হৃদয়ের অগোচরে

পর্ব - ২৪

🟢

জানলা থেকে পর্দা ভেদ করে সূর্যের আলো পড়ছে ইফরাহার চোখে মুখে। ইফরাহার ঘুম ভেঙ্গে গেল।সে চোখ কুঁচকে আস্তে‌আস্তে তাকালো।বোঝার চেষ্টা করল কোথায় আছে সে। যেইনা উঠে বসতে যাবে ওমনি বুকের উপর ভাড়ি কিছু অনুভব করল ইফরাহ। বুকের দিকে তাকিয়ে দেখল রায়েদ এখনো তার বুকের উপর মাথা রেখে তাকে শক্ত করে জড়িয়ে ঘুমিয়ে আছে। ইফরাহ মুচকি হাসলো। পাশে তাকিয়ে দেখল Momo বসে আছে এবং তাদের দুজনকে দেখছে। ইফরাহ Momo কে দেখে ইমোশনাল হয়ে পরল। কতগুলো বছর সে তার বাচ্চাকে ছাড়া থেকেছে।যারা পশুপাখি প্রেমী তারাই বুঝে এই কষ্ট। ইফরাহ এক হাত দিয়ে Momo এর মাথায় হাত বুলিয়ে দিল। মোমো চুপচাপ বসে রইল। ইফরাহার ইচ্ছে করছে রায়েদ কে ইচ্ছে মতন মারতে। ইফরাহ আবার নিজের বুকের উপর ঘুমিয়ে থাকা রায়েদের দিকে তাকালো‌। রায়েদের নিষ্পাপ মুখ দেখে মুচকি হেসে বলল,,,

"ঘুমানোর সময় তো দেখতে একদম নিষ্পাপ বাচ্চাদের মতোন লাগে । অথচ নির্লজ্জের মতোন আমার আদরের বিড়াল কে চুড়ি করলেন। আস্ত একটা চোর।"

এই বলে ইফরাহ হাসলো তারপর রায়েদের মাথার চুল গুলো এলোমেলো করে দিল।রায়েদের ঘুম তখন হালকা ছিল তাই তার ঘুম ভেঙ্গে গেল ইফরাহার কান্ডে।সে আস্তে আস্তে নিজের চোখ মেলে তাকাল। তাকিয়েই দেখতে পেল এক নিষ্পাপ হাস্যোজ্জ্বল মুখশ্রী।যা দেখে রায়েদের বুক ধকধক করে উঠলো। ইফরাহার চুল এলোমেলো, চোখ ফোলা ফোলা, মুখ ভর্তি হাসি সব মিলিয়ে যেন সদ্য ফুটন্ত গোলাপ ফুলের কুঁড়ি।রায়েদের Little Rosebud।রায়েদ মুচকি হাসলো তারপর ইফরাহার বুক থেকে মাথা তুলে ইফরাহার দিকে তাকিয়ে ঘুম জড়ানো কন্ঠে বলল

শুভ সকাল আমার Little Rosebud। সকাল সকাল‌ এত সুন্দর এবং মায়াবী দেখতে লাগার কী খুব প্রয়োজন ছিল? এখন যে এই দিনের বেলা রাতে অপূর্ণ থাকা কাজ করতে ইচ্ছে জাগছে বেবি।"

ইফরাহ অবাক হলো‌।যখন রায়েদের কথার বোধগম্য হলো চোখ বড়বড় হয়ে গেল। মুখ লাল হয়ে গেল।সে রায়েদের দিকে রাগী দৃষ্টি নিক্ষেপ করে কঠোর কন্ঠে বলল,,,

"চুপ করুন অসভ্য লোক।একেই তো আমার বিড়াল চুরি করেছিলেন তারপরও যে আমি আপনাকে বিছানায় শুতে দিয়েছি সেটা তো আপনার সাত কপালের ভাগ্য। আবার উল্টো পাল্টা কথা বলছেন? দিবা স্বপ্ন দেখা ভলো না মি.আক্করা।কথায় আছে না গাছে কাঁঠাল গোঁফে তেল।"

রায়েদ ইফরাহার অভিযোগ গুলো খুব মন দিয়ে শুনলো।তার ঠোঁটে বরাবরের মতোন হাসি ছিল।সে বিনা আমন্ত্রণে ইফরাহার মুখের দিকে ঝুঁকে এলো। নিজের দু হাত ইফরাহার দু পাশে রেখে ইফরাহ কে বন্দি করে নিল‌। তারপর ডিপ ভয়েসে বলল___

