বেশ কিছুদিন পর আজ আবারও প্রভার অসহ্য রকমের মাথা যন্ত্রণা করছে।দুবার বমিও করেছে।এই যন্ত্রণা যেন আর সহ্য করা যাচ্ছে না।বিছানায় শুয়ে প্রভা কাতরাচ্ছে।তৃতীয় বারের মতন যখন বমি করে এলো তখন প্রভার শরীর একেবারে নাজেহাল হয়ে পড়লো।কোন যেন জ্ঞান নেই।সৌমি একবার ঘড়িতে সময় টা দেখলো।রাত এগারোটা পার হয়ে গিয়েছে।প্রভার হাত পা ঠান্ডা হয়ে আসছে।সৌমি ভীষণ ভয় পেল।এত কঠিন পরিস্থিতি সৌমি একা সামাল দিতে অভ্যস্ত নয়।যেখানে প্রভাই সৌমির দায়িত্ব নেয় সবসময় সেখানে সৌমি আজ এমন একটা পরিস্থিতির মোকাবেলা করবে কি করে?মাথা ঘুরছে তার।বাড়িওয়ালাও আজ নেই যে তার কাছে সাহায্য চাইবে।এত রাতে প্রভাকে নিয়ে একা হাসপাতালেও যেতে পারবে না।ওদের বাড়ি থেকে হাসপাতালের দূরত্ব বেশ অনেকটা।সৌমি গ্লাস থেকে একটু পানি নিয়ে প্রভার মুখে ছিঁটে দিল।এখন আর গোঙানির আওয়াজও পাওয়া যাচ্ছে না।সৌমির এখন নিজেকে পাগল পাগল লাগছে।চিন্তায়,ভয়ে সে কেঁদে ফেলল।ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতেই হবে প্রভাকে আর কোন উপায় নেই।দরজা খুলে নিচে গেল একটা গাড়ি খোঁজার উদ্দেশ্যে।এই রাতের বেলায় যে এই রাস্তায় কোন গাড়ি পাওয়া যাবে না সেটা সৌমি খুব ভালো করেই জানে।বেশিক্ষণ নিচে গাড়ির জন্য অপেক্ষাও করতে পারলো না কিংবা সামনে একটু এগিয়েও যেতে পারল না।মোড়ে বাইক নিয়ে বেশ কয়েকটা ছেলেকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখল।দেখেই বোঝা যাচ্ছে যে বখাটে।সৌমির আর সাহস হলো না এগিয়ে যাওয়ার।বেশিক্ষণ নিচে দাঁড়িয়ে না থেকে আবার উপরে চলে এসে ফ্ল্যাটের দরজাটা বন্ধ করে দিল।প্রভাকে একটু নড়তে দেখে তড়িঘড়ি করে সেদিকে এগিয়ে গেল।হাতের তালু ঘষতে ঘষতে চিন্তিত কন্ঠে প্রভাকে ডাকলো,
"এই প্রভা ওঠনা।তুই তো জানিস বল আমি একটুতেই ভয় পেয়ে যাই।আমাকে এত ভয় দেখাচ্ছিস কেন?আমি কি করি বলতো?"
প্রভা ঠোঁট নেড়ে সৌমি কে কিছু বলতে চাইছে কিন্তু সৌমির কান অব্দি সেই কথা যাচ্ছে না।কানটা প্রভার মুখের কাছে এগিয়ে দিল।প্রভা দুর্বল কন্ঠে অস্পষ্ট সুরে বলল,
"নি...নির্ভীক।"
সৌমি বুঝল যে প্রভা নির্ভীক এর থেকে সাহায্য চাওয়ার কথা বলছে।এই কথাটা তো সৌমির মাথায় আগে আসা উচিত ছিল।কোনরূপ কোন সময় ব্যয় না করে প্রভার ফোনটা হাতে নিয়ে নির্ভীকের নাম্বার খুঁজে বের করে ডায়াল করল।প্রথমবার রিং হয়ে গেল কিন্তু নির্ভীক ফোনটা তুললো না।সৌমি পুনরায় ডায়াল করল।এবারে নির্ভীক রিসিভ করল।
"হ্যাঁ অনুপ্রভা বলুন?কিছু হয়েছে?এত রাতে ফোন করলেন যে?"
