ভ্রমর কইও গিয়া

পর্ব - ১৪

🟢

"নির্ভীক!"

কলেজের জন্য বাড়ি থেকে বের হচ্ছিলো নির্ভীক।সেই সময় পিছন থেকে সামিউল চৌধুরীর ডাক কানে ভেসে এলো।উৎসব নাকি রাস্তায় ওর জন্য অপেক্ষা করছে।সাথে তিসান আর নির্ভয় দুজনেই আছে।ওরা দাঁড়িয়ে আছে জন্য একটু তাড়াহুড়োর মাঝে নির্ভীক ছিল।

"জ্বী বলুন।"

সামিউল চৌধুরী গম্ভীর কন্ঠে বললেন,

"আজ তোমার মামার আসার কথা আছে।"

"আমার তো কোন মামা নেই।"

"সম্পর্কটাকে অস্বীকার করছো?"

"অদ্ভুত তো!যেখানে আপনার দ্বিতীয় স্ত্রী আজ অব্দি আমার মাই হয়ে উঠতে পারেনি সেখানে আমি ওনার ভাইকে আমার মামা হিসেবে মানতে যাব কেন?বলুন সামিয়া আর সাব্বিরের মামা আসছে।"

সামিউল চৌধুরী আর এই নিয়ে কথা বাড়ালেন না।আজেবাজে কথা রেখে তিনি আসল কথায় এলেন।

"বাড়িটা বিক্রি করে দাও।মিজান বলছিল বেশ ভালো দামে বাড়িটা বিক্রি করা যাবে।তারপর সেই টাকা দিয়ে দুজনে ব্যবসা শুরু করব।"

ডাইনিং টেবিলে তখন পুরো পরিবার সকালের নাস্তা করছে।সবাই খাচ্ছে অথচ একটা মানুষেরও এই খেয়ালটা নেই ওদের পরিবারের আর একজন সদস্য না খেয়ে চলে যাচ্ছে।ববিতা বেগম আর ওনার দুই ছেলে-মেয়ে কৌতূহলী দৃষ্টিতে নির্ভীকের দিকে তাকিয়ে আছে ওর উত্তর শোনার জন্য।নির্ভীক স্বাভাবিক কণ্ঠে বলল,

"আমি তো আপনাকে বলেছি এ বাড়ি আমি বিক্রি করব না।"

"একটা নতুন ব্যবসা দাঁড় করাতে পারলে আমাদের অবস্থাটা আবার ভালো হতো।মিজান আমাকে ওর ব্যবসার পরিকল্পনা বলেছে।আমার মনে হয় ব্যবসাটা দাঁড় করাতে পারবো খুব সহজে।"

"আমি একটা কথা বুঝতে পারছি না আপনি আবার ঐ লোকটার সাথে কি করে ব্যবসা করতে চাইছেন?ভুলে গেছেন কি ওই লোকটাকে আপনার ব্যবসায় নেওয়ার পরেই আমাদের এই অবস্থা হয়েছে?ওনার পরিকল্পনাতেই কিন্তু আমাদের ব্যবসাটা ডুবেছে।"

"সেটা তো একটা ভুল ছিল।"

"আপনি জেনে শুনে সেই ভুলটা করেছিলেন।ঠিক যবে থেকে ওই লোকটার সাথে আপনার আলাপ হয়েছে তবে থেকে আমাদের জীবনের এত দুর্দশা শুরু হয়েছে।আর আপনি ঘুরে ফিরে সেই একই লোকের ওপর বিশ্বাস করেন।"

ববিতা বেগম এবার চটে গেলেন।ক্ষিপ্ত কন্ঠে নির্ভীক কে উদ্দেশ্য করে বললেন,

"দূর্দশা হয়েছে তোর এই আচরণের জন্য।নিজের নামে এই বাড়ি পেয়ে খুব লাফাচ্ছিস।খুব তো বড় বড় লেকচার দেস যে তুই আমাদের কে নিজের ভাবিস কিন্তু আমরা ভাবিনা।এই তার নমুনা?ব্যবসাটা শুরু করলে তোর বাবার সুবিধা হয়,ভাইটাকেও ওই ব্যবসাতে লাগিয়ে দিতে পারি।ওদিকে আমার ভাইটারও একটা গতি হয়।"

