দেখতে দেখতে আরো একটা সপ্তাহ কেটে গেল। আগামীকাল সকালে ঢাকায় যাবে ইমদাদ। রাতে ইমদাদ ব্যাগ পত্র গুছিয়ে নিচ্ছে সব। মনটা ভীষণ খারাপ। আগামীকাল চলে যাবে, এর পরে তো কলি এখানে এলে তবুও আর অনেকগুলো দিন দেখা হবে না।
আজ দুটো সপ্তাহ হচ্ছে একটা বারের জন্য কলির সাথে কথা হয়নি ইমদাদের। ইমদাদ হয়তো চলে যাবে এখান থেকে তবে মনটা তো এই পাড়াতেই পড়ে থাকবে। মনটা পড়ে থাকবে কলির বাড়ির সামনের সেই ধুলো মাখা গলিতে, তবে থাকবে না ইমদাদ।
ব্যাগ আর গোছাতে ইচ্ছে করলো না। কলির কথা মনে পরতেই মনটা খারাপ হয়ে গেল। ব্যাগটা একপাশে রেখে বিছানায় বসে পড়লো। একটু পরে ঘরে এলেন আঁখি। বেশ অনেক রাতই হয়েছে। এত রাতে আঁখি কে ঘরে আসতে দেখি ইমদাদ প্রশ্নাত্মক গলায় জিজ্ঞেস করলো,
“তুমি এত রাতে মা? ঘুমোওনি কেন এখনো?”
আঁখি হাতে থাকা ফোনটা ছেলের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বললেন,
“কথা বল।”
ইমদাদ ভাবলো নিশ্চয়ই আবার কোন আত্মীয়-স্বজন কল করেছে। বিরক্তিকর গলায় বলল,
“তুমি জানো না এগুলোর সাথে আমার কথা বলার রুচি হয় না?”
“কলি কল করেছে।”
ইমদার চমকে উঠে বলল,
“কে কল করেছে?”
“কলি।”
ইমদাদ আর কোন কিছু বলল না, কোন কিছু শোনার প্রয়োজনও মনে করলো না। আঁখির থেকে ফোনটা কেড়ে নিয়ে কানে ধরে বলল,
“কলি, কেমন আছিস তুই? কতদিন হয়ে গেল কথা হয়না তোর সাথে। এতগুলো দিন কেউ যোগাযোগ না করে থাকে? কোনই কি উপায় ছিল না আমার সাথে কথা বলার? যদি উপায় নাই থেকে থাকতো তবে আজ কি করে কল দিলি?”
আঁখি আর সেখানে দাঁড়ালেন না। ছেলেকে ফোন দিয়ে ঘর থেকে চলে গেলেন।
এদিকে ইমদাদের একসাথে এতগুলো প্রশ্ন শুনে কলি ভ্যাবাচ্যাকা খেল। ফিসফিস করে বলল,
“এক এক করে প্রশ্ন করো ইমদাদ ভাই।”
ইমদাদ ভ্রুঁ কুঁচকে বলল,
“এত আস্তে কথা বলছিস কেন? চুরি করে কল দিয়েছিস আমায়?”
“তো কি করতাম? আমার তো নিজের ফোন নেই। নানির ফোন থেকে কল দিয়েছি। পাশে নানি ঘুমোচ্ছে।এখন জোরে কথা বললে নানি জেগে যাবে।”
“সে না হয় ঠিক আছে। এতদিন কি তোর নানি ঘুমোয়নি? এতদিন কল দেসনি কেন? আর মায়ের নাম্বারে কল দিয়েছিস কেন? আমার নাম্বার নেই তোর কাছে?’
কলি পুনরায় ফিসফিস করে বলল,
“না, নেই তোমার নাম্বার আমার কাছে। কখনো তো প্রয়োজন পড়েনি। একবার আন্টির নাম্বারটা নিয়েছিলাম। ভাগ্যিস নিয়েছিলাম জন্য আজ তোমার সাথে যোগাযোগ করতে পারলাম। তুমি কেমন আছো? তুমি কি আমায় ভুলে গেছো ইমদাদ ভাই?”