"তুমিও তো আমার মন চুরি করেছিলে তার মানে তুমিও চোর। উফ্ না মেয়েরা তো আবার চোর হয় না।চোর তো আমি আর চোরের বউ চুন্নি তুমি।আর তুমিও চাইতে আমি বিছানায় শুই তাই তো আমার জন্য যায়গা রেখে দিয়েছিলে।"

এই বলে রায়েদ ইফরাহার গালে শব্দ করে চুমু খেল। ইফরাহ

রায়েদের বুকে হালকা করে চড় মেরে বলল__

"উফ্ফফ সরুন তো।ঘরির দিয়ে চোখ দিয়ে দেখুন আটটার বেশি বাজে। নতুন বউ এতক্ষন পরে ঘুমিয়ে থাকলে মানুষ কি বলবে শুনি? "

রায়েদ বিনা দ্বিধায় বলে উঠলো__

" শুনতে চাও তাহলে শুনো,,, মানুষ বলবে রাতে জামাই বেশি আদর দিয়ে ফেলেছিল তাই বউয়ের উঠতে দেরি হয়েছে। অবশ্য এইটা মিথ্যা অপবাদ।আমি কিন্তু কিছুই করিনি তুমি তো জানোই।"

এই বলে রায়েদ ইফরাহ কে চোখ টিপ দিল। ইফরাহার রাগে গাঁ জ্বলে উঠলো।সে জানতো না এই লোক এত অসভ্য এবং নির্লজ্জ।সে দাঁতে দাঁত চেপে বলল__

বিজ্ঞাপন

"ফালতু কথা না বলে সরে যান বলছি। নয়তো আগামী এক মাস আমার ধারের কাছে আসা তো দূরের কথা এই রুমে ঢুকতে দিব না।"

রায়েদ একটু ভরকে গেল। তারপর নিজের বত্রিশ দাঁত বের করে হাসি দিয়ে বলল__

"কি যে বলো না Little Rosebud, আমি কি তোমার সাথে ফালতু কথা বলতে পারি?এত সাহস কি আমার আছে পিচ্চি? আমার ঘারে এক মাথা এবং তা আমি হারাতে চাই না।"

এই বলে রায়েদ ইফরাহার উপর থেকে সরে গিয়ে পাশে শুয়ে পরলো।ইফরাহ রায়েদের আড়ালে মুচকি হাসলো। তারপর বিছানা থেকে উঠে পরলো।রায়েদ বিছানায় শুয়ে শুয়ে ইফরাহ কে দেখছে। ইফরাহ আলমারি থেকে টুকটুকে লাল শাড়ি বের করল।কাল রাতে রায়েদের দাদি এখানে রেখে গিয়েছিল এবং বলে গিয়েছিল যাতে সকালে এইটাই পরে।রায়েদ বিছানায় শুয়ে থেকেই ইফরাহ কে‌‌ জিজ্ঞেস করল__

"গোসল করতে যাচ্ছ?"

ইফরাহ না তাকিয়েই মাথা নাড়ল শুধু।রায়েদের ঠোঁটে দুষ্টু হাসি ফুটে উঠলো।সে ভরপুর দুষ্টু কন্ঠে বলল___

"গোসল করার তো কোনো কারণ দেখছি না আমি Little Rosebud আমার কাছে আসো আমি গোসল করার কারণ বানিয়ে দেই!"

ইফরাহ যেন অবাকের চরম পর্যায়ে চলে গেল। তারপর আমতা আমতা করে জিজ্ঞেস করল__

"কি আবল তাবল বলেছেন আপনি?মাথা ঠিক আছে আপনার?"

