ভ্রমর কইও গিয়া

পর্ব - ২৩

🟢

"এত তাড়াহুড়ো করেন কেন আপনি বলুন তো?একটু আস্তে হাঁটতে পারেন না?কে অপেক্ষায় আছে?"

প্রভার এমন কথা শুনে নির্ভীক ওর দিকে ভ্রুঁ কুঁচকে তাকিয়ে বলল,

"সময়টা একবার দেখেছেন রাত আটটা বাজে।আরো কখন বাড়ি ফিরবেন?"

"না ফিরলে কোন সমস্যা?"

"সারারাত রাস্তায় থাকবেন?"

"থাকাই যায়।"

"মাথা ঠিক আছে আপনার?সারারাত আপনাকে নিয়ে আমি রাস্তায় থাকবো ভাবলেন কি করে?তাড়াতাড়ি হাঁটুন।একটা গাড়িও তো নিতে দিলেন না,এখন হাঁটুন।"

প্রভা বিড়বিড় করে বলল,

"কেন হাঁটতে চেয়েছি সেটা যদি আপনি বুঝতেন তাহলে তো হয়েই যেত।কিন্তু আমার কপাল কি আর অত ভালো?এতদিন অপেক্ষা করে কপালে জুটলো অবশেষে একটা নিরামিষ।রাতের এত সুন্দর আবহাওয়া পাশে একটা সুন্দরী মেয়ে কেন রে একটু হাতটা ধরেও তো হাঁটা যায়।তা না করে একা একা মেট্রোরেলের গতিতে ছুটছে।মনে হচ্ছে বাড়িতে বউ বাচ্চা রেখে এসেছে।"

প্রভা খুব আস্তে কথাগুলো বললেও নির্ভীকের কান অব্দি তা পৌঁছালো।মুচকি হেসে বলল,

"পিওর সিঙ্গেল মানুষ আমি।বউ-বাচ্চা থাকবে কি করে?"

প্রভা চমকে উঠল।তোতলানো কন্ঠে বলল,

"আআপনি শুনেছছেন আমি কি বলেছি?"

"কানে তো ঠিকঠাকই শুনতে পাই তাহলে আপনার কথা শুনতে পাবো না কেন?"

প্রভা এবারে আর বিড়বিড় করেও কিছু বলল না।মনে মনে ভাবলো,

"যখন শুনেছেন তাহলে একটু হাতটা ধরলেও তো পারতেন!"

নির্ভীক হয়তো বুঝলো ওর মনের কথাটা।আলতো হেসে বলল,

"প্রেম ভালোবাসায় খুব সাধারন একটা বিষয় কি জানেন?"

হুট করে প্রেম ভালোবাসা নিয়ে কথা বলায় প্রভা একটু অবাক হলো।উত্তরে বলল,

"না আপনি বলুন।"

"ধীরে ধীরে সম্পর্কটাকে অপবিত্র করে তোলা।"

"মানে?"

"মানেটা খুব সহজ।আমাদের ছোঁয়ার অধিকার একমাত্র নিজের স্ত্রীকেই আছে,পর নারীকে না।যখন কোন পুরুষ তার শখের নারীকে স্পর্শ করে তখন অনিচ্ছা সত্বেও তার মাঝে কিছু নিষিদ্ধ ইচ্ছে অবশ্যই জাগে।হয়তো সে তখন অনেক গভীর কিছু কল্পনা করে ফেলল।তার মনে কামনা জাগবে এটাই স্বাভাবিক।কেননা নারী পুরুষ কে তৈরি করা হয়েছে এমন ভাবে যে তারা একে অপরের উপর আকৃষ্ট হবেই।অনেকেই কথাটা স্বীকার করে,অনেকে করেনা।"

"হঠাৎ এই কথাটা বলার মানে?"

"এমনি কোন কারণ নেই।"

প্রভা মৃদু বিরক্তিকর কণ্ঠে বলল,

"আমি জানি আপনি কারণ ছাড়া কোন কথা বলেন না।বলুন না কেন বললেন এই কথাটা?"

