হৃদয়ের অগোচরে

পর্ব - ১৬

🟢

ইফরাহ পাথরের ন্যায় দাঁড়িয়ে আছে।কি হতে গিয়ে হয়ে গেল সে বুঝতে পারল না।তার হাত পা রিতিমত কাঁপছে। মনে হচ্ছে সব শেষ।তার ভেতর থেকে যেন আত্মা বের হয়ে যাওয়ার উপক্রম। ইফরাহ হাঁটু গেড়ে বসে পরলো।সে যেন কথা বলতে ভুলে গেছে, কান্না করতে ভুলে গেছে। পলকহীন চোখে সামনের দিকে তাকিয়ে আছে।

ঈশিতা ভয়ে কাঁপছে।সে কি করতে গিয়ে কি করে ফেলল।সে আর এক মুহূর্তও নষ্ট না সেখানে থেকে দৌড়ে পালালো। এখন যদি এখানে আর এক মুহূর্তও থাকে তাহলে তাকে বিপদে পড়তে হবে।তার কাছে নিজের জীবন আগে।

রবিন দৌড়ে পাহাড়ের কিনারায় গেল।ইশা ইফরাহার চিৎকার শুনে দৌড়ে ইফরাহার কাছে এলো। হাঁটু গেড়ে ইফরাহার পাশে বসলো ইফরাহ কে শক্ত করে ধরল ইফরাহ তো একদম হেলে পড়েছে ইশার উপর।তার শরীরে যেন বিন্দুমাত্র শক্তি নেই।

রবিন দেখলো নিচে অনেক পর্যটকের ভিড়। কিছু দেখা যাচ্ছে না। উপর থেকে বুঝা যাচ্ছে না রায়েদ এখন কোথায়।যদি ভাগ্যক্রমে পানিতে পরে তাহলে তেমন বিপদের আশঙ্কা নেই। রবিন দৌড়ে ইফরাহ এবং ইশার কাছে গেল তারপর ইশা কে বলল,,,

--"আমাদের এক্ষুনি নিচে যেতে হবে।আশা করছি রায়েদের তেমন ক্ষতি হয়নি। নিচে পানি আছে যদি পানিতে পড়ে তার বাঁচার আশঙ্কা অনেক বেশি। এখন আমাদের যত তাড়াতাড়ি সম্ভব রায়েদ কে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিতে হবে।তুমি ইফরাহ কে নিয়ে নিচে আসো যত তাড়াতাড়ি সম্ভব। আমি এখন নিচে যাচ্ছি।"

এই বলে আর এক মুহূর্ত সময় নষ্ট না করে রবিন দৌড়ে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামতে লাগে।

ইশা ইফরাহ কে শান্তনা দিয়ে বলতে লাগলো,,,,

--"সব কিছু ঠিক হয়ে যাবে ইফরাহ। তুমি এত ভেঙে পড়লে চলবে না তো।তোমাকে এত শক্ত থাকতে হবে। চলো আমরা এখন নিচে যাই এবং নিচে গিয়ে দেখি কি অবস্থা। দেরি করলে বিপদ আরো বাড়বে। আমাদের যত তাড়াতাড়ি সম্ভব স্যার কে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিতে হবে।"

ইফরাহার যেন টনক নড়লো সে তারাতাড়ি করে উঠে দাঁড়ালো।তার শরীরে বিন্দুমাত্র শক্তি নেই কিন্তু সে নিজের দুর্বলতাকে পরোয়া না করে দৌড় লাগালে নিচে যাওয়ার জন্য। ইশাও ইফরাহার পিছনে দৌড় দিল। কারণ এখন ইফরাহ ঠিক অবস্থায় নেই যদি আবার তার বিপদ হয়ে যায়।

সবাই তড়িঘড়ি করে নিচে নামতে লাগলো। ইফরাহ হাঁফাতে লাগলো কিন্তু থামলো না।ভির ঠেলে নিচে নামতে লাগলো। অনেক বার পড়ে যেতে নিয়েছিল কিন্তু নিজেকে সামলে নিল। জুতা পড়ে দৌড়াতে কষ্ট হচ্ছিল বলে জুতা খুলে পাশে ফিক্কে দিয়ে খালি পায়ে দৌড়াতে লাগলো। অবশ্য খালি পায়ে দৌড়াতে গিয়ে পায়ে অনেক ব্যথা পাচ্ছিল, সিঁড়িতে অনেক ইট,পাথর,কাঁটা ছিল তার পায়ে বিধছিল কিন্তু সে এগুলোকে পরোয়া না করে নিচে নামতে লাগলো।

