সময়টা তখন সকাল পাঁচটা কি ছয়টা।প্রভা আর সৌমি দুজনেই তখনো গভীর ঘুমে তলিয়ে আছে।ঘুমের মাঝেই ক্রমাগত কারো একটা কলিং বেল বাজানোর আওয়াজে দুজনে ধড়ফড়িয়ে ঘুম থেকে উঠে পড়লো।দুজনের মনে একই প্রশ্ন উঁকি দিলো যে এত সকালে কে এলো?ওদের বাড়িতে আসার মতন কেউ নেই।মাস শেষে বাড়িওয়ালা কেও আসতে হয় না।কেননা প্রভারা সময় মতো টাকা নিজেরাই গিয়ে পরিশোধ করে দেয়।আর পরিশোধ করতে না পারলেও উনি কখনোই চাপ দেন না।তাড়াতাড়ি করে কাঁথাটা সরিয়ে ওড়না গায়ে দিয়ে দরজার উদ্দেশ্যে পা বাড়ালো প্রভা।ওর পিছু পিছু গুটিগুটি পায়ে সৌমিয় এলো।দরজা বন্ধ অবস্থাতেই প্রভা কয়েকবার আগন্তুকের উদ্দেশ্যে বার্তা প্রেরণ করে বলল,
"কে?"
বেশ কয়েকবার জিজ্ঞেস করার পরও কোন সাড়া শব্দ পাওয়া গেল না।সে ক্রমাগত কলিং বেল বাজিয়েই যাচ্ছে।অবশেষে বাধ্য হয়ে প্রভাকে দরজাটা খুলতে হলো।আগন্তুক কে দেখতেই দুজনের হৃদস্পন্দনের গতি কয়েকগুণ বেড়ে গেল যেন।এলোমেলো অগোছালো চুল,লাল টকটকে দুটো চোখ,আর ঘামে ভেজা পুরো শরীর নিয়ে দেয়ালের সাথে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে ইশরাক।তার দৃষ্টিতে আজ সেই হিংস্রতা নেই।বড্ড নির্জীব দেখাচ্ছে।কিন্তু তারপরও সেই লাল টকটকে দুটো চোখ দেখে প্রভা আর সৌমি দুজনেই ভয় পেল, ভীষণ ভয় পেল।ইশরাক যতই বিরক্ত করুক না কেন এর আগে কখনো ওদের বাড়ি অব্দি আসেনি।আজ প্রথম এল তাও আবার এত সকাল সকাল।ভিতরে ভিতরে প্রচন্ড ভয় পেলেও প্রভা তা প্রকাশ করতে চাইলো না।নিজেকে যথা সম্ভব স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করে মুখ মন্ডলে গম্ভীর ভাব ফুটিয়ে তুলে ইশরাক কে উদ্দেশ্য করে প্রশ্ন করল,
"কেন এসেছেন আমার বাড়িতে?"
ইশরাক শান্ত দৃষ্টিতে প্রভার দিকে তাকালো।সোজা হয়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলো কিন্তু সে ঢুলছে।নিজের শরীরের উপর যেন তার নিয়ন্ত্রণ নেই।
"আমাকে দেখে তুমি খুশি হও নি সুন্দরী?"