নির্ভীকের আর এসব কথা এখন একটুও শুনতে ইচ্ছে করছে না।ওদিকে উৎসব সমানে কল করে যাচ্ছে।এত হট্টগোলের মাঝে রিসিভও করতে পারছে না।কেননা একবার যদি উৎসবের কানে এই কথাগুলো যায় বাড়ি বয়ে এসে একটা তুলকালাম কাণ্ড বাধিয়ে রেখে যাবে।নির্ভীক শান্ত কণ্ঠে ববিতা বেগমকে উদ্দেশ্য করে বলল,

"দেখুন আমি আগেও অনেকবার বলেছি এই বাড়ি আমি বিক্রি করব না।যদি কোন ভরসাযোগ্য কেউ আপনাকে এ ব্যবসার কথাটা বলতো তাহলে তাও হয়তো আমি ভেবে দেখতাম।কিন্তু কোন বা/ট/পা/রে/র কথায় এই সিদ্ধান্তটা আমি নিতে পারবো না।"

কথাটা বলার সাথে সাথে ববিতা বেগম নির্ভীক এর দিকে তেড়ে আসতে নিলেন।সাব্বির চেয়ার থেকে উঠে ওনাকে আটকালো।তিনি অকথ্য ভাষায় মুখে যা আসছে তাই বলে নির্ভীককে সমানে গালাগাল করেই যাচ্ছেন আর সামিউল চৌধুরী চুপচাপ সেগুলো শুনে যাচ্ছেন।নির্ভীক একবার নিজের বাবার দিকে তাকালো।দেখে মনে হচ্ছে যেন নির্ভীকের সামনে কোন মূর্তি দাঁড়িয়ে আছে।ববিতা বেগমের এই আচরণের যদি এক শতাংশ নির্ভীক এই বাড়ির অন্য কোন সদস্যের সাথে করতো তাহলে সামিউল চৌধুরীর আসল রূপটা ঠিকই দেখা যেত।বরাবরের মতো নির্ভীক এবারেও আশাহত হলো।কেন যে সে বারবার ভুল মানুষের থেকে ভুল কিছু আশা করে কে জানে!

ববিতা বেগমকে আটকাতে বেশ হিমশিম খেতে হচ্ছে সাব্বিরকে।মনে হচ্ছে ওর থেকে ছাড়া পেলে হয়তো এগিয়ে গিয়ে নির্ভীক কে মা/র/বে।একপর্যায়ে বিরক্ত হয়ে সাব্বির নির্ভীক কে উদ্দেশ্য করে বলল,

"বিক্রি করে দিলে তোমার কি সমস্যা হয়?নিজেরও তো কোন ঠিক ঠিকানা নেই।ব্যবসা তে তুমিও তো একটা অংশ পাবেই নাকি?সব সময় এত বাড়াবাড়ি করো কেন?"

সাব্বিরের কথায় সায় জানিয়ে সামিয়াও ফোঁস করে উঠে বলল,

"একদম ঠিক বলেছো ভাইয়া সব সময় ওর সবকিছুতে বাড়াবাড়ি।আরে ভাই তোর মা তো ম/রে/ছে নাকি?এমন ভাব করে যেন এখনো বেঁচে আছে নাকি ওর মায়ের আত্মা ঘুরে বেড়ায় এই বাড়িতে।সবকিছুতে ন্যাকামো।মায়ের প্রতি দরদ উতলে পড়ছে।"

"হেই বনি ওর দরদ না উতলালেও আমার রাগ উতলে পড়ছে।মন চাচ্ছে তোমাদের তিন মালকেই একদম বারবিকিউ করে খেয়ে ফেলি।"

উৎসবের কণ্ঠ পেতেই নির্ভীক চমকে উঠলো।নির্ভীক মোটেও চায়নি যে উৎসব এখন এখানে আসুক।এর আগেও দু তিনবার এমন হয়েছে।কোন একটা ঝামেলার মাঝে উৎসব এসে সবাইকে আচ্ছামত কথা শুনিয়ে নির্ভীক কে নিয়ে চলে গেছে।

এদিকে উৎসবকে দেখে ববিতা বেগম একটু শান্ত হলেন।এই ছেলেটাকে দেখে তিনি একটু ভয় করেন।নির্ভীক তো কখনো ওনাকে অসম্মান করে না কিন্তু এই ছেলের কথাবার্তার কোন লাইন নেই।তার থেকেও বড় কথা এই ছেলের ক্ষমতা আছে।আর উনি খুব ভালো করেই জানেন যে উৎসব নির্ভীকের জন্য যা ইচ্ছে তাই করতে পারে।