নির্ভীক এর প্রশ্নের প্রেক্ষিতেও প্রভার কণ্ঠস্বর পেল না বিনিময় পেল সৌমির কান্নারত কণ্ঠস্বর।নির্ভীকের নিজের শরীরটাও ভীষণ খারাপ।বিকাল থেকে অপ্রত্যাশিতভাবে শরীরে জ্বর বাসা বেধেছে।এখনো তার গায়ে তাপমাত্রা ১০২ এর কাছাকাছি।ওষুধ খেয়েছে তাও কমছে না।এরই মাঝে প্রভার নাম্বারে অন্য কারো কান্নার কন্ঠ পেয়ে নির্ভীক চমকানোর সাথে ভয় ও পেল।কন্ঠটা যে সৌমির সেটা ঠিক চিনতে পারল না।
"কে বলছেন?অনুপ্রভা কোথায়?"
সৌমি ক্রন্দনরত কন্ঠে বলল,
"ভাইয়া আমি সৌমি।একবার একটু আমাদের ফ্ল্যাটে আসতে পারবেন?প্রভা খুব অসুস্থ।আমি ওকে নিয়ে একা একা কি করব কিছুই বুঝতে পারছিনা।"
কথাটা শুনতেই নির্ভীক তড়িৎ গতিতে শোয়া থেকে উঠে বসল।
"কি হয়েছে?"
"মাথাব্যথায় ছটফট করছিল।তিনবার বমি করেছে এখন একদম বিছানায় পড়ে গেছে শরীরটা।হাত পা ঠান্ডা হয়ে আসছে।ডাকছি কিন্তু কোন সাড়াশব্দ পাচ্ছিনা তেমন।কি করবো কিচ্ছু বুঝে উঠতে পারছি না।"
নির্ভীক আগে পিছে কোন কিছু না ভেবে তড়িৎ গতিতে বিছানা থেকে নামতে নামতে সৌমিকে উদ্দেশ্য করে বলল,
"ওর হাত পায়ের তালু ঘষতে থাকুন।আমি বিশ মিনিটের মধ্যে আসছি।"
নির্ভীকের আসতে বিশ মিনিটের একটু বেশি সময় লাগলো।এই সময়টুকু যেন সৌমির কাছে কয়েক বছরের মতন লাগলো,কাটতেই চাইছে না।কলিং বেল বাজাতেই সৌমি দৌড়ে গিয়ে দরজা খুলে দিল।নির্ভীক আগে পিছে কোন কিছু না দেখে সোজা ভেতরে চলে এলো।প্রভার শরীরটা তখন নিস্তেজ হয়ে বিছানায় পড়ে আছে।মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে কয়েকবার নাম ধরে ওকে ডাকল।
প্রভা জ্ঞান হারায়নি তবে কথা বলার শক্তি হারিয়েছে।চোখ মেলে তাকালে তার পুরো পৃথিবী ঘুরে উঠছে যেন।
"অনুপ্রভা!প্লিজ চোখ খুলুন।দেখুন আমি এসে গেছি আর কিচ্ছু হবে না আপনার।অনুপ্রভা!"