"মাঝেমধ্যে কারণ ছাড়া দু একটা কথা বলি আমি।ঠিক যেমন এখন বললাম।কিছু কথা আপনাকে শুধু জানিয়ে রাখলাম এর থেকে বেশি আর কিছু না।"

"এগুলো জানারই বা আমার কি দরকার ছিল?"

নির্ভীক মুচকি হেসে বলল,

"বুদ্ধিমতীর জন্য ইশারা যথেষ্ট হওয়ার কথা ছিল।কিন্তু আপনি তো দেখছি বড্ড বোকা।সরল স্বীকারোক্তি ছাড়া আপনি কিছুই বোঝেন না।অথচ আপনার আগ্রহ জটিল বাক্যলাপে।"

প্রভার মাথাটা এবার সত্যিই ঘুরে উঠলো।এই ছেলেটা মাঝে মাঝে এমন ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে কথা বলে যে বড় বড় কবি সাহিত্যিকরা হয়তো তার কথার মানে বুঝতে হিমশিম খাবে।সেখানে প্রভা মাত্র এক ক্ষুদ্র পাঠক।

"আমার সাথে কথা বলতে এলেই আপনাকে যত জটিল কথা বলতে হয় তাই না?আপনার কথা আমি বুঝি না কেন?"

"খুব একটা কঠিন কথা তো আমি বলি না।তবে আপনি আমায় বোঝেন না কেন?"

"আপনি ধরা দেন না আমার কাছে।আমার করে খুঁজে পাই না আমি আপনাকে।বোঝার সুযোগও পাই না।"

নির্ভীক হাসলো।প্রভা সত্যি ওর কথা বোঝে না?না বুঝলে নির্ভীক ধরা দেবে কি করে?মেয়েটা তো এখন অব্দি এটাই বুঝলো না যে নির্ভীক অনেক আগেই ওর কাছে ধরা দিয়েছে।নির্ভীক কে চুপ থাকতে দেখে প্রভা প্রশ্ন করে উঠলো,

"চুপ করে গেলেন যে?কিছু ভাবছেন?"

প্রভার প্রশ্নের উত্তরটা নির্ভীক কয়েক লাইনের গানের মাধ্যমে দিল।

❝আমি একলা ক্লান্ত ঘুড়ি!

যে আমাকে বুঝবে ভালো,

তার আকাশেই উড়ি।❞

"এর দ্বারা আবার কি বোঝাতে চাইলেন?"

"আমি বড্ড একা অনুপ্রভা।কেউ আমাকে বুঝতে পারে না ঠিকভাবে।যেখানে একটু খানি যত্ন পাই সেখানে নিজের জন্য একটু জায়গা খুঁজি।গন্তব্যহীন ভাবে সারা আকাশে উড়ে বেড়ানোর পর যখন দেখি যে কেউ আমায় একটু ভালোবাসা দিচ্ছে তখন নির্দিষ্টভাবে শুধু তার আকাশেই উড়তে চাই।আমি খুব ক্লান্ত।এবার এমন একটা আকাশে আমি উড়তে চাই যে আকাশটা একান্তই আমার হবে।এটা আমার স্বপ্ন।আমার অনেক দিনের স্বপ্ন।"

প্রভা এবারে বেশ অনেক কিছুই আন্দাজ করতে পারলো।সেই সাথে নির্ভীকের করা ইঙ্গিতও বুঝলো।

বিজ্ঞাপন

নিজের উত্তরটা সেও কয়েক লাইনের গানের মাধ্যমেই দিল।

❝আমি অধরা মাধুরী,

তোমার ভাঙা স্বপ্ন গুলো

নিজের মনেই জুড়ি।❞

নির্ভীক আলতো হাসলো।বাকিটুকু পথ আর দুজনের কেউই কোনো কথা বলল না।প্রভার বাড়ি অব্দি পৌঁছাতে আর পাঁচ মিনিটের মতন সময় লাগলো।বিল্ডিং এর নিচে ইশরাক কে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে দুজনেই চমকে উঠলো।ওদেরকে দেখে ইশরাকের মুখেও কুটিল হাসি ফুটে উঠলো।নিজেই প্রভাদের দিকে এগিয়ে এলো।আজ ইশরাক একাই এসেছে।ওর সাথে ওর দলের কোন ছেলেপেলে নেই।

"এতটা অপেক্ষা কেউ করায় সুন্দরী?সেই সন্ধ্যে থেকে তোমার বাড়ির সামনে অপেক্ষায় আছি,তোমায় এক নজর দেখবো বলে।তুমি কেন আমার ধৈর্যের এত পরীক্ষা নাও বলোতো?"

