ভ্রমর কইও গিয়া

পর্ব - ১২

🟢

"এই উৎসব কোথায় যাচ্ছিস দাঁড়া!"

উৎসব নির্ভীকের কথায় দাঁড়ালো ঠিকই তবে তাড়াহুড়ো কন্ঠে বলল,

"ভাই তাড়াতাড়ি বল কি বলবি মেয়েটা অপেক্ষা করছে।"

নির্ভীক ভ্রুঁ কুচকে বলল,

"অপেক্ষা করছে কেন ওই মেয়ে?"

"আরে ভাই তোকে বলেছিলাম না একটা মেয়ের কথা।আরে আমি ওর নতুন ক্রাশ।ইনবক্সে নক করেছিল ওই তারপর থেকে চারদিন হলো একটু টুকটাক কথাবার্তা হচ্ছে আর কি।"

"তুই এখনো শোধরালিনা উৎসব।ভালো তো একজন কেও বাসিস না তাহলে অযথা এসব কথা বলিস কেন?"

"ভালোবাসতে চাই জন্যই তো কথা বলি।দেখ ভাই তুই খুব ভালো করে জানিস আমার প্রেম করার বহুৎ শখ কিন্তু শালা একটা মেয়েও ঠিকঠাক পাই না।আমি এখনো খোঁজ চালাচ্ছি।কিন্তু এই মেয়ে টিকবে না।অন্যরা তো কমপক্ষে এক সপ্তাহ টেকে একে চার দিনেই আউট করে দেবো।"

উৎসবের কথার প্রেক্ষিতে তিসান ব্যাঙ্গাত্মক গলায় বলে উঠলো,

"তা এনার অপরাধটা কি ভায়া?মনোরঞ্জন কি ঠিক ঠাক হচ্ছে না?"

"ভাই মনোরঞ্জনের কোন অভাব নাই।মালডা পুরোটাই একটা মনোরঞ্জনের জিনিস।এত মনোরঞ্জন কেও সার্কাস দেখলেও পাবে না।তুমি একটু অপেক্ষা করো আমি এসে তোমায় সবটা বলছি।"

কথাটা বলেই উৎসব চলে গেল।নির্ভীক একটা হতাশার শ্বাস ফেলল।তিসান ওর কাঁধে হালকা করে ধাক্কা দিয়ে বলল,

"আরে চাপ নিচ্ছ কেন এত?এই মেয়েদের সাথে ডেটে যাওয়া,প্রেম করা এসব তো আর উৎসবের জন্য নতুন না তাই না?"

"ও ডেটে যায় না ভাই।"

"তাহলে তো আরো ভালো।এরকম টুকটাক কথাবার্তা হয়েই থাকে।"

"চিন্তা তো আমার ওখানেই।ওর কাছে এই সম্পর্কটার মূল্য খুব হালকা।ভালোবাসার গভীরতা সম্পর্কে ওর ঠিক আন্দাজ নেই।আমার ওর জন্য ভয় হয় এরকম খেলতে খেলতে কখনো না সত্যিকারের মায়ায় জড়িয়ে যায়।আর ও যাদের সাথে কথা বলে তারা কেউই ওর ভালোবাসার মূল্যটা দিতে পারবে না।"

"এত চিন্তা করছো কেন?ও কি ছোট বাচ্চা?"

নির্ভীক দূরে দাঁড়ানো উৎসবের দিকে তাকিয়ে হালকা হেসে বলল,

"ভয়টা তো ওখানেই।একটা ছোট বাচ্চা যদি তার প্রিয় কোন কিছু হারিয়ে ফেলে তাহলে প্রথম প্রথম সে খুব কাঁদে কিন্তু একটু পর সে ঠিক ভুলে যায়।অন্য কিছু দিয়ে তাকে ভোলানো যায়।কিন্তু উৎসবের সাথে এমনটা করা সম্ভব না আমি তো চিনি ওকে।ও যেটাকে ভালোবাসে সেটাকেই সবটা দিয়ে ভালোবাসে।ওই বিষয়ের বিকল্প কোন কিছুকে ও আর ভালবাসতে পারে না।"

"আগে আসতে তো দাও আসল ভালোবাসা।আপাতত ছেলেটাকে এমনই থাকতে দাও।"

