নিজের ঘরে বিরতিহীন ভাবে পায়চারী করছে তিসান। তার মন মস্তিষ্ক দুটোই আজ খুব অস্থির।এই অস্থিরতার কারণটা তার অজানা নয়।সে খুব ভালোভাবে অবগত আছে তার হৃদয়ে চলমান এই অস্থিরতা আর উদ্বিগ্নতার কারণ সম্বন্ধে।আজ বিকেলে প্রেয়নাদের বাড়ি যাওয়ার কথা তিসানদের।সেই কারণেই এত অস্থিরতা কাজ করছে তার মাঝে।প্রথমে তো তিসান যেতেই চায়নি কিন্তু পরে প্রবীর শিকদারের অনুরোধে রাজি হতে বাধ্য হয়েছে।তিসানের বাবা মাও প্রচুর জেদ করেছে যাওয়ার জন্য।
অবশ্য এসব কোন কারণই তিসানকে ও বাড়ি যেতে রাজি করাতে পারতো না যদি না প্রেয়না বিশেষ ভাবে আবদার না করত।নিজ মুখে তিসানের থেকে আবদার করে চেয়েছে নিজের জন্মদিনের উপহার।খুব করে অনুরোধ করে গেছে যেন তিসান যায় ও বাড়িতে।ও না গেলে জন্মদিনের আনন্দটা ফিকে হয়ে যাবে।এই মেয়েটাকে কি করে নিজের বিশেষ একটা দিনে তিসান কষ্ট দেয়?কষ্ট পায় মেয়েটা কিন্তু সেটা তার থেকেও বেশি অনুভব করে তিসান।বুকটা মোচড় দিয়ে ওঠে ওর ব্যথার কথা শুনলে।তাই নিজের ভালোর কথা ভেবে হলেও তিসানকে যেতে রাজি হতে হয়েছে।কিন্তু এখন মনের মাঝে বেশ দুশ্চিন্তা কাজ করছে।প্রেয়নার আশেপাশে থাকলে অনুভূতিগুলো মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে চায়।মাঝে মাঝে মনে হয় সে নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ছে।নিজের আবেগ অনুভূতিগুলো লুকিয়ে রাখার ক্ষমতা সে হারিয়ে ফেলে যেন।আর তাছাড়া প্রেয়নার জন্মদিন মানে একটা বড় লোকেদের অনুষ্ঠান।বিভিন্ন জায়গা থেকে বিভিন্ন বড়লোকেরাই সেই অনুষ্ঠানে আসবে।আর এই বড়লোকদের আশেপাশে থাকতে তিসানের বড্ড অসুবিধা হয়।তার মাথা কাজ করছে না। এই শেষ মুহূর্তে এসে যাবে না সেটাও বলতে পারবে না। তাহলে মেয়েটা অযথা মন খারাপ করে বসে থাকবে।তিসানের এসব ভাবনার মাঝে তার ঘরের দরজায় কেউ নক করলো।সেদিকে তাকাতেই বিঁথীকে দেখতে পেয়ে তার মন মেজাজটা আরো বিগড়ে গেল।
"এখনো তৈরি হওনি যে?যাওয়ার ইচ্ছে নেই নাকি?"
"তুমি তো তৈরি হয়ে নিয়েছো তাহলেই হবে।"
"তা যাবে না নাকি?"
"আমি যাই বা না যাই তাতে তো তোমার যাওয়ার উপর কোনো প্রভাব পড়বে না তাই না ভাবি?তুমি যাওয়ার জন্য সুন্দর করে তৈরি হয়েছো তুমি চলে যাও।"
"সবাই যাচ্ছি তুমি আবার বাদ থাকবে কেন?তুমি কি প্রেয়নাকে উপহার দেওয়া নিয়ে ভাবছো?আরে চিন্তা করো না তোমার ভাই কিনেছে তো ওর জন্য উপহার। তোমাকে আর আলাদা করে কিনতে হবে না।ও তো জানেই যে তুমি বেকার।তোমার যে আলাদা করে কিছু দেওয়ার সামর্থ্য নেই সেটা সবাই জানে।"
তিসান দুচোখ খিঁচে বন্ধ করে নিল।খুব কষ্টে নিজের রাগকে নিয়ন্ত্রণ করল।এই মুহূর্তে সে কোন ঝামেলা করতে চায় না কিংবা বিঁথীর সাথে কোন প্রকার তর্কেও জড়াতে চায় না।শান্ত কন্ঠে বলল,
"আমায় নিয়ে তোমায় ভাবতে হবে না ভাবি।তুমি বাকিদের সাথে চলে যাও।আমার যাওয়ার ইচ্ছে হলে আমি যাব না যাবার ইচ্ছে হলে যাব না।"
বিঁথী আবারো কিছু খোঁচা মা/রা কথা তিসানকে শোনানোর জন্য প্রস্তুতি নিল।কিন্তু সেই সুযোগ তোফায়েল শিকদার আর ওকে দিল না।গম্ভীর গলায় বলে উঠলেন,
"যাবে না কেন?সমস্যা কি?"
