ভ্রমর কইও গিয়া

পর্ব - ১৫

🟢

আধাঘন্টা ধরে একটা নির্দিষ্ট জায়গার মাঝে সৌমি গোলগোল ঘুরপাক খাচ্ছে।মাঝে মাঝে ভুলে যাওয়ার রোগটা তার বেশ পুরনো।কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে এই রোগটা যেন আরো বেড়েছে।টিউশন শেষে বাড়ি ফিরছিলো কিন্তু আজ বাড়ি ফেরার পথটাই ভুলে গিয়েছে।ফোনটা ব্যাগে তোলার কথাও মনে নেই। নাহলে প্রভাকে কল করে সাহায্য চাইতে পারতো।কোন রাস্তা দিয়ে এসেছিল সেটা কোনো মতেই মনে করতে পারছে না।জায়গার নামটাও মনে করতে পারছে না। মস্তিষ্কের ওপর বেশি চাপ প্রয়োগ করলে প্রচন্ড ব্যথা করছে।ঘুরতে ঘুরতে এমন এক জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে যে জায়গাটা সৌমির সম্পূর্ণ অচেনা।কি করবে বুঝতে পারছে না।ভীষণ কান্না পাচ্ছে সৌমির এখন।কাউকে তো জিজ্ঞেস করতেও পারছে না কিছু। যদি জায়গার নামটাই না মনে থাকে তাহলে কি বা জিজ্ঞেস করবে।সৌমি ভাবলো আর হয়তো কোনদিনও বাড়ি ফিরতে পারবে না,না কখনো প্রভার দেখা পাবে। আবার হয়তো একা হয়ে গেল ও।এদিকে রোদের মধ্যে হাঁটতে হাঁটতে গলাটা শুকিয়ে এসেছে।দূরে একটা দোকান দেখতে পেয়ে সেদিকে এগিয়ে গিয়ে এক বোতল পানি কিনলো।দোকানের সামনে বসার জায়গায় বসে ঢক ঢক করে অর্ধেক বোতল পানি খেয়ে নিল।নিজেকে ভীষণ অসহায় লাগছে আজ।কি করবে কিচ্ছু বুঝতে পারছে না।অবশিষ্ট পানিটুকু দিয়ে মুখ ধুলো।ঠান্ডা মাথায় মনে করার চেষ্টা করলো ঠিকানা।ভাবনার মাঝেই একটা পরিচিত কণ্ঠস্বর ভেসে এলো সৌমির কানে।একটা পুরুষালী কন্ঠস্বর।

"ভাই একটা সিগারেট দেন তো।"

সৌমি তৎক্ষণাৎ পিছন ফিরে তাকাতেই পরিচিত মুখটা দেখতে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়লো যেন।এই যাত্রায় তবে সৃষ্টিকর্তা ওকে বাঁচিয়ে দিল।সিগারেটটা নিয়ে তিসান চলে যেতে ধরলে সৌমি উঠে গিয়ে ওর সামনে দাঁড়ালো।হুট করে সামনে এসে দাঁড়ানোতে তিসান চমকে দু পা পিছিয়ে গেল।সামনে সৌমিকে দেখতে পেয়ে বিস্ময় ভরা কন্ঠে বলল,

"তুমি এখানে কি করছো?এদিকটাই তোমাদের বাড়ি নাকি?"

সৌমি কাঁদো কাঁদো কন্ঠে বলল,

"আমায় একটু সাহায্য করবেন?আমি না খুব বিপদে পড়েছি।ভাগ্যিস আল্লাহ আপনাকে পাঠিয়ে দিল নাহলে আমার আজকে কি হত।"

তিসানের কপালে দুশ্চিন্তার ভাজ পরলো।প্রশ্নাত্মক কন্ঠে জিজ্ঞেস করল,

"কি হয়েছে?"

"আমি বাড়ি ফিরতে পারছি না।আমি না বাড়ির রাস্তা ভুলে গিয়েছি।একটু প্রভাকে ফোন করে আসতে বলবেন?"

