ধুলো মাখা গলিতে

পর্ব - ৯

🟢

“হ্যালো কলি, আমি মাইশা বলছি।”

ফোনটা রিসিভ করেছে কলির নানি। অপরিচিত একটা কন্ঠস্বর পেলেন তিনি, সেই সাথে আবার কলি কে খুঁজছে। প্রশ্নাত্মক গলায় তিনি জিজ্ঞেস করলেন,

“কে তুমি? আমি কলির নানি কথা কইতাছি।”

মাইশা একটা শুকনো ঢোক গিলে বলল,

“আমি মাইশা, কলির বান্ধবী। কলিকে একবার ফোনটা দেওয়া যাবে?”

“কলি তো বাড়িত নাই। আইলে কল দিবোনি।”

মাইশা ছোট্ট করে উত্তরে “ঠিক আছে” বলে কলটা কেটে দিল। হাফ ছেড়ে বাঁচলো যেন। ফোনটা কাটতেই ইমদাদ তাড়াহুড়ো গলায় বলল,

“কি বলল? কলি কোথায়?”

“কলি নাকি বাড়িতে নেই। বলল কলি এলে কল দিতে বলবে।”

ইমদাদ বিরক্তিকর গলায় বলল,

“কলির তো দরকার ছিল না। ওর নানির থেকে ঠিকানাটা নিতি।”

মাইশা নিজেও পাল্টা বিরক্তিকর গলায় বলল,

“যদি ওর নানি সন্দেহ করতো?”

“সন্দেহ যেন না করে সেজন্যই তো তোকে দিয়ে কল করিয়েছি। কিছু সন্দেহ করলে বলতি, অনেকদিন হলো কলির সাথে দেখা হয় না তাই দেখা করতে যাবি।”

মাইশা একহাতে মাথা চুলকে বলল,

“এত কিছু মাথায় আসেনি আমার। বলেছে তো কলি এলে কল দেবে, তখন কথা বলে নিও।”

মাইশা কথাটা বলতেই ওর ফোনে আবারও কলির নাম্বার থেকে কল এলো। স্ক্রিনে নাম্বারটা ভেসে উঠতে দেখেই ঠোঁটে হাসি ফুটে উঠলো মাইশার। উচ্ছ্বসিত গলায় ইমদাদ কে উদ্দেশ্য করে বলল,

“ইমদাদ ভাই, কলি কল করেছে। নাও কথা বলো।”

ইমদাদ বেশ জোরে মাইশার মাথায় একটা গাট্টা মেরে বলল,

“যদি আমারই কথা বলার হতো তাহলে তোকে দিয়ে কল করাতাম না গাধা। তুই ওর থেকে ঠিকানাটা নে। কলি কে আমার কথা বলবি না।”

মাইশার ভীষণ রাগ হলো, তবে কিছু করার নেই। বেশি কথা বললে ইমদাদের হাতে আরো মা'র খাবে। তাই চুপচাপ ইমদাদের কথাটা মেনে নিল।

মাইশা ফোনটা রিসিভ করতেই অপর পাশ থেকে কলি উদ্বিগ্ন গলায় বলল,

“তুই আমার নাম্বার পেলি কোথায় থেকে? আর কল করেছিস কেন?’

“আরে ইমদাদ ভাইয়ের থেকে তোর নাম্বার পেয়েছি। ইমদদাদ ভাই তো এসেছে ছুটিতে। তুইও আয়।”

“চুপ কর। নানি আছে এখানে। কোন দরকারি কথা থাকলে সেটা বল, নাহলে ফোন রাখ।”

মাইশার এবার কলির উপর একটু রাগ হলো। ও তো আর ছেলে না যে কথা বললে অসুবিধা হবে। বিরক্তিকর গলায় বলল,

“আমি কি ছেলে যে আমার সাথে কথা বললে অসুবিধা হবে?”