তিসান কোন উত্তর দিল না তার প্রশ্নের।তিসান কে চুপ করে থাকতে দেখে বিঁথী আগ বাড়িয়ে বলে উঠলো,
"আসলে বাবা আমার মনে হয় যে তিসান নিজে কোনো উপহার কিনে নিয়ে যেতে পারছে না তো সেই জন্য সংকোচ বোধ করছে।আমি ওকে বলেছিলাম যে তোমাকে কিছু নিতে হবে না,তোমার ভাইয়া তো নিয়েছে উপহার।আর তাছাড়া ও বাড়ির সবাই তো তোমার অবস্থা সম্বন্ধে জানে তারপরও রাজি হচ্ছে না।"
"কেন আমিও তো বড় মার জন্য উপহার নিয়েছি।আমি আর আমার ছেলে তো আলাদা না।আজ যদি আমার ছেলের সামর্থ্য থাকতো তাহলে আমাকে নিতে হতো না কিন্তু যেহেতু আমার ছেলের সামর্থ্য নেই তাই আমি নিচ্ছি।আমরা বাবা ছেলে তো আলাদা না তাই না?অযথা এই বিষয়টাকে এত বড় কারণ হিসেবে দাঁড় করাচ্ছো কেন?"
তোফায়েল শিকদারের কথায় বিঁথীর মুখটা ছোট হয়ে এলো।বলার মতন কোন কথা খুঁজে পেল না।মুখ কালো করে সেখান থেকে চলে গেল।তোফায়েল শিকদার এগিয়ে এসে তিসানের কাঁধে হাত রেখে শান্ত কন্ঠে বললেন,
"প্রবীর নিজে এসে অনুরোধ করে গেছে।সম্পর্কটা আবার ভালো হতে যাচ্ছে তুমি না গেলে তো আবার একটা দাগ লেগে যাবে এই সম্পর্কে বাবা।চলো যাই।"
তিসান যেন হাঁসফাঁস করছে।নিজের অস্থিরতাটা কাউকে ঠিক বোঝাতে পারছে না।
"যাব না আব্বু।আমার খুব অস্বস্তি হয় ও বাড়িতে গেলে।বিশ্বাস করো আমার দম বন্ধ হয়ে আসে।আমি নিতে পারি না এত অপমান।আমি জানি আমি জীবনে ব্যর্থ কিন্তু তারপরেও এই এক কথাগুলো আমার বারবার শুনতে বিশ্বাস করো ভালো লাগে না।আমি সহ্য করতে পারি না।"
"তোমার বাবা আর তোমার অপমান সহ্য করবে না।যদিও আমার মনে হয় না আজ এই বিষয়ে কোনো কথা তুলবে কিন্তু তারপরও যদি তোলে তাহলে আমি তোমায় কথা দিচ্ছি তার উত্তর আমি নিজে দেব।"
তিসান তারপরেও সায় জানাতে পারছে না।একটা মানুষকে দেখতে ইচ্ছে করছে ওর কিন্তু কেন যেন ওই বাড়িতে পা রাখার সাহসটা হয় না।মনকে কোনমতেই রাজি করাতে পারে না।কিন্তু অবশেষে রাজি হতে বাধ্য হলো।নিজের বাবার অনুরোধ এর কাছে হার মানতে হলো।না গিয়ে কোন উপায় নেই।
_______________
সিএনজিতে করে প্রেয়নাদের বিল্ডিং এর সামনে এসে নামল চারজন।উৎসব গাড়ি নিয়ে আসতে চেয়েছিল কিন্তু প্রভা আর সৌমি তাতে রাজি না হওয়ায় শেষে চারজনকেই সিএনজি করে আসতে হয়েছে।আলিশান দশ তলা ভবনের দিকে প্রভা আর সৌমি এক নজর তাকালো।বিল্ডিংটা বাইরে থেকে দেখতেই খুব সুন্দর লাগছে না জানি ভেতরে আরো কত সুন্দর হবে!সিএনজির ভাড়া দেওয়ার মাঝেই বিল্ডিং এর বিশাল গেট দিয়ে একটা চার চাকার গাড়ি বের হলো।বোঝাই যাচ্ছে বিল্ডিং এ সব বড়লোক মানুষেরাই থাকে।গরিব কিংবা মধ্যবিত্তদের পক্ষে থাকা সম্ভব না।প্রভা আর সৌমির যেন পা আর উঠতে চাইছে না।এসব বড়লোকদের অনুষ্ঠানে আসতে তার অভ্যস্ত নয়।ফলস্বরূপ প্রচন্ড অস্বস্তি হচ্ছে।উৎসবের কাছে অবশ্য এসব দুধ-ভাত।