ইফরাহার বাবা মা চলে গিয়েছে দুপুরে খাবার খেয়ে। অবশ্য কেউই তাদের যেতে দিচ্ছিল না কিন্তু এখন না গেলে যে তাদের পৌঁছাতে দেরি হয়ে যেত। ইফরাহার মা বাবা চলে যাওয়ার সময় ইফরাহ কেঁদে ছিল বটে। কিন্তু রায়েদ তাকে সামলিয়ে ছিল।রায়েদ এবং তার পরিবারের কাছে ইফরাহার একটি জিনিস খুব ভালো লেগেছে যে বাড়িতে ঘটে যাওয়া কথা ইফরাহ নিজের বাবা মা কে জানাই নি। আসলেই বিয়ের পর সব কথা বাপের বাড়িতে পাঁচকান না করাই ভালো। কারণ ওইটা যদি বাপের বাড়ি হয় তাহলে স্বামীর বাড়ি হলো মেয়েদের নিজের বাড়ি। আর নিজের বাড়িতে ঘটে যাওয়া ঘটনা অন্য কাউকে না জানতে দেওয়াই শ্রেয়।
___________
ইশা কে রবিন তার বাসায় পৌঁছে দিয়েছিল তখন আর ইশার ভাই রবিন কে আসতে দেয়নি বরং একদম দুপুরের খাবার খেয়ে তারপর যেতে বলেছে।রবিনও ভদ্র ছেলের মতোন ইশার ভাইয়ের কথা শুনল।ইশার মা বাবা কেউই নেই। ভাইয়ের কাছে বড় হয়েছে সে।তার ভাইয়ের নাম ইশান। ইশান বিবাহিত তার বউয়ের নাম রুনা।রুনা অবশ্য ইশা কে একদম আপন বোনের মতোন দেখে।ইশান কত মানা করেছে ইশা কে চাকরি করতে কিন্তু ইশা কোনো কথা শুনেনি কারণ সে নিজে কিছু করতে চেয়েছিল।
ড্রয়িং রুমে বসে বসে রবিন আর ইশান আড্ডা দিচ্ছে। রবিনের কোলে ইশানের ছেলে ইমরান বসে আছে। তার বয়স ৪ বছর। রবিন সেই সকালে এসেছিল এখনো যায়নি নি।আর তাকে ইশান যেতেও দিচ্ছিল না।সবে মাত্রই সবাই দুপুরের খাবার খেয়ে উঠেছে।ইশা এবং রুনা মিলে খাবার টেবিল পরিষ্কার করছে। অবশ্য ইশা কাজের ফাঁকে ফাঁকে বারবার রবিন কে দেখছে।এই রবিন থেকে যেন সে অপরিচিত।আগের রবিন সবসময় তার সাথে ঝগড়া করত। অথচ এই রবিন তার সাথে এখন নরম স্বর ছাড়া কথা বলে না।ইশার তো এখন মনে মনে ভয় হচ্ছি যে রবিনের উপর না রাঙ্গামাটির পাহাড় হতে জীন ভর করেছে। তাহলে ওঝা দেখাতে হবে।রবিনও কোনো এক বিশেষ কারণে এতক্ষণ যাবত এখান ছিল।সকাল থেকেই সে বলার চেষ্টা করছে কিন্তু পারে নি।সে কথাটি বলার জন্য উসখুস করছে।যা দেখে ইশান কিছুটা আন্দাজ করতে পেরেছে।তাই সে রবিনের উদ্যেশ্যে বলল___
কিছু কি বলবে? তোমাকে দেখে তো তাই মনে হচ্ছে যে তোমার কিছু বলার আছে। বলার থাকলে বলে ফেল এত ইতস্তত বোধ করার কিছুই নেই রবিন।
আসলে তারা সমবয়সী আর একে অপরকে আগের থেকেই চেনে তাই একে অপরকে তুমি তুমি করে সম্বোধন করে। ইশানের কথা শুনে ইশা আর রুনার মনোযোগ তাদের দুজনের দিকে গেল। রবিন একবার ইশার দিকে তাকিয়ে কিছুক্ষণ নিরব থেকে তারপর নিজের মনে জমে থাকা কথা বলে ফেলল ইশান কে।সবাই যেন রবিনের কথা শুনে অবাক হয়ে গেল। কিন্তু সব থেকে বেশি অবাক হয়েছে ইশা নিজে। রবিন যে এমন কথা বলবে তার কল্পনার বাইরে ছিল।সে লজ্জায় আর রাগে সেখানে থেকে এক দৌড় দিয়ে চলে এলো ছাদে।তার এখন শান্ত পরিবেশ এবং ঠান্ডা হাওয়ার প্রয়োজন।
___________
ইফরাহ নিজের ঘরে Momo কে নিয়ে বসে আছে।রায়েদ দড়জা ঠেলে ভেতরে প্রবেশ করল। বিছানায় তার প্রিয় মানুষ এবং প্রিয় প্রাণী কে দেখে তার মুখে স্মিত হাসি ফুটে উঠল।সে দরজা লাগিয়ে বিছানার দিকে অগ্রসর হলো। ইফরাহ রায়েদের উপস্থিতি টের পেয়েও তার দিকে তাকায়নি।সে দেখতে চাচ্ছে রায়েদ কি করে।রায়েদ একদম নিঃশব্দে বিছানায় লাফ দিল।তার এমন কান্ডে ইফরাহ এবং বেচারা Momo দুজনেই ভয়ে লাফ দিয়ে উঠলো।Momo তো মেউ মেউ করে রায়েদের দিকে একবার রাগি চোখে তাকিয়ে বিছানা থেকে নেমে বারান্দায় চলে গেল। ইফরাহ রায়েদের দিকে রাগী দৃষ্টি নিক্ষেপ করে দাঁতে দাঁত চেপে বলল___
