কলি চলে যাওয়ার এক সপ্তাহ হতে চলল। এই পুরো একটা সপ্তাহে ইমদাদের সাথে একটাবারের জন্য কথা হয়নি কলির। কথা হওয়ার কোন সুযোগই নেই।
কলির কাছে তো নিজের কোনো ফোনও নেই যে ইমদাদ কে কল করবে। কখনো ইমদাদের নাম্বারটাও নেওয়া হয়নি। ইমদাদের অবশ্য এখন নিজের উপরেই রাগ হয় এটা ভেবে যে, যাওয়ার সময় কেন কলি কে ওর নাম্বারটা দিলো না। ওখানে যাওয়ার পর কারো একটা ফোন থেকে তো অন্তত কল করে কথা বলতে পারতো ইমদাদের সাথে।
তবে এত তাড়াহুড়োর মাঝে ইমদাদের এই কথাটা মাথাতেই আসেনি। ফলস্বরূপ এখন সাতটা দিন কেটে গেছে অথচ কলির কন্ঠটা একবারের জন্য শুনতে পায়নি। কে জানে এভাবে আরো কতগুলো দিন, কতগুলো সপ্তাহ পার হয়ে যাবে। হয়তো কেটে যাবে মাসের পর মাস, বছরের পর বছর। কে জানে আবার দেখা পাবে কিনা ইমদাদ কলির।
এক সপ্তাহ হলো ইমদাদ কলেজেও যায় না, পড়াশোনাতেও তেমন একটা মন বসে না। বিকেলবেলা খেলতেও যায় না। এমনকি অবাক করার বিষয় হলো এই একটা সপ্তাহ হলো সাঈদও আর ওকে ডাকতে আসে না। বোধহয় সাঈদও কলেজে যাচ্ছে না, খেলতেও মাঠে আসে না।
হয়তো ইমদাদের মতন সাঈদের মনটাও খারাপ। হয়তো সাঈদকেও কলির অনুপস্থিতি ভীষণভাবে বিরক্ত করছে। ইমদাদ বুঝতে পারে সাঈদের মনে কলির জন্য অনুভূতি নিশ্চয়ই আছে। তবে সাঈদ সেটা প্রকাশ করে না। যদি ইমদাদ নিজের অনুভূতি প্রকাশ না করতো, তবে হয়তো সাঈদ কোন একদিন নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে দিত। কিন্তু যেহেতু সাঈদ জানে যে ইমদাদ কলি কে পছন্দ করে সেজন্য নিজের অনুভূতিটা জানায়নি।
ইমদাদ কখনো এই নিয়ে সাঈদ কে প্রশ্ন করেনি, আগ বাড়িয়ে কিছু জানতেও চাইনি। এমন কি সাঈদ ওকে কিছু জানাক সেটাও ইমদাদ চায় না। কিছু কথা অব্যক্ত থাকাই ভালো। সেগুলো প্রকাশ পেলেই সম্পর্ক গুলো কেমন ওলটপালট হয়ে যায়। স্বাভাবিক সম্পর্ক গুলোর মাঝে তৈরি হয় অস্বস্তি।
কলি না থাকায় মাইশাও কেমন যেন ঝিমিয়ে পড়েছে। একা একা কলেজ যেতেও ভালো লাগে না, প্রাইভেটে যেতেও ভালো লাগেনা। বাড়ি থেকে মাইশার তেমন একটা বেড়োনোই হয় না। মাইশার সাথেও তো কলির কোন যোগাযোগ হয়নি। মাইশার চিন্তা হয় কলির জন্য, না জানি মেয়েটা কোন অবস্থাতে আছে। কলির মামিও তো খুব একটা ভালো না, না জানি ওখানে মেয়েটার উপর দিয়ে আবার কোন ঝড় বয়ে যাচ্ছে।