“বাবা মামাকে বলে দিয়েছে যেন তোদের কারো সাথে আমার যোগাযোগ না হয়। নানির ফোন জন্য কথা বলতে পারছি। মামা জানলে সমস্যা হবে। আমি এখন ফোনটা রাখি মাইশা।”

কথাটা বলে কলি ফোনটা সত্যি কেটে দিতো। মাইশা তাড়াহুড়ো গলায় বলল,

“কলি দাঁড়া। একটা কথা শুধু শুনে যা।”

কলি বাধ্য হয়ে আবারো ফোনটা কানে ধরে বলল,

“তাড়াতাড়ি বল।”

“তোর মামার বাড়ির ঠিকানাটা বলতো?”

কলি ভ্রুঁ কুঁচকে বলল,

“ঠিকানা শুনে তুই কি করবি?”

“আরে তুই বলি না। ওখানে আমার একটা আত্মীয়র বাড়ি আছে, আমরা সেখানে যাব। তাই ভাবলাম যদি তোর মামা বাড়ির কাছে হয় তাহলে দেখা করে আসবো একবার তোর সাথে।”

কলির আর কিছু জিজ্ঞেস করার ইচ্ছে হলো না। যদি সত্যি এখানে মাইশা আসে আর যদি দেখা করে তাহলে ভালোই লাগবে। অনেকদিন হলো দেখা হয় না মাইশার সাথে। তাই চুপচাপ তাড়াতাড়ি নিজের ঠিকানাটা বলে কলটা কেটে দিল।

ইমদাদ মাইশার থেকে কলির বাড়ির ঠিকানাটা শুনে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে চলে যেতে ধরলে মাইশা সন্দেহী গলায় প্রশ্ন করলো,

“তুমি সত্যি কলিকে বিয়ে করবে তো ইমদাদ ভাই? যেটাকে ভালোবাসা ভাবছো সেটা নিতান্তই কিছু মুহূর্তের মোহ নয় তো?”

ইমদাদ মৃদু হেসে মাইশা কে উদ্দেশ্য করে বলল,

“তুই তোর জন্য কাউকে জোর করে সবকিছু ছাড়ালে সেটাকে বলে জেদ। আর যদি তুই নিজের ইচ্ছেয় অন্যের জন্য সবকিছু ছাড়তে পারিস তবে সেটা তোর ভালোবাসা। আর আমি কলির জন্য সব ছাড়তে পারি। বাকিটা তুই বুঝে নে।”

_________

কলির গ্রামে ইমদাদ গেছে সেই দুপুরের দিকে। যদি ভুল না হয়ে থাকে তবে কোন বাড়িতে কলি থাকে সেই বাড়িটাও খুঁজে পেয়েছে। তবে ভিতরে গিয়ে কলির সাথে দেখা করে আসার উপায় ইমদাদের কাছে নেই। বিকেলের দিকে ইমদাদ মাইশা কে কল করে বলেছে যেন কলিকে আবারো কল করে কোনমতে এই কথাটা বুঝিয়ে দেয় যে ইমদাদ ওর বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে আছে।

মাইশার সাথে এ বিষয়ে কথা হয়েছে বেশ অনেকক্ষণ আগে। তবে এখনো ইমদাদ কলির দেখা পায়নি। কে জানে মাইশা আদৌ কলি কে কল করতে পেরেছিল কিনা। আবার কল করলেও কলি কে বোঝাতে পেরেছি কিনা, আবার মাইশা বোঝাতে পারলেও কলি বুঝেছে কিনা।

ইমদাদের তো এখন এটাও সন্দেহ হচ্ছে যে এত দূর কলির সাথে দেখা করতে আসার পরও আদৌও দেখা হবে কিনা। ইমদাদ চাইলে সোজা কলির বাড়িতে গিয়ে কলির সাথে দেখা করে আসতে পারতো, তবে সেক্ষেত্রে কলির অসুবিধা হবে। ইমদাদের তো কেউ কিছু করতে পারবে না, তবে যা কষ্ট পাওয়ার সব কলিই পাবে। সেজন্য ভিতরে যেতেও পারছোনা।

বিজ্ঞাপন

কলিও বের হয় না বাড়ি থেকে। কেন একটু কি বের হওয়া যায় না। ইমদাদ যে কলির এতটা কাছাকাছি এসেছে কলি কি সেটা অনুভব করতে পারছে না? ইমদাদের শরীরের ঘ্রান কি বাতাসে মিশে কলি অব্দি পৌঁছাচ্ছে না?