"রাস্তা ভুলে গিয়েছো তো কাউকে ঠিকানাটা বললেই তো রাস্তা দেখিয়ে দেয় তার জন্য কাঁদছো কেন পা*গল?"

সৌমি দুহাতে চোখের জল মুছে নিয়ে ক্রন্দনরত কন্ঠে বলল,

"আসলে আমার একটা সমস্যা আছে।কোন কিছু মনে রাখতে পারি না ঠিকঠাক।এটা আমার ছোটবেলা থেকে সমস্যা।আগেও এমন হতো।মানুষের নাম ভুলে যেতাম, একটা জিনিস কোথাও রাখলে মনে করতে পারতাম না,এমনকি রাস্তাঘাট ভুলে যেতাম।কিন্তু অনেকদিন হলো এই সমস্যাটা ছিল না।গত কয়েকদিন ধরে বেড়েছে।আর দেখুন আজ আমি বাড়ির রাস্তাটাও ভুলে গেছি,জায়গার নামটাও কোনোমতেই মনে করতে পারছি না।ফোনটা ভুলে বাড়িতে রেখে এসেছি।"

পুরো ব্যাপারটা মস্তিষ্কে ধারণ করতে তিসানের বেশ কিছুটা সময় লাগলো।প্রথম দফায় তো বিশ্বাস করতে বেশ অসুবিধাই হচ্ছিল যে এত বড় একটা মেয়ে কি করে নিজের বাড়ি ফেরার রাস্তা ভুলে যায়।পরে যখন সৌমি নিজের অসুস্থতার কথাটা বলল তখন বিশ্বাস হলো।ভীষণ মায়া লাগল তিসানের সৌমির জন্য।মেয়েটা কেমন অসহায়ের মতন কাঁদছে।এমনিতেই একটু না বেশ বোকা তার ওপর আবার এমন বিচ্ছিরী একটা রোগ।তিসান কান্না থামাতে বলে আশ্বস্ত করে বলল,

"কান্না থামাও।আমি আছি তো।বাড়ি পৌঁছে দেবো চিন্তা করো না।"

"আমি ভেবেছিলাম আমি মনে হয় আর প্রভার কাছে ফিরতে পারবো না।আবার কেউ আমাকে ধরে নিয়ে গিয়ে পাচার করে দিতে চাইবে হয়ত।"

কথাটা বলে সৌমি একটু শব্দ করেই কাঁদলো।তিসান বুঝতে পারছে না এখন সৌমিকে বাড়ি পৌঁছে দেবে কি করে।ওর কাছে তো প্রভার নাম্বারটাও নেই আর সৌমি নিজের বাড়ির ঠিকানাও বলতে পারছে না।এটা কেমন অসুস্থতা যে জায়গার নামটা অবধি ভুলে যায় সেটা তিসানের মাথায় আসলো না।

"একটু চেষ্টা করো জায়গাটার নাম মনে করার না হলে আমি কি করে পৌঁছে দেবো তোমায় বলো।"

তিসানের কথা শুনে সৌমি বেশ অনেকক্ষণ মনে করার চেষ্টা করলো।

"পারছিনা মনে করতে।"

"আচ্ছা ঠিক আছে মনে করতে হবে না।"

তিসান একটু ভেবে নির্ভীকের নাম্বারে কল দিল।দুবার রিং হতেই ফোনটা রিসিভ করলো।

"হ্যাঁ তিসান ভাই বলো।"

"বলছি যে তোমরা কি আমাদের আড্ডা খানায় আছো এখন?"

"হ্যাঁ তোমার জন্য অপেক্ষা করছি তুমি কোথায়?"

"আমি আসছি।আর প্রভা কি তোমাদের সাথে আছে?"

"আছে কিন্তু চলে যাচ্ছে।কেন?"