ইমদাদ রাগান্বিত গলায় বলল,
“তোর জন্য নিজের শহর ছেড়ে যাচ্ছি, নিজের পরিবার ছেড়ে যাচ্ছি, আমার পরিচিত এই পাড়া, রাস্তাঘাট, মাঠ সবকিছু ছেড়ে যাচ্ছি, আর তুই বলছিস তোকে ভুলে গিয়েছে কিনা? গুনে গুনে আজ চৌদ্দটা দিন পর তোর কণ্ঠ শুনলাম। এই চৌদ্দটা দিন রাতে ঠিক করে ঘুমোতে পারিনি, একটা দিন কলেজ যাইনি, মাঠে খেলতে যাইনি। ঘর থেকে কয়বার বেরিয়েছি সেটা গুনে বলতে পারবো। এরপরও বলবি তোকে ভুলে গিয়েছি?”
কলির খুশি হওয়ার কথা ছিল ইমদাদের কথাগুলো শুনে। ইমদাদ তো তারমানে এক মুহূর্তের জন্যও ভুলতে পারেনি কলিকে। তবে কলি খুশি হতে পারল না। মাথায় ঘুরতে লাগলো ইমদাদের বলা প্রথম কিছু বাক্য। কোথায় চলে যাচ্ছে ইমদাদ, তাও আবার কলির জন্য? সবকিছু ছেড়ে দিয়ে চলে যাচ্ছে কেন?
কলির প্রশ্নাত্মক গলায় ইমদাদ কে উদ্দেশ্য করে বলল,
“কোথায় যাচ্ছো তুমি ইমদাদ ভাই?”
ইমদাদ ফোঁস করে একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলল,
“ঢাকায় চলে যাচ্ছে চাকরির জন্য। তাড়াতাড়ি চাকরি করে নিজে অনেক টাকা উপার্জন করে তোকে তোর মামা বাড়ি থেকে নিয়ে আসবো কলি। জানিনা তোকে কতটা সুখে রাখতে পারব, তোর সব স্বপ্ন পূরণ করতে পারব কিনা, তোকে একটা গোছানো বড় সংসার উপহার দিতে পারব কিনা, তবে আমি চেষ্টা করব আর কিছু পারি বা না পারি যেন আমাদের সেই সংসারে ভালোবাসার কোন কমতি না থাকে। তোর যত্ন, সম্মানের কোন অভাব না হয়।”
কলির দুচোখ এবারে ছল ছল করে উঠলো।
কলির চোখের জল কষ্টের না, আনন্দের। কলির ভাবতেই অবাক লাগছে যে কেউ কলিকে সম্মান দেওয়ার কথা বলছে, কেউ কলির যত্ন নেওয়ার কথা বলছে, কলি কে ভালোবাসার কথা বলছে। ব্যাপারটা কি অদ্ভুত নয় যে কেউ শুধুমাত্র কলিকে ভালো রাখার জন্য সবকিছু ছেড়ে চাকরি করতে চলে যাচ্ছে।
ফোনের অপর পাশ থেকে ইমদাদ যেন অনুভব করতে পারলো কলির ফুঁপিয়ে কান্নার আওয়াজটা। সঙ্গে সঙ্গে ইমদাদ কে বিচলিত হতে দেখা গেল। উদ্বিগ্ন গলায় বলল,
“কি হয়েছে কলি? কাঁদছিস কেন? ওরা কি তোর সাথে খারাপ ব্যবহার করে? তোর গায়ে হাত তোলে না তো?”
