অলিতে গলিতে প্রেম

পর্ব - ৩৩

🟢

“হ্যাঁ কাউসার বল।”

ফোনের অপর পাশ থেকে ইমদাদের বন্ধু কাউসারের গম্ভীর কণ্ঠস্বর ভেসে এলো,

“কিছু দরকারি কথা ছিল তোর সাথে। সময় হবে এখন?”

“রাস্তায় আছি। বাড়ি ফিরছি। যদি বেশি দরকারি কথা হয় তাহলে বাড়ি গিয়ে কল করবো?”

“না না থাক দেরি হয়ে যাবে। খুব বেশি কিছু বলার নেই। ছোট করেই বলছি তোকে। আমাদের ব্যবসায় আমরা আর তোকে রাখতে চাইছি না। দেখ আমাদের ব্যবসায় তো তোর কোন টাকা ছিল না। কর্মচারীর মতনই কাজ করেছিস বলতে গেলে। কিন্তু এখন আর আমরা তোকে চাইছি না।”

একেই তো দুপুরের কাঠফাটা গরম। তার উপরে আবার রাস্তাঘাটের এত ভিড়ভাট্টা। এই গরমের মধ্যে আবার বাজারে এসেছিল। সবে মাত্র একটু ভিড়ভাট্টা ছেড়ে পাড়ার গলির ফাঁকা রাস্তাটায় পা রেখেছে। ওমনি একটা সংবাদ এলো ওর কানে। ঠিক বুঝে উঠতে পারলো না হঠাৎ করে কাউসারের এই সিদ্ধান্তের মানে।

“কারণ কি জানতে পারি আমি? আর আজ বলছিস আমি কর্মচারী অথচ ব্যবসাটা এমন ভাবে সামলেছি যেন আমারই।”

“এমনি এমনি তো করিসনি। টাকা পেয়েছিস সেজন্য করেছিস। টাকা না পেলে তো আর করতি না।”

“যা টাকা পেয়েছি তার থেকে অনেক বেশি খাটনি করেছি। একবার ভালো করে ভেবে দেখিস তো বন্ধু ঠিক কতটা খাটাখাটনি করেছি। তোদের ডুবে যাওয়া ব্যবসাকে ইমদাদ নিজের একার চেষ্টার দ্বারা দাঁড় করিয়েছে। কে চিনতো তোদের? তোদের সার্ভিসে কাদের ভরসা ছিল? কারোর না। এখনো মানুষজন কেন ভরসা করে তোদেরকে দায়িত্ব দেয় জানিস? তার কারণ ইমদাদ আছে তোদের ব্যবসায়।”

কাউসার এবারে মৃদু রাগান্বিত গলাতেই বলল,

“এমন ভাব করছিস যেন তুই শুধু একাই কাজ করিস। আর আমরা বসে গরুর জন্য ঘাস কাটি।”

“কথাটা বললে কিন্তু খুব একটা ভুল হবে না তাই না?”

“দেখ ইমদাদ তোর সাথে এত কথায় গিয়ে কাজ নেই। আমাদের মাঝে কখনো কোনো চুক্তি হয়নি যে তোকে সারা জীবন আমাদের সাথে ব্যবসায় রাখবো। আর আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছি যে এই ব্যবসায় তোর কোন ইনভেস্টমেন্ট ছিল না। শুধু কর্মচারীর মতন খেটেছিস। মোটকথা টাকা দিয়েছি তাই খেটেছিস।”

ইমদাদের মাথাটা এবারে গরম হয়ে গেল। সোজাসুজি অপমান করছে এই ছেলেটা ইমদাদ কে। সাহস কত বড় এই ছেলের। রাগান্বিত গলায় বলল,

“তোর ব্যবসার মুখে জুতা মা'রি। তুই কি আমাকে বের করবি। তোর ব্যবসায় আর ইমদাদই থাকবে না। আমিও দেখবো ইমদাদ ছাড়া তোদের ব্যবসা চলে কি করে। কুত্তার মতন খাটাখাটনি করে তোর ম'রা ব্যবসা কে আবার প্রাণ দিয়েছি। আর আজকে আমাকে কর্মচারী নাম দিচ্ছিস। তোর ব্যবসা চলে ইমদাদের নামে। দুদিনের মধ্যে যদি তোর ব্যবসা না ডুবেছে, তুই যদি আমার পায়ে ধরে ক্ষমা না চেয়েছিস তো নিজের নাম বদলে রাখবো। শালা বেঈমান।”

কথাগুলো বলে ফোনটা কেটে দিল ইমদাদ। পকেটে ফোনটা রেখে হাঁটতে ধরে হঠাৎই কারো সাথে ধাক্কা খেয়ে হাতে থাকা বাজারের ব্যাগটা পড়ে গেল। ব্যাগে থাকা সবজিগুলো রাস্তার মাঝে ছড়িয়ে গেল। ইমদাদের রাগ এবার তুঙ্গে উঠে গেল। সবজি গুলো রেখে আগে তাকালো সেই মানুষটার দিকে যার সাথে ধাক্কা খেয়েছে।