"ওকে থাকতে বলো।"

"তোমার কি খুব দরকার ভাই তাহলে একটু ফোনে বলে নাও।আসলে ওর বান্ধবী ফোন ধরছেনা ওর চিন্তা হচ্ছে।তাই বাড়ি যাচ্ছে।"

তিসান লম্বা একটা শ্বাস ফেলে বলল,

"ওই জন্যই প্রভা কে থাকতে বলছি।ওর বান্ধবীকে আমি পেয়েছি।"

তিসানের কথাটা নির্ভীকের ঠিক হজম হলো না।

"তুমি পেয়েছ মানে?"

"ও নাকি বাড়ি ফেরার রাস্তা ভুলে গেছে।জায়গাটার নামও মনে করতে পারছে না।ভাগ্যিস আমার সাথে দেখা হয়ে গেল।তুমি প্রভা কে থাকতে বলো আমি আসছি।"

তিসান ফোনটা রাখতে ধরলে সৌমি অনুনয়ের সুরে বলল,

"আমাকে একবার একটু প্রভার সাথে কথা বলতে দেবেন?"

তিসান ফোনটা কানে ধরে নির্ভীককে বলল যে সৌমি প্রভার সাথে কথা বলতে চায় ওকে যেন ফোনটা দেয়। প্রভা ফোনটা ধরতেই তিসান সৌমির দিকে ফোনটা এগিয়ে দিল।ওপাশ থেকে প্রভার উদ্বিগ্ন কণ্ঠস্বর পেতেই সৌমি হাউমাউ করে কেঁদে উঠলো।

"প্রভা তুই কোথায়?আমি না হারিয়ে গেছি।আমি বাড়ি ফিরতে পারছি না।তুই...তুই আমার জন্য অপেক্ষা কর আমি আসছি।আমাকে ছাড়া বাড়ি যাস না প্লিজ।আমি আবার হারিয়ে যাব।"

সৌমির কান্নার আওয়াজে প্রভার নিজেরও কান্না গুলো ঠেলে বেরিয়ে আসতে চাইছে।কিন্তু এই মুহূর্তে ওকে নিজেকে শক্ত রাখতে হবে।সৌমিকে সামলানোর জন্য হলেও নিজেকে সামলাতে হবে।আদুরে কন্ঠে বলল,

"হারিয়ে যাবি কেন?ভাইয়া তো বলল যে তোকে নিয়ে আসছে।একদম কাঁদবি না।আমি এখানে অপেক্ষা করছি তোর জন্য।তুই এলে তোকে নিয়ে তারপর বাড়ি ফিরব।"

প্রভা আরো কিছু বলতে যাবে তার আগেই তিসানের ফোনের ব্যালেন্স শেষ হয়ে কলটা কেটে গেল।সৌমি ফোনটা কান থেকে নামিয়ে তিসানের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলল,

"ফোনটা কেটে গেল কেন?"

"ব্যালেন্স শেষ হয়ে গিয়েছে।চলো,ওখানেই তো যাচ্ছি গিয়ে কথা হয়ে যাবে।একটু হাঁটতে হবে।এখান থেকে কোন গাড়ি পাবোনা।"

কথাটা বলে তিসান হাঁটা ধরল।তিসানের হাঁটার গতির সাথে সৌমি তাল মেলাতে ব্যর্থ হচ্ছিল।এক পর্যায়ে একটু দৌড়ে গিয়ে তিসানের হাত ধরে বলল,

"এত জোরে হাঁটছেন কেন?আমিতো আপনার সাথে পেরে উঠছি না।আবার যদি হারিয়ে যাই আমি।"

তিসান আলতো করে সৌমির থেকে নিজের হাতটা ছাড়িয়ে নিয়ে শান্ত কণ্ঠে বলল,

"তোমাকে তোমার জায়গায় পৌঁছে দেয়ার দায়িত্ব যখন নিয়েছি হারাতে দেবো না।তুমি আগে আগে হাঁটো আমি তোমার পিছনে আছি।"