নির্ভীক চিন্তিত কণ্ঠে বলল,

"ভালোবাসা তো আর আগে থেকে বলে আসবে না ভাই।এই কারণগুলোর জন্য তার মনে উৎসবকে নিয়ে ভুল ধারণা সৃষ্টি হতে পারে।কিন্তু আমি তো জানি উৎসব কেমন।ওর একটা খারাপ স্বভাব হচ্ছে অন্যদের সামনে নিজেকে খারাপ হিসেবে প্রেজেন্ট করা।ও আফসোস করে যে কেউ ওকে ভালোবাসে না কিন্তু ও নিজেকে এমন ভাবে অন্যদের সামনে তুলে ধরে যে কেউ ওকে ভালোবাসতেই চাইবে না।"

নির্ভীকের কথা শুনে তিসান এবার শব্দ করে হেসে উঠলো।হাস্যজ্জ্বল কণ্ঠে বলল,

"মুখের কথাটুকু সবাই বিশ্বাস করে নেয় মনের কথাটা কেউ জানতে চায় না।বাইরের নিষ্ঠুর সত্তাটাকেই সবাই বিশ্বাস করে নেয় কিন্তু ভেতরের সেই নরম মনের খোঁজটা কেউ করেনা।"

___

"ঘুরতে যাবে আজ আমার সাথে?"

মেয়েটার প্রস্তাবে উৎসব নাক মুখ কুঁচকে বলল,

"এই গরমের ভেতরে আমি কোথাও যাবো না ঘুরতে।আমার মাথা এখনো এতটা খারাপ হয়নি।"

"আরে গরম সে তো বাইরে আমরা কোনো ভালো রেস্টুরেন্টে যাই?"

উৎসব পুনরায় অসম্মতি জানিয়ে বলল,

"দেখেন বনি রেস্টুরেন্টে যেতে গেলে অনেকটা পথ আমায় গরমের মাঝে যেতে হবে।অতটুকু গরমও আমি নিতে পারবো না।আসলে আমি ভালোবাসায় এখনই এতটা সিরিয়াস হইনি যে আ*গুনে পু*ড়বো।"

মেয়েটা মনে মনে দু'চারটে গালি দিল উৎসব কে।ইচ্ছে করছে দুটো থাপ্পড় মেরে এখানেই ফেলে রেখে যেতে কিন্তু কিছু করার নেই।যেহেতু টাকাটা নিয়ে ফেলেছে কাজের জন্য সেহেতু তাকে কাজটা শেষ করতেই হবে।দু কদম এগিয়ে এসে দুহাতে আলতো করে উৎসবের শার্টটা ধরে ধীর কন্ঠে বলল,

"তাহলে আমার বাড়িতে এসো জা/ন।আই প্রমিস আমি খুব যত্ন করবো তোমার।গরম লাগবেনা,এসি আছে আমার বাড়িতে।তার পরেও যদি গরম লাগে তাহলে বরং দুজনে বাথটবে একসাথে একটা লম্বা শাওয়ার নেব।এবারে তো নিশ্চয়ই যাবে?"

উৎসবের মাথায় এবার আ*গুন জ্ব*লে উঠলো।মেয়েদের ছ্যাচড়ামো গুলোই উৎসব ঠিক সহ্য করতে পারে না।আরে বাবা প্রেম করবি ভালো কথা তো সুশীল ভাবে কি প্রেম করা যায় না?এখানে গোসল করার কথা বলতে হবে কেন?ওর থেকে তো ভালো বলতে পারত যে এক গ্লাস বরফ দিয়ে ঠান্ডা শরবত করে দেব,পাখা দিয়ে বাতাস করবো,তা না সোজা বাথরুমে ঢুকে গেছে।

উৎসব নিজের কলার থেকে মেয়েটার হাত সরিয়ে দিয়ে দূরত্ব বজায় রেখে দাঁড়ালো।বিরক্তি মাখা কন্ঠে বলল,

"যদি ঠিকঠাক কথা বলতে তাইলে বউ বানিয়ে নিতাম। কিন্তু না,আমি বুঝতে পেরেছি তোমাকে বনিই বানাতে হবে।সো বনি নাও গেট আউট।আপনার মুখমন্ডল দেখলেই এখন আমার তিড়িং বিড়িং করে রাগ উঠছে।"