তবে মাইশার বাড়িতে বসে থাকার উপায় নেই। কলেজে যেতে হবে, পড়াশোনাও করতেই হবে। ওর বাবা মা তো আর বুঝবে না যে কলির জন্য মাইশার মনটা খারাপ।
সকালে কলেজ যাওয়ার পথে মাইশার সাথে আজ দেখা হলো ইমাদের। ইমাদের সাথে মাইশার তেমন একটা সখ্যতা নেই, কথাও হয়নি বোধহয় কখনো। সেজন্য ইমাদের উপস্থিতি কিংবা অনুপস্থিতি কোনটাই মাইশার উপর প্রভাব ফেলতে পারে না। তবে মাইশার উপস্থিতি ইমাদের উপর ভীষণ প্রভাব ফেলল। হয়তো মাইশার জন্যই অপেক্ষা করছিল।
তবে ইমাদ আশা করেছিলো মাইশার থেকে একটু হলেও গুরুত্ব পাবে। ও কথা না বললেও যাওয়ার পথে যখন ইমাদকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখবে, তখন অন্তত ওর দিকে তাকিয়ে মুচকি একটু হাসবে। তবে তেমন কিছুই হলো না। মাইশা একবার ইমাদের দিকে তাকালো ঠিকই তবে অভিব্যক্তি ভীষণ স্বাভাবিক। নিজের হাঁটার গতি থামালোও না কমালো না, বরং চুপচাপ আবার খুব তাড়াতাড়ি নিজের দৃষ্টি ঘুরিয়ে নিল।
ইমাদ বুঝলো মাইশা দাঁড়াবে না। তবে ইমাদের সেটা বুঝতে বুঝতে মাইশা একটু দূরে চলে গেছে। ইমাদ দৌড়ে গিয়ে মাইশার পথ আটকে দাঁড়ালো। হঠাৎ করে ইমাদ সামনে এসে দাঁড়ানোতে মাইশা চমকে দু কদম পিছিয়ে গেল। খুব তাড়াতাড়ি আবার নিজেকে স্বাভাবিক করে নিয়ে চোখ ছোট ছোট করে ইমাদের দিকে তাকিয়ে বলল,
“কি সমস্যা?”
সরাসরি মাইশার এই প্রশ্নে ইমাদ একটু থতমত খেল। আমতা আমতা করে বলল,
“কোনো সমস্যা না। আসলে বলছিলাম যে কলির কোন খোঁজ জানো? ওর সাথে তো অনেকদিন কথা হয়না। ভাইয়া আমায় বলেছিলো তোমায় জিজ্ঞেস করতে।”
সত্যি বলতে ইমদাদ এই কথাটা কখনো ইমাদকে বলেনি, তবে ইমাদের তো মাইশার সাথে কথা বলার জন্য একটা অজুহাত দরকার। সেই জন্য খুব ঝটপট মিথ্যেটা বানিয়ে নিলো। তবে ইমাদ স্বপ্নেও ভাবতে পারিনি যে ইমদাদের কথাটা শুনতেই মাইশা এতটা রেগে যাবে। মাইশা খেঁকিয়ে উঠে বলল,
“কেন তোমার ভাই জেনে কি করবে? ওর জন্যই তো কলি কে এখান থেকে চলে যেতে হলো। খুব তো বড় মুখ করে বলতো সব সামলে নেবে, কলির জীবন গুছিয়ে দেবে, হ্যান করবে ত্যান করবে, ঘোড়ার ডিম করবে তোমার ভাই। যদি আমি কলির খোঁজ জানতামও না, তবেও তোমাকে বলতাম না। তোমার ভাইয়ের জন্য কলির জীবনে এতো অশান্তি।”
