ভ্রমর কইও গিয়া

পর্ব - ২৬

🟢

প্রায় দশ মিনিট হলো জ্যামের কারণে গাড়ির মাঝে একটা জায়গাতেই আটকে আছে প্রেয়না।গন্তব্য ভার্সিটি।আজ অবশ্য সাথে তার বাবাও আছে।বেশ কিছুদিন পর তার ইচ্ছে হয়েছে মেয়েকে আজ নিজে ভার্সিটিতে পৌঁছে দেওয়ার।বাইরে আজ ভীষণ গরম।বসে থাকতে থাকতে প্রেয়নার যখন বিরক্ত ধরে গেল তখন জানালার কাঁচটা নামিয়ে বাইরের দিকে দৃষ্টি রাখলো।আশেপাশে কোথায় কি আছে,কে কি করছে সেটা দেখে অন্তত কিছুটা সময় পার করা যাবে সেই আশাতেই জানালার কাঁচটা নামালো।কিন্তু আর বেশিক্ষণ তাকে অপেক্ষা করতে হলো না।জ্যাম ছেড়ে যাওয়ায় প্রবীর শিকদার মেয়েকে জানালার কাঁচটা তুলতে বললেন।প্রেয়নাও আর আপত্তি করল না।হুট করে প্রেয়নার নজর পড়লো গাড়ির জন্য অপেক্ষমান এক তরুণীর উপর।প্রেয়না এই মেয়েটাকে চেনে।হ্যাঁ খুব ভালো করে চেনে এবং বেশ ভালো সম্পর্ক।প্রভা দাঁড়িয়ে আছে।প্রবীর শিকদার গাড়ি স্টার্ট দিলে পিছন থেকে প্রেয়না চেঁচিয়ে উঠে গাড়িটা এক পাশে সাইড করার জন্য বলল।হঠাৎ মেয়ের চেঁচানোতে তিনি চমকে উঠলেন কিন্তু তারপরেও মেয়ের কথা অনুযায়ী গাড়িটা এক পাশে দাঁড় করালেন।

"কি হয়েছে মামণি?হঠাৎ করে এভাবে থামতে বললে কেন?"

"বাবা দেখো আমার একটা ফ্রেন্ড দাঁড়িয়ে আছে।আমার ভার্সিটির আগে ওর কলেজ পড়বে।ওকে আমাদের সাথে নিয়ে যাই?এই গরমের মাঝে বাসে করে যেতে ওর কষ্ট হবে।"

যেহেতু মেয়ে নিজ মুখে আবদার করেছে তাই প্রবীর শিকদার আর তার মেয়ের আবদারটা ফেলতে চাইলেন না।আর এমনিতেও ভুল কিছু বলেনি।এই গরমের মাঝে বাসে যাতায়াত ভীষণ কষ্টের।মাথা নাড়িয়ে অনুমতি দিলেন।প্রেয়না চটজলদি গাড়ি থেকে নেমে কয়েক কদম সামনে এগিয়ে গেল প্রভার কাছে।প্রভার কাঁধে হাত রাখতেই মৃদু চমকে উঠে পিছনে ফিরে তাকিয়ে প্রেয়নাকে দেখতে পেয়ে ওর মুখে হাসি ফুটে উঠল।

"আরে তুমি এখানে?"

প্রভার প্রশ্নের প্রেক্ষিতে প্রেয়না হাস্যজ্জ্বল কণ্ঠে বলল,

"আমি তো ভার্সিটি যাচ্ছিলাম।তোমাকে দেখলাম তাই কথা বলতে এলাম।"

"ও আমিও কলেজে যাচ্ছি।নির্ভয় ভাইয়া কেমন আছে এখন?"

"চলো সবটা যেতে যেতে বলছি।"

কথাটা বলে প্রেয়না প্রভাকে ওর সাথে নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে হাত ধরতেই প্রভা প্রশ্নাত্মক গলায় জিজ্ঞেস করল,

"কোথায় যাব?"