উৎসব এগিয়ে এসে রাগী কন্ঠের নির্ভীক কে উদ্দেশ্য করে বলল,

"বা/লে/র সম্মান মা/রা/স?চো/দ/না/র মতন খালি শুনতেছিস। মুখ নাই তোর?বোবা ধরছে?সবগুলারে কা/ই/ট্টা ফালায়া রাখবি।তারপর কে তোর কি ছে/ড়ে তার আমি সব ছি/ড়মু।"

নির্ভীক বুঝলো উৎসবের মাথা আজ মারাত্মক গরম হয়েছে।ওকে এখন কিছু বুঝিয়েও কোন লাভ হবে না। সাহায্যের জন্য পাশে দাঁড়ানো তিসান আর নির্ভয় কে উদ্দেশ্য করে বলল,

"ওকে প্লিজ নিয়ে যাও এখান থেকে।অযথা ঝামেলা বাড়ানোর কোন দরকার নেই।"

নির্ভীক এর কথায় অসম্মতি জানিয়ে তিসান বলে উঠলো,

"ওকে তো এখান থেকে নিয়ে যাওয়ার কোন প্রশ্নই উঠছে না।ওরা তোমার ভাষা বুঝবে না ভায়া ওদের কে উৎসবের ভাষাতেই বোঝাতে হবে।"

তিসানের কথায় নির্ভয়ও সম্মতি জানালো।অথচ এই ছেলেটা কোন কালে কোন ঝামেলা পছন্দ করে না।সব সময় নির্ভয় বাকিদের কে সব রকম ঝামেলা থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করে।কিন্তু চোখের সামনে আজ এই ঘটনাগুলো দেখার পর আর কোন মতেই ইচ্ছে হলো না উৎসবকে থামানোর।বরং নির্ভীক কেই ঝাড়ি দিয়ে বলল,

"একদম চুপ।ঝামেলার কি বাকি আছে?রোজ রোজ এই এক অশান্তি শুনতে শুনতে আমরা বিরক্ত হয়ে গেছি তুই সহ্য করিস কি করে?তোর বাড়িতে থাকে, তোর টাকা অর্ধেক মাস খায় তারপরও তোকে এই অপমান গুলো করার সাহস পায় কি করে ওরা?"

বিজ্ঞাপন

নির্ভীক একটা হতাশার শ্বাস ফেললো।দুরের মানুষ গুলো ওর কষ্ট বোঝে কিন্তু কাছের মানুষগুলো ওর কষ্ট বোঝে না।নিজের র/ক্তে/র সম্পর্কের বাবাই বোঝেনা চুপচাপ ওকে অপমানিত হতে দেখছিল অথচ এই মানুষগুলো যাদের সাথে কোন র/ক্তে/র সম্পর্ক নেই, দিনে কয়েকটা ঘন্টা সময় কাটায় তারা ওর অপমান সহ্য করতে পারছে না।মাঝে মাঝে সত্যিই কিছু সম্পর্ক র/ক্তে/র সম্পর্কের থেকেও বড় হয়ে দাঁড়ায়।আর সেটা হয় বন্ধুত্বের সম্পর্ক।একে অপরের প্রতি এক অদ্ভুত টান তৈরি হয় মনের মাঝে।এ বন্ধুত্বের সম্পর্কটা খুব ভয়ানক।প্রয়োজনে যেমন অনেক কিছু দিতে পারে ঠিক তেমনি আবার কেড়েও নিতে পারে।

সাব্বির উৎসব কে খুব একটা চেনে না।ফলে নিজের বোনের সাথে এমন আচরণের জন্য একটু এগিয়ে গিয়ে উৎসবকে উদ্দেশ্য করে রাগী কন্ঠে বলল,

"আমাদের বাড়িতে এসে আমাদের বাড়ির মেয়েকে আজেবাজে কথা বলছেন?আর ভাইয়াকে উশকাচ্ছেন কেন আমাদের বিরুদ্ধে?ভুলে যাবেন না আমাদের এলাকায় আমাদের বাড়িতে দাঁড়িয়ে আছেন।"

"বা/ই/ন/চো/ৎ শালা একদম চুপ।কি চ্যা/ট ছিড়বি তুই আমার।টুটি ধরে এমন আছাড় দিমু ভেতরকার জিনিস বাইরে চলে আসবে।"

সাব্বির এবার সত্যি উৎসবের দিকে তেড়ে আসতে নিলে ববিতা বেগম ওকে থামালো।ওকে চুপ থাকতে অনুরোধ করলো।উৎসব এবারে ববিতা বেগম কে উদ্দেশ্য করে বলল,