ইমাদ থতমতো খেয়ে গেল। আশেপাশে তাকিয়ে দেখলো পথচারী অনেকেই আড়চোখে ওদের দিকে তাকাচ্ছে। কে জানে কি ভাবলো। ইমাদ তো কল্পনাও করেনি কখনো যে মাইশা এইভাবে খেঁকিয়ে উঠবে।
এদিকে ইমাদকে চুপ করে থাকতে দেখে মাইশা পুনরায় ক্ষিপ্ত গলায় বলে উঠলো,
“চুপ করে আছো কেন? এখন মুখটা বন্ধ হয়ে গেল কেন? উচিত কথা বলেছি বলে তাই তো? শোনো তোমার ভাইকে গিয়ে সাবধান করে দেবে যেন কলির আশেপাশে ওকে আমি আর না দেখি। আজ শুধুমাত্র তোমার ভাইয়ের জন্য কলিকে এখান থেকে চলে যেতে হয়েছে। মেয়েটা নিজের বাড়িতেই তো থাকে কাজের লোকের মতন, মামা বাড়িতে গিয়ে না জানি কি অবস্থা। শুধুমাত্র কলির এই অবস্থার জন্য তোমার ভাই দায়ী।”
কথাটা বলে মাইশা কেঁদেই ফেলল। সেখানে আর এক মুহূর্ত অপেক্ষা করল না। ইমাদের উত্তর শোনার প্রয়োজনও মনে করলে না। দৌড়ে চলে গেল। ইমাদ যেমন অবাক হলো মাইশার আচরণে, ঠিক তেমনি কান্না দেখে আবার খারাপও লাগলো। ভাবলো বাড়ি গিয়ে ইমদাদের সাথে কথা বলবে।
____________
বসার ঘর থেকে ইমদাদের কানে ফরিদ সাহেবের চেঁচানোর আওয়াজ ভেসে আসছে। আর ওনার চেঁচামেঁচির আসল কারণটা যে ইমদাদ নিজে সেটাও ইমদাদের বুঝতে বাকি রইলো না। কিছুক্ষণ আঁখির সাথে চেঁচামেচি করলেন। তারপরে এক পর্যায়ে গিয়ে আঁখি যখন চলে গেলেন, তখনও তিনি থামেননি। একা একা চেঁচামেচি করেই যাচ্ছেন।
বেশ অনেকটা সময় ইমদাদ ওনার চেঁচামেচি শুনেও না শোনার ভান করে চুপচাপ শুয়ে রইলো। তবে এক পর্যায়ে গিয়ে ইমদাদের আর সহ্য হলো না। এত ধৈর্য ইমদাদের নেই যে ঘন্টার পর ঘন্টা এমন চেঁচামেচি চুপচাপ ধৈর্য নিয়ে শুনে যাবে।
নিজের ঘর থেকে বেরিয়ে গিয়ে সোজা ড্রয়িং রুমে গিয়ে ফরিদ সাহেব কে উদ্দেশ্য করে বলল,
“কি হয়েছে তোমার বাবা? অযথা চেঁচামেচি করে আমার ঘুমের বারোটা বাজাচ্ছো কেন?”
ফরিদ সাহেব ক্ষিপ্ত গলায় ইমদাদকে উদ্দেশ্য করে বললেন,
“আমি অযথা চেঁচামেচি করছি বেয়াদব ছেলে? তোমার বাবা তোমায় কিছু বলছে সেসব শোনার প্রয়োজন মনে করো না তুমি?”