"আমার সাথে যাবে।তোমার কলেজ তো আমার ভার্সিটির আগেই পড়ে,তোমাকে নামিয়ে দিয়ে তারপর আমি যাব কেমন?"

প্রেয়নার কথায় আপত্তি জানিয়ে প্রভা বলে উঠলো,

"আরে না না তার কোন দরকার হবে না।আমি তো প্রতিদিন এভাবে যাতায়াত করি আমার কোন অসুবিধা হবে না।তুমি চলে যাও।"

"আমিতো জানি তোমার কোন অসুবিধা হবে না কিন্তু তুমি আমার সাথে গেলে আমার ভালো লাগব।এতটুকু রাস্তা একটু গল্প করতে করতে যাব।প্লিজ আর না করো না।"

অনেক জোড়াজুড়ির পর অবশেষে প্রভা বাধ্য হয়ে রাজি হলো যেত।কেননা ও এটা খুব ভালো করে বুঝতে পেরেছে যে এই মেয়ে না গেলে ওকে ছাড়বে না।আর এমনিতেও মেয়েটা ভীষণ ভালো,খুব সাদামাটা মনের। ওকে কষ্ট দেওয়ার দরকার নেই।একটা দিনেরই তো ব্যাপার যাওয়াই যায়।গাড়িতে উঠে প্রবীর শিকদারকে দেখে প্রভা একটু থতমত খেল।মৃদু ভীত কন্ঠে সালাম দিল।প্রবীর শিকদার হাসিমুখে সালাম এর উত্তর দিয়ে জিজ্ঞেস করলো কেমন আছে।প্রভা উত্তর দিয়ে পাল্টা প্রশ্ন করল।তার সাথে আর কোন কথা হলো না।কিন্তু সারা রাস্তা প্রেয়নার সাথে ভীষণ গল্প হলো।তাদের গল্পের কাছে এই পথটা ভীষণ ছোট।সামান্য টুকু পথে কি আর এত গল্প শেষ হয়?পুরো রাস্তা যাওয়ার মাঝে প্রভা একটা জিনিস খেয়াল করল প্রবীর শিকদার বারবার সামনের আয়নায় তাকিয়ে পিছনে দেখছে। ওদেরকে বললে ভুল হবে মনে হচ্ছে ওনার দৃষ্টিটা প্রভার উপরেই পড়েছে।একটু অস্বস্তি হল প্রভার কিন্তু ব্যাপারটাকে স্বাভাবিকভাবেই নেওয়ার চেষ্টা করলো।কলেজের সামনে গাড়ি থামতেই প্রেয়নার থেকে বিদায় নিয়ে প্রভা নেমে যেতে ধরলে প্রবীর শিকদার বলে উঠলেন,

"আচ্ছা মা তোমায় কি আমি এর আগে কোথাও দেখেছি?খুব চেনা চেনা লাগছে তোমার মুখটা?ভীষণ পরিচিত লাগছে।কোথায় দেখেছি বলোতো?"

প্রভা আবারো যেন অস্বস্তিতে পড়লো।ধীর গলায় জবাবে বলল,

"আমি তো ঠিক বলতে পারছি না আঙ্কেল যে কোথাও দেখেছেন কিনা।আসলে আপনি তো আমার পরিচিত নন সেজন্য বললাম।"

পাশ থেকে প্রেয়না বলে উঠলো,

"আরে বাবা কয়েকদিন আগে হাসপাতালে দেখে ছিলে তো।নির্ভয়ের যেদিন এক্সিডেন্ট হলো ওই দিন প্রভা এসেছিল তো ওখানে।ঐদিন দেখেছো জন্যই আজ পরিচিত লাগছে।"

প্রেয়নার কথায় প্রভাও সম্মতি জানালা।প্রবীর শিকদার এবারে নিজের প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেলেন।হ্যাঁ সেদিন একঝলক দেখেছিলেন প্রভাকে।সেজন্য এত পরিচিত লাগছিলো, মুখটাও চেনা চেনা লাগছিল।

______________

"এখানে কেন ডাকলে বকুল?কিছু বলবে?"