ইশরাক কথাটা বলতেই ওর মুখ থেকে একটা উটকো গন্ধ প্রভার নাকে লাগালো।ভীষণ বিচ্ছিরি একটা গন্ধ।মনে হয় মাতাল হয়েই এখানে এসেছে।
"আপনাকে দেখে তো আমার খুশি হওয়ার কথা না। চলে যান এখান থেকে।"
কথাটা বলে প্রভা ওর মুখের উপর দরজা লাগিয়ে দিতে নিলে ইশরাক একহাত দরজায় ঠেকিয়ে আটকালো।প্রভা অনেক চেষ্টা করেও লাগাতে পারল না।ইশরাক দু কদম এগিয়ে এসে শান্ত কণ্ঠে বলল,
"আ'ম সরি।আই এম রিয়েলি সরি সুন্দরী।আমি তোমায় কাল খুব বাজে বাজে কথা বলে ফেলেছি তাই না?খুব কষ্ট পেয়েছো তুমি আমার কথায়?প্লিজ এবারের মতন মাফ করে দাও।প্রমিস করছি আর কখনো এমন বলবো না।"
ইশরাকের মুখ থেকে এমন কথা শুনে প্রভার বিস্ময়ের মাত্রা রইল না।এত সকাল সকাল কি এখানে নাটক করতে এসেছে নাকি সত্যি সত্যি কথাগুলো বলছে তা প্রভার ভাবনার বাইরে।নাকি মাতাল জন্যই এমন আজেবাজে কথা বলছে?না প্রভা কিছু ভাবতে পারছে না।ওর শুধু এখন ভয় করছে।ইশরাকের শান্ত রুপটা প্রভার কাছে ভীষণ ভয়ঙ্কর লাগে।
প্রভাকে চুপ থাকতে দেখে ইশরাক পুনরায় অপরাধী কন্ঠে বলল,
"বললাম তো সরি,সুন্দরী।এবার অন্তত ক্ষমা করে দাও।আমি না তোমায় চিনতে ভুল করেছিলাম।অনেক আজেবাজে কথা বলে ফেলেছি,তোমার চরিত্র নিয়ে অনেক প্রশ্ন তুলেছি।আমি জানি আমার এসব করা একদম ঠিক হয়নি।কিন্তু কি করবো বলো তোমায় তো আমি ভালোবাসি।ভীষণ ভালোবাসি।অন্য কারো সাথে তোমায় আমি সহ্য করতে পারি না।"
"প্লিজ চলে যান এখান থেকে।কেউ দেখলে খারাপ ভাববে।"
"কে কি ভাবলো তাতে আবার কিছু যায় আসে না।আমি একটা জিনিসই জানি আমার সুন্দরী আমার উপর রাগ করেছে আর আমাকে ওর রাগ ভাঙাতে হবে।ও সুন্দরী, প্লিজ প্লিজ প্লিজ এবারের মতন আমায় ক্ষমা করে দাও।দেখো শুধুমাত্র তোমার কাছে ক্ষমা চাইবো জন্য সাত সকালে আমি এখানে ছুটে এসেছি।আই লাভ ইউ সুন্দরী।প্লিজ এবারের মতো ক্ষমা করে দাও।"
"আচ্ছা ঠিক আছে দিয়েছি ক্ষমা করে এবার যান।"
"না আমি জানি তুমি আমায় এখনো ক্ষমা করতে পারোনি।"
প্রভা এবারে ভীষণ বিরক্ত হলো।এই ছেলের উদ্দেশ্য কিছুই বুঝতে পারছে না।কখন যে এর মাথায় কি চলে কে জানে?ইশরাক খান তো কারো কাছে ক্ষমা চাওয়ার মানুষ না।আর যে কথাগুলো প্রভা কে বলেছিল সেগুলো সবই ওর চরিত্রের সাথে মানানসই।ওর মতন মানুষকে দিয়ে অমন নোংরা কথাই আশা করা যায়। তাহলে আজ ক্ষমা চাওয়ার কারণটা কি?প্রভাকে ভাবনার মাঝে নিমগ্ন থাকতে দেখে ইশরাক দুহাত জোর করে প্রভার সামনে দাঁড়িয়ে ফের অপরাধী গলায় বলল,
"দেখো সুন্দরী তোমায় আমি কষ্ট দিতে চাই না বিশ্বাস করো।তোমায় কষ্ট পেতে দেখলে আমার না একদম বুকে ব্যথা করে।আসলে তুমি তো বোঝো না যে তোমাকে দিনশেষে আমার বউই হতে হবে।বাট আই প্রমিস আজ থেকে আর তোমার সাথে এমন কিছু করবো না আমি।তোমায় যার সাথে ইচ্ছে তুমি মিশতে পারো।ওই নির্ভীক,তিসান,উৎসব ওদের সাথেও মিশতে পারো আমি কিছু বলবো না।"
প্রভা ভ্রুঁ কুঁচকে সন্দেহী কণ্ঠে বলল,
"আপনার উদ্দেশ্যটা কি বলুন তো?আমি কোন মিথ্যে শুনতে চাই না।সত্যিটা বলুন।নিজেকে আমার সামনে ভালো প্রমাণ করার চেষ্টা করে কোন লাভ নেই।কেননা আপনি যে মানুষটা ঠিক কেমন সেটা আমি এতদিনে খুব ভালো করে বুঝে গেছি।আপনিও কখনো আপনার আসল রূপটা আমার থেকে আড়াল করার চেষ্টা করেননি।তাহলে আজ ভালো মানুষের মুখোশটা পড়ে কেন এসেছেন আমার সামনে?"