রবিন সবার আগে নিচে নামলো। যেখানে ঝর্ণার পানি উপর থেকে নিচে এসে পড়ে সেখানে অনেক মানুষের ভিড় ছিল। রবিন ভির ঠেলে সবার ভেতরে ঢুকলো।দেখলো পাথরের উপরে রায়েদ শুয়ে আছে।কপাল বেয়ে রক্ত পড়ছে।গাল থেকে নাক পর্যন্ত ছুঁলে গেছে। অনেকটা মাংস দেখা যাচ্ছে। রবিন দৌড়ে রায়েদের কাছে গেল। হাতের প্লাস চেক করে দেখল এখনো বেঁচে আছে। রবিন এক নিশ্চিত শ্বাস ছাড়লো।

আশেপাশে থাকা মানুষরা বলতে লাগলো,,,,

--"ভাগ্যক্রমে পাথরের উপর পড়েনি নয়তো বাঁচার কোন চান্স ছিল না। ওনাকে তাড়াতাড়ি হসপিটালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে নয়তো বিপদ হয়ে যেতে পারে।"

রবিন বলল,,,

--" প্লিজ কেউ কোন গাড়ি ডাকেন অথবা অ্যাম্বুলেন্স ডাকেন।"

একজন লোক বলল,,,,

--" আমি এম্বুলেন্স কে কল করে দিয়েছি তারা ২০ মিনিটের ভেতর চলে আসবে। কিন্তু উনার ব্লিডিং বন্ধ করা উচিত নয়তো বেশি রক্ত গেলে সমস্যা হবে।"

এতক্ষণে ইফরাহও নিচে চলে এসে পড়েছে। ভিড় ঠেলে সবার মাঝে চলে আসলো।রায়েদ কে এমন রক্তাক্ত অবস্থায় দেখে তার পায়ে নিচ থেকে মাটি সরে গেল। সে তারাতাড়ি রায়েদের কাছে গেল‌।রায়েদের মাথার কাছে বসে পরলো।রায়েদের মাথা নিজের পায়ের রানের উপর রেখে রায়েদ কে ডাকতে লাগলো।

--"প্লিজ চোখ খুলুন। আপনার Little Rosebud ,আপনার পিচ্চি একদম আপনার কাছে। আপনার চোখ খোলার অপেক্ষা করছে। প্লিজ তাকে আর অপেক্ষায় রাখবেন না। প্লিজ চোখ খুলুন।আমি বাঁচবো না আপনাকে ছাড়া। অনেক কষ্ট দিয়েছে আপনাকে প্লিজ ক্ষমা করে দিন। প্লিজ রাগ করে চলে যাবেন না আমাকে ছেড়ে। একবার আমার করা ভুলকে শুধরে নেওয়ার সুযোগ দিন। শেষ সুযোগ দিন। আর কখনো আপনাকে কোন কষ্ট দিব না, আপনিকে ইগনোর করবো না। প্লিজ একবার চোখ খুলুন। আমার দিকে তাকান। আমার সাথে কথা বলুন। আমার দম আটকে আসছে। নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে আপনার এই অবস্থায় দেখে। প্লিজ অন্তত আমার জন্য হলেও একবার চোখ খুলুন। আমি যে আপনাকে ভিশন ভালোবাসি। নিজের ভালোবাসা প্রকাশ করার জন্য একটি সুযোগ দিন। কখনো আপনাকে কষ্ট দিব না। আপনি যা বলবেন তাই করবো। কোনো কষ্ট অনুভব করতে দিব না। শুধুমাত্র একবার চোখ খুলুন প্লিজ।"

এইবলে ইফরাহ কাঁদতে শুরু করল।তার চোখের পানি রায়েদের মুখের উপর পরছিল। আশেপাশের মানুষ সবাই ইফরাহার দিকে অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।ইশার চোখে পানি চলে আসলো।

ইফরাহ তাড়াতাড়ি নিজেকে সামলে নিজের গ্ৰাউন থেকে কিছুটা অংশ কাপড় ছেড়ার চেষ্টা করতে লাগল। তার পাশে পাথরের কোণা দিয়ে নিজের গ্রাউনের কিছুটা অংশ ছিড়ে ফেললো। গ্রাউনের তিনটা পার্ট ছিল প্রথম পার্টের থেকে কিছুটা অংশ ছিড়ে ফেললো। তারপর রায়েদের কপালে বেঁধে দিল যাতে রক্ত পরা কিছুটা বন্ধ হয়। তারপর নিজের হিজাব দিয়ে রায়েদের গাল এবং নাক থেকে রক্ত আস্তে আস্তে মুছে দিতে লাগলো। সে দেখলো রায়েদের গাল থেকে নাক পর্যন্ত বেশ ভালো ক্ষত হয়েছে। অনেকটুকু ছুঁলে গেছে এমনকি চামড়ার ছঁলে দু ভাগ হয়ে গেছে। এখানে সেলাই করা ছাড়া কোন উপায় নেই।