বকুলের আবভাব আজ কেন যেন প্রভার ঠিক লাগছেনা।মনে হচ্ছে কোনো একটা বিষয় নিয়ে ভীষণ চিন্তিত কিংবা ভয়ে আছে।সমানে ঘামছে।আবহাওয়াটা আজ গরম থাকলেও ক্যাম্পাসের পিছন দিকটায় এই জায়গাটা বেশ ঠান্ডা।বড় বড় কয়েকটা গাছ থাকায় রোদ লাগার সুযোগ নেই।প্রভার প্রশ্নটা শুনে বকুল মৃদু কেঁপে উঠলো।আশেপাশে এলোমেলো দৃষ্টি ফেলে অগোছালো কন্ঠে বলল,

"হ্যাঁ আসলে তোমার সাথে কিছু কথা ছিল।"

"বলো কি বলবে।"

প্রভা অনুমতি দিলেও বকুল কেন যেন বলার সাহস করে উঠতে পারছে না।বকুলের ভয়ের কারণটা প্রভা ঠিক বুঝতে পারছে না।বকুল কে এতটা সংকোচ বোধ করতে দেখে প্রশ্নাত্মক গলায় জিজ্ঞেস করল,

"কি হয়েছে বকুল?একটু খুলে বলো তো আমায় পুরো ব্যাপারটা?কোন সমস্যায় পড়েছো কি?"

বকুল কিছু বলল না শুধু দুদিকে মাথা নাড়িয়ে না বোধক উত্তর জানালো।প্রভা পুনরায় প্রশ্ন করল,

"আমায় বলতে ভয় হচ্ছে?কিন্তু কেন ভয় পাচ্ছো?আমি তো তোমায় বকা দেই না।তোমার সাথে কি আমার ভয় পাওয়ার সম্পর্ক?আমরা দুজন তো খুব ভালো বন্ধু তাই না?আর বন্ধুকে বলতে এত সংকোচ করছ কেন?"

বকুল দৃষ্টি তুলে একবার প্রভার দিকে তাকালো।কে জানে সাহস জোগাড় করতে পারল কিনা।তোতলানো কন্ঠে বলল,

"সত্যিই তুমি বকা দেবে না তো আমায়?দেখো তুমি জানো তুমি আমার কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ একজন মানুষ।তুমি বকা দিলে আমি কিছু মনে করব না কিন্তু আজকের এই বিষয়টায় বকা দিলে খুব কষ্ট পাবো।"

প্রভা নির্ভয় দিয়ে বলল,

"তোমার যা ইচ্ছে বল আমি কথা দিলাম তোমায় বকবো না।"

বকুল একটু সময় নিলো।তার চোখে মুখে এখনো ভয়ের ছাপ স্পষ্ট দেখতে পেলে প্রভা।এখন তো প্রভার নিজেরই বেশ চিন্তা হচ্ছে।বকুল কি এমন বলতে পারে ওকে?বেশ কিছুটা সময় অপেক্ষার পর প্রভা পুনরায় প্রশ্ন করতে নেবে তার পূর্বেই বকুল বলে উঠলো,

বিজ্ঞাপন

"আমাকে তোমার ভালো লাগে?"

বকুলের এই প্রশ্নটা প্রভার কাছে ভীষণ অদ্ভুত লাগলো। ঠিক কোন আঙ্গিকে বকুল এই প্রশ্নটা করলো সেটা ধরতে পারছে না।স্বাভাবিক কন্ঠে উত্তরে বলল,

"ভালো না লাগলে তো তোমার সাথে বন্ধুত্ব করতাম না আমি।"

"না না আমি ওই ভালো লাগার কথা বলিনি।"

প্রভার ভ্রুঁদয়ের মাঝে গাঢ় ভাঁজ সৃষ্টি হলো।সন্দেহী কন্ঠে প্রশ্ন করলো,

"তাহলে কিসের কথা বলছো?"