অফিসের বিভিন্ন ক্লায়েন্টের সাথে মিটিংয়ে,তাদের কোন অনুষ্ঠানে কিংবা পরিবারের কোন প্রোগ্রামই হোক এসব বড়লোকদের অনুষ্ঠানে আসা যাওয়া লেগেই থাকে।নির্ভীকেরও তেমন অভ্যাস নেই।ছোটবেলায় যাওয়া আসা হতো তবে সেটা বন্ধ হয়েছে আজ বহু বছর আগে।সে আসতে চায়নি কিন্তু পরে প্রভার জোড়াজুড়িতে রাজি হতে হয়েছে।আর তাছাড়া প্রেয়না এতো বার করে অনুরোধ করেছে না আসলে খারাপ দেখায়।ওদের কে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে পিছন থেকে উৎসব বলে উঠলো,
"আরে তোমরা চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছো কেন ভিতরে যাওয়ার ইচ্ছে নেই নাকি?ওহে পিপিলিকা!তাড়াতাড়ি ভিতরে চলো না হলে তোমার ফুলওয়ালা কেকের পিছটা কিন্তু মিস হয়ে যাবে।"
উৎসবের এমন কথা শুনে সৌমি ভ্রুঁ কুঁচকে বলল,
"কিসের আমার ফুলওয়ালা কেকের পিছ মিস হয়ে যাবে?"
"আরে তুমি তো ছোট মানুষ।আর ছোট বাচ্চারাই তো কেকের ফুলওয়ালা পিছের যেন কান্নাকাটি করে।তাই বলছিলাম যে তাড়াতাড়ি ভিতরে চলো না হলে অন্য কেউ যদি সেই পিছটা খেয়ে নেয় আর তুমি কান্নাকাটি শুরু করো তাহলে তো মুশকিল হয়ে পড়বে তাই না?"
"আমি খাইনা ফুলওয়ালা পিছ।এমনিতেও আমি ছোট বাচ্চা না।"
উৎসব দাঁত বের করে হেসে বলল,
"কি যে বলোনা?তুমি হলে এক ক্ষুদ্র পিপীলিকা।তোমাকে দেখলেই তো কেমন একটা বাচ্চা বাচ্চা ফিল আসে।বিশ্বাস কর যদি আমার একটা বউ থাকতো না তোমায় দত্তক নিয়ে নিতাম।"
"নিজের বাবা মাই ফেলে রেখে গেল আর আপনি দয়া দেখাবেন?না থাক এত দয়া সহ্য হবে না।"
সৌমির কন্ঠে প্রকাশ পেল তীব্র বেদনা।আর সেই জন্মদাতা-জন্মদাত্রীর প্রতি তাচ্ছিল্যতা।তারা জন্ম দিতে পেরেছে অথচ বাকি জীবনের খাওয়া পড়ার খরচ বহনের দায়িত্বটা নিতে পারেনি।উৎসব বুঝল পরিস্থিতি অন্য দিকে ঘুরে যাচ্ছে।এই নিয়ে কোন কথা বাড়ানো যাবে না।নির্ভীক ভেতরে যাওয়ার জন্য তাড়া দিতেই প্রভার কোনটা বেজে উঠলো।ব্যাগ থেকে তাড়াহুড়ো করে ফোনটা বের করতেই দেখল প্রেয়নার নাম্বার থেকে কল এসেছে।ফোনটা রিসিভ করে কানে ধরতেই ওপর পাশ থেকে প্রেয়নার উদগ্রীব কণ্ঠস্বর ভেসে এলো,
"কোথায় তোমরা?আরো কত দেরিতে আসবে?আমি তো অপেক্ষা করছি তোমাদের জন্য।"
"আমরা এই তো তোমার বাসার নিচে দাঁড়িয়ে আছি।"
"বাসার নিচে দাঁড়িয়ে আছো মানে?ভিতরে আসছো না কেন?কোন সমস্যা হয়েছে?"
প্রেয়নার উৎকণ্ঠিত কন্ঠের প্রশ্নে প্রভা নিজেই ঘাবড়ে গেল।সে তো স্বাভাবিকভাবেই বলেছিল কথাটা।
"আরে না সমস্যা হবে কেন?এখনই গাড়ি থেকে নামলাম ভিতরেই যাচ্ছি।"
"আচ্ছা ঠিক আছে।আমি নিচে আসছি তোমাদেরকে নিতে।তাড়াতাড়ি এসো।"
সবার ভেতরে পা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে আরো একবার বাধা পড়ল।গেটে নির্ভয়ের দেখা পেল।সেও বাইরে থেকেই বাড়ি ফিরছে।ওদের সবাইকে দেখে মুখে হাসি ফুটে উঠলো।কিন্তু একজনের উপস্থিতি টের না পেয়ে মনে প্রশ্ন জাগলো।এগিয়ে এসে জিজ্ঞেস করল,
"তিসান ভাই আসেনি?"