বিজ্ঞাপন

সৌমি আগে আগে হাঁটছে আর কিছুক্ষণ পরপর পিছন ফিরে তিসান কে দেখছে যে ও আছে কিনা।আবারো হারিয়ে যাওয়ার ভয় মনের মাঝে জেকে বসেছে।সৌমির কান্ডে তিসান হাসলো।মেয়েটার জন্য যেমন মায়া হচ্ছে আবার ওর আচরণে তেমন হাসিও পাচ্ছে।এর মাঝে তিসানের মনে পড়লো যে ও সিগারেট খাওয়ার কথাটাই ভুলে গিয়েছে।পকেট থেকে সিগারেটটা বের করে খেতে ধরে থেমে গেল।সেদিনের সৌমি আর প্রভার বলা কথাগুলো মনে পড়ে গেল।তিসান ভাবলো যে না এর সামনে সিগারেট খাওয়া যাবেনা।নিজের ইচ্ছেকে দাবিয়ে সিগারেটটা পকেটে তুলে রাখলো।

_______________

"ফোন নিয়ে যাসনি কেন তুই?আর একটা ছোট নোটপ্যাডে যে আমি তোকে আমার নাম্বার,বাড়ির ঠিকানা লিখে দিয়েছি সেটা কই?"

"বাড়িতে ভুলে ফোন রেখে চলে এসেছি।আর তোকে বলেছিলাম না সেদিন ছাতা দিয়ে যাইনি বৃষ্টিতে ভিজে ছিলাম।বৃষ্টিতে ভিজে ওই দিন নোটপ্যাডটা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল তাই ফেলে দিয়েছিলাম।তোর থেকে আবার লিখে নেবো মনে নেই।"

প্রভা কণ্ঠে একরাশ অসহায়ত্ব নিয়ে বলল,

"এমন কেউ করে?যদি আজ আমি তোকে আর খুঁজে না পেতাম তাহলে আমি কি করতাম বলতো?"

সৌমি এখনো ফুপিয়ে কাঁদছে।এই নিয়ে দ্বিতীয় বার এমন হলো যখন প্রভার থেকে হারিয়ে যেতে বসেছিল সৌমি।ওকে পেয়ে প্রভা একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়লো বুকের উপর থেকে একটা বিরাট বড় পাথর নেমে যাওয়ার মতন অনুভূত হলো।পাশ থেকে তিসান প্রভাকে উদ্দেশ্য করে বলল,

"ওকে কিন্তু একা ছাড়া বিপদজনক প্রভা।আর ওর এই রোগের জন্য কোন ওষুধ খায় না?"

"খায়তো।আসলে এক সপ্তাহ ধরে ওষুধ কিনতে পারছি না।সেজন্য মনে হয় সমস্যাটা বেড়েছে।সামনের মাসে ওকে আবার ডাক্তার দেখাবো ভাবছি।"

"হুম দেখানো দরকার।আর আমার মনে হয় ওকে বাড়ি থেকে বের না হতে দেওয়াই ভালো।আর বের হলেও একা বের হতে দেয়া উচিত না।"

"এজন্য আগে আমরা একসাথে বাড়িতে ফিরতাম কিন্তু আসলে এখন দুজনের টিউশনের টাইমিং আলাদা হয়ে যাওয়ার কারণে পারছি না।টিউশনটা ছাড়তেও পারছি না।কি যে করি বুঝতে পারছি না।"