প্রভার এমন প্রশ্ন শুনে ইশরাকের মুখে হাসি ফুটে উঠলো।সেই হাসিটার আসল অর্থ বর্ণনা করা প্রভার পক্ষে সম্ভব নয়।সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে পারছে না জন্য দু কদম পিছিয়ে গিয়ে আবারো দরজার সাথে হেলান দিয়ে দাঁড়ালো।মুখে সেই হাসিটা বজায় রেখে প্রভা কে উদ্দেশ্য করে বলল,
"তোমাকে পাওয়ার জন্য আমি সব করতে পারি।আমি যে কোন মূল্যে তোমাকে চাই।আর তোমাকে ওদের সাথে কথা বলার অনুমতি দিলাম তার কারণ আমি তোমাকে এটা বোঝাতে চাই যে তুমি যতই চেষ্টা করো না কেন কোন একদিন আমার খাঁচাতেই তোমায় বন্দি হতে হবে।তোমাকে আমার পোষই মানতে হবে।"
কথাটা বলে শব্দ করে হেসে উঠলো।কি বিচ্ছিরি তার সেই হাসির ধরনটা।সৌমি এগিয়ে এসে প্রভার কানের কাছে ফিসফিস করে বলল,
"প্রভা উল্টোপাল্টা কিছু করবে না তো?"
"বুঝতে পারছিনা এর আসল উদ্দেশ্যটা কি?"
"ওই যে নির্ভীক,তিসান ওনারা আছে না ওনাদের কে কল দেই।ওরা আসলেই ভয়ে পালিয়ে যাবে।"
"না ওরা আসলে ঘটনা জটিল হবে।দাঁড়া দেখছি।"
"ক্ষমা চাওয়ার জন্য এসেছিলেন ক্ষমা চাওয়া শেষ এবার বেরিয়ে যান।আপনার মুখও দেখতে চাই না আমরা।"
"যাচ্ছি সুন্দরী যাচ্ছি।কিন্তু জানো তো আমার একটা আফসোস তুমি আমার ভালোবাসাটা বোঝোই না।ঠিক এই জন্যই তোমার উপর আমার জোর জবরদস্তি চালাতে হয়।"
প্রভা তাচ্ছিল্য ভরা কন্ঠে বলল,
"আগে ভালোবাসার মানেটা ঠিক করে বুঝুন তারপর বলতে আসবেন যে আপনি আমাকে ভালোবাসেন?"
ইশরাকের মুখের হাসি নিভে গেল।মৃদু গম্ভীর কণ্ঠে বললো,
"আমার ভালোবাসা তোমার বিশ্বাস হয় না?"
"আপনি তো ভালোই বাসেন না বিশ্বাস হবে কি করে?যাকে ভালোবাসা যায় তার প্রাণ কখনো কেড়ে নেওয়া যায় না।আর আপনি তো প্রতিটা মুহূর্তে আমায় একটাই হুমকি দিয়ে আসছেন যদি আমি আপনার না হই আমাকে মারতে আপনার হাত কাঁপবেনা।এটাই বুঝি আপনার ভালোবাসা?তাহলে আমি একটাই কথা বলবো,এমন ভালোবাসাকে আমি ঘৃণা করি।এমন ভালোবাসাকে গ্রহণ করার আগে আমি মৃত্যুকে গ্রহণ করব হাসিমুখে তবুও কোন নোংরা অমানুষকে গ্রহণ করতে পারবো না।"
ইশরাক এবারে শব্দ করে হেসে উঠলো।কে জানে তার সেই হাসির মানেটা ঠিক কি।তবে আর কিছু বলল না। দরজাটা লাগিয়ে দিতে বলে টলমলে পায়ে হাঁটতে হাঁটতে চলে গেল সেখান থেকে।ইশরাক যেতেই প্রভা তাড়াহুড়ো করে দরজাটা বন্ধ করে দিল।দুজনেই যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচল।এই সকাল সকাল ইশরাকের আগমন,হুট করে ওর পরিবর্তন এবং হেঁয়ালি করে কথাবার্তা,হাসা সবকিছুই যেন কোন আগাম বিপদের বার্তা দিল প্রভাকে।প্রভা আরেকটা বিষয় আজ ভালো ভাবে বুঝতে পেরেছে যে ইশরাক সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ হতেই পারে না।আর ভয়টা এইজন্যে আরও বেশি হচ্ছে।যার মস্তিষ্কই সুস্থ না সে যে কোন কাজ করে ফেলতে পারে।হোক সেটা ভয়ঙ্কর কিংবা অমানবিক।
_______________
"তারমানে ইশরাক আপনাকে যা বলছে আপনি তেমনটাই করছেন?ও আপনাকে উঠতে বললে উঠছেন বসতে বললে বসছেন তাই তো?"