মধ্য বয়স্ক একজন ভদ্র মহিলা। একটা সুতি সালোয়ার কামিজ পরনে। মাথায় কাপড় দেয়া। চোখে একটা কালো ফ্রেমের চশমা পরেছে। ধবধবে গায়ের রং। চেহারায় এখনো তার টানটান ভাব রয়েছে। দেখেই বোঝা যাচ্ছে ভদ্র পরিবারের মেয়ে।

একে তো মহিলা মানুষ তার উপরে আবার মধ্যবয়স্ক। ইমদাদ আর রাগারাগি করতে পারল না। কোন কিছু বলার ইচ্ছেও হলো না। সবজিগুলো ব্যাগে তুলতে ধরলে ভদ্রমহিলাও ইমদাদ কে সাহায্যের জন্য এগিয়ে এসে অপরাধী গলায় বললেন,

“আই এম রিয়েলি সরি বাবা। আমি আসলে খেয়াল করিনি তোমায়।”

“ঠিক আছে। আমারও দোষ ছিল।”

সবজিগুলো ব্যাগে তুলে উঠে দাঁড়িয়ে ইমদাদ চলে যাওয়ার জন্য উদ্যত হলে ভদ্রমহিলা ওকে ডেকে উঠে বলল,

“বাবা একটু কথা ছিল। একটা সাহায্য করতে পারবে আমায়?”

অনিচ্ছা সত্বেও থামলো ইমদাদ। একটা লম্বা শ্বাস নিয়ে বলল,

“বলুন।”

ভদ্রমহিলা বেশ খুশি হলেন ইমদাদ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য। মৃদু হেসে বললেন,

“তুমি কি এখানকার স্থানীয়?”

“হ্যাঁ।”

“ওহ্। তাহলে তো তুমি সবাইকে চিনবে। আচ্ছা বাবা এই পাড়ায় সরদার বাড়ি ছিল। কোন দিকে একটু বলতে পারবে আমায়? আসলে অনেক বছর পরে এলাম তো, জায়গাগুলো বদলে গেছে, নতুন নতুন অনেক বাড়িও হয়েছে। আমি ঠিক চিনতে পারছি না।”

সরদার বাড়ি নামটা শুনতেই ভ্রুঁ কুঁচকে তাকালো ইমদাদ ভদ্রমহিলার দিকে। ইনি কে? হঠাৎ করে সরদার বাড়ির খোঁজই বা করছেন কেন? আবার বলছে অনেক বছর আগে এসেছিল। এত বছর আসেনি কেন? আবার আজ হঠাৎ করে এতগুলো বছর পর কি দরকারই বা পড়লো? কার সাথেই বা প্রয়োজন?

“সরদার বাড়ির কাকে প্রয়োজন আপনার?”

“প্রয়োজন বলতে কথা তো অনেকের সাথে ছিল। কিন্তু প্রধান হচ্ছে সরদার বাড়ির মেয়ে কথাকলির সঙ্গে দেখা করার জন্য এসেছি৷ করিম সরদারের মেয়ে।”

ইমদাদের কপালে সৃষ্টি হওয়া ভাঁজ আরো গাঢ় হলো। একবার ভালো করে আপাদমস্তক ভদ্রমহিলাকে দেখে নিল। হঠাৎ করে ইমদাদের কেন যেন মনে হলো ও এই ভদ্রমহিলাকে চেনে। চেনা চেনা লাগছে। কিন্তু ঠিক চিনে উঠতে পারল না। ইমদাদ কে নিজের দিকে এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে একটু অস্বস্তি হলো ভদ্রমহিলার। তবুও হালকা হাসার চেষ্টা করে বললেন,

“তুমি কি চেনো বাবা?”

“কথাকলি কে তো সরদার বাড়িতে পাবেন না।”

মহিলার মুখটা চুপসে গেল। জিজ্ঞাসু গলায় বললেন,

“কিন্তু কেন? কোথায় থাকে ও?”

“ওর শ্বশুর বাড়িতে থাকে।”

ভদ্রমহিলা চমকে উঠে বিস্মিত গলায় বললেন,

“বিয়ে হয়ে গেছে কথাকলির! কবে? আর কোথায় ওর শ্বশুর বাড়ি?”

বিজ্ঞাপন

“এই পাড়াতেই বিয়ে হয়েছে। খোঁজ দেব আপনাকে ওর শ্বশুরবাড়ির। কিন্তু তার আগে বলুন কি দরকার? কলির কে হন আপনি?”