"না তিসান ভাই ওর পরিবারের সাথে আসবে।"
"আসবে তো?"
"হ্যাঁ আসবে বলেছে।"
নির্ভীকের উত্তরটা শুনে নির্ভয় শান্তি পেল।যখনই আসুক,যার সাথেই আসুক তিসান এলেই হলো।কেননা আজকে তিসানকে নির্ভয়ের ভীষণ প্রয়োজন।কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা যে আজকেই সাড়তে হবে।আর দেরি করতে চায় না সে।ওদের কথাবার্তার মাঝে বাড়ির বিশাল গেটটা আরো একবার খুলে গেল।এবার বাইরে থেকে একটা বড় কালো গাড়ি ভিতরে প্রবেশ করল। গাড়িটা একদম নতুন চকচক করছে।সামনে একটা রিবন বাধা।দেখেই বোঝা যাচ্ছে আজকেই নতুন কেনা হয়েছে।নির্ভয় প্রশ্নাত্মক গলায় বলল,
"কার আবার টাকা বেশি হলো যে গাড়ি থাকতেও আবার গাড়ি কিনছে?এরা যে এত টাকা কই থেকে পায় কে জানে?"
আর কথা বাড়ালো না কেউ।নির্ভয় ওদের নিয়ে ভিতরে প্রবেশ করতেই প্রেয়নার দেখা পেল।প্রেয়না নিজের বাবার সাথে কথাবার্তায় ব্যস্ত।মুখ মন্ডলে আনন্দ আর বিস্ময় ভাব দুটোই ফুটে উঠেছে।ওদের সবাইকে দেখতেই সেই হাসিটা আরো বিস্তৃত হলো।এগিয়ে এসে প্রভার গলা জড়িয়ে ধরলো দু হাতে।মেয়েটার এমন আন্তরিকতায় প্রভা নিজেই মাঝে মাঝে অবাক হয়।নিজেদের মাঝে ব্যবধানের কারণে প্রভা এতটা খোলা মনে প্রেয়নার সাথে মিশতে পারেনা।অথচ মেয়েটা সে সবকিছুর বিন্দুমাত্র তোয়াক্কা করে না।মুখে একটা দারুন হাসি নিয়ে এগিয়ে এসে সব সময় ওকে জড়িয়ে ধরে।প্রভারও বেশ লাগে।সবাই তো পার্থক্যটা চোখে আঙ্গুল দিয়ে ধরিয়ে দেয় একমাত্র প্রেয়নাকেই দেখলো যে খুব সুন্দর ভাবে সেই পার্থক্যের রেখাটা মুছে ফেলার চেষ্টা করে।
"এত দেরি করে এলে কেন?আমি সেই কখন থেকে তোমাদের সবার জন্য অপেক্ষা করছি জানো?ভয় পেয়ে গেছিলাম এটা ভেবে যে তোমরা হয়তো আসবেই না।"
প্রভা মৃদু হেসে বলল,
"আসবো না কেন?তুমি এতবার করে আমাদেরকে অনুরোধ করেছো আসার জন্য না এসে পারি।"
"তোমরা না এলে আমি আর কোনদিন তোমাদের সাথে কথা বলতাম না।"
প্রভার উপর থেকে দৃষ্টি সরিয়ে এবার বাকিদের দিকে তাকিয়ে বলল,
"তোমরা সবাই কেমন আছো?"
সবাই মাথা নাড়িয়ে ভালো আছে জানালো।উৎসব একটু দুই লাইন বাড়িয়ে বলল,
"বেশ ভালো আছি।আপনার আতিথেয়তা দেখে তো আরো ভালো লাগছে।আমি তো ভেবেছিলাম আপনি বোধহয় একাই আসবেন আমাদের বরণ করে উপরে নিয়ে যেতে কিন্তু আপনি তো দেখছি কাকুকে নিয়ে এসেছেন।"
"সত্যি বলতে আমি বাবা কে নিয়ে আসিনি। বাবা তো বাড়িতেই ছিলই না।এখনি এলো বাবা।"
প্রেয়না প্রবীর শিকদারকে ডাকলো।পরিচয় করে দিতেই তিনি বাকিদের সাথে টুকটাক কুশলাদি বিনিময় শেষে প্রেয়নার হাতে গাড়ির চাবিটা দিয়ে বলল,
"নাও মামণি আজ থেকে এটা তোমার।আজ থেকে আমার মামণি কে আর ভাই কিংবা বাবার গাড়ির জন্য অপেক্ষা করতে হবে না।তার নিজেরই একটা গাড়ি আছে।"
"আচ্ছা ঠিক আছে বাবা।এখন এসব কথা থাক।চলো উপরে যাই।"
"কেন?তুমি না গাড়িটা একটু চালিয়ে দেখতে চাইলে?যাও তোমার বন্ধুদেরকে নিয়ে একটু ঘুরে এসো আশেপাশ থেকে।"
প্রেয়না গাড়ির ব্যাপারটাকে এখানেই থামাতে চাইছে।বাকিদের আর্থিক অবস্থা সম্বন্ধে প্রেয়না খুব ভালোভাবেই অবগত আছে।সেখানে নিজেদের এত সচ্ছলতা বাকিদের সামনে প্রকাশ করায় তার বেশ অস্বস্তি হচ্ছে।নিজের কাছে নিজেরই খারাপ লাগছে। হয়তো ওরা ভাববে ওদেরকে দেখাতে চাইছে এসব। কিন্তু আসলে তো তেমন ব্যাপার না।নির্ভয় প্রশ্ন করলো,
"একটু আগে যে গাড়িটা এলো সেটা আপনাদের গাড়ি আংকেল?"