প্রভা হালকা একটু নড়লো কিন্তু কোন কথা বলতে পারলো না।না আর সময় নষ্ট করা যাবে না।নির্ভীক সৌমিকে উদ্দেশ্য করে বলল,
"আমি সিএনজি নিয়ে এসেছি।ওনাকে নিয়ে নিচে নামছি।আপনি দরজা লক করে তাড়াতাড়ি নিচে আসুন।"
প্রভা কে দুহাতে কোলে তুলে নিয়ে নির্ভীক নিচে গেল।সৌমি তাড়াহুড়ো করে ঘরে তালা লাগিয়ে নিচে চলে গেল।প্রভার শরীরের সমস্ত ভার নির্ভীক নিজের শরীরের উপরে নিয়েছে।মাথাটা বুকের সাথে আগলে ধরেছে।ড্রাইভার কোন হাসপাতালে যাবে সেটা জিজ্ঞেস করলে নির্ভীক একটা ভালো প্রাইভেট হসপিটাল এর নাম বললো।কিন্তু সৌমি সেখানে নিয়ে যেতে আপত্তি করলো।ওদের বাড়ি থেকে সবথেকে কাছাকাছি যে সরকারি হাসপাতাল সেখানে নিয়ে যেতে বলল।কেননা যত দেরি হবে প্রভার শারীরিক অবস্থার ততই অবনতি ঘটতে পারে।নির্ভীক সৌমির কথাতে রাজি হল।কেননা আগে প্রাথমিক চিকিৎসা টা দরকার।
_______________
আপাতত প্রভাকে স্যালাইন দিয়ে রাখা হয়েছে।ডাক্তার বলেছে চিন্তার কোন বিষয় নেই।গ্যাস্ট্রিকের থেকে নাকি বমি হয়েছে।আর অতিরিক্ত চিন্তার কারণে মাথাব্যথা হতে পারে।কিছু ওষুধ লিখে দিয়েছে নির্ভীক সেগুলো নিয়ে এলো।ওষুধ কেনার পর নির্ভীক এর পকেটে টাকা নেই বললেই চলে।কিন্তু এখনো তো কিছু টাকার প্রয়োজন ছিল।কয়দিন হাসপাতালে রাখতে হবে প্রভাকে,তারপর বাড়ি নিয়ে যাওয়ার সময় টাকা লাগবে এর মাঝে ওষুধ পত্র,খাওয়া দাওয়া সবকিছু আছে।হাতে যা টাকা ছিল প্রথমবার ওষুধ কিনতেই চলে গেছে।বাড়িতে তার জমানো কিছু টাকা আছে।যদি এখন সেটা আনতে যায় তাহলে যাতায়াতেই অতটুকু টাকা শেষ হয়ে যাবে।অনেক ভাবনা চিন্তা করে নির্ভীক শেষে উৎসবের নাম্বারে ডায়াল করল।একবার রিং হতেই উৎসব ফোনটা রিসিভ করলো।মনে হলো ফোন হাতে ধরে বসে ছিল।উৎসবের সাবলীল কণ্ঠস্বর ভেসে এলো,
"হ ভাই ক।"
"তুই কোথায়?"
"বিছানার উপরে আর কম্বলের তলে।"
নির্ভীক বিরক্তি তে নাকমুখ কোঁচকালো।পুনরায় প্রশ্ন করলো,
"ঘুমিয়ে পড়েছিলি কি?"
"না রে ভাই কে/লিয়ে আছি।"
নির্ভীক এবার ধমক দিয়ে বলে উঠলো,
"একটা চ/ড় খাবি।ভালোভাবে কথা বলতে পারিস না?"
"ভাই বিশ্বাস কর আমি যেভাবে এখন বিছানার উপর হাত পা ছেড়ে দিয়ে পড়ে আছি তাতে এই শব্দটা ছাড়া আর কোন শব্দ আমার উপযুক্ত মনে হলো না।"
নির্ভীক হাল ছাড়লো।এই ছেলের সাথে পেরে ওঠা সম্ভব না।
"একটা ঠিকানা পাঠাচ্ছি,একটু আসতে পারবি এখন?"
"যদি কাজী অফিসের ঠিকানা পাঠাস তাহলে আসবো।এই রাতের বেলা বিয়ে ছাড়া কোন কাজেই কম্বলের তলে থেকে উঠে যাইতে পারব না।"
"মজা করিস না উৎসব।সিরিয়াসলি বল আসতে পারবি কিনা এখন?"
নির্ভীক এর কন্ঠের গুরুতর ভাব শোনার পর উৎসব বুঝতে পারলো যে কোন জরুরি প্রয়োজনে নির্ভীক ওকে ডাকছে।আর যেহেতু নির্ভীক ডেকেছে সেটা জরুরি হোক কিংবা এমনি হোক উৎসব তো যাবেই।
"আচ্ছা ঠিক আছে পাঠা আমি যাচ্ছি।কিন্তু সমস্যাটা কি সেটা বল?"