নিজের পরিচয়টা দিতে ভদ্রমহিলার একটু অস্বস্তি হলো। দিতে ইচ্ছে করলো না।

“আমার পরিচয়টা না হয় থাক বাবা। তুমি জেনেই বা কি করবে। একটু যদি কষ্ট করে বলতে কলির শ্বশুর বাড়ির ঠিকানা।”

“উঁহু। পরিচয় না দিলে তো নিয়ে যাব না।”

ভদ্রমহিলা এবার অসন্তুষ্ট হলেন। কিঞ্চিত রাগও জন্মালো। ভালোভাবে কথা বলছেন জন্য এই ছেলে মাথা কিনে নিল নাকি।

“ঠিক আছে তোমায় বলতেও হবেনা। এত দূর অব্দি যখন এসেছি ওর শ্বশুরবাড়ির খোঁজও ঠিকই পেয়ে যাব।”

কথাটা বলে ভদ্রমহিলা চলে যেতে ধরলে পিছন থেকে ইমদাদ বলে উঠলো,

“শ্বশুরবাড়ির ঠিকানা পেয়ে গেলেও কিন্তু ঢুকতে পারবেন না। আমার বাড়িতে আমার প্রশ্নের উত্তর না দিলে ঢুকতে দেবো না। আর না আমার বউয়ের সঙ্গে দেখা করতে দেব।”

থেমে গেলেন ভদ্রমহিলা। চোখ মুখে তার ফুটে উঠলো একরাশ প্রশ্ন। পিছন ঘুরে আবারো ইমদাদের দিকে এগিয়ে গিয়ে প্রশ্নাত্মক গলায় জিজ্ঞেস করলেন,

“তোমার বাড়ি, তোমার বউ মানে? কে তুমি?”

“ইমদাদ। ইমদাদ হোসাইন। কথাকলির স্বামী। আমার সাথে আমার বাড়িতেই থাকে কথাকলি।”

ইমদাদ নামটা শুনতেই ভদ্রমহিলা আরেক দফা চমকালেন। চোখে মুখে তার দ্বিগুণ বিস্মিত ভাব ফুটে উঠলো। অবিশ্বাস্য গলায় বললেন,

“তোমার সাথে বিয়ে হয়েছে কলির। কি করে সম্ভব! সরদার বাড়ির লোকজন কি করে এই বিয়েটা মেনে নিতে পারে।”

“মেনে নেয়নি তো। পালিয়ে বিয়ে করেছি দুজনে। নাহলে কলির বাড়ির লোকজন তো ওর জীবন নিয়ে একেবারে ফুটবল খেলা শুরু করেছিল। যে যেভাবে পারছিল লাথি দিয়েই যাচ্ছিল তো দিয়েই যাচ্ছিল। আমি আবার দয়ালু মানুষ তো। সেজন্য কলির কষ্টটা ঠিক সহ্য হলো না। তাই নিয়ে এসেছি আমার বাড়িতে। এখন বেশ আছে। চিন্তা করতে হবে না ওকে নিয়ে।”

নিজের অজান্তেই ভদ্রমহিলা মুখে হাসি ফুটে উঠলো। একেই তো এতগুলো বছর পর ইমদাদকে দেখে খুশি হয়েছেন। তার উপরে আবার যখন তিনি জানলেন ইমদাদের সাথে কলির বিয়ে হয়েছে তার খুশিটা যেন আরো কয়েকগুণ বেড়ে গেলো। হাত বাড়ি ইমদাদের গালে রাখলেন। আদুরে গলায় বললেন,

“দয়ালু তো তুমি হবেই বাবা। কার ছেলে দেখতে হবে না! কত বড় হয়ে গেছো তুমি! আমি তো চিনতেই পারিনি তোমায়। আমাকে চিনতে পারলে না? আমি ছন্দা।”

বিস্ময়ে ইমদাদের দুচোখ মার্বেলের আকার ধারণ করলো। ইনি ছন্দা, তারমানে কলির মা আর করিম সরদারের দ্বিতীয় স্ত্রী। ইমদাদের যেন বিশ্বাসই হতে চাইলো না। কিন্তু বিশ্বাস না করার তো কোনো কারণও নেই। এই কারণেই ইমদাদের এতক্ষণ চেনা চেনা লাগছিল ওনার মুখটা। কিন্তু চিনে উঠতে পারছিলো না। এবারে মনে করলো। বিস্মিত গলায় বলল,

“আপনি এত বছর কোথায় ছিলেন? কেন চলে গিয়েছিলেন?”

ছন্দা এক হাতে নিজের চোখের জল মুছে বললেন,

“সে অনেক কথা বাবা। পরে কোন এক সময় বলবো। এখন আমাকে একটু আমার মেয়ের কাছে নিয়ে যাবে। ওকে খুব দেখতে ইচ্ছে করছে।”

ইমদাদ একটু ভাবনা চিন্তা করে বলল,

“নিয়ে যাব ঠিক আছে। তবে আপনার পরিচয়টা ওকে না দেওয়াই ভালো হবে।”

ছন্দা চুপসে যাওয়া মুখে বললেন,

“কেন?”