প্রবীর শিকদার হালকা হেসে বললেন,
"হ্যাঁ।আসলে আমার মামণি কয়েক মাস হলো ড্রাইভিং শিখেছে।অনেকদিন থেকে ভাবছিলাম আমি যে একটা গাড়ি গিফট করবো।একটা বিশেষ দিনের জন্য অপেক্ষা করছিলাম।আজকে আমার মামণির জন্মদিন তাই ভাবলাম গাড়িটা দিয়ে দেই।"
সৌমি প্রভার কানের কাছে ফিসফিস করে বলল,
"দেখেছিস প্রভা প্রিয়ু আপুরা অনেক বড়লোক।প্রিয়ু আপুর বাবা প্রিয় আপুকে অনেক ভালোবাসে।এসব উপহারের কাছে আমাদের এসব ছোটখাটো উপহার মানায় বলতো?"
সৌমির কথাটা উৎসবের কান অব্দি ঠিক পৌঁছালো। একটু ঝুঁকে এসে দুজনের কানের কাছে ফিসফিস করে বলল,
"আরে ধুর পিপীলিকা তুমি সামান্য একটা গাড়ি দেওয়াকে ভালোবাসা বলছো?আরে আমার বাপ মাও তো আমাকে না ভালোবেসেই এরকম উপহার দিয়ে দেয়।আমি চাইলেই দেয়।সেখানে এই কাকু তো তার মেয়েকে ভীষণ ভালোবাসে নাকি।এনার উচিৎ ছিল মেয়েকে গোটা বাংলাদেশ কিনে দেওয়া।তাহলে বুঝতাম যে মেয়েকে ভালোবাসো।"
উৎসবের কথা শুনে প্রভা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
"এটা ওনার মেয়ের প্রতি ওনার ভালোবাসা।আসলে কি বলুন তো আমাদেরকে ভালোবাসার মতো আমাদের বাবা-মা নেই তো সেজন্য আমরা বুঝব না।যাই হোক আপনি এত কথা না বলে হাতের বুকে টা প্রিয়ু আপুকে দিন।"
"ভালো কথা মনে করেছেন মাস্টান্নি।কিন্তু কথা হল কাকু মানে আপনার প্রিয়ু আপুর বাবার সামনে যদি এতগুলো ফুল ওনার হাতে দেই আর উনি কিছু উল্টোপাল্টা ভেবে নেন তখন?আর আপনি জানেনই আমি ভালো হয়ে গিয়েছি।তাই বলছি এটা বরং আপনি দিয়ে দিন।আপনি মেয়ে হয়ে মেয়েকে ফুল দিলে কিছু হবে না।কিন্তু যদি কোন ছেলে মানে আমি দিতে চাই বিশেষ করে তাহলে ঘটনা ঘটে যাবে।"
প্রভা বিরক্ত হলো।বিরক্তি ভরা কন্ঠে বলল,
"বেশি না বুঝে চুপচাপ দিয়ে দিন তো।আপনি এত কথা কি করে বলতে পারেন?"