তিসান আর এই নিয়ে কোন কথা বলল না।আর কিছু বললে হয়তো ওদের ব্যক্তিগত বিষয়ের মাঝে ঢুকে পড়া হবে যেটা তিসান চায় না।মুখে বলা যতটা সহজ কাজে করা ততটা সহজ না।তিসান তো আর এই কথাটা বলতে পারে না যে টিউশনটা ছেড়ে দিয়ে সৌমির সাথে যাতায়াত করা শুরু করো।তাহলে তো ওদের জীবন চলবেনা।দুটো মেয়েকে নিজেদের সম্পূর্ণ খরচ চালাতে হয়।থাকা,খাওয়া,পড়াশোনা,কাপড়চোপড় নিজেদের সবকিছু ওদের দুজনকে চালাতে হয়।সেখানে একটা টিউশন যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ সেটা হয়তো ওদের থেকে ভালো আর কেউ জানবে না।টাকা মানুষকে ঠিক কতটা অসহায় বানিয়ে দেয় সেটা হয়তো এখানে উপস্থিত প্রত্যেকটা মানুষই খুব ভালো করে বোঝে।যাদের সবার জীবন টাকার কাছে গিয়ে বড্ড অসহায়।

_______________

"আপনাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছি সেটা তো একবারও জিজ্ঞেস করলেন না অনুপ্রভা?"

নির্ভীক এর প্রশ্নে প্রভা আলতো হেসে বলল,

"ভরসা আছে আপনার উপর।"

"এই ভরসাটার কারণ কি?"

"আপনি অর্জন করেছেন।সবাইকে যেমন বিশ্বাস করা যায় না ঠিক তেমনি কিছু কিছু মানুষকে চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করা যায়।আর আমার কাছে আপনি সেই কাতারে পড়েন।জানিনা কেন কিন্তু আপনাকে আমি চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করতে পারি।আমার কাছে আপনি আর পাঁচটা সাধারণ মানুষের মতন না।আপনি আলাদা।"

"নিজের এত প্রশংসা এর আগে কারো মুখে কিন্তু শুনিনি।"

"আমি কারো প্রশংসা করতে কার্পণ্য করিনা।যাকে আমার ভালো লাগে না সেটাও যেমন সরাসরি তাকে বুঝিয়ে দেই ঠিক তেমনি যাকে আমার ভালো লাগে সেটাও আমি তাকে সরাসরি বুঝিয়ে দিতে ভালোবাসি।"

"আমাকে আপনার ভালো লাগে?"

"ভালো না লাগার মতন কোন কারণ নেই।"

"আর কিছু?"

প্রভা ভ্রুঁ কুঁচকে তাকালো নির্ভীকের দিকে।সন্দেহী কন্ঠে প্রশ্ন করলো,

"আপনি কি আরও কিছু শুনতে চাইছেন নাকি?"

"না মনে হলো আপনি বলতে চাইছেন তাই জিজ্ঞেস করলাম।"

"চিন্তা নেই যদি কখনো আমার বলতে ইচ্ছে করে তাহলে নিশ্চয়ই বলবো।আমি আবার অত কথা লুকিয়ে রাখতে পারি না।"

"লুকিয়ে রাখতে শিখুন।যখনই আপনি কোন কিছু নির্দ্বিধায় প্রকাশ করতে শুরু করবেন তারপরেই সেই বিষয়টার গুরুত্ব কমে যায়।ধীরে ধীরে মূল্যহীন হয়ে পরে সে বিষয়টা।এর থেকে ভালো মনের মাঝে লুকিয়ে রাখতে শিখুন।লুকানো বিষয়গুলোই চিরকাল মূল্যবান থাকে।"

প্রভা নির্ভীকের দিকে তাকিয়ে আলতো হেসে বলল,

"যদি কেউ মূল্য দিতে না পারে তাহলে সেটা তার ব্যর্থতা।এখন অপর পাশের মানুষটা কি করবে না করবে সেটা ভেবে তো আর আমি নিজের চেষ্টাকে থামাতে পারি না তাই না?অন্তত নিজের কাছে নিজে পরিষ্কার থাকবো।কখনো যদি মনের মাঝে প্রশ্নটা ওঠে যে আমি কতটুকু চেষ্টা করেছি তাহলে তার উত্তরটা দিতে পারব যে হ্যাঁ আমি চেষ্টা করেছি।"

"এসে গেছি নামুন।"

"হ্যাঁ?"