কলি খুব কষ্ট নিজের কান্না নিয়ন্ত্রণ করে বলল,
“না ইমদাদ ভাই, এখানে কেউ আমার গায়ে হাত তোলেনা। আমার নিজের বাড়ির থেকে এখানে আমি ভালো আছি। তবে কষ্ট আমার একটাই। ওখানে থাকতে যতই মা'র খাই না কেন, যতই বকা খাই না কেন তবুও দিন শেষে আমার শান্তি হিসেবে তোমায় দেখতে পেতাম। তোমার সাথে দুটো কথা বলতে পারতাম। তবে এখানে সেটা পাইনা জন্য অশান্তি অশান্তি লাগে।”
ইমদাদের বুকের ভেতরটা মোচর দিয়ে উঠলো। ভিতরে জমা হওয়া জেদটা আরো তীব্র হলো। মনে হলো যত তাড়াতাড়ি সম্ভব টাকা জমা করতে হবে।
ইমদাদের এসব ভাবনার মাঝেই অপর পাশ থেকে কলি তাড়া দিল ফোন রাখার জন্য। কলি ফোনটা কাটতে ধরলো কিন্তু ইমদাদ থামিয়ে দিয়ে তাড়াহুড়ো করে বলল,
“নিজের খেয়াল রাখিস কলি। নিজের জন্য না হলেও আমার জন্য তোর খেয়াল রাখিস। আমি আমার আমানত হিসেবে তোকে তোর কাছেই জমা রেখে গেলাম।”
কলি আলতো হেসে বলল,
“তোমার আমানত আমি ঠিকঠাকভাবে আবার তোমায় ফেরত দেবো ইমদাদ ভাই, কথা দিলাম।”
________
মাঝে দুমাস পার হয়ে গেল। ইমদাদের পরীক্ষা শুরু হওয়ার কারণে ইমদাদ আজ বাড়ি ফিরেছে। এই দুই মাসে কলির সাথে হাতেগোনা তিনবার কথা হয়েছে। ইমদাদ কখনো আগে কল করার সুযোগ পায়নি। কলিই সময় সুযোগ বুঝে মাঝে মাঝে রাতের দিকে কল দিয়েছে মোট তিনবার।
খুব বেশিক্ষণ কথা বলতে পারেনি। একদিন তিন মিনিট, একদিন সাত মিনিট, আর অন্য দিন চল্লিশ সেকেন্ড কথা বলতে না বলতেই কলি ফোনটা কেটে দিয়েছে।
বিকালের দিকে ইমদাদ গেল খেলার মাঠের সেই বটগাছটার কাছে। দুহাত পকেটে গুজে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইল সেখানে। চোখ দুটো বন্ধ করতেই মনে পড়ে গেল পুরোনো কিছু স্মৃতি। খুব দারুণ কিছু সময় কাটানো হয়েছে কলির সাথে এই জায়গাটায়। অনেক গল্প করা হয়েছে, হাসি আড্ডা হয়েছে, মাঝে মাঝে ঝগড়াও লেগেছে দুজনের।
তখন ওদের দুজনের সম্পর্কের মাঝে ভালোবাসা শব্দটার অস্তিত্ব ছিলনা, তবে এখন আছে। তখন ওদের দুজনের সম্পর্কের কোন নামও ছিল না, তবে এখন.....
বাকিটুকু ভাবার আগেই ইমদাদ থেমে গেল। এখনো তো ওদের সম্পর্কে কোন নাম নেই। কে হয় কলির ইমদাদ? কলিই বা কে হয় ইমদাদের?
কোন উত্তর খুঁজে পেল না ইমদাদ। পরক্ষণেই ইমদাদের মনে হলো, ওদের সম্পর্কের একটা নাম দেওয়ার জন্যই তো এই সাময়িক দূরত্বটা। ইমদাদের আরেকটা কথা মনে হলো, কলি তো কখনো ওকে বলেনি যে ও ইমদাদ কে ভালোবাসে কিনা? আচ্ছা ইমদাদও তো কখনো কলিকে বলেনি যে ও কলিকে ভালোবাসে। তবে ওদের সম্পর্কটা ঠিক কোন জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে?
ইমদাদের এসব ভাবনার মাঝেই কাঁধে কারো হাতের স্পর্শ অনুভব করলো। ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাতেই দেখল সাঈদ দাঁড়িয়ে আছে। সাঈদ কে দেখতেই ইমদাদের ঠোঁটে হাসি ফুটে উঠলো। ঘুরে দাঁড়িয়ে জড়িয়ে ধরল বন্ধুকে।
সেই ছোটবেলার বন্ধুত্ব, কখনো দুজন এতদিন দেখা না করে থাকেনি। এই প্রথম দুজনে এতগুলো দিন পর দেখা করলো। ইমদাদের বন্ধু বলতে তো এক সাঈদই, আবার সাঈদের বন্ধু বলতেও এক ইমদাদই আছে। তাই দুজনে দুজনকে ছাড়া বড্ড অচল।
“তা বন্ধু, নতুন শহরে নতুন মানুষদের মাঝে কি আবার পুরনো বন্ধুকে ভুলে গেলি নাকি? ওখানে তো সব বড়লোক বন্ধু, বেকার বন্ধু চলবে এখনও?”