ততক্ষণে এম্বুলেন্স চলে এসেছে। রবিন এবং আশেপাশে থাকা কিছু মানুষ রায়েদ কে ধরে নিয়ে এম্বুলেন্সের বেডে শুইয়ে দিলে। ইফরাহ তাড়াতাড়ি এম্বুলেন্সে উঠে বসলো।রায়েদের মাথায় হাত রেখে কেঁদে কেঁদে একই কথা পুনরাবৃত্তি করতে লাগলো,,,

বিজ্ঞাপন

--"প্লিজ তাকান আমার দিকে। শুধুমাত্র একটিবার চোখ খুলুন।"

ইশা এবং রবিন মিলে ইফরাহ কে শান্ত করতে পারছে না। ইফরাহ পাগলের মতোন কান্না করছে আর নিজেকে দোষারোপ করে যাচ্ছে। বলছে সবকিছু তার জন্য হয়েছে। তাকে বাঁচানোর জন্য আজ রায়েদের এই অবস্থা। যদি সে পড়ে যেত তাহলে কখনোই রায়েদের এই অবস্থা হতো না। সব দোষ তার।

আসলে তখন রায়েদ পাহাড় থেকে পড়ে গিয়ে পাহাড়ে কিছু বর্ধিতাংশ কোণায় বারি খায় এবং এতে তার কপাল ফেটে যায়। এমনকি তার গাল থেকে নাক পর্যন্ত ছুঁলে যায়। নিচে পর্যটকের অনেক ভিড় ছিল। সবাই ঝর্ণার পানিতে আনন্দ করছিল। রায়েদ যখন পাহাড় থেকে পড়ে গিয়েছিল তখন ইফরাহ চিৎকার দিয়েছিল এবং সেই চিৎকার শুনে সবাই উপরের দিকে তাকায় এবং একটি মানুষকে পড়তে দেখে সবাই সরে না গিয়ে বরং আরো ভিড় করে ধারায় যাতে মানুষটি মাটিতে না পড়ে তাদের উপর পড়ে। রায়েদ ঠিক যে বরাবর পড়ছিল সবাই সেদিকে ভিড় করে এসে নিজেদের হাত দেয় এবং কেউ নিচে শুয়ে পড়ে যাতে একটি মানুষ বেঁচে যায়। এবং রায়েদ পাহাড় থেকে সোজা ঝরনার পানিতে থাকা মানুষদের উপর পড়ে। এতে অবশ্য সেখানে যারা ছিল তারা অনেকে ব্যথা পায় কিন্তু কিছুটা ব্যথা পেয়ে যদি একজন মানুষের প্রাণ বাঁচানো যায় তাহলে এই ব্যথা কোন ব্যথাই না। আসলে বিপদে মানুষই মানুষের কাছে আসে। ঠিক যেমন এখানে থাকা পর্যটকরা রায়েদের পরিচিত না হয়েও তাকে বাঁচিয়ে ফেলল। যদি তারা এভাবে ভিড় করে না দাঁড়াতো নিজেদের কথা চিন্তা করে সরে যেত তাহলে হয়তো রায়েদের পানিতে থাকা পাথরের উপর পড়ে নিজের জীবন হারাতে হতো।

________________

রায়েদ কে ইমারজেন্সি তে নেওয়া হয়েছে।ইশা ইফরাহ কে টেনে করিডোরে থাকা চেয়ারে বসালো। ইফরাহ তো পাগলের মতোন কান্না করে যাচ্ছে। তার সাদা রঙের গ্রাউন রায়েদের রক্তে রঞ্জিত। তার হাতে রায়েদের রক্ত।সে নিজের কান্না থামাতে পারছে না। অনবরত কান্না করছে এবং রায়েদের সুস্থতার জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছে।