"আমি কি আপনাকে অপেক্ষা করতে বলেছিলাম?আপনি নিজে যেচে নিজের ধৈর্যের পরীক্ষা দিচ্ছেন আমি কি করতে পারি এতে?"

"তুমি চাইলেই তো সব পারো।এই ধরো এখনই কবুল বলে আমার সাথে আমার বাড়িতে চলে যেতে পারো আমার বউ হয়ে।তাহলে আমায় আর কষ্ট করে আমার ধৈর্যের এত পরীক্ষা দিতে হবে না।যাক গে সেসব কথা বাদ দেই এখন।তার আগে আমায় বল তুমি নির্ভীকের সাথে কি করছো?আমি তো তোমায় ওর সাথে বেশি ঘোরাঘুরি করতে নিষেধ করেছিলাম তাই না?"

ইশরাকের এবারের প্রশ্নের উত্তরটা খোঁদ নির্ভীকই দিল।গম্ভীর গলায় বলল,

"ও কার সাথে ঘোরাফেরা করবে সেটা কি তোর থেকে শুনবে?অযথা ঝামেলা করিস না,যা এখান থেকে।"

ইশরাক শান্ত দৃষ্টিতে নির্ভীকের দিকে তাকালো।ইশরাকের সেই শান্ত দৃষ্টির মাঝে যে ঠিক কতটা রাগ আর হিংস্রতা লুকিয়ে আছে সেটা যদি প্রভা বুঝতে পারত তাহলে হয়তো নিজ থেকে আর নির্ভীকদের সাথে কোন যোগাযোগ রাখত না।

"সুন্দরীর সাথে কথা বলছি তো আমি।তুই অযথা আমার মাথাটা গরম করছিস কেন?তোদের ব্যবস্থা তো আমি এক না একদিন ঠিকই করব।কিন্তু তোকে সাবধান করে দিচ্ছি এরপর থেকে যেন আমার সুন্দরীর আশেপাশেও তোকে আমি না দেখি।"

"তোর কি মনে হয় তোর এসব হুমকিতে আমি ভয় পাই?এর আগেও তো কমবার আমায় হুমকি দেস নি। কখনো কি দেখেছিস ভয়ে লেজ গুটিয়ে পালিয়ে গেছি ময়দান থেকে?"

প্রভার মন বলছে বেশ বড়সড়ো একটা ঝামেলা তৈরি হতে চলেছে।নির্ভীকের হাত ধরে ওকে অনুরোধ করে বলল,

"আপনি চলে যান এখান থেকে প্লিজ আর কথা বাড়াবেন না।"

প্রভাকে নির্ভীকের হাতটা ধরতে দেখে ইশরাকের মাথায় যেন আগুন জ্বলে উঠলো।হিংস্র কন্ঠে বলল,

"ওর হাত ধরেছ কোন সাহসে তুমি?ছাড়ো।তুমি কিন্তু আমার সহ্যের সব সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছ সুন্দরী।যার তার সাথে ঢলাঢলি করতে তোমার খুব ভালো লাগে তাই না?অন্য পুরুষের ছোঁয়া এতো মিষ্টি লাগে কেন তোমার কাছে?"