বকুল আমতা আমতা করে বলল,

"মানে আমি বললাম যে তোমার আমায় ভালো লাগে না?"

"আমিতো এই প্রশ্নের উত্তরেই বললাম যে ভালো লাগবে না কেন?"

"তুমি তো আমায় বন্ধু হিসেবে পছন্দ করো কিন্তু আমি সে হিসেবে বলিনি।"

"তাহলে?"

"মানে ধরো রাধা যেমন শ্রীকৃষ্ণ কে পছন্দ করে,পার্বতী যেমন শিব কে পছন্দ করে,লক্ষী যেমন নারায়ণ কে পছন্দ করে তেমন পছন্দের কথা বলছি।"

প্রভার মাথাটা যেন ঘুরে উঠল।কি সব আবোল তাবোল বলছে বকুল?

"কি সব বলছো তুমি বকুল?একটু সোজাসুজি বলোতো কি বলতে চাইছো?"

"আমায় বিয়ে করবে?"

প্রভার মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ল।একি বলছে বকুল?প্রভাকে নিয়ে তবে বকুলের মনের মাঝে অনুভূতি তৈরি হয়েছিল?কিন্তু প্রভার মনে তো বকুলের জন্য এমন কোন জায়গা নেই।ও তো বরাবরই বকুলকে নিজের ভালো বন্ধু হিসেবে দেখে এসেছে।সবাই ওকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে জন্য সবার অপমান থেকে আগলে রাখতে চেয়েছে।এর থেকে বেশি তো আর কিছু নেই প্রভার মনের মাঝে।

"তুমি মজা করছ তাইনা বকুল?আমি জানি তুমি মজা করছো।"

প্রভার কথায় অসম্মতি জানিয়ে বকুল বলে উঠলো,

"আমি মজা করছি না বিশ্বাস করো।আমি একটুও মজা করছি না।আমি তোমায় খুব ভালোবাসি।তোমাকে আমার ঘরের লক্ষী করে নিয়ে যেতে চাই।আমি আমার এই হাতে কেবলমাত্র তোমাকেই সিঁদুর পড়াতে চাই,শুভদৃষ্টিতে তোমার মুখটা দেখতে চাই,তোমার সাথে সাত পাকে বাঁধা পড়তে চাই।অগ্নিকে সাক্ষী রেখে সাত জনমের জন্য তোমাকে নিজের করে পেতে চাই।"

"এ হয় না বকুল।তুমি কি ভুলে গেলে যে আমাদের ধর্ম আলাদা।এটা পাপ।এটা মহাপাপ।এটা হয় না বকুল,এত বড় পাপের ভাগীদার হওয়া সম্ভব না।এতে আমরা দুজনেই দুজনের ধর্মকে অপমান করবো।"

"আচ্ছা শোনো না তোমাকে আমার ধর্মের কিছু করতে হবে না,আমিও তোমার ধর্মের কিছু করবো না।তুমি তোমার ধর্মের মত থাকবে আমি আমার ধর্মের মত থাকবো তাহলেই তো হয়ে গেল বলো।"

"না বকুল এটা হয় না।তোমার মাথা কি খারাপ হয়ে গেল?কি আবোল তাবোল বলছ বলোতো?দেখো আমি তোমার ধর্মকে সম্মান করি,আমি জানি তুমিও আমার ধর্মকে সম্মান করো।তাই বলছি তুমি যেটা চাইছো সেটা সম্ভব না।এই কাজটা করলে আমরা দুজন দুজনের ধর্মকে অপমান করবো।তোমার মাথার ভেতর এসব এলো কি করে বলোতো?আমরা তো ভালো বন্ধু ছিলাম তাই না?"