রবিন গিয়েছে ডাক্তারদের সঙ্গে কথা বলার জন্য। এবং জিজ্ঞেস করার জন্য তারা কি রায়েদ কে এখানে রাখবে নাকি ভালো চিকিৎসার জন্য ঢাকা পাঠিয়ে দিবে। যদি পরবর্তীতে ঢাকা পাঠিয়ে দেয় তাহলে রবিন আগে থেকে ঢাকার কেবিন বুক করে রাখবে যাতে পরবর্তীতে কোন সমস্যা না হয়। ডাক্তার বলল তেমন গুরুতর ক্ষতি হয় নি। শুধু কপাল ফেটে গেছে এবং গাল থেকে নাক পর্যন্ত ছুঁলে গিয়ে চামড়া কিছুটা ফাঁক হয়ে গেছে। ভাগ্যক্রমে মাংস বের হয়নি। সেখানে ভালোভাবে সেলাই করলেই হবে। পরবর্তীতে ড্রেসিং করতে হবে সময় মতন নয়তো ইনফেকশন হয়ে যাবে।। আর এই সিলাইয়ের দাগ দেখা যাবে অনেকদিন পর্যন্ত। এবং সিলি খুলে ফেলার পরেও চেহারায় দাগ স্পষ্ট থেকে যাবে। আর রক্ত শুধু এক ব্যাগ লেগেছিল। এবং রায়েদের রক্ত এ পজেটিভ হওয়ায় হসপিটালে তা ছিল তাই বেশি সমস্যা হয়নি।

কথা গুলো শুনে রবিন নিশ্চিত হলো। এবং ইফরাহ ও‌ ইশা কে গিয়ে জানালো।কথা গুলো শুনে ইফরাহ যেন জান ফেরত পেল।তার তো মনে হয়েছিল এই না সে রায়েদ কে হারিয়ে ফেলে। যদি সে এবার রায়েদ কে হারিয়ে ফেলত তাহলে কখনোই নিজেকে ক্ষমা করতে পারতো না। ইফরাহ এইসব ভেবে ডুকরে কেঁদে উঠলো।তার খুব কষ্ট হচ্ছে।রায়েদ কে সে অনেক কষ্ট দিয়েছে।এইসব ভেবে প্রতিনিয়ত আফসোস করছে।

________________

ডাক্তার এসে জানালো রায়েদ এখন বিপদ মুক্ত কিন্তু তার জ্ঞান‌ এখনো ফেরেনি। কিন্তু ঘন্টা খানেক পর ফিরবে। এখন চাইলে তারা রায়েদের সাথে দেখা করতে পারে।এই কথা শুনে ইফরাহ যেই না রায়েদের সাথে দেখা করার জন্য কেবিনের ভেতর যেতে নিবে তার আগেই ডাক্তার তাকে বাধা দেয় এবং বলে,,,,

--"মিস. আপনার পরনের কাপড় ক্লিন না।এতে রোগীর সমস্যা হতে পারে বা ইনফেকশন ছড়াতে পারে।আপনি ক্লিন পোশাক পরে তারপর ভেতরে প্রবেশ করুন।"

ইফরাহার পা থেমে গেল।ঠিকই তো।তার কাপড়ে রক্ত, হাতে রক্ত সে চায় না তার জন্য রায়েদের আর কোনো ক্ষতি হোক।আর যেহেতু রায়েদের এখনো জ্ঞান ফিরেনি সে ততক্ষণে হোটেলে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আসতে পারবে। পরে না হয় রায়েদ কে মন ভরে দেখবে।

ইফরাহ ইশা কে বলল রবিন আসলেই সে চলে যাবে। আসলে রবিনের কাপড়েও রক্ত ছিল।তাই সে হোটেলে গিয়েছিল ফ্রেশ হতে। কিছুক্ষণে ভেতর রবিন চলে এলো এবং ইফরাহ বের হয়ে গেল হোটেলের উদ্দেশ্যে।

১ ঘন্টা পর রায়েদে জ্ঞান ফিরে।সে আস্তে আস্তে চোখ মেলে তাকাল। নিজেকে হসপিটালে বেডে দেখতে পেয়ে তার টনক নড়লো। হুট করে উঠে বসলো। অবশ্য বসতে গিয়ে মাথায় কিছুটা চাপ লাগলো। কপাল ফেটে যাওয়ার কারণে মাথা তার ভার হয়ে আছে। পাহাড় থেকে পড়ার কারণে শরীরের কিছু কিছু জায়গা ছুঁলে গিয়েছে যার জন্য সে সব জায়গায় চিনচিন ব্যথা আছে এখনো।

রবিন রায়েদ কে এইভাবে উঠে বসতে দেখে অবাক হয়ে বলল,,,,

--"স্যার আপনি প্লিজ শুয়ে থাকুন।আপনার শরীর ভালো নেই। আপনার রেস্টের এর প্রয়োজন প্লিজ উঠে বসবেন না।"