নির্ভীকের চোয়াল জোড়া শক্ত হয়ে গেল।দুহাত মুষ্টিবদ্ধ করল ইশরাক কে মা/রা/র উদ্দেশ্যে।প্রভা যেন আগে থেকেই সেটা বুঝতে পারল।প্রাণপনে নির্ভীক কে আটকানোর চেষ্টা করলো।সাথে ঘৃণা ভরা কন্ঠে ইশরাক কে উদ্দেশ্য করে বলল,

"আপনি একটা জা/নো/য়া/র।চলে যান আমার চোখের সামনে থেকে।"

"আমার অবাধ্য হয়ে তুমি ঠিক করছো না।যদি আমি তোমাকে না পাই,তোমাকে তো শেষ করবোই সাথে সব কটাকে টুকরো টুকরো করে নদীতে ভাসিয়ে দেবো।ওদের র/ক্তে স্নান করবো আমি।তারপরে আমার এই গায়ের জ্বা/লা মিটবে।ওদের সবকটার কলিজা বের করে আমার কুকুরকে খাওয়াবো।এমন ভয়ানক মৃত্যু ওদেরকে উপহার দেব যেটা কখনো ওরা কল্পনাও করতে পারছে না।আর এর জন্য দায়ী থাকবে কেবল তুমি আর তোমার অবাধ্যতা।"

নির্ভীকও পাল্টা হিংস্র কন্ঠে বলল,

"মা/রবি তো?বেশ প্রস্তুত রইলাম তোর হাতে ম/রা/র জন্য।কিন্তু মনে রাখিস আমি ম/রা/র আগে তোকে মে/রে রেখেই ম/র/বো।আর যদি ওর দিকে হাত বাড়িয়েছিস তাহলে মনে রাখিস প্রয়োজনে তোকে তোর ভাষাতেই সোজা করব।"

প্রভা ধমকের সুরে নির্ভীককে বলল,

"চুপ করুন আপনি।আপনি অন্তত আমার দিকটা বুঝুন।"

কথাটা বলার পর ইশরাক কে উদ্দেশ্য করে বলল,

"আপনি যান এখান থেকে।কথা দিলাম আর ওদের সাথে কোন যোগাযোগ থাকবে না আমার।"

প্রভার মুখ থেকে এই কথাটা নির্ভীক একদমই আশা করেনি।মৃদু রাগী কন্ঠে বলল,

"মাথা ঠিক আছে আপনার?ওর কথাতে ভয় পেয়ে আমাদের সাথে সম্পর্ক শেষ করে দেবেন আপনি?"

"হ্যাঁ করব।এছাড়া আর কোন উপায় দেখছি না আমি।আমার আগেই বোঝা উচিত ছিল যে আমি আমার এই পো/ড়া কপাল নিয়ে যাদের জীবনে যাব তাদের জীবনটাও দুর্বিষহ হয়ে উঠবে।আর আপনাকে বলছি ওদের কোন ক্ষতি আপনি করবেন না।ওদের থেকে দূরে থাকুন।আমি আপনার কথা রেখেছি আপনি আমার কথা রাখুন।"

ইশরাক বক্র হেসে বলল,

"তুমি যদি আমার একটা কথা শোনো তার বদলে আমি তোমার দশটা কথা শুনতে রাজি আছি।কিন্তু একটা কথা মনে রেখো তোমায় ভালোবাসি জন্য এটা ভেবো না যে তোমায় মা/রতে পারবো না।জাস্ট কয়েক সেকেন্ড লাগবে তোমায় শেষ করতে।যদি আর কখনো ওদের সাথে দেখেছি বিশেষ করে নির্ভীকের সাথে তাহলে মনে রেখো ওদের সবকটা কে তো শেষ করবোই তার সাথে তোমাকে ভোগ করে তারপর তোমাকেও শেষ করব।এখন নিজের স্ত্রীর মর্যাদা দিতে চাইছি সেটা যেহেতু তোমার সহ্য হচ্ছে না তবে বাকিদের সাথে যা করি তোমার সাথেও ঠিক তাই করবো।আর এটা করতে আমার বুক একটুও কাঁপবে না।"

কথাটা বলে ইশরাক পাশে পার্ক করা বাইকটা নিয়ে চলে গেল।ইশরাক সেখান থেকে চলে যেতেই প্রভা যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচল।নির্ভীক প্রভার থেকে নিজের হাতটা ছাড়িয়ে নিয়ে রাগী কণ্ঠে বলল,

"ওই শ/য়/তা/নে/র ভয়ে আপনি আমার সাথে আর যোগাযোগ রাখবেন না?থাকতে পারবেন আমার সাথে কথা না বলে?"