ইমদাদ একটু শব্দ করে হেসে উঠে বলল,
“বড়লোক বন্ধুর থেকে বেকার বন্ধু ঢের ভালো। তুই ছাড়া আর কারো সাথেই আমার বন্ধুত্ব হওয়া সম্ভব না।তুই ছাড়া কেউই আর আমার এই অসহ্যকর রাগ সহ্য করবে না।”
সাঈদ এবারে ইমদাদ কে ছেড়ে দিয়ে বলল,
“যাক এত দিনে তবে আমার কদর বুঝলি তুই। কিন্তু তুই এখানে দাঁড়িয়ে কি করছিলি? আবার এই গাছটাকে কলি ভেবে তাকিয়ে ছিলি না তো?”
কথাটা বলে সাঈদ ঠোঁট টিপে হাসলো। মুহূর্তের মাঝে ইমদাদের হাসি হাসি মুখটা কেমন যেন গম্ভীর হয়ে উঠলো। একটু রাগও ফুটে উঠলে চোখে মুখে। গম্ভীর গলাতে বলল,
“বাজে কথা বলবি না। গাছ কি করে কলি হবে?”
“আরে রাগ করছিস কেন? এখানে বস, একটু গল্প করি। অনেক কথা জমা হয়েছে।”
ইমদাদ কে টেনে ধরেই সাঈদ ঘাসের উপরে বসালো। সাঈদ গাছের সাথে গা এলিয়ে দিয়ে বসলো। দুজনের মাঝে বেশ দীর্ঘ একটা সময় ধরে গল্প চলল। এই দুই মাসে কে কি করল, কার কিভাবে সময় কাটল, অবসর সময়ে কে কি করেছে সেসব নিয়েই আলোচনা হলো দুজনের মাঝে। এক পর্যায়ে গিয়ে কলির কথাও উঠলো। কলি কে নিয়ে অবশ্য সাঈদের বলার কিছুই নেই। ও শুধু শুনেই গেল। সবকিছু শোনার পর সাঈদ ইমদাদ কে উদ্দেশ্য করে বলল,
“এখনতো চাকরি করছিস তুই, এখন বিয়ে করে নে কলিকে।”
ইমদাদ ফোঁস করে একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলল,
“এখন সম্ভব না। আমার বাবা তো আমার চাচার মেয়ের সাথে আমার বিয়ে দেওয়ার ধান্দায় আছে। চাচারও হয়তো ইচ্ছে আছে। কলিকে মানবে না ওরা। আর আমার এখন তেমন যোগ্যতাও নেই যে খুব সহজেই যে কোন চাকরি পেয়ে যাব। আর এখন যদি বিয়েটা করি তবে এই চাকরিটাও চলে যাবে। কলিকে ভালো রাখতে পারব না। আগে কিছু টাকা জমাই, পড়াশোনাটাও চালাই। আমি অন্য জায়গায় চাকরির চেষ্টা করছি। হয়ে গেলে এটা ছেড়ে দেবো। তারপর কলি কে বিয়ে করে নেব।”
“এটা ভালো বুদ্ধি। তবে ইমদাদ হুট করে যেন আবার একদিন বিয়ে করে বউ বাচ্চা সহ আমার সামনে এসে দাঁড়াস না ভাই। বিয়ের দাওয়াত অন্তত দিস। এক প্লেট কাচ্চি খাওয়াতেই হবে।”
কথাটা বলে সাঈদ নিজেই হো হো করে হেসে উঠলো। ইমদাদের কাছে বেশ অদ্ভুত লাগলো সাঈদের হাসিটা। কেননা এখানে হাসার কোন কারণ আছে বলে ইমদাদের মনে হলো না। সাঈদ হেসে যাচ্ছে তো হেসেই যাচ্ছে। ইমদাদের কেমন যেন খটকা লাগলো ব্যাপারটা।
আজ হঠাৎ করে ইমদাদের মনে হলো যে কথাটা ও কখনো তুলতে চায়নি সেটা বোধহয় আজ তোলা দরকার। জানে না কেন মনে হলো ইমদাদের, তবে সাঈদের হাসিটা ভীষণ বিব্রত করছে ইমদাদকে।
“কলিকে পছন্দ করিস তুই সাঈদ?”