"আমি তোমায় ভালোবাসি।তোমার দিক থেকে হয়তো আমি শুধু তোমার বন্ধু কিন্তু আমার দিক থেকে তুমি আমার জন্য একজন ভালো বন্ধুর থেকে অনেক বেশি।যেখানে কেউ আমায় বোঝেনা সেখানে তুমি আমায় বুঝতে।যেখানে সবাই আমায় অসম্মান করেছে সেখানে তুমি আমায় সম্মান করেছো।তুমি আমার ইচ্ছে গুলোকে প্রাধান্য দিয়েছো সব সময়।বিশ্বাস কর তোমার মতন আমায় কেউ বোঝেনি।"

"কিন্তু তার মানে বকুল এটা নয় যে আমি তোমায় ভালোবাসি।এটা সম্ভব না।এমনটা নয় যে আমাদের ধর্ম আলাদা জন্য আমি এই সিদ্ধান্তটা নিচ্ছি।আসল কথা হচ্ছে আমি তোমাকে কখনোই সেই নজরে দেখিনি বকুল।প্লিজ আর এসব কথা বলে তুমি আমাকে নিজের কাছে নিজে ছোট করো না।"

বকুল যেন এবারে প্রভার না এর কারণটা নিজের মধ্যে থাকা কিছু দুর্বলতার কারণ বলে উল্লেখ করল।তবে কি বকুলের আচরণগুলোই প্রভার কাছে ওর পছন্দ না হওয়ার কারণ?হ্যাঁ বকুল দেখতে অতটা সুন্দর না।গায়ের রং শ্যামলা,উচ্চতায় হয়তো প্রভার থেকেও কয়েক ইঞ্চি কম হবে,বেশ স্বাস্থ্যবান,চলাফেরাও মেয়েদের মতন অনেকটা,কথাবার্তা ভাবভঙ্গি সবটাই ওর নিজেরই পছন্দ না তাহলে প্রভার কি করে পছন্দ হবে?হ্যাঁ প্রভার অসম্মতি জানানোর কারণ এটাই।না হলে বকুল তো ওকে বলেছিল যে বকুল নিজের ধর্ম পালন করবে আর প্রভা ওর ধর্ম পালন করবে।হ্যাঁ আজ অব্দি বকুলকে সবাই ছোট করতো বলে প্রভা প্রতিবাদ করে এসেছে অথচ আজ সেই কারণগুলোর জন্য প্রভা ওকে পছন্দ করল না।বকুলের কাছে মনে হল ধর্ম একটা অজুহাত মাত্র।

"আমাকে তোমার সাথে মানায় না তাই না?তুমি সেজন্যই আমাকে নিষেধ করলে?আমারই ভুল হয়েছে। আমি বুঝতে পারিনি আমাদের মাঝে পার্থক্যটা।তুমি দেখতে কত সুন্দর আর আমি দেখতে একটুও ভালো না।তোমার সাথে তো আমায় একটুও মানাবে না।"

বকুল ভুল বুঝে নিল।প্রভা এখন কি করবে?নিজেকে কেমন যেন অসহায় লাগছে।খুব কষ্ট পেল তো বকুল কিন্তু প্রভা তো সেভাবে কথাগুলো বলতে চায়নি।

"তুমি ভুল বুঝছো বকুল।আমি সেভাবে কথাগুলো বলিনি।দেখো তোমার যেমন আমায় পছন্দ তেমন আমারও তো অন্য কাউকে পছন্দ হতে পারে বল?তুমি আমাকে পছন্দ করো জন্য আমারো যে তোমাকে পছন্দ হবে এমন তো কোন কথা নেই।সবার পছন্দ আলাদা কিন্তু তার মানে এই না যে তুমি আমার অপছন্দের তালিকায় আছো।"