"তুই আগে আয় তারপর বলছি।আর শোন একটু কিছু টাকা ধার দরকার।দিতে পারবি?"
"ক্যাশ,কার্ড না চেক কোনটা নিয়ে যাব?"
"ক্যাশ নিয়ে আয়।এখনি প্রয়োজন।"
"আনুমানিক কত লাগবে?আসলে জিজ্ঞেস করলাম কারণ যদি কম পড়ে।তার থেকে ভালো আমি একটু বেশি করেই নিয়ে যাই।"
"৫০০০ দিলেই হবে।"
"মাত্র ৫০০০ টাকা দিয়ে কি হবে?নিবি যখন বেশি করে নে।"
"তুই এই টাকাটা নিয়ে চুপচাপ তাড়াতাড়ি আয় তো।"
উৎসব আর কথা বাড়ালো না।নির্ভীক হাতে গোনা কয়েকবার উৎসবের থেকে টাকা ধার নিয়েছে।খুব বেশি বিপদে না পড়লে উৎসবের থেকে চায় না।বেশি কথা বললে যদি নির্ভীক আবার নিতে অস্বীকার করে সেজন্য উৎসব আর কিছু বলল না।নির্ভীক হাসপাতালের ঠিকানাটা মেসেজ করে পাঠাতেই ঠিকানাটা দেখে উৎসব পুনরায় আবার নির্ভীকের নাম্বারে কল দিল।নির্ভীক ফোনটা রিসিভ করতেই চিন্তিত কন্ঠে প্রশ্ন ছুড়লো,
"এত রাতে তুই হাসপাতালে কি করছিস?ঠিক আছিস তুই?কিছু হয়েছে?আমায় বলবি না তাই না?তুই মিথ্যে বলবি আমায় আমি জানি।তুই ঠিক নেই একদম।"
উৎসবকে এক নাগাড়ে প্রশ্নগুলো করতে দেখে নির্ভীক ওকে শান্ত হতে বলে বলল,
"আমি ঠিক আছি কিছু হয়নি আমার।"
"ঠিক থাকলে কেউ হাসপাতালে থাকে?আমায় কি ব/ল/দ পাইছিস?আমার মাথার মধ্যে কি কোন বা/ল নাই।কি চ্যা/ট বুঝাইতে আসো আমারে?সত্যি করে বলবি কি হয়েছে তোর?খালাম্মা কিছু করছে নাকি আবার? আজ যদি আমি হাসপাতালে গিয়ে দেখেছি যে তোর কিছু হয়েছে বিশ্বাস কর ওই বুড়ির গলা টিপে মা/র/বো আমি।"
"পা/গল হলি উৎসব?আমার কথাটা আগে বোঝার চেষ্টা কর।আমি বলছি আমি ঠিক আছি।আমার কিচ্ছু হয়নি।আর হাসপাতালে এসেছি অনুপ্রভার জন্য।"
উৎসব ভ্রুুঁ কোঁচকাল।প্রশ্নাত্মক গলায় জিজ্ঞেস করল,
"মাস্টান্নির আবার কি হয়েছে?"
"আর বলিস না মাথা ব্যথা,বমি করে নাজেহাল অবস্থা। হাত পা ঠান্ডা হয়ে আসছিল।পরে সৌমি আমায় ফোন দিয়ে জানালো একা একা হাসপাতালে আনতে পারছিল না অনুপ্রভাকে।এখন ওর জন্য ওষুধ কিনেছি আমি কিন্তু আরো কিছু যদি কিনতে হয়?হাসপাতালের বিলও দিতে হবে।আমার কাছে টাকা নেই সেজন্য তোকে আসতে বলছি।"
"এখন ঠিক আছে মাস্টান্নি?"