“ভুল বুঝবে ও আপনাকে। প্রচুর খারাপ ধারণা তৈরি হয়ে আছে ওর মনে আপনার জন্য। ব্যাপারটা অস্বাভাবিকও না। জন্মের পরপরই যদি নিজের মা ছেড়ে চলে যায় তাহলে তার মনে খারাপ ধারণা তৈরি হবেই। তার মাঝে যেই বাড়িতে, যে পরিবেশে, যে মানুষের দায়িত্বে রেখে গিয়েছিলেন কিছু আর না বলি। এমন সুশিক্ষা দিয়েছে আপনার মেয়েকে বলে বোঝাতে পারবো না।”

ছন্দা অস্থির হয়ে পড়লেন। উদ্বিগ্ন গলায় বললেন,

“তোমার কথা কিছু বুঝতে পারছি না। একটু পরিষ্কার করে বলো আমায়।”

ইমদাদ একটা দীর্ঘ শ্বাস ছেড়ে বলল,

“পরে বোঝাচ্ছি। এখন চলুন বাড়িতে। আর পাঁচ মিনিটের রাস্তা। আর আপনার ভালোর জন্যই বলছি মেয়ের সামনে নিজের পরিচয় দেবেন না। যা বলার আমি বলে দেব। আগে আমাকে ওকে বোঝাতে হবে এই ব্যাপারে। তারপরে মেয়ের সামনে গিয়ে মা হয়ে দাঁড়াবেন। আপাতত আমার পরিচিত হয়ে চলুন।”

____________

অন্যান্য দিন কলিং বেল বাজালে বেশিরভাগ সময়টা ইয়াসমিন দরজা খুলে দেয়। কলি খুব কমই দরজা খোলে। তবে আজ কি ভেবে যেন কলি নিজেই এলো দরজা খুলতে। ইয়াসমিন আসতে চেয়েছিল। ওকে আসতে দেয়নি কলি। ইমদাদ এসেছে সেই খুশিতে নিজেই দরজা খুলতে গেল।

দরজা খুলে ইমদাদের সাথে ছন্দাকে দেখলো। কলি চেনেনা এই মহিলাকে। কখনো দেখেছে বলে মনেও পড়লো না। এই পাড়ার তো কখনোই না। তবে ইনি কে? আবার কাকে সঙ্গে করে নিয়ে এলো ইমদাদ?

চোখে মুখে হাজারো প্রশ্ন নিয়ে কলি ছন্দার দিকে তাকিয়ে আছে। ইমদাদ ইশারায় কলিকে দেখিয়ে ছন্দার সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়ে বলল,

“আন্টি, ও কলি। আমার স্ত্রী। আর কলি উনি আমার একজন পরিচিত। রাস্তায় হঠাৎ দেখা হয়ে গেল তাই নিয়ে এলাম।”

কলি ঠোঁটে আন্তরিকতার হাসি ফুটিয়ে তুলে ছন্দাকে উদ্দেশ্য করে সালাম দিল। ছন্দা নিজের দু চোখের জল কোনমতেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারলো না। তার গাল বেয়ে জল গড়িয়ে পড়তে দেখে কলি একটু ভরকালো। কাঁদার কি হলো ঠিক বুঝে উঠতে পারল না। কলির এসব ভাবনার মাঝে আবার ছন্দা ওর দিকে এগিয়ে এসে দুহাতে আঁজলায় কলির মুখটা নিয়ে আদর করলেন। কলি ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে ইমদাদের দিকে তাকালো।

ইমদাদ বুঝলো ছন্দাকে সে এত কিছু বুঝেশুনে আনার পরেও কোন লাভ হয়নি। সেই কেঁদেই ফেললেন। ইমদাদ তড়িঘড়ি করে একটা অজুহাত বের করে কলিকে বলল,

“আসলে তোমার বয়সী আন্টির একজন মেয়ে ছিল। সে হারিয়ে গেছে। ওই জন্যই তোমায় দেখে একটু আবেগী হয়ে পড়েছে। সান্ত্বনা দাও।”

খারাপ লাগল কলির ছন্দার জন্য। কিন্তু সান্ত্বনা দেবে কি বলে সেটা ঠিক মাথায় এলো না। সেজন্য ভাবলো আপাতত সান্ত্বনা দেওয়ার থেকে চুপচাপ থাকাটাই ভালো।

বিজ্ঞাপন
অলিতে গলিতে প্রেম গল্পটি খুশবু আকতার-এর লেখা একটি জনপ্রিয় পারিবারিক ও সামাজিক গল্প