ইমদাদ এর এসব ভাবনার মাঝেই হঠাৎ করে ওর কানে একটা পরিচিত কণ্ঠস্বর ভেসে এলো।

“ইমদাদ ভাই!”

ইমদাদ চমকে পিছন ফিরে তাকালো। দেখলো ওড়না দিয়ে মাথা মুখ পুরোটা ঢাকা, শুধু চোখ দুটো বেরিয়ে আছে। আর এই চোখ দুটো যে কলির সেটা চিনতে ভুল হলো না ইমদাদের। ইমদাদ কিছু বলবে তবে তার আগেই কলি ওর হাত ধরে টানতে টানতে কোথায় যেন একটা নিয়ে গেল।

কলির বাড়ির পিছন দিকটায় একটা পুকুর আছে। গাছপালা জঙ্গলে ভরপুর জায়গাটা। মনে হয়না এদিকে কেউ আসে কিংবা এই জায়গাটা কখনো পরিষ্কার করা হয়েছে। পুকুরের পানিও তেমন একটা নেই আর। কিছুদিন পর একেবারে শুকিয়ে যাবে হয়তো। এমন একটা জায়গায় কলি কেন ইমদাদ কে নিয়ে এলো সেটা বুঝতে বাকি রইলো না ইমদাদের। হয়তো ভয়ে আছে যদি কেউ দেখে ফেলে তবে সমস্যা হয়ে যাবে।

কলি উৎকন্ঠিত গলায় বলল,

“তুমি এখানে কেন এসেছো ইমদাদ ভাই? যদি কেউ দেখে ফেলে তাহলে আমরা দুজনেই সমস্যায় পড়বো।”

কলি আরো কিছু বলার আগেই ইমদাদ নিজের আঙ্গুল কলির ঠোটের উপর রেখে বলল,

“হুঁশশ। একদম চুপ। এখানে এসেছি তোকে দেখতে আর ছোট্ট একটা কাজ করতে।”

সঙ্গে সঙ্গে কলি থেমে গেল। ওড়নার উপর থেকেই ইমদাদের স্পর্শে কেঁপে উঠলো। কিছু আর বলতে পারল না। ইমদাদ কলির ঠোঁট থেকে নিজের হাতটা সরিয়ে কলির মুখ থেকে ওড়নাটাও সরালো। অনেকগুলো দিন পর আবার এই মুখটা ইমদাদ দেখতে পেলো, যে মুখটা দেখলে আপনাআপনি শান্তি অনুভব করতে পারে ইমদাদ।

কলিকে না দেখলে ইমদাদের মাঝে ঠিক কতটা অস্থিরতা কাজ করতে পারে সেটা ইমদাদ আগে বুঝতে পারেনি। আগে তো সকাল বিকেল যখন ইচ্ছে তখনই কলিকে দেখতে পেতো, তবে এই কয়েক মাসে সেটা আর সম্ভাব হয়নি।

“ভালো আছিস কলি?”

কলির ধ্যান ভাঙলো। খুব তাড়াতাড়ি নিজেকে স্বাভাবিক করে বলল,

“আমি ভালো আছি। কিন্তু তুমি এখানে কেন এসেছো তাড়াতাড়ি সেটা বলো। আমায় আবার যেতে হবে।”

ইমদাদ বুঝলো কলির ব্যস্ততার কারণ। তাড়াহুড়ো করে পকেট থেকে একটা বাটন ফোন বের করে কলির দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল,