“এতগুলো বছর ধরে তো তোমার কথাই শুনে এসেছি আমি বাবা। তুমি যা বলেছো তাই করেছি, যেভাবে যেটা করতে বলেছো সেভাবেই সেটা করেছি। এবার অন্তত আমাকে নিজের মতন করে কিছু একটা করতে দাও। একটু আমাকে নিজের সিদ্ধান্ত মত চলতে দাও। যদি সবসময় অন্যের কথায় উঠি বসি তাহলে তো আমার পরিচয় মানুষ থাকে না। তাহলে তো হাতের পুতুল হয়ে গেলাম যে অন্যের সিদ্ধান্ত মতন সবসময় চলে, নিজের কোন কিছু করার ক্ষমতা থাকে না। আমাকে একটু মানুষ হিসেবে বাঁচতে দাও।”
ফরিদ সাহেব থামলেন না, শান্তও হলেন না। পূর্বের মতনই ক্ষিপ্ত গলায় বললেন,
“এতদিন যেমন আমার কথা শুনে চলেছো ঠিক তেমনি এবারও আমার কথা শুনেই তোমায় চলতে হবে । তোমার এখানে থাকা হবে না। এখানে তোমার কোন ভবিষ্যৎ আমি দেখতে পাচ্ছি না।”
“কেউ কখনো কারো ভবিষ্যৎ দেখতে পায় না। ভবিষ্যৎ দেখা তোমার কাজ না। কার ভবিষ্যতে কি আছে সেটা ঠিক করাও তোমার কাজ না। তাই তোমার এত চাপ নেওয়ার কোন দরকার নেই।”
“ছেলে তো তুমি আমারই। যদি জীবনে কিছু করতে না পারো তবে তো সবাই আমার দিকে আঙ্গুল তুলেই বলবে, যে ফরিদের ছেলে জীবনে কিছু করতে পারেনি, বেকার।”
ইমদাদ লম্বা একটা শ্বাস টেনে নিজের রাগটা যথাসম্ভব নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে শান্ত গলায় বলল,
“তাহলে তুমি কি চাইছো এখন? কি করতে বলছো আমায়? বলো কি করলে তোমার সম্মানহানী হবে না? আজ থেকে কি তবে আমি নিজেকে তোমার ছেলে হিসেবে পরিচয় দেওয়া বন্ধ করে দেবো?”
“এত কষ্ট করতে হবেনা তোমায়। ঢাকায় যেতে বলছি, ঢাকায় চলে যাও। ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে না চাইলে ঠিক আছে পড়তে হবে না। ঢাকায় তোমার চাচার কোম্পানিতে চাকরি করো। সেমিস্টারের সময় এখানে এসে পরীক্ষা দিয়ে যাবে। তোমার চাচার কোম্পানিতেই যখন চাকরি করছো ছুটির সমস্যা হবে না। আমি শুধু চাই তুমি ঢাকায় গিয়ে চাকরি করো।”
“এই মুহূর্তে আমাদের সংসারে কি টাকা-পয়সার এতই অভাব পড়ে গিয়েছে বাবা, যে আমাকে এখনই চাকরি করতে হবে? আর কিছুদিন কি আমায় সময় দেওয়া যায় না?”
ফরিদ সাহেব কাটকাট গলায় বললেন,
“না যায় না। তোমায় সুযোগ দিলে ভবিষ্যতে অন্য কোথাও চাকরি পাবে কিনা জানিনা। তবে এখন যদি তোমার চাচার কথার অবাধ্যতা করো তবে এই সুযোগটাও ভবিষ্যতে হারাতে পারো। যা বলছি তোমার ভালোর জন্যই বলছি।”
ইমদাদ তৎক্ষনাত কোনো উত্তর দিলো না ফরিদ সাহেবের কথার। কিছুক্ষণ নিজেই কি যেন ভাবলো। ভাবলো কলির কথা। কলি তো আর এখানে এখন নেই, তাই এখানে ইমদাদ থাকলেও যা না থাকলেও তা। যেখানেই থাকুক না কেন কলির সাথে তো আর দেখা হচ্ছে না।