রায়েদ হাসতে হাসতে বলল___

" আরে তোমার আদরের মোমো মনে হয় সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠেই বারান্দা গিয়েছিল এবং সেখানে থাকা মাটির টপে পা রেখেছিল এবং পা ভর্তি মাটি নিয়ে এই যে দেখো বিছানায় শুয়ে আছে। এখন এই মাটিগুলো তোমার শরীরে লাগাবো। তাহলেই তোমার গোসল করার কারণ হবে।একদম ন্যাচারাল স্কিন কেয়ার। তারপর তুমি গোসল কর।"

ইফরাহ হাঁফ ছাড়ল তারপর রায়েদের দিকে কটমট দৃষ্টিতে তাকিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে বলল__

"আমি যদি এখন আপনার কাছে আসি তাহলে সেই মাকে আমি আপনাকে খাওয়া।"

রায়েদ এই কথা শোনা মাত্রই চাদর দিয়ে নিজের মুখ ঢেকে ফেলল। ইফরাহ মুচকি হেসে ওয়াশ রুমে চলে গেল। আধা ঘন্টা পর গোসল করে একদম শাড়ি পরে বের হলো। সে আবার শাড়ি পরতে পারে।শাড়ি পরে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে ভেজা চুলগুলো টাওয়াল দিয়ে মুচছিল।রায়েদ মোমোর সাথে কথা বলছিল। হঠাৎ চোখ গেল ইফরাহার দিকে।তার কাছে লাগছিল যেন তার চোখের সামনে গোলাপে রাণী দাঁড়িয়ে আছে।রায়েদ বিনা বাক্য বিছানা ছেড়ে উঠে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ইফরাহার কাছে গেল। পিছন থেকে ইফরাহ কে জড়িয়ে ধরলো। ইফরাহার হাতে থাকা টাওয়াল নিচে পরে গেল।সে আয়না দিয়ে রায়েদ কে দেখতে লাগলো।রায়েদ ইফরাহার ভেজা চুলের ঘ্রান নিল। তারপর পিঠ থেকে ভেজা চুল সরিয়ে ডান পাশের কাঁধে এনে রাখলো। তারপর বাম পাশের কাঁধে নিজের ঠোঁট ছোঁয়ায় । ইফরাহ শক্ত করে চোখ বন্ধ করে নেয়।তার ভেতর এক অদ্ভুত শিহরণ খেলে যায়।হাত পা বরফ হয়ে গেছে।রায়েদের স্পর্শ যেন আর গভীর হতে লাগলো।সে শাড়ির আঁচলের ফাঁক দিয়ে ইফরাহার নরম পেটে নিজের হাত স্লাইড করতে লাগলো।অন্য হাত দিয়ে ইফরাহার মাথা এক পাশ করে রেখেছে।সে নিজের হাত দিয়ে ইফরাহার পেট বিচরণ করতে লাগলো। তার হাত ফ্লাইট করতে করতে আরেকটু উপরে উঠাতে লাগলো। ইফরাহ নিজের হাত দিয়ে শাড়ি শক্ত করে ধরে আছে। চোখ খোলার সাহস পাচ্ছে না সে।রায়েদের ঠোঁটের স্পর্শ যেন ভেজা ভেজা হতে লাগলো। ইফরাহ যেন আর সহ্য করতে পারছে না। ঠিক এমন রোমাঞ্চকর সময়ে কেউ তাদের রুমের দরজায় নক করলো। দুজনেই যেন নিজেদের হুঁশ ফিরে পেল। ইফরাহ রায়েদের থেকে ছিটকে কিছুটা দূরে সরে গেল। আয়নার নিজেকে দেখে অবাক কারণ গলায় লালচে দাগ হয়ে গেছে। তাড়াতাড়ি নিজের চুল দিয়ে গলা ঢেকে নিল। রায়েদ মুচকি হেসে চোখ টিপ দিয়ে দরজা খুলল। কিন্তু দরজা খুলে যাকে দেখল তাকে দেখা সে আশা করেনি। ইফরাহও কিছুটা অবাক হল দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটিকে দেখে। সে একবার রায়েদের দিকে তাকালো তো আরেকবার দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা কাঙ্খিত ব্যক্তিটির দিকে তাকাচ্ছে। বাইরে থাকা ব্যক্তিটি বিনা অনুমতিতে ভিতরে প্রবেশ করল এবং ইফরাহার কাছে গিয়ে বলল___

"আমি এসে গিয়েছি তোমাদের রোমান্সে বাঁধা দিতে।"

বিজ্ঞাপন
হৃদয়ের অগোচরে গল্পটি নাজনীন নেছা নাবিলা-এর লেখা একটি জনপ্রিয় রোমান্টিক ও থ্রিলারভিত্তিক গল্প