“এই ফোনটা তোর কাছে রাখ। এটাতে সিম আছে। এই নাম্বার আমার কাছে আছে। আর এই ফোনে আমি আমার নাম্বারটা সেভ করে দিয়েছি। সাঈদ আর মাইশার নাম্বারও সেভ করা আছে। যদি কখনো কোন সমস্যা হয়, আর হঠাৎ যদি আমাকে ফোন দিয়ে না পাস তবে সাঈদকে কল দিবি। ওকেও না পেলে মাইশা কে কল দিবি।”

“ধরা পড়ে যাব তো ইমদাদ ভাই। কেউ ফোনটা দেখে ফেললে সমস্যা হবে।”

ইমদাদ এবার একটু ধমক দিয়ে বলল,

“একটা ছোট ফোন লুকিয়ে রাখতে পারবি না তবে তোকে দিয়ে হবেটা কি? সারাদিন ফোন বন্ধ রাখবি। রাত ঠিক বারোটার সময় ফোন অন করবি, আমি কল দেব। যদি রিসিভ না করেছিস তবে কিন্তু এর পরেরবার আর লুকিয়ে দেখা করব না। সোজা তোর বাড়ির ভেতরে ঢুকে যাব। আর তুই খুব ভালো করেই জানিস কলি আমাকে রাগানোর ফল কি হতে পারে।”

কলি ভয় পেয়ে গেল। সত্যি যদি ইমদাদ রেগে যায় তবে এই কাজটাই করে ফেলতে পারে, যা কলির জন্য মোটেও ঠিক হবে না। তাই চুপচাপ ফোনটা হাতে নিয়ে বলল,

“ঠিক আছে নিচ্ছি। তুমি এখন যাও।”

ইমদাদ অসহায় গলায় বলল,

“পাঁচটা মিনিটও কি একটু ঠিকঠাক ভাবে কথা বলা যাবে না আমার সাথে? এতই ব্যস্ত তুই?”

কলি নিজেও পাল্টা অসহায় গলায় বলল,

“যদি সম্ভব হতো তবে কি আমি তোমায় এত তাড়াতাড়ি যেতে বলতাম? আমার অসহায়ত্বটাও একটু বোঝার চেষ্টা করো।”

ইমদাদ আর কোন কথা বাড়ালো না। ইমদাদ চায় না ওর জন্য কলির সমস্যা বাড়ুক। একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলল,

“ঠিক আছে তুই যা। আমি চলে যাব।”

কলির কষ্ট হলো ইমদাদ কে একা ফেলে রেখে চলে যেতে, তবে কলি নিরুপায়। যেতেই হলো।

__________

প্রায় ছয় মাসের বেশি সময় হতে চলল ইমদাদ আর বাড়ি ফেরেনি। দুই মাস আগে কলি নিজের বাড়িতে ফিরে এসেছে। কলির নানি মা’রা গেছে। উনি মা’রা যাওয়ার পরে আর মামার বাড়িতে থাকতে পারেনি, তাই বাধ্য হয়ে আবার করিম সাহেব কে মেয়েকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনতে হয়েছে। এখন যদি মেয়েকে তিনি নিজের কাছে এনে না রাখেন তবে তো দেখতে খারাপ লাগে ব্যাপারটা। লোকজন পাঁচটা কথা শোনাবে। তার থেকে বরং ভালো বাড়িতেই নিয়ে রাখুক। আর এখন যেহেতু ইমদাদও নেই সমস্যা হবে না।

ইমদাদ জানে যে কলি এখন আবার ফিরে এসেছে ওর বাড়িতে। ইমদাদের সাথে কথা হতো, তবে দু মাস হলো আর কথা হয় না। এর কারণটাও অবশ্য ইমদাদ জানে। একদিন ধরা পড়েছিল কলি ইমদাদের সাথে কথা বলার সময়। করিম সাহেব তারপরে ফোনটা নিয়ে একেবারে ভেঙে ফেলেছিলেন। ইমদাদ খবরটা পেয়েছিল সাঈদের থেকে, আর সাঈদ খবরটা পেয়েছিলো মাইশার থেকে।