রায়েদ নিজের পরোয়া না করে জিজ্ঞেস করল,,,,

--" আমার পিচ্চি কোই? সে ঠিক আছে তো? তার কি কোনো ক্ষতি হয়েছে? সে কোথায়? আমি তাকে দেখতে চাই। ইফরাহ কে না দেখা পর্যন্ত আমার কলিজা ঠান্ডা হবে না।"

রায়েদ পাগলের মতন কথা গুলো বলতে লাগলো।রবিন বলল,,,

--" স্যার আপনি শান্ত হোন। ইফরাহ মেম একদম ঠিক আছে।উনি তো সারা রাস্তা কান্না করতে করতে ভাসিয়ে দিয়েছিল। পাগলামী করছিল। আপনি বিপদমুক্ত হয়েছেন এটা শুনে কিছুটা শান্ত হয়েছে। তারপর এখন ডক্টরের কথাই হোটেলে গিয়েছে ফ্রেশ হয়ে আবার আসবে। উনি নিজের গ্রাউনের থেকে কিছুটা অংশ ছিড়ে তারপর আপনার মাথায় বেঁধে দিয়েছিল। উনার সাদা গ্রাউন, হাত আপনার শরীরের রক্তে মেখে গিয়েছিল।উনি সারাক্ষণ শুধু আপনাকে চোখ খোলার কথাই বলে গিয়েছেন।"

রায়েদ রবিনের বলা কথাগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনছিল। তার Little Rosebud তার জন্য কান্না করছিল। তার মানে কি তার পিচ্চিও তাকে ভালোবেসে।নাহ রায়েদ আর ভাবতে পারলো না। খুশিতে চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ল। যেই না নিজের চোখের পানি মুছার জন্য গালে হাত দিল তখন গালে কিছু অনুভব করল।হাত দিয়ে স্পর্শ করে বুঝতে পারল গাল থেকে নাক বরাবর সেলাই করা হয়েছে। রায়েদের মন ছেত করে উঠলো।সে রবিন কে বলল তাকে আয়না দিতে। রবিন সাইড টেবিলে থাকা একটি ছোট আয়না রায়েদ কে দিল।রায়েদ আয়নায় নিজের চেহারা দেখে থমকে গেল।গাল থেকে নাক পর্যন্ত সেলাইয়ের দাগ একদম স্পষ্ট। আগে তো শুধু কপালে কাটা দাগ ছিল। কিন্তু এখন তার মুখে সেলাইয়ের দাগ।সে তো‌ আর তার Little Rosebud এর যোগ্য রইলো না। এমনিতেই বয়সের পার্থক্য ছিল তার উপরে এখন তার চেহারা নষ্ট হয়ে গেছে। এই চেহারা নিয়ে সেই তার পিচ্চির সামনে কি করে যাবে।সে যে এখন তার Little Rosebud এর অযোগ্য।তার পিচ্চি যে তার থেকে আরো বেশি বেটার কিছু ডিজার্ভ করে। তার মতোন খারাপ চেহারার মানুষকে নয়।

রায়েদ আয়না ছুড়ে মারলো। নিজের হাত দিয়ে নিজের মুখ ঢেকে নিল। পাগলের মতোন কাঁদতে লাগলো এবং বলতে লাগলো,,,,

--"আমি যে আর পিচ্চির যোগ্য না। পিচ্চি আমাকে কখনোই আর গ্রহণ করবে না। আর গ্রহণ করলেও আমি আমার পিচ্ছি জীবন নষ্ট করতে পারবো না। ইফরাহার মতোন সুন্দর নিষ্পাপ মেয়ের জীবন আমি আমার মতন খারাপ চেহারার লোকের সাথে জড়াতে পারবো না। ইফরাহ যে ফুলের কলি। যার জীবনে এখনো পড়ে আছে। যার ভবিষ্যত আরো উজ্জ্বল। তার জীবনে কি করে আমি কাঁটা হবো।নিজেকে সরিয়ে নিব তার জীবন থেকে। রবিন বের হয়ে যাও এখান থেকে। ইফরাহ কে ভেতরে প্রবেশ করতে দিবে না। আমার এই খারাপ চেহারা আমি দেখাবো না তাকে।ও যদি বেশি জোর করে তাহলে ওকে বলবে আমি বলেছি আমার এই দশা তার জন্য হয়েছে তাই আমি ওর চেহারা দেখবো না। আমি চাই ও আমাকে ঘৃণা করুক। আমি আর ওর জীবনে কখনো যাবনা। ওর সামনে আসব না।"

বিজ্ঞাপন
হৃদয়ের অগোচরে গল্পটি নাজনীন নেছা নাবিলা-এর লেখা একটি জনপ্রিয় রোমান্টিক ও থ্রিলারভিত্তিক গল্প