"হ্যাঁ এখন ঠিক আছে।ঘুমোচ্ছে।"
"আচ্ছা ঠিক আছে আমি আসছি।"
উৎসব তাড়াতাড়ি বিছানা থেকে নেমে গায়ের জামা কাপড় বদলে বাইকের চাবিটা নিয়ে বেরিয়ে পড়ল।নির্ভীক এর অসুস্থতার কথা চিন্তা করে যতটা অস্থির হয়ে পড়েছিল প্রভার অসুস্থতার কথাটা শুনেও ঠিক ততটাই চিন্তা হচ্ছে।শুধু সম্পূর্ণটা প্রকাশ করতে পারলো না নির্ভীকের কাছে।কেমন আছে প্রভা,কি সমস্যা,কোত্থেকে সমস্যা হলো সবকিছু উৎসবকে ভীষণ ভাবাচ্ছে।অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে চিন্তায় ঘামছে উৎসব।আজকাল কেন যেন প্রভার কথা উৎসবকে ভীষণ ভাবায়।চিন্তায় ফেলে দেয়।ইচ্ছে করে প্রভার কষ্টগুলো দূর করার,প্রভার পাশে থাকার,প্রভার জন্য কিছু করার ইচ্ছে জাগে মনের মাঝে।কিন্তু কেন যেন করে উঠতে পারে না।তার সব থেকে বড় কারণ প্রভা চায় না।প্রভাতো চায় না উৎসবকে।উৎসব সেজন্য আগবাড়িয়ে কিছু করতে পারে না ওর জন্য।ভাবনায় আজকাল হঠাৎ প্রভা চলে আসে।দিন দিন মস্তিষ্কে প্রভার বিচরণ বাড়ছে।কিন্তু যখন উৎসবের মনে হয় প্রভা ওকে পছন্দ করে না,বিশ্বাস করে উঠতে পারেনা তখনই মনটা ভেঙে যায়।খুব কষ্ট হয়।প্রভাকে বোঝাতে ইচ্ছে করে যে বাইরে থেকে নিজেকে যেমনটা দেখায় ভেতর থেকে ও তেমন না।ও খুব ভালো একজন মানুষ। মনটাও খুব ভালো।ভালোবাসা কি সেটা উৎসব জানে। ওর কাছে ভালোবাসা ছেলে খেলার বিষয় না।আজ অব্দি কাউকে মন থেকে ভালোবাসার মতন পায়নি কিংবা কেউ উৎসবকে ভালোবাসেনি।সেজন্য উৎসবও কাউকে তার কাছে ভালোবাসার অর্থ কি সেটা বোঝাতে পারেনি।কিন্তু যেদিন কেউ উৎসব কে ভালোবাসবে কিংবা উৎসব কাউকে মন থেকে ভালোবাসবে সেদিন সবাই বুঝবে যে উৎসব মির্জার কাছে ভালোবাসার অর্থ ঠিক কতটা গভীর।
____________
তীব্র জ্বরে নির্ভীকের গা পু/ড়ে যাচ্ছে।শরীরটা ভীষণ ক্লান্ত লাগছে।চোখ দিয়ে মনে হচ্ছে আ/গুন বের হচ্ছে।দাঁড়িয়ে থাকতে পারছেনা।বসার জায়গাও নেই।দেয়ালের সাথে হেলান দিয়ে দাঁড়ালো।নির্ভীক কে খুঁজতে খুঁজতে সৌমি বেরিয়ে এলো ওয়ার্ড থেকে।নির্ভীক কে দেখে বুঝলো ওর শরীরটাও খুব একটা ভালো না।এগিয়ে এসে চিন্তিত কন্ঠে প্রশ্ন করল,
"আপনার কি শরীর খারাপ লাগছে?"