তবে আজ ইমদাদ বাড়ি ফিরবে বলে ঠিক করেছে। অন্য জায়গায় একটা চাকরি পেয়েছে। বেতন এখানকার মতন না হলেও খুব একটা খারাপ না। ইমদাদ প্রথম মাসের বেতনের পুরো টাকাটা দিয়ে কলির জন্য একটা নতুন ভালো ফোন কিনেছে। এবার গিয়ে কলিকে এই ফোনটা দেবে।

কেউই জানে না যে আজ ইমদাদ আসবে। কাউকে কোন খবর না দিয়ে হঠাৎ করে চমকে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই ইমদাদ কাউকে জানায়নি।

পাড়ায় ঢুকতে ঢুকতে ইমদাদের সন্ধ্যে হয়ে গেল। ভাবলো আগেই বাড়ি যাবেনা। মাঠে কলির দেখা পেলেও পেতে পারে এবং ইমদাদের ধারণা অনুযায়ী পেলোও।

সেই বটগাছটার নিচে বসে আছে কলি। গাছের সাথে হেলান দিয়ে চোখ দুটো বন্ধ করে বসে আছে। সন্ধ্যে হয়ে যাওয়ায় আসে পাশে আর তেমন কেউ নেই, পাড়ার ছেলেরা খেলছেও না।

ইমদাদ কোনরকম কোন শব্দ না করে চুপচাপ গিয়ে কলির পাশে বসে পড়লো। তবে অবাক করার বিষয় হলো ইমদাদ শব্দ না করলেও কলি ঠিক বুঝে গিয়েছে যে ওর পাশে এসে ইমদাদই এসেছে। যার ফলে কলি একটুও চমকালো না।

“তোমায় খুব মনে পড়ে আমার ইমদাদ ভাই।”

ইমদাদ চমকাল কলির মুখ থেকে কথাটা শুনে। বিস্ময় ভরা গলায় বলল,

“তুই কি করে বুঝলি যে আমি এসেছি?”

কলি এবার চোখ খুলে ঘাড় ঘুরিয়ে ইমদাদের দিকে তাকালো। স্মিত হেসে বলল,

“এতগুলো দিন হলো তোমার সাথে যোগাযোগ নেই। যবে থেকে বাবা ফোন ভেঙেছে আমি জানতাম তুমি নিশ্চয়ই আসবে। তবে অপেক্ষা করতে করতে দুটো মাস কেটে গেল। আমি নিজেকে প্রস্তুতি রেখেছিলাম। আমি জানতাম তুমি ঠিক আসবে।”

“এত বিশ্বাস আমার উপরে? যদি না আসতাম?”

“না এলে তবে আমার ভরসা, বিশ্বাস, আশা সব মিথ্যে হয়ে যেত। আরো একবার আমি বেঁচে থাকার কারণ হারিয়ে ফেলতাম। হয়তো দিনশেষে দেখা যেত আমার মা এই অশান্তি থেকে বাঁচার জন্য যে পথটা বেছে নিয়েছিল আমিও সেটাই করতাম।”

কলি ভেবেছিলো ইমদাদ হয়তো রেগে যাবে ওর এই কথাটা শুনে। ধমক দেবে কিংবা একটা চড়ও খেতে পারে, তবে তেমন কিছুই হলো না। ইমদাদ পকেট থেকে একটা সিগারেট বের করে তাতে আ’গু’ন ধরালো। যেই না সিগারেটে একটা টান বসাবে অমনি মনে পড়ে গেল ওর পাশে তো কলি বসে আছে। সিগারেটের উটকো গন্ধে কলির সমস্যা হয়। অমনি দূরে ছুঁড়ে ফেলল সিগারেটটা।

বেশ অনেকটা সময় দুজনের মাঝে নীরবতা চলল। নিরবতাই আজ একে অপরের মুখের ভাষা হয়ে উঠলো। কেউই কোনো কথা বলল না আর। দুজনেই চাইলো ওদের নিরবতাই আজ কথা বলুক।

বিজ্ঞাপন
ধুলো মাখা গলিতে গল্পটি খুশবু আকতার-এর লেখা একটি জনপ্রিয় সামাজিক বাংলা উপন্যাস