"আর খালাম্মা সাবধান।এক ঠ্যাঙ গেছে কবরে তাও ভালো হইলেন না।আক্কেল হবে আর কোনদিন আপনের?আমার ভাই কে ঠিকঠাক খাবার দেন না চুপ ছিলাম,মিনিটের পর মিনিট বাইরে দাঁড় করিয়ে রাখেন দরজা খোলেন না চুপ ছিলাম,ওকে দিয়ে সব কাজ করান আর নিজের জন্ম দেওয়া এই দা/ম/ড়া কে পারলে এখনো ফিডার খাওয়ান তাও কিছু বলিনি,ওর বাড়িতে ওকেই শান্তি তে থাকতে দেন না তাও কিছু বলিনি।কিন্তু রোজ রোজ এই মানসিক অশান্তি,আপনার এই গালাগালি,আর আপনার এই দুই শ/য়/তা/নে/র ওর সাথে ফাল পারা এসব কিন্তু আর সহ্য করবো না।"

সামিউল চৌধুরী গর্জে উঠে নির্ভীক কে বললেন,

"তোমার বন্ধুকে থামতে বলো নির্ভীক।"

নির্ভীক হালকা হেসে বলল,

"সত্যি গুলো নিজের কানে শুনতে কষ্ট হচ্ছে না তাই না?কেউ তো আমার হয়ে কখনো কিছু বলে না আজ ও বলছে।একটু বলতে দিন ওকে।নিজেদের ভুলগুলো বুঝুন একটু।"

"একটা বাইরের মানুষকে দিয়ে বাড়ির মানুষকে অপমান করাচ্ছো?"

নির্ভীক কে এবার কিছু বলতে না দিয়ে উৎসব নিজেই বলে উঠলো,

"বাড়ির মানুষ যদি এখন নাকে তেল দিয়ে ঘুমোয় তাহলে তো বাইরের মানুষকে এসেই অপমান করতে হবে তাই না খালু?আচ্ছা একটা কথা বলুন তো আপনার বিবেক কি ম/রে গেছে?আচ্ছা নির্ভীক সত্যি আপনার ছেলে নাকি ওকে কোথাও থেকে কুড়িয়ে এনেছিলেন?এতদিন শুনে এসেছি ওই দামড়া সাব্বির নাকি আগের পক্ষের ছেলে।সত্যি ও আগের পক্ষের তো নাকি নির্ভীকের মা মা/রা যাওয়ার আগেই ওই দিকে লাইন সেট করে রেখেছিলেন।আমার বিশ্বাস ওই দা/ম/ড়া/ই আপনার নিজের ছেলে,নির্ভীক না।"

"বেয়াদবির কিন্তু একটা সীমা থাকে?"

"আরে রাখুন তো আপনার সীমা।নিজেরা সীমার মধ্যে আছেন যে আমাকে সীমা দেখাচ্ছেন?আর এই যে খালাম্মা এই বাড়ি বিক্রি করে বড় ব্যবসা করে এসির মাঝে ঘুমোনোর স্বপ্ন দেখছেন তো?দেখুন তাতে কোনো দোষ নেই।বাস্তবতা কিন্তু আলাদা।যদি আমার ভাইয়ের সাথে আর কোনো অশান্তি করেছেন সবগুলোকে এমন কেসে জেলে তোলার ব্যবস্থা করবো যে জীবনে আর বাইরের দুনিয়ার মুখ দেখতে পাবেন না।ভাই চল।"

উৎসব নির্ভীকের হাত ধরে বেরিয়ে আসতে ধরে আবারো থেমে গেল।পিছন ফিরে সাব্বির কে বলল,

"শুনলাম তুই নাকি আমার ভাইকে গরমের মধ্যে দাঁড় করিয়ে রেখেছিলি?আর যদি কখনো এমন হয় বলে রাখলাম তোর বা/ল-ছা/ল সব ছি/ড়ে সেগুলো কু/ত্তা/রে খাওয়ামু আর তোরে ওই রোদের মধ্যে ম/রা/র আগ পর্যন্ত টাঙ্গায়ে রাখমু।"

__________________

"সব ঠিক আছে কিন্তু আরেকটু ভদ্র ভাষাতে গালি গুলো দিতে পারতেন।"

প্রভার কথা শুনে উৎসব চোখ ছোট ছোট করে ওর দিকে তাকিয়ে গম্ভীর কন্ঠে বলল,

"গালি ভদ্র ভাষায় দেওয়া যায় না মাস্টান্নি।আর আমি ওইখানে আপনার মতন কারো জ্ঞানের বাত্তি জ্বা/লা/তে যাইনি যে ভদ্রতা দেখাবো,সবকটা হা/রা/মি/র অতিরিক্ত প্যাঁচালের বাত্তি নিভাতে গিয়েছিলাম।"