সৌমির প্রশ্নটা শুনে নির্ভীক যথাসম্ভব হাসার চেষ্টা করে উত্তরে বলল,
"না আমি ঠিক আছি।আপনি অনুপ্রভার কাছে যান।"
"আপনাকে দেখে মনে হচ্ছে আপনি অসুস্থ।ভিতরে চলুন।একটা টুল আছে ওখানে বসবেন।"
"আমার সমস্যা হবে না আপনি গিয়ে বসুন।"
"আমি বেডের উপরে বসছি আপনি চলুন গিয়ে বসুন।প্লিজ চলুন।এখন আপনিও যদি অসুস্থ হয়ে যান আমি একা পা/গল হয়ে যাব।"
সৌমির জোড়াজুড়িতে নির্ভীক শেষে ভিতরে গেল।অনেক রাত হয়ে পড়ায় সব রোগী প্রায় ঘুমিয়ে পড়েছে।প্রভার বেডের পাশে একটা টুল আছে।নির্ভীক সেটাতে বসল।আর সৌমি অপর পাশে প্রভার মাথার কাছে অল্প একটু জায়গা অবশিষ্ট আছে সেখানে বসে পড়লো দেওয়ালে হেলান দিয়ে।সৌমির চোখ দুটো লেগে গেল। চোখ বন্ধ করে হেলান দিয়ে বসে থাকলো সে।নির্ভীক প্রভার মুখের দিকে তাকিয়ে আছে।স্নিগ্ধ লাগছে মুখটা দেখতে।ফর্সা মুখটা কেমন ফ্যাকাশে বর্ণ ধারণ করেছে। মনে হচ্ছে যেন শরীরে র/ক্ত নেই।চোখের নিচে কালি জমেছে।চুলগুলো এলোমেলো হয়ে পিঠের নিচে পড়ে আছে।শুষ্ক ঠোঁট দুটো কালচে রং ধারণ করেছে।মনে হচ্ছে কতদিন হলো নিজের চেহারার কোন যত্ন নেয় না।কিন্তু সেই অযত্নে অবহেলায় সৌন্দর্য হারিয়ে ফেলা মুখটাতে নির্ভীক সৌন্দর্য খুঁজে পেল।প্রভার মুখশ্রীর সেই ছোট্ট ছোট্ট বিষয়গুলো নির্ভীক এর এখন বর্ণনা করতে ইচ্ছে করছে।ঠোঁটের কোণে একটা ছোট্ট কালো তিল,বন্ধ চোখের পাপড়ি গুলো,বাম গালে একটা ছোট্ট ব্রনের দাগ,কপালে আলগোছে পড়ে থাকা কিছু ছোট ছোট চুল প্রতিটা বিষয় নির্ভীকের নিখুঁতভাবে বর্ণনা করতে ইচ্ছে করছে।মনে হচ্ছে হাতের সামনে রং তুলি পেলে সে আজ হয়তো চিত্র শিল্পী হয়ে উঠত।এত সুন্দর সৃষ্টি শুধুমাত্র বর্ণনা করে সে থামতো না বরং সেটা ক্যানভাসে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করত।নির্ভীক আলগোছে প্রভার কপালে থাকা চুলগুলো কানের পিঠে গুঁজে দিল।ব্রণের দাগটার উপর একবার হাত বোলালো।তার থেকে একটু নিচে নেমে ঠোঁটের কোণের তিলটার উপর আলতো করে একবার হাত ছোঁয়ালো।কি বাজে ভাবে নির্ভীক চৌধুরী প্রেমে পড়ে গেল।প্রেমিকাকে দেখে এখন তো আর শরীর খারাপটাও অনুভূত হচ্ছে না।হৃদয়ে একটা শীতল স্রোত বয়ে গেল নির্ভীকের।এই মেয়েটার দিকে এভাবে হাজার বছর নিস্পলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা সম্ভব।একটুও বিরক্ত হবে না নির্ভীক।তবে হ্যাঁ এই মেয়েটাকে আরো একটু কাছে থেকে পেতে চায়।আরো একটু গভীরভাবে নিজের স্পর্শ একে দিতে চায়।প্রভার প্রতিটা রন্ধে রন্ধ্রে নির্ভীক নিজের একচ্ছত্র আধিপত্য চায় বৈধভাবে।ঐ তিলটুকু ছোঁয়ার অধিকার সারা জীবনের জন্য চায়।কানের পিঠে শুধু চুল না ফুল গুঁজে দেওয়ার অধিকারও চায়।গালের পুরনো ব্রণের দাগটার ওপর শুধু হাত বোলাতে চায় না,নিজের ঠোঁটের উষ্ণ স্পর্শ দিতে চায়।এই ছোট্ট মুখশ্রীটা দুই হাতের আজলায় নিতে চায়,বুকের সাথে চেপে ধরতে চায়।ভালোবাসতে চায় নির্ভীক।ভীষণ রকম ভালোবাসতে চায় এই মেয়েটাকে।