উৎসবের এমন পরিবর্তনের কারণ মেয়েটা ঠিক ঠাহর করতে পারল না।ভেবেছিলে এসব কথা বললে হয়তো গলে যাবে,নিশ্চিত ওর ফাঁদে পা দেবে।কিন্তু এই ছেলে তো অন্য ধাঁচের।এ তো এখন পুরো বিগড়ে গেল।উৎসব চলে যেতে নিলে মেয়েটা পিছন থেকে উৎসবের হাত টেনে ধরলো।উৎসব বিরক্তিকর মুখ ভঙ্গিতে পিছনে তাকিয়ে মেয়েটাকে উদ্দেশ্য করে বলল,

"ডোন্ট ডিস্টার্ব।আপনার উপর থেকে আমার ইন্টারেস্ট উঠে মহাকাশে দৌড় দিয়েছে।আপনি যদি সেটাকে ফিরে আনতে পারেন তাহলে আবার আমার কাছে আসবেন।"

"আরে রাগ করছ কেন তুমি সোনা?আমি তো এমনি মজা করছিলাম।আর কি বনি বনি বলে ডাকছো?বেবি বলে ডাকো।"

উৎসব রাগ মিশ্রিত কন্ঠে বলল,

"মেরা বা*লের ঠ্যাকা পড়ছে আপনার মতো বুড়িরে বেবি বলে ডাকার।আয়নায় একবার নিজের থোবরাটা দেখে নেবেন।যদি বনি ডাকে আপত্তি থাকে তাহলে খুব বেশি হলে চাচি বলে ডাকতে পারি।এসব বুইড়া টুইরা কে বেবি বলে ডাকতে আমি পারবো না।ধ্যাত সরে দাঁড়ান তো।গা চুলকাচ্ছে আমার।"

মেয়েটা এবারে একটু অপমানিত বোধ করল।নাকমুখ কুঁচকে বলল,

"তুমি কিন্তু এবার আমায় অপমান করছো?"

উৎসব হাস্যজ্জ্বল কণ্ঠে বলল,

"আরে বাহ্!চাচির তো দেখি দারুন বুদ্ধি।ঠিকঠাক বোঝার জন্য তোমাকে একদিন পর ব্লক করব।টাটা,বাই বাই,সি ইউ।আর যদি চোখের সামনে আপনি পড়েছেন চাচি তাহলে আই উইল কিক ইউ।"

কথাটা বলে উৎসব হনহন করে হেঁটে সেখান থেকে চলে এলো।আর মেয়েটা বিস্ময় ভরা দৃষ্টিতে উৎসবের পানে তাকিয়ে থাকলো।যেখানে এক রাত কথা বললেই ছেলেরা তার জন্য পাগল হয়ে যায় সেখানে এই ছেলেকে সে নিজে থেকে ওর বাড়িতে যাওয়ার কথা বলল অথচ সেই ছেলে কিনা ওকে অপমান করে চলে গেল?ব্যাপারটা ভীষণ আত্মসম্মানে লাগলো ওর।মনে মনে প্রতিজ্ঞা করল যে নিজের অপমানের বদলা ও নিয়েই ছাড়বে।

______________

"বসতে পারি আমরা এখানে?"

প্রভার কণ্ঠস্বর পেয়ে নির্ভীক আর তিসান দুজনেই ওর দিকে তাকালো।প্রভা আর সৌমিকে দেখতে পেয়ে তিসান হাস্যজ্জ্বল কণ্ঠে বলল,

"আরে লম্বা চুল আর কোকড়া চুল তোমরা হঠাৎ আমাদের আড্ডাখানায় যে?"

বিজ্ঞাপন

"আসলে আমাদের দুজনের তো আর তেমন কোন বন্ধু-বান্ধব নেই।আপনাদের সাথে কথা বলতে ভালোই লাগে তাই চলে এলাম।ভুল করেছি কি?"

"আরে না না ভুল করতে যাবে কেন একদম ঠিক কাজ করেছো।আমাদের এই দলিল করা জায়গাটা না হয় তোমাদের নামেও করে দেবো।"

প্রভা হাসলো।কিন্তু সৌমি চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে।প্রভা তিসান কে বলল,

"সব ঠিক আছে ভাইয়া কিন্তু এই লম্বা চুল আর কোকড়া চুল কি?আপনি নাম মনে রাখতে পারেন না?"