বরং ইমদাদ যদি একটা চাকরি করে নিজে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে, নিজে উপার্জন শুরু করে তাহলে কলির দায়িত্ব নেওয়ার জন্য আর ভাবতে হবে না। কারো অনুমতিরও প্রয়োজন হবেনা। কেউ এই অজুহাত দেখিয়ে ইমদাদের থেকে কলি কে আলাদা রাখতে পারবেনা, যে ইমদাদের সামর্থ্যই নেই কলিকে খাওয়ানোর।
একটা চাকরি করা আসলেও জরুরী। যত তাড়াতাড়ি চাকরি করতে পারবে তত তাড়াতাড়ি কলির দায়িত্ব নিতে পারবে।
ইমদাদকে ভাবনার জগতে ডুবে থাকতে দেখে ফরিদ সাহেব খুব বেশি তাড়া দিলেন না। ভাবলেন ইমদাদ একটু সময় নিয়ে নিজেই বুঝুক।
বেশ কিছুটা সময় ইমদাদ ভাবনা চিন্তা করে ফরিদ সাহেবকে উদ্দেশ্য করে বলল,
“ঠিক আছে বাবা আমি রাজি। আমি ঢাকা যাব, চাচার কোম্পানিতে চাকরিও করবো।”
ফরিদ সাহেব কল্পনাও করতে পারেননি যে ইমদাদ এত তাড়াতাড়ি ওনার কথায় রাজি হয়ে যাবে। ইমদাদ আদৌও রাজি হবে কিনা এই বিষয় নিয়েই তো উনি সন্দেহের মাঝে ছিলেন। তবে ইমদাদের মুখ থেকে এই কথাটা শুনে ভীষণ খুশি হলেন।
“এই না হলে আমার ছেলে। তাইতো বলি আমার ছেলে আমার কথা শুনবে না এটা হতে পারে। আমি তোমার চাচার সাথে কথা বলছি।”
“এক মিনিট বাবা। আমি যেমন তোমার এই কথাটা রাখলাম ঠিক তেমনি তোমাকেও আমার দুটো কথা রাখতে হবে। যদি তুমি আমার সেই কথায় রাজি হও তবেই আমি ঢাকা যাব, নয়তো যাবো না।”
মুহূর্তের মাঝে ফরিদ সাহেবের হাসি হাসি মুখটা চুপসে গেল। গম্ভীর গলায় বলে উঠলেন,
“কি শর্ত?”
“প্রথম শর্ত, চাচার কোম্পানিতে চাকরি করলেও আমি চাচার বাড়িতে থাকব না। আমি হয় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকবো নয়তো মেসে থাকব। আর দ্বিতীয়ত, ভুলেও আমার পিছনে চাচার মেয়েকে লাগানোর চেষ্টা তোমরা করবে না। কখনো যদি আমি এমন কোন ইঙ্গিত পেয়েছি যে তোমরা চাচার মেয়ের সাথে আমার বিয়ে টিয়ে ঠিক করছো, সঙ্গে সঙ্গে কিন্তু আমি চলে আসবো।”
“অসম্ভব। ঢাকাতে যাবে, চাচার কোম্পানিতে চাকরি করবে চাচার বাড়িতে থাকবে না এটা কি করে হয়। নিজের মানুষের বাড়ি থাকতে তুমি আলাদা থাকতে যাবে কেন? আর তাছাড়া আলাদা থাকলে খাওয়ার সমস্যা হয়ে যাবে তোমার।”
“সেইসব আমি বুঝে নেব। তবে আমি ওই বাড়িতে উঠব না। তোমার ভাইয়ের মেয়েকে আমি দু চোখে সহ্য করতে পারি না। ও সারাদিন আমার পিছু পিছু ঘুরবে, যা আমার সহ্য হবে না।”
ফরিদ সাহেব পড়লেন মহা ঝামেলায়। উনি ভাবলেন এসব করে আর হলো কি। ভেবেছিলেন ছেলে বোধ হয় ওনার সব কথাই এবারে শুনবে, তবে এখানে ছেলে তো উল্টো তাকেই শর্ত দিয়ে দিলো। তবে অনেক কিছু ভাবনা চিন্তা করে ওনার মনে হলো আপাতত ইমদাদ আগে ঢাকায় যাক। পরে নাহয় এসব দেখা যাবে।