বকুল দুই হাতে চোখের জলটা মুছে নিল।ইতোমধ্যে তার চোখ দুটো লাল হয়ে উঠেছে।ভীষণ কষ্ট পেয়েছে। ভালোবাসা কি সেটা বকুল ঠিক করে হয়তো জানে না। কিন্তু শুধু এটা জানে যে প্রভাকে ও চায়।প্রভা কে দেখলে ও শান্তি পায়।প্রভার সাথে থাকলে ওর চিন্তা হয় না।সব সময় বকুলকে সম্মানের চোখে দেখে যেটা কেউ করেনা।

"তোমার কোন দোষ নেই,দোষটা আমারই।আমি মাটিতে থেকে আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখছিলাম।আমায় ক্ষমা করে দিও।আমার উচিত হয়নি কথাগুলো বলা।তুমি ভালো থেকো।আমি প্রার্থনা করি তুমি খুব ভালো বর পাও।একটা সুখের সংসার হোক।না হলো সেটা আমার সাথে।আমি তোমায় ভালোবাসি,তোমার খারাপ চাইতে পারবো না কখনো।তুমি খুব সুখী হও।তুমি চির সুখী হও।আমার ভাগ্যের সুখ টুকু তোমার হয়ে যাক।"

কথাটা বলে বকুল চলে যেতে নিলে সামনে দাঁড়ানো আরোও দুটো মানুষকে দেখে থমকে গেল।নির্ভীক আর উৎসব দাঁড়িয়ে আছে।ওদের সব কথাই ওরা দুজন শুনেছে।প্রভা যেমন অবাক হয়েছে তার থেকেও মনে হচ্ছে বেশি অবাক উৎসব আর নির্ভীক হয়েছে।বকুলের কেন যেন নিজেকে খুব ছোট লাগলো।এই মানুষগুলোর সাথে বকুলের সম্পর্ক কত ভালো ছিল অথচ আজ সবার বিশ্বাস ভাঙলো।কেন বলতে গেল এই কথাগুলো?কেন নিজেকে ছোট করল?কেন ওদের সম্পর্কটাকে অসম্মান করল?বকুল আর সেখানে দাঁড়ালো না,চলে গেল।নির্ভীক উৎসব ওকে ডাকলো কিন্তু কোন সাড়া দিল না।নির্ভীক এগিয়ে এসে প্রভাকে কিছু বলতে নিলে প্রভা মৃদু জড়ানো কন্ঠে বলে উঠলো,

"প্লিজ এই নিয়ে এখন কিছু বলবেন না,পরে কথা বলব। আমি আসি কেমন?"

কথাটা বলে প্রভাও সেখান থেকে চলে গেল।উৎসব এগিয়ে এসে নির্ভীক কে বলল,

"কি হয়ে গেলো ভাই বলতো?বকুল ফুলের মনে যে এমন কিছু ছিল কে জানতো?

"কার মনে যে কাকে নিয়ে অনুভূতি তৈরি হয় কে জানে?ও তো অন্যায় করেনি।নিজের ভালোবাসা জোর করে চাপিয়েও দেয়নি।শুধু কষ্ট পেল।"

"ভালোবাসা অন্যায় না তাই না ভাই?"

উৎসবের প্রশ্ন শুনে নির্ভীক হেসে উঠে বলল,

"অন্যায় কেন হবে?কিন্তু হ্যাঁ যদি তুই এটা ভাবিস যে তুই যাকে ভালোবাসবি তাকেও তোকেই ভালোবাসতে হবে তাহলে সেটা অন্যায় হবে।ভালোবাসায় স্বাধীনতা দিবি।তার তোকে ভালোবাসার হলে সে বাসবেই আর ভালোবাসার না হলে বাসবে না।অযথা তার ওপর নিজের ভালোবাসাটাকে চাপিয়ে দিয়ে নিজের ভালোবাসাকে অপমান করবি না।"

বিজ্ঞাপন
ভ্রমর কইও গিয়া গল্পটি খুশবু আকতার-এর লেখা একটি জনপ্রিয় পারিবারিক সম্পর্কভিত্তিক গল্প