"মনে রাখতে চাই কিন্তু মনে রাখতে পারিনা।তোমাদের নাম গুলো একটু অন্যরকম।তার মধ্যে আবার বয়সও হয়ে যাচ্ছে তো তাই মনে রাখতে পারিনা।"

তিসানের কথার প্রেক্ষিতে সৌমি চট করে বলে উঠলো,

"আরে ভাইয়া এই সমস্যাটা তো আমারোও।আপনি বেশি বেশি করে বাদাম খাবেন বুঝেছেন।"

সৌমির কথা শুনে তিসান হালকা হেসে মাথা নাড়লো।দুজন বেঞ্চের ওপর বসতেই নির্ভীক প্রভা কে বলল,

"ইশরাক কি আর বিরক্ত করেছে?"

"না।বেশ কয়েকদিন হলো ওর দেখা পাচ্ছি না।"

"ভয় পেয়ে দূরে চলে যাওয়ার মানুষ তো ইশরাক না।আমি তো চিন্তায় ছিলাম যে এরপরে ওর অত্যাচার না আরোও বেড়ে যায়।"

নির্ভীকের কথায় সম্মতি জানিয়ে তিসান বলল,

"তোমার ধারণা মোটেও ভুল না।ও নতুন কিছু ভাবছে নাহলে ওদের আমাদের সাথে এত মেলামেশা ভালো করে খেয়াল করছে।সাবধানে থাকতে হবে আমাদের ভায়া।পাগলা ষাঁড় কে খেপাচ্ছি আমরা।বলা তো যায় না আঘাত আমাদের ওপরেও আসতে পারে।"

ওরা আরো কিছু বলবে তার আগেই উৎসব এসে বসে পড়লো।আচমকা প্রভার পাশে এসে বসাতে প্রভা মৃদু চমকে উঠলো।ওকে চমকে উঠতে দেখে উৎসব বলে উঠলো,

"সরি মাস্টান্নি,আপনাকে কাঁপানোর কোনো উদ্দেশ্য আমার ছিল না।"

উৎসবের এমন কথা শুনে সৌমি আর প্রভা দুজনেই নাক মুখ কোঁচকালো।এই ছেলের কথাবার্তা জীবনেও ঠিক হবে না।

এদিকে উৎসবের মুখ মন্ডলের এমন অবস্থা দেখে নির্ভীক গম্ভীর কন্ঠে বলল,

"টিকলো না তাই তো?"

উৎসব বিরক্তি মাখা কন্ঠে বলল,

"টিকবে কিভাবে?এখনো ঠিক করে কথাই হলো না আর ওই চাচি সোজা আমাকে নিয়ে বাথটবে ঢুকে গেছিলো।মানে ভাবতে পারছিস ভাই আমার শ্লীলতাহানি করার প্ল্যান করছিলো।"

উৎসবের কথা শুনে তিসান শব্দ করে হেসে ফেলল।হাসতে পারল না নির্ভীক,প্রভা কিংবা সৌমি কেউই।নির্ভীক হাসলো না তার কারণ ওর এখন উৎসবের ওপরে রাগ হচ্ছে।প্রভা আর সৌমি হাসতে পারলো না কারণ পুরো ব্যাপারটা ওরা বুঝেই উঠতে পারেনি এখনও।প্রভা নিজের কৌতুহল টুকু দমিয়ে রাখল। উৎসব কে কিছু জিজ্ঞেস করতে চায় না।কারণ এই ছেলের মুখের কোন ভরসা নেই।কখন আবার কি উল্টাপাল্টা বলে ফেলে তার ঠিক নেই।কিন্তু সৌমি প্রশ্ন না করে থাকতে পারলো না।কৌতূহলী কন্ঠে জিজ্ঞেস করলো,

"আপনি তো ছেলে।আর ছেলেদেরও শ্লীলতাহানি করা যায়?মানে কি করতো আপনার সাথে?"

সৌমির প্রশ্ন শুনে তিসান পুনরায় শব্দ করে হেসে ফেলল।এই মেয়েটা সত্যি বড্ড বোকা।উৎসব মৃদু বিরক্তিকর কণ্ঠে বলল,

"আমরা ছেলে জন্য কি আমাদের সম্মান নেই নাকি?আর যখন সম্মান আছে তাহলে শ্লীলতাহানিও করা যায়।এখন ও আমাকে বাথটবে নিয়ে গিয়ে কি করতো সেটা আমি কি করে বলবো?"