"বললাম আমাদের গন্তব্যে এসে গেছি।নামুন।"

বেল বাজাতেই একজন ভদ্রমহিলা এসে দরজাটা খুলে দিল।নির্ভীক কে দেখে তার মুখে হাসি ফুটে উঠলো।প্রভাকে নিয়ে ভিতরে গিয়ে ওদেরকে সোফায় বসতে বলে ভদ্রমহিলা চা বানাতে গেলেন।এই সুযোগে প্রভা নির্ভীক কে উদ্দেশ্য করে বলল,

"এবার বলুন কোথায় নিয়ে এসেছেন?এখন জানতে ইচ্ছে করছে আমার।"

"এটা উৎসবের ফুপির বাড়ি।"

প্রভা বিস্ময় ভরা কন্ঠে বলল,

"ওনার ফুপির বাড়িতে আমরা কি করছি?"

"আসলে উৎসবের ফুপাতো বোনকে আগে পড়াতাম। আপনাকে বলেছিলাম না যে একটা মেয়েকে পড়াতে হবে।এই জায়গার কথাই বলেছিলাম।এখানে আপনার অসুবিধা হওয়ার কোন চান্স নেই।বাড়িতে কোন ছেলেও নেই।আর ফুপি,কাশফিয়া দুজনেই খুব ভালো।আমি তো একটা কোচিংয়ে জয়েন করছি তাই ওকে পড়ানোর সময় হয়ে উঠবে না।তাই ভাবলাম আপনাকে দিয়ে দেই।"

"ওহ্।"

প্রভা আর কোন প্রশ্ন করল না।এদিকে ঊষাও আজ কাশফিয়ার সাথেই ছিল।নির্ভীক এসেছে খবরটা শুনতেই নিজে আগ বাড়িয়ে গিয়ে ট্রে তে করে চা দিয়ে এলো।যেহেতু ঊষার পরিচয়টা প্রভা আগেই পেয়েছে তাই খুব একটা অবাক হলো না ওকে এখানে দেখে। কিন্তু ঊষা প্রচন্ড অবাক হল।কিংকর্তব্যবিমূঢ় দৃষ্টিতে তাকিয়ে প্রশ্ন করলো,

"ম্যাম আপনি এখানে?"

ঊষার পেছন পেছন কাশফিয়াও এসেছে নিজের নতুন টিউটরকে দেখার জন্য।ঊষার মুখ থেকে এই প্রশ্ন শুনে কাশফিয়া ওকে জিজ্ঞেস করল,

"তুই চিনিস?"

"হ্যাঁ চিনি তো আমাকে তো উনিই পড়ান।তোকে বলেছিলাম না আমি একজনের কাছে পড়ি দারুণ পড়ায় ইনিই তিনি।"

নির্ভীক উঠে দাঁড়িয়ে কাশফিয়া কে বলল,

"কাশফিয়া তোমাকে একজন নতুন টিউটরের কথা বলেছিলাম না,ইনিই তিনি।কাল থেকে তোমাকে পড়াবেন।"

কাশফিয়া হালকা হেসে এগিয়ে গিয়ে প্রভার সাথে আলাপ করলো।এদিকে ঊষা ততক্ষণে নির্ভীক কে আরো ভালোভাবে দেখে নিল।কিন্তু নির্ভীকের সাথে প্রভার আগমনটা তার ঠিক ভালো লাগলো না।কোন এক অজানা আশঙ্কায় বুকের ভেতরটা মোচর দিয়ে উঠলো।বুকের বা পাশটায় চিনচিনে ব্যথা অনুভব করলো।

ভাঙা মনটা কোনো এক অজানা ভয়ে আবারো ভাঙলো।

বিজ্ঞাপন
ভ্রমর কইও গিয়া গল্পটি খুশবু আকতার-এর লেখা একটি জনপ্রিয় পারিবারিক সম্পর্কভিত্তিক গল্প