় চলে গেল তারপর মোমো কি নিজের সাথে মিশিয়ে নিলো। মোমোও তার সাথে দিব্যি থাকছে মনে হচ্ছে যেন সে তার মা কে চিনতে পেরেছে।
ইফরাহ রায়েদের উদ্দেশ্য বলল
"লাইট অফ করে দিন আর চুপচাপ সোফায় ঘুমিয়ে পড়ুন।"
রায়েদ কিছুক্ষণ অসহায়ের মতো দাঁড়িয়ে থেকে তারপর বিছানা থেকে বালিশ নিয়ে সোফায় রাখলো এবং লাইট অফ করে দিয়ে সোফায় শুয়ে পড়ল।তার ইচ্ছে করছে নিজেকে নিজেই চড় মারতে কেন যে চুরি করতে গেল। এখন চুরি করার অপরাধে বাসরের ১৯টা বেজে গেল। কিন্তু রায়েদ মনে মনে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে
ইফরাহ যখন ঘুমিয়ে পড়বে তখন সে চুপিচুপি বিছানায় গিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে থাকবে। এই যে সিদ্ধান্তের জন্য নিজেকে তার চুমু দিতে ইচ্ছে করছে কিন্তু এটা এখন সম্ভব না তাই চুপচাপ চোখ বন্ধ করে ইফরাহার রেখে ঘুমানোর জন্য অপেক্ষা করছে।