প্রভা মৃদু বিরক্তিকর কন্ঠে নির্ভীক কে উদ্দেশ্য করে বলল,
"আপনি তো এমন ছিলেন না।পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করছেন না কেন?আপনি যদি আমাকে না বোঝেন তাহলে আমি কোথায় যাব বলুন তো?"
নির্ভীকের মন তাও যেন নরম হলো না।রাগ আর অভিমান দুটোই আজকাল একটু বেশি বিরক্ত করছে নির্ভীককে।
"বুঝতে পেরেছি তো আমি পরিস্থিতি।পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে ইশরাক আপনাকে যা করতে বলছে আপনি তাই করছেন।বিয়েটাও তো করে নিতে পারেন ওকে।এটা আবার বাদ রাখবেন কেন?"
নির্ভীকের এমন কথা শুনে প্রভার ভ্রুঁ দ্বয়ের মাঝে গাঢ় ভাঁজ সৃষ্টি হলো।গম্ভীর গলায় বলল,
"করে নিতে বলছেন?"
"আমার বলার অপেক্ষাতে তো কোন কিছুই নে।এটাও নিশ্চয়ই থাকবে না।"
"হ্যাঁ করে দেব ইশরাক কে?"
"আপনার জীবন,আপনার ইচ্ছে।"
প্রভার এবার বেশ রাগ হলো।মৃদু রাগী কন্ঠে বলল,
"আমার জেদ সম্বন্ধে কিন্তু আপনার বিন্দুমাত্র ধারণা নেই।আমি যদি একবার ঠিক করি যে আমি ইশরাক কে বিয়ে করে নেব তাহলে কিন্তু কেউ আটকাতে পারবে না আমায়।আজই বিয়ে করে নেব।বলুন করবো?"
নির্ভীক এর যেন এবারে হুশ ফিরলো।চট করে বলে উঠলো,
"না।"
প্রভা বুঝলো এবারের ওষুধে কাজ হয়েছে।
"কেন করব না?আমার জীবন,আমার ইচ্ছে তাই না?"
নির্ভীক অসহায় দৃষ্টিতে প্রভার দিকে তাকালো।ও না হয় অভিমানের বষে দুটো কথা বলেই ফেলেছে তাই বলে প্রভাকেও এমন রাগ দেখাতে হবে?অভিমানটা বুঝলো না প্রভা?
"অভিমান বোঝার দায়িত্ব বুঝি শুধু পুরুষের একারই, নারীর নেই?"
"রাগ দেখানোর অধিকারও বুঝি শুধু পুরুষের একারই আছে,নারীর নেই?"