সৌমি এবারে থামলো।নতুন করে কিছু একটা ভাবতে বসলো।কাউকে কোন প্রশ্ন করতে না দেখে উৎসব নিজে থেকেই আবার বলে উঠলো,

"তিসান ভাই এবার তোমাকে আসল ঘটনাটা বলি।"

তিসান গভীর মনোযোগ নিবদ্ধ করে বলল,

"হ্যাঁ বলো।"

"যে মেয়েটার সাথে কথা বলে এলাম না,কি যেন নাম।ধুর বাল ভুলে গেছি।ওর নাম জানতে হবে না।জানিনা কোত্থেকে টপকালো।হোয়াটসঅ্যাপে দেখি একদিন নক দিল।তারপর কথা হলো টুকটাক।কথা আর কি হলো ও কয়টা ছেলের সাথে কি রিলেশন করেছে,ওর জন্য কতজন পাগল হয়ে বর্তমানে পাবনায় আছে,কে কে ওর জন্য জান প্রাণ সব উজার করে দিতে পারবে সে সব গল্প শুনতেই গেল।তা ঠিক আছে আমিও খুব মনোযোগ দিয়ে সেসব শুনলাম কারণ মেয়েটা দেখতে জোস।একদম বলিউড নায়িকাদের মত লাগলো থোবড়াটা।"

"তা সব কি মেকাপ আর ফিল্টারের কামাল নাকি সত্যিই দেখতে সুন্দর?"

"রাখো তো তোমার সুন্দর।ছবিতে দেখেছিলাম প্রিয়াঙ্কা চোপড়া বাস্তবে দেখি পেত্নী।মানে তুমি বুঝতে পারছো ভাই পেত্নীকে ঠিক কি পরিমাণ মেকআপ আর ফিল্টার লাগালে প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার মত লাগে দেখতে?"

নির্ভীক গম্ভীর গলায় বলল,

"কোনটা মেকআপ করা চেহারা আর কোনটা আসল চেহারা তুই সেই পার্থক্যটা বুঝিস না?আর সব থেকে বড় কথা তুই নিজেও খুব ভালো করে জানিস ওই মেয়ের সাথে তুই কোনো সম্পর্কে জড়াবি না তাহলে অযথা কথা বলে বিষয়টাকে এগোতে গেলি কেন?"

"তুই তো জানিস ভাই চান্স পেলেই আমার এই বিচ্ছু মার্কা মন ডান্স মা*রে।ভেবেছিলাম একটু কথা বলি কি আর হবে।"

এদিকে উৎসব নিজের মতন করে পুরো ঘটনা তিসান আর নির্ভীককে শুনিয়েই যাচ্ছে আর প্রভা ভ্রুঁ কুচকে ওর কথা শুনছে।এই ছেলেটাকে প্রভা যেমন ভেবেছিল এখন মনে আছে তার থেকেও বেশি ঘাপলা আছে এর মাঝে।সম্পর্ক বিষয়টা খুব হালকাভাবে নেয়।এদিকে নির্ভীক আর তিসানকে নিজের সম্পূর্ণ কাহিনী বলা শেষে প্রভার দিকে তাকালো।দুই ভ্রুঁ উঁচিয়ে সন্দেহী কন্ঠে প্রশ্ন করলো,

"এই যে মাস্টান্নি,ব্যাপারটা কি বলুন তো?সেই তখন থেকে দেখছি এভাবে হা করে তাকিয়ে আছেন।"

"আপনার কথা শুনছিলাম।শুধু যে মেয়েটার একার দোষ দিলেন কিন্তু ওকে সুযোগটা তো তৈরি করে দিয়েছেন আপনি।ওকে প্রশ্রয় না দিলে তো প্রশ্রয় পেতো না তাই না?"

"একদম ঠিক বলেছেন।সুযোগটা ওকে আমি তৈরি করে দিয়েছে কিন্তু আমি ওকে এতটা সুযোগ তৈরি করে দেইনি যে সোজা আমাকে নিয়ে বাথটবে নামার কথা বলবে।কথাই হলো তিন-চার দিনের মত।আরে এখনো তো একে অপরের সম্পর্কে কিছু জানিই নি।আচ্ছা আপনি আমাকে বলুন যদি আমি আপনার সাথে কথা বলতাম ধরুন আমি আপনাকে এই সুযোগটাও দিয়ে দিয়েছি তাই বলে কি আপনি আমাকে এই কথাটা বলতে পারতেন?"