প্রভার কথার প্রেক্ষিতে উৎসব কিছু একটা বলতে চাইলো।কিন্তু না এই কথাটা এখন বলা যাবেনা।বললে মাস্টান্নি কিছু আন্দাজ করে ফেলতে পারে।তাই চুপ করেই থাকাই ভালো।ফুলের তোড়াটা প্রেয়নার দিকে এগিয়ে দিয়ে ছোট্ট করে উইশ করলো।তারপর সবাই মিলে ওপরে গেল ওর সাথে।নির্ভয় অবশ্য নিজের ফ্ল্যাটে গেল।প্রেয়না সহ বাকিরা জোর করেও ওকে নিয়ে যেতে পারলো না।ওর নাকি কোন কাজ আছে সেটা করে তারপর আসবে।
_______________
প্রেয়নাদের ফ্ল্যাটে পা রাখতেই বেশ অনেকগুলো অপরিচিত মুখ দেখতে পেল সবাই।প্রেয়না নিজ থেকেই সবার সাথে ওদের পরিচয় করে দিল।তিসান বাদে ওর বাড়ির সবাই এসেছে।তিসান নাকি জানিয়েছে পড়ে একটা গুরুত্বপূর্ণ কাজ সেরে আসবে।তোফায়েল শিকদার আর মিনা বেগম নির্ভীক আর উৎসবকে চেনে।বাকি দুজনকে চেনে না।দুজনকেই বেশ স্নেহ করেন তারা।প্রভা খেয়াল করল তোফায়েল শিকদার ওর দিকে নিষ্পলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।মনে হচ্ছে তার কোন প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তিনি।কিন্তু কি প্রশ্ন হতে পারে আর এভাবে তাকিয়ে থাকার কারণই বা কি হতে পারে?প্রভার ভাবনার মাঝে তিনি নিজ থেকেই প্রশ্ন করলেন,
"তোমার বাড়ি কোথায় মা?"
প্রথম দফায় প্রভা বুঝতে পারলো না যে প্রশ্নটা প্রভাকে করলেন কিনা।প্রশ্নাত্মক দৃষ্টিকে তাকাতেই তিনি পুনরায় বললেন,
"তোমাকেই জিজ্ঞেস করেছি।"
নিশ্চিত হতেই প্রভা উত্তর দিল।আবারো প্রশ্ন করলেন,
"পরিবারে কে কে আছে?"
বরাবর প্রভা যে প্রশ্নে থমকায় এবারও সেই একই প্রশ্নে থমকালো।কেন যে সবাই বারবার এই একই প্রশ্ন করে কে জানে?সবার তো আর পরিবার থাকে না।না থাকে তো।সবারই পরিবার থাকে।কেউ না কেউ থেকে থাকেই শুধু হয়তো ওদের দুজনেরই নেই।
"আমার পরিবারের কেউ নেই।আমার বাবা-মা ছোটবেলাতেই মা/রা গেছে।"
তোফায়েল শিকদার আর কোন প্রশ্ন করলেন না।মনের মাঝে একটা ছোট্ট খচখচানি তার থেকেই গেল।প্রেয়না ওদেরকে নিয়ে সোজা নিজের ঘরে গেল।খুব সুন্দর পরিপাটি করে সাজানো ঘরটা।প্রত্যেকটা আসবাবপত্র দেখেই বোঝা যাচ্ছে কতটা দামি,চকচক করছে।পুরো ঘরটাই প্রেয়নার মন মত সাজানো হয়েছে।পুরো বাড়িটাতে অন্যরকম একটা আভিজাত্যের ছোঁয়া।বাইরে থেকে আসা মানুষগুলোর এই পরিবেশে মানিয়ে নিতে খুব কষ্ট হচ্ছে।প্রভা নিজের আর সৌমির দিকে একবার তাকালো।পড়নে খুবই সাদামাটা একটা জামা।খুব সাধারণ ভাবেই এসেছে।অন্যদিকে বাড়িতে উপস্থিত প্রত্যেকটা মানুষের পরনে যাক জমক পূর্ণ পোশাক।কেন যে এখানে আসতে গিয়েছিল কে জানে?
প্রেয়নার জন্য যে উপহারটা নিয়ে এসেছিল বাকিরা সেসব দিল।নির্ভীক নিজে বই পড়ুয়া মানুষ।তার মনে হয় বইয়ের থেকে সুন্দর উপহার আর কিছু হতে পারে না।তাই সে প্রেয়না কেও উপহার হিসেবে কয়েকটা বই দিল।প্রভা আর সৌমি কিছু প্রসাধনী উপহার হিসেবে দিল,সাথে একটা সুন্দর শাড়ি।এসব কিছু ওদের ব্যবসারই।শুধু শাড়িটা বাইরে থেকে কেনা।এই সামান্য উপহারেই প্রেয়না ভীষণ খুশি হল।এই প্রথম সে একটু অন্যরকম কিছু উপহার পেল।