প্রভার যুক্তির কাছে নির্ভীক দমে গেল।দুজনে কিছুটা সময় নীরব থাকলো।নীরবতা টা ভাঙল নির্ভীক।
"অনার্স শেষ করতে আর এক বছরেরও কম সময় লাগবে।তারপর একটা চাকরির ব্যবস্থা করতে হবে।একটা নির্দিষ্ট আয়ের জায়গা বানাতে হবে।এর আগে অন্য কিচ্ছু ভাবতে চাই না।"
নির্ভীকের কথার ইঙ্গিতটা ধরতে পেরে প্রভা বলল,
"কোন কিছুতেই তাড়াহুড়া আমার পছন্দ না।আমি অপেক্ষা করতে জানি।কিন্তু একটা কথা,শূন্য পকেটে হাত ধরার সাহসও আমার আছে।"
"আমি আমার ব্যবসা শুরুর কথা বলেছি,অন্য কিছু না।আগে একটা চাকরি করে টাকা জমাতে হবে তারপর আমার ব্যবসার কথা ভাববো।"
নির্ভীক যে ব্যাপারটাকে কাটিয়ে নিতে চাইলো সেটা প্রভা ঠিকই বুঝলা।হয়তো কথাটা বলার পর নির্ভীকের উপলব্ধি হয়েছে যে ভুল সময় ভুল কথা বলে ফেলেছে সেজন্য ফিরিয়ে নিতে চাইছে।কিন্তু মুখ দিয়ে একবার কথা বেরিয়ে গেলে সেটা তো আর ফেরত নেওয়া যায় না।নির্ভীক চেষ্টা করলেও প্রভা চেষ্টা করল না।সরল স্বীকারোক্তি দিয়ে বলল,
"আর আমি কিসের কথা বলেছি সেটা আপনি নিশ্চয় বুঝতে পেরেছেন।"
নির্ভীক আর কিছু বলার সুযোগ পেল না।তার আগেই ওর ফোনটা বেজে উঠলো।পকেট থেকে বের করে হাতে নিতেই দেখলো অপরিচিত একটা নাম্বার থেকে কল এসেছে।রিসিভ করে কানে ধরতেই অপর পাশ থেকে নির্ভয় এর দুর্বল কণ্ঠস্বর ভেসে এলো।নির্ভীকের চোখে মুখে চিন্তার ছাপ স্পষ্ট ফুটে উঠলো।
"ঠিক আছিস নির্ভয়?তোর কন্ঠ এমন শোনাচ্ছে কেন আর এটা কার নাম্বার থেকে কল করছিস?"
নির্ভয় দুর্বল কণ্ঠে জবাবে বলল,
"এটা প্রেয়নার নাম্বার নির্ভীক।আমি সিটি হসপিটালে আছি একবার একটু আসতে পারবি প্লিজ!"
নির্ভয় হাসপাতালে কথাটা শুনতে নির্ভীক আৎকে উঠে বলল,
"কি হয়েছে তোর সেটা আগে বল?"
"তেমন কিছু ন,একটা ছোটখাটো এক্সিডেন্ট হয়েছে আর কি।পায়ে একটা মাইনর ফ্র্যাকচার হয়েছে আর মাথায় হালকা চোট লেগেছে।আসলে এই অবস্থায় তো একা বাড়ি ফিরতে পারবো না।তুই বা তোরা আসলে একটু সাহায্য হত।তোদেরকে দেখলে একটু শান্তিও পেতাম।"
নির্ভীক কোন সময় ব্যয় না করে বলল,
"চিন্তা করিস না আমরা আধা ঘন্টার মধ্যে আসছি।"
নির্ভীক ফোনটা কেটে দিয়েই সঙ্গে সঙ্গে আগে বাকিদেরকে কল দিয়ে খবরটা জানালো।সবাই বলেছে হাসপাতালে যাচ্ছে।এতক্ষণে প্রভা ওকে কোন প্রশ্ন করার সুযোগই পায়নি।ফোনটা রাখতেই চিন্তিত কণ্ঠে বলল,
"কি হয়েছে ওনার?"
"এক্সিডেন্ট হয়েছে বলল।কি যে করেনা ছেলেটা।রাস্তাঘাটে চলাফেলার সময় সবসময় খামখেয়ালিপনায় থাকে।আমি আসছি কেমন?"
"আরে দাঁড়ান একা একা কোথায় যাচ্ছেন?আমিও তো যাব ওনাকে দেখতে।"
"আচ্ছা ঠিক আছে চলুন।"
তাড়াহুড়ো করে দুজনে হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা দিল।এক্সিডেন্ট নিতান্তই একটা স্বাভাবিক ঘটনা।প্রতিদিন সারাদেশে এমন অসংখ্য অ্যাক্সিডেন্টের খবর পাওয়া যায়।সেসব হয় পথচারীর গাফিলতির কারণে কিংবা গাড়ি চালকের অসাবধানতাবশত গাড়ি চালানোর জন্য।এটা এই দেশে একটা সাধারণ ঘটনা।নির্ভীক রাও বেশ স্বাভাবিকভাবেই নিলো পুরো ঘটনাটাকে।কিন্তু আদৌ কি ঘটনাটা স্বাভাবিক নাকি এ কেবল ঝড়ের পূর্বাভাস ছিল?