উত্তরটা দিতে প্রভাকে এক সেকেন্ডও ভাবতে হলো না।

"কখনোই না।দেখুন প্রথমত আমার হাতে এত সময় নেই যে আমি অযথা একজনের সাথে কথা বলে টাইম পাস করব।দ্বিতীয়ত আমার কাছে সম্পর্ক বিষয়টা এত সস্তা না।এসব কি?আজ এর সাথে কথা বলছি কাল ওর সাথে কথা বলছি।এসব কেন করতে হবে?ভবিষ্যতে যাকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পাবেন তাকে কি উত্তর দেবেন?"

উৎসব গা ছাড়া ভাব নিয়ে বলল,

"আপনার যদি দশটা রিলেশন থাকে তাহলে যাকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পাবেন দেখবেন তার বিশটা ছিল।এই যুগে কেউ সিঙ্গেল থাকে না মাস্টান্নি।সবারই ইনবক্সে চার-পাঁচটা করে বাবু-সোনা থাকেই।"

"কথাটা ভুল বললেন।সবার থাকে না।আমার নেই,সৌমিরও নেই।দেখলেন তো চোখের সামনে দুজন উদাহরণ পেয়ে গেলেন।খুঁজলে আরো অসংখ্য এমন মানুষ পাবেন।আপনি যেমন হবেন আপনার জীবন সঙ্গীও তেমনি পাবেন এই কথাটাতে আমি বিশ্বাস করি।এখন দেখুন আপনি নিজে এত রিলেশন করে বেড়াচ্ছেন সেখানে একজন ভালো জীবন সঙ্গী আশা করেন কিভাবে?আগে নিজেকে ঠিক রাখুন।"

প্রভার কথাগুলো শুনে তিসান আর নির্ভীক দুজনেই হাসলো।নির্ভীক হাসলো তার কারণ ওর নিজের মানসিকতার সাথে প্রভার মানসিকতার বেশ মিল।তিসানও অবশ্য একই কারণেই হাসলো।

এদিকে উৎসব বিস্ময় ভরা কন্ঠে প্রভাকে বলল,

"আচ্ছা মাস্টান্নি,আপনি আমার একটা প্রশ্নের উত্তর দিন তো আপনার সব ভাবনার সাথে আমার এই হারামি বন্ধুর ভাবনার মিল পাই কি করে আমি?আপনারা দু পিস সব সময় আমার কাছে যেটা সাধারণ ব্যাপার সেটা অসাধারণ ভাবে ভাবেন।"

প্রভা আড় চোখে একবার নির্ভীক এর দিকে তাকালো।নির্ভীক অবশ্য প্রভার দিকে তাকিয়ে নেই।নির্ভীকের ভাবনার সাথে যে প্রভার ভাবনার মিল আছে এই কথাটা শুনে প্রভার বেশ ভালো লাগলো।স্মিত হেসে উৎসবকে বলল,

"একটু ভাবার চেষ্টা করুন দেখবেন আপনিও ভাবতে পারবেন।আপনার সঙ্গ গুলো খারাপ না।আপনিও মানুষটা খারাপ না কিন্তু কয়েকটা চালচলন একটু খারাপ।সেগুলোকে একটু গুছিয়ে নিলেই আপনিও একটা চমৎকার মানুষ হয়ে উঠতে পারবেন।দিন শেষে কিন্তু আপনার মাঝেও অনেক ভালো গুণ আছে। সেগুলোকে কাজে লাগান।"

প্রভার কথাটা উৎসবের বেশ ভালো লাগলো।সত্যিই কি উৎসবের মাঝে অনেক ভালো গুণ আছে নাকি প্রভা মন রাখার জন্য এই কথাটা বলল?ইচ্ছে সত্ত্বেও কেন যেন প্রভাকে পাল্টা প্রশ্নটা করতে পারল না।মনে হলো যদি ওর সন্দেহটাই ঠিক হয়?থাক না এই দ্বিধাদ্বন্দ।যদি ওকে সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য হলেও বলে তাও বলেছে তো।আপাতত না হয় এতটুকু নিয়ে ভালো থাকলো উৎসব।

বিজ্ঞাপন
ভ্রমর কইও গিয়া গল্পটি খুশবু আকতার-এর লেখা একটি জনপ্রিয় পারিবারিক সম্পর্কভিত্তিক গল্প