অবশেষে সন্ধ্যা সাতটা নাগাদ তিসানের আগমন ঘটলো।প্রেয়না ওকে ফোন করতে করতে অতিষ্ঠ করে তুলেছে।বাকিদেরকে দেখে তিসান একটু শান্তি পেল। কিছু মানুষের সাথে অন্তত মন খুলে কথা বলা যাবে।তিসানকে দেখতে পেয়ে কে কতটা খুশি হলো তা বোঝা না গেলেও একটা মানুষের অভিব্যক্তি দেখে বোঝা গেল যে তিনি কতটা খুশি হয়েছেন।আর তিনি হলেন প্রেয়নার মা লিপি।বরাবরই তিসান তার ভীষণ পছন্দের।ওই পরিবারটাই লিপির ভীষণ পছন্দের।নিজের ছেলের কিছু আচরণ লিপির একদম অপছন্দ।কিন্তু তিসান সেদিক থেকে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম।মাঝে মাঝে তার নিজের মনে হয় তিনি হয়তো তার ছেলেকে মানুষ করতে পারেননি।তার ছেলের মাঝে প্রচুর অহংকার।অথচ এক সময় তারা ছিল নিঃস্ব।তখন অহংকার করার জন্য তিসানের কাছে অনেক কিছু ছিল কিন্তু সে কখনো তা করেনি।আর আজ কয়েকটা বছর হলো ওদের অবস্থার উন্নতি হওয়াতেই প্রয়াস বদলে গেছে।তিসান আসাতে তিনি যেন ব্যস্ত হয় পড়লেন।ব্যস্ত হয়ে পড়ল প্রেয়না।প্রেয়না জানে আজ যদি তিসানের বিন্দুমাত্র অসম্মান হয় তাহলে আর কোনদিনও এই বাড়িতে পা রাখবে না।সেজন্য খুব করে চেষ্টা করছে যেন তিসানের কোন অসম্মান না হয়।
তিসান আসার একটু পরেই নির্ভয় আর নাবিলাও এসেছে।তিসানের জন্য প্রেয়নার এতটা উদগ্রীবতা, উচ্ছ্বসতা,আনন্দ কেন যেন নির্ভয় কে ভীষণ কষ্ট দিল।একটা মানুষও আজ এখানে এসে মন খুলে আনন্দ করতে পারল না।সবার মাঝেই জড়তা কাজ করছে। কোন না কোন একটা জায়গায় সবাই অস্বস্তি অনুভব করছে।সবারই নিজেকে অপ্রয়োজনীয় মনে হচ্ছে এই পরিবেশে।
খাওয়া-দাওয়া শেষে সবার জোড়াজুড়ি তে তোফায়েল শিকদাররা ঠিক করলেন যে আজ তারা সেখানেই থাকবে।কিন্তু তিসানের পক্ষে আর সেখানে থাকা সম্ভব না।আশেপাশে কারো একজনের উপস্থিতিতে ইতোমধ্যেই তার বুকে যন্ত্রণা শুরু হয়েছে।তিসান যত দূরত্ব চাইছে ঘনিষ্ঠতা যেন তত বাড়ছে।এই ঘনিষ্ঠতা তিসান আর বাড়াতে চায় না।তাই সে ঠিক করলো বাকিদের সাথে চলে যাবে।ওদের সাথে নির্ভয়ও এলো।এক জায়গায় নাকি যাবে।সেখানে গিয়ে আড্ডা দিয়ে তারপর সবাই বাড়ি ফিরবে।ওদেরকে এগিয়ে দিতে প্রেয়না নিচে অবধি এলো।বিদায় নিয়ে সবাই চলে যেতে নিলে তিসান থেমে গেল।দু কদম পিছিয়ে প্রেয়নার মুখোমুখি দাঁড়ালো।
"কিছু বলবে?আবার ফিরে এলে যে?"
প্রেয়নার কণ্ঠ পেয়ে সবাই থামলো।পিছন ফিরে তাকিয়ে দেখল যে তিসান এখনো সেখানে ঠায় দাঁড়িয়ে আছে।তিসান ইতস্তত ভঙ্গিতে প্রেয়না কে বলল,
"সবাই তোমাকে কিছু না কিছু উপহার দিয়েছে শুধুমাত্র আমি বাদে।আসলে তোমায় উপহার দেওয়ার মতন সামর্থ্য আমার নেই।তোমার তো কোন কিছুর অভাব নেই সেখানে আমি কি দেবো তোমায় সেটা ঠিক করতে পারিনি।যা দিতে মন চাইছিলো তার সামর্থ্য নেই।"
প্রেয়না মৃদু হেসে বলল,
"কে বললো তুমি আমায় উপহার দাওনি?তুমি যে এখানে এসেছ এটাই আমার সব থেকে বড় উপহার।ভাইয়ার সাথে ফোনে কথা বলেছো,বাবার সাথে কথা বলেছো এসব কিছুই আমার জন্য উপহার তিসান ভাই।তুমি বললে না আমি সব পেয়েছি।কিছু জিনিস পেয়েও হারিয়েছিলাম,তুমি আজ তার ভেতর থেকে কিছু আমায় ফেরত দিয়েছো।এটা আমার কাছে অনেক বড় উপহার।তুমি শুধু আর হুট করে হারিয়ে যেও না তাহলেই হবে।"
"কিছু চাও না আমার থেকে তুমি?"
"যা চেয়েছিলাম তুমি তো সেটা দিয়েছো।আর কি চাইবো?"