ইমদাদের মুখ থেকে প্রশ্নটা শুনে চমকে উঠলো সাঈদ। হাসিটাও থেমে গেল। কপালে ফুটে উঠল চিন্তার সুক্ষ্ম ভাঁজ, যা ইমদাদ স্পষ্টই বুঝতে পারলো। সাঈদ ইমদাদের দিকে না তাকিয়ে বেশ স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বলল,
“পছন্দ না করার কি আছে? কলি এতো ভালো মেয়ে, ওকে যেকেউ পছন্দ করবে।”
“তুই জানিস আমি কেমন পছন্দের কথা বলছি। আমি জানতে চেয়েছি তোর ভালোলাগাটা ভালোবাসায় পরিণত হয়েছে কিনা?”
সাইদ এবারে কিঞ্চিত হাসলো। ঘাড় ঘুরিয়ে ইমদাদের দিকে তাকিয়ে ঠোঁটে সূক্ষ্ম হাসি ফুটিয়ে রেখে বলল,
“ভালোলাগা আর ভালোবাসার অনুভূতির মাঝে আমি পার্থক্য করতে জানি না ইমদাদ। এত ক্ষমতা আমার নেই।”
“তাহলে কলির প্রতি তোর অনুভূতিটা ঠিক কেমন? আমি কোন মিথ্যে শুনতে চাই না সাঈদ।”
“সহ্য করতে পারবি তো? কষ্ট হবে না? আমরা দুজনেই তো তোর প্রিয়।”
ইমদাদ কিছুক্ষণ ভেবে বলল,
“পারবো। তুই বল।”
“কলির প্রতি আমার অনুভূতি খুব তীব্র না, আবার একেবারে হালকাও না। অনুভূতিটা ঠিক মাঝামাঝি পর্যায়ে। না কলি কে পেলে কতটা খুশি হতাম সেটা কখনো অনুভব করতে পেরেছি, আর না ওকে হারালে কতটা কষ্ট পাব সেটা কখনো অনুভব করতে পেরেছি। তবে মাঝে মাঝে বুক চিড়ে একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসে এটা ভেবে যে, কলি আমার হলে মন্দ হতো না।”
“কখনো বলিসনি কেন মনের কথা কলিকে? আমার জন্য? আমাদের বন্ধুত্ব নষ্ট হয়ে যাবে সেই ভয়ে না আমি কষ্ট পাবো সেই ভয়ে?”
সাঈদ আলতো হেসে বলল,
“কোনটাই না। আমি আমার অনুভূতির আগে কলির অনুভূতিকে প্রাধান্য দিয়েছি। ভালোবাসা কখনো জোর করে কিংবা ভিক্ষে পাওয়ার জিনিস না। এটা স্বেচ্ছায় দিতে হয়, যা কলি কখনোই আমায় দিত না।”
“কলিকে আমি না ভালোবাসলে তুই নিজের মনের কথাটা জানিয়ে দিতি তাইনা?”
সাঈদ এবার মৃদু বিরক্তিকর গলায় বলল,
“বারবার আমাদের বন্ধুত্বকে টানছিস কেন? আমি বলছি তো আমি আগে কলিকে প্রাধান্য দিয়েছি। আমার আর কলির সম্পর্কটা এখনো বেশ ভালো, একটা মিষ্টি সম্পর্ক। আমি এটা নষ্ট করতে চাই না ইমদাদ। কলি ভালো থাকুক, তোরা ভালো থাক, তোদের একটা সংসার হোক এতটুকুই আমার চাওয়া।”
“আর তোর কষ্টের কি হবে?”
সাঈদ ফের আলতো হেসে বলল,
“বললাম না আমার আর কলির সম্পর্কটা এখনো বেশ ভালো। কিছু না পাওয়ার থেকে এই বন্ধুত্বটাই যথেষ্ট। কখনো তো এটা বলতে হবে না যে কলি আমার কেউ না। বরং বলতে পারবো, আমি আর কলি খুব ভালো বন্ধু। শুধুই বন্ধু।”