আপনার ফাজলামির জন্য আমার বেচারা Momo ভয় পেয়েছে। নিশ্চয়ই আপনাকে মনে মনে গালি দিচ্ছে।আর জানেন সে কেন এইখান থেকে চলে গেল? কারণ তার কথা হলো যেইখানে আপনার মতোন এমন বাঁদর থাকবে সেইখানে সে থাকবে না। শুধুমাত্র বেচারা কথা বলতে পারে না বলে।
রায়েদ শব্দ করে হেসে ফেলল। তারপর হুট করে ইফরাহ কে এক টান দিয়ে বিছানায় ফেলে দেয়। ইফরাহ এমন অনাকাঙ্খিত ঘটনার জন্য প্রস্তুত ছিল না।তার চোখ বড়বড় হয়ে যায়। ইফরাহ বিছানায় শুয়ে পড়তে না পড়তেই রায়েদ ইফরাহার উপর উঠে যায়। ইফরাহার চোখ যেন এক্ষুনি বের হয়ে আসবে এতটা বড় বড় হয়ে গেছে।রায়েদ তা দেখে আবার হেসে উঠলো তারপর ইফরাহার কানের কাছে মুখ এনে ফিসফিস করে বলল_____
মূলত Momo আমাদেরকে রোমান্স করার জন্য প্রাইভেসি দিতে এইখান থেকে চলে। তাহলে দেখ একটি নিষ্পাপ প্রাণী আমাকে বুঝল, আমার ফিলিংস কে বুঝলো অথচ আমার বউ বুঝলো না।এই কষ্ট কোই রাখব বলো? তুমি ঠিকই বলেছ নির্ঘাত বেচারা কথা বলতে পারে না।যদি পারতো তাহলে বলত,,,,
তোমরা আর কত আমার মতো বিড়ালের মা বাবা থাকবে? এইবার কোনো মানুষের বাবা মা হও।
এই বলে রায়েদ ইফরাহ কে চোখ টিপ দিল। ইফরাহ যেন হা হয়ে গেল। লজ্জায় তার মুখ একদম লাল হয়ে গেছে।রায়েদ যে এমন কথা বলতে পারবে তা তার ধারনার বাইরে ছিল।সে নিজের মুখ ডান পাশে ফিরিয়ে তারপর বিড়বিড় করে বলল____
আপনি যে এতটা নির্লজ্জ তা আমার জানা ছিল না।
ইফরাহ কথাটা বিড়বিড় করে বললেও রায়েদ তার একদম কাছে থাকাতে সে সম্পূর্ণ কথা শুনে ফেললো। রায়েদ ইফরাহার কথা শুনে সে বাকা হেসে তারপর বলল__
যেহেতু নির্লজ্জের উপাধি দিয়ে দিয়েছে আমাকে তাহলে তোমাকে আমার আসল নির্লজ্জের রূপ দেখাই Little Rosebud?
ইফরাহ কোনো প্রতিক্রিয়া করার আগেই রায়েদ তার বাম গালে শব্দ করে চুমু খেল। ইফরাহার চোখ বড় বড় হয়ে গেল।রায়েদ তার গালে চুমু খেয়ে এখনো সেইখানে থেকে নিজের ঠোঁট সরায়নি বরং চুমু খেতে খেতে ইফরাহার নাক পর্যন্ত গেল। ইফরাহার নিঃশ্বাস ভারী হয়ে উঠল।সে রায়েদের নিয়ত বুঝতে পেরেছে। কাঁপা কাঁপা হাতে রায়েদের বুকে হাত রাখল এতে যেন রায়েদ আরো উম্মাদ হয়ে উঠল।বিনা সময় অপচয় করে ইফরাহার গোলাপি ঠোঁট জোড়া নিজের ঠোঁট মাঝে নিয়ে নিল। প্রথমে ধীরে ধীরে এগোলেও এখন যেন তার স্পর্শ হতে লাগলো আরো গভীর। ইফরাহ ও রায়েদের পাগলামি তে সায় দিতে লাগল। নিজের দু হাত দিয়ে রায়েদের গলা জড়িয়ে ধরলো।রায়েদ যেন আর নিজেকে সামলাতে পারলো না। ইফরাহ যেন ঠিক সামলিয়ে উঠতে পারছে না এই উম্মাদ রায়েদ কে।তাই চোখ বুঝে রায়েদের পাগলামি সহ্য করে নিল। ইফরাহ নিরবতা কে সম্মতি মনে করে রায়েদ মুখ ডুবিয়ে দিলো ইফরাহ গলদেশে। ইফরাহ রায়েদের চুল খামচে ধরলো।রায়েদ যেন নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণ রূপে হারিয়ে ফেলল। ইফরাহার গলদেশ চুমুতে ভরিয়ে দিল। নিজের মুখ সেইখান থেকে না সড়িয়েই হাস্কি স্বরে বলল ____
লেট মি প্লিজ? আই কান্ট ওয়েট এনি মোর Little Rosebud। আমাকে তোমায় সম্পূর্ণ রূপে ভালোবাসতে দেওয়ার অনুমতি দাও প্লিজ। বিশ্বাস কর অনেক ভালোবাসব। প্লিজ ডোন্ট সে নো।
ইফরাহ মুখ দিয়ে কিছু বলল না। কিন্তু রায়েদ কে আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরল।রায়েদও কম যায় কিসের সেও ইফরাহ কে নিজের মতোন করে ভালোবাসতে শুরু করল। সম্পূর্ণ রূপে পূর্ণতা পেল আজ তাদের ভালোবাসা। দুজন দুজনের মাঝে ডুবে গেল। হারিয়ে গেল এক স্বর্গীয় অনুভূতিতে।