তিসান হাসলো।পকেটে হাত দিলো কিছু একটা বের করার জন্য।টিস্যু দিয়ে মোড়ানো একটা কিছু বের করে প্রেয়নার দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল,
"বেকার মানুষ তো সব সময় সস্তার জিনিস খুঁজি।পকেট ফাঁকা ছিল,বাবার থেকে টাকা চেয়ে তোমার জন্য উপহার কিনতে মন চাইলো না।প্রথমে ভেবেছিলাম খালি হাতে আসবো।বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় গেটের কাছে বাগানবিলাসের গাছটার উপর নজর পড়লো।মনে আছে এই গাছটার কথা তোমার?তুমি নিজে এই ফুলের গাছটা লাগিয়েছিল আমাদের বাড়ির সামনে।সে অবশ্য অনেক বছর আগের কথা তোমার মনে নাও থাকতে পারে।"
"না আমার মনে আছে।"
"বাহ!ভালো কথা।তুমি তো চলে এসেছো বহু বছর হলো।কিন্তু অবহেলায় সেই বাগানবিলাসের গাছটা আমি ম/রতে দেইনি।আমার এই অনিয়মে ভরা জীবনে আমি রোজ নিয়ম করে সেই গাছটায় পানি দেই,যত্ন করি,আগাছা পরিষ্কার করি।সেখান থেকেই একটা ফুল ছিড়ে এনেছি তোমার জন্য।যদিও মনে হয় নষ্ট হয়ে গেছে।দেখো তো একবার খুলে?"
টিস্যুর ভাঁজটা খুলে দেখলো প্রেয়না।পাপড়িগুলো ঝরে গেছে।কিন্তু তবু তার মুখে হাসি।ছোট বেলায় এই গাছটা তার ভালোবাসা ছিল,ভীষণ শখের ছিল এই গাছটা। এই ফুলটাও ছিল তার ভীষণ প্রিয়।যদিও ফুলটা তার উজ্জ্বলতা হারিয়ে ফেলেছে এতক্ষণে।তবু প্রেয়নার কাছে ভীষণ সুন্দর দেখালো।
"সেদিন যখন তোমাদের বাড়িতে গিয়ে এই গাছটা দেখেছিলাম তখনই আমার ভীষণ ভালো লেগেছিলো।আমি সত্যিই ভাবিনি যে আমি চলে আসার পরে কোনো একজন যত্ন করে সেই গাছটাকে বাঁচিয়ে রাখবে।"
"প্রথমে আমিও নিতাম না যত্ন।কিন্তু পরে যখন দেখলাম ফুলের গাছটাও আমায় ছেড়ে চলে যাচ্ছে তখন তার যত্ন নেওয়া শুরু করলাম।অনেক কিছু হারিয়েছি জীবনে ভাবলাম ফুলের গাছটাকে না হয় আর হারাতে দেই না।তাই যত্ন নিলাম।জানি খুবই বাজে একটা উপহার দিয়েছি তোমায়।এটাকে অবশ্য উপহার বলা চলে কিনা তাও আমার জানা নেই।তবে আমার সমর্থ এতোটুকুই।তোমাকে একটা তাজা ফুল দেওয়ার মতন সামর্থ্যও আমার নেই।"
"যা দিয়েছো তুমি সেটা আমাকে কেউ দিতে পারেনি।আমার শৈশবের একটা খুব সুন্দর স্মৃতি মনে করিয়ে দিলে।আমার প্রিয় গাছটাকে নিঃস্বার্থভাবে এতগুলো বছর ধরে যত্ন করে এসেছো।আমি নিঃসন্দেহে বলতে পারি এটাই আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ উপহার।"
নির্ভয় একে একে নিজের সব প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাচ্ছে।এখন তো তার মনে হচ্ছে যে তার মনে আর এই অনুভূতিকে কোনক্রমেই বাড়তে দেওয়া যাবে না। কেননা ভালোবাসাটা হয়তো একপাক্ষিক না,দুই পক্ষ থেকেই আছে।তিসানের মনে প্রেয়না কে নিয়ে যে অনুভূতি আছে সে বিষয়ে বলতে গেলে নির্ভয় অনেকটাই নিশ্চিত।শুধু সন্দেহ ছিল যে প্রেয়নাও তিসানকে ভালোবাসে কিনা?তবে ধীরে ধীরে তার সেই সন্দেহটাও আর থাকছে না।
কথাগুলো ভাবতেই নির্ভয়ের কেমন যেন এক শূন্যতা অনুভব হলো।মনে হলো খুব প্রিয় কিছু সে খুব শীঘ্রই হারাতে চলেছে,হারিয়ে যাবে তার প্রথম ভালোবাসা, তার কিছু স্বপ্ন।হারাবে তার কিছু শখ।হারাতে চলেছে তার প্রিয়তমা কে।