প্রভা নিজেকে সামলে স্বাভাবিক কণ্ঠে বলল,

"দেখুন এছাড়া আমার হাতে আর কোনো উপায় নেই। উনি মানুষ না।যদি আমার জন্য আপনাদের কোন ক্ষতি হয়ে যায় তাহলে আমি কিভাবে নিজেকে ক্ষমা করব বলুন?"

নির্ভীক দু হাতের মুঠোয় প্রভার হাতটা নিয়ে শক্ত করে ধরে বলল,

"কিচ্ছু হবে না।আপনার কি মনে হয় ইশরাকের সাথে আমাদের এই শত্রু টা আপনার জন্য?না।অনেক পুরনো শত্রুতা এটা আমাদের।জানেন তো আমি এটা খুব ভালো করেই জানি যে কোন না কোনদিন ইশরাক খুব বড় একটা ক্ষতি করার চেষ্টা করবে আমাদের সবার।যদি আমাদের ভাগ্য ভালো হয় তাহলে আমরা বেঁচে যাব।কিন্তু তাই বলে কি ওর ভয়ে বেঁচে থাকাটাকে দুর্বিষহ করে তুলবো?"

"আপনি বুঝতে পারছেন না।আপনাদের সাথে ওর আগের ঝামেলা আর এই বিষয়টা সম্পূর্ণ আলাদা।এর আগে কলেজে একটা ছেলে আমার সাথে সামান্য একটু কথা বলেছিল জন্য সেই ছেলেটাকে মে/রে হাত-পা ভেঙে হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছিল।বকুলের স্বভাবের মাঝে একটু মেয়েলি ভাব আছে জন্য ও বকুলকে অতটা গুরুত্ব দেয়নি।ঠিক এই ভয়েই আমি কারো সাথে বন্ধুত্ব করি না কিন্তু কেন জানি আপনাদের সাথে করে ফেললাম।এখন আমার নিজেরই নিজেকে চর লাগাতে ইচ্ছে করছে।আমারই উচিত হয়নি আপনাদের সাথে আগ বাড়িয়ে বন্ধুত্বটা করার।"

নির্ভীক জোরে জোরে কয়েকটা নিঃশ্বাস ফেলে নিজের রাগটা নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করল।

"যদি আপনি যোগাযোগ রাখতে না চান তবে ঠিক আছে আমি আপনাকে জোর করব না।কিন্তু একটা কথা মনে রাখবেন আমাকে আপনার সাথে কথা বলার থেকে কেউ আটকাতে পারবেনা।আপনি চুপ করে থাকবেন তো?বেশ ভালো কথা।আমি একাই বলে যাব।আপনার নিরবতাই আমার কথা বলার সঙ্গী হবে।আপনি আমার সাথে দেখা করতে চাইবেন না তো?কোন ব্যাপার না।এই শহরের হাজারো মানুষের ভিড়ের মধ্যে থেকে আমি আপনাকে ঠিক খুঁজে বের করে নেব।যান ওপড়ে যান।আপনি গেলে আমি বাড়ি ফিরব।"

প্রভারও কেন যেন আর কিছু বলতে ইচ্ছে করলো না।কিছু বলল না নির্ভীক কে চুপচাপ ভিতরে চলে গেল।নির্ভীক ভেবেছিলে হয়তো প্রভা ফিরে এসে ওকে বলবে যে না ইশরাকের ভয়ে ও নির্ভীকের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করবে না।হয়তো ভরসা নিয়ে বলবে,

"আমি জানি আপনি আছেন।আর আপনি থাকতে আমার কিচ্ছু হতে দেবেন না।আপনি সাথে থাকলে আমার কোন ভয় নেই।"

কিন্তু তেমন কিছু হলো না।প্রভা একবার ফিরেও তাকালো না।নির্ভীকের বুকটা কেমন যেন ফাঁকা ফাঁকা লাগলো হুট করে।কেমন এক শূন্যতা অনুভূত হলো।এই কি তবে হারানোর ভয়!

বিজ্ঞাপন
ভ্রমর কইও গিয়া গল্পটি খুশবু আকতার-এর লেখা একটি জনপ্রিয় পারিবারিক সম্পর্কভিত্তিক গল্প