প্রভা বিরক্তি মাখা কন্ঠে বলল,

"তারপরও আরেকটু ভদ্রতা দেখাতে পারতেন।বুঝতে পারছি আপনি ওখানে ওদেরকে কথা শোনাতে গিয়েছিলেন তারপরেও চাইলে আর একটু ভালোভাবে বলতে পারতেন।"

উৎসব শব্দ করে হেসে ওঠে বলল,

"নিজের বাপ-মার সাথেই তো এত ভালো করে কথা বলি না।আমার বাপ মা তো তাও ওর বাপ মায়ের চেয়ে একটু হলেও ভালো আছে।ওদের সামনে কেউ আমাকে অপমান করে যাবে সেটা ওদের সম্মানে আঘাত লাগার জন্য হলেও তাকে ছাড়বে না।টাকা পয়সারও কোন অভাব রাখেনি।শুধু ভালোবাসা আর যত্নের অভাব।"

উৎসবের এবারের কথাটাও প্রভার একদমই পছন্দ হলো না।মৃদু গম্ভীর কণ্ঠে বলল,

"বাবা মা যেমনই হোক তাই বলে তাদেরকে অপমান করা উচিত না বা তাদের সাথে খারাপ আচরণ করা উচিত না।"

"আমার জায়গায় থাকলে আপনিও এমনটাই করতেন।"

"আসলে কি বলুন তো আপনার আছে সেজন্য আপনি কদর করতে পারছেন না,আমার তো নেই সেজন্য আমি মা-বাবার মূল্য বুঝি।যখন হারিয়ে ফেলবেন তখন বুঝবেন মা-বাবা কি ছিল।"

উৎসব তাচ্ছিল্য ভরা কন্ঠে বলল,

"তাদের ছাড়া আমার জীবন কেমন হতে পারে এটা ভাবার দায় কি শুধু আমার?আমি ছাড়া তাদের জীবন কেমন হতে পারে এটা তো তারা ভাবে না।জানেন আমি আমার মায়ের সাথে কথা বলতে গেলে আমার মা বিরক্ত হয়।আমার মা তার নিজের ঘরে আমাদের কারোর উপস্থিতি পছন্দ করেন না।না উনি নিজের সম্পর্কে আমাদের কিছু বলেন না আমাদের সম্পর্কে কখনো কিছু জানতে চান।আর এসব করে আমার বাবাও ঠিক এমনই হয়ে গেছে।সংসারের প্রতি, আমাদের দুই ভাই বোনের প্রতি উদাসীন।আপনি দেখছেন যে ক্রমাগত কেউ আপনাকে অবহেলা করছে তার প্রতি আপনার ভালোবাসা আসবে মাস্টান্নি?"

প্রভা এবারে বুঝল ব্যাপারটাকে ও যতটা স্বাভাবিক ভেবেছিল আসলে ততটা স্বাভাবিক না।সম্পর্কে গাফিলতি শুধু উৎসবের পক্ষ থেকেই না বরং ওর বাবা-মায়ের পক্ষ থেকেও আছে।

"কেউ অবহেলা করলে তো তার থেকে দূরে সরে যাই। কিন্তু এখানে মানুষগুলো তো আপনার বাবা-মা তাই না?ওরা যদি আপনাকে কাছে টেনে না নেয় জোর করে ওদের কাছে যান।আপনি যেহেতু ওনাদের সন্তান মায়া ভালোবাসা দুটোই আছে আপনার প্রতি।"

প্রভার কথার প্রেক্ষিতে নির্ভীক বলে উঠলো,

"সন্তান হলেই যে তার ওপর মায়া ভালোবাসা থাকে এই কথাটা মিথ্যে।সবার নিজের সন্তানের উপর ভালোবাসা থাকে না অনুপ্রভা।"

নির্ভীকের কথার প্রেক্ষিতে প্রভা আর কিছু বলল না।হয়তো নির্ভীকের কথাই ঠিক।কিংবা হয়তো প্রভার ধারণাই ঠিক।কিন্তু আসলে যে কোনটা ঠিক সেটা প্রভার জানা নেই।তাই এই নিয়ে আরও কোনো কথা তুলল না।

বিজ্ঞাপন
ভ্রমর কইও গিয়া গল্পটি খুশবু আকতার-এর লেখা একটি জনপ্রিয় পারিবারিক সম্পর্কভিত্তিক গল্প